📚 উচ্চমাধ্যমিক বাংলা:শিকার কবিতা -জীবনানন্দ দাশ:প্রশ্নোত্তর(MCQ+SAQ+DAQ)📚
১) ‘শিকার ’ কবিতাটি মূল যে কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত –
( ক ) ধূসর পাণ্ডুলিপি ( খ ) মহাপৃথিবী( গ ) রূপসী বাংলা( ঘ ) বেলা অবেলা কালবেলা
২) শিকার ’ কবিতাটি যে কালের-
( ক ) শরৎকাল ( খ ) হেমন্তকাল( গ ) শীতকাল( ঘ ) বসন্তকাল
৩) শিকারটি কখন সংঘটিত হয়েছিল ?
( ক ) রাত্রিবেলায় ( খ ) বিকালবেলায় ( গ ) ভােরবেলায়( ঘ ) সন্ধ্যাবেলায়
8) ‘ ভাের ’ – শব্দটি কবিতার দুটি স্তবকের শুরুতে ব্যবহৃত হয়েছে । স্তবক দুটি হল-
( ক ) প্রথম ও দ্বিতীয় স্তবক( খ ) প্রথম ও তৃতীয় স্তবক( গ ) প্রথম ও চতুর্থ স্তবক( ঘ ) প্রথম ও পঞ্চম স্তবক
৫) ‘শিকার ’ কবিতাটির সূচনায় ‘ ভাের ’ শব্দটির প্রয়ােগ আছে । এই ‘ ভাের ’ হল –
( ক ) যন্ত্রণাদগ্ধ উপলব্দি প্রকাশক( খ ) আনন্দময় উপলব্ধি প্রকাশক( গ ) সরলতা , পবিত্রতা ও সৌন্দর্য প্রকাশক( ঘ ) জটিলতা ও নিঃশব্দতা প্রকাশক
৬) “ ভাের ; / আকাশের রং …. ” – “ শিকার ’ কবিতায় আকাশের রং-
( ক ) গঙ্গাফড়িং – এর দেহের মতাে কোমল নীল ( খ ) ঘাসফড়িং – এর দেহের মতাে কোমল নীল( গ ) প্রজাপতির দেহের মতাে কোমল নীল( ঘ ) টিয়াপাখির দেহের মতাে কোমল নীল
৭) “ আকাশের রং ঘাসফড়িঙের দেহের মতাে কোমল নীল : ” —এখানে আকাশের রঙের সঙ্গে ঘাসফড়িং – এর দেহের তুলনা এসেছে আকাশের রঙের –
( ক ) ক্ষণজীবীরূপ বােঝানাের জন্য( খ ) দীর্ঘজীবীরূপ বােঝানাের জন্য( গ ) সৌন্দর্য ও নির্মলরূপ বােঝানাের জন্য( ঘ ) জীবনের জটিলরূপ বােঝানাের জন্য
৮) ‘ঘাসফড়িঙের দেহের মতাে কোমল নীল : ” — নীল রংটি হল-
( ক ) জামার( খ ) আকাশের( গ ) সমুদ্রের( ঘ ) ময়ূরের পালকের
৯) ঘাসফড়িঙের দেহের মতাে ’ – ঘাসফড়িং – এর দেহের রং কেমন নীল ?
( ক ) কোমল( খ ) হালকা( গ ) গাঢ়( ঘ ) সবজে
১০) “চারিদিকে পেয়ারা ও নােনার গাছ- ”
( ক ) গােধূলিমদির মেয়েটির মতাে( খ ) মচকাফুলের পাপড়ির মতাে( গ ) ভােরের রৌদ্রের মতাে ( ঘ ) টিয়ার পালকের মতাে
১১) “….টিয়ার পালকের মতাে সবুজ । ” — সবুজ রংটি হল –
( ক ) পেয়ারা ও নােনার গাছের( খ ) কলাগাছের( গ ) ঘাসের( ঘ ) বাতাবি লেবুর
১২) “ একটি তারা এখন আকাশে রয়েছে : কারণ –
( ক ) রাতের ঘন কালাে অন্ধকার এখনও কাটেনি বলে
( খ ) কর্মতৎপর সকাল এখনও শুরু হয়নি বলে( গ ) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অন্য তারা দেখা যায়নি বলে( ঘ ) গভীর রাতে আকাশে এমন ঘটনা দেখা যায় বলে
১৩ ) এখন আকাশে রয়েছে ’ — কটি তারা এখনও আকাশে রয়েছে ?
( ক ) তিনটি( খ ) হাজারটি( গ ) দুটি ( ঘ ) একটি
১৪ ) এখন আকাশে রয়েছে ’ – এই তারাকে কবির মনে হয়েছে
( ক ) ঘাসফড়িং – এর দেহের মতাে( খ ) মচকাফুলের পাপড়ির মতাে( গ ) টেরিকাটা মানুষের মতাে( ঘ ) পাড়াগাঁয়ের বাসরঘরের মেয়েটির মতাে
১৫) ‘ মিশরের মানুষী তার বুকের থেকে যে মুক্তা আমার নীল মদের / গেলাসে রেখেছিল ‘ — কত দিন আগে এ ঘটনা ঘটে ?
( ক ) হাজার – হাজার বছর আগে এক রাতে( খ ) লক্ষ – লক্ষ বছর আগে এক রাতে( গ ) কোটি – কোটি বছর আগে এক রাতে( ঘ ) সহস্র – সহস্র বছর আগে এক রাতে
১৬) ‘আমার নীল মদের / গেলাসে রেখেছিল ’ — কবির নীল মদের গেলাসে কে মুক্তা রেখেছিল ?
( ক ) গ্রিক মানুষী( খ ) মিশরের মানুষী( গ ) সুমেরীয় মানুষী( ঘ ) ইরানের সুন্দরী
১৭) ‘আমার নীল মদের / গেলাসে রেখেছিল ।’— কী রেখেছিল ?
( ক ) মুক্তা( খ ) তারা( গ ) শুকনাে অশ্বত্থ পাতা( ঘ ) টিয়ার পালক
১৮ ) ‘একটি তারা আকাশে জ্বলছে এখনও’ । এই তারাকে আকাশে দেখা গেছে –
( ক ) সন্ধেবেলায়( খ ) গভীর রাতে ( গ ) ভােরবেলায়( ঘ ) অন্ধকার রাতে
১৯ ) সারারাত মাঠে / আগুন জ্বেলেছে আগুন জ্বালানাের কারণ –
( ক ) অন্ধকার দূরীকরণের জন্য( খ ) আত্মরক্ষার জন্য( গ ) শরীর উম্ রাখবার জন্য( ঘ ) ফসল রক্ষার জন্য
২০) “…সারারাত মাঠে / আগুন জ্বেলেছে— ” —কারা আগুন জ্বেলেছে ?
( ক ) প্রবাসীরা( খ ) অতিথিবৃন্দ ( গ ) দেশােয়ালিরা( ঘ ) বনবাসীরা
২১) ‘সারারাত মাঠে / আগুন জ্বেলেছে । ” – কোন্ কালে ?
( ক ) শীতকালে( খ ) গ্রীষ্মকালে( গ ) বর্ষাকালে( ঘ ) শরৎকালে
২২ ) “ হিমের রাতে শরীর উম ’ রাখবার জন্য দেশােয়ালিরা । সারারাত মাঠে ” –
( ক ) গান করেছে( খ ) নাচ করেছে( গ ) খেলায় মেতেছে ( ঘ ) আগুন জ্বেলেছে
২৩) দেশােয়ালিরা কোথায় আগুন জ্বেলেছে ?
( ক ) মাঠে( খ ) বনে( গ ) ঘরে( ঘ ) নদীর ধারে
২৪) কবিতায় ‘ দেশােয়ালি ’ বলতে বােঝানাে হয়েছে –
( ক ) অরণ্যের আদিম জনগােষ্ঠীকে ( খ ) অরণ্যের জীবজন্তুকে( গ ) গাছপালাকে( ঘ ) শহরের মানুষকে
২৫) সারারাত মাঠে / আগুন জ্বেলেছে-‘ — সেই আগুনের রং কেমন?
( ক ) প্রজাপতির মতাে রঙিন আগুন( খ ) সূর্যের মতাে লাল আগুন( গ ) মােরগফুলের মতাে লাল আগুন( ঘ ) গোলাপের মত লাল আগুন
২৬) “মরোগফুলের মতাে লাল আগুন; ” আগুন জ্বলার কারণ-
( ক ) রান্না করা( খ ) পশু তাড়ানাে( গ ) অন্ধকার দূর করা( ঘ ) শরীর গরম রাখা
২৭) দেশােয়ালিরা কোন্ পাতা জড়াে করে আগুন জ্বালিয়েছিল ?
( ক ) শুকনাে বটে পাতা( খ ) শুকনাে অশ্বত্থ পাতা( গ ) শুকনাে আমপাতা( ঘ ) শুকানাে ঝাউপাতা
২৮ ) “ সূর্যের আলােয় তার রং কুসুমের মতাে নেই আর ; ” — তার রং কীসের মতাে হয়ে গেছে ?
( ক ) শুকনাে পাতার ধূসর ইচ্ছার মতাে( খ ) কচি বাতাবিলেবুর মতাে সবুজ( গ ) রােগা শালিকের হৃদয়ের বিবণ ইচ্ছার মতাে( ঘ ) নীল আকাশের মরা চাঁদের আলোর মতাে
২৯ ) “ সূর্যের আলােয় তার রং কুসুমের মতাে নেই আর ; ” কারণ-
( ক ) বিজলি বাতি জ্বলেছে( খ ) আলাে নিভে গেছে( গ ) সকাল হয়েছে( ঘ ) আরও বড়াে আগুন জ্বলেছে
৩০ ) “ সূর্যের আলােয় তার রং কুসুমের মতাে নেই আর । ” — কীসের রং ?
( ক ) দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের( খ ) তারার আলাের( গ ) মচকা ফুলের( ঘ ) হরিণের মাংস রাধবার আগুনের
৩১) ‘ রােগা শালিকের হৃদয়ের বিবর্ণ ইচ্ছার মতাে ‘ –
( ক ) কবির হৃদয়ের রং( খ ) আকাশের রং( গ ) সূর্যের আলাের রং( ঘ ) দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের রং
৩২) ‘সকালের আলােয় টলমল শিশিরে চারি দিকের বন ও আকাশ ’ — কীসের মতাে ঝিলমিল করছে ?
( ক ) প্রজাপতির রঙিন ডানার মতাে( খ ) ঘাসফড়িং – এর ডানার মতাে ( গ ) ময়ূরের সবুজ নীল ডানার মতাে ( ঘ ) টিয়াপাখির সবুজ ডানার মতাে
৩৩) ‘ ময়ূরের / সবুজ নীল ডানার মতাে ঝিলমিল করছে ।’— এখানে । ঝিলমিল করছে –
( ক ) আকাশ( খ ) সূর্যের আলােকরশ্মি( গ ) চারিদিকের বন ও আকাশ( ঘ ) মিশরের মানুষী
৩৪)ভাের ‘-এই শব্দটি দ্বিতীয়বার কবিতাতে ব্যবহৃত হয়েছে---
( ক ) সৌন্দর্য ও পবিত্রতা বােঝাতে( খ ) প্রসন্নতা ও প্রশান্তি বোঝাতে( গ ) ভয়ংকর সময়কালকে বোঝাতে( ঘ ) রাতের শেষ বোঝাতে
৩৫) ‘নিজেকে বাঁচিয়ে বাচিয়ে’- সারারাত ধরে কার হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হরিণটি ?
( ক ) টরিকাটা শিকারি( খ ) সিংহী( গ ) দেশোয়ালি ( ঘ ) চিতাবাঘিনি
৩৬) ‘অন্ধকারে সুন্দরীর বন থেকে অর্জুনের বনে ঘুরে ঘুরে!” সুন্দরীর বন কীসের মতো অন্ধকার ?
( ক ) অজুনের( খ ) মেহগনির( গ ) অশ্বত্থের( ঘ ) হিমের রাতের
৩৭ ) “ সুন্দর বাদামি হরিণ এই ভােরের জন্য অপেক্ষা করছিল!” হরিণ ভােরের জন্য অপেক্ষা করছিল কারণ-
( ক ) রাত তার ভালাে লাগছিল না বলে( খ ) রাতে সঙ্গীদের খুঁজে পাচ্ছিল না বলে ( গ ) চিতাবাঘিনির হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবে বলে( ঘ ) রাতে খাবারের অভাব হয়েছিল বলে
৩৮ ) ‘এই ভােরের জন্য অপেক্ষা করছিল!’ ভােরের জন্য অপেক্ষা করেছিল--
( ক ) কয়েকজন শিকারি মানুষ( খ ) বাদামি হরিণ( গ ) ঘাস ফডিং( ঘ ) চিতল হরিণ
৩৯ ) ” এসেছে সে ভােরের আলােয় নেমে ; ‘ — কে নেমে এসেছে ?
( ক ) হরিণ( খ ) চিতাবাঘিনি( গ ) ঘাসফড়িং( ঘ ) শিকারি
৪০) ” এসেছে সে ভোরের আলােয় নেমে ;” নেমে আসার কারণ –
( ক ) তদল খাওয়া( খ ) মান করা( গ ) বিশ্রাম নেওয়া( ঘ ) সুগন্ধি ঘাস খাওয়া
৪১ ) “ কচি বাতাবিলেবুর মতাে সবুজ সুগন্ধি ঘাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে;” ঘাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে –
( ক ) চিতাবাঘিনি( খ ) বাদামি হরিণ( গ ) ঘােড়া( ঘ ) খরগােশ
৪২ ) বাদামি হরিণ কী ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে ?
( ক ) দূর্বাঘাস( খ ) সবুজ সুগন্ধি ঘাস( গ ) মাংস( ঘ ) লতাপাতা
৪৩ ) ‘ সবুজ সুগন্ধি ঘাস ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে ; ‘ — সবুজ সুগন্ধি ঘাস কীসের মতাে ?
( ক ) মেহগনির পাতার মতাে( খ ) পেয়ারা পাতার মতাে( গ ) কচি বাতাবি লেবুর মতাে( ঘ ) টিয়ার পালকের মতাে
৪৪ ) “ নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল- ” কার কথা এখানে বলা হয়েছে?
( ক ) বাঘা( খ ) চিতাবাঘিনি( গ ) শিকারি( ঘ ) বাদামি হরিণ
৪৫ ) “ নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল- ” হরিণটি কেন নদীতে নেমেছিল?
( ক ) স্নান করার জন্য( খ ) জল খাওয়ার জন্য( গ ) চিতাবাঘিনির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য( ঘ ) শরীরটাকে একটা আবেশ দেওয়ার জন্য
৪৬) ‘ নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল – শীতল ঢেউয়ে নামার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে –
( ক ) হরিণের মৃত্যুর মধ্যে প্রবেশ করার ইচ্ছে( খ ) হরিণের প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য আনন্দ( গ ) হরিণের গরম থেকে মুক্তির প্রয়াস( ঘ ) হরিণের নতুন ঘটনার মুখােমুখি হওয়ার বাসনা
৪৭ ) “ ঘুমহীন ক্লান্ত বিহুল শরীরটাকে স্রোতের মতাে / একটা আবেশ দেওয়ার জন্য হরিণটি কী করল ?
( ক ) নরম ঘাসের উপর শুয়ে পড়ল( খ ) নদীর তীক্ষ্ণ শীতল জলে নামল( গ ) অর্জুন বনের ছায়ায় বসে রইল( ঘ ) দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের উত্তাপ নিল
৪৮ ) “ একটা বিস্তীর্ণ উল্লাস পাবার জন্য ; ” — এই উল্লাস হয়েছিল হরিণের , কারণ –
( ক ) খুব সহজেই শীতল ঢেউ পেরােতে পেরেছিল বলে( খ ) খাবারের অফুরন্ত ভাণ্ডার পেয়েছিল বলে( গ ) অন্য সকল পশুদের বাঁচিয়েছিল বলে( ঘ ) মৃত্যুমুখ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিল বলে
৪৯ ) “ একটা বিস্তীর্ণ উল্লাস পাবার জন্য ; ” — উল্লাসকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ?
( ক ) বিকেলের পড়ন্ত রৌদ্রের সঙ্গে( খ ) ভােরের রৌদ্রের সঙ্গে( গ ) দুপুরের রৌদ্রের সঙ্গে( ঘ ) সন্ধ্যার অন্ধকারের সঙ্গে
৫০ ) ‘ এই নীল আকাশের নীচে ’ – নীল আকাশের নীচে হরিণটি কীসের মতো জেগে ওঠে ?
( ক ) তীক্ষ শীতল ঢেউয়ের মতাে( খ ) সােনার ফলার মতাে( গ ) সােনার বর্শার মতাে( ঘ ) চিতাবাঘের মতাে
৫১ ) ‘ এই নীল আকাশের নীচে সূর্যের সােনার বর্শার মতাে ’ হরিণটি জেগে ওঠে –
( ক ) হরিণীর পর হরিণীকে চমক লাগিয়ে দেওয়ার জন্য( খ ) হরিণীর পর হরিণীকে ভয় দেখানাের জন্য( গ ) হরিণীর পর হরিণীকে ভালােবাসার জন্য( ঘ ) হরিণীর পর হরিণীকে ঘৃণা করার জন্য
৫২ ) “ একটা অদ্ভুত শব্দ । ” — কীসের অদ্ভুত শব্দ ?
( ক ) ঢাকের( খ ) বােমার( গ ) ফাটা বাঁশের( ঘ ) গুলির
৫৩ ) অদ্ভুত শব্দ প্রকাশ করেছে –
( ক ) আনন্দ – উল্লাসের পরিচয়( খ ) হত্যালীলার ঘটনা( গ ) পারস্পরিক ইশারা( ঘ ) বনে পশুর চলাফেরার শব্দ
৫৪ ) “ নদীর জল মচকাফুলের পাপড়ির মতাে লাল । ” — লাল রংটি আসলে
( ক ) অস্তায়মান সূর্যের( খ ) আলতার ( গ ) রক্তের( ঘ ) জলের
৫৫ ) “নদীর জল … পাপড়ির মতাে লাল।”
( ক ) মচকাফুলের( খ ) গােলাপ ফুলের( গ ) জবা ফুলের( ঘ ) মােরগ ফুলের
৫৬ ) “ নদীর জল মচকাফুলের পাপড়ির মতাে লাল । ” — নদীর জলের রং লাল হয়েছে , কারণ –
( ক ) নদীতে লাল রং ছড়ানাে হয়েছে( খ ) দূর থেকে দেখলে ওই নদীর জল লাল মনে হয় ( গ ) হরিণের রক্ত জলের রং লাল হয়ে উঠেছে( ঘ ) বাঘের রক্তে জলের রং লাল হয়ে উঠেছে
৫৭) ‘ আগুন জ্বলল আবার — ‘ এবার আগুন জ্বলেছে –( ক ) শরীর উম ’ করার কারণে( খ ) অশান্তি ছড়ানাের কারণে( গ ) আলােকিত করার কারণে( ঘ ) হরিণের মাংস তৈরির কারণে
৫৮) ‘ আগুন জ্বলল আবার —’— কখন আবার আগুন জ্বলল ?
( ক ) হরিণ শিকারের পর( খ ) ভােরবেলায়( গ ) দুপুরে( ঘ ) চিতাবাঘিনি হত্যার পর
৫৯ ) ‘আগুন জ্বলল আবার — ‘ এর আগে আগুন জ্বলেছিল –( ক ) অন্ধকার নিরসনের কারণে( খ ) শরীর ‘ উম ’ রাখার কারণে( গ ) হরিণের মাংস তৈরির কারণে( ঘ ) চিতাবাঘিনিকে ধরবে সে কারণে
৬০ ) উষ্ন লাল রংটি ছিল—( ক ) ভােরের সূর্যের( খ ) অস্তগামী সূর্যের( গ ) হরিণের মাংসের( ঘ ) দেশােয়ালিদের জ্বালানাে আগুনের
৬১ ) নক্ষত্রের নীচে ঘাসের বিছানায় বসে অনেক পুরানাে শিশিরভেজা গল্প ; / সিগারেটের ধোঁয়া ; ” — এই ছবি পরিচয় দেয় –( ক ) আদিম সমাজের( খ ) গ্রামীণ সমাজের( গ ) প্রাচীন প্রস্তর যুগের সমাজের ( ঘ ) নাগরিক সমাজের
৬২ ) ‘নক্ষত্রের নীচে ঘাসের বিছানায় ’ — কী গল্প হত ?
( ক ) পুরােনাে শিশিরভেজা গল্প( খ ) পুরােনাে রৌদ্রভেজা গল্প( গ ) পুরােনাে বৃষ্টিভেজা গল্প( ঘ ) পুরােনাে রূপকথার গল্প
৬৩) শিকারিরা কোথায় বসেছিল ? ( ক ) বাঁশের মাচায়( খ ) ট্রেঞে( গ ) চেয়ারে( ঘ ) নক্ষত্রের নীচে ঘাসের বিছানায়
৬৪ ) “ টেরিকাটা কয়েকটা মানুষের মাথা ; ” — মানুষগুলি-( ক ) পুলিশ( খ ) ডাকাত( গ ) শিকারি( ঘ ) সৈন্য
৬৫ ) “ টেরিকাটা কয়েকটা মানুষের মাথা ; ” — এই ধরনের মাথার লােকেরা ----
( ক ) পরিবেশকে সুস্থ ও সুন্দর করে তােলার চেষ্টা করেছে( খ ) অহিংসার পথকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেছে( গ ) পশুহত্যা করে উল্লসিত হয়েছে( ঘ ) মানবেতর প্রাণীদের রক্ষার জন্য সদাসর্বদা চিন্তিত থেকেছে
৬৬) টেরিকাটা লােকগুলির মুখে –( ক ) বিড়ির ধোঁয়া
( খ ) চুরুটের ধোঁয়া( গ ) সিগারেটের ধোঁয়া( ঘ ) পাইপের ধোঁয়া
৬৭) “ এলােমেলাে কয়েকটা বন্দুক – হিম – নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম। ” এই ঘুম প্রমাণ করে-( ক ) ক্ষুন্নিবৃত্তির পরিপূর্ণ তৃপ্তি( খ ) ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত খাবার মজুত থাকার আনন্দ( গ ) কৃতকার্যের জন্য অনুতাপ বা অনুশােচনা না থাকা( ঘ ) সঙ্গে বন্দুক থাকায় নিরাপদ অনুভব
৬৮ ) ‘শিকার ’ কবিতার পংক্তিসংখ্যা হল –( ক ) ৩৭ টি( খ ) ৩৫ টি( গ ) ৩৯ টি( ঘ ) ৪১ টি
৬৯) ‘শিকার ’ কবিতায় কোন্ কোন্ গাছের কথা বলা হয়েছে ?
( ক ) মেহগনি , সুন্দরী , অর্জুন( খ ) সুন্দরী , অর্জুন( গ ) মেহগনি , অর্জুন( ঘ ) মেহগনি , সুন্দরী
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর:
১. ‘শিকার’ কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: শিকার কবিতাটি বাংলার কবি ‘জীবনানন্দ দাশ’ এর লেখা ।
২. ‘শিকার’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘শিকার’ কবিতাটি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
৩. ‘একটি তারা এখন ঘাসে রয়েছে’ – তারাটিকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: তারাটিকে কবি পাড়াগাঁর বাসরঘরে সবচেয়ে গোধূলিমদির মেয়েটির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৪. ‘তেমনি একটি তারা আকাশে জ্বলছে এখনও’ – তারাটিকে দেখে কবির কী কী মনে হয়েছে?
উত্তর: তারাটিকে দেখে কবির মনে হয়েছে পাড়াগাঁর বাসরঘরে সবচেয়ে গোধূলিমদির মেয়েটির মতো কিংবা হাজার হাজার বছর আগের মিশরীয় মানুষী যে তার বুকের থেকে কবির নীল মদের গ্লাসে মুক্ত রেখেছিল তার মতো।
৫. “নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম ” বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর: হরিণটা বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারানোর পর তার নিথর দেহটাকে বোঝানোর জন্য ‘ নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম ‘ উপমা ব্যবহৃত হয়েছে ।
৬. “এখনও আগুন জ্বলছে তাদের ; ” – কারা , কেন আগুন জ্বালিয়েছে ?
উত্তর: দেশোয়ালিরা শীতের রাতে শরীর উয় রাখার জন্য সারারাত মাঠে আগুন জ্বালিয়েছে ।
৭. “রোগা শালিকের হৃদয়ের বিবর্ণ ” ইচ্ছা বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর: দেশোয়ালিদের প্রজ্বলিত আগুন ভোরের আলোয় ক্রমশ বিবর্ণ হয়ে আসছে । মুমুর্মু ও অসুস্থ শালিক পাখির শীর্ণকায় চেহারা এবং তার নৈরাশ্যের মতোই বিবর্ণ ।
৮. ভোরের আকাশের তারার জন্য কবি কোন কোন উপমা ব্যবহার করেছেন ?
উত্তর: পল্লিগ্রামের লজ্জাশীলা বাসরঘরের ‘ গোধূলি – মদির ’ মেয়েটির কুণ্ঠার সঙ্গে নীল মদের গ্লাসে রাখা হাজার হাজার বছর আগে মিশর মানুষীর বুকের মুক্তার দ্যুতিহীনতার তুলনা করা হয়েছে ।
৯. “তেমনি একটি তারা আকাশে জ্বলছে এখনও । ” – একটি তারা আকাশে কীসের মতো জ্বলছে ?
উত্তর: হাজার হাজার বছর আগে এক রাতে মিশরের মানুষী তার বুকের থেকে যে মুক্তা কবির নীল মদের গ্লাসে রেখেছিল , ঠিক সেভাবে একটি তারা এখনো আকাশে জ্বলছে ।
১০. “মোরগফুলের মতো লাল আগুন” – এখানে কোন আগুনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নে প্রদত্ত অংশে “মোরগফুলের মতো লাল আগুন” বলে দেশোয়ালিরা হিমের রাতে মাঠে যে আগুন জ্বলেছিল, তার কথা বলা হয়েছে।
১১. ‘সবুজ সুগন্ধি ঘাস ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে’ – খাওয়ার কারণ কী বলে মনে হয়?
উত্তর: ‘শিকার’ কবিতায় বর্ণিত হরিণটি সারারাত চিতাবাঘিনির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ছুটে বেরিয়ে ভীষণ ক্লান্ত এবং ক্ষুদার্থ হয়ে পড়েছিল। সেই ক্লান্তি ও ক্ষুদা মেটানোর জন্য হরিণটি সবুজ ঘাস খাচ্ছিল।
১২. ‘সোনার বর্ষার মতো জেগে উঠে’ হরিণটি কী করতে চেয়েছিল?
উত্তর: সারারাত চিতাবাঘটির হাত থেকে আত্মরক্ষা করার চেষ্টায় সফল হয়ে হরিণটি বিজয়ীর উল্লাসে সোনার বর্ষার মতো জেগে উঠে সাহসে সাধে সৌন্দর্যে একের পর এক হরিণীকে চমক লাগিয়ে দিতে চেয়েছিল।
১৩. ‘শিকার’ কবিতায় কোন দুটি ফুলের উল্লেখ আমরা পাই?
উত্তর: ‘শিকার’ কবিতায় আমার যে দুটি ফুলের উল্লেখ পাই সেগুলি হল – ‘মোরগফুল’ ও ‘মচকাফুল’।
১৪. “সোনার বর্ষার মতো জেগে ওঠে ” – জেগে উঠে কে , কী করতে চেয়েছিল ?
উত্তর: ভোরের নতুন সূর্যের আলোয় হরিণীটা সোনার বর্ষার মতো জেগে ওঠে ‘ সাহসে সাধে সৌন্দর্যে ’ একের পর এক হরিণীকে চমক লাগিয়ে দিতে চেয়েছিল ।
১৫. হরিণের শরীরটা ‘ ঘুমহীন ক্লান্ত বিহ্বল ’ ছিল কেন ?
উত্তর: সারারাত চিতাবাঘিনীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে হরিণটা বন থেকে উত্তর বনাস্তরে ঘুরে বেড়িয়েছে । সারারাত পরিশ্রমের কারণে হরিণের শরীরটা ‘ ঘুমহীন ক্লান্ত বিহুল ‘।
১৬. ‘ সুন্দর বাদামী হরিণ ‘ চিতাবাঘিনীর হাত থেকে বাঁচতে কোন কোন বনে ঘুরেছিল ?
উত্তর: সারারাত চিতাবাঘিনীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে নক্ষত্রহীন , মেহগনির বনের মতো অন্ধকারে সুন্দরীর বন থেকে অর্জুনের বনে ঘুরে বেড়িয়েছিল হরিণটা ।
১৭. “একটা অদ্ভুত শব্দ’– শব্দকে ‘ অদ্ভুত ’ বলার কারণ কী ?
উত্তর: প্রাকৃতিক অরণ্য পরিবেশে বিসদৃশ বেমানান বন্দুকের গুলির শব্দকে এখানে ‘ অদ্ভুত ’ বলা হয়েছে । বনের মধ্যে বন্যেরাই যেখানে সুন্দর সেখানে বন্দুকের গুলির শব্দ নৃশংসতার পরিচয়বাহী বলেই তা অদ্ভুত ।
১৮. “আগুন জ্বলল আবার ” — কেমন আগুন , কখন জ্বলেছিল ?
উত্তর: হিমের রাতে শরীর ‘ উম ‘ রাখবার জন্য দেশোয়ালিরা সারা রাত আগুন জ্বালিয়েছিল । সে আগুন ছিল মোরগফুলের মতো লাল৷
১৯. “নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল ” — সে কেন নেমেছিল ?
উত্তর: সুন্দরী বাদামি হরিণ ঘুমহীন ক্লান্ত শরীরকে আবেশ দেওয়ার জন্য নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নেমেছিল ।
২০. ‘টেরিকাটা কয়েকটা মানুষের মাথা’ -এই মানুষ কারা?
উত্তর: ‘টেরিকাটা’ মানুষগুলো নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত ভোগী মানুষদের প্রতীক। তারা নির্বিচারে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠে।
২১. ‘নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে সে নামল’ -সে নদীতে কেন নামল?
উত্তর: চিতাবাঘিনির অতর্কিত আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য ক্রমাগত ছুটে বেড়ানোর হরিণটি তার ক্লান্ত বিহ্বল শরীরটাকে প্রাণবন্ত আবেশ দেওয়ার জন্য নদীতে নামল।
২২. ‘এখনও আগুন জ্বলছে তাদের’ -কাদের আগুন কেন জ্বলছে?
উত্তর: হিমের রাতে শরীর ‘উম’ রাখার জন্য দেশোয়ালিরা যে আগুন জ্বেলেছিল, তা এখনও জ্বলছে। শুকনো অশ্বথপাতাগুলি এখনও পুড়ে ছাই হয়নি তাই আগুন ”এখনও” জ্বলছে।
২৩. “এই ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল ! ” – কে , কেন ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল ?
উত্তর: সুন্দরী বাদামি হরিণ অরণ্য প্রকৃতিতে চিতাবাঘিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভোরের অপেক্ষায় ছিল ।
২৪. ‘শিকার’ কবিতায় প্রদত্ত দুটি গাছের নাম লেখ ?
উত্তর: শিকার কবিতায় প্রদত্ত দুটি গাছ হল পেয়ারা ও নোনার ।
২৫. ‘শিকার’ কবিতায় ভােরবেলার আকাশ ও গাছপালা দেখে কবির কেমন মনে হয়েছিল ?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা শিকার কবিতায় ভােরবেলার আকাশ ও গাছপালা দেখে কবির ভােরের আকাশকে ঘাসফড়িঙের দেহের মতাে কোমল নীল এবং গাছপালাকে টিয়ার পালকের মতাে সবুজ মনে হয়েছিল।
✍️ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
১.‘হিম- নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম’- কার ঘুমের কথা বলা হয়েছে? ‘নিস্পন্দ নিরপরাধ’ ঘুমের তাৎপর্য লেখ।
উত্তর- জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতায় ‘নিস্পন্দ নিরপরাধ ঘুম’ বলতে হরিণটির চিরনিদ্রার কথা বলা হয়েছে। শিকার ‘শিকার’ কবিতায় একটি হরিণের করুণ মৃত্যুর বিবরণ রয়েছে। কয়েকজন সৌখিন শিকারির লালসার শিকার হয়ে একটি নিরীহ হরিণকে প্রাণ হারাতে হয়। বন্দুকের গুলিতে তার প্রাণবন্ত দেহ নিথর হয়ে গিয়েছিল। যতক্ষণ দেহে প্রাণ থাকে ততক্ষণ হৃদয়ের স্পন্দন অনুভব করা যায়। আলোচ্য কবিতায় হরিণটি নিহত হয়েছিল। সেই জন্য তার ঘুমকে কবি নিস্পন্দ বলেছেন। একইসঙ্গে কবি হরিণের ঘুমকে ‘নিরপরাধ’ বলেছেন। বাস্তবিকপক্ষে এই হরিণটি কোনো অপরাধ করেনি। সারারাত ধরে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করে ভোরের আলোয় সে সমতলে নেমে এসেছিল। সূর্যালোকিত পৃথিবী তার কাছে নিরাপদ মনে হয়েছিল বলে সে নিশ্চিন্তে সবুজ ঘাস খেয়ে উদরপূর্তি করেছে। তারপর, অনিদ্রাজনিত ক্লান্তি দূর করার জন্য সে নদীর ঠান্ডা জলে নেমেছে এবং সর্বোপরি, নিজেকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনেছে। কিন্তু হরিণটি জানতো না যে মানুষের লালসা কোনো অংশে পশুর থেকে কম নয়। যখন সে মনের আনন্দে স্রোতের আবেগ অনুভব করছিল, তখন কয়েকজন টেরিকাটা মানুষ তাকে হত্যা করেছিল। এইজন্য কবি হরিণের ঘুমকে ‘নিরপরাধ’ বলেছেন।
২.‘শিকার’ কবিতায় যে দুটি ভোরের উল্লেখ রয়েছে সেগুলির বর্ণনা দাও।
উত্তর- জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতাটিতে কবি দুটি ভোরের বর্ণনা দিয়েছেন। নানা দৃশ্যপট রচনার মাধ্যমে কবি উক্ত দুই ভোরের ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন ।
প্রথম ভোর– কবিতায় বর্ণিত প্রথম ভোরটি একটি অকৃত্রিম প্রাকৃতিক ভোর। তখন আকাশের রং ঘাস ফড়িং-এর শরীরের মতো কোমল নীল। চারিদিকে পেয়ারা, নোনা প্রভৃতি গাছগাছালি। ভোরের আলো তখনও সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি। তাই একটি তারা তখনও আকাশে ছিল। কবির কল্পনায় এই তারাটি কোন এক গ্রাম্য বধূর মতো অথবা সেই মুক্তার মতো যা মিশরের এক মানবী কবির নীল মদের গ্লাসে রেখেছিল। দেশোয়ালিরা শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য আগুন জ্বেলেছিল- মোরগ ফুলের মতো লাল সেই আগুন সূর্য ওঠা পর্যন্ত জ্বেলেছিল। সব মিলিয়ে কবি এমন এক ভোরের চিত্ররূপ আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন যেখানে প্রকৃতি ময়ুরের ডানার মতো ঝলমল করছে।
দ্বিতীয় ভোর– মানুষের লালসা কীভাবে প্রকৃতিকে কালিমালিপ্ত করছে তার বর্ণনা রয়েছে এই দ্বিতীয় ভোরে। সারারাত অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম করে একটি হরিণ ভোরের আলোয় নেমে এসেছে। প্রকৃতির মুক্ত কোলে নিজেকে নিরাপদ মনে করেই হরিণটি কখনো ঘাস ছিড়ে খেয়েছে আবার কখনো নদীর ঠাণ্ডা জলে নিজেকে সঁপে দিয়েছে। হঠাৎ একটি অদ্ভুত শব্দ সেই হরিণটিকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করে। কয়েকটি টেরিকাটা মানুষ নির্বিকারে সেই মাংস খায় ।
এইভাবে জীবনানন্দীয় বর্ণনায় দুটি পৃথক ভোরের ছবি আমাদের সামনে ফুটে উঠেছে ।
৩.“এসেছে সে ভোরের আলোয় নেমে”- কে, কীভাবে ভোরের আলোয় নেমে এসেছিল? ‘ভোরের আলোয়’ তার কী পরিণতি হয়েছিল নিজের ভাষায় লেখ। ২+৩
অথবা, “এই ভোরের জন্য অপেক্ষা করছিল।” কে অপেক্ষা করছিল? তার পরিণতি কী হয়েছিল? ১+৪
উত্তর- কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শিকার’ কবিতার দ্বিতীয় ভোরে একটি হরিণের উল্লেখ রয়েছে। আলোচ্য অংশে ‘সে’ বলতে সেই সুন্দর বাদামি হরিণের কথা বলা হয়েছে।
কথায় আছে, নিজের মাংসের জন্য হরিণ জগতের শত্রু। আবার, হরিণের মাংস সকলের প্রিয় হলেও হরিণ নিজে তৃণভোজী এবং নিরীহ একটি প্রাণী। সেইজন্য তাকে সদাসর্বদাই অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এই কবিতার হরিণটিও সারারাত চিতাবাঘিনীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে সুন্দরীর বন থেকে অর্জুনের বনে ঘুরে বেড়িয়েছিল। ভোরের আলো ফুটে উঠতেই সে প্রকাশ্যে এসেছিল।
ভোরের আলোয় নেমে সে প্রথমে ‘কচি বাতাবি লেবুর মতো সবুজ সুগন্ধি ঘাস’ খেতে শুরু করে। তারপর, রাতের ক্লান্তি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে হরিণটি নদীর তীক্ষ্ণ শীতল ঢেউয়ে নেমে পড়ে। এখন আর প্রাণনাশের ভয় নেই, তাই ‘সাহসে, সাধে, সৌন্দর্যে’ হরিণীর দলকে চমকে দেওয়ার জন্য সে উতলা হয়ে পড়ে। সে স্বপ্নের জাল বুনছিলো এমন সময় একটা বন্দুকের শব্দে নদীর জল রক্তাক্ত হয়ে যায়। একদল ‘টেরিকাটা’ শিকারীর অব্যর্থ লক্ষ্যভেদের ফলে জলজ্যান্ত হরিণটি মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়।
আপনা মাংসে হরিণ জগতের বৈরী! বনের পশু থেকে শুরু করে শহুরে মানুষ- সকলের লোলুপ দৃষ্টি হরিণ মাংসের দিকে। ভোরের আলোয় নেমে এসে সুন্দর বাদামি হরিণটি মানুষের লালসার শিকার হয়েছিল।
......................

