📚 উত্তরসহ মাধ্যমিক ভূগোল লাস্ট মিনিট সাজেশন-২০২৬(প্রশ্নের মান-২,৩,৫)-১০০% কমন আসবেই আসবে 📚
Prepared by
Kabir Sir
বিভাগ—গ:
৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষ্যণীয় ): ২x৬=১২
৩.১ পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয় ? অথবা, বার্গস্রুন্ড কী ?
Ans. নদীর মোহনায়, সমুদ্রস্রোতের প্রভাব কম থাকলে নদীবাহিত পলি সঞ্চিত হয়। এর ফলে, নদীবক্ষে সঞ্চিত পদার্থ প্রধান নদীকে ছোটো ছোটো শাখানদীতে বিভক্ত করে এবং শাখানদীগুলির দুই তীর বরাবর পলি সঞ্চিত হয়। বিভক্ত অংশগুলি পাখির পায়ের আঙুলের মতো দীর্ঘ ও সংকীর্ণ আকারে সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হয়। এইভাবে পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ গঠিত হয়। উদাহরণ - আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি-মিসৌরি নদী-বদ্বীপ।
অথবা,
হিমবাহ পার্বত্য উপত্যকা বেয়ে নামার সময়, অনেকসময় পর্বতের থেকে ফাক এর দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হিমবাহ থেকে পর্বতের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত সুবিশাল (সুগভীর) ফাটলকে বার্গস্রুন্ড বলে।। তবে অনেকে মনে করেন আগের হিমবাহ ও নতুন হিমবাহের মধ্যে যে ফঁক সৃষ্টি হয় তাকে বার্গস্রুন্ডবলে। এটি পর্বতারোহীদের পক্ষে বিপজ্জনক।
৩.২ জেট বায়ুর দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো । অথবা, বান ডাকা কী ?
Ans. জেট বায়ু হল ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বস্তর দিয়ে উচ্চবেগে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ু। এর ২টি বৈশিষ্ট্য হল : (i) এই বায়ুট্রপপাস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বস্তর (7-14.5 km) দিয়ে প্রবাহিত হয়। (i) এটি একপ্রকার জিওস্ট্রফিক বায়ু। (i) এটি উচ্চবেগে প্রবাহিত হয়।
অথবা,
জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল প্রবল বেগে নদীর মোহনা থেকে নদীপ্রবাহের বিপরীত মুখেনদীখাতের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল স্ফীত হলে (৫-৮ মিটার উঁচু) নদী মোহনার মধ্য দিয়ে সশব্দে দ্রুতগতিতে নদীঅভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রবল জলচ্ছ্বাস ঘটায়। একে বানডাকা বলে। নদী মোহনা ফানেলাকৃতি হলে, নদীর মোহনায় বালির চড়া থাকলে এবং নদীতে প্রবল জলস্রোত থাকলে বান খুব প্রবল হয়। উদাহরণ -হুগলি ও সুন্দরবনের নদনদী, টেমস নদী।
৩.৩ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভরাটকরণ বলতে কী বোঝো ? অথবা, বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার কাকে বলে ?
Ans. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভরাটকরণ বলতে বোঝায় উৎপন্ন কঠিন বর্জ্যকে দিয়ে কোনো অবনমিত স্থান ভরাট করাকে।অর্থাৎ, পরিবেশের কোনো কঠিন বর্জকে কোনো অবনমিত স্থানে মাটির নীচেভরাটকরাকে ভরাটকরণ(Landfill) বলে। এর থেকে Landfill gas (যেমন মিথেন) উৎপন্ন হয়।
অথবা
এমন কিছুবর্জ্য দ্রব্য আছে যেগুলি পরিবর্তন না করে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। যার ফলে বর্জ্যের পরিমান কমে এবং অর্থের সাশ্রয় হয় ও সম্পদ বাঁচে। একে বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার বলে। উদাহরণ – (i) কাচকে পৃথক করে অ্যাসফাল্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। (ii) তরকারির খোসা, গোবর, মল-মূত্র, পচা ডাল পাতা ইত্যাদিকে গর্তের মধ্যে চাপ দিয়ে পচিয়ে জৈবসার তৈরী করে কৃষিক্ষেত্রে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
৩.৪ মৌসুমি বিস্ফোরণের সংজ্ঞা দাও । অথবা, সামাজিক বনসৃজনের দুটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করো ।
Ans. দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরবসাগরীয় শাখা প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কেরালার মালাবার উপকূলে পৌছায়। এই জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে হঠাৎ উর্ধ্বমুখী হয় এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। একেই মৌসুমি বিস্ফোরণ বা Burst of Monsoon বলে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে ঐ অঞ্চলের তাপমাত্রা অনেকটা কমে যায়।
অথবা,
দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির উদ্দেশ্যে এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট অরণ্যসীমার বাইরে বৃক্ষরোপণ রাই হল সামাজিক বনসৃজন।
এর দুটি উদ্দেশ্য হল—
(i) সেই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিসাধন।
(ii) মৃত্তিকাক্ষয়, পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা এবং বাস্তুতন্ত্রের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা।
৩.৫ জীবিকা সত্তাভিত্তিক কৃষি বলতে কী বোঝো ? অথবা, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সংজ্ঞা দাও ।
Ans. যে প্রকার কৃষিতে কৃষক নিজের জীবন ও জীবিকার প্রয়ােজনে শস্য বা কৃষিজ ফসল উৎপাদন করে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যসাধন তেমন গুরুত্ব পায় না, তাকে জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি বলে। এটি ভারতীয় কৃষির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
অথবা,
মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক নানান তথ্য বিভিন্ন উপায়ে মুহূর্তেই পীছে দেবার কৌশলই হল তথ্যপ্রযুক্তি। এর মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ, অন্বেষণ, পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ, পরিমার্জন, প্রেরণ ইত্যাদি হয়ে থাকে। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি পরিসেবা সংক্রান্ত কাজকর্মকে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বলে।
৩.৬ জিয়োস্টেশনারি উপগ্রহ কী ? অথবা, দূর সংবেদন কী ?
Ans. যে সব কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পৃথিবীর আবর্তন গতির (২৪ ঘণ্টায়) সমান লয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, তাদের জিওস্টেশনারী উপগ্রহ বলে।
বৈশিষ্ট্য :-(i) এগুলি 36000 km উচ্চতায় অবস্থিত।
(ii) এরা নিরক্ষীয় তলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
(iii) পৃথিবীর অর্ধাংশের ছবি তুলতে পারে। উদা:GOMS,GOES-W, GOES-Eপ্রভৃতি।
অথবা,
যখন ভূপৃষ্ঠের অন্তর্গত বস্তু বা বিষয়সমূহকে স্পর্শ না করে ভূপৃষ্ঠের অনেক উঁচু থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরার সাহায্যে বিমান থেকে অথবা কৃত্রিম উপগ্রহে সংযুক্ত সেন্সরের মাধ্যমে তথ্যাবলি আহরণ করে ভূপৃষ্ঠে কম্পিউটারে পাঠাননা হয় তখন এই ব্যবস্থাকে দূর সংবেদন বলে।
৩.৭ 'অপসারণ গর্ত' কিভাবে গঠিত হয় ? অথবা, হিমশৈল কী ?
Ans. বায়ুর অপসারণ কার্যের ফলে মরু অঞ্চলে যেসব ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, সেগুলির মধ্যে অপসারণ গর্ত অন্যতম। প্রবল বায়ুপ্রবাহ মরুভূমির আলগা বালুকণাকে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় উড়িয়ে। নিয়ে যায়। ক্রমাগত এই অবস্থা চলতে থাকলে কখনো কখনো। বিশাল এলাকা জুড়ে বালি অপসারিত হয়ে অবনত স্থান বা খাদ সৃষ্টি হয়, যাকে অপসারণ গর্ত নামে অভিহিত করা হয়।উদাহরণ হিসেবে মিশরের কাতারা অবনত ভূমির কথা বলা যায়। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম
অথবা,
সমুদ্রে ভাসমান বিশালাকৃতি বরফের স্তুপকে হিমশৈল বলে। সাধারণত হিমমন্ডলে সৃষ্ট মহাদেশীয় হিমবাহের প্রান্তভাগ বা সমুদ্র উপকূলীয় অংশ মুল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশাল বা ক্ষুদ্রাকৃতি। বরফের চাই হিসেবে ভাসমান থেকে এই হিমশৈল সৃষ্টি করে। ওলন্দাজ শব্দ ‘ijsberg'-এর আক্ষরিক অর্থ হল বরফের পবত। হিমশেলের কেবল 1/10 ভাগ জলের ওপর দেখা যায়। বিশ্ববিখ্যাত। জাহাজ টাইটানিক এরূপ একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল।
৩.৮ চিনুক কি ?
Ans. ইংরেজি chinook' শব্দের অর্থ তুষার ভক্ষক বা তুষার খাদক। যেখানে দেখা যায় : চিনুক একপ্রকার উষ্ণ স্থানীয় বায়ু। উত্তর আমেরিকার রকি পার্বত্য অঞ্চলের পূর্ব ঢাল বেয়ে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু প্রেইরি সমভূমিতে নেমে আসে, তার নাম চিনুক।। প্রভাব; উত্তর আমেরিকায় শীতকালে রকি পর্বতের পূর্ব ঢাল বেয়ে যে উন্ন ও শুষ্ক বায়ু নীচের দিকে নামে তার প্রভাবে পর্বতের পাদদেশসহ সমগ্র প্রেইরি অঞ্চলের তুষার গলে যায়। এজন্য এই বায়ুর নামকরণ হয়েছে চিনুক। এই তুষারগলা জলে ভূমি সিক্ত হয় বলে প্রেইরি অঞ্চলে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
৩.৯ বর্জ্য পৃথকীকরণ কিভাবে করা হয় ? অথবা, বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ বলতে কী বোঝো ?
Ans. বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হল বর্জ্য পৃথকীকরণ। এজন্যে কঠিন বর্জ্য পদার্থসমূহকে (পরিবেশ তথা। প্রকৃতির সঙ্গে বর্জ্য পদার্থের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে) দুইভাগে ভাগ করা হয়—জৈব ভঙ্গুর বা বায়োডিগ্রেডেবল এবং জৈব অভঙ্গুর বা ননবায়োডিগ্রেডেবল। এর মধ্যে যেসব বর্জ্য পদার্থ। অণুজীব বা আণুবীক্ষণিক বিয়োজক দ্বারা সরল উপাদানে সংশ্লেষিত হয় তাদের জৈব ভঙ্গর বর্জ্য পদার্থ বলে। যেমন— শাকসবজির অবশিষ্ট, উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ প্রভৃতি। আর যেসব বর্জ্য পদার্থ বিয়োজক দ্বারা সরল উপাদানে বিয়োজিত হয় না বা জৈবিক পদ্ধতিতে ভাঙা যায় না, যুগ যুগ ধরে অবিকৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে, তাদের জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থ বলে। যেমন— প্লাস্টিক, কাচ, পলিথিন প্রভৃতি। এইভাবে বর্জ্য পদার্থের প্রতি অনুসারে প্রথমেই সেগুলিকে আলাদা করে নিয়ে। জমা করা হলে পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলির শোধন, পুনর্ব্যবহার বা পুনরাবর্তন করা সহজ হয়। এজন্য অনেক উন্নত দেশেই প্রতিদিনের গৃহস্থালির বর্জ্যগুলিকে জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর পদার্থ হিসেবে আলাদা আলাদা করে জমা করা হয়।
অথবা,
বিভিন্ন কঠিন বর্জ্য পদার্থকে সামান্য পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী বস্তুতে পরিণত করার পদ্ধতিকে বলা হয় পুনঃচকীকরণ বা পুনর্নবীকরণ বা পুনরাবর্তন। ভাঙা কাচ, ছেড়া কাপড়, । টায়ার, প্লাস্টিক দ্রব্যকে একেবারে বাতিল না করে সেগুলি থেকে আবার নতুন দ্রব্য বানানো যায়। যেমন— ভাঙা কাচ থেকে নতুন কাচের দ্রব্য, ছেড়া কাপড় থেকে কাগজ তৈরি প্রভৃতি।
৩.১০ কর্ণাটক মালভূমির দুটি ভূ-প্রাকৃতিক অংশের নাম লেখো । অথবা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের দুটি উদ্দেশ্য কি কি ?
Ans. কর্ণাটক মালভূমির দুটি ভূপ্রাকৃতিক অংশ— ময়দান এবং মালনাদ।
অথবা,
বৃষ্টির জল সংরক্ষণের দুটি উদ্দেশ্য— ভৌমজলের ভান্ডার বা সঞ্চয় বৃদ্ধি করা এবং 2) বর্ষাকালে পুকুর, বিল, দিঘি-সহ বিভিন্ন জলাশয় ও জলাধারে পৃষ্ঠজলের পরিমাণ বাড়িয়ে অন্যান্য ঋতুতে পানীয় ও সেচের জলের চাহিদাপূরণ এবং শিল্প ও গৃহস্থালির প্রয়োজন মেটানো।
৩.১১ ধাপ চাষের গুরুত্ব কি ? অথবা, ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলতে কী বোঝো ?
Ans. পাহাড়ের ঢালে প্রবহমান জলধারার ঘর্ষণে মৃত্তিকার যে দ্রুত ক্ষয় হয়, তা রোধ করার জন্য যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তার। মধ্যে ধাপ চাষ অন্যতম। এজন্য পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিতালের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে সিঁড়ির মতো পরপর ধাপ গঠন করে সেখানে ধান, গম, সয়াবিন প্রভৃতি শস্য চাষ করা হয়, যাকে ধাপ চাষ নামে অভিহিত করা হয়। এরফলে সেখানে যেমন ভূমিঢালের কৌণিক মান। হ্রাস পায় তেমন প্রবহমান জলের গতিও প্রশমিত হয়, অর্থাৎ জল সরাসরি তালের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে গড়িয়ে যেতে পারে না বলে অতিকা ক্ষয় হ্রাস পায়। সুতরাং, পাহাড়ি অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয় প্রতিরোধে তথা সংরক্ষণে ধাপ চাষের গুরুত্ব অসীম।
অথবা,
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সেই প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য যে। উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলে। ধারণযোগ্য উন্নয়ন হল এমন এক ধরনের উন্নয়ন ভাবনা যার সাথে পৃথিবীর সব মানুষের সব ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ জড়িয়ে রয়েছে।
৩.১২ উপগ্রহ চিত্র বলতে কী বোঝো ? অথবা, ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের সংজ্ঞা দাও ।
Ans. পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমণকারী কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে ক্যামেরার সাহায্যে যে সাংকেতিক তথ্যচিত্র পাওয়া যায়, তাকেই উপগ্রহ চিত্র বলে।
অথবা,
যে মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক (যেমন— ভূমিরূপ, নদনদী প্রভৃতি) ও সাংস্কৃতিক (যেমন—জনবসতি, পরিবহণ প্রভৃতি) উপাদানগুলিকে নির্দিষ্ট রং এবং প্রতীক চিহ্নের সাহায্যে, নির্দিষ্ট স্কেল, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা ও সূচক সংখ্যা-সহ উপস্থাপিত করা হয়, সেই মানচিত্রকে ভুবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বলে। প্রধানত পায়ে হেঁটে জরিপ কার্যের মাধ্যমে সংগৃহীত প্রাথমিক রাশিতথ্যের । ভিত্তিতে ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র আঁকা হয়।
৩.১৩ নগ্নীভবন কাকে বলে ? অথবা, বৈপরীত্য উষ্ণতা কাকে বলে ?
Ans. আবহবিকারের মাধ্যমে সৃষ্ট চূর্ণবিচূর্ণ শিলাসমূহ অভিকর্ষের টানে পুঞ্জিত স্থালনরূপে (Mass wasting) নীচে নামে এবং শেষে ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে সেখান থেকে দূরে অপসারিত হয়। সুতরাং আবহবিকার, পুঞ্জিত স্থলন এবং ক্ষয়ীভবন—এই তিনটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর উন্মুক্ত বা নগ্ন হয়ে যায়। একেই বলে নগ্নীভবন, অর্থাৎ আবহবিকার + পুঞ্জিত লন + ক্ষয়ীভবন = নগ্নীভবন।
অথবা, বায়ুমণ্ডলের নীচের অংশে ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে উচ্চতা বাড়লে উন্নতা কমে। কিন্তু কোনো কোনো সময় উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উয়তা না কমে বেড়ে যায়। একে বলে বৈপরীত্য উন্নতা। সাধারণত পার্বত্য উপত্যকায় শান্ত মেঘমুক্ত রাতে পর্বতের উপর অংশের ঠান্ডা ও ভারী বায়ু ক্যাটাবেটিক বা নিকাশি বায়ুরূপে পর্বতের ঢাল বরাবর নীচের উপত্যকায় নেমে এলে এই
বৈপরীত্য উন্নতা সৃষ্টি হয়।
৩.১৪ আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন অঞ্চল (ITCZ) কাকে বলে ? অথবা, সমুদ্রস্রোতের সংজ্ঞা দাও ।
Ans. উত্তর গোলার্ধের উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে (৫° উঃ থেকে ৫°দঃ) মিলিত হয়। এজন্য দুই ক্রান্তীয় বায়ুর ওই মিলনস্থলকে অর্থাৎ নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়কে আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন অঞ্চল বা Inter Tropical Convergence Zone সংক্ষেপে ITCZ বলে।
অথবা, সমুদ্রের জলরাশি নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট দিকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। সমুদ্রজলের এই প্রবাহকেই বলে সমুদ্রস্রোত। সমুদ্রস্রোত দুপ্রকার—উম্নস্রোত এবং শীতলস্রোত।
৩.১৫ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা দাও । অথবা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলতে কী বোঝ ?
Ans. যে কার্যকরি পরিচালন পদ্ধতির মাধ্যমে বর্জ্য বস্তুর সংগ্রহ, অপসারণ, পরিবহণ, শোধন, ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস ও পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা হয়, তাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে| প্রকৃতপক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোনো একক কাজ নয়, অনেকগুলি কাজের সমষ্টি। এই ব্যবস্থাপনার প্রধান দিকগুলি হল—[i] বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস, [ii] বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার এবং [iii] বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ |
অথবা, যেসব বর্জ্য পদার্থ থেকে তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হয় সেগুলিকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলে৷ এগুলি সর্বাধিক ক্ষতিকর বর্জ্যের অন্যতম। যেমন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সৃষ্ট ছাই এবং ব্যবহৃত ভারী জল তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একইভাবে ইউরেনিয়াম খনি, নিউক্লিয়ার রিয়াক্টার, পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র প্রভৃতি থেকেও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সৃষ্টি হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে পরিবেশে বিপুল পরিমাণে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
৩.১৬ মালনাদ অঞ্চল কোথায় অবস্থিত ? অথবা, ভারতের দুটি জলবিভাজিকা অঞ্চলের নাম লেখো ।
Ans. দাক্ষিণাত্য মালভূমির অন্তর্গত কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমভাগে মালনাদ অঞ্চলটি অবস্থিত। কন্নড় ভাষায় মালনাদ কথার অর্থ ‘পাহাড়ি দেশ'। পশ্চিমঘাট-সংলগ্ন কর্ণাটকের এই মালনাদ অঞ্চলটি প্রকৃতপক্ষে একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি এবং তাই খুবই বন্ধুর স্বল্পোচ্চ বাবাবুদান পাহাড় এখানেই অবস্থিত।
অথবা, ভারতের দুটি জলভিভাজিকা অঞ্চলের নাম-[i] পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণি এবং [ii] বিন্ধ-সাতপুরা পার্বত্যভূমি।
৩.১৭ মিলেট জাতীয় শস্য বলতে কি বোঝো ? অথবা, ভারতের একটি কৃষিভিত্তিক এবং একটি বনজভিত্তিক শিল্পের নাম লেখো।
Ans. সাধারণত পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের উষ্ণু ও শুষ্ক অঞ্চলের অনুর্বর মাটিতে কিছুটা নিম্নমানের এক প্রকার ক্ষুদ্রাকার দানাজাতীয় শস্য উৎপাদিত হয়, যেমন জোয়ার, বাজরা, রাগি প্রভৃতি৷ এগুলিকেই এক কথায় মিলেট জাতীয় শস্য বলে। যেসব জমি ধানচাষের পক্ষে নিকৃষ্ট এবং সেচের সুবিধাও নেই, সেখানে এইসব শস্য চাষ করা হয়, অর্থাৎ এগুলি খুবই কষ্টসহিষ্ণু ফসল।
অথবা, ভারতের একটি কৃষিভিত্তিক শিল্প হল—কার্পাসবয়ন শিল্প এবং
একটি বনজভিত্তিক শিল্প হল কাগজ শিল্প।
৩.১৮ উপগ্রহ চিত্রের সংজ্ঞা দাও । অথবা, ভগ্নাংশসূচক স্কেলের (R.F.) ব্যবহার উল্লেখ করো ।
Ans. পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমণকারী কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে ক্যামেরার সাহায্যে যে সাংকেতিক তথ্যচিত্র পাওয়া যায়, তাকেই উপগ্রহ চিত্র বলে।
অথবা, মানচিত্রে দুটি স্থানের দূরত্ব এবং ভূপৃষ্ঠে ওই দুটি স্থানের প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত যখন ভগ্নাংশে প্রকাশ করা হয়, তখন তা হয় ভগ্নাংশসূচক স্কেল (R.F.)। সাধারণত ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ভগ্নাংশসূচক স্কেলের ব্যবহার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যেমন R.E. স্কেল ১:১০,০০,০০০ বা ১:১ মিলিয়ন, এই ভিত্তিতে বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র অঙ্কন করা হয়, যাকে বলে মিলিয়ন শিট। আবার, একইভাবে R.E.১: ২,৫০,০০০ এবং R.E.১: ১,৫০,০OO, এই ভিত্তিতে যথাক্রমে মাঝারি স্কেলের মানচিত্র বা ডিগ্রি শিট এবং ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র বা ইঞ্চি শিট আঁকা হয়।
বিভাগ—ঘ:
৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষ্যণীয়): ৩x৪=১২
৪.১ মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য দেখা যায় কেন ? অথবা, সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর পার্থক্যগুলি আলোচনা করো ।
Ans. মরু অঞ্চলে বায়ু প্রধানত ক্ষয়কার্যকরে। বায়ু প্রধানত অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় মরু অঞ্চলে ক্ষয় করে।
মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্যের কারণ :
(1)উদ্ভিদশূন্যতা :মরু অঞলে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয় বলে, এখানে উদ্ভিদ প্রজাতি অত্যন্ত কম হয় এবং কিছু কিছু উদ্ভিদ (বাবলা, খেজুর) বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে, তাই বায়ু দ্রুত গতিবেগে ক্ষয় করে।
(2) বাধাহীনতা : মরু অঞল জনবিরল হওয়ায় বাতাস এখানে তীব্র গতিবেগে প্রবাহিত হয়। ফলে মৃত্তিকা ও শিলা দ্রুত ক্ষয় পায়।
(3) ঝোড়ো বাতাস :উদ্ভিদ ও বাড়ির অভাবের কারণে মরু অঞ্চলে বাতাস এর গতিবেগ অতি তীব্র হয়। ফলে শিলা সহজেই ক্ষয় পায়।
(4) উষ্ণু ও শুষ্ক বাতাস : মরু অঞ্চলে বাতাস অত্যন্ত উষ্ণু ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে, ফলসস্বরূপ তা মৃত্তিকা ও
(5) শুষ্ক ও ঝুরঝুরে মাটি :দীর্ঘদি বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের মাটি অতি শুষ্ক ও ঝুরঝুরে হয়। প্রবল বাতাসে তা সহজেই বাহিত হয়। এভাবে 0.02 mm-0.05 mm বিশিষ্ট বালুকণা বায়ুর কাজে সাহায্য করে।
৪.২ জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য এবং জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য করো । অথবা, বর্জ্য কম্পোস্টিং পদ্ধতির প্রধান সুবিধাগুলি কী কী ?
Ans.
অথবা,
যে পদ্ধতিতে জৈব বর্জ্য পদার্থকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচন ঘটিয়ে হিউমাসে পরিণত করা হয় তাকে কম্পোস্ট বা জৈব সার এবং পদ্ধতিটিকে কম্পোস্টিং বলা হয়। এই সুবিধাগুলি নিম্নরূপ — i) এই কম্পোস্ট বা জৈব সার জমিতে প্রয়োগ করা হলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ii) এই পদ্ধতিতে মাটিতে 15-30 ফুট লম্বা গভীর খাত কাটা হয় এবং এতে প্রথমে সমস্ত জৈব বর্জ্য পদার্থ বিছিয়ে কয়েকটি স্তর গঠন করা হয় ও উপরে মাটির আস্তরণ দেওয়া হয়। ফলে পরিবেশ দূষণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। iii) এই সারের গুণমান রাসায়নিক সারের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ এই পদ্ধতিতে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় যা মশা, মাছির লার্ভা ও অন্যান্য জীবাণুকে নষ্ট করে দেয়। তাই কম্পোষ্ট সার জীবাণুমুক্ত সার।
৪.৩ পাঞ্জাব হরিয়ানা রাজ্যের কৃষি উন্নতির প্রধান তিনটি কারণ সংক্ষেপে আলোচনা করো । অথবা, ভারতের নগর ও নগরায়ণের প্রধান তিনটি সমস্যা উল্লেখ করো ।
Ans. ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিউন্নত অঞ্চলটি হল পাঞ্জাব-হরিয়ানা অঞ্চল। Indian council ofAgricultural Research শস্যের প্রকৃতি, কৃষিপদ্ধতি, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতির ভিত্তিতে ভারতের কৃষি অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছে। কৃষির আঞ্চলিকীকরণে পাঞ্জাব-হরিয়ানা -শুষ্ক উত্তরাঞ্চল বা গম অঞ্চল রুপে চিহ্নিত হয়েছে। এই অঞ্চলের কৃষির উন্নতির প্রধান প্রধান কারণগুলি হল -
i) বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা –
সিন্ধুনদের পাঁচটি উপনদী যথা শতভ্র, ইরাবতী, বিতস্তা, বিপাশা, চন্দ্রভাগা বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং উর্বর পলি মৃত্তিকায় প্রচুর পরিমাণ শস্যের চাষ হয়। এই মাটির নীচে কাদার স্তর নেই। ফলে জল দাঁড়াতে পারে না যা গম চাষের উপযোগী। এছাড়াও এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান, তুলল, আখ প্রভৃতি ফসল উৎপাদিত হয়।
ii) উচ্চফলনশীল বীজের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার –
পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ব্যবহৃত উচ্চফলনশীল গমবীজ হল সোনারা 64, কল্যাণ সোনা প্রভৃতি। এছাড়া এখানে কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার প্রয়ােগের ফলে মাটিতে প্রয়ােজনীয় নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফেটের আধিক্য থাকে। ফলে ফসলের মান উন্নত হয়। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে পোকার আক্রমণ ও উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ করে ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি করা হয়।
iii) আধুনিক কৃষি পদ্ধতি –
পাঞ্জাব হরিয়ানায় সবুজ বিপ্লবের পর থেকেই আধুনিক কৃষিপদ্ধতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ব্যাপক হারে। মহিষ ও লাঙলের পরিবর্তে উন্নতমানের ট্রাক্টর দিয়ে জমি কর্ষন করায় সময়ের অনেক সাশ্রয় হয়। হেক্টর প্রতি ফসল উৎপাদনও অনেক বৃদ্ধি পায়। সেকারণে এই অঞল হেক্টর প্রতি উৎপাদনে ভারতের মধ্যে অগ্রগণ্য।
এছাড়া ভাকরা-নাঙ্গাল প্রকল্প, সুলভ শ্রমিক, ব্যাপক চাহিদা, মূলধনের প্রাচুর্য, কঠোর পরিশ্রমীমনোভাব, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা প্রভৃতি কারণে এখানে কৃষির উন্নতি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অথবা
বর্তমানে ভারতের অন্যতম সমস্যা হল নগরায়ণ, এর ফলে আমরা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি।
ভারতের নগরায়ণের প্রধান 3 টি সমস্যা হল-
(1) অপরিকল্পিত নগরায়ণ : ভারতের অধিকাংশ নগর অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত। ভারতের প্রায় 27.72% মানুষ প্রথম শ্রেণির নগরে বাস করে। এদের 40% Million city-এর অধিবাসী। ফলস্বরুপ নগরে অত্যধিক জনসংখ্যার চাপের ফলে নিকাশি, যোগাযোগ, পরিবহন ইত্যাদিতে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে।
(2)মানুষের শহরমুখী প্রবণতা : শেষ 5টি census অনুযায়ী (1971-2011) গ্রামের জনসংখ্যার হার হল 81.10%, 78%,74%,72.20%,68.80%। অপরদিকেশহরেরজনসংখ্যার হারহল 19.9%,22%,26%,27.80%, 31.20%। জীবিকার খোঁজে শহরে মানুষের আগমনে শহরে-নগরে জনবিস্ফোরণ ঘটছে।
(3) যানজট সৃষ্টি : বিভিন্ন নগরে অবিবেচনাপ্রসূত বসতি নির্মাণ, জনবিস্ফোরণ ও যানবাহনের অতিবৃদ্ধির ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এটি নগরায়ণের অন্যতম সমস্যা, কারণ যানজটে পড়লে কোনো জরুরী কার্যে পৌছনো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
৪.৪ উপগ্রহ চিত্রের প্রধান তিনটি ব্যবহার ও আলোচনা করো । অথবা, ভূ-বৈচিত্রসূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের স্কেলের উল্লেখ করো ।
Ans. মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ দ্বারা Remote sensing প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠীয় উপাদানসমূহের তোলা ছবি হল উপগ্রহ চিত্র।
উপগ্রহ চিত্রের 3টি ব্যবহার হল :
(1) সম্পদনিরীক্ষণ :ভূ-পৃষ্ঠের কোন স্থানে সম্পদ রয়েছে তা নির্ধারণে এবং সম্পদের প্রকৃতিনির্ধারণে উপগ্রহচিত্র ব্যবহৃত হয়। সমুদ্রের তলার সম্পদ ও জলসম্পদ নির্ধারণেও উপগ্রহ চিত্র গুরুত্বপূর্ণ।
(2) আবহাওয়া নির্ধারণ : ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানের আবহাওয়ার প্রকৃতি, ঝড়ের গতিবিধি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ধারণে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহৃত হয়।
যেমন- METEOSAT, MET-OP ইত্যাদি।
(3) কৃষিজমির ক্ষেত্রে : কৃষিক্ষেত্রেও উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিজমির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, ফসল নির্বাচন তথা ফসলের প্রকৃতি নির্বাচনে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ : LANDSAT সিরিজের উপগ্রহ চিত্র।
৪.৫ বার্খান ও অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো ।
অথবা, উষ্ণতা-বৃষ্টিপাত লেখচিত্রে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু চিহ্নিত করার তিনটি যুক্তি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো ।
Ans. বার্খান অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি
বায়ুর সাথে অবস্থান:
এটি বায়ুর গতিপথের সাথে আড়াআড়ি গড়ে ওঠে।
এটি বায়ুর গতিপথের সাথে সমান্তরালভাবে গড়ে ওঠে।
আকৃতি:
এটি দেখতে অর্ধবৃত্তাকার।
এটি দেখতে তরবারির মতো৷
শিরার উপস্থিতি:
বারখানের দুই প্রান্তে দুটি শিং-এর মতো শিরা অবস্থান করে।
অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ির প্রান্তভাগে কোনো শিরা থাকে না।
অথবা, উম্নতাবৃষ্টিপাতের লেখচিত্রে যদি দেখা যায়—[i] গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন উম্নতা - গ্রীষ্মকালে উন্নতা খুব বেশি বাড়ে না (গড়ে ১৫°সে থেকে ২৫° সে হয়) এবং শীতকালে উন্নতা খুব কমে(গড়ে ৪° সে থেকে ১৪° সে হয়); [ii] উম্নতার প্রসর - উন্নতার বার্ষিক প্ৰসর কম (গড়ে ৬° সে থেকে ১৬° সে) অর্থাৎ উন্নতার চরমভাব নেই; এবং [iii] বৃষ্টিপাতের ঋতু— বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত হয় শীতকালে এবং গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত কম, শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করে অর্থাৎ শীতকাল আর্দ্র ও গ্রীষ্মকাল শুক্ত; এরকম হলে নিশ্চিতভাবে লেখচিত্রটি ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের বলে চিহ্নিত করা যায়।
৪.৬ পরিবেশের উপর বর্জ্য পদার্থের তিনটি প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
অথবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের যে-কোন তিনটি ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
Ans. পরিবেশের উপর বর্জ্যের প্রভাবগুলি হল নিম্নরূপ –
[i] বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাব: কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য জল, মাটি ও বায়ুকে দূষিত করে। ওইসব পদার্থ পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রকে নষ্ট করে দেয়। বিভিন্ন শারীরিক রোগের সৃষ্টি করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। [ii] জমির উর্বরতা হ্রাস: কৃষি, গৃহস্থালি, শিল্পকেন্দ্রের আবর্জনা কৃষিজমিতে পড়লে ওই জমি অনুর্বর হয়ে যায়। জমির চারিত্রিক পরিবর্তন হয়। [iii] জলের উপর প্রভাব: বর্জ্য পদার্থ নদী, জলাশয়, সাগরে পড়লে ওই জল দূষিত হয়ে যায় এবং জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের উপর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। মাছেদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মৃত্যু হয়।
অথবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীর তিনটি ভূমিকা হল— [i] বর্জ্য পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশে বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ কমানোর জন্য শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে সচেষ্ট হবে। এজন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো জিনিস ব্যবহার করবে না এবং দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক, পলিথিন, নাইলন প্রভৃতি জৈব অভঙ্গুর বস্তুসমূহের পরিবর্তে পরিবেশ অনুকূল ও জৈব ভঙ্গুর সামগ্রী ব্যবহার করবে। [ii] বিদ্যালয় ও গৃহ বজ মুক্ত রাখা: শিক্ষার্থীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষসহ সমগ্র বিদ্যালয় ও তার চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বাড়িঘরও বর্জ্যমুক্ত রাখবে। এজন্য যত্রতত্র খাবারের অবশিষ্টাংশ, প্যাকেট, ঘেঁড়া কাগজ, পেন, পেনসিল প্রভৃতি বর্জ্য পদার্থগুলি না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় (যেমন ডাস্টবিনে) ফেলবে।
[iii] বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো: বিভিন্ন প্রকার জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থসমূহের পৃথকীকরণ এবং বর্জ্য পদার্থের পুনর্ব্যবহার ও পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ যাতে সম্পদ হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেরা সচেতন হবে, তেমন সে সম্পর্কে সকলকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে প্রদর্শনী, আলোচনা ও বিতর্ক সভার আয়োজন করবে এবং পোস্টার, দেয়াল পত্রিকা প্রভৃতি তৈরি করবে।
৪.৭ ভারতে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ উদ্ভিদ ও ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের তিনটি পার্থক্য উল্লেখ করো ।
অথবা, ভারতে শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঁচামালের প্রভাব উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো ।
Ans. ভারতে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ উদ্ভিদ এবং ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদের তিনটি পার্থক্য হল—
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ উদ্ভিদ ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদ
1. উদ্ভিদের প্রকৃতি:
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ উদ্ভিদ অধ্যুষিত অঞ্চলে বেশি অধ্যুষিত অঞ্চলে বৃষ্টিপাত এবং অধিকাংশ সময় আর্দ্র আবহাওয়া থাকে বলে এখানে গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না। তাই সারাবছরই গাছে সবুজ পাতা এবং অরণ্যও সবুজ থাকে।
ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদ অধ্যুষিত অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্র আবহাওয়া থাকলেও শীতকাল শুষ্ক হওয়ায় ওই সময় গাছের অধিকাংশ পাতা ঝরে যায় এবং তার ফলে বৃক্ষসমূহ তথা অরণ্য রুক্ষ ও শুষ্ক রূপ নেয়।
2. বৃক্ষ:
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য চিরহরিৎ বৃক্ষগুলি দ্রুত বাড়ে, তাদের শাখাপ্রশাখা ক্রমশ উপর দিকে ছড়িয়ে যায় এবং পাতাগুলি হয় খুব বড়ো। বৃক্ষগুলি খুব কাছাকাছি বা ঘনভাবে জন্মায় বলে পরস্পর যুক্ত হয়ে উপরিভাগ সবুজ চাদোয়ার মতো নিচ্ছিদ্র- ভাবে বিস্তৃত হয়।
বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে বলে বৃক্ষগুলির উচ্চতা হয় মাঝারি, এদের শাখাপ্রশাখা এলোমেলোভাবে বাড়ে এবং পাতার নির্দিষ্ট কোনো আকার থাকে না। বৃক্ষগুলি দূরে দূরে জন্মায় বলে উপরিভাগ উঁচুনীচু হয়৷
3. লতাগুল্ম:
বড়ো বড়ো বৃক্ষের সঙ্গে ওখানে ভূমিভাগের বড়ো বড়ো পাতার ঝোপ-ঝাড় ও তাই লতাগুল্মে পূর্ণ থাকে। ক্রান্তীয় চিরহরিৎ উদ্ভিদ অধ্যুষিত অরণ্যে প্রবেশ করা প্রায় দুঃসাধ্য হয়।
ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদের মধ্যে লতাগুল্ম খুব কমই থাকে। এজন্য ভূমিভাগ বেশ ফাঁকা হয় এবং সেখানে সহজেই প্রবেশ করা যায়।
অথবা, বস্তুসূচকের (বস্তুসূচক = কাঁচামালের ওজন ÷ উৎপাদিত পণ্যের ওজন) মানের উপর ভিত্তি করে শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালকে দুইভাগে ভাগ করা হয়, যথা—[i] বিশুদ্ধ কাঁচামাল এবং [ii] অবিশুদ্ধ কাঁচামাল। শিল্পের অবস্থানে এই দুই ধরনের কাঁচামালের প্রভাব খুব বেশি। যেমন—
[i] বিশুদ্ধ কাঁচামালের প্রভাব: যখন নির্দিষ্ট ওজনের কাঁচামাল থেকে প্রায় একই ওজনের পণ্য উৎপাদিত হয়, অর্থাৎ বস্তুসূচকের মান ১ (এক) বা ১-এর কাছাকাছি থাকে, তাকে বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে, যেমন কার্পাস বা তুলো, পাট ইত্যাদি। এইসব বিশুদ্ধ কঁচামাল-নির্ভর শিল্পগুলির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কাঁচামালের ওজন ও উৎপাদিত পণ্যের ওজন প্রায় একই হয় বলে শিল্পগুলি কাঁচামালের উৎসের কাছে বা বাজারের কাছে বা অন্য যে-কোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে। এজন্য এগুলিকে শিকড় আলগা বা অস্থায়ী শিল্প বলে। উদাহরণ—মহারাষ্ট্র-গুজরাটে উৎপাদিত কার্পাসের উপর ভিত্তি করে শুধু ওই দুই রাজ্যেই নয়, বহু দূরের হুগলি শিল্পাঞ্চলসহ পূর্ব ও উত্তর ভারতের বহু স্থানেই কার্পাস বয়ন শিল্প গড়ে উঠেছে।
[ii] অবিশুদ্ধ কঁচামালের প্রভাব: যে কাঁচামালের ওজন উৎপাদিত পণ্যের ওজনের চেয়ে বেশি হয়, অর্থাৎ বস্তুসূচকের মান ১(এক)-এর বেশি হয়, তাকে অবিশুদ্ধ বা ওজনহ্রাসসীল কাঁচামাল বলে, যেমন আখ, আকরিক লোহা ইত্যাদি। আখ থেকে চিনি উৎপাদন করলে তার ওজন কমে যায়। এজন্য পরিবহণ ব্যয় কমাতে অবিশুদ্ধ কাঁচামাল ব্যবহারকারী শিল্পগুলি কাঁচামালের উৎসের কাছে গড়ে ওঠে। উদাহরণ— আখ উৎপাদনকারী মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে ভারতের অধিকাংশ চিনি কল গড়ে উঠেছে।
৪.৮ উপগ্রহ চিত্রের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
অথবা, দূর সংবেদন ব্যবস্থার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো ।
Ans. উপগ্রহ চিত্রের তিনটি বৈশিষ্ট্য হল—
[i] বিশাল অঞ্চলের চিত্র: অনেক উঁচু থেকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং ডিজিটাল বা সংখ্যাকারে সংগৃহীত তথ্যের উপর ভিত্তি করে উপগ্রহ চিত্র তৈরি করা হয় বলে এক-একটি উপগ্রহ চিত্রের মধ্যে বহু শত বর্গকিলোমিটার ব্যাপী এলাকার অর্থাৎ সুবিশাল অঞ্চলের ছবি বা চিত্র ও তথ্য পাওয়া যায়।
[ii] ছদ্ম রঙে উপস্থাপিত চিত্র: উপগ্রহ চিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদানসমূহ, যেমন মাটি, জল, উদ্ভিদ, বসতি প্রভৃতিকে প্রকৃত রঙের পরিবর্তে ছদ্ম রঙে প্রকাশ করা হয়। যেমন গভীর অরণ্য গাঢ় লালে, অগভীর বন হালকা বা ঘষা লালে, সবুজ ধান খেত লালচে রঙে, হলুদ বা পাকা ধান খেত কালচে লালে, নদী ও জলাশয় গাঢ় নীলে, বসতি সবুজে নীলে দেখানো হয়।
[iii] উপগ্রহ চিত্র কম্পিউটারে ব্যবহার ও বিশ্লেষণের উপযোগী: ডিজিট্যাল বা সংখ্যাকারে সংগৃহীত তথ্যের উপর নির্ভর করে উপগ্রহ চিত্র তৈরি করা হয় বলে এই চিত্রকে কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রয়োজন মতো ব্যবহার ও বিশ্লেষণ এবং GIS (Geographical Information System)-সহ কাজে লাগানো যায়।
অথবা, সুবিধাসমূহ: দূর সংবেদন ব্যবস্থার সুবিধাগুলি হল—
[i] দুর্গম অঞ্চলের তথ্য: দূর সংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে যে-কোনো দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। [ii] খুব অল্প সময়ে বিস্তৃত অঞ্চলের নিখুত তথ্য: দূর সংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে বিস্তীর্ণ এলাকার নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করা যায়। [iii] আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সঠিক পূর্বাভাস: এর মাধ্যমে আবহাওয়ার তাৎক্ষণিক পরিবর্তন সহজেই ধরা পড়ে বলে আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া যায়। এ ছাড়াও দূর সংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে জলসম্পদ, অরণ্যসম্পদ, ভূমি ব্যবহারের ধরন, ভূগর্ভস্থ সম্পদ, আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিদেশি সেনার গতিবিধি ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ও সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা যায়।।
অসুবিধাসমূহ: দূর সংবেদন ব্যবস্থার অসুবিধাগুলি হল—
[i] ব্যয়বহুল: দূরসংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও তা প্রকাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরিতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এজন্য সব দেশ এটি ব্যবহার করতে পারে না। | [ii] উন্নত প্রযুক্তি ও সুদক্ষ কর্মী প্রয়োজন: দূর সংবেদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয় বলে এর ব্যবহার খুবই সীমিত। [ii] মেঘাচ্ছন্ন আকাশ: আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তথ্য সংগ্রহ করা অসুবিধা জনক। এ ছাড়াও দূর সংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে বস্তুর উচ্চতা নির্ণয়ে অসুবিধা হয়।
৪.৯ নদীর মোহনায় বদ্বীপ কেন গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো । অথবা, ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায় কেন ?
Ans. নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠার মূল কারণ তিনটি— ভূমির তাল কমে যাওয়া:নদী যতই মোহানার কাছে চলে আসে, ভূমির তাল ততই কমে যায় বলে নদীর স্রোতের বেগ এবং বহনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে তখন সেখানে নদীর অবক্ষেপণ কার্য খুব বেড়ে যায়, অর্থাৎ নদীবাহিত কাদা, পলি, বালি মোহানায়। ব্যাপকভাবে সঞ্চিত হতে থাকে। 2) নদীজলে বেশি পরিমাণ পলি থাকা: নদীর বিভিন্ন অংশে বহু উপনদী মিলিত হয় বলে তার . সম্মিলিত প্রভাবে নদীর শেষ প্রান্ত অর্থাৎ মোহানায় পলিবালির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। 3) সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সংস্পর্শ: নদীবাহিত এইসব পদার্থ সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে এসে জোটবদ্ধ ও ভারী হয়ে যায় বলে মোহানায় জমা হতে শুরু করে। এগুলি জমতে জমতে ক্রমশ মোহানায় গ্রিক অমর ডেল্টা (A) বা। বাংলা অক্ষর মাত্রা ছাড়া ব-এর মতো নতুন ভূভাগ বা বদ্বীপ সৃষ্টি হয়। প্রসঙ্গত বলা যায়, মোহানায় সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ারভাটা, বায়ুপ্রবাহের দিক, উপকূলভাগের গভীরতা, সমুদ্রের উন্মুক্ততা, সমুদ্রজলের ঘনত্ব প্রভৃতি মোহানায় বদ্বীপ গঠনে কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে।
অথবা,
ট্রপোস্ফিয়ারে অর্থাৎ বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুর উয়তা হ্রাস পায়। একে বলে তাপমাত্রার স্বাভাবিক হ্রাস হার। তাপমাত্রা হ্রাসের এই হার হল প্রতি 1000 মিটারে প্রায় 6.4o সে। ট্রপোস্ফিয়ারে এইভাবে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায়, কারণ:
১) ওপরে বিকিরণ কম: সূর্যতাপে বায়ুমন্ডল সরাসরি বিশেষ উষ্ণ হয় না। সূর্যতাপে প্রথমে ভূপৃষ্ঠ উষ্ণ হয় এবং পরে ওই উষ্ণ ভূপৃষ্ঠ _ থেকে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হয়। এজন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে ক্রমশ ওপরের দিকে উষ্ণতা কমে যায়।
2) বায়ুর ঘনত্ব কম; ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উধের্ব ওঠা যায় বায়ুর ঘনত্ব তত কমে যায় বলে বায়ুর তাপধারণ ক্ষমতাও হ্রাস পায়। এরফলে ক্রমশ ওপরে উষ্ণতাও হ্রাস পেতে থাকে।
৩) বিকীর্ণ তাপ কম পৌঁছায়: ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপের খুব কম অংশই ওপরে পৌঁছায়।
৪) তাপশোষণ কম; ওপরের বায়ুতে ধূলিকণা ও জলীয়বাষ কম থাকে বলে ওই বায়ুর তাপশোষণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতাও কম।
৫) বায়স্তর পাতলা; বায়ুস্তর ক্রমশ ওপরের দিকে পাতলা হয়ে যায়।তাই উদ্ধের বায়ু তাড়াতাড়ি প্রসারিত এবং তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। এজন্যই ট্রপোস্কিয়ার স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায় উষ্ণতা তত হ্রাস পেতে থাকে।
৪.৯ গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের উপায় গুলি কি কি ? অথবা, বর্জ্যের পরিমাণগত হ্রাস কীভাবে করা যায় ?
Ans. গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের উপায়: গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হল স্ক্রাবার। এই স্ক্রাবার যন্ত্রে সাধারণত দু-ভাবে গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ বা নিষ্কাশন করা হয়। যথা— । [i] আর্ট স্ক্রাবিং: এক্ষেত্রে কলকারাখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও ধূলিকণা প্রভৃতি বায়ুদূষককে কোনো জলীয় দ্রবণের মধ্যে চালনা করে বিশুদ্ধ বাতাস নির্গত করা হয়। । [ii] শুষ্ক স্ক্রাবিং: এই পদ্ধতিতে জলীয় দ্রবণ ছাড়াই বস্তুকণা ও দূষিত বাতাস স্ক্রাবারের মাধ্যমে পরিসুত হয়ে বিশুদ্ধ বাতাস নির্গত করে। সাধারণত শুষ্ক স্ক্রাবিং পদ্ধতিতে অম্লধর্মী গ্যাস অপসারণ করা হয়।
অথবা,
বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল, বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ হ্রাস করা। এজন্য কতকগুলি উপায় অবলম্বন। করা প্রয়োজন। যেমন— 1 )জিনিসপত্রের উৎপাদন ও ব্যবহার তথা ভোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ।আরোপ করা। ২) জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করে চাহিদাকে সীমিত রাখা। 3) জিনিসপত্রের অপচয় বন্ধ করা। ও কলকারখানায় প্রযুক্তির উন্নতি ঘটিয়ে বর্জ্য পদার্থের নির্গমন । হ্রাস করা৷ 5) ব্যবহৃত জিনিস সরাসরি ফেলে না দিয়ে সেগুলিকে অন্য কাজে ব্যবহার করা। 6) একই দ্রব্য যাতে বারে বারে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়, তাই মজবুত ও টেকসই দ্রব্য উৎপাদন করা।। । 7) জৈব ভঙ্গুর তথা পরিবেশ বান্ধব জিনিসপত্রের ব্যবহার বাড়ানো। ৪) প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করা। 9) গৃহস্থালি, বিদ্যালয়, কলকারখানা, অফিস, আদালত-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতে বেশি বর্জ্য পদার্থ তৈরি না হয় সেদিকে নজর রাখা, সকলকে সচেতন করা। 10) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতির মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থের পরিমাণগত হ্রাস করা যায়।
৪.১০ ভারতের অরণ্য সংরক্ষণের তিনটি প্রধান উপায় সংক্ষেপে আলোচনা করো । অথবা, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো ?
Ans. উত্তর ভারতে অরণ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। 2013 সালে ভারতে বনাবৃত ভূমির পরিমাণ ছিল 21.23 শতাংশ। এ ছাড়া মোট উদ্ভিদ আচ্ছাদনের পরিমাণ ছিল 24.01 শতাংশ (সুত্র: Indian State of Forest Report '13) । অথচ সমগ্র ভূমির আয়তনের 33 শতাংশ বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। তাই নানা পদ্ধতিতে বর্তমানে অরণ্য সংরক্ষণ করা যায়—
1) অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃক্ষচ্ছেদন রোধ : অপ্রয়োজনীয় বৃক্ষচ্ছেদন রোধ করতে হবে। বনভূমি ও যে-কোনো স্থান থেকে গাছ কাটা নিষিদ্ধ করতে হবে। অরণ্যের বাস্তুতন্ত্রের কথা মাথায় রেখেই বৃক্ষচ্ছেদন করতে হবে। 2) অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন হ্রাস : গাছ কাটার খুব প্রয়োজন হলে কেবলমাত্র পরিণত বৃক্ষই যেন ছেদন করা হয়। অপরিণত এবং চারাগাছের প্রতি সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।।
অথবা,
সংবাদ বা তথ্য ও ভাবের আদানপ্রদানকে এককথায় যোগাযোগ বলে । চিঠিপত্র, টেলিফোন, টেলিগ্রাম, ইন্টারনেট প্রভৃতির সাহায্যে যে আদানপ্রদান হয়, সেগুলিকে বলে যোগাযোগের মাধ্যম। এই ধরনের একটি সম্পূর্ণ ও সংগঠিত আদানপ্রদান ব্যবস্থাকে বলে যোগাযোগ ব্যবস্থা। আগেকার দিনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। ড্রাম বা ঢোল পেটানো, শঙ্খধবনি, ধোয়া-সংকেত প্রভৃতি ব্যবহৃত হত। পরবর্তী সময়ে পশুপাখির মাধ্যমে এবং আরও পরে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে লিখিত বার্তা আদানপ্রদান করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ব্যস্ত জীবনের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে এবং উন্নত পরিসেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যম চালু হয়েছে। যেমন- ইন্টারনেট, ই-মেল, সেলফোন ইত্যাদি।
1) ইন্টারনেট: সমগ্র বিশ্ব জুড়ে একাধিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ব্যবস্থাই হল ইন্টারনেট ব্যবস্থা । বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই এই ইন্টারনেট ব্যবস্থার সাহায্যে পরপর যক থেকে নিমেষের মধ্যে তথ্য, খবরাখবর এবং মতামত বিনিময় করে চলেছে । দুত, সহজে এবং স্বল্প ব্যয়ে যোগাযোগ সাধনের এটি অন্যতম মাধ্যম। বর্তমানে ইন্টারনেটে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার প্রভৃতি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ খুবই জনপ্রিয়।
2) ই-মেল: এর মাধ্যমে অতি অল্প খরচে দ্রুত পৃথিবীর যেকোনো স্থানে সংবাদ পাঠানো যায়।
3) সেলফোন; শুধু দুজন মানুষের মধ্যে কথা বলার সুবিধাই নয়, মোবাইল বা সেলুলার ফোনের SMS, MMS, মোবাইল ব্যাংকিং প্রভৃতি বিচিত্র ধরনের পরিসেবা একে একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য যোগাযোগের মাধ্যমে পরিণত করেছে।
৪.১১ ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের পার্থক্য কী কী ? অথবা, ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র তিনটি ব্যবহার উল্লেখ করো ।
Ans. উপগ্রহ চিত্র এবং ভুবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে
অথবা,
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র পাঠ ভূগোলশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যে কোনো অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং সুস্পষ্টভাবে জানার ক্ষেত্রে এই মানচিত্রের অনস্বীকার্য ভূমিকা হল— যে-কোনো অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও ভূপ্রাকৃতিক বিষয়ের সুন্দর ধারণা এই ধরনের মানচিত্র থেকে পাওয়া যায়।
এতে পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, নদী উপত্যকা, হ্রদ, জলাশয়, বনাঞ্চল, রাস্তাঘাট, রেলপথ, সেতু, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, মানুষের নানা ধরনের বসতি প্রতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে। @ এ ছাড়া সেনাবাহিনীর। কাছেও এই মানচিত্রের ভূমিকা অসীম। প্রশাসনিক দিক থেকে গুরত্বপর্ণ বা ভূপ্রকৃতিগতভাবে দুর্গম স্থানের ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র সেনাবাহিনীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিভাগ—ঙ:
৫.১ যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চিত্রাঙ্ককন আবশ্যিক নয়) : ৫x২=১০
৫.১.১ শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি চিত্র-সহ বর্ণনা করো ।
Ans. শুষ্ক অঞ্চলে অর্থাৎমরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে জলধারাও সম্মিলিতভাবে ভূমির পরিবর্তন ঘটায়। কারণ মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হলেও যখন হয় তখন স্বল্প সময়ে তীব্রভাবে হয়। বায় ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্টি ভূমিরুপগুলি হল –
(i) পেডিমেন্ট - মরুভূমিতে উচ্চভূমি থেকে পাদদেশের দিকে মৃদু ঢালযুক্ত (ঢাল) ভূমিকে পেডিমেন্ট বলে। পেডিমেন্ট ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের সম্মিলিত ফল। পেডিমেন্টের পশ্চাতে অনুচ্চ টিলাকে ইনসেলবার্জ বলে।
(ii) বাজাদা – পেডিমেন্টের ওপর দিয়ে প্রবাহিত জলধারার সঙ্গে বয়ে আসা নুড়ি, কঁকর, বালি, পলি প্রভৃতি ঢালের নীচে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণাকার পললব্যজনী সৃষ্টি করে। এই ধরনের অনেকগুলি ভূমি পরস্পরযুক্ত হয়ে যে বৃহৎ আকারে পলিভূমির সৃষ্টি করে তাকে বাজাদা বলা হয়।
(iii) প্লায়া-মরুভূমিতে পাহাড়ে ঘেরা মধ্যভাগে বা কোনো নিম্নভূমিতে জল জমে লবণাক্ত অগভীর হ্রদ সৃষ্টি হলে তাকে প্লায়া বলে। দঃ আমেরিকায় এই হ্রদগুলিকে স্যালিনা, অস্ট্রেলিয়ার প্যান আরব অঞ্চলে শট বলা হয়।
(iv) ওয়াদি – মরু অঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টি ও ফলস্বরূপ বন্যার কারণে স্বল্পমেয়াদি নদীর সৃষ্টি হয়। জল নেমে গেলে শুষ্ক নদীখাতের সৃষ্টি হয়। এই শুষ্ক নদী খাতগুলিকে ওয়াদি বলে।।
৫.১.২ বায়ুমন্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের প্রধান তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করো ।
Ans. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উন্নতা উল্লম্ব ও অনুভূমিকভাবে বন্টিত। বায়ুমণ্ডলের উষ্ণুতা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হয়। বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের 3টি কারণ হল
(1) অক্ষাংশ :পৃথিবী অক্ষাংশের তারতম্যের ভিত্তিতে বিভিন্নভাগে বিভক্ত। অক্ষাংশের তারতম্যের কারণে সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্য ঘটে। যেমন—সূর্যরশ্মি নিরক্ষীয় অঞ্চলে লম্বভাবে আপতিত হয়। ফলে নিরক্ষীয় অঞলে উষ্ণতা বেশিহয়। আবার উচ্চ অক্ষাংশীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মির পতনকোণ বেশি হয় অর্থাৎসূর্যরশ্মিতির্যকভাবে আপতিত হয়। এছাড়া নিরক্ষীয় অঞলে সূর্যরশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের কম পথ অতিক্রম করতে হয় কিন্ত উচ্চ অক্ষাংশ যুক্ত অঞ্চলে অনেক বেশি পথ অতিক্রম করতে হয় বলে সেখানে সূর্যরশ্মির তাপ কম হয়।'
উদাহরণ : নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Brazil) গড় উষ্ণুতা 27°C কিন্তু হিমমণ্ডলে তা হয় হিমাঙ্কের নীচে।
(2) উচ্চতা : ভূ-পৃষ্ঠে সমুদ্রসমতল থেকে প্রতি 1 km উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুমণ্ডলের উত্মতা 6.4°C হারে হ্রাস পায়। একে তাপমাত্রার স্বাভাবিক হ্রাস বলে। তাই সমুদ্রসমতল অপেক্ষা উঁচু স্থানে গেলে উষ্ণতা কম হয়। এছাড়াও পার্বত্য উপত্যকা অঞ্চলে শীতে রাত্রে বৈপরীত্য উত্তাপ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে পর্বতের উপরের শীতল বায়ু উপত্যকায় নেমে আসে ও উপত্যকার উষ্ণ বায়ু পর্বতের ঢালে অবস্থান করে।
উদাহরণ : নিরক্ষরেখাতে অবস্থান সত্ত্বেও মাউন্ট কিলিমাঞ্জাবরার চূড়া সর্বদা বরফাচ্ছাদিত থাকে।
(3) সমুদ্রস্রোত :সমুদ্রস্রোতও উষ্ণুতার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। উয় স্রোতের প্রভাবে কোনো অঞলের উষ্ণুতা বৃদ্ধি পায় এবং তা বরফাবৃত বন্দরকে বরফমুক্ত করে ও হিমশৈলকে গলিয়ে দেয়। আর, শীতল সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে কোন অঞ্চলের শীতলতা বাড়ে। শীতল সমুদ্রস্রোত বন্দরকে বরফাবৃত করে ও হিমশৈল বয়ে আনে।
উদাহরণ : উয় উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম উপকূল বরফমুক্ত হয় কিন্তু শীতল স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পূর্বভাগ বরফাবৃত থাকে।
৫.১.৩ পৃথিবীব্যাপী সমুদ্রস্রোতের প্রভাবগুলি আলোচনা করো ।
Ans. প্রধানত নিয়ত বায়ু, পৃথিবীর আবর্তন বেগ, সমুদ্রজলের উম্নতা,লবণতাইত্যাদির তারতম্যের কারণে সমুদ্রজলের একমুখী প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
সমুদ্রস্রোতের প্রভাবগুলি হল -----
(A) জলবায়ুর ওপর প্রভাব :
(1) উয়ু সমুদ্রস্রোতের প্রভাব : উয় সমুদ্রস্রোত যে অঞ্চলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় সেই অঞ্চলের উষ্ণুতার বৃদ্ধি ঘটায়। এটি যদি কোনো বরফযুক্ত বন্দরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে তাকে বরফমুক্ত করে তোলে।'
যেমন—উ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ দ্বীপ পুঞ্জের পশ্চিমভাগ বরফমুক্ত থাকে।
(2) শীতল সমুদ্রস্রোতের প্রভাব :শীতল সমুদ্রস্রোত কোনো অঞ্চলের শীতলতা বৃদ্ধি করে। যদি কোনো বন্দরের পাশ দিয়ে শীতল স্রোত প্রবাহিত হয়, তবে তার উম্লতা হ্রাস পায়। এটি হিমশৈলও বয়ে আনে।
যেমন—শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার নৈন শহরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে থাকে।
(3) অধঃক্ষেপণ :উ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু অধিক জলীয়বাষ্প ধারণ করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়, আবার শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক হয়, তাই তা বৃষ্টিপাত ঘটায় না।
উদাহরণ : উম্ন উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম দিকে বৃষ্টি হয়। শীতল কামচাটকা স্রোতের প্রভাবে উঃ-পূঃ এশিয়ায় তুষারপাত ঘটে।
(4) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি : যে সীমানায় উম্ন স্রোত ও শীতল স্রোত পরস্পর মিলিত হয় সেখানে ঘন কুয়াশা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে। যেমন—নিউ ফাউন্ডল্যান্ড উপকুলে হিমপ্রাচীর দেখা যায়।
(5) এল-নিনো : 4-7 বছর অন্তর পেরু, ইকুয়েডর-এর পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে শীতল পেরু স্রোতের বদলে উষ্ণু স্রোতের আবির্ভাব ঘটে। এর ফলে পেরু, ইকুয়েডর অঞ্চলে বন্যা ঘটে ও অন্যান্য স্থানে খরা হয়। এতে পেরুর আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে।
(B) মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়ার ওপর প্রভাব :
(1) পরিবহন : উষ স্রোতের অনুকূলে জাহাজ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এইজন্যই আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জল পরিবহন ক্ষেত্র। আবার শীতল স্রোতের সাথে আগত হিমবাহ ও শীতলতার কারণে সেই অঞ্চল পরিবহন অযোগ।
(2) মগ্নচড়া : যে সব স্থানে শীতল স্রোতের সাথে উম্ন স্রোতের মিলন ঘটে, সেইখানে শীতল স্রোতের বয়ে আনা হিমশৈল উম্ন স্রোতের সংস্পর্শে গলে যায়। হিমশৈল বাহিত নুড়ি, বালি, কাকড় সমুদ্রগর্ভে সঞ্জিত হয়ে মগ্নচড়া সৃষ্টি করে। এটি প্ল্যাংঙ্কটনের অনুকূল পরিবেশ। এই প্ল্যাঙ্কটন মাছের প্রধান খাদ্য। তাই এই অঞ্চল উন্নত মৎসকেরূপে বিকশিত হয়।
উদাহরণ : Grand Bankমগ্নচড়া উন্নত মৎসক্ষেত্র।
বিপদ :শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল জাহাজের ক্ষতি করে ও প্রাণহানি ঘটায়। 1912 সালে Titanic হিমশৈলের আঘাতে ডুবে যায়।
৫.১.৪ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
Ans. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব –
বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবজগত ও পরিবেশের উপর এর এক সুদূর প্রসারি ক্ষতিকারক প্রভাব দেখা যায়। যেমন –
i) মেরু অঞ্চলের বরফের গলন ও পার্বত্য হিমবাহের গলন –
বিশ্ব উষ্যায়নের ফলে মেরু অঞলের (গ্রিণল্যান্ড, অ্যান্টার্কটিকা) সঞ্জিত বরফ স্তুপের গলন শুরু হয়েছে এবং পার্বত্য হিমবাহগুলির বরফের আয়তন ক্রমশ কমছে। সমীক্ষাতে দেখা গেছে গঙ্গোত্রী হিমবাহের গলন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধিপেয়েছে।
ii) সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধি –
• গ্রিণহাউস গ্যাসের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য মেরু অঞ্চলে ও পার্বত্য অঞ্চলের বরফ বেশি পরিমাণে গলে গিয়ে সমুদ্রে জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি করে। ফলে সমুদ্রের দ্বীপগুলির অস্তিত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
iii) অধঃক্ষেপণের প্রকৃতি পরিবর্তন –
বিশ্ব উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উৎসের জল অধিকতর দ্রুত ও বেশি পরিমাণে বাষ্পীভূত হচ্ছে, তার ফলে বৃষ্টিপাত বা অধঃক্ষেপণের পরিমাণ সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাষ্পীভবন বৃদ্ধির ফলে কোথাও প্রবল বর্ষণ আবার কোথাও খরা হচ্ছে। ইউরোপের বহু জায়গায় তুষারপাত কমে গেছে আবার কোথাও অল্প সময়ে খুব বেশি তুষারপাত হচ্ছে। ঘূর্ণবাতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
iv) কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন –
বিশ্ব উয়ায়নের ফলে খরা ও বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন হচ্ছে। বর্ষার সময় খরার ফলে খারিফ চাষ ব্যাহত হচ্ছে। আবার স্বল্প বৃষ্টি ও অনিয়মিত বৃষ্টির জন্য ফল-ফুলের চাষ নষ্ট হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনে চাষযোগ্য জমিতে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও আগাছার উপদ্রব বাড়ছে যা শস্য উৎপাদনের বৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে।
v) এল নিনো ও পৃথিবীব্যাপী তার প্রভাব –
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পেরুর উপকূলেশীতল পেরু স্রোতের পরিবর্তে অস্থায়ী উসমুদ্রস্রোতের আবির্ভাবের ঘটনাকে এল-নিনো' বলে।।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, যে বছর এল নিনো প্রবাহিত হয় সে বছর দক্ষিণ এশিয়াতে পূবালি জেটবায়ু দু-ভাগ হয়ে পড়ায় প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ু কিছুটা দুর্বল হয়ে ভারতবর্ষে দেরিতে প্রবেশের ফলে খরা সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি 2009 খ্রিস্টাব্দে EL-Nino-এর প্রভাবে ভারতের 250টি জেলায় খরার সৃষ্টি হয়েছে।
৫.১.৫ নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো ।
Ans. উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত নদী তার গতিপথে তিনটি কাজ করে—ক্ষয়, বহন এবং সঞ্চয়। এগুলির মধ্যে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে যেসব ভূমিরূপ গঠিত হয় সেগুলি হল—
[i] V’-আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত: আর্দ্র ও আর্দপ্রায় অঞ্চলে নদীর উ বা পার্বত্য প্রবাহে ভূমির ঢাল অধিক থাকায় নদীগুলি প্রবলভাবে নিম্নক্ষয় করে। এরূপ নিম্নক্ষয়ের কারণে নদী উপত্যকাগুলি যেমন সংকীর্ণ ও গভীর হয়ে ওঠে তেমনি আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ইত্যাদির প্রভাবে কিছু পরিমাণ পার্শ্বক্ষয়ও চলে। ফলে নদী উপত্যকা পূর্বাপেক্ষা চওড়া হয়ে ‘V আকৃতি ধারণ করে। অতিগভীর ‘V’-আকৃতির উপত্যকাকে বলা হয় গিরিখাত। যেমন— নেপালের কালী নদীর গিরিখাত।
![]() |
| গিরিখাত ও V-আকৃতির উপত্যকা |
[ii] জলপ্রপাত: নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর উপর-নীচে আড়াআড়িভাবে থাকলে প্রবল স্রোতে কঠিন ও কোমল শিলার সন্ধিস্থল উন্মুক্ত হয় এবং উপরের কঠিন শিলাস্তর ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে নীচের কোমল শিলাস্তর বেরিয়ে আসে। কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয় পাওয়ার কারণে নদীস্রোত হঠাৎ খাড়া ঢাল সৃষ্টি করে প্রবল বেগে নীচে পড়ে। একেই বলা হয় জলপ্রপাত। উদাহরণ—ভেনেজুয়েলার ক্যারোনি (Caroni) নদীর উপনদী চুরান (Churun) নদীর গতিপথে সৃষ্ট অ্যাঞ্জেল প্রপাতটি পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত।
![]() |
| জলপ্রপাত |
[iii] পটহোল বা মন্থকূপ: পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল স্রোতের সঙ্গে বাহিত বড়ো বড়ো পাথরের সঙ্গে নদীখাতের সংঘর্ষের ফলে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীর বুকে মাঝে মাঝে যে গোলাকার গর্ত সৃষ্টি হয়, সেগুলিকে বলা হয় পটহোল বা মন্থকূপ। উদাহরণ—তিস্তা নদীর পার্বত্য প্রবাহে মন্থকূপ দেখা যায়।
মন্থকূপ
৫.১.৬ নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় এবং মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো ।
Ans. নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়: নিরক্ষরেখার উভয়দিকে প্রায় ৫° উত্তর থেকে ৫° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়টি অবস্থিত। এই চাপ বলয়টি সৃষ্টির কারণ—
[i] অধিক সূর্যরশ্মি তথা উন্নতা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে বায়ু সারা বছর পরিচলন পদ্ধতিতে উম্ন ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়।
[ii] অধিক জলভাগ: এই অঞ্চলে থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এখানে বায়ুর ঘনত্ব কম অর্থাৎ বায়ু হালকা।
[iii] আবর্তনের সর্বাধিক বেগ: নিরক্ষীয় অঞ্চল বরাবর পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সর্বাধিক হওয়ায় এখানকার ঊর্ধ্বমুখী উন্ন ও আর্দ্র বায়ু পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টি দেবার পর দুই পাশের ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে বিক্ষিপ্ত হয়। ফলে এই অঞ্চলে বায়ুর ঘনত্ব কমে গিয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয়: উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু-সংলগ্ন অঞ্চলে ৮০° অক্ষরেখা থেকে ৯০° এর মধ্যে সারা বছর উচ্চচাপ বিরাজ করে, যাকে মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় বলা হয়। এই চাপবলয়টি সৃষ্টির কারণ—
[i] উয়তা অত্যন্ত কম: প্রচন্ড ঠান্ডার জন্য দুই মেরু অঞ্চলের বায়ু অত্যাধিক শীতল ও ভারী এবং অধিক ঘনত্ব যুক্ত। এজন্য এখানকার বায়ুতে সর্বদা উচ্চচাপ থাকে।
[ii] জলীয়বাষ্পের পরিমাণ খুব কম: বাষ্পীভবন খুব কম হয় বলে এখানকার বায়ুতে জলীয়বাষ্প তথা আর্দ্রতার পরিমাণও কম থাকে।
[iii] মেরুবৃত্ত অঞ্চল থেকে বায়ুর আগমন: পার্শ্ববর্তী মেরুবৃত্ত অঞ্চলের নিম্নচাপ বলয় থেকে উধর্বগামী বায়ুর কিছু অংশ শীতল হয়ে এই অংশে নেমে আসে বলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ বৃদ্ধি পায়।
৫.১.৭ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে সংঘটিত হয়, উপযুক্ত উদাহরণ এবং চিত্রসহ বর্ণনা করো ।
Ans. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি: জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতের গায়ে প্রতিহত হয়ে উপরে উঠে গিয়ে ক্রমশ শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
কীভাবে সংগঠিত হয়: জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময়ে শৈলশিরা তথা পর্বতশ্রেণিতে বাধা পেলে পর্বতের গা বেয়ে উপরে ওঠে এবং প্রসারিত ও শীতল হয়। এরফলে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।। পর্বত অতিক্রম করে ওই বায়ু যখন বিপরীত ঢালে বা অনুবাত ঢালে পৌঁছোয় তখন বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে যায়। এ ছাড়া পর্বত অতিক্রম করে ওই বায়ু পর্বতের ঢাল বেয়ে নীচে নামে বলে তার উম্নতা ও জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা উভয়ই বৃদ্ধি পায়। এজন্য পর্বতের অনুবাত ঢালে এবং এর সংলগ্ন অঞ্চলে খুব কম বৃষ্টিপাত হয়। এরূপ কম বৃষ্টিপাতযুক্ত বা বৃষ্টিহীন এলাকাকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণের নির্ভরশীলতা: সাধারণত [i] জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুর গতিপথে পর্বতের আড়াআড়ি অবস্থান, [ii] খাড়াই প্রতিবাত ঢাল, [iii] সমুদ্রোপকূল বরাবর পর্বতের বিস্তৃতি প্রভৃতি থাকলে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়।
উদাহরণ [i] পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিমটাল: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরবসাগরীয় শাখা এসে সরাসরি প্রতিহত হয় বলে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিমঢালে প্রচুর পরিমাণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়। আর এই পর্বতমালার পূর্ব ঢাল এবং সন্নিহিত এলাকাসমূহে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে। [ii] মেঘালয়ের খাসি-জয়ন্তিয়া পাহাড়ের দক্ষিণ ঢাল: দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা মেঘালয়ের খাসি জয়ন্তিয়া পাহাড়ের দক্ষিণের খাড়া (প্রতিবাত) ঢালে সরাসরি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য চেরাপুঞ্জি-মৌসিনরাম (বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১২০০ সেমির বেশি) সহ প্রতিবাত ঢালের অন্যান্য স্থানে প্রবল শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু পাহাড়ের উত্তর (অনুবাত) ঢালে অবস্থিত শিলং, মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে এবং তাই ওখানে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ১০০-২০০ সেমি।
৫.১.৮ জোয়ার ভাটা সৃষ্টির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো ।
Ans. জোয়ারভাটা সৃষ্টি: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমুদ্রের জলরাশি কোথাও ফুলে ওঠে এবং কোথাও নেমে যায়। জলরাশির ফুলে ওঠা বা স্কীতিকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রধানত দুটি কারণে জোয়ারভাটা সৃষ্টি হয়—[i] পৃথিবীর উপর চাদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল এবং [ii] পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল।
[i] পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল: নিউটন-এর মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে, এই বিশ্বব্রম্মান্ডের প্রতিটি বস্তুই একে অপরকে আকর্ষণ করে। সুতরাং গ্রহ, উপগ্রহ, সূর্য প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্কই পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এই হিসেবে চাদ ও সূর্য, পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তবে সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ যদিও চাদের তুলনায় সূর্যের ভর প্রায় ২৬০ লক্ষ গুণ বেশি, কিন্তু পৃথিবী থেকে চাঁদ যত দূরে আছে, সূর্য রয়েছে তার থেকে প্রায় ৩৮৯ গুণ বেশি দূরত্বে। এজন্য জোয়ারভাটা সৃষ্টির ক্ষেত্রে চাদের আকর্ষণ সূর্যের আকর্ষণের প্রায় ২.২ গুণ বেশি। তাই প্রধানত চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর জলরাশি ফুলে ওঠে অর্থাৎ জোয়ার হয়।
সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীতে জোয়ার হলেও তা অতটা প্রবল আকার ধারণ করে না। এজন্য পৃথিবীর যে অংশ যখন চাদের ঠিক সামনে আসে, সেখানে চাদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় বলে সেখানকার জলরাশি সর্বাধিক ফুলে ওঠে। একে বলে মুখ্য জোয়ার। আবার, পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করলে জোয়ারের তীব্রতা বেশি হয়।
[ii] পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল: পৃথিবী নিজের মেরুরেখার চারদিকে অনবরত আবর্তন করে চলেছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠে একটি বিকর্ষণ শক্তি বা কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয় এবং তার প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের জলরাশি বাইরের দিকে বিক্ষিপ্ত হওয়ার প্রবণতা লাভ করে। এই বল পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে কাজ করে। এজন্য চাঁদের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় তার ঠিক বিপরীত দিকে বা প্রতিপাদ স্থানে চাঁদের মহাকর্ষ শক্তির তুলনায় পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব বেশি কার্যকরী হওয়ায় জোয়ারের সৃষ্টি হয়। প্রতিপাদ স্থানে সৃষ্ট এই জোয়ারকে গৌণ জোয়ার বলে| অবশ্য অনেক বিজ্ঞানী বলেন, ওই স্থানে গৌণ জোয়ার সৃষ্টিতে জলভাগ ও স্থলভাগের সরণের পার্থক্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ভাটা: উপরোক্ত দুটি কারণে পৃথিবীর যে দুটি স্থানে জলস্ফীতি ঘটে বা জোয়ারের সৃষ্টি হয়, ঠিক তার সমকোণে অবস্থিত দুটি স্থান থেকে জলরাশি জোয়ারের দিকে সরে যায় বলে স্থান দুটির জলতল নেমে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি হয়।
৫.১.৯ হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপগুলির চিত্র-সহ বিবরণ দাও ।
Ans. পর্বতের পাদদেশে সঞ্চয় বা হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে গঠিত ভূমিরূপ:পর্বতের পাদদেশে হিমবাহের প্রান্তসীমায় (অর্থাৎ হিমরেখার নীচে) হিমবাহ ও হিমবাহ-গলিত জলধারা মিলিতভাবে কিছু ভূমিরূপ গঠন করে। যেমন—
[i] বহিঃধৌত সমভূমি: প্রান্ত গ্রাবরেখার শেষে যেখানে নদীর উৎপত্তি হয়, সেখান থেকে বরফগলা জলপ্রবাহের মাধ্যমে হিমবাহবাহিত নুড়ি, কাকর, বালি প্রভৃতি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্চিত হলে যে সমভূমির সৃষ্টি হয়, সেই সমভূমিটিকে বলা হয় বহিঃধৌত সমভূমি বা আউট-ওয়াশ প্লেন।
[ii] ড্রামলিন:বহিঃধৌত সমভূমির কাছে বা ওপরে হিমবাহ ও জলধারা বাহিত শিলাখন্ড, নুড়ি, কাকর, বালি প্রভৃতি উঁচু হয়ে সঞ্চিত হয়ে উলটানো নৌকা বা উলটানো চামচের মতো ভূমিরূপ গঠন করে, তখন তাকে ড্রামলিন বলে কোনো স্থানে পাশাপাশি অনেকগুলি ড্রামলিন থাকলে তাকে ডিমের ঝুড়ি ভরতি ভুমিরূপ (Basket of egg topography) বলা হয়। ড্রামলিনের হিমবাহের প্রবাহের দিক। অমসৃণ ও খাড়াই এবং বিপরীত দিক মসৃণ ও ঢালু হয়। এগুলির উচ্চতা 6 মি. থেকে 60 মি. পর্যন্ত হয়।
[iii] কেম: হিমবাহের শেষপ্রান্তে হিমবাহবাহিত বালি, কাদা, কাঁকর প্রভৃতি পদার্থকে যখন হিমবাহ-গলিত জলধারা বহন করে নিয়ে গিয়ে কোনো বড়ো জলাভূমি বা হ্রদে সঞ্চয় করে ত্রিকোণাকার বা বদ্বীপের মতো ভূমিরূপ গড়ে তোলে তখন তাকে কেম বলে । সিঁড়ির ধাপের মত গঠিত কেম-কে ‘কেম সোপান’ বলা হয়।
[iv] এসকার: হিমবাহের তলদেশে অথবা হিমবাহের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত । জলধারাবাহিত স্তরায়িত বালি, নুড়ি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে শৈলশিরার মত দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা ভুমিরুপ গঠন করে। একে এসকার বলে। এগুলি দৈর্ঘ্যে কয়েক কিলোমিটার হলেও উচ্চতায় 3 থেকে 5 মিটার হয়।
[v] কেল: কোনো কোনো সময় বহিঃধৌত সমভূমিতে বিরাট বিরাট বরফের চাই নানা ধরনের অবক্ষেপের মধ্যে চাপা পড়ে থাকে। পরে যখন ওই বরফ গলে যায়, তখন সেখানে বেশ বড়াে গর্তের সৃষ্টি হয়। এর নাম কেটল। পরবর্তীকালে ওইসব গর্তে হিমবাহ-গলিত জল জমে যে হ্রদের সৃষ্টি হয় তাকে বলে কেটল হ্রদ । স্কটল্যান্ডের উত্তরে ওকনি দ্বীপে কে এবং কেটল হ্রদ আছে।
[vi] নব: হিমবাহবাহিত ক্ষয়জাত পদার্থ হিমবাহ-গলিত জলধারার মাধ্যমে বহিঃধৌত সমভূমির ওপর টিলার আকারে সঞ্চিত হলে সেই টিলাগুলিকে বলে নব।
৫.১.১০ পৃথিবীর নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলির উৎপত্তি ও গতিপথ চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো ।
Ans. পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে 3টি স্থায়ী নিম্নচাপ ও 4টি স্থায়ী উচ্চচাপ বলয় আছে। এই উচ্চচাপ বলয়গুলি থেকে নিম্নচাপ বলয়গুলির দিকে সারাবছর ধরে। নিয়মিতভাবে প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।
নিয়ত বায়ু প্রধানত তিন প্রকার -------
আয়ন বায়ু: উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল। থেকে যে দুটি বায়ু সারাবছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অস্কুলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাদের বলা হয় আয়ন বায়ু।
শ্রেণিবিভাগ ; আয়ন বায়ু দুপ্রকার—
[i] উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু: উত্তর গোলার্ধের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আয়ন বায় নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ার। সময় ফেরেল-এর সূত্র অনুসারে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়। একে বলা হয় উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু৷৷
। [ii] দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু: দক্ষিণ গোলার্ধের উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে আয়ন বায়ু নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয় এবং ফেরেল-এর সূত্র অনুসারে বামদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তার নাম দক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ু।
বৈশিষ্ট্য ; [i] উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি বলে উত্তর-পূর্ব আয়ন। বায়ুর গতিবেগ একটু কম, ঘণ্টায় 15-25 কিলোমিটার। [ii] দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু ঘণ্টায় 25-35 কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়। [iii] আয়ন বায়ু সাধারণত। নিরক্ষরেখার দু-দিকে 0° থেকে 30° অক্ষরেখার মধ্যে সারাবছর প্রবাহিত ময়। [iv] আয়ন বায়ুর প্রবাহপথে মহাদেশগুলির পশ্চিমদিকে বৃষ্টিপাত না। চাওয়ায় পৃথিবীর বড়াে বড়াে মরুভূমিগুলির (যেমন-সাহারা, থর, কালাহারি, আটাকামা প্রভৃতি) সৃষ্টি হয়েছে।
2)পশ্চিমা বায়ু: উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে দুটি বায়ু দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় (সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরবৃত্ত)-এর দিকে সারাবছর নিদিষ্ট পথে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়, তাদের বলা হয় পশ্চিমা বায়ু!!
শ্রেণিবিভাগ : পশ্চিমা বায়ু দু-প্রকার—
[i] দক্ষিণ-পশ্চিমা বায়ু: উত্তর গোলার্ধের উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে পশ্চিমা বায়ু সুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। ধাবিত হওয়ার সময় ফেরেল-এর সূত্রানুসারে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। একে বলা হয় দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু।। [ii] উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু; দক্ষিণ গোলার্ধের উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে পশ্চিমা বায়ু ফেরেল-এর সূত্রানুসারে বামদিকে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এর নাম উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু।
বৈশিষ্ট্য : [i] পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে এই বায়ু পশ্চিমা বায়ু নামে পরিচিত। [ii] উভয় গোলার্ধে 30°-60° অক্ষাংশের মধ্যে উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় অভিমুখে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। [ii] পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পশ্চিম অংশে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। [iv] পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পূর্বাংশে বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ নাতিশীতোয় তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে।
৩) মেরু বায়ু : সুমেরু ও কুমেরু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে যে দুটি বায়ু । নিয়মিতভাবে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাদের মেরু বায়ু বলে।।
শ্রেণিবিভাগ : মেরু বায়ু দু-প্রকার—
[i] উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু: উত্তর গোলার্ধের মেরু বায়ু সুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে ফেরেল-এর সূত্রানুসারে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে সুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এর নাম উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু।
[ii] দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু: দক্ষিণ গোলার্ধের মেরু বায়ু কুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে ধাবিত হওয়ার সময় ফেরেল-এর সূত্রানুসারে বামদিকে বেঁকে । দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ু নামে প্রবাহিত হয়।
বৈশিষ্ট্য : [i] মেরু বায়ু অতিশীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির। [ii] এই বায়ুর প্রভাব বছরের অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালে বেশি হয়। [iii] মেরু বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পূর্ব অংশে তুষারপাত ও সামান্য বৃষ্টিপাত এবং দুই মেরুবৃত্তে ভয়াবহ তুষারঝড়ের সৃষ্টি হয়।
৫.১.১১ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো ।
Ans. ক্লান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু উভয় গোলার্ধে 10০ অক্ষাংশ থেকে প্রায় 25০ অক্ষাংশের মধ্যে মহাদেশসমূহের পূর্বপ্রান্তে বিরাজ করে। ভারত ও পাকিস্তানে এই জলবায়ুর প্রভাব আরও উত্তরে প্রায় 30০ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যঃ
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
১)গ্রীষ্মকাল আর্দ্র এবং শীতকাল শুষ্কঃমৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসা আদ্র মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এজন্য গ্রীষ্মকালে এখানে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু শীতকালে স্থলভাগ থেকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয় বলে তখনবৃষ্টিপাত হয় না, আবহাওয়া শুষ্ক থাকে।
২) গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে দুই বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ:মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, শীতকালে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। যেমন—ভারতীয় উপমহাদেশে গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত হয় আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, ‘মৌসুমি’ শব্দটির উৎপত্তি আরবি শব্দ ‘মৌসিম থেকে এবং এর অর্থ ‘ঋতু'। ঋতুভেদে প্রবাহিত দুই বিপরীতধর্মী বায়ুপ্রবাহের দ্বারা জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত হয় বলেই একে মৌসুমি জলবায়ু বলে।
3)উয়তা মধ্যম প্রকৃতিরঃগ্রীষ্মকালে এখানকার সর্বোচ্চ উষ্ণতা হয় গড়ে 30০ সে থেকে 32০ সে এবং শীতকালে গড়ে 19০ সে থেকে 22০ সে। গ্রীষ্মকালে আর্দু মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে উন্নতা কিছুটা কমে যায়।
4) মাঝারি মানের বৃষ্টিপাত : মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণভাবে বছরে গড়ে 75 সেন্টিমিটার থেকে 100 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। তবে ভূপ্রকৃতি এবং সমুদ্র থেকে দূরত্ব অনুসারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায় । যেমন—পার্বত্য অঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় যথেষ্ট বেশি, গড়ে 150 সেন্টিমিটার থেকে 200 সেন্টিমিটার। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণভাগে (খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে) অবস্থিত মৌসিনরামে বছরে প্রায় 1200 সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু ওই । পাহাড়ের অনুবাত বা বিপরীত ঢালে অবস্থিত শিলং, বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে ওখানে বছরে 250 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতও হয় না। আবার, সমুদ্রোপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত বলে এলাহাবাদে বৃষ্টিপাত হয় মাত্র 100 সেন্টিমিটার।
6) ঋতু পর্যায়:মৌসুমি জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য—ঋতু পর্যায়। দুই বিপরীতধর্মী মৌসুমি বায়ুর আগমন ও নির্গমন অনুসারে এখানকার জলবায়ুতে চারটি ঋতু পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। যেমন—উত্তর গোলার্ধে [i] ডিসেম্বর থেকে। ফেব্রুয়ারি মাস শীতল ও শুষ্ক ঋতু, নাম শীতকাল, [ii] মার্চ থেকে। মে মাস উষ্ণু ও শুষ্ক ঋতু, নাম গ্রীষ্মকাল, [iii] জুন থেকে। সেপ্টেম্বর মাস আর্দ্র ঋতু, নাম বর্ষাকাল এবং [iv] অক্টোবর ও নভেম্বর মাস আর্দ্র ঋতুর নির্গমন ও শীতল ঋতু আগমন-এ দুইয়ের সন্ধি-সময়, নাম শরৎকাল। দক্ষিণ গোলার্ধের মৌসুমি। জলবায়ু অঞ্চলে ঠিক এই সময়গুলিতেই বিপরীত ঋতু বিরাজ করে।
৫.১.১২ সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো ।
Ans. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ-----
প্রধানত ছয়টি কারণে সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়----
১) বায়ুপ্রবাহঃ নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলি সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় সমুদ্রের ওপরের জলরাশিকে নিজের প্রবাহের দিকে চালিত করে। এইভাবে নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলি সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। যেমন— যেসব স্থানে আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়, সেখানে পূর্ব থেকে পশ্চিমদিকে সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয় । আবার যেসব স্থানে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়, সেখানে সমুদ্রস্রোত পশ্চিমদিক থেকে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়।।
2) সমুদ্রজলে উষ্ণতার তারতম্য:নিরক্ষীয় ও ফ্রান্তীয় অঞ্চলে বেশি উষ্ণতার জন্য সমুদ্রজল বেশি উম্ন হয় এবং বাম্পায়ন বেশি হয়। এ ছাড়া, এই উষ্ণ জল হালকা বলে সমুদ্রের ওপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোতরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে বয়ে যায় । জলের এই শূন্যতা পূরণের জন্য তখন মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে অস্রোতরূপে বয়ে যায় এভাবে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়।
৩) সমুদ্রজলে লবণতার তারতম্য: সমুদ্রজলে লবণতার পরিমাণ কোথাও বেশি, কোথাও কম । কম লবণাক্ত জল হালকা বলে সমুদ্রের ওপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোতরুপে বেশি লবণাক্ত ভারী জলের দিকে বয়ে যায়। জলের এই শূন্যতা পূরণের জন্য তখন বেশি। লবণাক্ত ভারী জল সমুদ্রের নিম্নাংশ দিয়ে অন্তঃস্রোতরুপে ওই কম লবণাক্ত হালকা জলের দিকে বয়ে যায়। এইভাবে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়।
৪)পৃথিবীর আবর্তন গতিঃপৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে ফেরেল-এর সূত্রানুসারে, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এভাবে নতুন সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়। উদাহরণ-উপসাগরীয় স্রোত আবর্তন গতির প্রভাবে ডানদিকে বেঁকে উত্তর আটলান্টিক স্রোতের উৎপত্তি ঘটায়।
৫) মহাদেশসমূহের অবস্থান ও আকৃতিঃপ্রবহমান সমদ্রস্রোত মহাদেশের যে প্রান্তে বা দ্বীপপুঞ্জে বাধা পায়, সেখানকার গঠন বা আকৃতি অনুসারে। সমুদ্রস্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয় বা বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়। এভাবেও নতুন নতুন সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি ঘটে। উদাহরণ আটলান্টিক মহাসাগরে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত ব্রাজিলের কেপ ডি সাও রোক-এ বাধা পেয়ে ব্রাজিল স্রোত নামে একটি নতুন স্রোতের উৎপত্তি ঘটায়।
৬) বরফের গলন: সমুদ্রে বরফ যেখানে গলে যায়, সেখানে জলরাশির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং ওই জলরাশি স্বল্প জলরাশি সমন্বিত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়। ফলে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি ঘটে।
৫.২ যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫x২=১০
৫.২.১ ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের সমভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য আলোচনা করো ।
Ans. উপদ্বীপীয় ভারতকে পূর্ব ও পশ্চিমে বেষ্টন করে আছে উপকূলীয় সমভূমি। উত্তরে গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলের সমভূমি এবং ওড়িশার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত পূর্ব উপকূলের সমভূমি বিস্তৃত।
ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের সমভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য।
৫.২.২ ভারতে ইক্ষুচাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা দাও ।
Ans. ইক্ষু হল ভারতের অন্যতম একটি কৃষিজ ফসল। ইক্ষু উৎপাদনে উত্তর প্রদেশ প্রথম ও মহারাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।
ভারতে ইক্ষুচাষের অনুকুলে প্রাকৃতিক পরিবেশগুলি হল –
i) উষ্ণতা :ইক্ষুচাষের জন্য 20°C-30°C উষ্ণুতা প্রয়ােজন, তবে 30°C এর বেশি উষ্ণতাতেও ইক্ষুচাষ হয়।
(ii) বৃষ্টিপাত :ইক্ষুচাষের জন্য প্রায় 75-150 cm বৃষ্টিপাতপ্রয়ােজন।75 cm এর কমবৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে জলসেচের সাহায্যে চাষ করা হয়।
(iii) আবহাওয়ার অন্যান্য অবস্থা :
• ইক্ষু চাষের জন্য কমপক্ষে 200টি তুহিন মুক্ত দিনের প্রয়োজন।
• সামুদ্রিক লবণাক্ত বায়ু ইক্ষুগাছে রসের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
• ইক্ষুচাষের ক্ষেত্রে রোপণের সময় শীতল আর্দ্র আবহাওয়া প্রয়োজন। পরিমিত দীর্ঘকালীন বৃষ্টি না হলেআখে (ইক্ষু) রস হ্রাস পায়।
(iv) ভূমির প্রকৃতি : আখচাষে উত্তম জলনিকাশী ব্যবস্থাযুক্ত ঢালুজমির প্রয়োজন। আখ গাছের গোড়ায় জল। জমলে তা গাছের ক্ষতি করে। তাই আখচাষে জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত ঢালুজমি দরকার।
(v) মৃত্তিকা : ইক্ষু চাষের ক্ষেত্রে উর্বর চুন ও লবণ সমৃদ্ধ দোআঁশ মৃত্তিকা উপযোগী। এই মাটিতে আখ চাষ ভালো হয়।
৫.২.৩ পশ্চিম ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের উন্নতির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো ।
Ans. পেট্রোরসায়ন শিল্প হল ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও উদীয়মান শিল্প। এই শিল্প, পশ্চিমভারতের বিভিন্ন স্থানে যেমন—জামনগর, মুম্বই, ট্রম্বে, ভারুচ, ভদোদরা, হাজিরা ইত্যাদি স্থানে বিকশিত হয়েছে।
পশ্চিমভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণ :
(i) কাঁচামালের সহজলভ্যতা : পশ্চিম ভারতে বিভিন্ন স্থান যেমন-কাম্বে, আঙ্কেলেশ্বর, মুম্বাই হাই, বাসিন, কাল্লোল প্রভৃতি স্থানে যথেষ্ট পরিমাণে পেট্রোরসায়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল-খনিজ তেল পাওয়া যায়।
(ii) তৈল শোধনাগারের উপস্থিতি : এই অঞ্চলে যথেষ্ট তৈল শোধনাগার উপস্থিত জামনগর (বৃহত্তম), ট্রম্বে , (2টি)। এই তৈল শোধনাগার থেকে খনিজ তেল সংশ্লেষ করে বিভিন্ন অনুসারী দ্রব্য উৎপাদন করা হয়।
(iii) বিদ্যুতের প্রাচুর্য : পশ্চিম ভারতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ভীরা,ভীবপুরী, উকাই প্রভৃতি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র; নাসিক, ধুবরান প্রভৃতি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কাকরাঝাড়, তারাপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুতের অভাব হয় না। (iv) বন্দরের নৈকট্য : পশ্চিম ভারতে উপস্থিত বিভিন্ন বন্দর (যেমন—মুম্বই, নভসেবা, কাণ্ডালা ইত্যাদি) এর উপস্থিতি এবং তার দ্বারা দ্রব্য আমদানি বা রপ্তানি করতে সুবিধা হয়।
(v) অন্যান্য কারণ :
• উন্নত পরিকাঠামো ব্যবস্থা
• কোঙ্কন রেলওয়ের প্রসার
• NH-31, NH-33, ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান।
•মূলধনের প্রাচুর্য
• পশ্চিম ভারতে উৎপাদিত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদার ফলে পেট্রোরসায়ন শিল্প সেখানে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
৫.২.৪ ভারতের জনসংখ্যা বন্টনের তারতম্যের পাঁচটি কারণ আলোচনা করো ।
Ans. ভারতে জনসংখ্যার বন্টন সর্বত্র সমান নয়, কোথাও বেশি কোথাও কম। জনসংখ্যা বন্টনের তারতম্যের কারণগুলিকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় —(ক) প্রাকৃতিক কারণ, (খ) অর্থনৈতিক কারণ এবং (গ) সামাজিক কারণ ও সাংস্কৃতির কারণ।
(ক) প্রাকৃতিক কারণ :
(i) ভূ-প্রকৃতি ও নদনদী - উত্তর ভারতের সমভূমি ও উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলের সমতল ভূমি ও উর্বর মৃত্তিকার জন্য কৃষি, শিল্প ও পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত। তাই এখানকার জনবসতি ঘন।
অপরদিকে, পার্বত্য অঞ্চল উঁচু ও খাড়াটল বিশিষ্ট হওয়ায় কৃষি ও শিল্পে অনুন্নত। তাই জনবসতি বিরল। এছাড়া, দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চলে ভূমির উচ্চতা মধ্যম প্রকারের হওয়ায় জনবসতি মাঝারি।
ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রম্মপুত্র ও গোদাবরী, কৃয়া, কাবেরী প্রভৃতি নদীর উর্বর উপত্যকা কৃষি ও শিল্পে উন্নত এবং পানীয় জল সরবরাহের সুবিধার জন্য ঘন জনবসতিপূর্ণা। তাছাড়া নদী জলপথগুলি পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে বলে, নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলি ঘনবসতিপূর্ণ।
(ii) জলবায়ু, মৃত্তিকা ও বনভূমি— অপ্রদেশ, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যে অনুকূল জলবায়ুর জন্য লোকবসতি ঘন। অপরদিকে, রাজস্থানের মরু অঞ্চলে বা গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে চরম জলবায়ুর জন্য লোকবসতি কম।
নদী উপত্যকায় উর্বর মৃত্তিকায় এবং মহারাষ্ট্রের কৃয় মৃত্তিকায় কৃষিকার্যের জন্য লোকবসতি ঘন।
ঘন অরণ্যাবৃত পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালএবং পূর্ব ঢালয়ের পাদদেশে লোকবসতি কম।
(খ) অর্থনৈতিক কারণ :
(i) কৃষি ও শিল্প – সমতল ভূমি, উর্বর মৃত্তিকা ও জলসেচের সুবিধার জন্য গঙ্গা, গোদাবরী, কাবেরী নদী অববাহিকায় নিবিড় জনবসতি গড়ে উঠেছে।
ভারতের শিল্প শহর ও শহরাঞলগুলিতে যেমন, দুর্গাপুর-আসানসোল, মুম্বাই-পুনে প্রভৃতি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ।
(ii) যোগাযোগ ব্যবস্থা – উন্নত সড়ক ও রেল পরিসেবার জন্য উত্তর ভারতে জনসংখ্যা বেশি।
(iii) খনিজ সম্পদ – খনি অঞলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হওয়ায় জনবসতি বেশি হয়।
(গ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ : | (1) নগরায়ন, (2) জ্ঞান, বিদ্যা, প্রযুক্তির উন্নতি, (3) সরকারি নীতি, (4) শিক্ষা ও ধর্ম প্রভৃতি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও ভারতের জনবন্টনের তারতম্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উপরোক্ত কারণগুলি সম্মিলিতভাবে ভারতের জনসংখ্যা বন্টনের তারতম্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
৫.২.৫ উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির মধ্যে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য আলোচনা করো ।
Ans. ভারত নদীমাতৃক দেশ। উৎসস্থল, প্রবাহের অঞ্চল এবং মোহানার অবস্থান অনুসারে ভারতের নদনদীকে সাধারণত দুটি বিভাগে ভাগ করা হয়৷ এগুলি হল—[i] উত্তর ভারতের নদনদী এবং [ii] দক্ষিণ ভারতের নদনদী। এর মধ্যে প্রধানত হিমালয় পার্বত্য ভূমির জলবিভাজিকা থেকে উৎপন্ন গঙ্গা, সিন্ধু ও ব্রম্মপুত্র এবং এদের বিভিন্ন উপনদী ও শাখানদীকে একসঙ্গে উত্তর ভারতের নদনদী বলে। আর মধ্য ভারতের বিন্ধ-সাতপুরা জলবিভাজিকার দক্ষিণে অবস্থিত নদীগুলিকে দক্ষিণ ভারতের নদনদী বলে৷ এগুলি হল মহানদী, গোদাবরী, কৃষা, কাবেরী, নর্মদা, তাপ্তী প্রভৃতি।
উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের এইসব নদনদীর মধ্যে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের অনেক পার্থক্য আছে। যেমন—
৫.২.৬ ভারতের পলি মৃত্তিকা এবং কৃষ্ণ মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
Ans. [i] পলি মৃত্তিকা: এটি ভারতের প্রধান মৃত্তিকা। সিন্ধু-গঙ্গা ব্রম্মপুত্র অধ্যুষিত উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ সমভূমিতে এবং উপকূলের সমভূমি অঞ্চলে এই মাটি আছে। পলি মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য : (ক) প্রধানত নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা নদী অববাহিকায় সঞ্চিত হয়ে পলিমাটি সৃষ্টি হয়েছে। (খ) বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিরূপের তারতম্য এবং শিলা-বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে পলিমাটির রং বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকার এবং মাটির গভীরতাও সব জায়গায় সমান নয়। (গ) বিভিন্ন স্থানের পলি মাটির মধ্যে কোথাও বালির ভাগ বেশি, আবার কোথাও পলি বা কাদার ভাগ বেশি। (ঘ) এই মাটিতে ফসফরাস ও পটাশের পরিমাণ বেশি থাকলেও নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থের ঘাটতি দেখা যায়। তবে সামগ্রিকভাবে সুষম গ্ৰথনযুক্ত বলে পলিমাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি এবং খুবই উর্বর। (ঙ) আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে কয়েক প্রকার পলিমাটি দেখা যায়, যেমন— (1) নদী-তীরবর্তী নতুন পলিমাটিকে বলে খাদর। (2) নদী থেকে দূরে প্রাচীন পলিমাটিকে বলে ভাঙ্গর। (3) পর্বত পাদদেশের নুড়ি, পলি ও বালিপূর্ণ মাটিকে বলে ভাবর৷ (4) উচ্চ গঙ্গা সমভূমির জলাভূমির পলিমাটিকে বলে ধাঙ্কার। (চ) সমুদ্রোপকূলের পলিমাটিতে অধিক পরিমাণে বালি থাকে এবং লবণতাও কিছুটা বেশি।
[ii] কৃয় মৃত্তিকা: এটি ভারতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাটি। দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর পশ্চিমাংশে মহারাষ্ট্র মালভূমি, গুজরাটের ভারুচ, ভাদোদরা ও সুরাত, মধ্যপ্রদেশের পশ্চিমাংশ ও কর্ণাটকের উত্তরাংশে এই মাটি দেখা যায়। এর আর এক নাম রেগুর মৃত্তিকা। আর এই মাটি তুলো চাষের জন্য আদর্শ বলে একে Black cotton soil বা কৃষ্ণু কার্পাস মৃত্তিকাও বলে। কৃয় মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য: (ক) লাভা থেকে সৃষ্ট কালো রঙের ব্যাসল্ট শিলা ক্ষয় হয়ে এই মাটি উৎপন্ন হয়েছে বলে মাটির রঙও কালো। প্রকৃতপক্ষে মাটিতে টাইটেনিয়াম অক্সাইডের পরিমাণ বেশি থাকায় এর রঙ হয়েছে কালো। (খ) উপত্যকার নিম্ন অংশে কম এবং ঊর্বাংশে মাটির গ্রহন কর্দম-দোআঁশ প্রকৃতির। (গ) এই মাটিতে কাদা ও পলির ভাগ বেশি (৫০% ৮০%) এবং বালি কম থাকে। এজন্য মাটির কণাগুলি সূক্ষ্ম ও জলধারণ ক্ষমতা বেশি হয়। (ঘ) সূক্ষ্মকণার মাটি বলে বর্ষাকালে মাটিতে কিছুটা চটচটে ভাব আসে এবং শুষ্ক ঋতুতে মাটি কঠিন এবং তাতে ছোটো ছোটো ফাটল সৃষ্টি হয়। (ঙ) বিভিন্ন প্রকার খনিজ, যেমন অ্যালুমিনা অক্সাইড, লৌহ অক্সাইড, ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট প্রভৃতি সমৃদ্ধ বলে এই মাটি খুবই উর্বর। (চ) তবে এই মাটিতে পটাশ, ফসফেট, নাইট্রোজেন ও হিউমাসের পরিমাণ কম থাকে।
৫.২.৭ গম উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বর্ণনা করো ।
Ans. গম উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ: গম প্রধানত উপক্ৰান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলের ফসল। গম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ হল-
[i] জলবায়ু: গম চাষের জন্য শীতল ও কিছুটা শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন। (ক) উন্নতা—গম চাষের সময় গড় উন্নতা ১৫°-২০° সে এবং গম পাকার সময় গড়ে ২৫° সে উন্নতা থাকলে ভালো হয়। তবে গম চাষের সময় ২০° সে-এর বেশি এবং ৬° সে-এর কম উয়তায় চাষের ক্ষতি হয়। (খ) বৃষ্টিপাত গড়ে ৫০ থেকে ১০০ সেমি বৃষ্টিপাত গম চাষের উপযোগী। তবে গম পাকার সময় বৃষ্টিপাত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। আর ৫০ সেমির কম বৃষ্টিপাত হলে জলসেচের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে বৃষ্টিপাত ১০০সেমির বেশি হলে তা গম চাষের পক্ষে ক্ষতিকর। এ ছাড়া একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলেও চাষের ক্ষতি হয়। (গ) আর্দ্রতা—গম চাষের শুরুতে অর্থাৎ অঙ্কুরোদগমের সময় আর্দ্র শীতল আবহাওয়া, গাছ বাড়ার সময় কিছুটা শুষ্ক আবহাওয়া, গমের পুষ্টির সময় আর্দ্র আবহাওয়া এবং ফসল পাকা ও কাটার সময় উম্ন ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন। (ঘ) তুষারপাত-তুষারপাতে গমের চাষ তথা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য গম চাষের সময় কমপক্ষে ১১০টি তুষারমুক্ত দিনের প্রয়োজন হয়।
[ii] মৃত্তিকা: মৃদু অম্লধর্মী ভারী দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি ও হালকা এঁটেল মাটি এবং হালকা কাদামাটিতে গমের চাষ ভালো হয়।
[iii] ভূমির অবস্থা: গম গাছের গোড়ায় জল জমে থাকা ক্ষতিকর। তাই সামান্য ঢালু জমি বা উত্তম জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত সমতল জমি গম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন।
৫.২.৮ ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা করো ।
Ans. পরিবহণের গুরুত্বসমূহ: মানবদেহে শিরা-উপশিরা ধমনির যে গুরুত্ব, ভারতের মতো বিকাশশীল দেশে পরিবহণের গুরুত্ব তার থেকে কিছু কম নয়। কারণ—
অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
[i] পণ্য আদানপ্রদান: একদেশের পণ্য অন্যদেশে পৌঁছে দেওয়ায় পরিবহণের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন—ভারতের চা, পাট উন্নত পরিবহণের মাধ্যমে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দেওয়া যায়। আবার বিদেশ থেকেও নানা পণ্য আমদানি করা যায়।
[ii] শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ: শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির কারণেই সম্ভব হয়েছে। উন্নত পরিবহণের কারণেই কাঁচামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে শিল্পস্থাপন করা গেছে।
[iii] বিপর্যয় মোকাবিলা: বন্যা, খরা, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে সেখানে দ্রুত উদ্ধার কার্যের জন্য পরিবহণের ভূমিকা খুব বেশি।
[iv] কৃষির উন্নতি: পরিবহণের মাধ্যমে গ্রামের কৃষিজমি থেকে শহরের বাজারে দ্রব্য সামগ্রী বিক্রয় বা কৃষির প্রয়োজনীয় সার, রাসায়নিক বীজ শহর থেকে গ্রামে পাঠানো যায়।
[v] প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ: বনজ, প্রাণীজ, খনিজ দ্রব্য সংগ্রহ করার জন্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি বাঞ্ছনীয়। আমাজন অববাহিকায় অথবা কানাডার উত্তরে পরিবহণ ব্যবস্থা খুব ভালো না হওয়ার জন্য ওই অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান ও সংগ্রহ পিছিয়ে রয়েছে।
[vi] পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা: সুপরিবহণ থাকার জন্যই বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রীর দামের মধ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। এমনকি দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিভিন্ন দ্রব্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো হয় বলে সারাদেশে পণ্য সামগ্রীর মূল্য একই থাকে।
সামাজিক গুরুত্ব:
[i] শহর ও নগরের সৃষ্টি: পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি ঘটে। এতে মূল শহর থেকে দূরে ছোটো বড়ো শহর ও নগরের সৃষ্টি হয়।
[ii] শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নতি: পরিবহণের মাধ্যমেই মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করে। এতে পারস্পরিক শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি ঘটে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব:
[i] প্রতিরক্ষা: দুর্গম অঞ্চলে সেনা, তাদের রসদ, অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোতে পরিবহণের ভূমিকা বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থাৎ, দেশরক্ষার কাজে বা প্রতিরক্ষার কাজে পরিবহণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
[ii] জাতীয় ঐক্য স্থাপন: পরিবহণ সারাদেশের নানা সংস্কৃতি, ভাষাভাষি, ধর্মের লোকেদের একসূত্রে বেঁধে রাখে। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ভ্রমণের মাধ্যমে, এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াতের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষাভাষি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
৫.২.৯ ভারতের পশ্চিম হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
Ans. পশ্চিম হিমালয়ের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:
অবস্থান:জম্মু কাশ্মীর সীমান্তের নাঙ্গা পর্বত থেকে নেপালের পশ্চিম সীমায় অবস্থিত কালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় পশ্চিম হিমালয়। এর তিনটি ভাগ— ১)কাশ্মীর হিমালয়, ২) হিমাচল হিমালয় বা পাঞ্জাব হিমালয় এবং 3) কুমায়ুন হিমালয়।
১)কাশ্মীর হিমালয়:[i] এই অংশটি জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবস্থিত। [ii] কাশ্মীর হিমালয়ের দক্ষিণে পরপর পিরপাঞ্জাল, জম্মু ও পুঞ্চ পাহাড় অবস্থিত । এই পাহাড় প্রধানত বেলেপাথর ও শেল দিয়ে গঠিত। [iii] এই হিমালয়ের উত্তর অংশটিতে অনেক উপত্যকা ও দুন দেখা যায় যেমন—কাশ্মীর উপত্যকা ও উধমপুর দুন প্রভৃতি। [iv] রিপা পর্বতশ্রেণি কাশ্মীর উপত্যকাকে ভারতের অন্যান্য অংশ থেকে বিডি করেছে। কেবলমাত্র বানিহাল ও পিরপাজাল গিরিপথ দৃষ্টি দিয়ে কাপ, উপত্যকায় প্রবেশ করা যায়। [v] হিমবাহ সৃষ্ট ডাল, উলার, অনিচ্যুত নাগিন প্রভৃতি হ্রদ এই উপত্যকায় দেখা যায়। [vi] কাশ্মীর উপত্যকা পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত হয়েছে হারামোশ ও জাস্কর পর্বতশ্রেগি। [vi] কাশ্মীরের সিন্ধু উপত্যকার উত্তরভাগে ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির গডউইন অস্টিন বা K, (8611 মি অবস্থিত। এই পর্বতের অন্যান্য শৃঙ হল গ্যাসেরম-I বা হিনপিক। বুডপিক, গ্যাসেররুম-II প্রভৃতি। এই পর্বতে অবস্থিত সিয়াচেন (78 কিমি) হল ভারতের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম হিমবাহ। [viii] কারাকোরামের দক্ষিণে লাদাখ পর্বতশ্রেণি অবস্থিত। এর পূর্বদিকে ভারতের সর্বোচন লাদাখ মালভুমি অবস্থিত । এর গড় উচ্চতা প্রায় 3500 মি। [ix] জোজিলা ও বানিহাল হল কাশ্মীর হিমালয়ের প্রধান গিরিপথ ।।
(2) হিমাচল হিমালয় বা পাঞ্জাব হিমালয়ঃ[i] হিমালয়ের যে অংশ হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত তাকে হিমাচল হিমালয় বলা হয়। [ii] এই অঞ্চলের উত্তরে 5000 থেকে 6000 মিটার উঁচু হিমাদ্রি বা উচ্চ হিমালয়। পর্বতশ্রেণি অবস্থিত। [ii] হিমাদ্রির দক্ষিণে মধ্য হিমালয়ের চারটি পর্বতশ্রেণি—ধওলাধর, পিরপাঞ্জাল, জার, নাগটি ও মুসৌরি অবস্থিত। এদের মধ্যে পিরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণির শৃঙ্গগুলি প্রায়ই তষারাবৃত থাকে। এই পর্বতশ্রেণিগুলির গড় উচ্চতা 1500 - 4500। মিটারের মধ্যে। [iv] সবচেয়ে দক্ষিণে আছে শিবালিক পর্বতশ্রেণি। এর গড় উচ্চতা 600-1500 মি । [v] এই অংশেও অনেক পার্বত্য উপত্যকা দেখা যায়, যেমন—লাহুল, স্পিতি, কুলু, কাংড়া প্রভৃতি।
3) কুমায়ুন হিমালয় : [i] উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিমালয়ের যে অংশটি বিস্তৃত তার নাম কুমায়ুন হিমালয়। [ii] মধ্য হিমালয় পর্বতশ্রেণির উত্তরে কতকগুলি বিখ্যাত তুষারাবৃত শৃঙ্গ আছে, যেমন—নন্দাদেব (7816 মি), গঙ্গোত্রী (6614 মি), কেদারনাথ (7188 মি), কামেট (77) মি), ত্রিশূল (7120 মি) প্রভৃতি। [ii] এই অঞলের দক্ষিণ ভাগে শিবালিকা পর্বতশ্রেণির মধ্যে কতকগুলি বিখ্যাত উপত্যকা বা দুন আছে, যেমন --দেরাদুন, চৌখাম্বা, কোটা পাতিয়া প্রভৃতি। [iv] এই অংশে বিস্তৃত নাগটিববা ও মুসৌরি পর্বতের পূর্বাংশে অনেকগুলি হ্রদ দেখা যায়। যেমন—নৈনিতাল, ভীমতাল, সাততাল প্রভৃতি। [v] এখানে গঙ্গোত্রী ও । যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে যথাক্রমে গঙ্গা ও যমুনা নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
৫.২.১০ ভারতে কার্পাস উৎপাদনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা দাও ।
Ans. তুলো চাষের উপযোগী ভৌগোলিক পরিবেশ---
তুলো ভারতের প্রধান তন্তু ফসল । তুলো চাষের জন্য নিম্নলিখিত ভৌগোলিক অবস্থা বিশেষভাবে প্রয়োজন-----
1)প্রাকৃতিক পরিবেশ
[i] জলবায়ু: তুলো ক্রান্তীয় ও উপক্ৰান্তীয় অঞ্চলের ফসল । তাই মাঝারি ধরনের উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তুলো চাষ করা হয়।
[a] উষ্ণতা: তুলো চাষের জন্য গড়ে 20-26 °সে উন্নতা প্রয়োজন। [b] বৃষ্টিপাত বার্ষিক 60 থেকে 100 সেমি বৃষ্টিপাতে তুলো চাষ ভালো হয়। অবশ্য উত্তর-পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে জলসেচের সাহায্যে 60 সেমির কম বৃষ্টিপাতযুক্ত এলাকায়ও তুলো চাষ করা হচ্ছে। [c] সামুদ্রিক বাতাস: সামুদ্রিক নোনা বাতাসে তুলো চাষ ভালো হয়।
[ii] মৃত্তিকা: চুন-মেশানো উর্বর দোআঁশ মাটি তুলো চাষের পক্ষে আদর্শ। এ ছাড়া, চারনোজেম মাটি এবং লাভা থেকে গঠিত দাক্ষিণাত্যের । কালো রেগুর মাটিতে প্রচুর পরিমাণে তুলো উৎপাদিত হয়।
[iii] ভূমির প্রকৃতি: তুলো গাছের গোড়াতে যাতে জল জমতে না পারে সেজন্য উত্তম জলনিকাশি সুবিধাযুক্ত সমতল জমি বা সামান্য চালু জমি চাষের পক্ষে আদর্শ তুলো চাষ করা হয়।
৫.২.১১ পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি ব্যাখ্যা করো ।
Ans. পূর্ব ও মধ্য ভারতে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণ:
ভারতের লোহা ও ইস্পাত কারখানা অধিকাংশ গড়ে উঠেছে পূর্ব ও মধ্য ভারতে, যেমন— পূর্ব ভারতের দুর্গাপুর, কুলটি-বার্নপুর, জামশেদপুর, রৌরকেলা, বোকারো ও মধ্য ভারতের ভিলাই প্রভৃতি স্থানে। এ ছাড়াও এই অঞ্চলে আরও কয়েকটি লোহা ওইস্পাত কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। এই অঞ্চলে লোহা ও ইস্পাত কারখানার কেন্দ্রীভবনের কারণগুলি হল—
1) কাঁচামালের সহজলভ্যতা:সহজলভ্যতা:নীচের সারণিতেপূর্ব ও মধ্য ভারতের লোহা ও ইস্পাত কারখানাগুলির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালগুলির প্রাপ্তিস্থান উল্লেখ করা হল—
২) জলের সহজলভ্যতা:এই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জল দামোদর, বরাকর, সুবর্ণরেখা, খরকাই, শঙ্খ, ব্রাম্মণী প্রভৃতি নদনদী থেকে সহজেই পাওয়া যায়। এ ছাড়া তেন্ডুলা জলাধার থেকেও জল পাওয়া যায়।
৩)পর্যাপ্ত বিদ্যুৎশক্তিঃপূর্ব ও মধ্য ভারতে প্রচুর কয়লানির্ভর বৃহদায়তন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। যেমন—পূর্ব ভারতের দুর্গাপুর, মেজিয়া, দিশেরগড়, ওয়ারিয়া (পশ্চিমবঙ্গ), পাত্ৰাতু, বোকারো (ঝাড়খন্ড), তালচের (ওডিশা) প্রভৃতি এবং মধ্য ভারতের কোরবা (ছত্তিশগড়), বিন্ধ্যাচল (মধ্যপ্রদেশ) প্রভৃতি । এ ছাড়া হিরাকুঁদ ও সিলেরুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলবিদ্যুৎ প্রাপ্তির সুবিধা পূর্ব ও মধ্য ভারতে লোহা ও ইস্পাত শিল্পের কেন্দ্রীভবনের সহায়ক হয়েছে।
৪)উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা: ভারতীয় রেলপথের বিভিন্ন শাখা (পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ) এবং NH-2, 6, 23, 31, 33 প্রভৃতি জাতীয় সড়ক এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রসারিত হওয়ায় দেশের যে-কোনো অঞ্চলের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ ও পণ্যদ্রব্যের আদানপ্রদান করা যায়।
৫)বন্দরের নৈকট্যঃকলকাতা, হলদিয়া, বিশাখাপত্তনম ও পারাদীপের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সান্নিধ্য এই অঞ্চলে লোহা ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতিতে বিশেষ সহায়তা করেছে।
৬)সুলভ প্রমিকের প্রাচুর্যঃপূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্য ভারতের ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্য যথেষ্ট জনবহুল হওয়ায় এখানে যথেষ্ট সংখ্যক সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।
৫.২.১২ ভারতে নগর গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো ।
জীবনধারণের উপযোগী নানা ধরনের অনুকূল পরিবেশে বিভিন্ন সময়ে। জনসমাবেশের ফলে শহর-নগর গড়ে ওঠে ------
১)প্রশাসনিক কেন্দ্র : কোনো স্থান প্রশাসনের কেন্দ্র হলে সেখানে বিভিন্ন সেবামুলক ও শিল্প বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বড়ো বড়ো সড়ক, পাকা বাড়ি প্রভৃতি নির্মিত হয়। এইভাবে স্থানটি ধীরে। ধীরে শহরে বা নগরে পরিণত হয়। যেমন—চণ্ডীগড়, ভোপাল, গান্ধিনগর প্রভূতি ভারতের শহরগুলি প্রশাসনিক কারণেই বিকাশলাভ করেছে।
2) খনিজ সম্পদে সমৄদ্ধ অঞ্চল:বিভিন্ন শিল্পে খনিজ সম্পদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই বহ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ স্থান ধরে। ধীরে শহরে পরিণত হয়েছে। যেমন—আসানসোল, ধানবাদ প্রভৃতি।
(3) শিল্পকেন্দ্র : যেসব স্থানে শিল্প গড়ে উঠেছে, সেইসব স্থানে জীবিকার সুযোগ থাকায় জীবিকার উদ্দেশ্যে জনসমাগম ঘটেছে । এর ফলে স্থানগুলি ক্রমেই শহর হিসেবে বিকাশ লাভ করেছে। যেমন—জামশেদপুর, ভিলাই প্রভৃতি।
4) বাণিজ্যকেন্দ্র : যেসব স্থানে পণ্যসামগ্রীর সমাবেশ হয় এবং ওই পণ্যের ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে, সেইসব স্থানে শহর গড়ে উঠেছে ।যেমন—হরিয়ানার হিসার, উত্তরপ্রদেশের হাপুর প্রভৃতি।
5) যোগাযোগ কেন্দ্র : ভারতের যেসব স্থান যোগাযোগের কেন্দ্র অর্থাৎ বিভিন্ন দিক থেকে রেলপথ, সড়কপথ, জলপথ এসে মিলিত হয়েছে, সেইসব স্থানে শহর গড়ে উঠেছে । যেমন—শিলিগুড়ি, খড়গপুর প্রভৃতি।
6) তীর্থস্থানঃ বড়ো বড়ো তীর্থস্থানে প্রচুর জনসমাগম ঘটেছে এবং এগুলি কালক্রমে শহরে পরিণত হয়েছে। যেমন—হরিদ্বার, বারাণসী, গয়া, মথুরা, বৃন্দাবন প্রভৃতি।
7) শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র : শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত স্থান কমে শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেমন—শান্তিনিকেতন।
৪) ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থানঃ ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান জনসমাগমের কারণে শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে যেমন—আগ্রা, মুরশিদাবাদ প্রভৃতি।
9) পর্যটন স্থান; অনেক স্থানে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটায়, জনবসতি তথা শহর গড়ে উঠেছে .যেমন—দার্জিলিং, দিঘা প্রভৃতি।
10) সামরিক কেন্দ্র ; কিছু সামরিক কেন্দ্র কালক্রমে শহরে পরিণত হয়েছে। যেমন—মিরাট, ব্যারাকপুর প্রভৃতি।
11) বন্দর ; বড়ো বড়ো বন্দরকে কেন্দ্র করে শহর গড়ে উঠেছে। যেমন -পারাদ্বীপ, হলদিয়া প্রভৃতি।
12) পর্বত ও সমভূমির সংযোগস্থল : পর্বত ও সমভূমির সংযোগস্থলে শহর গড়ে উঠেছে, যেমন—হরিদ্বার।
সবশেষে বলা যায়, শহর গড়ে ওঠার সময় উল্লিখিত কারণগুলির মধ্যে কোনো একটি প্রাধান্য বিস্তার করলেও, পরবর্তী সময়ে অনেকগুলি কারণ সম্মিলিতভাবে ওই শহরের উন্নতিতে সাহায্য করে।
বিভাগ-চ:
৬. প্রশ্নপত্রের সাথে প্রদত্ত ভারতের রেখা-মানচিত্রে নিম্নলিখিতগুলি উপযুক্ত প্রতীক ও নামসহ চিহ্নিত করে মানচিত্রটি উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দাও : ১x১০=২০
৬.১ নীলগিরি পর্বত;
৬.২ তাপ্তি নদী;
৬.৩ বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল;
৬.৪ পূর্ব ভারতের একটি ল্যাটেরাইট মৃত্তিকাযুক্ত অঞ্চল;
৬.৫ পশ্চিম ভারতের একটি মিলেট উৎপাদক অঞ্চল;
৬.৬ ভারতের বৃহত্তম পেট্রোরসায়ন শিল্পকেন্দ্র;
৬.৭ ভারতের সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল;
৬.৮ ভারতের হাইটেক বন্দর;
৬.৯ পূর্বভারতের একটি মহানগর;
৬.১০ দক্ষিণ ভারতের একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর
৬.১১ বিন্ধ্য পর্বত ৬.১২ লোকটাক হ্রদ ৬.১৩ মহানদী নদী ৬.১৪ একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল ৬.১৫ একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য অঞ্চল ৬.১৬ একটি মরু মৃত্তিকা অঞ্চল
৬.১৭ উত্তর ভারতের একটি ইক্ষু উৎপাদক অঞ্চল
৬.১৮ পূর্ব ভারতের একটি ভারী ইঞ্জিনীয়ারিং শিল্পকেন্দ্র
৬.১৯ বিশাখাপত্তনম বন্দর ৬.২০ পশ্চিম উপকূলর একটি মহানগর । ৬.২১ শিবালিক পর্বত,৬.২২ কৃষ্ণানদী,
৬.২৩ ভারতের শুষ্কতম অঞ্চল,৬.২৪ ভারতের একটি লোহিত মৃত্তিকাযুক্ত অঞ্চল,৬.২৫ ভারতের কেন্দ্রীয় অরণ্য গবেষণাগার,৬.২৬ উত্তর ভারতের একটি গম উৎপাদক অঞ্চল,৬.২৭ দক্ষিণ ভারতের ম্যানচেস্টার,
৬.২৮ পূর্ব উপকূলের একটি স্বাভাবিক বন্দর ,
৬.২৯ ভারতের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র,
৬.৩০ ভারতের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
.............................















