📚 উত্তরসহ অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস সাজেশন:2nd Summative Test 📚
✍️ প্রশ্নের মান -২:
১.উনিশ শতকে নারীশিক্ষা বিস্তারে উদ্যোগী হয়েছিলেন এমন তিনজন মহিলার নাম লেখো এবং তাঁরা কোথাকার বাসিন্দা ?
উঃ 1. শ্রীমতী নাথিবাঈ দামোদর ঠাকরসে: (মুম্বাই) ।
2. সাবিত্রী বাঈ ফুলে: ( অধুনা মহারাষ্ট্র)
3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: রংপুর, ঢাকা (অধুনা বাংলাদেশ)।
২.বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা কে করেছিলেন এবং কবে তা রদ হয়?
উঃ 👉১৯০৩ সালে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা এবং ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর কার্যকর করেছিলেন।
👉1911 সালে লার্ড হার্ডিঞ্জ বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।
৩.দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা কবে এবং কাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দের দাক্ষিণাত্যে মহারাষ্ট্রে কুবি কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে মহাজন ও সাহুকারদের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে তা দাক্ষিণাত্যের কৃষক বিদ্রোহ’নামে পরিচিত। সরকারী ভাষায় একে ‘দাক্ষিণাত্যের হাঙ্গামা’ বলা হয়েছে।
৪.কবে এবং কাদের নেতৃত্বে ভারত সভা (ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন) গঠিত হয়েছিল?
উঃ ১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সর্ব ভারতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারত সভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
৫.ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের নেতা কে? তিনি কোন্ কলেজের শিক্ষক ছিলেন?
উঃ 👉 ডিরোজিও ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের নেতা।
👉তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে শিক্ষক ছিলেন।
৬.মহাবিদ্রোহের সময় শেষ মুঘল সম্রাট কে ছিলেন এবং তাঁকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল ?
উঃ👉দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ বা বাহাদুর শাহ জাফর (জাফর তার উপাধি) ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট।
👉তাঁকে রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল।
৭.জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভা কবে এবং কোথায় বসেছিল? এর সভাপতি কে ছিলেন?
উঃ 👉জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন 1885 সালে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত হয় ।
👉এর সভাপতি ছিলেন উমেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
৮.কে, কত খ্রিস্টাব্দে সাগরে কন্যাশিশু ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথা নিষিদ্ধ করেছিলেন?
উঃ লর্ড ওয়েলেসলি , ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে।
৯.কোন্ কোন্ পত্রিকা নীল চাষিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল ?
উঃ হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পন’ নাটক।
১০.‘সূর্যাস্ত আইন' কী ?
উঃ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিভিন্ন রীতির মধ্যে একটি রীতি ছিল নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব জমা দিতে ব্যর্থ হলে জমিদার তার জমিদারি হারাবেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের এ রীতিই সূর্যাস্ত আইন (Sun Set Law) নামে পরিচিত।
১১.কত খ্রিস্টাব্দে কোথায় প্রথম সুতির কাপড় তৈরির কারখানা চালু হয় ?
উঃ 1818 সালে কলকাতার নিকটবর্তী ঘুষুড়িতে প্রথম সুতির বস্ত্র কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ।
১২.রায়তওয়ারি বন্দোবস্তের জনক কাকে বলা হয়? এই বন্দোবস্তের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উঃ 👉 ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার রিড এবং স্যার টমাস মুনরো দ্বারা রায়তওয়ারী ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল 1820 সালে ।
👉১) রায়তওয়ারি বন্দোবস্তে সরকার নিজস্ব কর্মচারী মারফত সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে নগদে রাজস্ব আদায় করতেন।
২) রায়তওয়ারি বন্দোবস্তে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে জমি বন্দোবস্ত করা হতো তাই ব্যবস্থাই সরকার ও কৃষকদের মধ্যে জমিদার শ্রেণির মত কোন মধ্যবর্তী স্তর থাকত না।
১৩.দেশীয় শিল্পের অবক্ষয়ের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
উঃ ১.সস্তা দামে বিদেশী পণ্যের আমদানি এবং ভারতীয় নাগরিকদের বিদেশী পণ্যের প্রতি ঝোঁক ।
২. দাদন প্রথার কুফল,কাঁচা মালের দাম বৃদ্ধি,তাঁতিদের ওপর অত্যাচার।
১৪.কে, কেন রাজা রামমোহন রায়কে ভারতের ইতিহাসের আধুনিক যুগের 'অগ্রদূত' বলেছেন?
উঃ প্রথম আধুনিক যুক্তিবাদী মনন ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন ও সংস্কারমুক্ত ধর্মপ্রচারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাজা রামমোহন রায়কে ভারতের ইতিহাসের আধুনিক যুগের 'অগ্রদূত' বলেছেন।
১৫.স্যার সৈয়দ আহমদের সংস্কারগুলির প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল ?
উঃ স্যার সৈয়দ আহমদের সংস্কারগুলির উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান সমাজের অগ্রগতি ঘটানো। তিনি মুসলিম সমাজকে কুসংস্কার মুক্ত ও আধুনিক করে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন।
১৬.কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যেকার দুটি মূল পার্থক্য উল্লেখ করো।
উঃ নরমপন্থীরা আবেদন নিবেদন নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তারা মনে করতেন ব্রিটিশ সরকারের কাছে সমস্যাগুলি ঠিকমতো তুলে ধরতে পারলে তার সমাধান হবে। অন্যদিক চরমপন্থীরা সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি দাওয়া আদায়ের পক্ষপাতি ছিলেন। তারা কংগ্রেসের তিনদিনের অধিবেশনকে 'তিন দিনের তামাশা' বলে উল্লেখ করতেন।। কারণ নরমপন্থীদের দাবি দাওয়াকে ইংরাজ সরকার কোনো গুরুত্ব দিত না।
১৭.কার ছাত্রদের নব্যবঙ্গ বলা হত? তাঁর একজন অনুগামীর নাম লেখো ।
উঃ 👉 ডিরোজিওর ছাত্রদের নব্যবঙ্গ বলা হতো।
👉 তাঁর অনুগামীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন - রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারিচাঁদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
১৮.আলিগড় অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ কে, কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন?
উঃ সৈয়দ আহমেদ খান 1875 সালে অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন যা পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে নামকরণ করা হয়।
১৯.দেশীয় মুদ্রণ আইন কে জারি করেন? কার আমলে এই আইনটি বাতিল হয়?
উঃ 👉দেশীয় মুদ্রণ আইন 1878 সালে ভাইসরয় লর্ড লিটন জারি করেন।
👉লর্ড লিটনের পরবর্তী লর্ড রিপন 1881সালে এই আইনটি বাতিল করেছিলেন।
২০.১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পিছনে ইংরেজ শাসকের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উঃ 👉1905 সালে বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্য ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের দুর্বল করে তোলা ও জাতীয়তাবাদীদের আন্দোলনকে দমন করা।
২১.জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডে কে গুলি চালাবার নির্দেশ দেয়? এর প্রতিবাদে কে স্যার উপাধি ত্যাগ করেন ?
উঃ 👉 ব্রিটিশ জেনারেল রেজিনাল্ড এডওয়ার্ড হ্যারি ডায়ার তার সৈন্যদের নিরস্ত্র জনতার উপর কোনো পূর্ব নোটিশ বা ন্যায্যতা ছাড়াই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
👉এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজ সরকারের দেওয়া "নাইট" উপাধি ত্যাগ করেন।
২২.ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বারা প্রবর্তিত দুটি ভূমি রাজস্ব নীতির নাম লেখো।
উঃ 1.চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত 2.রায়তোয়ারি বন্দোবস্ত।
২৩.বাংলার নীল বিদ্রোহ কবে হয়েছিল? এই বিদ্রোহের দুজন নেতার নাম লেখো।
২৪.ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতি ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে সনদ আইন কোন্ দুটি নীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল?
২৫.কে, কত খ্রিস্টাব্দে প্রথম বেঙ্গল গেজেট প্রকাশ করেন?
২৬.আর্যসমাজ কে, কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
২৭.সূর্যাস্ত আইন' কাকে বলে ?
২৮.অবশিল্পায়ন কাকে বলে ?
২৯.মুন্ডা বিদ্রোহ কবে, কার নেতৃত্বে হয়?
৩০.‘অর্থনীতির আধুনিকীকরণ' বলতে কী বোঝো?
৩১.'ফরাজি' ও 'ওয়াহাবি' কথার অর্থ কী ?
৩২.“সম্পদের বহির্গমন' বলতে কী বোঝো ?
৩৩.ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় ‘মধ্যবিত্ত' বলতে কাদের বোঝায়?
৩৪.বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকাগুলির নাম লেখো ।
৩৫.‘সতীদাহ প্রথা' কী ?
৩৬.কে, কী উদ্দেশ্যে ‘হিন্দুমেলা' স্থাপন করেন?
৩৭.‘নব্যবঙ্গ’ কাদের বলা হয় ?
৩৮.বারাসত বিদ্রোহ' বলতে কী বোঝো?
৩৯.কোন্ বিদ্রোহ হুল নামে পরিচিত? এই বিদ্রোহের একজন নেতার নাম লেখো।
৪০.বাংলার যে-কোনো দুটি গুপ্ত সমিতির নাম লেখো।
৪১.দুইজন নেত্রীর নাম করো যারা সিপাহি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
৪২.এনফিল্ড রাইফেল কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
৪৩.ভারতে কবে এবং কোন্ শাসকের সময় প্রথম রেলপথ চালু হয় ?
৪৪.অবশিল্পায়ন কী ?
উঃ
৪৫.দাদন প্রথা বলতে কী বোঝ?
উঃ ' দাদন ' কথাটির অর্থ অগ্রিম অর্থ প্রদান । পলাশির যুদ্ধের পর থেকেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের কর্মচারী ও গোমস্তাদের মাধ্যমে দেশীয় তাঁতিদের দাদন বা অগ্রিম অর্থ দিত । কোম্পানির দাদন নেওয়ার ফলে তাঁতিরা তাদের উৎপন্ন দ্রব্য কোম্পানি ছাড়া আর কোথাও বিক্রি করতে পারত না ।
✍️ প্রশ্নের মান-৩:
১.১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি বা চরিত্র কীরূপ ছিল?
অথবা, মহাবিদ্রোহকে কি জাতীয় বিদ্রোহ বলা যায় আলোচনা করো।
উঃ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের চরিত্র নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে
। এই বিদ্রোহ কি নিছকই সিপাহি বিদ্রোহ না জাতীয় বিদ্রোহ । বিদ্রোহের
সময়ই একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিক হিসেবে কার্ল মার্কস লিখেছিলেন যাকে সেনা
বিদ্রোহ মনে করা হচ্ছে তা আদতে ‘ জাতীয় বিদ্রোহ । ধীরে ধীরে ১৮৫৭
খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে জাতীয়তাবাদীরা “ ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধ ” বলে
ব্যাখ্যা করতে থাকেন । যদিও তার মধ্যে কিছুটা অবজ্ঞা ছিল । তবে সিপাহিরা
পুরানো মুঘল শাসনব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন । ১৮৫৭ - র
বিদ্রোহীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের কোনো ধারণা ছিল না । বিদ্রোহী নেতারা
অনেকেই একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণও করেন । তবে কেবল সিপাহি বিদ্রোহ । বললে
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সামগ্রিক রূপ ধরা পড়ে না ।
২.কোম্পানির শাসনকালে বাংলায় অবশিল্পায়ন (De-industrialisation) ঘটেছিল কেন?
৩.উনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার সংস্কার আন্দোলন বর্ণনা করো।
৪.সমাজ সংস্কার আন্দোলনে ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর অবদান লেখো।
উঃ হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও হিন্দু কলেজের একজন শিক্ষক ছিলেন । তিনি
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটিয়েছিলেন । তাঁর
ছাত্ররা নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত । ছিল । ব্রিটিশ শাসন ও
ইংরেজি শিক্ষার প্রতি নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর পূর্ণ সমর্থন ছিল । তাঁরা বিভিন্ন
সামাজিক প্রথা , জাতপাত , বাল্যবিবাহ , বহুবিবাহ প্রভৃতি প্রথার বিরুদ্ধে
সোচ্চার হয়েছিলেন ।
৫.ব্রিটিশ কোম্পানির প্রশাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা আলোচনা করো।
৬.রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত' সম্পর্কে যা জান লেখো।
৭.‘কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ' বলতে কী বোঝো ?
৮.টীকা লেখ-সাঁওতাল বিদ্রোহ।
৯.১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল আলোচনা করো।
১০.বাংলার কৃষক সমাজের উপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব আলোচনা করো।
অথবা, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুফল ও কুফল আলোচনা করো।
১১.গান্ধিজী প্রবর্তিত ‘সত্যাগ্ৰহ’ ও ‘অহিংসা’ আদর্শদুটি ব্যাখ্যা করো।
১২.টীকা লেখ-ইলবার্ট বিল বিতর্ক।
উঃ কোনো ভারতীয় বিচারকের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার অধিকার ছিল না ।
এই অসাম্য দূর করার জন্য জেনারেল লর্ড রিপনের আইনসভার সদস্য সি . পি .
ইলবার্ট বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রে এই অসাম্য দূর করতে একটি বিল আনেন , তাতে
বলা হয় ভারতীয় বিচারকরা , ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারবেন । এর
প্রতিবাদে ইউরোপীয়রা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন । এর ফলে বিল যাতে প্রত্যাহার না
করা হয় তারজন্য ভারতসভার উদ্যোগে ভারতীয়রা আন্দোলন শুরু করেন । উভয়
পক্ষের এই আন্দোলন ও পাল্টা আন্দোলন বিতর্ককে ' ইলবার্ট বিল বিতর্ক বলা হয়
।
১৩.টীকা লেখ- নীল বিদ্রোহ ও হিন্দু প্যাট্রিয়ট।
উঃ বাংলার নীল বিদ্রোহের প্রতি হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা ও তার
সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নীলকরদের বিরুদ্ধে চাষিদের পক্ষ নিয়ে
লেখা শুরু করেন । শিশিরকুমার ঘোষ ও মনমোহন ঘোষকে হরিশচন্দ্র নিয়োগ করেন
খবরাখবর সংগ্রহের জন্য । ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে হরিশচন্দ্র লেখেন যে , বাংলায়
নীলচায় একটি সংগঠিত জুয়াচুরি ও নিপীড়ন ব্যবস্থা মাত্র । তিনি লেখেন যে
চাষি একবার নীলচাষ করেছে তার থেকে বাঁচার তার আর কোনো উপায় নেই । নীলকর
কোনো নীলচাষিকেই ন্যায্য দাম দেয় না । বস্তুত , হরিশচন্দ্রের উদ্যোগেই নীল
বিদ্রোহের খবরাখবর বাংলায় শিক্ষিত জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল ।
১৪.কে কী উদ্দেশ্যে বঙ্গভঙ্গ করেছিলেন?
✍️ প্রশ্নের মান-৫:
১.বাংলার শিক্ষা প্রসারে বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।
উঃ উনিশ শতকের বাংলায় প্রায় একক উদ্যোগে শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর । শিক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগেই ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য পরিবারের পাশাপাশি কায়স্থ ছেলেরাও সংস্কৃত কলেজে পড়ার সুযোগ পায় । বিদ্যাসাগর অনুভব করেছিলেন যে সংস্কৃতের পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষারও প্রয়োজন । তিনি বুঝেছিলেন মাতৃভাষা ও ইংরেজির মধ্যে সংযোগসাধন জরুরি । পাশাপাশি পাঠ্যসূচিতে গণিত চর্চাও তিনি অন্তর্ভুক্ত করেন । ১৮৫০ - এর দশকে ছাত্রদের জন্য বিদ্যাসাগর অনেকগুলি বই লেখেন । সহকারি স্কুল পরিদর্শক হিসেবে বাংলার বিভিন্ন জেলায় বিদ্যাসাগর কয়েকটি মডেল স্কুল তৈরি করেন । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রশাসনের তরফে যে সামান্য অর্থ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা হয় তা দিয়ে সমস্ত মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব নয় । তাই শিক্ষা বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলে বিদ্যাসাগর মনে করতেন । নারীদের শিক্ষাবিস্তারের জন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের খরচে অনেকগুলি মেয়েদের স্কুল তৈরি করেন । বেথুন স্কুলে যাতে মেয়েরা পড়তে যায় তার জন্যও তিনি চেষ্টা করেন ।
২.মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার ৫টি কারণ লেখ।
৩.ভারতে রেলপথ প্রবর্তনের প্রভাব বা ফলাফলগুলি আলোচনা করো।
৪.উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার সংস্কার আন্দোলন বর্ণনা করো।
৫.সাঁওতাল বিদ্রোহ কেন হয়েছিল তা আলোচনা কর।
উঃ ১৮৫৫ - থেকে ১৮৫৬ সালে যে উপজাতি বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল তার নাম ছিল
সাঁওতাল বিদ্রোহ । এই বিদ্রোহের পিছনে বিভিন্ন কারণ ছিল । প্রথমতঃ
সাঁওতালদের এলাকায় বহিরাগত মহাজন , জমিদাররা ‘ দিকু ’ নামে পরিচিত ছিল ।
এরা এসে বসবাস করতে শুরু করে । এদের প্রভাবে দরিদ্র নিরীহ সাঁওতালরা
অত্যাচারের মুখে পড়ে । তারা কম ওজন ও চড়া সুদে টাকা দিত । দলিলে ইচ্ছামতো
বক্তব্য লিখে টিপ ছাপ নিয়ে নিত । দ্বিতীয়ত : ইউরোপীয় কর্মীরা
সাঁওতালদের কাছ থেকে জোর করে হাঁস মুরগি ও অন্যান্য জিনিস কেড়ে নিত ।
তৃতীয়তঃ তাদের জোর করে রেলের কাজে নিয়োগ করা হতো । উপযুক্ত মজুরি দিত না ।
চতুর্থত : সবচেয়ে বড়ো কথা ছিল সাঁওতালদের নিজস্ব সংস্কৃতি বিপন্ন হচ্ছিল
। সিধু , কানহ , চাঁদ ও ভৈরব প্রমুখ এই বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
নিয়েছিল । এই বিদ্রোহ ‘ হুল বিদ্রোহ ' নামে পরিচিত ছিল ।

