📚 উচ্চমাধ্যমিক বাংলা:নানা রঙের দিন:অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়:প্রশ্নোত্তর(MCQ+SAQ+DAQ)📚
Prepared by
KABIR SIR
1. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের রচয়িতা হলেন —
(A) শম্ভু মিত্র (B) রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত (C) মনোজ মিত্র (D) অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
Ans: (D) অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
2. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের চরিত্র দুটির নাম –
(A) রজনী চট্টোপাধ্যায় ও কালীনাথ সেন (B) রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও কালীনাথ দে (C) রজনীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কালীনাথ সেন (D) রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও কালীনাথ সেন
Ans: (D) রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও কালীনাথ সেন
3. ‘ নানা রঙের দিন ’ একাঙ্ক নাটকটির উৎস হল –
(A) চেখভের ‘ সোয়ান সং (B) ইবসেনের ‘ পিপলস এনিমি ’ (C) চেখভের ‘ চেরি অর্চাড ’ (D) ব্রেখটের ‘ থ্রি পেনিজ অপেরা
Ans: (A) চেখভের ‘ সোয়ান সং
4. ‘ অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন—
(A) ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে (B) ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে (C) ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে (D) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে
Ans: (C) ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে
5. অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘ নানা রঙের দিন ‘ একাঙ্ক নাটকটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ?
(A) ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে (B) ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে (C) ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে (D) ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে
Ans: (A) ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে
6. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকটিতে চরিত্র আছে—
(A) একটি (B) তিনটি (C) দুটি (D) পাঁচটি
Ans: (C) দুটি
7. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের নায়ক যে থিয়েটারে অভিনয় করতেন , তা হল –
(A) শখের থিয়েটার (B) গ্রুপ থিয়েটার (C) পেশাদারি থিয়েটার (D) অফিস থিয়েটার
Ans: (C) পেশাদারি থিয়েটার
8.মঞ্চের মাঝখানে ওলটানো ছিল —
(A) একটি মোমবাতি (B) একটি ফুলদানি (C) একটি টুল (D) একটি সোফা
Ans: (C) একটি টুল
9.রজনীকান্ত কোন্ ঐতিহাসিক চরিত্রের পোশাকে ফাঁকা মঞ্চে প্রবেশ করেন ?
(A) ঔরঙ্গজীবের (B) মহম্মদের (C) দিলদারের (D) শাজাহানের
Ans: (C) দিলদারের
10. দিলদারের পোশাক পরিহিত রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের হাতে ছিল—
(A) মোমবাতি (B) প্রদীপ (C) ধূপ (D) জ্বলন্ত মোমবাতি Ans: (D) জ্বলন্ত মোমবাতি
11. রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় দিলদারের পোশাকে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন—(A) স্টেজে (B) দর্শকাসনে (C) ব্যালকনিতে (D) গ্রিনরুমে
Ans: (D) গ্রিনরুমে
12.‘সব পাত্রপাত্রী ভোভা ‘ — নাটকে যে দুজন পাত্রপাত্রীর নাম । বলা হয়েছে , তারা হল—
(A) শাজাহান – মুমতাজ (B) শাজাহান – নূরজাহান (C) মুমতাজ – ঔরঙ্গজীব (D) শাজাহান – জাহানারা
Ans: (D) শাজাহান – জাহানারা
13. ‘নানা রঙের দিন ‘ নাটকের অভিনেতা রজনীকান্তের বয়স —(A) ৫০ বছর (B) ৬৮ বছর (C) ৬০ বছর (D) ৭০ বছর
Ans: (B) ৬৮ বছর
14. রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের সেদিনের অভিনয় ছিল — (A) বখতিয়ারের চরিত্রে (B) দিলদারের চরিত্রে (C) ঔরঙ্গজীবের চরিত্রে (D) শাজাহানের চরিত্রে
Ans: (B) দিলদারের চরিত্রে
15. ‘হাসছেন তিনি ।’— তাঁর হাসির কারণ—
(A) রাত্রির ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহ (B) দর্শকের তুমুল করতালি (C) গ্রিনরুমে ঘুমিয়ে পড়া (D) রামব্রীজের মাতাল হয়ে যাওয়া
Ans: (C) গ্রিনরুমে ঘুমিয়ে পড়া
16 ‘নানা রঙের দিন ‘ নাটকে প্রম্পটার কালীনাথ সেন – এর বয়স হয়েছিল—
(A) ৬৫ বছর (B) ৫৮ বছর (C) ৬২ বছর (D) ৬০ বছর Ans: (D) ৬০ বছর
17.‘ এত টানলে কি আর কাণ্ডজ্ঞান থাকে ? ’ বলতে বোঝানো হয়েছে –
(A) অতিরিক্ত বয়সকে (B) অতিরিক্ত খাওয়াকে (C) অতিরিক্ত মদ্যপানকে (D) অতিরিক্ত ধূমপানকে
Ans: (C) অতিরিক্ত মদ্যপানকে
18.‘ বাঃ । বাঃ বুঢ়ঢ়া ।’— এখানে বুঢ়ঢ়া হলেন—
(A) রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় (B) অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (C) কালীনাথ সেন (D) রামব্রীজ
Ans: (A) রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়
19.‘ আরে গেল কোথায় লোকটা ? ‘ — এখানে ‘ লোকটা ‘ হল –
(A) রজনীকান্ত (B) কালীনাথ (C) দিলদার (D) রামব্রীজ Ans: (D) রামব্রীজ
20.‘ কোথায় ধেনো টেনে পড়ে আছে ব্যাটা ।’— ‘ ধেনো ‘ হল — (A) এক রকমের গাছ (B) এক রকমের মদ (C) এক রকমের বীজ (D) এক রকমের ফল
Ans: (B) এক রকমের মদ
21.‘ আচ্ছা পাগলের পাল্লায় পড়া গেছে …’— পাগলের সঙ্গে কাকে তুলনা করা হয়েছে ?
(A) কালীনাথ (B) রজনীকান্ত (C) রামব্রীজ (D) বাসিনী Ans: (C) রামব্রীজ
22.‘ মুখের ভেতরটা যেন ____।’
(A) অডিটোরিয়াম (B) ফাঁকা মঞ্চ (C) খেলার মাঠ (C) স্টেডিয়াম Ans: (A) অডিটোরিয়াম
23.রজনীবাবু তার চুলে ডেইলি কতটা করে কলপ লাগান ?
(A) হাফশিশি (B) একশিশি (C) দেড় শিশি (D) দুই শিশি Ans: (A) হাফশিশি
24.‘ আমি লাস্ট সিনে প্লে করব না ভাই , আমাকে ছেড়ে দিন । – এখানে ‘ লাস্ট সিন ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে—
(A) দিলদারের অভিনয়ের শেষ দৃশ্য (B) শাজাহান নাটকের শেষ দৃশ্য (C) নাটকের শেষ দৃশ্য (D) মৃত্যুর সময়
Ans: (D) মৃত্যুর সময়
25.‘ ওপারের দূত উইংসে রেডি ‘ — এখানে ‘ ওপারের দূত ‘ হল— (A) রামব্রীজ (B) কালীনাথ (C) দিলদার (D) মৃত্যুদূত
Ans: (D) মৃত্যুদূত
26.‘ এ হচ্ছে সবই মাতালের কারবার ।’— কোন্ ঘটনার জন্য এমন মন্তব্য ?
(A) প্রেক্ষাগৃহে একা একা পায়চারি করার পরিপ্রেক্ষিতে (B) পঁয়তাল্লিশ বছরের অভিনয় জীবনে প্রথমবার মাঝরাতে একা স্টেজে দাঁড়ানো (C) গ্রিনরুমের চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়া (D) মাঝরাতে ট্যাক্সি ডেকে একা একা বাড়ি ফেরা
Ans: (B) পঁয়তাল্লিশ বছরের অভিনয় জীবনে প্রথমবার মাঝরাতে একা স্টেজে দাঁড়ানো
27.‘ ওর দেয়ালে কালো কালো অঙ্গারে লেখা আছে— কী লেখা আছে ?
(A) হৃদয়ের যন্ত্রণার কথা (B) জীবনের শেষ কথাগুলো (C) জীবনের ভালোলাগার কথা (D) জীবনের আরম্ভের কথা
Ans: (B) জীবনের শেষ কথাগুলো
28.‘ সব মিলিয়ে যেন একটা শ্মশান’— রজনী চাটুজ্জের শ্মশান বলে মনে হয়েছিল —(A) প্রেক্ষাগৃহকে (B) ফাঁকা অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহকে (C) ফাঁকা গ্রিনরুমকে (D) ফাঁকা মঞ্চকে Ans: (B) ফাঁকা অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহকে
29.সব মিলিয়ে যেন আয়োজন করে রেখেছে –
(A) নিঃঝুম ঘুমের (B) পরবর্তী নাটকের (C) শাজাহানের পরবর্তী দৃশ্যের (D) মৃত্যুর নিঃঝুম ঘুমের
Ans: (D) মৃত্যুর নিঃঝুম ঘুমের
30.সব ভূতুড়ে বাড়ির মতো খাঁ খাঁ করার কারণ—
(A) লোডশেডিং (B) জনমানবহীন অন্ধকার (C) অন্ধকারে কাউকে দেখা যাচ্ছে না (D) চোখের দৃষ্টি শক্তি অভাব
Ans: (B) জনমানবহীন অন্ধকার
31.কালীনাথ মিথ্যে কথা বলেননি কারণ —
(A) রজনী চাটুজ্জে মদ্যপান করেছেন (B) রজনী চাটুজ্জে বৃদ্ধ মানুষ (C) রজনী চাটুজ্জে বড়ো অভিনেতা (D) রজনী চাটুজ্জে বামুন মানুষ
Ans: (D) রজনী চাটুজ্জে বামুন মানুষ
32.‘ এ কথাটা মালিকের কানে তুলবেন না চাটুজ্জেমশাই’ কোন কথাটা ?
(A) গ্রিনরুমে ঘুমানোর কথা (B) ফাঁকা মঞ্চে অভিনয়ের কথা (C) চাটুজ্জেমশাইয়ের সঙ্গে বক্তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা (D) চাটুজ্জেমশাইকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চাওয়ার কথা
Ans: (A) গ্রিনরুমে ঘুমানোর কথা
33.এ কথাটা মালিকের কানে তুলবেন না চাটুজ্জেমশাই’— কারণ—
(A) মালিক দুঃখ পাবেন (B) মালিক তাঁর মাইনে কমিয়ে দেবেন (C) বক্তা একেবারে বেঘোরে মারা পড়বেন (D) মালিক তাকে তাড়িয়ে দেবেন
Ans: (C) বক্তা একেবারে বেঘোরে মারা পড়বেন
34. সেদিনের শো – তে রজনী চাটুজ্জে ক্ল্যাপ পেয়েছিলেন—
(A) পাঁচটা (B) আটটা (C) সাতটা (D) দশটা
Ans: (C) সাতটা
35. ‘ মরা হাতি সোয়া লাখ ।’- বলেছিল এক দর্শক –
(A) বখতিয়ারের চরিত্রে রজনী চাটুজ্জের অভিনয় দেখে (B) শাজাহানের চরিত্রে রজনী চাটুজ্জের অভিনয় দেখে (C) দিলদারের চরিত্রে রজনী চাটুজ্জের অভিনয় দেখে (D) আলমগিরের চরিত্রে রজনী চাটুজ্জের অভিনয় দেখে
Ans: (C) দিলদারের চরিত্রে রজনী চাটুজ্জের অভিনয় দেখে
36. বাড়ি চলুন , আপনাকে আমি বাড়ি পৌঁছে দেব ‘ — বলেছিল—
(A) রামব্রীজ (B) কালীনাথ (C) রজনী চাটুজ্জে (D) এক দর্শক
Ans: (B) কালীনাথ
37. রজনী চাটুজ্জের মতে দর্শকের কাছে একজন অভিনেতার কদর —
(A) সারাজীবন (B) অভিনয়ের পরে (C) মঞ্চে ওঠার আগে (D) মঞ্চে অভিনয়ের সময
Ans: (D) মঞ্চে অভিনয়ের সময়
38. রজনী চাটুজ্জে , ‘ ধু – ধু করা দুপুরে জ্বলন্ত মাঠে বাতাস ‘ – এর সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন—
(A) একাকিত্ব বোঝাতে (B) উত্তাপ বোঝাতে (C) বেপরোয়া স্বভাব বোঝাতে (D) জীবনের ঝড় – ঝাপটা বোঝাতে
Ans: A) একাকিত্ব বোঝাতে
39.আপনার মতো লোকের এত দুঃখ চাটুজ্জেমশাই ‘ – এ দুঃখের কারণ—
(A) রজনী চাটুজ্জের অভিনয় কেউ দেখে না (B) রজনী চাটুজ্জে বৃদ্ধ হয়েছেন (C) রক্তমাংসের রজনী চাটুজ্জের একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা (D) রজনী চাটুজ্জের শারীরিক অসুস্থতা
Ans: (C) রক্তমাংসের রজনী চাটুজ্জের একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা
40. রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের সমস্ত খাতাখানাকে চোখের সামনে মেলে ধরেছিল —
(A) কালীনাথ সেন (B) রামব্রীজ (C) অন্ধকার গ্রিনরুম (D) থিয়েটারের অন্ধকার দেয়াল Ans: D) থিয়েটারের অন্ধকার দেয়াল
41. থিয়েটারের দেয়ালে দেয়ালে অঙ্গারের গভীর কালো অক্ষরে লেখা –
(A) রজনী চাটুজ্জের জীবনের পঁয়ত্রিশটা বছর (B) রজনী চাটুজ্জের জীবনের পঁয়তাল্লিশটা বছর (C) রজনী চাটুজ্জের জীবনের আটষট্টিটা বছর (D) রজনী চাটুজ্জের জীবনের একুশটা বছর
Ans: (B) রজনী চাটুজ্জের জীবনের পঁয়তাল্লিশটা বছর
42. ওরই মধ্যে কোথায় যেন আগুন লুকিয়েছিল ‘ — এখানে যার কথা বলা হয়েছে , সে একজন –
(A) অভিনেত্রী (B) মেয়ে (C) নায়িকা (D) অভিনেতা Ans: (B) মেয়ে
43. ভোরের আলোর চেয়েও সুন্দর সে’- ‘ ‘ সে ‘ হল রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের—
(A) প্রাক্তন প্রেমিকা (B) প্রাক্তন বন্ধু (C) অচেনা এক নারী (D) প্রেমিকা
Ans: (A) প্রাক্তন প্রেমিকা
44. ও শুধু আমাকে আলমগিরের পার্ট করতে দেখেছিল ‘ — এখানে । যার কথা বলা হয়েছে , সে হল রজনী চাটুজ্জের –
(A) প্রেমিকা (B) আত্মীয় (C) প্রতিবেশীঘ (D) অনুরাগী Ans: (A) প্রেমিকা
45. ‘অন্ধকার রাতে একা একা ভাবলে মনে হত সে যেন —
(A) পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের মেঘ (B) অচেনা দিনের আলো (C) লাল সিঁদুরে মেঘ (D) এক পাহাড়ি ঝরনা Ans: (B) অচেনা দিনের আলো
46. ‘আর একদিন তাকে দেখে মনে হয়েছিল—
(A) মোমের আলোর চেয়েও পবিত্র (B) চাঁদের আলোর চেয়েও স্নিগ্ধ (C) ভোরের আলোর চেয়েও সুন্দর (D) গোধূলির আলোর চেয়েও মায়াবী
Ans: (C) ভোরের আলোর চেয়েও সুন্দর
47. রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় মেয়েটির চুলগুলির সঙ্গে তুলনা করেছেন –
(A) ভোরের সবুজ গাছের (B) সমুদ্রের ঢেউয়ের (C) অন্ধকার রাত্রির (D) অন্ধকার পাহাড়ের
Ans: (B) সমুদ্রের ঢেউয়ের
48. ” মরে যাব তবু ভুলব না ‘ — কী ?
(A) মেয়েটির অদ্ভুত হাসি (B) মেয়েটির অদ্ভুত চেয়ে থাকা (C) মেয়েটির অদ্ভুত কান্না (D) মেয়েটির অদ্ভুত কালো চুল
Ans: (B) মেয়েটির অদ্ভুত চেয়ে থাকা
49. ‘এসব বাজে কথায় আমি বিশ্বাস করি না ।’— ‘ বাজে ‘ কথাটি কী ?
(A) ‘ হ্যাঁ , আমি ওকে চিনি (B) ‘ তুমি থিয়েটারওয়ালা একটা নকলনবীশ ‘ (C) নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প (D) ‘ একটা অস্পৃশ্য ভাঁড় ‘
Ans: (C) নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প
50. ‘ কিন্তু কোনো সামাজিক সম্মান তুমি পাবে না ।’- রজনী চাটুজ্জে ‘ সামাজিক সম্মান নেই বলে মনে করেন —
(A) গরিব লোকেদের (B) শিক্ষকদের (C) আইনজ্ঞদের (D) নাটকের অভিনেতাদের
Ans: (D) নাটকের অভিনেতাদের
51. ‘ তুমি থিয়েটারওয়ালা – একটা নকলনবীশ — একটা অস্পৃশ্য ভাঁড় ‘ বলে মনে করে –
(A) পাবলিক মহোদয় (B) মধ্যবিত্ত লোক (C) রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় (D) ধনী লোকেরা
Ans: (A) পাবলিক মহোদয়
52. ‘আমারও আর কিছু ভালো লাগত না ‘ — কারণ—
(A) বার্ধক্যের অসুখ (B) মেয়েটি কোথায় গেল কী হল কে জানে (C) দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া (D) আবোলতাবোল সব পার্ট করার অসুবিধা
Ans: (B) মেয়েটি কোথায় গেল কী হল কে জানে
53. ‘আবোলতাবোল সব পার্ট করতে লাগলাম ‘ — কারণ—
(A) অতিরিক্ত লোভ (B) টাকার প্রয়োজনীয়তা (C) প্রেম ভেঙে যাওয়া (D) নাটকের প্রতি বিতৃয়া
Ans: (C) প্রেম ভেঙে যাওয়া
54. ‘ বাঃ বাঃ দারুণ । কী ট্যালেন্ট ।’- রজনী চাটুজ্জের অভিনয় দেখে এমন বলেছিল –
(A) সাধারণ পাবলিক (B) একটি মেয়ে (C) নাট্য সমালোচকের দল (D) জ্ঞানী ব্যক্তিদের দল Ans: (D) জ্ঞানী ব্যক্তিদের দল
55. ‘ আস্তে আস্তে বয়স বাড়ল ‘ — ফলে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের—
(A) গলার কাজ নষ্ট হল ও চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেল (B) গলার কাজ নষ্ট হল ও চরিত্রকে বুঝে ফুটিয়ে তোলবার ক্ষমতা নষ্ট হল (C) ভালো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ কমে গেল (D) চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলবার ক্ষমতা বেড়ে গেল
Ans: (B) গলার কাজ নষ্ট হল ও চরিত্রকে বুঝে ফুটিয়ে তোলবার ক্ষমতা নষ্ট হল
56. থিয়েটারের দেয়ালে অঙ্গারের কালো কালো জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা ছিল —
(A) প্রেমের অপমৃত্যুর দুঃসংবাদ (B) প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি (C) রজনী চাটুজ্জের প্রতিভার অপমৃত্যুর করুণ সংবাদ (D) রজনী চাটুজ্জের অপমৃত্যুর করুণ সংবাদ
Ans: (C) রজনী চাটুজ্জের প্রতিভার অপমৃত্যুর করুণ সংবাদ
57. ঝলসে দেবে আমাকে ‘ রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে ঝলসে দেবে –
(A) রজনী চাটুজ্জে (B) প্রম্পটার কালীনাথ (C) বুড়ো রজনী চাটুজ্জে (D) রামব্রীজ
Ans: (C) বুড়ো রজনী চাটুজ্জে
58. ‘পুত্র । রাজনীতি বড়ো কূট ।’— যাঁর উদ্দেশ্যে এ কথাটি বলা হয়েছিল , তিনি হলেন —
(A) ঔরঙ্গজীব (B) মোরাদ (C) দারা সিকোহ (D) মহম্মদ Ans: (D) মহম্মদ
59. ‘ রাজনীতি বড়ো কূট ।’— কথাটি বলেছিলেন —
(A) রজনী (B) কালীনাথ (C) মহম্মদ (D) মোরাদ
Ans: (A) রজনী
60. ‘ওই তারা আবার আমায় ঘিরে নাচছে ‘ — ‘ তারা ‘ হল —
(A) দারার শির , সুজার দেহ ও মোরাদের কবন্ধ (B) দারার দেহ , সুজার শির ও মোরাদের কবন্ধ (C) দারার শির , সুজার কবন্ধ ও মোরাদের দেহ (D) দারার শির , সুজার দেহ , মোরাদের মস্তক
Ans: B) দারার দেহ , সুজার শির ও মোরাদের কবন্ধ
61. ‘আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি কালীনাথ ।’— রজনীকান্ত স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে —
(A) তাঁর বয়স হয়েছে (B) তাঁর অভিনয় ক্ষমতা এখনও অটুট (C) প্রতিভার মৃত্যু নেই (D) কিছুই চিরদিন থাকে না
Ans: (C) প্রতিভার মৃত্যু নেই
62.‘ আজ তবে হাসো , কথা কও , —সুজা শেষ যুদ্ধযাত্রার আগে কথাগুলো বলেছিলেন—
(A) পিয়ারাবানুকে (B) জাহানারাকে (C) নূরজাহানকে (D) মুমতাজকে
Ans: (A) পিয়ারাবানুকে
63. ‘তোমার প্রেমে আমাকে আবৃত করে দাও ।’— কথাটি বলেছে–
(A) সুজা (B) মোরাদ (C) দারা (D) পিয়ারাবানু
Ans: (A) সুজা
64. ‘ঠিক পুরোনো দিনের মতোই আছেন আপনি ।’— কালীনাথ যা দেখে এ সিদ্ধান্তে এসেছেন , তা হল —
(A) রজনীকান্তের স্মৃতিশক্তি (B) রজনীকান্তের আচরণ (C) রজনীকান্তের স্বরক্ষেপণ (D) রজনীকান্তের সামগ্রিক প্রতিভা
Ans: (D) রজনীকান্তের সামগ্রিক প্রতিভা
65. কার বার্ধক্য , একাকিত্ব , রোগ কিংবা মৃত্যুভয় নেই ?
(A) যে ভালো অভিনেতা (B) যে সৎভাবে জীবনযাপন করে (C) যে শিল্পকে ভালোবাসে (D) যে এগিয়ে চলায় বিশ্বাসী
Ans: (C) যে শিল্পকে ভালোবাসে
66. ‘ তাও আর বছর কয়েক পরে মানাবে না আমাকে – কোন্ চরিত্রের ভূমিকায় মানাবে না ?
(A) ঔরঙ্গজীব (B) শাজাহান (C) দিলদার (D) মোরাদ Ans: (C) দিলদার
67. Farewell the tranquil mind’- এই সংলাপটি যে – নাটকের , সেটি হল —
(A) কিং লিয়ার (B) ওথেলো (C) ম্যাকবেথ (D) হ্যামলেট Ans: (B) ওথেলো
68. Life’s but a walking shadow’- এই সংলাপটি যে – নাটকের , সেটি হল—
(A) ম্যাকবেথ (B) কিং লিয়ার (C) ওথেলো (D) হ্যামলেট Ans: (A) ম্যাকবেথ
69. A horse ! horse ! My kingdom for a horse’ উদ্ধৃত সংলাপটি কোন্ নাটক থেকে গৃহীত হয়েছে—
(A) ম্যাকবেথ (B) রিচার্ড দ্য থার্ড (C) ম্যাকবেথ (D) জুলিয়াস সিজার
Ans: (B) রিচার্ড দ্য থার্ড
70. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের শেষ দিকে রজনীকান্ত কোন্ ইংরেজি নাটকের সংলাপ উচ্চারণ করেছেন?
(A) ওথেলো (B) জুলিয়াস সিজার (C) ওথেলো (D) মার্চেন্ট অফ ভেনিস
Ans: (A) ওথেলো
✍️SAQ:
1. ‘নানা রঙের দিন ‘ কী ধরনের নাটক ?
Ans: অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা রঙের দিন ‘ একটি একাঙ্ক নাটক ।
2. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকটি কোন বিদেশি নাটকের অনুপ্রেরণায় লিখিত ?
Ans: অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ নানা রঙের দিন ‘ , আস্তন চেখভের ‘ সোয়ান সং ‘ নাটকের অনুপ্রেরণায় লেখা হয়েছিল ।
3.‘ নানা রঙের দিন ‘ -এর ‘ চরিত্রলিপি ‘ বয়সসহ উল্লেখ করো ।
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে চরিত্র দুটি ও তাদের বয়স হল । বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ( বয়স ৬৮ ) এবং প্রম্পটার কালীনাথ সেন ( বয়স ৬০ ) ।
4. নাটকে ‘ প্রম্পটার ‘ – এর কাজ কী ?
Ans: নাটকে প্রম্পটার ‘ – এর কাজ হল উইংসের পাশে বসে অভিনেতাদের সংলাপের সূত্র বা খেই ধরিয়ে দেওয়া ।
5. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের প্রারম্ভে মঞ্চসজ্জার কীরকম বর্ণনা দেওয়া আছে ?
অথবা , নানা রঙের দিন ‘ নাটকের প্রারম্ভে মঞ্চসজ্জার বিবরণ আছে , তা নিজের ভাষায় লেখো ।
Ans: নানা রঙের দিন ‘ নাটকের পটভূমিকায় রয়েছে একটি পেশাদারি থিয়েটারের ফাঁকা মঞ্চ । সেখানে ছড়ানো ছেটানো রয়েছে নাটকের অবশিষ্ট দৃশ্যপট , জিনিসপত্র আর যন্ত্রপাতি । মঞ্চের মাঝখানে একটি টুল ওলটানো রয়েছে ।
6. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় কীভাবে মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় দিলদারের পোশাক গায়ে হাসতে হাসতে হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে মঞে প্রবেশ করেছিলেন ।
7. ‘ সব পাত্রপাত্রী ভোঁভোঁ ‘ — তখন মঞ্চে কে প্রবেশ করেন ?
Ans: ‘ দিলদার ’ – রূপী রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন শাজাহান – জাহানারা প্রভৃতি নাটকের পাত্রপাত্রীরা সবাই চলে গেছে । এ সময় তিনি মঞ্চে প্রবেশ করেন ।
8. ‘ এত টানলে কি আর কান্ডজ্ঞান থাকে ? ‘ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটক থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের অপরিমিত মদ্যপানের কথা বলা হয়েছে ।
9.‘ বাঃ বাঃ বুঢ়ঢ়া । আচ্ছাহি কিয়া । ক্যায়া হোগা তুম্ সে ? কুছ নেহি । বিলকুল কুছ নেহি ‘ — কার উক্তি ?
Ans: আলোচ্য উদ্ধৃতিটি অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘ নানা রঙের দিন ’ নাটকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় করেছেন।
10. ‘ তাতে বয়েসটা ঠিক বোঝা যায় না ‘ — কীসে ‘ বয়েস ’ বোঝা যায় না ?
Ans: অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় লম্বা লম্বা চুলে রোজ আধ শিশি কলপ লাগিয়ে যেমন রঙ্গ – রসিকতা করেন , তাতে তাঁর বয়সটা ঠিক বোঝা যায় না ।
11. ‘আমি লাস্ট সিনে করব না ভাই , আমাকে ছেড়ে দিন’— বলার কারণ কী ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুকে সামনে দেখেও তার মুখোমুখি হতে না – চেয়ে এমন মন্তব্য করেছেন ।
12. এখন শুধু মাঝরাত্তিরের অপেক্ষা ‘ — এখানে ‘ মাঝরাত্তির ‘ কীসের প্রতীক ?
Ans: অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতে , ‘ মাঝরাত্তির আসলে জীবনের অন্তিম অঙ্ক তথা মৃত্যুর প্রতীক ।
13. ‘রজনীবাবু ভয়ে চিৎকার করে পিছিয়ে যান । ‘ –কাকে , কী অবস্থায় দেখে রজনীবাবু ভয় পেয়েছিলেন ?
Ans: অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটক থেকে গৃহীত উপরিউক্ত অংশে রজনীবাবু পরনে ময়লা পাজামা , গায়ে কালো চাদর , এলোমেলো চুল , বুড়ো কালীনাথকে হঠাৎ দেখে ভয় পেয়েছিলেন ।
14. ‘সব গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে ’ বলতে কী বুঝিয়েছেন ?
Ans: অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় মাঝরাতে ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহে দূরের ব্যালকনি , ফার্স্ট – সেকেন্ড – থার্ড – ফোর্থ বক্সগুলিকে গভীর অন্ধকারে ডুবে থাকতে দেখে শ্মশানের শূন্যতাকে উপলব্ধি করেছেন ।
15. জীবনের শেষ কথাগুলো কোথায় লেখা আছে ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতে , অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহের দেয়ালে কালো কালো অঙ্গারে জীবনের শেষ কথাগুলো লেখা আছে ।
16. রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বয়স কত হয়েছিল ?
Ans: অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছিল । আটষট্টি বছর ।
17. প্রম্পটার কালীনাথ সেনের বয়স কত হয়েছিল ?
Ans: প্রম্পটার কালীনাথ সেনের বয়স হয়েছিল ষাট বছর ।
18. অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় কত বছর ধরে অভিনয় করছেন ?
Ans: অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে । থিয়েটারে অভিনয় করেছিলেন ।
19. ‘ সব ভূতুড়ে বাড়ির মতো খাঁ খাঁ করছে ‘ — বলা হয়েছে । কেন ?
Ans: অন্ধকার মধ্যরাত্রে জনমানবহীন প্রেক্ষাগৃহটিকে দেখে । অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মনে হয়েছে সব ভূতুড়ে বাড়ির মতো খাঁ খাঁ করছে ।
20. ‘ আপনার মতো বয়স হয়েছে যাদের তারা কী করে ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতো আটষট্টি বছরের বৃদ্ধরা সাধারণত সময়মতো খাওয়াদাওয়া করে , সকাল – সন্ধে হেঁটে , সন্ধেবেলায় ভগবানের নাম কিংবা কীর্তন করে সময় কাটায় ।
21. আর আপনি রজনীবাবু এসব কী করছেন মশাই’— রজনীবাবু কী করছিলেন ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় মধ্যরাতে ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহে দিলদারের পোশাক পরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নাটুকে ভাষায় আবোলতাবোল বকছিলেন ।
22. ‘কী যে পাগলামি করেন । সারারাত ধরে এইসব ভাবলে হঠাৎ হার্টফেল করবেন যে ।’— কে এমন মন্তব্য করেছে ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিবেক বা অন্তর্মনই এমন মন্তব্য করেছে ।
23. ‘কে ? কী চাই তোমার ? … কে তুমি ? ‘ — রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় কাকে দেখে এমন মন্তব্য করেছিলেন ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় মধ্যরাতে ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহে উইংসের পাশ দিয়ে বেরোতে গিয়ে প্রম্পটার কালীনাথকে দেখে এমন মন্তব্য করেছিলেন ।
24. কালীনাথ সেনের পোশাক – পরিচ্ছদ কেমন ছিল ?
Ans: বৃদ্ধ প্রম্পটার কালীনাথ সেনের পরনে ছিল ময়লা পাজামা ও গায়ে কালো চাদর । তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো ।
25. ‘তুমি এত রাতে কী করছিলে এখানে ? ‘ — উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী করছিল ?
Ans: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তথা প্রম্পটার কালীনাথ সেনের কোথাও শোয়ার জায়গা না থাকায় তিনি রোজ ‘ এখানে ‘ অর্থাৎ গ্রিনরুমে ঘুমোতেন ।
26. সেদিনও তিনি তা – ই করছিলেন । ‘ একেবারে বেঘোরে মারা পড়ব তাহলে ‘ — এমন বলার কারণ কী ছিল ?
Ans: কোথাও শোয়ার জায়গা না থাকায় কালীনাথ সেন রোজ গ্রিনরুমে ঘুমোতেন । বরখাস্ত হওয়ার ভয়ে তিনি এসব মালিককে না – বলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ।
27. ‘ এ কথাটা মালিকের কানে তুলবেন না চাটুজ্জেমশাই’— ‘ কথাটা ’ কী ?
Ans: কোথাও শোয়ার জায়গা না থাকায় বৃদ্ধ প্রম্পটার কালীনাথ সেন বাধ্য হয়ে প্রিনরুমেই ঘুমোতেন । এখানে সেই ‘ কথাটার ‘ প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে ।
28. ‘ মিছে কথা বলব না’— কেন ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ব্রাহ্মণ মানুষ হওয়ায় প্রম্পটার কালীনাথ তাঁর কাছে মিছে কথা বলেননি ।
29. ‘ আপনি বামুন মানুষ , মিছে কথা বলব না ।’— বক্তা কোন্ সত্যি কথাটি বলেছিল ?
Ans: বক্তা প্রম্পটার কালীনাথ সেনের কোথাও শোয়ার জায়গা না – থাকায় রোজ লুকিয়ে গ্রিনরুমে ঘুমোন — এই সত্যি কথাটি তিনি রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে বলেছিলেন ।
30.‘ মরা হাতি সোয়া লাখ ’ —– কোন্ প্রসঙ্গে এমন উক্তি ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের দিলদারের চরিত্রে অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে এক দর্শক এমন মন্তব্য করেছিল ।
31. ‘ যতক্ষণ স্টেজে দাঁড়িয়ে থাকি ততক্ষণ কদর ।’— কে এমন অভিমত প্রকাশ করেছিল ?
Ans: নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় নিজের সম্পর্কে এমন অভিমত প্রকাশ করেছিলেন ।
32. ‘একটুও ভালো লাগে না বাড়িতে । -ভালো না লাগার কারণ কী ছিল ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বউ , ছেলেমেয়ে , সঙ্গীসাথি কেউ ছিল না । এই দুঃসহ একাকিত্বের কারণেই তাঁর বাড়িতে ভালো লাগত না ।
33. রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ব্যক্তিজীবনের একাকিত্বের সঙ্গে । কীসের তুলনা করেছেন ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ধু – ধু করা দুপুরে জ্বলন্ত মাঠে । সঙ্গীহীন বাতাসের সঙ্গে নিজের জীবনের একাকিত্বের তুলনা করেছেন ।
34. ‘ সদ্বংশের পবিত্র রক্ত ।’— রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় নিজের বংশপরিচয় সম্পর্কে কী বলেছিলেন ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় নিজের বংশপরিচয় দিতে গিয়ে বলেছিলেন রাঢ় বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ভদ্র ব্রাহ্মণ বংশে তিনি জন্মেছিলেন ।
35. অভিনয়ে আসার আগে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় কী করতেন ?
Ans: পেশাদারি থিয়েটারে অভিনয়ে আসার আগে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় পুলিশের ‘ ইনস্পেক্টর ‘ পদে চাকরি করতেন ।
36.‘ ছোকরা বয়স ’ – এ রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় কেমন ছিলেন ?
Ans: ছোকরা বয়সে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক শক্তি , সাহস এবং চেহারায় আকর্ষণীয় জেল্লা থাকায় তিনি কারও পরোয়া করতেন না ।
37. ‘ তারপর একদিন , বুঝলে চাকরিটা ছেড়ে দিলাম । বক্তা চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় । নাটকের প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার কারণেই পুলিশের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলেন ।
38. ‘ আর একরকম করে জীবন শুরু করা গেল ‘ — সে জীবন কেমন ছিল ?
Ans: তরুণ বয়সে প্রতিভাবান অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় । চাকরিবাকরি ছেড়ে নাটক নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন । তাই তাঁর খ্যাতি ও খাতির কোনোটাই কম ছিল না ।
39. ‘ আমার চোখের সামনে মেলে ধরেছে ।’— কে , কী মেলে ধরেছে ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে থিয়েটারের অন্ধকার দেয়াল বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের চোখের সামনে জীবনের এ সমস্ত খাতাখানাকে মেলে ধরেছিল ।
40. “ আর সেইদিনই বুঝলুম পাবলিকের আসল চরিত্রটা কী ! —পাবলিকের আসল চরিত্র কী ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে রজনীকান্তবাবু উপলব্ধি করেছেন পাবলিক সারাদিন খেটেখুটে আনন্দ পেতে । অভিনয় দেখে হাততালি , দেবে কিন্তু নাটকের কলাকুশলীদের সঙ্গে মেয়ে কিংবা বোনের অভিনয় দেখতে আসেন মেডেল , সার্টিফিকেট বিয়ে দেবে না ।
41. ‘ সেইদিনই বুঝলুম পাবলিকের আসল চরিত্রটা কী ।’— কার উক্তি ? কোন দিন বক্তা এই উপলব্ধিতে পৌঁছান ।
Ans: আলোচ্য উদ্ধৃতিটির বস্তুা অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় । যেদিন রজনীবাবুর প্রেমিকা তাঁকে বিয়ে করার শর্ত হিসেবে অভিনয় ছেড়ে দিতে বলেন সেই রাত্রে তিনি এই উপলব্ধিতে পৌঁছান ।
42. সেই রাত্রেই জীবনে প্রথম মোক্ষম বুঝলুম ‘ — এখানে কোন্ রাত্রের কথা বলা হয়েছে ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিয়ের প্রস্তাবে যেদিন তাঁর প্রেমিকা শর্ত হিসেবে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল , প্রশ্নোবৃত অংশে সেই রাত্রের কথা বলা হয়েছে ।
43. ‘ এসব বাজে কথায় আমি বিশ্বাস করি না ।’— ‘ বাজে কথা ’ – টি কী ?
Ans: দর্শকদের হাততালি , খবরের কাগজের প্রশংসা , মেডেল , সার্টিফিকেট এবং ‘ নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প ’ — এমন মন্তব্যকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ‘ বাজে কথা ‘ বলে মনে করেছেন ।
44. ‘ তা নইলে বাইরে জাহির করবেন কী করে ? ’ — বাইরে কী জাহির করবেন ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতে , সাধারণ মানুষের কাছে অভিনেতাদের কোনো সামাজিক সম্মান নেই । কেবল বাইরে জাহির করার জন্যই তারা অভিনেতাদের সঙ্গে আলাপ – পরিচয়ের ভান করে ।
45. ‘ কাউকে বিশ্বাস করি না ‘ — এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় পেশাদারি থিয়েটারের টিকিট কেনা দর্শকদের কাউকে বিশ্বাস না করার কথা বলেছেন ।
46. ‘ পবিত্রতার নামাবলিটা … ফাঁস হয়ে গেল আমার সামনে ‘ পবিত্রতার নামাবলিটা ‘ কী ?
Ans: ‘ নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প ’ — এই তথাকথিত আপ্তবাক্যটি সম্পর্কে অন্তর্মনের বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ায় রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় এমন মন্তব্য করেছেন ।
47. ‘ আমারও আর কিছু ভালো লাগত না ‘ — বস্তার কিছু ভালো না লাগার কারণ কী ?
Ans: থিয়েটারকে ভালোবাসার কারণে রজনীকান্তের প্রেমিকার সঙ্গে চিরবিচ্ছেদ ঘটেছিল । অথচ সেই থিয়েটারের দর্শকদের কাছে সত্যিকারের সামাজিক সম্মান না পাওয়ায় তাঁর ভালো লাগত না ।
48. ‘ আবোলতাবোল সব পার্ট করতে লাগলাম ‘ — এর কারণ কী ছিল ?
Ans: নাটকের কারণে প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং এর ফলে নাটকের প্রতি মোহভঙ্গ হওয়ায় রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় বাছবিচার না – করে ‘ আবোলতাবোল সব পার্ট করতে লাগলেন ।
49. ‘ আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম ‘ — কী বুঝতে পারলেন ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় থিয়েটারের দেয়ালে কালো অঙ্গারের জ্বলন্ত অক্ষরে তাঁর প্রতিভার অপমৃত্যুর করুণ সংবাদ লেখা হয়ে গেছে — এ কথা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন ।
50. আস্তে আস্তে বয়স বাড়ল – ফলে কী হল ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতে , বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গলার কাজ এবং চরিত্রকে বুঝে ফুটিয়ে তুলতে পারার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে থাকল ।
51. শাহাজাদি সম্রাটনন্দিনী মৃত্যুভয় দেখাও কাহারে ? ‘ উদ্ধৃতাংশটি কোন নাটকের অন্তর্গত ?
Ans: প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি মনমোহন রায়ের ‘ রিজিয়া ‘ নাটকের অন্তর্গত ।
52. ‘খুব খারাপ হচ্ছে না , কী বলো ? ‘ — কী খারাপ হচ্ছে না ?
Ans: উত্তর নানা রঙের দিন ‘ নাটকে বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ‘ রিজিয়া ‘ নাটক থেকে বক্তিয়ায়ের সিনটা অভিনয় করে , খারাপ হচ্ছে কিনা তা প্রম্পটার কালীনাথ সেনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ।
53. ‘আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ‘ — কে ?
Ans: রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মতে , তাঁর সামনে যেন বুড়ো এক রজনী চাটুজ্জে এসে দাঁড়িয়েছিল ।
54. দেশের ছোঁড়াগুলো গোল্লায় যাচ্ছে । ‘ বলার কারণ কী ?
Ans: জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতে , রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নাটকের যা – তা পার্ট দেখে দেশের ছেলে – ছোকরারা গোল্লায় যাচ্ছে ।
55. ‘সেসব দিনে কী না পারতাম ।’— কী পারার কথা বলা হয়েছে ?
Ans: অল্পবয়সে প্রতিভাবান অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় খুব সহজেই এক – একটি চরিত্রকে বুঝে নিয়ে আশ্চর্য সব নতুন রঙে ভরিয়ে তাদের প্রাণবন্ত করে তুলতেন ।
56. ‘কাম অন , কুইক ! মহম্মদের ক্যাচটা দাও তো , মহম্মদ কে ? কে মহম্মদের ক্যাচ দিয়েছিলেন ?
Ans: প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে ডি এল রায়ের ‘ সাজাহান ‘ নাটকে ঔরঙ্গজীব – পুত্র মহম্মদের কথা বলা হয়েছে । → প্রম্পটার কালীনাথ সেন , রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে মহম্মদের ক্যাচ দিয়েছিলেন ।
57. মিরজুমলাকে তোমার সাহায্যে রেখে গেলাম ।’— মিরজুমলা কে ?
Ans: মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজীবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মিরজুমলা । ছিলেন বাংলার শাসনকর্তা । ইনি অহম ও কোচ রাজাকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন ।
58. ‘ রাজনীতি বড়ো কূট ‘ — বক্তা কে ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘ সাজাহান ‘ নাটক থেকে গৃহীত মন্তব্যটির বক্তা ঔরঙ্গজীব ।
59. ‘ আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি ‘ — বক্তা কী বুঝতে পেরেছিলেন ?
Ans: বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর প্রতিভা এখনও মরেনি ।
60. ‘ আমার অ্যাকটিং তোমার তোমার ভালো লেগেছে উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি কে ?
Ans: ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকের বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ‘ সাজাহান ‘ নাটকের একটি অংশের অভিনয় শেষে প্রম্পটার কালীনাথ সেনকে এ কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন ।
61. ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে রজনীকান্ত , ঔরঙ্গজীব ও মহম্মদের যে দৃশ্যের কথা বলেছিলেন সেটি কোন্ নাটকের অংশ ?
Ans: অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় ‘ নানা রঙের দিন ‘ নাটকে ঔরঙ্গজীব ও মহম্মদের যে – দৃশ্যের কথা বলেছিলেন তা ডি এল রায়ের ‘ সাজাহান ‘ নাটকের অংশ ।
✍️DAQ:
1. ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের সূচনায় মঞ্চসজ্জার যে বর্ণনা আছে, তা নিজের ভাষায় লেখাে। নাটকটির নামকরণ কতখানি সার্থক — তা আলােচনা করাে। ২ + ৩
উত্তর- অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি অনবদ্য একাঙ্ক নাটক ‘নানা রঙের দিন’। নাটকের শুরুতেই নাট্যকার স্বল্পকথায় মঞ্চসজ্জার বিবরণ দিয়েছেন এইভাবে- একটি পেশাদারি থিয়েটারের ফাঁকা মঞ্চ, পিছনের দেওয়ালে তখনো রাত্রে অভিনীত নাটকের দৃশ্যপট এবং চারিদিকে ছড়িয়ে ছিল নাটকে ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও যন্ত্রপাতি। মঞ্চের মাঝখানে একটি টুল ওল্টানো ছিল। মঞ্চ তখনো অন্ধকার ছিল, অর্থাৎ কোনো আলো জ্বলছিল না। আলোচ্য নাটকের প্রধান চরিত্র বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। নাটকের অপর চরিত্র কালীনাথের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গেই উঠে আসে রজনীবাবুর ফেলে আসা জীবনের নানা কথা। নানা বর্ণে চিত্রিত তার জীবনের ইতিকথাই এই নাটকের প্রধান বিষয়। রাঢ়বঙ্গের এক বনেদি ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান রজনীবাবু প্রথম জীবনে পুলিশ ছিলেন। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে থিয়েটার জগতে নিয়ে এসেছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নাট্যজগতে প্ৰতিষ্ঠা পেয়েছিলেন। যুবা অভিনেতা রজনীকান্তের এই সব দিনগুলি ছিল রঙিন দীপ্তিতে উজ্জ্বল। তার অভিনয় দেখেই একটি মেয়ে তার প্রেমে পড়েছিল, যদিও সেই প্রেম বিয়ে পর্যন্ত এগোয়নি। রজনীবাবুর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে সেইসব বিবর্ণ দিনের কথাগুলি। এরপর তার বয়স বাড়তে থাকে। তিনি মূল চরিত্র ছেড়ে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। জীবনের পঁয়তাল্লিশটা বছর অভিনয় জগতে থেকে একসময় তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার দিন শেষ হয়ে এসেছে। এইভাবে, আলোচ্য নাটকে রজনীবাবুর জীবনের নানা রঙের দিনগুলিই নাট্যরূপে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই এই নামকরণ সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে।
2. “… প্রাক্তন অভিনেতা রজনী চাটুজ্জের প্রতিভার অপমৃত্যুর করুণ সংবাদ।”- কে বলেছেন? এই অপমৃত্যু কীভাবে ঘটেছিল বলে বক্তা মনে করেন? ১+৪
উত্তর- 👉অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে পেশাদারি থিয়েটারের প্রাক্তন অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় নিজেই একথা বলেছেন।
👉রজনীবাবু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা ছিলেন। অভিনয়কে ভালোবেসে পুলিশের চাকরি ছেড়ে তিনি থিয়েটারে ঢুকেছিলেন। অভিনেতা হিসেবে তিনি বেশ জনপ্রিয়ও ছিলেন। যখন তার বয়স কম ছিল তখন যেকোনো চরিত্র তিনি অনায়াসে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন এবং তার অভিনয়-স্পর্শে প্রতিটি চরিত্র নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ পেত। এভাবেই চলে যাচ্ছিল।
এমন সময় তার জীবনে একটি মেয়ের আবির্ভাব ঘটে। জনৈক বড়লোকের সুন্দরী মেয়ে রজনীবাবুর অভিনয় দেখে তার প্রেমে পড়েছিল। কিন্তু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেই সে বলেছিল “তুমি ওই থিয়েটার করা ছেড়ে দাও”। রজনীবাবু মেয়েটির শর্তে রাজি হননি এবং অভিনয় করাও ছাড়েন নি, বরং এরপর থেকে থিয়েটারকেই বেশি করে আঁকড়ে ধরেছেন।
থিয়েটারকে নিজের জীবনের ধ্রুবতারা করে, অভিনয় জগতে পঁয়তাল্লিশ বছর পথচলার পর তিনি বুঝতে পারেন, বার্ধক্য তাকে গ্রাস করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলার কাজ নষ্ট হয়ে গেল, অভিনয়-দক্ষতাও কমে গেল। এতদিন তিনি নিজেকে নিয়ে ভাববার অবসর পাননি, যখন পিছন ফিরে দেখলেন তখন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। যে রজনীকান্তের ‘ট্যালেন্ট’ নিয়ে গুণীজন প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, বয়সের ভারেই সেই ‘প্রতিভার অপমৃত্যু’ ঘটেছিল।
3. “আমি রােজ লুকিয়ে লুকিয়ে গ্রিনরুমে ঘুমোই চটুজ্জেমশাই, কেউ জানে না” – কোন নাটকের অংশ? বক্তা কে? তিনি কেন গ্রিনরুমে ঘুমান? ১+১+৩
উত্তর- 👉প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটি নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের সংলাপ।
👉উদ্ধৃত উক্তিটি পেশাদারি থিয়েটারের প্ৰম্পটার কালীনাথ সেনের। উল্লেখ্য যে, দুই চরিত্রবিশিষ্ট এই একাঙ্ক নাটকের একটি চরিত্র হলেন প্রাক্তন অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় এবং অপর চরিত্রটি হল এই কালীনাথ সেন।
👉কালীনাথ ছিল একজন প্ৰম্পটার। পেশাদারি থিয়েটারের একজন প্ৰম্পটারের বেতন অতি সামান্য। কলকাতা শহরে বাড়ি তৈরি করা বা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার মতো সামর্থ্য তার ছিল না। সেইজন্য থিয়েটারের গ্রিনরুমই ছিল তার রাত্রিকালীন ঠিকানা। গ্রিনরুম হল সেই ঘর যেখানে নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাজসজ্জা করে। নাটক শেষ হবার পর, সব পাত্র-পাত্রী এবং কলাকুশলী চলে গেলে কালীনাথ গ্রিনরুমে ঘুমোত। অবশ্য একথা কেউ জানতো না। কথাটা মালিকের কানে গেলে হয়তো তার এই আশ্রয়টুকুও যেত।
আরেকটি কথা এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। রজনীবাবুর মতো কালীনাথ সেনও অকৃতদার ছিল। রজনীকান্তের তবু নিজস্ব ঘর ছিল, রাত্রে ঘুমোনোর জায়গা ছিল। কিন্তু কালীনাথের ঘর-সংসার, স্ত্রী-সন্তান কিছুই ছিল না। সেইজন্য থিয়েটার ছেড়ে অন্য কোথাও যাবার তার বিশেষ প্রয়োজনও ছিল না। এইজন্য কালীনাথ রোজ গ্রিনরুমেই ঘুমোত।
4. “অভিনেতা মানে একটা চাকর- একটা জোকার, একটা ক্লাউন৷ লোকেরা সারাদিন খেটেখুটে এলে তাদের আনন্দ দেওয়াই হল নাটক-ওয়ালাদের একমাত্র কর্তব্য।”- বক্তার কথার তাৎপর্য আলোচনা করো ৷ ৫
উত্তর- অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র পেশাদারী থিয়েটারের প্রাক্তন অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। থিয়েটারের সাধারণ দর্শক অর্থাৎ টিকিটকেনা খদ্দেরদের প্রতি তাঁর মনোভাব বিরূপ। রজনীবাবুর মতে, এই সমস্ত দর্শকদের চোখে “অভিনেতা মানে একটা চাকর- একটা জোকার, একটা ক্লাউন”। রজনীবাবুর এই মনোভাব আলোচ্য নাটকের প্রেক্ষিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
যখন তাঁর বয়স কম ছিল, একটি মেয়ে এসেছিল তাঁর জীবনে। তাঁর অভিনয় দেখে মেয়েটি নিজে থেকেই এসে আলাপ করেছিল। আলাপ থেকেই ঘনিষ্ঠতা এবং তারপর প্রেম। মেয়েটির সপর্কে রজনীবাবু যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন। তিনি নিজের মতো করে অনেক স্বপ্ন সাজিয়েছিলেন তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে।
তারপর একদিন যখন বিয়ের প্রসঙ্গ এল, মেয়েটি তাঁর সমস্ত স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। মেয়েটি রজনীবাবুকে বিয়ে করতে রাজী ছিল কিন্তু তাঁর শর্ত ছিল- “তার আগে তুমি ওই থিয়েটার করা ছেড়ে দাও”। থিয়েটারের লোকের সঙ্গে মেয়েটি প্রেম করতে পেরেছিল কিন্তু তাঁকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। এই করুণ জীবন-অভিজ্ঞতা রজনীবাবুর জীবন-দর্শন পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
এই কারণেই থিয়েটারের টিকিটকেনা খদ্দের বা দর্শক সপর্কে অভিনেতা রজনীবাবুর এইরূপ মনোভাব। তারা থিয়েটারের লোকের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় করে, চা-টা খাওয়ায়, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনোরকম সামাজিক সম্পর্ক স্বীকার করেনা। থিয়েটারের অভিনেতার সঙ্গে কেউ নিজের বোন বা মেয়ের বিয়েও দেবেনা বলে রজনীবাবু মনে করেন।
তিনি নিজের জীবন-অভিজ্ঞতা দিয়ে এই শিক্ষা পেয়েছেন যে, যতক্ষণ অভিনেতারা স্টেজে থাকেন ততক্ষণ কদর। তারপর যে যার ঘরে ফিরে যায়, তাদের কথা কেউ মনেও রাখে না।
5. ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো ৷ ১+৪
উত্তর- অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি জনপ্রিয় একাঙ্ক নাটক হল ‘নানা রঙের দিন’। নাটকটি আন্তন চেকভের ‘সোয়ান সং’ নাটকের অনুবাদ হলেও নাট্যকারের স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। নাট্যকার এই নাটকের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রধান বিষয়কেই অবলম্বন করেছেন।
আলোচ্য নাটকের প্রধান চরিত্র বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। নাটকের অপর চরিত্র কালীনাথের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গেই উঠে আসে রজনীবাবুর ফেলে আসা জীবনের নানা কথা। নানা বর্ণে চিত্রিত তার জীবনের ইতিকথাই এই নাটকের প্রধান বিষয়।
রাঢ়বঙ্গের এক বনেদি ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান রজনীবাবু প্রথম জীবনে পুলিশ ছিলেন। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে থিয়েটার জগতে নিয়ে এসেছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নাট্যজগতে প্ৰতিষ্ঠা পেয়েছিলেন। যুবা অভিনেতা রজনীকান্তের এই সব দিনগুলি ছিল রঙিন দীপ্তিতে উজ্জ্বল।
তার অভিনয় দেখেই একটি মেয়ে তার প্রেমে পড়েছিল, যদিও সেই প্রেম বিয়ে পর্যন্ত এগোয়নি। রজনীবাবুর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে সেইসব বিবর্ণ দিনের কথাগুলি।
তার অভিনয় দেখেই একটি মেয়ে তার প্রেমে পড়েছিল কিন্তু সে সম্পর্ক বিয়ের পরিণতি পায়নি। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত রজনী চাটুজ্জ্যের এইসব দিনগুলি ছিল হতাশার ধূসর রঙে মলিন।
বয়স বাড়তে থাকে, শরীরের তেজ কমতে শুরু করে। রজনীবাবু মূল চরিত্র ছেড়ে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। সাদা চুলে কলপ করে নিজেকে রঙিন রেখে তিনি বয়সটাকে পাত্তা দিতে চান না, কিন্তু বয়স তো থেমে থাকবার নয়। একসময় বার্ধক্য গ্রাস করে তাকে। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে একাকীত্ব এবং হতাশা
জীবনের পঁয়তাল্লিশটা বছর অভিনয় জগতে থেকে একসময় তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার দিন শেষ হয়ে এসেছে। এখন তার চোখের সামনে চিতার আগুনের রক্তিম ঝলসানি।
এইভাবে, আলোচ্য নাটকে অভিনেতা রজনীবাবুর জীবনের নানা রঙের দিনগুলিই নাট্যরূপে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই এই নামকরণ সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে।
6. ‘নানা রঙের দিন’ নাটক হিসেবে কতখানি সার্থক আলোচনা করো৷ ৫
উত্তর- নাট্যসাহিত্যের আধুনিকতম প্রকরণ হল একাঙ্ক নাটক। সাধারণত স্বল্প আয়তন, একক কাহিনিযুক্ত নাটককে একাঙ্ক নাটক বলা যেতে পারে। অবশ্য একাঙ্ক নাটকের আরো অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এইসব বৈশিষ্ট্যের নিরিখে আমাদের পাঠ্য ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি একাঙ্ক নাটক হিসেবে কতখানি সার্থক তা আলোচনা করা হল।
প্রথমত, ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি এক অঙ্কের স্বল্পায়তন নাটক। এই পরিমিত আয়তন একাঙ্ক নাটকের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয়ত, এই নাটকের প্রধান বিষয় হল প্রাক্তন অভিনেতা রজনী চাটুজ্জ্যের স্মৃতিচারণা। সেই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে তার ব্যক্তিজীবন ও শিল্পী জীবনের নানা কথা। অর্থাৎ, এই নাটকে একাঙ্ক নাটকের ভাবগত ঐক্য রক্ষিত হয়েছে।
তৃতীয়ত, একাঙ্ক নাটকের একদম প্রথম সংলাপ থেকে নাট্যকাহিনির সূচনা হয়। এই নাটকেও তেমনটাই দেখা যায়।
চতুর্থত, এই নাটকের মাত্র দুটি চরিত্র এবং উপকাহিনি-বর্জিত একটি মূল কাহিনি- অর্থাৎ, সব দিক থেকেই বাহুল্যবর্জিত। এটিও একাঙ্ক নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পঞ্চমত, আলোচ্য নাটকে অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের একাকীত্ব, ভয় এবং হতাশা থেকে কালীনাথের কাছে স্মৃতিচারণা এবং সবশেষে বাস্তবোপলব্ধি- নাট্যকাহিনি দ্রুততার সঙ্গে পরিণতির দিকে এগিয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যটিও একাঙ্ক নাটকের বৈশিষ্ট্য।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, এই নাটকে রজনীকান্তের দীর্ঘ সংলাপ একাঙ্কিকার স্বভাব-বিরুদ্ধ। তা সত্বেও পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্যের নিরিখে ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটিকে একটি সার্থক একাঙ্ক নাটক বলা যেতে পারে।
7. নানা রঙের দিন নাটকে অন্য যে সকল নাটকের সংলাপ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর- অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে অন্য যে সব নাটকের সংলাপ ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলি হল – মনোমোহন রায়ের ‘রিজিয়া’, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘ওথেলো’, ‘ম্যাকবেথ’ এবং ‘রিচার্ড দি থার্ড’ নাটক।
নানা রঙের দিন নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় একজন অভিনেতা। সেইজন্য তিনি কথায় কথায় অন্য নাটকের সংলাপ বলতেই পারেন। কিন্তু আলোচ্য নাটকে নাট্যকার সচেতনভাবেই এইসব সংলাপ ব্যবহার করেছেন এবং প্রতিটি সংলাপ নাটকের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন –
১) রিজিয়া- বিগতযৌবনের জন্য শোকাকুল রজনীবাবু নিজের প্রতিভা প্রমাণ করার জন্য ‘রিজিয়া’ নাটকের “শাহাজাদি! সম্রাটনন্দিনী!..” সংলাপটি বলেন।
২) সাজাহান- রজনীবাবুর মুখে ‘সাজাহান’ নাটকের তিনটি সংলাপ শোনা যায়। প্রথম দুটি সংলাপ যেন নিজেকে নিজের কাছে প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা। বয়সের ভার যে রজনীবাবুকে জব্দ করতে পারেনি, সেটাই তিনি প্রমাণ করতে চান। কিন্তু এই নাটকের তৃতীয় সংলাপটি অর্থাৎ পিয়ারাবানুর উদ্দেশ্যে সুজার কথাগুলি রজনীবাবুকে আবার বাস্তবের মাটিতে নিয়ে আসে।
৩) ওথেলো- প্রতিভা তাকে ছেড়ে চলে গেছে, তাই তিনিও জীবনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিদায় নিতে চান। ওথেলোর মতো রজনীবাবুও বলেন- “Farewell the tranquil mind..”
৪) ম্যাকবেথ- সময় বলবান এবং তার সাপেক্ষে মানুষের প্রাণ নেহাতই ক্ষুদ্র, তুচ্ছ। ম্যাকবেথের সংলাপে রজনী বাবুর এই উপলব্ধির প্রকাশ ঘটেছে।
৫) রিচার্ড দি থার্ড- ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের শেষতম সংলাপে বিগত যৌবন এবং প্রতিভার জন্য আরেকবার রজনীবাবুর হাহাকার শোনা যায়। একটি ঘোড়ার অভাবে তৃতীয় রিচার্ড তার রাজত্ব হারাতে বসেছিলেন, আর রজনীবাবু সর্বস্ব হারাতে চলেছেন শুধুমাত্র যৌবনশক্তির অভাবে। “A horse! A horse! My kingdom for a horse!”- শুধু একটি সংলাপ নয়, হৃত-যৌবন এবং লুপ্ত-প্রতিভার জন্য রজনীবাবুর বেদনাভরা হাহাকার।
8. ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে থিয়েটারের টিকিট কেনা খদ্দেরদের সম্পর্কে রজনীবাবুর কী মতামত এবং কেন? Or,
“যারা বলে ‘নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প’- তারা সব গাধা”- বক্তার এই উক্তির/মনোভাবের কারণ কী? Or,
“তোমার ওই পাবলিক… কাউকে বিশ্বাস করিনা”- বিশ্বাস না করার কারণ।
উত্তর- অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র পেশাদারী থিয়েটারের প্রাক্তন অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। থিয়েটারের সাধারণ দর্শক অর্থাৎ টিকিটকেনা খদ্দেরদের প্রতি তাঁর মনোভাব বিরূপ। তারা থিয়েটারের লোকের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় করে, চা-টা খাওয়ায়, কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনোরকম সামাজিক সম্পর্ক স্বীকার করেনা। থিয়েটারের অভিনেতার সঙ্গে কেউ নিজের বোন বা মেয়ের বিয়েও দেবেনা বলে রজনীবাবু মনে করেন। যতক্ষণ অভিনেতারা স্টেজে থাকেন ততক্ষণ কদর। তারপর যে যার ঘরে ফিরে যায়, তাদের কথা কেউ মনেও রাখে না। রজনীবাবুর মতে, এই সমস্ত দর্শকদের চোখে “অভিনেতা মানে একটা চাকর- একটা জোকার, একটা ক্লাউন”। দর্শকদের হাততালি, প্রশংসাও সারশূন্য। রজনীবাবু ধিক্কারের সঙ্গে জানান- “যারা বলে ‘নাট্যাভিনয় একটি পবিত্র শিল্প’-তারা সব গাধা-গাধা।
আসলে রজনীবাবুর এই মনোভাবের পিছনে একটি কারণ রয়েছে। যখন তাঁর বয়স কম ছিল, একটি মেয়ে এসেছিল তাঁর জীবনে। তাঁর অভিনয় দেখে মেয়েটি নিজে থেকেই এসে আলাপ করেছিল। আলাপ থেকেই ঘনিষ্ঠতা এবং তারপর প্রেম। মেয়েটির সপর্কে রজনীবাবু যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন।
তিনি নিজের মতো করে অনেক স্বপ্ন সাজিয়েছিলেন তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে। তারপর একদিন যখন বিয়ের প্রসঙ্গ এল মেয়েটি তাঁর সমস্ত স্ব্প্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। মেয়েটি রজনীবাবুকে বিয়ে করতে রাজী ছিল কিন্তু তাঁর শর্ত ছিল- “ তার আগে তুমি ওই থিয়েটার করা ছেড়ে দাও”। থিয়েটারের লোকের সঙ্গে মেয়েটি প্রেম করতে পেরেছিল কিন্তু তাঁকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। এই করুণ জীবন-অভিজ্ঞতা রজনীবাবুর জীবন-দর্শন পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। এই কারণেই থিয়েটারের টিকিটকেনা খদ্দের বা দর্শক বা পাবলিক সপর্কে অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের এইরূপ মনোভাব।
9. ‘নানা রঙের দিন’ নাটক অবলম্বনে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্র বিশ্লেষণ কর।
উতর- অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি হল পেশাদারী নাট্যমঞ্চের প্রাক্তন অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। নাটকের শুরুতে তাঁর স্বগতোক্তি এবং পরে কালীনাথ সেনের সঙ্গে কথোপকথনে তাঁর চরিত্রটি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
রজনীবাবুর চরিত্রের প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তাঁর থিয়েটার-প্রীতি। পুলিশ ইনসপেক্টরের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি থিয়েটারের জগতে প্রবেশ করেহিলেন। এমনকি থিয়েটারকে ভালোবেসে নিজের প্রেমকে বিসর্জন দিতে তিনি পিছুপা হননি।
অভিনেতা হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সফল। একসময় যখন বয়স কম ছিল তখন তাঁর অভিনয় সাধারণ মানুষ থেকে সংবাদপত্র- সকলের প্রশংসা পেয়েছিল। যে মেয়েটি তাঁর প্রেমে পড়েছিল সেও তাঁর অভিনয়েই মুগ্ধ হয়েছিল। এমনকি আটষট্টি বছর বয়সে দিলদারের ভুমিকায় অভিনয় করেও তিনি সাতবার ক্ল্যাপ পেয়েছেন।
শেকসপিয়ারের নাটক থেকে যেভাবে সংলাপ বলে গেছেন তা থেকে তাঁর নাট্যপ্রতিভার উৎকর্ষতা আন্দাজ করা যেতে পারে।
রামব্রিজকে তিন টাকা বকশিশ দেওয়ার ঘটনাটি তাঁর মহানুভবতার পরিচায়ক। তেমনি কালীনাথ সেনের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার যথেষ্ট ভদ্র ও মার্জিত।
সমগ্র নাটকে রজনীবাবু চরিত্রটির যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো তা হল তাঁর বিগত যৌবনের জন্য বিলাপ ও নিঃসঙ্গতাজনিত হাহাকার। কিন্তু নাটকের শেষে তিনিই কালীনাথকে বুঝিয়েছেন- “হ্যাঁ কালীনাথ, আমাদের দিন ফুরিয়েছে’। কালের অমোঘ নিয়মকে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে চরিত্রটি মহত্তর স্তরে উন্নীত হয়েছে।
10. ‘আমাদের দিন ফুরিয়েছে’- কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? বক্তার এই উপলব্ধির কারণ ব্যাখ্যা কর। ২+৩
উত্তর-👉 অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে বৃদ্ধ অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় এই খেদোক্তি করেছেন। বয়স বাড়ার কারণে থিয়েটারে এখন তাঁর কদর কমে গেছে। তাই তাঁর কণ্ঠে স্পষ্টতই হতাশার সুর। এই হতাশা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি পুরনো দিনের কিছু নাটকের সংলাপ বলতে থাকেন। তাঁর প্রতিভা এখনো যে মরেনি- এটাই তিনি নিজের কাছে প্রমাণ করতে চান। তারপর নিজের অভিনয়ে নিজেই মুগ্ধ হন। কিন্তু এই মুগ্ধতার রেশ বেশিক্ষণ থাকে না। জীবনের অনিবার্য সত্য বার্দ্ধক্য এবং মৃত্যু- এই সত্য তিনি উপলব্ধি করেন। সেই প্রসঙ্গেই রজনীবাবু এই উক্তি করেন।
👉পেশাদারী নাট্যমঞ্চের এককালীন সফল অভিনেতা রজনী চট্টোপাধ্যায়। থিয়েটারের প্রতি ভালোবাসা তাঁর এমনই ছিল যে ‘থিয়েটার করা’ ছেড়ে দিতে হবে শুনে নিজের প্রেমকে বিসর্জন দিতেও তিনি দ্বিধা করেননি। অভিনয় জীবনে দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশটা বছর কেটে গেছে। কিন্তু ব্যক্তি রজনীবাবুর প্রাপ্তি তখনো শুন্য- সঙ্গীহীন জীবন। তাই নিজের নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকার জন্য তিনি বেশি করে থিয়েটারকে আঁকড়ে ধরেছেন।
বয়সটা কমিয়ে রাখতে প্রতিদিন হাফ শিশি করে কলপ লাগান, ছেলে ছোকরাদের সঙ্গে ইয়ার্কিও মারেন। কিন্তু সেই মধ্যরাত্রে নির্জন রঙ্গমঞ্চে দাঁড়িয়ে যেন তাঁর চৈতন্য হল। থিয়েটারের ব্ল্যাকওয়ালে তিনি দেখলেন তাঁর ফেলে আসা জীবন। মধ্যরাত্রির নির্জনতা আর তাঁর জীবনের নিঃসঙ্গতা যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেল। তিনি উপলব্ধি করলেন যে তাঁর জীবনে ‘এখন শুধু মাঝরাত্রিরের অপেক্ষা’। তাই নাটকের শেষে তিনি কালিনাথ সেনকে এত সহজেই বলতে পেরেছেন- “ আমাদের দিন ফুরিয়েছে”।
..................

