📚উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিজ্ঞান: অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর: অধ্যায়-১ – শিখন(MCQ+SAQ+DAQ)📚
✍️সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
1. “শিখন হল অতীত-অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আচরণধারা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া”—এই বক্তব্যটি কার?
A. গার্ডেনার মারফি ও অন্যান্যদেরB. গেটস ও অন্যান্যদেরC. বাসকিস্ট ও জারবিং-এরD. কিংসলে ও গ্যারির
2. “শিখন হল অভ্যাস, মনােভাব গঠন ও জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া”—এই মতটি কে প্রকাশ করেছেন?
A. ক্রো এবং ক্রোB. কিংসলে ও গ্যারিC. ম্যাকগিয়ক ও ইরাভেনD. ট্রেভার্স
3. “শিখন হল সেইসব ক্রিয়া যা নানা ধরনের আচরণ ও অভিজ্ঞতা সঞয়ের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির উন্নতিতে সহায়তা করে”—কে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন?
A. ট্রেভার্সB. ম্যাকগিয়ক ও ইরােভেন।C. উডওয়ার্থD. এইচ. পি. স্মিথ
4.“শিখন হল অভিজ্ঞতা, অনুশীলন এবং কর্ম প্রক্রিয়ার শর্তাবলির মধ্য দিয়ে আচরণগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া”—কে এই সংজ্ঞাটি নিরূপণ করেছেন?
A. ট্রেভার্সB. উডওয়ার্থC. ম্যাকগিয়ক এবং ইরােভেনD. কিংসলে ও গ্যারি
5. “শিখন হল আচরণ পরিবর্তনের সহায়ক একটি প্রক্রিয়া”—কে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন?
A. ক্ৰাইডার।B. ট্রেভার্সC. উডওয়ার্থD. এইচ. পি. স্মিথ
6. “পরিবেশের প্রয়ােজন মেটানাের তাগিদে আমাদের মধ্যে যেসব আচরণগত পরিবর্তন ঘটে, তাই হল শিখন”—কে এই মতটি প্রকাশ করেছেন?
A. গেটস্B.ক্লাইডার।C. ট্রেভার্সD. গার্ডেনার মারফি
7.“শিখন হল অভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি হিসেবে নতুন আচরণ আয়ত্ত করার অথবা পুরােনাে আচরণকে শক্তিশালী বা দুর্বল করার প্রক্রিয়া”—কে এই মতামতটি ব্যক্ত করেছেন?
A. কিংসলে ও গ্যারি ,B. এইচ. পি. স্মিথ।C. ট্রেভার্সD. উডওয়ার্থ।
8.“শিখন হল সেই প্রক্রিয়া যার দ্বারা আচরণ সৃষ্টি হয় এবং চর্চা বা প্রশিক্ষণের দ্বারা পরিবর্তিত হয়”—কে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন?
A. কিংসলে ও গ্যারিB. এইচ. পি. স্মিথ।C. ট্রেভার্সD. উডওয়ার্থ
9. “শিখন আচরণের একটি অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন যা অভিজ্ঞতা দ্বারা ঘটে থাকে”—কে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন?
A. রবার্ট এস. ফেল্ডম্যানB. রবার্ট এ. বেরনC. ওয়ানি ওয়াইটেনD. ক্রাইডার।
10. শিখনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয় ?
A. শিখন একটি স্বয়ংনির্ভর প্রক্রিয়াB. শিখনের ফলে মানসিক পরিবর্তন ঘটে।C. শিখন হল নতুন আচরণ আয়ত্ত করার প্রক্রিয়াD. শিখনের মূলভিত্তি হল অতীত অভিজ্ঞতা
11. শিখনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন্ বক্তব্যটি ভুল?
A. শিখন অনুশীলনের ওপর নির্ভর করেB. শিখনের জন্য আত্মসক্রিয়তা প্রয়ােজনC. শিখন শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধD. শিখন হল নতুন আচরণ আয়ত্ত করার প্রক্রিয়া
12. শিখনের প্রথম স্তর কোনটি?
A. গ্রহণB. ধারণ বা সংরক্ষণC. পুনরুদ্রেকD. প্রত্যভিজ্ঞা
13. শির্থনের দ্বিতীয় স্তরটি হল-
A. গ্রহণB. ধারণ বা সংরক্ষণC. প্রত্যভিজ্ঞাD. পুনরুদ্রেক
14. শিখনের তৃতীয় স্তর কোনটি ?
A. গ্রহণB. ধারণ বা সংরক্ষণC. পুনরুদ্রেকD. প্রত্যভিজ্ঞা
15. ‘প্রত্যভিজ্ঞা কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?
A. দেখাB. শােনাC. মনে করাD. চিনে নেওয়া
16. ‘পুনরুদ্রেক’ কথাটির অর্থ কী?
A. দেখাB. শােনা।C. মনে করাD. চিনে নেওয়া ।
17. প্রত্যভিজ্ঞা কোন্ দুটি স্তরের ওপর নির্ভরশীল?
A. অভিভাবন ও অনুষঙ্গB.শিখন ও পরিণমনC. শিখন ও সংরক্ষণD.পুষ্টি ও অনুশীলন
18. পুনরুদ্রেক-এর মুখ্য কারণ কী?
A. অভিভাবন ও অনুষঙ্গB. শিখন ও পরিণমনC. শিখন ও সংরক্ষণD. শিখন ও শিক্ষণ
19. পূর্বে অর্জিত অভিজ্ঞতা যখন তার প্রতিরূপের সাহায্যে পুনরুত্থাপিত হয়, তখন তাকে কী বলে?
A. প্রত্যভিজ্ঞাB. পুনঃপরিজ্ঞানC. পুনরুদ্রেকD.সংরক্ষণ
20. যে মানসিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে মানুষ পূর্ব-অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে রাখে, তাকে কী বলে?
A. প্রত্যভিজ্ঞাB.পুনরুদ্রেক।C. সংরক্ষণD. পুনঃপরিজ্ঞান
21. শিখন, বুদ্ধি, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতি জ্ঞানমূলক প্রক্রিয়াগুলি প্রকৃতপক্ষে
A. দৈহিক বৈশিষ্ট্যB. মানসিক বৈশিষ্ট্যC. প্রাক্ষোভিক বৈশিষ্ট্যD. সামাজিক বৈশিষ্ট্য
22. যে দুটি প্রক্রিয়া. শিখনের ক্ষেত্রে পুনরুদ্দীপনের কারণ হিসেবে কাজ করে, সেগুলি কী কী?
A. সংরক্ষণ ও পুনরুদ্রেকB. পুরস্কার ও শাস্তিC. পুষ্টি ও অনুশীলনD. খেলা ও কাজ
23. যে প্রক্রিয়ার সাহায্যে শিশুরা নতুন নতুন আচরণ করে, তাকে কী বলে—
A. পূরিণমনB. সংরক্ষণC. অভিভাবনD. শিখন
24. দেহমনের পরিপক্কতা বলতে শিখনের কোন উপাদানটিকে বােঝানাে হয় ?
A. মনােযােগB.আগ্রহC. পরিণমনD. বুদ্ধি
25. শিখনলব্ধ অভিজ্ঞতাকে চিনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে কী বলা হয় ?
A. সংরক্ষণ।B. পুনরুদ্রেকC. প্রত্যভিজ্ঞাD. সামর্থ্য
26.নীচের কোনটি মনােযােগর একটি বস্তুগত নির্ধারক?
A. পুরস্কারB. তিরস্কারC. অভিনবত্বD. উৎসাহ
27. স্পিয়ারম্যান মানসিক ক্ষমতা সম্পর্কে কোন্ তত্ত্ব প্রকাশ করেন?
A. এক উপাদান তত্ত্বB. দ্বি-উপাদান তত্ত্বC. ত্রি-উপাদান তত্ত্বD. বহু উপাদান তত্ত্ব
28. মনােবিদ রস মনােযােগকে কতগুলি ভাগে ভাগ করেছেন?
A. দুইB. তিনC. চারD.পাঁচ
29 নীচের কোটি মনােযােগের একটি ব্যক্তিগত নির্ধারক?
A. পুরস্কারB. তিরস্কারC. অভিনবত্বD. আগ্রহ
30.নীচের কোনটি বিশেষ মানসিক ক্ষমতার একটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য?
A. পরনির্ভরশীলতাB. বুদ্ধিC. গুণগত পার্থক্যD. স্মৃতি
31. সামর্থ্য বলতে নীচের কোনটিকে বােঝায় না?
A. বুদ্ধিB. শিখনC. কর্মD. স্মৃতি
32. মনােযােগকে বিশ্লেষণমূলক এবং সংশ্লেষণমূলক—এই দুই ভাগে কে ভাগ করেছেন?
A. মনােবিদ রসB. মনােবিদ অ্যাঙ্গেলC. মনােবিদ ওয়াটসনD.মনােবিদ ফ্রয়েড
33. তীব্রতা, আয়তন, স্থায়িত্ব, স্বাতন্ত্র্য প্রভৃতি হল মনােযােগের—
A. বিষয়গত নির্ধারকB. বস্তুগত নির্ধারকC. দেহগত নির্ধারক ‘D. মনােগত নির্ধারক
34. “আগ্রহ একধরনের গতিশীল মানসিক প্রবণতা”—এই মতের প্রবক্তা কে?
A. ম্যাকডুগালB. স্টাউটC. বিংহামD.ড্রেভার
35 “বিশেষ বিশেষ সামর্থ্য অর্জন করার ক্ষমতাই বুদ্ধি”—এই মতটি সর্বপ্রথম কে প্রকাশ করেন?
A. মনােবিদ রসB. মনােবিদ রুশাে ‘C. মনােবিদ উড্রোD. মনােবিদ ওয়াটসন
36. মনোেযােগের নিম্নলিখিত নির্ধারকগুলির মধ্যে কোটি ব্যক্তিগত নির্ধারক?
A. সেন্টিমেন্টB. গতিশীলতাC. স্পষ্টতাD. আকস্মিকতা।
37. সহগতির সহগাঙ্ককে কোন্ ইংরেজি অক্ষরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়?
A. bB. sC. rD. p
38. থাস্টোনের মতে প্রাথমিক উপাদান কয়টি?
A. 5টিB. 7টিC. ৩টিD. 1টি
39. বুদ্ধির গঠন সংক্রান্ত তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
A. ভার্নন। |B. গিলফোর্ডC. থর্নডাইকD. স্পিয়ারম্যান
40. সাধারণ উপাদান একটি__
A. একক ক্ষমতাB. সর্বজনীন ক্ষমতাC. দলগত ক্ষমতাD. দৈহিক ক্ষমতা
41. বিশেষ উপাদানের সংখ্যা কত?
A. একটিB.দুটিC. তিনটিD. অনেক
42. মানসিক ক্ষমতার দলগত উপাদান তত্ত্বের প্রবক্তা—
A. স্পিয়ারম্যানB. গিলফোর্ডC. থাস্টোনD. থর্নডাইক।
43. দ্বি-উপাদান তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
A. ভক্সলারB. স্পিয়ারম্যান।C. থাস্টোনD. থর্নড্রাইক
44. থাস্টোনের প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতার তত্ত্বে সংখ্যাগত সমস্যাসমাধানের ক্ষমতাকে কী দ্বারা সূচিত করা হয়?
A. K দ্বারাB. P দ্বারাC. M দ্বারাD. N দ্বারা
45. থাস্টোনের প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতার তত্ত্বে স্থানগত সম্বন্ধ নিরূপণের সামর্থ্যকে কী দ্বারা সূচিত করা হয়?
A. M দ্বারাB. N দ্বারাC. V দ্বারাD. S দ্বারা
46 থাস্টোনের প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতার তত্ত্বে ভাষামূলক ধারণাগুলি বোেঝার এবং প্রয়ােগ করার ক্ষমতাকে কী দ্বারা সূচিত করা হয়?
A. M দ্বারাB. N দ্বারাC. V দ্বারাD.T দ্বারা
47. থাস্টোনের প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতার তত্ত্বে বাটুত্ব উপাদানকে কী দ্বারা সূচিত করা হয়?
A. M দ্বারাB. N দ্বারাC. v দ্বারাD. Wদ্বারা
48. থাস্টোনের প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতার তত্ত্বে যুক্তি অর্থাৎ কার্যকারণ সম্পর্ক বােঝার এবং প্রয়ােগ করার ক্ষমতাকে কী দ্বারা সূচিত করা হয়?
A. M, দ্বারাB. N দ্বারাC. Rদ্বারা.D. s দ্বারা
49.পরিণমন হলো –
(A) স্বাভাবিক প্রক্রিয়া /(B) আদেশ নির্ভর প্রক্রিয়া / (C) গুণগত প্রক্রিয়া / (D) শর্ত নির্ভর প্রক্রিয়া ।
Ans: (A) স্বাভাবিক প্রক্রিয়া /
50.শিখন কী ধরনের প্রক্রিয়া ?
(A) কৃত্রিম / (B) স্বাভাবিক / (C) সহজাত / (D) স্বতঃপ্রণোদিত ।
Ans: (A) কৃত্রিম /
51.ম্যাকডুগাল মনে করেন …….. হলো সুপ্ত মনোযোগ— (A) তাড়না / (B) আগ্রহ / (C) প্রেষণা / (D) শিখন ।
Ans: (B) আগ্রহ /
52.শিখনের প্রথম স্তর-
(A) গ্রহণ / (B) ধারণ বা সংরক্ষণ / (C) পুনরুদ্রেক / (D) অনুশীলন ।
Ans: (B) ধারণ বা সংরক্ষণ /
53.‘প্রত্যভিজ্ঞা’-কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী ?
(A) দেখা / (B) শোনা /(C) মনে করা /(D) চিনে নেওয়া।
Ans: (D) চিনে নেওয়া ।
54.যে মানসিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে মানুষ পূর্ব অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে রাখে , সেটি হলো-
(A) গ্রহণ / (B) পুনরুদ্রেক / (C) সংরক্ষণ / (D) পুনঃপরিজ্ঞান ।
Ans: (C) সংরক্ষণ /
55.পরিবর্তিত পরিবেশের উপযোগী নতুন আচরণ আয়ত্ত করাকে বলে–
(A) ক্ষমতা / (B) শিখন / (C) পরিণমন / (D) সংরক্ষণ ।
Ans: (B) শিখন /
56.প্রেষণার উদ্ভব হয়— (A) মনোযোগ থেকে / (B) দুঃখ থেকে / (C) অভাববোধ থেকে / (D) শৃঙ্খলাবোধ থেকে ।
Ans: (C) অভাববোধ থেকে /
57.শিখনের দ্বিতীয় স্তর – (A) গ্রহণ / (B) ধারণ / (C) পুনরুদ্রেক / (D) প্রত্যভিজ্ঞা ।
Ans: (C) পুনরুদ্রেক /
58.যে প্রক্রিয়ায় শিশুরা নতুন নতুন আচরণ করে , তাকে বলে– (A) পরিণমন / (B) সঞ্চালন / (C) শিখন / (D) অভিভাবন ।
Ans: (C) শিখন /
59.সহগতির সহগাঙ্ককে যে ইংরেজি অক্ষরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় – (A) b / (B) s / (C) r / (D) q /
Ans: (C) r /
60.দ্বি – উপাদান তত্ত্বের প্রবক্তা – (A) ফ্রয়েড / (B) স্পিয়ারম্যান / (C) থার্স্টোন / (D) থর্নডাইক ।
Ans: (B) স্পিয়ারম্যান /
61.‘ পুনরুদ্রেক ‘ কথাটির অর্থ – (A) দেখা / (B) শোনা / (C) মনে করা / (D) চিনে নেওয়া ।
Ans: (C) মনে করা /
62.অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন অভিজ্ঞতার অনুশীলনকে বলে– (A) পরিণমন / (B) শিখন / (C) মনোযোগ / (D) প্রেষণা ।
Ans: (B) শিখন /
63.শিখন , স্মৃতি , প্রত্যক্ষণ এগুলি আসলে কী ?
(A) দৈহিক প্ৰক্ৰিয়া / (B) মানসিক প্রক্রিয়া /(C) দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া / (D) প্রাক্ষোভিক প্রক্রিয়া ।
Ans: (B) মানসিক প্রক্রিয়া /
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
1) শিখন কাকে বলে?
» অনুশীলনের ফলে আচরণের সৃষ্টি বা পরিবর্তনকে শিখন বলে।
2) শিখনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।
» শিখনের দুটি বৈশিষ্ট্য— {1} শিখন আচরণে পরিবর্তন ঘটায়।{2}শিখন অনুশীলনসাপেক্ষ।
3) গেটস্ ও অন্যদের মতে শিখন কী?
» গেটস্ ও অন্যদের মতে, শিখন হল অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আচরণধারা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।
4) গার্ডেনার মারফি শিখনের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?
» গার্ডেনার মারফির মত অনুযায়ী, পরিবেশের প্রয়ােজন মেটানাের তাগিদে আমাদের মধ্যে যেসব আচরণগত পরিবর্তন ঘটে তাই হল শিখন।
5) এইচ. পি. স্মিথ শিখন সম্পর্কে কী বলেছেন?
» এইচ. পি. স্মিথের মত অনুযায়ী, শিখন হল অভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি হিসেবে নতুন আচরণ আয়ত্ত করার, অথবা পুরােনাে আচরণকে শক্তিশালী বা দুর্বল করে তােলার প্রক্রিয়া।
6) কিংসলে ও গ্যারির মতে শিখন কী?
» কিংসলে ও গ্যারির মত অনুযায়ী, শিখন হল সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আচরণ সৃষ্টি হয় এবং চর্চা বা প্রশিক্ষণের দ্বারা পরিবর্তিত হয়।
7) ক্রো এবং ক্রো-এর মতে শিখন কী?
» ক্রো এবং ক্রো-এর মত অনুযায়ী, শিখন হল অভ্যাস, মনােভাব গঠন ও জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া।
৪) ম্যাকগিয়ক ও ইরােভেন শিখনের যে সংজ্ঞাটি দিয়েছেন, তা উল্লেখ করাে।
» ম্যাকগিয়ক ও ইরােভেন-এর মত অনুযায়ী, শিখন হল অভিজ্ঞতা, অনুশীলন এবং কর্মপ্রক্রিয়ার শর্তাবলির মধ্য দিয়ে আচরণগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া।
9) ট্রেভার্স শিখনের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা লেখাে।
» ট্রেভার্স-এর মত অনুযায়ী, শিখন হল আচরণ পরিবর্তনে সহায়ক একটি প্রক্রিয়া।
10) “শিখন হল স্থায়ী পরিবর্তন।”—এইরূপ বলার কারণ কী?
» শিখনের ফলে আচরণে যে পরিবর্তন ঘটে, সেই পরিবর্তন স্থায়ী। অন্যান্য কারণের, (যেমন—ক্লান্তি, ড্রাগ-সেবন। ইত্যাদির) ফলে আচরণের পরিবর্তনের সঙ্গে শিখনের মাধ্যমে আচরণের পরিবর্তনের এখানেই তফাত।।
11) উডওয়ার্থ শিখনের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?
» শিখনের সংজ্ঞায় উডওয়ার্থ বলেছেন যে, শিখন হল সেইসব ক্রিয়া যা নানান ধরনের আচরণ ও অভিজ্ঞতা সঞ্য়ের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
12) “শিখন হল আচরণের পরিবর্তন।” উক্তিটি ব্যাখ্যা করাে।
» শিখনের মাধ্যমে আচরণের পরিবর্তন ঘটে। প্রয়ােজনমতাে অতীত আচরণকে পরিবর্তন করে নতুন আচরণ আয়ত্ত করা
বা আচরণের উন্নতি ঘটানাে শিখনের ফলেই সম্ভব হয়। তাই অনেকে শিখনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আলােচ্য উক্তিটি করেন।
13) শিখনকে ব্যক্তিনির্ভর ও সমাজনির্ভর প্রক্রিয়া বলে কেন?
» শিখনে ব্যক্তির প্রচেষ্টার প্রয়ােজন হয় তাই এটি ব্যক্তিনির্ভর। অন্যদিকে, ব্যক্তি সমাজবদ্ধজীব, তার প্রচেষ্টাও সমাজের মধ্যেই ঘটে এবং সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই শিখন সমাজনির্ভরও বটে।
14)“শিখন হল বিকাশ।”—এইরূপ বলার কারণ কী?
» জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সমগ্র জীবনে শিখন প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যার ফলে মানুষের বিভিন্ন দিকের বিকাশ সম্ভব হয়। তাই বলা হয়, “শিখন হল বিকাশ।”
15) শিখনের সঙ্গে বুদ্ধির সম্পর্ক কী?
» বুদ্ধি শিখনকে সহজ ও সফল করে তােলে। অর্থাৎ, বুদ্ধির সঙ্গে শিখনের ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা যায়।
16) শিখন সম্পর্কে মূল ধারণাগুলির যে কোনাে দুটি লেখাে।
» শিখন সম্পর্কে মূল ধারণাগুলির মধ্যে দুটি হল—{1}শিখন হল আচরণের পরিবর্তন এবং {2} শিখন হল আচরণের জন্য অনুশীলন।
17) সংরক্ষণ বা ধারণ কী?
» সংরক্ষণ বা ধারণ হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে পরিবর্তিত হয়।
18) বৃদ্ধি কী?
» জীবদেহের আকৃতি ও আয়তনের যে স্থায়ী পরিবর্তন হয়, তাকে বৃদ্ধি বলে। বৃদ্ধি হল একপ্রকার পরিমাণগত পরিবর্তন।
19) বিকাশ কী?
» বিকাশ হল সামগ্রিক গুণগত পরিবর্তনের ক্রম-উন্নয়নশীল প্রক্রিয়া।
20) শিখনের পর্যায়গুলি কী? অথবা, শিখনের বিভিন্ন স্তরগুলি উল্লেখ করাে অথবা, শিখনের বিভিন্ন স্তরগুলি কী?
» শিখন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়গুলি হল— {1} জ্ঞানার্জন, {2} সংরক্ষণ বা ধারণ, {3} পুনরুদ্রেক বা মনে করা এবং {4}প্রত্যভিজ্ঞা বা চেনা।
21) মনে করা এবং ‘চেনার মধ্যে পার্থক্য লেখাে?
» মনে করা’ ও ‘চেনার মধ্যে পার্থক্য—
22) শিখন ও পরিণমনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখাে।
» শিখন ও পরিণমনের মধ্যে পার্থক্য—
23) শিখনের কার্যকরী বিষয়গুলির যে-কোনাে দুটি লেখাে।
» শিখনের কার্যকরী বিষয়গুলি হল—
{1}উপযুক্ত পরিবেশ, {2} উপযুক্ত পদ্ধতি।
24) শিখনের কয়েকটি শ্রেণিবিভাগের উল্লেখ করাে।
» শিখনকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যেমন— সংবেদনমূলক শিখন, প্রত্যক্ষণমূলক শিখন, ধারণা শিখন, সমস্যা সমাধানমূলক শিখন, জ্ঞানমূলক শিখন, দক্ষতামূলক শিখন ইত্যাদি।
25} স্মৃতি কাকে বলে?
» অতীত বিষয়বস্তুকে মনে রাখা এবং প্রয়ােজনমতাে তাকে হুবহু স্মরণ করাই হল স্মৃতি, যা একটি মানসিক ক্রিয়া।
26) দুটি অভিজ্ঞতার মধ্যে কয়প্রকার সংযােগের মধ্য দিয়ে অনুষঙ্গ স্থাপিত হয়?
» যদি দুটি অভিজ্ঞতার মধ্যে অবস্থানগত ও সময়গত নৈকট্য, সাদৃশ্য এবং বৈপরীত্য থাকে, তবে তাদের মধ্যে তিন প্রকার সংযােগের মাধ্যমে অনুষঙ্গ স্থাপিত হয়।
27) পরিণমন এবং শিখনের মধ্যে দুটি সাদৃশ্য লেখাে।
» পরিণমন এবং শিখনের মধ্যে যে সাদৃশ্যগুলি লক্ষ করা যায়, সেগুলি হল—{1} শিখন ও পরিণমন উভয়ই ব্যক্তিনির্ভর। প্রক্রিয়া। {2} উভয়ই ব্যক্তিজীবনের বিকাশে সহায়তা করে।
28) পরিণমন কাকে বলে?
» পরিণমন হল এমন এক জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জন্মগত সম্ভাবনাগুলির স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির আচরণের গুণগত এবং পরিমাণগত উভয় ধরনেরই পরিবর্তন হয়।
29) মনােবিদ কোলেসনিকের মতে পরিণমন কী?
» মনােবিদ কোলেনিকের মত অনুযায়ী, জন্মগত প্রবণতাগুলি স্বাভাবিকভাবে প্রস্ফুটিত হওয়ার ফলে শিশুর আচরণের গুণগত এবং পরিমাণগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই হল পরিণমন।
30) সংরক্ষণক্রিয়া বা ধারণক্রিয়া কাকে বলে?
» যে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ব্যক্তির মধ্যে। সংরক্ষিত হয়, মনােবিজ্ঞানের ভাষায় তাকেই সংরক্ষণক্রিয়া বা ধারণক্রিয়া বলে।
31) ধারণ বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় এমন দুটি বিষয় উল্লেখ করাে।
» ধারণ বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেগুলি হল— {1} যে-কোনাে বিষয়কে ভালােভাবে বুঝে নেওয়া এবং বিষয়টিকে মাঝে মাঝে অনুশীলন করা। {2} বিষয়টি জীবনে যত বেশি অর্থবহ হবে, তাতে বেশি স্মৃতিতে থাকবে।
32) ধারণ বা সংরক্ষণের দুটি শর্ত লেখাে।
» ধারণ বা সংরক্ষণের দুটি শর্ত হল— {1}যে-কোনাে বিষয় ভালােভাবে বুঝে নেওয়া এবং বিষয়টিকে মাঝে মাঝে অনুশীলন করা। {2} অতিশিখন।
33) প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক কাকে বলে?
» যখন কোনাে অভিজ্ঞতাকে মনে করার সময় কেবল তার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত অভিজ্ঞতাটির সাহায্য গ্রহণ করা হয়, তখন তাকে প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক বলা হয়।
34) প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেকের একটি উদাহরণ দাও।
» যদু ও মধু দুই বন্ধু। যদুর কথা বললে যদি মধুর কথা মনে পড়ে তবে তা হল প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক।
35) পরােক্ষ পুনরুদ্রেক কাকে বলে?
» যখন কোনাে অভিজ্ঞতাকে মনে করার জন্য তার সঙ্গে পরােক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত অভিজ্ঞতার সাহায্য নেওয়া হয়, তখন তাকে বলে পরােক্ষ পুনরুদ্রেক।
36) পরােক্ষ পুনরুদ্রেকের একটি উদাহরণ দাও।
» যদু ও মধু দুই বন্ধু। মধুর ভাই বিধু। এক্ষেত্রে যদি যদুর নাম মনে করার সময় মধুর ভাই বিধুর নাম মনে পড়ে, তাহলে বলা হয় সেটি পরােক্ষ পুনরুদ্রেক।।
37) পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে সান্নিধ্যের সূত্রটি কী?
» যে সূত্রের কারণে পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে একটি ঘটনা। আর-একটি ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়, তাকে সান্নিধ্যের সূত্র বলা হয়।
38) পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের সূত্রটি কী?
» পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বিশেষ ভূমিকা নেয়। দুটি বিষয়ের মধ্যে মিল থাকলে, একটি মনে করলে অপরটিও মনে পড়ে। একেই সাদৃশ্যের সূত্র হিসেবে ধরা হয়। যেমন—আমকঁঠাল।
39) পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্যের সূত্রটি কী?
» বৈসাদৃশ্যও পুনরুদ্রেকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুটি বিষয়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্য থাকলে একটি মনে ” করলে অপরটিও মনে পড়ে যায়। একেই বৈসাদৃশ্যের সূত্র হিসেবে ধরা হয়। যেমন—শম্ভু মিত্র।
40) পুনরুদ্রেকের দুটি শর্ত লেখাে।
» পুনরুদ্রেকের দুটি শর্ত হল— {1} যদি দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটে, তবে সময়গত নৈকট্যের জন্য সেগুলি আমাদের মধ্যে পুনরুদ্রেক ঘটায়। {2} যদি কয়েকটি ঘটনাপর্যায়ক্রমে ঘটে, তবে পুনরাবৃত্তির জন্য সেগুলিও আমাদের মধ্যে পুনরুদ্রেক ঘটায়।
41) প্রত্যভিজ্ঞা কাকে বলে?
» পূর্বাৰ্জিত অভিজ্ঞতা যখন তার প্রতিরূপের সাহায্যে পুনরুত্থাপিত হয়, তখন তাকে প্রত্যভিজ্ঞা বলে।
42) স্কিনারের মতে পরিণমন কী?
» পরিণমন হল এমন একপ্রকার বিকাশ যা পারিপার্শ্বিক অবস্থার পার্থক্য থাকলেও সংঘটিত হয়।
43) থম্পসনের মতে পরিণমন কী?
» থম্পসনের মত অনুযায়ী, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু একজন পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে এবং যে প্রক্রিয়াটি বাহ্যিক প্রভাব বা উপাদান ছাড়াই শারীরিক পরিবর্তন ঘটায়,তাই হল পরিণমন।
44)পরিণমনের সর্বাধুনিক সংজ্ঞাটি লেখাে।
» পরিণমনের সর্বাধুনিক সংজ্ঞাটি হল—শিখন নিরপেক্ষ, অনুশীলনহীন যে প্রক্রিয়া ব্যক্তির মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংঘটিত হয়ে ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, সেইপ্রক্রিয়াকে পরিণমন বলে।
45) পরিণমনের একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।
» পরিণমনের একটি বৈশিষ্ট্য হল— পরিণমন জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া নয়। পরিণমন জীবনের একটি বিশেষ পর্যায়ে শুরু হয় এবং একটি বিশেষ পর্যায়ে শেষ হয়।
46) অনুরাগ বা আগ্রহ কাকে বলে?
» অনুরাগ বা আগ্রহ হল বাস্তব বা কাল্পনিক কোনাে বস্তু বা অবস্থার প্রতি আনন্দের অনুভূতি যা ব্যক্তিকে কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে।
47) অনুরাগ বা আগ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখাে।
» অনুরাগ বা আগ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য হল— {1} অনুরাগ বা আগ্রহ চাহিদানির্ভর, অনুরাগ সৃষ্টির মূল কারণ হল চাহিদা বা অভাববোেধ। {2} আগ্রহ একটি মানসিক অবস্থা।
48) বিংহাম-এর মতে আগ্রহ কী?
» বিংহাম-এর মত অনুসারে, আগ্রহ হচ্ছে একপ্রকার অবস্থা যা ব্যক্তিকে কাজে মন দিতে এবং সেই কাজ চালিয়ে যেতে প্রেরণা জোগায়।
49) মনােবিদ ক্রো এবং ক্রো-এর মতে অনুরাগ কী?
» মনােবিদ ক্রো এবং ক্রো-এর মতে, অনুরাগ হল কোনাে বিশেষ বস্তু, ব্যক্তি বা কাজের প্রতি মানসিক আকর্ষণ।
50) ‘হারবার্ট-এর মতে অনুরাগ কী?
» হারবার্ট-এর মতে, অনুরাগ হল নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিশুর মানসিক প্রস্তুতি।
51) মনােবিদ লাভ-এর মতে অনুরাগ কী?
» মনােবিদ লাভ-এর মতে, বিশেষ কোনাে কাজের প্রতি ব্যক্তির যে প্রবণতা, তাই হল অনুরাগ।
52) জন ডিউই-এর মতে অনুরাগ কী?
» জন ডিউই-এর মত অনুযায়ী, অনুরাগ হল শিশুর বিকাশের অভিমুখে তার ব্যক্তিসত্তার স্বতঃস্ফূর্ত অগ্রগতি।
53) মনােবিদ রাসেল-এর মতে অনুরাগ কী?
» মনােবিদ রাসেল-এর মতে, অনুরাগ হল এমন একটি জৈবিক অবস্থা যা মানুষকে কোনাে বিশেষ বস্তু, ব্যক্তি বা কাজের প্রতি অবিরত উদ্দীপিত করে চলে।
54) ক্ষণস্থায়ী অনুরাগ কাকে বলে?
» যে আগ্রহ বিশেষ উদ্দেশ্যসাধনের জন্যই সৃষ্ট হয় এবং উদ্দেশ্য সাধিত হলেই যা অন্তর্হিত হয়, তাকে ক্ষণস্থায়ী আগ্রহ বা অনুরাগ বলে। যেমন—পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনের জন্য পড়ার প্রতি আগ্রহ।
55 দীর্ঘস্থায়ী অনুরাগ কাকে বলে?
» যে আগ্রহের স্থায়িত্ব দীর্ঘ এবং পরিধি বিস্তত, তাকে দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহ বা অনুরাগ বলে। যেমন—জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ার প্রতি আগ্রহ।
56) সহজাত অনুরাগ কী?
» যে আগ্রহ জন্মসূত্রে প্রাপ্ত, তাকে সহজাত আগ্রহ বা অনুরাগ বলে। যেমন—নিরাপত্তার প্রতি আগ্রহ।
57) অর্জিত অনুরাগ কী?
» যেসব আগ্রহ বা অনুরাগ মনােভাব, সেন্টিমেন্ট, শিক্ষা, অভ্যাস প্রভৃতি থেকে সৃষ্ট হয়, তাদের অর্জিত আগ্রহ বা। অনুরাগ বলে।
58) আগ্রহের ব্যক্তিগত উপাদানগুলির যে-কোনাে দুটির নাম লেখাে।
» আগ্রহের ব্যক্তিগত উপাদানগুলি হল—{1} শারীরিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক বিকাশ,{2} মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশ।
59. সমস্যা সমাধানমূলক পদ্ধতিতে সমস্যা কখন তৈরি হয়?
ANS. সমস্যা সমাধানমূলক পদ্ধতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপূরণে বাধা পেলে সমস্যা তৈরি হয়।
ব্যক্তি → |বাধা| → লক্ষ্য
60. থর্নর্ভাইকের ফললাভের সূত্রটি বিবৃত করাে।
ANS. থর্নড়াইকের ফললাভের সূত্রে বলা হয়েছে, একটি উদ্দীপক ও তার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সংশােধনযােগ্য সংযােগ স্থাপিত হলে, সেই সংযােগের ফল যদি প্রাণীর কাছে তৃপ্তিকর হয়, তবে সেই সংযােগ দৃঢ় হয়। আর যদি সংযােগস্থাপনের ফলটি প্রাণীর কাছে বিরক্তিকর হয়, তবে সেই সংযােগ শিথিল হয়।
61. অনুবর্তন তত্ত্বের অপানুবর্তন’ কখন ঘটে ?
অথবা, অপানুবর্তন কী?
ANS. প্রাচীন অনুবর্তন প্রতিক্রিয়া স্থাপিত হওয়ার পর শক্তিদায়ী উদ্দীপকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ঘটলে অনুবর্তন প্রতিক্রিয়া বিলুপ্ত হয়। একেই ‘অপানুবর্তন’ বলে।
62. নুবর্তন প্রতিক্রিয়া কাকে বলে ?
ANS. যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল উদ্দীপকের সঙ্গে যুক্ত গৌণ উদ্দীপকগুলি মূল উদ্দীপকের যে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া তা-ই সৃষ্টি করে, তাকে অনুবর্তন প্রতিক্রিয়া বলে।
63. অনুবর্তনের প্রধান ভাগ দুটির নাম লেখাে।
ANS. অনুবর্তনের প্রধান দুটি ভাগ হল—1) প্রাচীন বা ক্ল্যাসিকাল অনুবর্তন এবং 2) সক্রিয় বা অপারেন্ট অনুবর্তন।
64. প্রাচীন অনুবর্তন বলতে কী বােঝ ?
ANS. যে অনুবর্তন প্রক্রিয়ায় প্রতিক্রিয়াকে তার স্বাভাবিক উদ্দীপকের পরিবর্তে অন্য উদ্দীপকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাকে প্রাচীন অনুবর্তন বলে। যেমন—লালক্ষরণের সঙ্গে ঘণ্টাধ্বনির সংযােগ।
65. সক্রিয় বা অপারেন্ট অনুবর্তন বলতে কী বােঝ?
ANS. যে অনুবর্তন প্রক্রিয়ায় প্রতিক্রিয়ার নির্দিষ্ট কোনাে উদ্দীপক নেই, যে-কোনাে উদ্দীপকের সঙ্গে প্রতিক্রিয়ার সংযােগ ঘটানাে যায় এবং যেখানে প্রাণীর সক্রিয়তা অপরিহার্য, তাকে সক্রিয় অনুবর্তন বলে। যেমন—শিক্ষার্থী অঙ্ক সঠিক করে প্রশংসা অর্জন করে।
66. অনুবর্তিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে?
ANS. কৃত্রিম উদ্দীপকের সাহায্যে সৃষ্ট স্বাভাবিক প্রতিবর্ত প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় অনুবর্তিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া। যেমন— ঘণ্টাধ্বনির ফলে লালাক্ষরণ।
67. রেসপন্ডেন্ট বা প্রতিক্রিয়ামূলক আচরণ কাকে বলে?
ANS. যে আচরণ নির্দিষ্ট উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয়, তাকে রেসপন্ডেন্ট বা প্রতিক্রিয়ামূলক আচরণ বলে। যেমন—খাদ্য দেখলে লালাক্ষরণ।
68. অপারেন্ট বা স্বতঃক্রিয়ামূলক আচরণ কাকে বলে?
ANS. অপারেন্ট বা স্বতঃক্রিয়ামূলক আচরণ হল এক বিশেষ ধরনের আচরণ যার কোনাে সুনির্দিষ্ট উদ্দীপক নেই, তাকে যে-কোনাে উদ্দীপকের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। যেমন—স্কিনারের বাক্স-পরীক্ষায় পায়রাটির খাঁচা খুলে গম খেতে পারা।
69.মনোযোগের একটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের উল্লেখ করো ।
Ans: মনোযোগের একটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের নাম দুশ্চিন্তা ।
70.শিখনের কার্যকরী বিষয়গুলির যেকোনো দু’টি উল্লেখ করো ।
Ans: শিখনের প্রধান দু’টি কার্যকরী বিষয় হলো— 1. উপযুক্ত পরিবেশ । 2. উপযুক্ত পদ্ধতি ।
71.শিখন প্রক্রিয়ার পর্যায়গুলি কী ?
Ans: শিখন প্রক্রিয়ার স্তরগুলি এইরূপ — 1. অভিজ্ঞতা অর্জন , 2. সংরক্ষণ ধারন 3. পুনরুদ্রেক বা মনে করা , 4. প্রত্যভিজ্ঞা বা চেনা
72.শিখনের দু’টি বৈশিষ্ট্য লেখো ।
Ans: শিখনের দু’টি বৈশিষ্ট্য : 1. শিখন আচরণের পরিবর্তন আনে । 2. শিখন অনুশীলন ভিত্তিক ।
73.পরিণমন কী ?
Ans: পরিণমন এমন একটি চর্চা যা অনুশীলন ও শিখন নিরপেক্ষ স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া , এটি আপনা – আপনি ব্যক্তির মধ্যে সঞ্চারিত হয়ে তার অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
74.SMA- এর পুরো কথাটি কী ?
Ans: পুরো নাম Special Mental Ability .
75.GMA- এর পুরো কথাটি কী ?
Ans: পুরো শব্দটি হলো : General Mental Ability .
76.শিখন ও পরিণমনের একটি সাদৃশ্য লেখো ।
Ans: প্রথমত : দু’টিই ব্যক্তির জীবনবিকাশের প্রক্রিয়া বা বিকাশমূলক প্রক্রিয়া ।
দ্বিতীয়ত : দু’টি প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতেই ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তন লক্ষণীয় ৷
77.গ্যাগনির মতে সব থেকে উচ্চ পর্যায়ের শিখন কোনটি ?
Ans: গ্যাগনিনের মত অনুসারে সব থেকে উচ্চ পর্যায়ের শিখন হলো ‘ সমস্যা সমাধানমূলক শিখন ’ ।
78.থার্স্টোনের তত্ত্ব অনুসারে যেকোনো দু’টি প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতার উল্লেখ করো ।
Ans: থার্স্টোনের তত্ত্ব অনুসারে দু’টি প্রাথমিক মানসিক ক্ষমতা হলো সংখ্যাগত উপাদান N এবং বাচনিক উপাদান V।
79.সাধারণ মানসিক ক্ষমতা কাকে বলে ?
Ans: এটি এমন একটি ক্ষমতা যা যে কোনো বৌদ্ধিক কাজে অল্পবিস্তর প্রয়োজন হয় । শিশু জিনগতসূত্রে এই ক্ষমতা অর্জন করে অর্থাৎ এটা সহজাত ও জন্মগত । স্পিয়ারম্যান এটাকেই বলেছেন ‘ G -ক্ষমতা ’ ।
79.মনোযোগের দু’টি বস্তুগত নির্ধারক কী ?
Ans: মনোযোগের দু’টি বস্তুগত নির্ধারকের নাম হলো তীব্রতা ও রং ।
80.বিশেষ মানসিক ক্ষমতা বলতে কী বোঝো ?
Ans: কোনো বিশেষ কাজের জন্য সাধারণ ক্ষমতার পাশাপাশি একটি বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োজন হয় এবং ক্ষমতা ওই কাজটি ব্যতীত অন্য কোনো কাজে দরকার হয় না , তাকেই বলে বিশেষ ক্ষমতা । স্পিয়ারম্যান এই ক্ষমতাকে বলেছেন ‘ S ‘ ক্ষমতা
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
1.পরিনমন কাকে বলে ? শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণমনের ভূমিকা আলোচনা করো ।
অথবা , পরিণমন বলতে কী বোঝো ? শিখন ও পরিণমন কীভাবে সম্পর্কিত লেখো ।
অথবা , শিখন ও পরিণমনের মধ্যে সম্পর্ক কী তা সংক্ষেপে আলোচনা করো । শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিণমনের গুরুত্ব লেখো ।
Ans: পরিণমন : পরিণমন একটি চর্চা যা অনুশীলন ও শিখন নিরপেক্ষ স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া , এটি আপনা – আপনি ব্যক্তির মধ্যে সঞ্চারিত হয়ে তার অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
শিখনও পরিণমনের সম্পর্ক :
শিখন ও পরিণমন উভয়েই বিকাশমূলক প্রক্রিয়া । মানুষের জীবন বিকাশে উভয় প্রক্রিয়ার গুরুত্ব রয়েছে । তবুও এদের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।
পরিণমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত , স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া । এই প্রক্রিয়া সহজাত ও অভ্যন্তরীণ বলে বাহ্যিক পরিবেশ একে বিশেষ প্রভাবিত করতে পারে না।
শিখন এক ধরনের শর্তসাপেক্ষ বিকাশমূলক মানসিক প্রক্রিয়া । শিখনের সাহায্যে শিশুরা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে ।
শিখন ও পরিণমন উভয়েই পরস্পরের উপর নির্ভরশীল । সঠিক পরিণমন ছাড়া শিখন সম্ভব হয় না । এটি শিখনের সীমারেখা নির্ধারণ করে । কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিখনও পরিণমনকে তরান্বিত করে । ফলে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে এবং উভয়েই শিশুর বিকাশের সহায়ক ।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণমনের ভূমিকা গুরুত্ব : শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণমনের গুরুত্ব নিম্নরূপ—
পরিশীলিত আচরণ : পরিণমনের মাধ্যমে পরিবর্তিত আচরণগুলিকে যথাযথ শিখনের দ্বারা পরিশীলিত করা যায় ।
শিক্ষা পরিকল্পনায় পরিণমন : যথাযথ পরিণমনের অভাবে শিশু সঠিকভাবে পাঠ গ্রহণ করতে পারে না । ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক পরিণমনের দিকে খেয়াল রেখে নানা স্তরে শিক্ষা পরিকল্পনা করতে হয় ।
পরিণমন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা : মানবজীবনে শৈশব ও কৈশোরে পরিণমনের প্রভাব খুব বেশি দেখা যায় । তখন পরিণমন অনুযায়ী শিক্ষার ব্যবসা করা জরুরি । কারণ এইসময় শিশুর জীবনে সঠিকভাবে পরিণমন খুবই প্রয়োজন ।
2.মনোযোগ বলতে কী বোঝো ? শিক্ষাক্ষেত্রে মনোযোগের ভূমিকার মূল্যায়ন করো ।
অথবা , মনোযোগ কাকে বলে ? শিক্ষায় মনোযোগের ভূমিকা লেখো ।
Ans: মনোযোগ : শিখন প্রক্রিয়ার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মনোযোগ । বিভিন্ন মনোবিদ নিজস্ব ভঙ্গিতে মনোযোগের সংজ্ঞা দিয়েছেন । রস বলেছেন , এমন একটি প্রক্রিয়া যেটি চিন্তার বিষয়কে স্পষ্টভাবে মনের সম্মুখে এনে দেয় , তাকেই বলে মনোযোগ । ম্যাকডুগালের মতে , মনের যে সক্রিয়তা জ্ঞানমূলক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে তা – ই মনোযোগ । উডওয়ার্থ – এর ভাষায় পাশাপাশি অবস্থিত অসংখ্য উদ্দীপকের মধ্য থেকে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার পদ্ধতিই মনোযোগ । এককথায় , যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের জন্য মনকে নিবেশিত করার দৈহিক ও মানসিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় মনোযোগ ।
শিক্ষায় মনোযোগের ভূমিকা : শিক্ষার সঙ্গে মনোযোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে । শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা জরুরি । মনোযোগ আকর্ষণের এই কৌশলগুলি নিম্নরূপ :
মনোযোগ আকর্ষী কৌশল : জীবনবিকাশের নানা স্তরে মনোযোগের রূপভেদ ঘটে । শৈশবে ব্যক্তিনিরপেক্ষ মনোযোগের প্রাধান্য থাকে বলে তখন বস্তুর বৈশিষ্ট্য মনোযোগ নির্ধারণ করে । শৈশবে শিশু খেলাধুলার প্রতি স্বত : স্ফুর্তভাবে মনোযোগী হয় । তাই এইসময়ে শিশুর পাঠক্রম হবে খেলাভিত্তিক । ফলে তার মনোযোগ বাড়বে পাঠক্রমে ।
ইচ্ছাসাপেক্ষ কৌশল : শৈশব পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় ইচ্ছাসাপেক্ষ মনোযোগ । এইসময় শিক্ষার্থীর মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে শিখনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা , উপদেশ প্রদান , লঘু শাসন ইত্যাদির প্রয়োগ করতে হয় ।
পরিসর অতিক্রম না করা : শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষককে খেয়াল রাখতে হবে বিষয়বস্তু যেন তাদের মনোযোগের পরিসরকে ছাপিয়ে না যায় । এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সামনে বিষয়বস্তু সহজ ও বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে হবে ।
নির্ধারক প্রয়োগ : তীব্রতা , স্পষ্টতা , নতুনত্ব ইত্যাদি নির্ধারক প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে ।
বিষয় – বৈচিত্র্য প্রয়োগ : মনোযোগ সদা চঞ্চল । কোমলমতি শিশুদের কোনো বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগী করা যায় না । ফলে শিক্ষককে একটি বিষয় ছেড়ে অন্য বিষয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠনে মনোযোগী করে তুলতে হবে ।
সবশেষে , পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে মনোযোগ প্রধান শর্ত বলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়ে শিক্ষককে সচেতন হতেই হবে ।
3.গ্যাগনির মত অনুসারে শিখনের প্রকারভেদ করো এবং বিস্তারিত আলোচনা করো ।
Ans: শিক্ষামনোবিদ গ্যাগনি ব্যক্তির মানসিক প্রক্রিয়াগুলির জটিলতার স্তর অনুসারে শিখনের প্রকারভেদ সম্পর্কে তার মতবাদ প্রকাশ করেন । শিখনের আটটি প্রকার তিনি চিহ্নিত করেন । একটি বিশেষ সজ্জাক্রম অনুযায়ী তিনি সেগুলিকে বিন্যস্তও করেছেন । গ্যাগনির মত অনুসারে শিখনের প্রকারভেদ নিম্নরূপ —
সংকেত শিখন : সর্বাধিক সরল প্রকৃতির এই শিখনের প্রথম বর্ণনা করেন মনোবিদ প্যাভলভ । এটি প্রাচীন অনুবর্তনজনিত শিখন । বর্ণ , শব্দ , নামতার মতো শিখনে সংকেত শিখনের প্রভাব লক্ষ করা যায় ।
উদ্দীপক – প্রতিক্রিয়া শিখন : সক্রিয় অনুবর্তন নামে পরিচিত এই শিখন কৌশল আসলে একটি উন্নত শিখন । এখানে প্রাণীর প্রতিক্রিয়ার পর শক্তিদায়ী উদ্দীপকের ব্যবহার হয় । এখানে প্রেষণা ও পুরস্কারের গুরুত্ব বেশি ।
শৃঙ্খলিতকরণ শিখন : শৃঙ্খলিতকরণ উন্নত মানের শিখন কৌশল । এতে অতি জটিল চিত্তন কর্মসমন্বয় দক্ষতা অর্জিত হয় ।
বাচনিক সংযোগসাধনমূলক শিখন : প্রকৃতপক্ষে এটিও একপ্রকার শৃঙ্খলিতকরণ । এখানে নানা উপাদানের মধ্যে সংযোগসাধন করা হয় ।
বিনিশ্চয় শিখন : এটি খুবই জটিল ও কঠিন শিখন প্রক্রিয়া । এর দ্বারা শিক্ষার্থীদের সেই সব দক্ষতা গড়ে তোলা হয় , যার দ্বারা তারা একইরকম একগুচ্ছ উদ্দীপকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে ।
ধারণা শিখন : ধারণা শিখনে কোনো বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষক সেগুলির সাধারণ বৈশিষ্ট্যের উপর গুরুত্ব দেন ।
নিয়ম শিখন নিয়ম শিখন : আসলে খুব উচ্চমানের প্রজ্ঞামূলক শিখন । শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধারণার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক খুঁজে পায় এবং সাধারণ নিয়মাবলি সম্পর্কে অবহিত হয় ।
সমস্যা সমাধানমূলক শিখন : এটি বিশেষ এক ধরনের শিখন প্রক্রিয়া । এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন মতো প্রতিক্রিয়া জানানোর ধরন আবিষ্কার করে । প্রকৃতপক্ষে এটি সবচেয়ে জটিল শিখন কৌশল ।
4.শিক্ষাক্ষেত্রে প্রেষণার ভূমিকা আলোচনা করো । অথবা , শিখনে প্রেষণার ভূমিকা লেখো ।
Ans: ব্যক্তির আচরণ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হলো শিখন । তাই শিখনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রেষণা । শিখনে প্রেষণার এই ভূমিকা আলোচিত হলো –
উদ্যম সৃষ্টি : কোনো ব্যক্তির কর্মসম্পাদনের জন্য সবার আগে দরকার উদ্যম । প্রেষণা ব্যক্তির মধ্যে সেই উদ্যম সৃষ্টি করে ব্যক্তিকে কর্মে ঝাপিয়ে পড়ার শক্তি জোগায় ।
আচরণের প্রবণতা নির্ধারণ : শিক্ষার্থীর আচরণের প্রবণতা নির্ণয়ে প্রেষণার বড়ো ভূমিকা রয়েছে । একজন শিক্ষার্থীর আচরণ কতটা উদ্দেশ্যমুখী হবে , কোন বিষয়ে কীভাবে সাড়া দেওয়া উচিত বা সাড়া না দেওয়া উচিত ইত্যাদি স্থির করে প্রেষণা
যথাযথ কর্মসম্পাদন : প্রেষণার তাড়নায় কোনো কাজ যথাযথ উপায়ে সম্পাদিত হয় , শিক্ষার্থী নিজের চেষ্টাতেই অনেক কিছু শিখে ফেলে ও জটিল বিষয়কেও আয়ত্ত করে ।
মনোযোগ বৃদ্ধি ও শিখন কৌশলে প্রভাব : প্রেষণার দ্বারা শিক্ষার্থী কোনো একটি বিষয়ে অধিক মনোযোগী হয় । এতে শিখন প্রক্রিয়া সহজ হয় । শিক্ষার্থী যেকোনো পাঠ অর্থপূর্ণভাবে শিখতে পারে । এভাবে প্রেষণার তাড়নায় শিখন কৌশলও প্রভাবিত হয়।
আচরণের গতিপথ নির্ণয় : শিক্ষার্থীর আচরণের গতিপথ নির্ণয় করাও প্রেষণার কাজের অন্তর্ভুক্ত । আচরণ সম্পাদনই শিক্ষার লক্ষ্য নয় , সেই আচরণকে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে । শিক্ষার্থীর আচরণের সঠিক গতিপথ নির্ণয় করার পরই প্রেষণার পরিতৃপ্তি সম্ভব হয় ।
5.শিখনের তিনটি স্তর উল্লেখ করো । স্তরগুলির পরিচয় দাও ।
Ans: শিখনের স্তর শিখনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো – 1. সংরক্ষণ বা ধারণ , 2. পুনরুদ্রেক / মনে করা , 3. প্রত্যভিজ্ঞা / চেনা । নীচে স্তরগুলির পরিচয় দেওয়া হলো ।
সংরক্ষণ : সংরক্ষণ আদতে একটি প্রক্রিয়া , যার মাধ্যমে নানা অভিজ্ঞতা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয় । একেই বলে সংরক্ষণ । বাস্তবে মানুষ শিখনের মাধ্যমে যা কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে , তার অনেকটাই ভুলে যায় । তবুও কিছু অংশ স্মৃতির মণি কোঠায় সংরক্ষিত হয় , মনোবিজ্ঞানে এরই নাম সংরক্ষণক্রিয়া । এক্ষেত্রে কতকগুলি বিষয় গুরুত্ব পায় । বিষয়গুলি এইরূপ—
( ক ) বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া এবং পুন : পুন : অনুশীলন ।
( খ ) বিষয়টি যত বেশি সাম্প্রতিক হবে , ততই মনে রাখার সুবিধা হবে ।
( গ ) বিষয়টির প্রতি আগ্রহ থাকলে সংরক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হবে ।
পুনরুদ্রেক : শিখনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর । কারণ সংরক্ষিত বিষয়টি যদি ঠিক সময় , ঠিক জায়গায় পুনরুদ্রেক করা না যায় তা হলে শিখন সম্পূর্ণতা পায় না । পূর্ব অভিজ্ঞতাকে পুনরায় মনে করাকে বলে পুনরুদ্রেক । এটি দু’প্রকার ।
( ক ) প্রত্যক্ষ পুনরুদ্ৰেক : যখন কোনো অভিজ্ঞতাকে পুনরুদ্রেক করার সময় তার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত অভিজ্ঞতার সাহায্য নেওয়া হয় তখন তাকে বলে প্রত্যক্ষ পুনরুদ্রেক । ( খ ) পরোক্ষ পুনরুদ্রেক : যখন কোনো অভিজ্ঞতাকে পুনরুদ্রেক করার ক্ষেত্রে তার সঙ্গে পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত অভিজ্ঞতার সাহায্য নেওয়া হয় তখন তাকে বলে পরোক্ষ পুনরুদ্রেক । পুনরুদ্রেক প্রক্রিয়ায় তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ । এগুলি হলো – ( ১ ) সান্নিধ্যের সূত্র , ( ২ ) সাদৃশ্যের সূত্র , ( ৩ ) বৈসাদৃশ্যের সূত্র ।
প্রত্যভিজ্ঞা : শিখনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর প্রত্যভিজ্ঞা প্রত্যভিজ্ঞা বলতে বোঝায় একটি পরিচিতির বোধ , যা না থাকলে শিখন সফল হয় না । ‘ প্রত্যভিজ্ঞা ‘ কথার অর্থ ‘ চিনে নেওয়া ’ । পূর্বেকার অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানকে বর্তমানে চিনে নেওয়ার ক্রিয়াই হলো প্রত্যভিজ্ঞা । মনোবিজ্ঞানীদের মতে , প্রত্যভিজ্ঞা বলতে বোঝায় একটি পরিচিতির বোধ , যা না থাকলে স্মরণক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না ।
6.শিক্ষাক্ষেত্রে স্পিয়ারম্যানের দ্বি – উপাদান তত্ত্বের গুরুত্ব লেখো ।
Ans: যেকোনো বৌদ্ধিক কাজে দু’টি উপাদান কার্যকরী হয় সাধারণ উপাদান ( G ) এবং বিশেষ উপাদান ( S ) । সব ধরনের কাজে সাধারণ উপাদানটি কম – বেশি প্রয়োজন । অন্যদিকে , বিশেষ ধরনের কাজে বা কোনো নির্দিষ্ট কাজে বিশেষ উপাদানটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । এটিই স্পিয়ারম্যানের দ্বি – উপাদান তত্ত্ব । নিম্নে এই তত্ত্বের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো।
শিক্ষাক্ষেত্রে স্পিয়ারম্যানের দ্বি – উপাদান তত্ত্বটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ । ছাত্র – ছাত্রীদের সঠিক শিক্ষামূলক ও বৃত্তিমূলক নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক – শিক্ষিকারা এই তত্ত্বের সাহায্য নেন । ছাত্র – ছাত্রীদের বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই তত্ত্বটি বিশেষ সহায়ক হয় । কোনো বিষয়ে সাফল্য লাভের ক্ষেত্রে সেই বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা প্রয়োজন । ছাত্র – ছাত্রীদের ক্ষমতার বিষয়ে জানার পর শিক্ষক – শিক্ষিকারা বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ দেন । সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দ্বি – উপাদান তত্ত্ব সহায়ক হয় । ছাত্র – ছাত্রীদের বিশেষ ক্ষমতার সঙ্গে সংগতি না রেখে পাঠক্রম নির্ধারিত হয় । তাই এক্ষেত্রেও দ্বি – উপাদান তত্ত্বটির গুরুত্ব ছাত্র – ছাত্রী ও শিক্ষকদের কাছে যথেষ্টই রয়েছে ।
7.স্পিয়ারম্যানের মতে মানসিক ক্ষমতার দু’টি উপাদান স্পারম্যাে দ্বি – উপাদান তত্ত্ব ও থাস্টোনের বহু উপাদান তত্ত্বের পার্থক্য লেখো ।
Ans: স্পিয়ারম্যানের মতে মানসিক ক্ষমতার দু’টি উপাদান হলো মানসিক ক্ষমতা ও বিশেষ মানসিক ক্ষমতা । সাধারণ স্পিয়ারম্যানের দ্বি – উপাদান তত্ত্বের সঙ্গে থাস্টোনের বহু উপাদান তত্ত্বের বেশ কয়েকটি সাদৃশ্য সত্ত্বেও উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্যও রয়েছে । এই পার্থক্যগুলি নিম্নরূপ—
স্পিয়ারম্যানের দ্বি – উপাদান তত্ত্ব :
( 1 ) এই তত্ত্ব অনুযায়ী মানসিক ক্ষমতায় দু’টি উপাদান রয়েছে ।
( 2 ) এখানে দু’টি উপাদান G ( সাধারণ ক্ষমতা ) ও S ( বিশেষ ক্ষমতা ) দ্বারা সূচিত হয় ।
( 3 ) এই তত্ত্ব মতে কোনো কাজ করার জন্য সাধারণ ও বিশেষ উপাদানের থাস্টোনের বহু উপাদান তত্ত্ব
( 4 ) এই তত্ত্বটি ‘ ইলেকট্রিক থিয়োরি ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে ।
( 5 ) এখানে সব কাজে সাধারণ উপাদান ব্যবহৃত হয় । অন্যদিকে , নির্দিষ্ট কাজে বিশেষ উপাদান ব্যবহৃত হয় ।
( 6 ) এই তত্ত্বে বিশেষ উপাদানগুলি সহজাত – উভয় ধরেনের হতে পারে ।
থাস্টোনের বহুউপাদান সমুহ :
( 1 ) এই তত্ত্বে বলা হয়েছে মানসিক ক্ষমতা সাতটি প্রাথমিক বা মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত ।
( 2 ) এই তত্ত্বের উপাদানগুলি M , N. , S , R , V এবং W দ্বারা সূচিত হয় ।
( 3 ) এই তত্ত্ব অনুযায়ী , প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতি রেখে 7 টি উপাদানের কয়েকটি একত্রে ব্যবহৃত হয় ।
( 4 ) এটি ‘ প্রাথমিক মানসিক তত্ত্ব ‘ নামেও পরিচিত ।
( 5 ) এখানে সব কর্মসম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তি সাতটি মৌলিক উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।
( 6 ) এখানে সাতটি উপাদানই মৌলিক সহজাত বা অর্জিত – উভয় ধরনের হতে এবং বংশগত । পারে ।
8.আগ্রহ কাকে বলে ? এর বৈশিষ্ট্য লেখো । শিক্ষাক্ষেত্রে আগ্রহের ভূমিকা লেখো ।
Ans: আগ্রহের সংজ্ঞা : আগ্রহ বা অনুরাগ প্রকৃতপক্ষে একটি স্বাধীন প্রবণতা বা জৈব – মানসিক সংগঠন । প্রখ্যাত মনোবিদ জোন্স , ড্রেভার , ম্যাকডুগাল , লোভেল সকলেই নিজের মতো করে আগ্রহের সংজ্ঞা দিয়েছেন । তার ভিত্তিতে বলা যায় , “ আগ্রহ বলতে সেই মানসিক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যা ব্যক্তিকে কোনো বিশেষ কাজে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি সেই কাজে একনিষ্ঠ হওয়া এবং সেই কাজ সম্পন্ন করার প্রেরণা দেয় । ” প্রসঙ্গত , এই প্রবণতা সহজাত নয় , অর্জিত ।
আগ্রহের বৈশিষ্ট্য : আগ্রহের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা একে অন্যান্য মানসিক প্রক্রিয়া থেকে পৃথক করে ।
প্রথমত : আগ্রহ একটি স্থায়ী মানসিক প্রক্রিয়া বা সংগঠন ।
দ্বিতীয়ত : ব্যক্তির পারিপার্শ্বিক পরিবেশভেদে আগ্রহের রকমফের দেখা যায় ।
তৃতীয়ত : ব্যক্তিভেদে আগ্রহের চরিত্র বা ধরন আলাদা হয় ।
চতুর্থত : আগ্রহের ধরন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টায় ।
পঞ্চমত : আগ্রহ চাহিদার উপর নির্ভরশীল । চাহিদার অনুভূতি আগ্রহ সৃষ্টি করে ।
ষষ্ঠত : এটি মনোযোগের প্রাথমিক ধাপ ।
সপ্তমত : কোনো কাজে সাফল্য ব্যক্তির আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা নেয় ।
শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা : শিক্ষা এবং আগ্রহ দ্বিমুখী সম্পর্কে জড়িত । কারণ শিক্ষা কর্মসূচির লক্ষ্যই হলো স্কুলে নানাবিধ কর্মসূচি পালন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাঠের প্রতি শিশুর আগ্রহ বাড়িয়ে তোলা । শিক্ষায় আগ্রহের ভূমিকাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়– শিশুর সার্বিক বিকাশের পাশাপাশি পাঠের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির উপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করে শিক্ষা । ও পাঠ্য বিষয় নির্বাচনে শিশুকে স্বাধীনতা দিতে হবে । এর মাধ্যমে বিষয়ের প্রতি শিশুর আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
শিশুর মেধা ও পছন্দের দিকে লক্ষ রেখে সহ – পাঠক্রমিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা প্রয়োজন ।
শিশুকে নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করা । এতে আগ্রহের পরিসর বাড়ে ।
যেকোনো বিষয়ের প্রতি শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাবকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করা প্রয়োজন । এইভাবে দেখা যায় যে শিক্ষণীয় বিষয়ের প্রতি শিশুর আগ্রহ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠন সম্ভব ।
9.বুদ্ধি কী ? এর বৈশিষ্ট্য লেখো । শিখনের ক্ষেত্রে মানসিক ক্ষমতার ভূমিকা আলোচনা করো ।
Ans: বুদ্ধির সংজ্ঞা : এটি শিখনের অন্যতম উপাদান । যেকোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং কার্যকরী প্রয়োগের ক্ষমতাকেই বলে বুদ্ধি । মনোবিদগণ বিভিন্নভাবে বুদ্ধিকে বিশ্লেষণ করেছেন । তার ভিত্তিতে বলা যায়— “ বুদ্ধি হলো ব্যক্তির একটি জৈব – মানসিক কৌশল যার মাধ্যমে চটজলদি জীবনের যে কোনো পরিস্থিতি বা সমস্যার মোকাবিলায় ব্যক্তি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে এবং সমাধানসূত্র নিরূপণে নিজস্ব শক্তি প্রয়োগ করতে পারে । ”
বুদ্ধির বৈশিষ্ট্য : বুদ্ধির বিচ্ছুরণ বিভিন্নভাবে ঘটতে পারে । এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—
নিত্যনতুন সমস্যা / পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে বুদ্ধি ।
অনেক জটিল , বিমূর্ত বিষয় নিয়ে ব্যক্তিকে ভাবতে শেখায় বুদ্ধি ।
পুরনো অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার মোকাবিলা করতে শেখায় বুদ্ধি ।
তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে বুদ্ধি ।
সমস্যার চুলচেরা বিশ্লেষণে বুদ্ধির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ।
যেকোনো নতুন জিনিস শেখার ক্ষেত্রে বুদ্ধি সহায়তা করে ।
শিখনে মানসিক ক্ষমতার ভূমিকা : শিখনের কার্যকারিতা অনেকাংশে শিক্ষার্থীর মানসিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ।
শিক্ষার্থীর আই কিউ ( বুদ্ধ্যঙ্ক ) অনুযায়ী তার শিক্ষাগ্রহণ সম্পন্ন হয় । বুদ্ধির অভাব থাকলে পড়াশোনায় অগ্রগতি অসম্ভব ।
বুদ্ধির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে বিদ্যাদান করলে পাঠদান গতি পায় ।
শিক্ষার্থীর বুদ্ধি ও মেধা অনুযায়ী পাঠক্রম বাছাই করা উচিত । এতে সফলতা আসা সম্ভব । 4. শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কোন পেশা বেছে নেবে সেটাও বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল ।
10.আগ্রহের সংজ্ঞা দাও । শিক্ষায় আগ্রহের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো ।
Ans: আগ্রহ একটি মানসিক প্রক্রিয়া । একে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানী জোন্স | বলেছেন , “ আগ্রহ বলতে আমরা বুঝি বাস্তব বা কাল্পনিক কোনো বস্তু বা অবস্থার প্রতি আনন্দের অনুভূতি , যা ব্যক্তিকে কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে । ” মনোবিদ ম্যাকডুগাল – এর মতে , “ আগ্রহ হলো সুপ্ত মনোযোগ । ” মনোবিজ্ঞানী ড্রেভার এর মতে , “ আগ্রহ হলো গতিশীল মনোভাব । ” সব মিলিয়ে , “ আগ্রহ হলো একটি মানসিক সংগঠন , যা ব্যক্তিকে কোনো বিশেষ । ধরনের কাজের প্রতি মনোনিবেশ করতে এবং তা সম্পাদন করতে প্রেরণা জোগায় । ”
শিক্ষায় আগ্রহের গুরুত্ব : শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুর আগ্রহ বা অনুরাগ ( interest ) বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় শ্রেণি শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর মধ্যে ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগী বিষয় সম্পর্কে আগ্রহ সঞ্চার করতে পারেন তা শিক্ষার্থীর পক্ষে মঙ্গলজনক হয় । শিক্ষায় শিশুর আগ্রহের কয়েকটি প্রয়োজনীয় দিক হলো—
প্রথমত , শিক্ষণীয় বিষয়ে শিশু যদি আগ্রহ বোধ করে , সেক্ষেত্রে শিশুর আনন্দদায়ক অনুভূতি আসে । তাই বস্তু বা কর্মকেন্দ্রিক এই অনুভূতি শিক্ষাকে কার্যকর করে ।
দ্বিতীয়ত , আগ্রহ কোনো নিষ্ক্রিয় মানসিক সংগঠন নয় । এর সঙ্গে যুক্ত প্রাক্ষোভিক অনুভূতি কোনো কাজের শক্তি জোগায় । অর্থাৎ আগ্রহ প্রেষণা সৃষ্টিতে সাহায্য করে । এই প্রেষণা শিখনের অন্যতম প্রধান শর্ত ।
তৃতীয়ত , আগ্রহ শিশুকে সক্রিয় করে তোলে । সক্রিয়তা শিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
চতুর্থত , শিশুর আগ্রহ বা অনুরাগ তার সেন্টিমেন্ট দ্বারাও প্রভাবিত হয় । সেন্টিমেন্ট হলো শিশুর প্রাক্ষোভিক প্রবণতা । এটাও অভিজ্ঞতার প্রভাবে গড়ে ওঠে ।
পঞ্চমত , শিশুর আগ্রহ অনেক সময় তাকে নতুন কিছু সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে । সৃজনশীল ব্যক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নতুন সৃষ্টির প্রতি আগ্রহ ।
ষষ্ঠত , শিশুর আগ্রহ সমাজ পরিবেশের দ্বারাও প্রভাবিত হয় । সামাজিক পরিবেশে বাস করতে গিয়ে শিশু সামাজিক আচরণগুলি আয়ত্ত করে ।
সপ্ততম , শিশুর আগ্রহের যথাযথ অনুশীলনই তাকে ভবিষ্যৎ জীবনে সফল হতে সাহায্য করে ৷
মন্তব্য : আগ্রহের বৈশিষ্ট্যগুলি শিক্ষার পক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ । বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশুর মনে জ্ঞান আহরণের প্রতি আগ্রহ সঞ্চার করতে পারলে তা সারাজীবন স্থায়ী হবে । এভাবেই শিক্ষা জীবনে পূর্ণতা আনতে পারে । তাই শিক্ষা ও আগ্রহ পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ ।
11.সাধারণ মানসিক ক্ষমতা কাকে বলে ? সাধারণ মানসিক ক্ষমতার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো । অথবা , বিশেষ মানসিক ক্ষমতা কাকে বলে ? বিশেষ মানসিক ক্ষমতার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো ।
Ans: সাধারণ মানসিক ক্ষমতা : স্পিয়ারম্যান শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতার উপর সমীক্ষা করে সিদ্ধান্তে এসেছেন , এক ধরনের ক্ষমতা আছে যা সবরকম বৌদ্ধিক কাজে কম – বেশি ব্যবহৃত হয় । তাদের বলা হয় সাধারণ মানসিক ক্ষমতা বা ‘ G ‘ ।
সাধারণ মানসিক ক্ষমতার বৈশিষ্ট্য :
সহজাত : প্রত্যেক শিশুই জন্মসূত্রে বা জিনগত সূত্রে সাধারণ মানসিক ক্ষমতার অধিকারী । একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত এই ক্ষমতা বিকশিত হয় ।
সর্বজনীন : সব ব্যক্তিই কম বেশি সাধারণ মানসিক ক্ষমতার অধিকারী ।
বিকাশপ্রবণতা : প্রত্যেক শিশুর জন্ম থেকে কৈশোর পর্যন্ত সাধারণ মানসিক ক্ষমতা বিকশিত হতে পারে ।
সৃজনধর্মী যেকোনো নতুন সমস্যায় মূলত অভিনব উপাদান খুঁজে বের করতে সাধারণ মানসিক ক্ষমতা সাহায্য করে ।
জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি : যে ব্যক্তি যত বেশি সাধারণ মানসিক ক্ষমতার অধিকারী হবে সে জীবনে তত বেশি সাফল্যের স্বাদ পাবে । •
বিশেষ মানসিক ক্ষমতা : স্পিয়ারম্যানের মতে , যে মানসিক উপাদানটি বিশেষ বিশেষ কাজের ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের বলা হয় বিশেষ মানসিক ক্ষমতা বা ‘ S ‘ ।
বিশেষধর্মী : বিশেষ মানসিক ক্ষমতা হলো বিশেষধর্মী । কোনো বিশেষ কাজ সম্পন্ন করার সময় বিশেষধর্মী ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় । :
পেশাগত ক্ষমতায় সহায়তাকারী বিশেষ মানসিক ক্ষমতা কোনো ব্যক্তিকে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদর্শনে সাহায্য করে ।
যুদ্ধবন্ধ : বিশেষ বিশেষ ধরনের কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ ধরনের মানসিক ক্ষমতা দরকার হয় । এটি যেকোনো জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে ।
ব্যক্তিভেদে পৃথক ক্ষমতা : বিশেষ মানসিক ক্ষমতা কোনো একজন ব্যক্তির মধ্যে নয় , ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ মানসিক ক্ষমতা দেখা যায় ।
12.শিক্ষায় শিখনের প্রভাব আছে কি ? শিখনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো ।
Ans: শিক্ষা ও শিখন : শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে শিখনের প্রভাবই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ । শিক্ষা বিষয়ে আলোচনা করতে গেলে সর্বাগ্রে এসে যায় শিখন প্রসঙ্গ । শিখন এমন একটি অনন্ত প্রক্রিয়া যা আমৃত্যু চলতেই থাকে । শিখন প্রক্রিয়ার বিকাশের মধ্য দিয়েই শিশু পরিবেশ ও সমাজের সঙ্গে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত হয় । শিখন হলো সুসংগঠিত একটি পদ্ধতি যা ব্যক্তিকে বিচিত্র অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে । শিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য শিশুকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা ।
শিখনের প্রকৃতি : শিখন বিষয়ে সম্যকভাবে অবহিত হতে হলে শিখনের প্রকৃতি বা চরিত্র বুঝে নেওয়া প্রয়োজন । শিখনের প্রকৃতি মোটামুটি এইরূপ
নব নব অভিজ্ঞতা : শিখন শিশুকে প্রতিদিন নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জনে অভ্যস্ত করে । শিখনের মাধ্যমে শিশু পুরনো আচরণ পালটে ফেলে নতুন আচরণে অভ্যস্ত হয় ।
আচরণগত পরিবর্তন : শিখন চলতে থাকলে শিশুর আচরণে পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক । আচরণগত পরিবর্তনই শিখনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।
” নতুন কিছু শেখার ইচ্ছা : শিখন প্রক্রিয়া শিশুকে নতুন কিছু শিখতে অনুপ্রাণিত করে । যে শিশু একদিন জ্বলন্ত কয়লায় হাত দিয়েছিল , বড়ো হয়ে সে কিন্তু শিখনের কারণেই এই আচরণ আর করে না । অর্থাৎ তার এবিষয়ে জ্ঞান অর্জন হয়েছে ।
নির্দিষ্ট লক্ষ্য : সব ক্ষেত্রে শিখন হয় উদ্দেশ্যমুখী । কারণ উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যবিহীন শিখন প্রক্রিয়া পরিপূর্ণতা পায় না ।
নতুন কিছু করার তাগিদ : শিখনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সমস্যার উপস্থিতি । জীবনে জটিলতা বা সমস্যা দেখা না দিলে শিশু নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করে না । সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই শিশু নতুন কিছু করার আনন্দ খুঁজে পায় । এভাবেই তার আচরণে আসে নতুনত্ব ।
অনুশীলনের উপর নির্ভরতা : শিখনের সাফল্য অনেকাংশে অনুশীলনের উপর নির্ভরশীল । অনুশীলনের প্রভাবে শিখন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় । এজন্যই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শিখনের হার লঘু হয়ে যায় ।

