📚 উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস: অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর: অধ্যায়-তৃতীয়:ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রকৃতি : নিয়মিত ও অনিয়মিত সাম্রাজ্য(MCQ+SAQ+DAQ)📚
✍️সঠিক উত্তর নির্বাচনধর্মী প্রশ্ন :
1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন -- ( a ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( b ) উইলিয়াম পিট ( C ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ( d ) লর্ড ওয়েলেসলি Ans:-d
2. রায়তওয়ারি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন – ( a ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ( b ) টমাস মনরাে ( c ) ফিলিপ ফ্রান্সিস ( d ) মাউন্ট স্টুয়ার্ট এলফিনস্টোন
Ans:-b
3. ভারতে প্রথম রেলপথ প্রতিষ্ঠিত হয় - ( a ) মহারাষ্ট্রে ( b ) পাঞ্জাবে ( c ) মাদ্রাজে ( d ) বাংলায় Ans:-a
4. ' Poverty and Un - British Rule in India ' রচনা করেন - ( a ) অরবিন্দ ঘোষ ( b ) গান্ধিজি ( c ) ' দাদাভাই নওরােজি ( d ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
Ans:-c
5. নানকিং ' - এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল -- ( a ) 1839 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1842 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1843 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1845 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-b
Or,
29 August , 1842 সালে চিনে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ? - ( a ) পিকিং - এর সন্ধি ( b ) তিয়েনসিন - এর সন্ধি ( c) নানকিং - এর সন্ধি ( d ) হােয়ামপােয়া - এর সন্ধি Ans:-c
6. মাদ্রাজে ‘ ফোর্ট সেন্ট জর্জ দুর্গ নির্মাণ করে ( a ) ফরাসিরা ( b ) ইংরেজরা ( c ) ডাচরা ( d ) দিনেমাররা
Ans :-b
7. ফারুকশিয়ার ইংরেজ কোম্পানিকে ফরমান দেন - ( a ) 1707 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1714 খ্রিস্টাব্দে (c)1717 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1727 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-c
8. ইংরেজ কোম্পানি কলকাতায় আশ্রয় দিয়েছিল – (a ) নারায়ণ দাসকে ( b ) রাজবল্লভকে ( c ) কৃষ্ণদাসকে ( d ) জগৎবল্লভকে
Ans:-c
9. পলাশির যুদ্ধ হয়েছিল 1757 খ্রিস্টাব্দের – ( a ) 23 জুন ( b ) 2 জুলাই ( c ) 12 আগস্ট ( d ) 17 সেপ্টেম্বর
And:-a
10. ভাস্কো - দা - গামা কোন্ দেশের নাবিক ছিলেন ? - ( a ) পাের্তুগালের ( b ) স্পেনের ( c ) ইংল্যান্ডের ( d ) ফ্রান্সের
Ans:-a
11. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অ্যাক্ট ( 1784 খ্রি ) কার উদ্যোগে পাস হয় ? ( a ) হেস্টিংসের ( b ) ক্লাইভের ( c ) পিটের ( d ) কর্নওয়ালিশের
Ans:-c
12. কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হয় ( a ) 1773 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1774 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1775 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1776 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-b
13. ব্রিটিশ ভারতে মােট কটি চার্টার অ্যাক্ট পাস হয় ? ( a ) 2 টি ( b ) 4 টি ( c ) 6টি ( d ) 8টি
Ans:-b
(14)প্রথম সনদ আইন কবে পাস হয় ? - ( a ) 1793 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1813 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1833 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1853 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-a
15 .কত খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের দ্বারা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার লােপ করা হয় ? - ( a ) 1793 খ্রিস্টাব্দের ( b ) 1813 খ্রিস্টাব্দের ( c ) 1833 খ্রিস্টাব্দের ( d ) 1853 খ্রিস্টাব্দের
Ans:- b
16. ভারতের গভর্নর জেনারেল কত খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের দ্বারা ভাইসরয় ' উপাধিতে ভূষিত হন ? ( a ) 1784 খ্রিস্টাব্দের ( b ) 1858 খ্রিস্টাব্দের ( c ) 1861 খ্রিস্টাব্দের ( d ) 1892 খ্রিস্টাব্দের
Ans:-b
17. ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে নিযুক্ত হওয়ার জন্য কবে প্রতিযােগিতামূলক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় ? - ( a ) 1784 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1813 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1833 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1858 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-c
18. ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ইস্পাত কাঠামাে ' বলা হয় – ( a ) পুলিশ বিভাগকে ( b ) বিচার বিভাগকে ( c ) আমলাতন্ত্রকে ( d ) সামরিক বিভাগকে
Ans:-c
19. কে বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটান - ( a ) রবার্ট ক্লাইভ ( b ) ভেরেলেস্ট ( c) ওয়ারেন হেস্টিংসে ( d ) লর্ড ওয়েলেসলি
Ans:- a
20. হেইলবেরি কলেজ কোথায় অবস্থিত ছিল ? ( a ) কলকাতায় ( b ) মাদ্রাজে ( C ) মুম্বাইয়ে ( d ) ইংল্যান্ডে
Ans:- d
21. পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন – ( a ) ক্লাইভ ( b ) ভেরেলেস্ট ( c ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( d ) কর্নওয়ালিশ
Ans:- c
22. একশালা বন্দোবস্ত কবে চালু হয় ? ( a ) 1772 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1773 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1777 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1793 খ্রিস্টাব্দে
Ans:- c
23. মিরকাশিম বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন – ( a) মুঙ্গেরে ( b ) দৌলতাবাদে ( e ) দেবগিরিতে ( d ) পলাশিতে
Ans:- a
24. মিরজাফরের মৃত্যুর পর বাংলার নবাবির সিংহাসনে বসানাে হয়-- (a) মিরকাশিমকে ( b ) নজম - উদদৌলাকে ( c ) সিরাজ - উদদৌলাকে ( d ) শাহ আলমকে
Ans:- b
25. ইংরেজরা বাংলার দেওয়ানি লাভ করেন – ( a ) 1757 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1759 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1764 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1765 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-d
26. ইংরেজরা কোন চুক্তির দ্বারা বাংলার দেওয়ানির অধিকার লাভ করে ? ( a ) এলাহাবাদের প্রথম চুক্তি ( b ) এলাহাবাদের দ্বিতীয় চুক্তি ( c ) সলবাইয়ের চুক্তি ( d ) সগৌলির চুক্তি
Ans:- b
27. কোন্ সন্ধির দ্বারা প্রথম ইঙ্গ - মহীশূর যুদ্ধের অবসান ঘটে ? ( a ) মাদ্রাজের ( b ) পুনার ( c ) এলাহাবাদের ( d ) পুরন্দরের - সন্ধি
Ans:-a
28. অমৃতসরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় - ( a ) 1782 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1820 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1809 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1819 খ্রিস্টাব্দে
Ans:- c
29. কবে সমগ্র পাঞ্জাব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয় ? ( a ) 1802 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1809 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1846 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1849 খ্রিস্টাব্দে
Ans:- d
30. শাের - প্রান্ট বিতর্ক কোন্ বন্দোবস্ত প্রবর্তনকে কেন্দ্র করে হয়েছিল ? ( a ) একসালা ( b ) পাঁচসালা ( c ) দশসালা ( d ) চিরস্থায়ী
Ans:-d
31. ব্রিটিশরা পাঞ্জাবে কোন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেছিল ? — (a) চিরস্থায়ী ( b ) রায়তওয়ারি ( c ) মহলওয়ারি ( d ) ভাইয়াচারি
Ans:-d
32. গ্যারান্টি প্রথা কোন্ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল ? - ( a ) রেলপথের প্রসার ( b ) বিনাশুল্কে বাণিজ্য ( c ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ( d ) শিল্পায়ন
Ans:-a
33. নজরানা পদ্ধতি প্রচলিত ছিল -- ( a ) ভারতে ( b ) চিনে ( c ) জাপানে ( d ) আলজেরিয়ায়
Ans:-b
34. পাের্তুগিজ নাবিকরা প্রথম চিনের কোন্ বন্দরে তাদের বাণিজ্য ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি পায় ? ( a ) ম্যাকাও ( b ) ক্যান্টন ( c ) পাের্ট আর্থার ( d ) হংকং
Ans:-b
35. বক্সারের যুদ্ধের সময় মােগল সম্রাট কে ছিলেন ? ( a ) ফারুকশিয়ার ( b ) ঔরঙ্গজেব ( c ) দ্বিতীয় শাহ আলম ( d ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
Ans:-c
36. পলাশির যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন - ( a ) রবার্ট ক্লাইভ ( b ) কাউন্ট লালি ( c ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( d ) জন কার্টিয়ার
Ans:-a
37. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত - এর প্রবর্তক ছিলেন – ( a ) লর্ড কর্নওয়ালিশ ( b ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( c ) লর্ড মিন্টো ( d ) বারওয়েল
Ans:- a
38. ভারতে পুলিশ বিভাগ চালু করেন - ( a ) লর্ড ক্লাইভ ( b ) লর্ড ওয়েলেসলি (c) লর্ড হেস্টিংস ( d ) লর্ড কর্নওয়ালিশ
Ans:-c
39. দ্বিতীয় আফিমের যুদ্ধ শুরু হয় – ( a ) 1856 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1840 খ্রিস্টাব্দে (c) 1860 খ্রিস্টাব্দে (d ) 1838 খ্রিস্টাব্দে
Ans:- a
40. শিমনােশেকির চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ? ( a ) রুশ - জাপান (b) চিন - জাপান ( c ) রুশ - চিন ( d ) ইংরেজ - চিন
Ans:- b
41. মহলওয়ারি ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় – ( a ) 1832 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1820 খ্রিস্টাব্দে ( c) 1822 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1818 খ্রিস্টাব্দে
Ans:- c
42. নানকিং - এর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন -- ( a ) চিন সরকার ও ইংরেজ ( b ) জাপান ও ইংরেজ ( c ) ফ্রান্স ও চিন সরকার ( d ) রাশিয়া ও চিন সরকার
Ans:-a
43. চিন ও ইউরােপের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয় - ( a ) ম্যাকাও ( b ) সাংহাই ( c ) ক্যান্টন ( d ) নানকিং - বন্দরের মধ্য দিয়ে
Ans:-c
44.লর্ড কর্নওয়ালিশ প্রবর্তিত ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা হল – ( a) দশসালা ব্যবস্থা ( b) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ( c ) পাঁচসালা ব্যবস্থা ( d ) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত । বিকল্প সমূহ : ( a ) A ঠিক এবং B , C , D ভুল ( b ) A , C ঠিক এবং B , D ভুল ( c ) A , B ঠিক এবং C , D ভুল ( d ) A , B , C ঠিক এবং D ভুল
Ans:- c
45. রেগুলেটিং আইন পাস হয়েছিল – ( a ) 1770 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1771 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1773 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1774 খ্রিস্টাব্দে Ans:- c
46. বাের্ড অফ রেভিনিউ গঠন করেন-- ( a ) লর্ড লিটন ( b ) লর্ড রিপন ( c ) লর্ড কর্নওয়ালিশ ( d ) ওয়ারেন হেস্টিংস
Ans:- d
47. বক্সারের যুদ্ধে কে জড়িত ছিলেন না ? ( a ) সিরাজ - উদদৌলা ( b ) মিরকাশিম ( c ) দ্বিতীয় শাহ আলম ( d ) সুজা - উদদৌলা
Ans:- a
48. ‘ বেঙ্গল কেমিক্যাল ’ - এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন । ( a ) প্রফুল্লচন্দ্র রায় ( b ) জগদীশচন্দ্র বসু ( c ) হােমি জাহাঙ্গির ভাবা ( d ) দ্বারকানাথ ঠাকুর
Ans:-a
49. ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন না – ( a ) ক্লাইভ ( b ) স্যান্ডার্স ( c ) ডুপ্লে ( d ) আয়ারকুট
Ans:- c
50. সূর্যাস্ত আইনটি জড়িত – ( a ) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত ( b ) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত ( c ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ( d ) ভাইয়াচারি বন্দোবন্ত
Ans:-c
51. বিদারার যুদ্ধে ইংরেজদের হাতে পরাজিত হয় – ( a ) ফরাসিরা ( b ) পাের্তুগিজরা ( c ) দিনেমাররা ( d ) ওলন্দাজরা
Ans:-d
52. শিক্ষার উন্নতিকল্পে বছরে এক লক্ষ টাকা খরচের কথা সরকার কোন্ আইনে বলেছিল ? ( a ) কাউন্সিল আইনে ( b ) রেগুলেটিং আইনে ( c ) চার্টার আইনে ( d ) পিটের ভারত শাসন আইনে
Ans:-c
53. ভারতের ম্যাকিয়াভেলি ' নামে যিনি পরিচিত ছিলেন - ( a ) দ্বিতীয় বাজীরাও ( b ) নানা ফড়নবীশ ( c ) নারায়ণ রাও ( d ) রঘুনাথ রাও
Ans:-b
54. হিতবাদের উদ্ভাবক ছিলেন-- ( a ) জেমস মিল ( b ) জেরেমি বেত্থাম ( c ) জুডিথ ব্রাউন ( d ) জন অস্টিন
Ans:-b
55. কো - হং ছিল একটি – ( a ) সামরিক সংগঠন ( b ) শিল্প সংগঠন ( c ) শ্রমিক সংগঠন ( d ) বণিক সংগঠন
Ans:- d
56. স্বাধীন হায়দরাবাদ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয় – ( a ) 1722 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1724 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1726 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1728 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-b
57. জেমস মিল ছিলেন একজন – ( a ) উদারবাদী ( b ) উপযােগবাদী ( c ) সমাজবাদী ( d ) ফ্যাসিবাদী
Ans:- b
58. কবে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটে ? – ( a ) 1770 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1771 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1772 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1773 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-c
59. শিমনােসেকির সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় – ( a ) 1894 খ্রিস্টাব্দে (b) 1895 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1896 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1897 খ্রিস্টাব্দে
Ans:-b
(60) ভারতীয় রেলপথের জনক / ভারতে রেলপথ প্রথম প্রবর্তন করেছিলেন - ( a ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( b লর্ড ডালহৌসি ( c ) লর্ড কর্নওয়ালিশ ( d ) লর্ড ওয়েলেসলি
Ans:- b
61. বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন –
( a ) বেন্টিঙ্ক ( b ) ক্যানিং ( c ) ডালহৌসি ( d) ওয়ারেন হেস্টিস
Ans:-d
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
১) সিরাজদৌলা কবে কলকাতা দখল করে।
১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
২) কবে কাদের মধ্যে আলিনগরের সন্ধি হয়?
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে।
৩) পলাশীর যুদ্ধ কবে হয়?
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে 23 শে জুন।
৪) পলাশীর যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি কে ছিলেন?
রবার্ট ক্লাইভ।
৫) দক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব কি নামে পরিচিত?
কর্ণাটকের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
৬) প্রথম ইঙ্গ ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিদের সেনাপতি কে ছিল?
ডুপ্লে।
৭) বাংলা স্বাধীন নবাব কে?
মুর্শিদকুলি খাঁ।
৮) কে কবে হায়দ্রাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে?
নিজাম-উল- মুলক বা চীন কিলিচ খাঁ। (১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে)
৯) কে কবে অযোধ্যা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
সাদাত খাঁ, ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে।
১০) স্বাধীন মহীশূর রাজ্যের কবে উত্থান ঘটে?
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে।
১১) স্বাধীন মহীশূর রাজ্যের প্রথম শাসক কে?
হায়দার আলী।
১২) সুরাটে কারা বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে?
ইংরেজরা।
১৩) কবে কার আমলে স্যার টমাস রো ভারতে আসেন?
1615 খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীরের আমলে।
১৪) টমাস রো কার দুত ছিলেন?
ব্রিটিশ রাজ প্রথম জেমসের।
১৫) কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ প্রতিষ্ঠা করে?
ইংরেজরা।
১৬) ফারুকশিয়ারের ফরমান কবে জারি হয়?
১৭১৭ খ্রি:।
১৭) কে ফারুকশিয়ারের ফরমান কে মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলেছিল?
ঐতিহাসিক ওরম।
১৮) ইংরেজরা তাদের প্রথম বাণিজ্যকুঠি কোথায় প্রতিষ্ঠা করেন?
সুরাটে।
১৯) রাজ বল্লভ কে ছিলেন?
ঢাকার দেওয়ান ছিলেন রাজবল্লভ।
২০) কৃষ্ণ দাস কে ছিলেন?
রাজবল্লভ এর পুত্র ছিল কৃষ্ণ দাস।
২১) নারায়ন দাস কে ছিলেন?
সিরাজের দুত ছিল নারায়ন দাস।
২২) অন্ধকূপ হত্যা কোন সময়ের ঘটনা?
1756 খ্রিস্টাব্দের 20 জুন।
২৩) অন্ধকূপ হত্যা কতজন সৈনিক মারা যায়?
123 জন।
২৪) কবে কাদের মধ্যে মাইলাপুর বা সেন্ট থোমের যুদ্ধ হয়?
ইংরেজরা কর্নাটকের নবাব আনোয়ার উদ্দিন এর সহায়তায় ফরাসিদের বিরুদ্ধে 1746 খ্রিস্টাব্দে সেন্ট থোমের যুদ্ধ হয়।
২৫) কবে কাদের মধ্যে আই-লা-স্যাপেলের সন্ধি হয়?
1748 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ফরাসিদের মধ্যে।
২৬) দ্বিতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ কবে শুরু হয়?
1759 খ্রিস্টাব্দে।
২৭) ইংরেজরা কবে ফরাসি ঘাঁটি চন্দননগর দখল করেন?
1751 খ্রিস্টাব্দে।
২৮) কোন সন্ধির দ্বারা এদেশে ইঙ্গ ফরাসি যুদ্ধের অবসান ঘটে?
প্যারিসের সন্ধি।
২৯) সিরাজদৌলার পর বাংলার নবাব কে হন?
মীরজাফর।
৩০) কবে কাদের মধ্যে বক্সারের যুদ্ধ হয়?
1764 খ্রিস্টাব্দে 22শে অক্টোবর মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম মিলিত হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বক্সারের যুদ্ধ হয়।
৩১) বক্সারের যুদ্ধের সময় বাংলার নবাব কে ছিলেন?
মীরজাফর।
৩২) বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে?
মীর কাসিম।
৩৩) বক্সারের যুদ্ধের সময় দিল্লির সম্রাট কে ছিলেন?
দ্বিতীয় শাহ আলম।
৩৪) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে কার কাছ থেকে দেওয়ানি লাভ করে?
1765 খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় শাহ আলম এর কাছ থেকে।
৩৫) কত টাকার বিনিময় কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করে?
26 লক্ষ।
৩৬) কার কাছ থেকে কোম্পানি 'কারা' প্রদেশটি দখল করে?
সুজাউদ দৌলা।
৩৭) কে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করে?
লর্ড ক্লাইভ।
৩৮) কে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান?
ওয়ারেন হেস্টিংস 1772 খ্রিস্টাব্দে।
৩৯) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কত খ্রিস্টাব্দে হয়?
1176 বঙ্গাব্দে / 1770 খ্রিস্টাব্দে।
৪০) কবে কাদের মধ্যে ম্যাঙ্গালোরের সন্ধি হয়?
1784 খ্রিস্টাব্দে টিপু সুলতান ও ইংরেজদের মধ্যে।
৪১) কবে কাদের মধ্যে মাদ্রাজের সন্ধি হয়?
1769 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ ও হায়দার আলীর মধ্যে।
৪২) তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ কোন সন্ধির দ্বারা শেষ হয়?
শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি 1792 খ্রিস্টাব্দে।
৪৩) দ্বিতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধ কোন সন্ধির দ্বারা শেষ হয়?
ম্যাঙ্গালোরের সন্ধি।
৪৪) শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি কবে কাদের মধ্যে হয়?
1792 খ্রিস্টাব্দে টিপু সুলতান ও ইংরেজদের সাথে হয়।
৪৫) শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি দ্বারা টিপু সুলতান কে কত টাকা দিতে বাধ্য করা হয়?
3 কোটি 30 লক্ষ টাকা।
৪৬) ভারতের মেকিয়াভেলি কাকে বলা হয়?
নানাফড়ন বিশ কে।
৪৭) কবে কাদের মধ্যে বেসিনের সন্ধি হয়?
1802 খ্রি: দ্বিতীয় বাজীরাও ও ইংরেজদের সাথে।
৪৮) রঞ্জিত সিং কোন অঞ্চলের অধিবাসী?
সুকার চুকিয়া।
৪৯) কবে কাদের মধ্যে লাহোর সন্ধি হয়?
1846 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের সাথে শিখ বাহিনীর এই সন্ধি হয়।
৫০) কবে কার আমলে পাঞ্জাব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?
1849 খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসির আমলে।
৫১) রেগুলেটিং অ্যাক্ট কবে পাস হয়? 1773 খ্রিস্টাব্দে। ৫২) ভারতের প্রথম সুপ্রিম কোর্ট কোনটি এটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? কলকাতা সুপ্রিম কোর্ট, 1774 খ্রিস্টাব্দে। ৫৩) কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে? স্যার এলিজা ইম্পে
৫৪) পিটের ভারত শাসন আইন কবে পাস হয়? 1784 খ্রিস্টাব্দে।
৫৫) পিটের ভারত শাসন আইনের একটি শর্ত লেখ? ক) ভারতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কাউন্সিল গঠিত হয়, যার সহায়তায় গভর্নর জেনারেল তার শাসন পরিচালনা করে।
৫৬) রেগুলেটিং অ্যাক্ট দ্বারা কতজন সদস্য মিলে একটি কাউন্সিল গঠিত হয়? চারজন সদস্য মিলে।
৫৭) কোম্পানির আমলে প্রথম সনদ আইন কবে পাস হয়? 1793 খ্রিস্টাব্দে।
৫৮) কোন সনদ আইন এর ধারা এদেশে কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অবসান ঘটে? 1793 খ্রিস্টাব্দে চার্টার অ্যাক্ট।
৫৯) কোন সনদ আইন দ্বারা ভারতীয় শিক্ষার জন্য এক লক্ষ টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়? 1813 খ্রিস্টাব্দে চার্টার অ্যাক্ট।
৬০) কোন সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর ভারতীয় গভর্নর জেনারেল হিসেবে পরিচিত? 1833 খ্রিস্টাব্দে চার্টার অ্যাক্ট।
৬১) এদেশে শেষ কবে সনদ আইন পাশ হয়? 1853 খ্রিস্টাব্দে চার্টার অ্যাক্ট।
৬২) কোন আইন অনুসারে এদেশে কোম্পানির অবসান ঘটে? ভারত শাসন আইন।
৬৩) ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিল? লর্ড ক্যানিং। ৬৪) কোন সনদ আইন অনুসারে অবাধ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আমলা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়? 1793 খ্রিস্টাব্দে সনদ আইন অনুসারে।
৬৫) "কোড কর্নওয়ালিস' কবে পাস হয়? 1793 খ্রিস্টাব্দে।
৬৬) ভারতের ইস্পাত কাঠামো কাকে বলে? ভারতীয় আমলাতন্ত্রকে।
৬৭) এদেশের নিয়মিত পুলিশ বাহিনী কে গড়ে তোলে? ওয়ারেন হেস্টিংস 1787 খ্রিস্টাব্দে।
৬৮) দারোগা প্রথা কার আমলে চালু হয়? কর্নওয়ালিসের আমলে 1802 খ্রিস্টাব্দে।
৬৯) কে ভারতে একটি স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলে? ক্যাপ্টেন স্টিনজার লরেন্স 1748 খ্রিস্টাব্দে।
৭০) কাদের যুদ্ধ উপযোগী জাতি বলা হত? ইংরেজদের অনুগত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের প্রধান পাঞ্জাব, জাঠ, উত্তর ভারতের রাজপুত, নেপালের গোর্খা প্রভৃতি জাতিকে যুদ্ধ উপযোগী জাতি বলা হত।
৭১) কোন কোম্পানির উদ্যোগে দেশে রেলপথ প্রতিষ্ঠিত হয়? গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেল কোম্পানি।
৭২) ভারতীয় রেল কবে বোর্ড গঠন করে? 1905 খ্রিস্টাব্দে।
৭৩) রেলপথ নির্মাণের একটি সদর্থক প্রভাব লেখ? ক) প্রশাসনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা:-ভারতের রেলপথের বিস্তারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রশাসনিক ঐক্য গড়ে ওঠে এবং এদেশে ব্রিটিশ শাসনের ভিত আরো শক্ত হয়।
৭৪) রেলপথ নির্মাণের একটি নেতিবাচক দিক লেখ? সম্পদের বহির্গমন-রেলপথ নির্মাণের জন্য বার্ষিক 5% হার সুদে গ্যারান্টি প্রথার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মূলধন বিনিয়োগ করা হতো। এর ফলে সুদ ও মুনাফা হিসেবে প্রচুর পরিমাণ অর্থ প্রতিবছর ইংল্যান্ডে চলে যেতে থাকে।
৭৫) কে, কবে প্রথম চা গাছ আবিষ্কার করেন? রবার্ট ব্রুস নামে জৈনিক ইংরেজ হাজার 830 খ্রিস্টাব্দে আসামের জঙ্গল থেকে সর্বপ্রথম চা গাছ আবিষ্কার করেন।
৭৬) কে, কবে চা কমিটি গঠন করেন? লর্ড বেন্টিং 1834 খ্রিস্টাব্দে।
৭৭) নীল বিদ্রোহ কবে হয়? 1859 থেকে 1860 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
৭৮) ভারতের প্রথম পাটকল কে কোথায় কবে প্রতিষ্ঠা করে? জর্জ অকল্যান্ড 1855 খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার নিকটবর্তী রিষড়ায় ভারতের প্রথম পাটকল স্থাপন করেন।
৭৯) জামসেদজী টাটা কেন বিখ্যাত? টাটা আয়রন এন্ড ষ্টীল শিল্পের জন্য।
৮০) Tisco- কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? 1907 খ্রিস্টাব্দে।
৮১) 'কার এন্ড ট্রেগর'-কোম্পানি কে প্রতিষ্ঠা করে? দ্বারকা নাথ ঠাকুর।
৮২) হিতবাদ কি? যে মতবাদে জনগণের সর্বাধিক হিত বা মঙ্গলের কথা বলে এবং দুঃখ মোচনের উদ্যোগ নেয় তাকে হিতবাদ বলে। উদ্ভাবক- জেরেমি বেন্থাম।
৮৩) একজন হিতবাদী প্রবক্তার নাম লেখ? জেমস মিল। ৮৪) জেমস মিল ভারতের ইতিহাস কে কয়টি ভাগে ও কি কি ভাগে ভাগ করে? তিনটি ভাগে। যথা-১) হিন্দু, ২)মুসলিম, ৪)ব্রিটিশ যুগ।
৮৫) কমিটি অফ পাবলিক ইন্সট্রাকশন এর সভাপতি কে? লর্ড মেকলে।
৮৬) কার আমলে ইন্ডিয়ান পেনাল কোড রচিত হয়? লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
৮৭) ইন্ডিয়ান পেনাল কোড রচনায় লর্ড মেকলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।(শুদ্ধ)√
৮৮) 'ক্রমনিম্ন পরিস্রুত নীতি' বা 'চুইয়ে পড়া নীতি' কি? এর প্রবক্তা কে? লর্ড মেকলে মনে করেন যে, প্রথম পর্যায়ে ভারতের উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। জল যেভাবে উপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হয় তেমনি মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ম্যাকলের এই নীতি চুইয়ে পড়া নীতি নামে পরিচিত।
৮৯) সকল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা নীচে দেওয়া হলো বোঝা এবং মনে রাখার সুবিধার্থে::::👇👇👇👇👇👇👇
ক) পাঁচশালা বন্দোবস্ত--- ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২- বন্দোবস্ত ১৭৭৭ খ্রি: )
খ) একসালা বন্দোবস্ত ---- ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৮৯-১৭৭৭ খ্রি:)
গ) দশশালা বন্দোবস্ত-----লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৮৯- ১৭৯০খ্রি:)
ঘ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত----লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৯৩ খ্রি:)
ঙ) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত----আলেকজান্ডার রিড ও টমাস মনরো( ১৮২০খ্রি:)
চ) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত-----এলফিনস্টোন (১৮২২খ্রি:)
ছ) ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত ---- আলেকজান্ডার রিড (১৮২৪ খ্রি:)
৯০) কে কেন ভ্রম্যমান কমিটি গঠন করেন? ওয়ারেন হেস্টিংস, 1772 খ্রিস্টাব্দে রাজস্ব আদায় ও জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য এটি গঠন করেন।
৯১) বাংলাদেশ কবে দশসালা বন্দোবস্ত চালু হয়? 1789 খ্রিস্টাব্দে 10 ফেব্রুয়ারি।
৯২) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি শর্ত লেখ? জমিদার ইচ্ছামত জমি দান, বিক্রি বা বন্ধক রাখতে পারবেন।
৯৩) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত এর একটি বৈশিষ্ট্য লেখ? এই ব্যবস্থায় রাজস্বের হার খুব বেশি ছিল। সাধারণত 30 বছর পর এই রাজস্ব হারের পরিবর্তন করা হতো।
৯৪) দ্বাদন কি? দ্বাদন কথার অর্থ হল অগ্রিম অর্থ। কম্পানি ভারতীয় বণিক ও তাঁতিদের আগাম অর্থ দিত এবং তার বিনিময় ওই কারিগররা তাঁতিদের কম মূল্যে দ্রব্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করত। এই ব্যবস্থা 'দ্বাদন ব্যবস্থা' নামে পরিচিত।
৯৫) বোর্ড অফ ট্রেড কবে গঠিত হয়? 1774 খ্রিস্টাব্দে। ৯৬) অবশিল্পায়ন কি? এদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পর এবং ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ফলে দেশীয় কুটির শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে, যাকে অবশিল্পায়ন বলা হয়।
৯৭) ভারতের রেলপথের প্রতিষ্ঠার জনক কাকে বলে? ডালহৌসি কে।
৯৮) গ্যারান্টি ব্যবস্থা কি? রেলপথ নির্মাণে কোম্পানিগুলিকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলিকে সরকার কয়েকটি বিষয়ে গ্যারান্টি দেয়, এই ব্যবস্থাকে গ্যারান্টি ব্যবস্থা বলে।
৯৯) কোম্পানি কবে এজেন্সি ব্যবস্থা চালু করে? 1753 খ্রিস্টাব্দে।
১০০) রেল স্থাপনের একটি উদ্দেশ্য লেখ? কাঁচামালের রপ্তানি সহজ করা।
১০১) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের একটি ত্রুটি লেখ? ক) এই বন্দোবস্তে কৃষকরা তাদের জমির মালিকানা হারান।
১০২) সূর্যাস্ত আইন কি? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অন্যতম শর্ত হলো - 'সূর্যাস্ত আইন'।এই আইন অনুসারে কোন জমিদার যদি নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে রাজস্ব জমা দিতে না পারে, তাহলে সেই জমিদার তার জমিদারি হারাবে।
১০৩) একসালা বন্দোবস্ত এর একটি ত্রুটি লেখ? ক) এই বন্দোবস্তে রাজস্বের হার অতন্ত বেশি। ফলে কৃষকরা বিভিন্নভাবে শোষিত হত।
১০৪) পাঁচশালা বন্দোবস্তের একটি ত্রুটি লেখ? ক) এই ব্যবস্থায় কোম্পানি আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
১০৫) কার আমলে বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয়েছিল? লর্ড কাটিয়ার এর আমলের।
১০৬) পিল কমিশন কেন গঠিত হয়? ভারতের সামরিক বিষয়ে তদারকির উদ্দেশ্যে।
১০৭) কোড কর্নওয়ালিস কী? লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের বড়লাট হিসেবে এদেশে এসে কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি দমন করতে ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে 1793 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কর্নওয়ালিস বিভিন্ন নীতি ও পদ্ধতি প্রবর্তন করেন, যা কোর্ড কর্নওয়ালিস নামে পরিচিত।
১০৮) এজেন্সি ব্যবস্থা কি? এদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পর কোম্পানি তার বিভিন্ন কর্মচারীকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করে। 1753 থেকে 1775 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেই এজেন্ট এর মাধ্যমে কোম্পানি বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করতে থাকে, একেই বলা হয় এজেন্সি ব্যবস্থা।
১০৯)বেসিনের সন্ধি কবে কাদের মধ্যে হয় এবং এই সন্ধির একটি শর্ত লেখ? 1802 খ্রিস্টাব্দে মারাঠা শাসক দ্বিতীয় বাজিরাও ও ইংরেজদের মধ্যে হয়।
শর্ত-১) পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও ইংরেজদের সাথে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি মানতে বাধ্য হয়। ২) পেশোয়ার সুরক্ষার জন্য পুনায় ইংরেজ সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হয়।
১১০) প্রাচীন কালে চিনেরা নিজেদের দেশকে স্বর্গীয় দেশ বলে গর্ব করতো।
১১১) প্রাচীনকালে চীনারা চীন সম্রাট কে কি বলতেন? স্বর্গের সন্তান।
১১২) উনিশ শতকে চিনে কোন রাজবংশ রাজত্ব করত? মাঞ্চু রাজবংশ।
১১৩) কাও তাও প্রথা কোথায় প্রচলিত ছিল? চীনে।
১১৪) কাও তাও প্রথা কি? চীন সম্রাটের সামনে ভূমি পর্যন্ত নত হওয়ার প্রথাকে কাও তাও প্রথা বলা হয়।
১১৫) চিনে প্রচলিত দুটি প্রধান নাম লেখ? কাও তাও প্রথা, নজরানা প্রথা।
১১৬) কোন বিদেশি শক্তি চীনে প্রথম প্রবেশ? পর্তুগিজ।
১১৭) প্রথম ইঙ্গ শিখ যুদ্ধ কবে হয় ও এই যুদ্ধের অন্য নাম কি? 1840 খ্রিস্টাব্দে এই যুদ্ধের অন্ন নাম আফিম যুদ্ধ।
১১৮) নানকিং এর সন্ধি কবে কাদের মধ্যে হয়? 1842 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের সাথে চীনের।
১১৯) প্রথম ইঙ্গ চীন যুদ্ধ কোন সন্ধির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়? নানকিং এর সন্ধি মাধ্যমে।
১২০) কোন বংশের শাসনকালে চীনে বিদেশি শক্তিগুলির আধিপত্যের? কিং বা চিং বংশের।
১২১) কোন রাষ্ট্রের সাথে অসম চুক্তি করা হয়? চীনের সঙ্গে বিভিন্ন অসম চুক্তি করা হয়।
১২২) কোন সন্ধির দ্বারা চীনের পাঁচটি বন্দর ইউরোপীয়দের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়? নানকিং সন্ধি।
১২৩) কবে কাদের মধ্যে তিয়েন সিয়েনের চুক্তি হয়? 1858 খ্রিস্টাব্দে চীনের সাথে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।
১২৪) বক্সার প্রটোকল এর একটি শর্ত লেখ? বিদ্রোহের সাথে জড়িত 12 জন চিনা রাজপুরুষের প্রাণদণ্ড হয় এবং শতাধিক রাজপুরুষের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।
১২৫) কোন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রথম ইঙ্গ চীন যুদ্ধ হয়? আফিং।
১২৬) চীন জাপান যুদ্ধ কবে হয়? এই যুদ্ধে কে পরাজিত হয়?
1898 থেকে 1895 খ্রিস্টাব্দে চীন-জাপান যুদ্ধ হয়। চীন এই যুদ্ধে পরাজিত হয়।
১২৭) দ্বিতীয় আফিমের যুদ্ধ কবে হয় ? এই যুদ্ধে পরাজিত চীন কোন সন্ধি করে?
1856 খ্রিস্টাব্দে হয়। আইগুনের সন্ধি করে।
১২৮) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের অসম চুক্তি কি নামে পরিচিত?
ওয়াং ঘিয়ারের অসম চুক্তি।
১২৯) বগের অসম চুক্তি কবে কার মধ্যে হয়?
৮ ই অক্টোবর ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ও চীনের মধ্যে।
১৩০) অসম চুক্তি কি?
উনিশ শতকের বা বিশ শতকের শুরুতে চীনে কিং বা চিং বংশের শাসনকালে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান প্রভৃতি বহিরাগত সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের সামরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চীনকে যুদ্ধে পরাজিত করে সেদেশে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যের প্রসার ঘটায়। এই সমস্ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো প্রায় প্রত্যেকটি যুদ্ধের পরে চিনে এর উপর একটি শোষণমূলক সন্ধিচুক্তি চাপিয়ে দেয়, এই চুক্তি গুলি সাধারণ ভাষায় 'অসম- চুক্তি' নামে পরিচিত।
১৩১) শতাব্দিব্যাপী অবনমননা কি?
মোটামুটি ভাবে 1839 খ্রিস্টাব্দ থেকে 1949 খ্রিস্ট পূর্ব পর্যন্ত বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো চীনের সঙ্গে শোষণমূলক আচরণ চালাতে থাকে। এজন্য চীনের সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলো স্বাক্ষরিত অসম চুক্তি গুলি কে চীনারা "শতাব্দি ব্যাপী অবনমননা" বলে অভিহিত করা হয়।
১৩২) চুক্তি বন্দর কাকে বলে?
ক্যান্টন, সাংহাই, অ্যাময়, নিংগপো, ফুচাও- চীনের এই পাঁচটি বন্দর ইউরোপীয়দের বাণিজ্য ও ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এই বন্দরগুলোকে একত্রে 'চুক্তি বন্দর' বলা হয়।
১৩৩) ক্যান্টন বাণিজ্য প্রথা কি?
1757 খ্রিস্টাব্দের পরবর্তীকালে ক্যান্টন হয়ে ওঠে বিদেশিদের বাণিজ্যের কাছে একমাত্র উন্মুক্ত বন্দর। চিনা আদালত 1759 খ্রিস্টাব্দে এক নির্দেশনামা দ্বারা একমাত্র ক্যান্টন বন্দর কে বিদেশিদের বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত বলে ঘোষণা করে। এভাবে ক্যান্টন বন্দর কে কেন্দ্র করে চিনে বিদেশিদের এক বন্দর কেন্দ্রিক যে বাণিজ্য প্রথার সূচনা হয়, তাই 'ক্যান্টন বাণিজ্য প্রথা' নামে পরিচিত।
১৩৪) রুদ্ধদ্বার নীতি কি?
বাণিজ্যের মরশুম চীনে শেষ হলে বিদেশী বণিকদের ক্যান্টন ত্যাগ করতেই হতো, চীনে বিদেশী বণিকদের প্রতি এই ধরনের কঠোর নীতি 'রুদ্ধদ্বার নীতি' নামে পরিচিত।
১৩৫) চিনা তরমুজের খন্ডীকরণ কি? খাওয়ার জন্য তরমুজকে যেমন খণ্ড-খণ্ড করে কাটা হয়, পাশ্চাত্য দেশ গুলি সেই ভাবেই চীনকে টুকরো টুকরো করে আত্মসাৎ করে। ঐতিহাসিক হরাল্ড ভিনাক এই অবস্থাকে 'চিনা তরমুজের খন্ডীকরণ' বলেছেন।
১৩৬) পন্ডিচেরিতে কাদের প্রধান ঘাঁটি ছিল?
ফরাসিদের।
১৩৭) বাংলার প্রথম গভর্নর কে ছিলেন?
লর্ড ক্লাইভ।
১৩৮) দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা কোথায় চালু হয়?
বাংলায়।
১৩৯) রুদ্ধদ্বার নীতি প্রচলিত ছিল কোথায়?
চীনে।
১৪০) সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন কে?
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
১৪১) চিনা 'তাই চিং' কথার অর্থ কী?
স্বর্গীয় শান্তি
১৪২) দস্তক কী?
মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার 1717 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্দেশ্যে এক ফরমান জারি করেন। এই ফরমানে বলা হয় কোম্পানি বার্ষিক 3000 টাকার বিনিময়ে বাংলায় বিনাশুল্কে বাণিজ্য করতে পারবে। ফারুকশিয়ারের এই ফরমানই 'দস্তক' নামে পরিচি
১৪৩) দস্তক কথার অর্থ কি?
বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার ছাড়পত্র
১৪৪) আলিনগরের সন্ধি কবে কাদের মধ্যে হয় ? শর্ত কি ?
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিরাজউদ্দৌলা ও ইংরেজদের মধ্যে আলিনগরের সন্ধি হয়েছিল।
শর্তাবলী-১) ইংরেজরা বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার পায়
২) ইংরেজরা কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ ও নিজেদের নামে মুদ্রা প্রচলনের অধিকার পান।
১৪৫) দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা কি?
1757 খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হবার পর লর্ড ক্লাইভ বাংলায় এক অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থা চালু করে। যেখানে কোম্পানির হাতে ক্ষমতা ছিল প্রচুর অথচ তারা কোনো দায়িত্ব নেয়নি। অন্যদিকে, নবাবের হাতে প্রচুর দায়িত্ব দেয়া হয়, কিন্তু তার হাতে কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। কোম্পানির ছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং নবাবের ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। ক্লাইভ প্রবর্তিত এই অদ্ভুত শাসনকে 'দ্বৈত শাসন' বলা হয়।
১৪৬) পিটের ভারত শাসন আইন কী?
রেগুলেটিং অ্যাক্ট এর ত্রুটি গুলি সংশোধন করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উয়িলিয়াম পিটের উদ্যোগে ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে "ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অ্যাক্ট" নামে একটি আইন পাশ হয়, যা "পিটের ভারত শাসন আইন" নামে পরিচিত।
✍️ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
১.ভারতে রেলপথ বিস্তারের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো ।
অথবা , ভারতে কে , কবে রেলপথ স্থাপন করেন ? রেলপথ স্থাপনের বিভিন্ন উদ্দেশ্য কী ছিল ?
Ans: রেলপথের স্থাপনা : ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনকালে ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম রেলপথ স্থাপনের প্রস্তাব ওঠে , যার শেষ পরিণতি অর্থাৎ ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত রেলপথ নির্মিত হয় ।
রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য : নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে কোম্পানি ভারতে রেলপথ স্থাপন করে । উদ্দেশ্যগুলি হলো—
ডালহৌসির উদ্দেশ্য : ডালহৌসির মতে , ভারতের দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত সেনাবাহিনী পাঠানো , যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে বাণিজ্য ব্যবস্থার সম্প্রসারণে রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ।
পুঁজি বিনিয়োগ : শিল্পবিপ্লবের ফলে ব্রিটিশ শিল্পপতিরা বিপুল পরিমাণ পুঁজির মালিক হয়ে ওঠে । তারা ভারতে রেলপথ নির্মাণে মূলধন বিনিয়োগ করতে থাকে । কারণ এই বিনিয়োগ তাদের কাছে ছিল প্রচুর মুনাফা লাভের মাধ্যম ।
কাঁচামাল রপ্তানি : ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের দরুন প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দ্রুত সরবরাহ করার জন্য প্রয়োজন ছিল রেলপথের ন্যায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা । ড . সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেছেন— “ এই সব লাভের লোভই ছিল আসল কথা , এদেশের অর্থনীতির আধুনিকীকরণ মোটেই নয় । ”
বিলেতি পণ্যের সরবরাহ : ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের ফলে উৎপাদিত বিপুল পণ্যসামগ্রীর বিক্রির জন্য প্রয়োজন ছিল ভারতের মতো বৃহত্তর বাজার । ভারতের অভ্যন্তরে দূর দুরান্তে এই পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবার জন্য প্রয়োজন ছিল উন্নত রেল যোগাযোগের ।
রাজনৈতিক প্রয়োজন : বিশাল ভারতীয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক তদারকির জন্য প্রয়োজন ছিল উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার । আর রেলপথ সেসব অভাব পূরণে সক্ষম ছিল ।
সামরিক উদ্দেশ্য : ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দিলে দ্রুত সৈন্যবাহিনী পাঠানোর জন্য প্রয়োজন ছিল উন্নত রেল যোগাযোগ ।
অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য : শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত দ্রব্য দ্রুত ভারতের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেবার জন্য অন্যতম মাধ্যম ছিল রেলপথ ।
ভারতে রেলপথ স্থাপনের ফলাফল / প্রভাব : ভারতীয় উপনিবেশিক অর্থনীতিতে রেলপথ নির্মাণে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল এইরকম –
প্রশাসনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা : ভারতে রেলপথ বিস্তারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় । ফলে দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রশাসনিক ঐক্য গড়ে ওঠে ও এদেশে ব্রিটিশ শাসনের ভীত আরও শক্ত হয় ।
পরিবহণ বৃদ্ধি : রেল ব্যবস্থা প্রসারের ফলে ভারতে মানুষ ও পণ্য উভয় পরিবহণের কাজে যোগযোগের মাধ্যম বৃদ্ধি পায় ।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বৃদ্ধি : রেলপথের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারগুলির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং এক অঞ্চলের পণ্য অন্য অঞ্চলে সহজেই সরবরাহ করা সম্ভব হয় ।
মূল্যায়ন: ভাষা , ধর্ম ও গোষ্ঠীগত বিভেদের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে রেলপথের প্রসারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও মতামতের আদানপ্রদান দ্বারা জাতীয় ঐক্য ও জাতীয়তাবোধ বৃদ্ধি পায় ।
২.ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
Ans: সূচনা : কৃষিপ্রধান দেশ ভারতবর্ষের অর্থনীতি সুপ্রাচীন কাল থেকেই কৃষিনির্ভর । রাষ্ট্রীয় আয়ের সিংহভাগ আদায় হয় ভূমিরাজস্ব থেকে । কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে কৃষককুলের স্বার্থ এদেশে চিরকালই অবহেলিত । কোম্পানির আমলে কৃষক সম্প্রদায় আরও শোষিত হয় ভূমিরাজস্বের মাধ্যমে ।
হেস্টিংস – এর পদক্ষেপ : লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস – এর শাসনকালকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার পরীক্ষা – নিরীক্ষার যুগ বলা হয়ে থাকে । ১৭৭২ খ্রি : তিনি জমি ইজারাদারদের নিলামে দেবার জন্য ‘ ভ্রাম্যমাণ ‘ কমিটি গঠন করেন । :
পাঁচসালা বন্দোবস্ত : ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোম্পানির আমলে প্রথম তাই এই ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্তকে বলা হয় পাঁচসালা বন্দোবস্ত বা ইজারাদারি বন্দোবস্ত । এই বন্দোবস্ত অনুসারে জমি পাঁচ বছরের জন্য বন্দোবস্ত করা হতো ।
একসালা বন্দোবস্ত : পাঁচসালা বন্দোবস্তের বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিলে তার অবসানে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত – এর প্রবর্তন করেন । হেস্টিংস আমিনি কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ১৯৭৭ খ্রি .
দশসালা বন্দোবস্ত : লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস – এর পরবর্তীতে লর্ড কর্নওয়াি গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব নেবার পর কৃষির উন্নতি , প্রজাপীড়ন বন্ধ করার জন্য এবং কোম্পানির বাৎসরিক আয়ের নিশ্চয়তা দান করতে ১৭৮৯ খ্রি : বাংলায় , ১৭৯০ খ্রি : উড়িষ্যায় দশ বছরের জন্য যে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত করেন তা দশসালা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত ।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ – এর পর পাকাপাকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ১৭৯০ খ্রি :। এইসময় লর্ড কর্নওয়ালিশ জমিদারদের সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে এক ভূমিবন্দোবস্ত করেন । এই ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা অনুসারে স্থির হয় জমিদারগণ নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে ভূমিরাজস্ব প্রদান করতে বাধ্য থাকবে । তা না করতে পারলে তাদের জমিদারি স্বত্ব বাজেয়াপ্ত হবে । এছাড়া স্থির হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয় – এর সময়েও রাজস্ব মকুব হবে না , জমিদাররা ইচ্ছামতো জমিদান বা বিক্রয় ও বন্ধক রাখতে পারবে ।
রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত : ১৮২০ খ্রি : ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার রিড ও টমাস মনরোর উদ্যোগে ভারতের দক্ষিণ ও দক্ষিণ – পশ্চিম অঞ্চলে যে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্তু প্রবর্তন করা হয় তা রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত । এই বন্দোবস্ত ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতো । এই বন্দোবস্ত অনুসারে কোম্পানি সরাসরি জমিদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ।
মহলওয়ারি বন্দোবস্ত : ১৮২২ খ্রি : এলফিনস্টোন ভারতবর্ষের উত্তর – পশ্চিম সীমান্ত ও গাঙ্গেয় উপত্যকা অঞ্চলে কিছু কিছু গ্রাম নিয়ে একটি মহল বা তালুক সৃষ্টি করে ইজারা দেওয়ার যে রীতির প্রচলন ঘটান তা মহলওয়ারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত ।
৩.পলাশি ও বক্সার যুদ্ধের ফলাফলের তুলনামূলক আলোচনা করো ।
Ans: পলাশি যুদ্ধের ফলাফল : ঐতিহাসিক ম্যালেসন বলেছেন , “ পলাশির যুদ্ধের মতো আর কোনো যুদ্ধের ফলাফল এত ব্যাপক ও স্থায়ী হয়নি । ” এই যুদ্ধের ফলে –
কোম্পানির সার্বভৌমত্ব : পলাশির যুদ্ধে জয়লাভ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি । ভারতে কোম্পানির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে ।
রাজনীতিতে প্রাধান্য : এই যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক পুতুলে পরিণত হন । ক্ষেত্রে প্রকৃত নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয় কোম্পানি ।
প্রশাসনিক শূন্যতা : পলাশির যুদ্ধে বাংলার নবাবের পরাজয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয় । বাংলায় দেখা দেয় প্রশাসনিক শূন্যতা । কোম্পানি ইচ্ছামতো ব্যক্তিকে নবাব পদে বসায় ।
একচেটিয়া বাণিজ্য : পলাশির যুদ্ধে জিতে কোম্পানি দস্তক বা বিনাশুল্কে বাণিজ্যিক অধিকার প্রয়োগ করে বাংলার বাণিজ্যে একচেটিয়া প্রাধান্য স্থাপন করে । ধ্বংস হয় দেশীয় ব্যাবসাবাণিজ্য ।
বাংলার পরাধীনতা : পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজ – উদ – দৌলার পতনের ফলে বাংলা পরাধীন হয়ে পড়ে । ইংরেজরা মিরজাফরকে সিংহাসনে বসিয়ে নিজেরা সিংহাসনের পশ্চাৎ শক্তিতে পরিণত হয় ।
বক্সার যুদ্ধের ফলাফল : বক্সার যুদ্ধ ( ১৭৬৪ ) প্রসঙ্গে জেমস স্টিফেন বলেছেন , “ ভারতে ব্রিটিশ শক্তির উৎস হিসেবে বক্সারকে গণ্য করা হয় । ” এর ফলে—
ভাগ্য নির্ণায়ক যুদ্ধ : বক্সারের যুদ্ধ ছিল ভারত ইতিহাসের ভাগ্য নির্ণায়ক যুদ্ধ । যে কারণে ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র বলেছেন , “ এটি ছিল ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক নিষ্পত্তিমূলক নির্ণায়ক । ”
বাংলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির পথ থেকে সব বাধা দূর হলো । বাংলায় কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ হলো সহজ ।
উত্তর ভারতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর কোম্পানি উত্তর ভারতে নজর দেয় । অযোধ্যার নবাব কোম্পানির অনুগত হন । উত্তর ভারতে কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় ।
আর্থিক লুণ্ঠন : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের ফলে বাংলার বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে কোম্পানির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় । এই সুযোগে শুরু হয় আর্থিক লুণ্ঠন । মিরকাশিমের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উপঢৌকন আদায় করা হয় ।
দেওয়ানি লাভ : বক্সারের যুদ্ধের পর বাংলা , বিহার , উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে কোম্পানি । এতে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব লাভের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক লাভ হয়েছিল ।
মূল্যায়ন : ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের মতে , পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মধ্যযুগের অবসান হয় এবং আধুনিক যুগের সূচনা হয় । অবশ্য বক্সার যুদ্ধে জয়লাভের পরই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয় । এ প্রসঙ্গে র্যামসে মুর বলেছেন , “ বঙ্গার বাংলার উপর কোম্পানির শাসন – শৃঙ্খলা চূড়ান্তভাবে স্থাপন করেছিল ।
৪.ভারতে রেলপথ স্থাপনের ঘটনা এদেশের অর্থনীতিতে কী ফেলেছিল ?
Ans: সূচনা : আধুনিক রেলপথ স্থাপন ভারতবর্ষে কেবলমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থারই যে উন্নতিসাধন করেছিল তা নয় , তৎকালীন ভারতীয় অর্থনীতিতেও এর সুদুরপ্রসারী ফলাফল লক্ষ করা যায় । ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্রের মতে— “ The construction of railway had a revolutionary impact on the life , culture and economy of the Indian people . ”
ভারতের অর্থনীতিতে রেলপথের সুফল :
বিদেশের বাজারে ভারতের পণ্যে সাফল্য : রেলপথের জন্য পরিবহণ খরচ | কমে যাওয়ায় ভারতের পণ্যগুলি বিদেশের বাজারে সাফল্যের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় । রপ্তানির সাথে আমদানির পরিমাণও বেড়ে যায় ।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি : রেলপথ স্থাপনের ফলে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে যায় । আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে ।
ব্রিটেন – ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিন্যাস : ১৮৮০ খ্রি : মধ্যে ব্রিটেন ভারতের সবচেয়ে বড়ো ক্রেতা ও বিক্রেতার স্থান দখল করে যা ব্রিটেন ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিন্যাস ঘটায় ।
নগরকেন্দ্রিক অর্থনীতির ব্যাপকতা : রেলপথ প্রসারের ফলে বন্দর নগরগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় । নগরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । এভাবেই গড়ে ওঠে নগরকেন্দ্রিক অর্থনীতি।
কর্মসংস্থানের সুযোগ : ভারতীয় রেলপথের দ্রুত প্রসার কর্মবিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত করেছিল । ১৮৬৫ খ্রি : রেলে নিযুক্ত কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৪০০০ কিন্তু ১৯৮৫ খ্রি : এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭৩০০০ – এ ।
ভারতীয় অর্থনীতিতে রেলপথের কুফল :
গ্যারান্টি প্রথার কুফল : গ্যারান্টি প্রথা অনুসারে রেল কোম্পানিগুলিকে প্রভুর ভরতুকি এবং পুঁজির লগ্নির ওপর পাঁচ শতাংশ হারে সুদও দেওয়া হচ্ছিল ।
ধন নিষ্কাশন বৃদ্ধি : ব্যয়বহুল রেলপথ নির্মাণের জন্য ভারতীয় অর্থনীতির ওপর যথেষ্ট চাপ পড়ে । এককথায় বলতে গেলে গ্যারান্টি প্রথার দ্বারা ভারতীয় অর্থনীতির এক বিরাট অংশ বিদেশে চলে যায় ।
জলপথ ও সড়কপথ অবহেলিত : রেলপথ চালু হওয়ায় তা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে পড়ে । ফলে জলপথ ও সড়কপথ অনেকটাই অবহেলিত হয়ে পড়ে ।
মন্তব্য : রেলপথ স্থাপনের ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতার সঞ্চার হয় । এবং ভারত শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয় । তবে এর ক্ষতিকারক দিকগুলিকে অস্বীকার করা যায় না ।
৫.কে , কবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন ? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল লেখো ।
Ans: সূচনা : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ খ্রি : দেওয়ানি লাভের পর ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা নিয়ে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন । এই পরীক্ষানিরীক্ষার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । ১৭৯৩ খ্রি : মার্চ মাসে লর্ড কর্নওয়ালিশ এই ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন । এই ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্তের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী যা সমকালীন আর্থ – সামাজিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল ।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল : চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে কোম্পানি , জমিদার ও কৃষক এই তিনটি শ্রেণিরই কিছু লাভ ও ক্ষতি হয়েছিল । যেমন—
সুফল : মার্শম্যানের মতে , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তু ছিল একটি দৃঢ় সাহসিকতাপূর্ণ ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ । এর সুফলগুলি ছিল—
বাজেট প্রস্তুতে সহায়ক : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বার্ষিক আয় সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কোম্পানির বাজেট প্রস্তুতে তা সহায়ক হয়েছিল ।
উৎখাতের সম্ভাবনা হ্রাস : কৃষকদের রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কৃষকদের সুবিধা হয়েছিল । কারণ তারা ইজারাদারদের শোষণ ও জমি থেকে ঘন ঘন উৎখাতের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পায় । তবে সকল কৃষকেরই যে এমন হয়েছিল একথা বলা যায় না ।
জমি ও প্রজাবর্গের উন্নতিসাধন : জমিদারদের চিরস্থায়ীভাবে জমির মালিকানার অধিকারদানের ফলে জমি এবং প্রজাসাধারণের উন্নতিসাধনের প্রেরণা পেয়েছিল ।
আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে দেশে কৃষিযোগ্য আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার ফলে ফসলের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায় ।
ব্রিটিশদের অনুগত গোষ্ঠী : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা জমিদাররা সরকারের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ব্রিটিশ সরকারের স্থায়িত্ব রক্ষার চেষ্টা করে । ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয় ।
কুফল : ১৭৯৩ খ্রি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফলগুলি ছিল অধিক প্রকট । যেমন — ঐতিহাসিক হোস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তুকে ‘ একটি দুঃখজনক ভুল ’ বলে অভিহিত করেছেন । এডওয়ার্ড থর্নটন বলেন— “ চরম অজ্ঞতা থেকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সৃষ্টি । ” এই ভূমিবন্দোবস্তের কুফলগুলি ছিল এইরকম—
কৃষকদের দুর্দশা বৃদ্ধি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে জমির মালিক ছিল প্রজারা কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা এই মালিকানা থেকে তারা বঞ্চিত হয় এবং কৃষকরা ব্যক্তিগতভাবে জমিদারদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । ফলে কৃষকদের জীবন হয়ে ওঠে চরম দুর্দশাগ্রস্ত ।
চড়া হারে খাজনা আদায় : চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্তে রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করার পূর্বে জমি প্রকৃতপক্ষে জরিপ করা হয়নি । ফলে অনেক ক্ষেত্রে সেইসময়ের পক্ষে খাজনা অধিক হারে স্থির হয়েছিল ।
মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির উদ্ভব : অনেক জমিদার রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়ে জমি ইজারা দেয় । ফলে ইজারাদার , দর ইজারাদার , পাওনাদার প্রভৃতি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির উদ্ভব হয় ।
৬.ক্যান্টন বাণিজ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল ? এই বাণিজ্যের অবসান কেনো হয় ?
Ans: সূচনা : এশিয়া মহাদেশে আয়তনে এবং জনসংখ্যায় বৃহত্তম একটি রাষ্ট্র চিন যেখানে বাণিজ্যের অন্যতম দিক ছিল ক্যান্টন বাণিজ্য । চিনে বিদেশি বণিকের জন্য উন্মুক্ত একমাত্র বন্দর ক্যান্টনকে কেন্দ্র করে এক পৃথক বাণিজ্যপ্রথা গড়ে উঠেছিল যা ক্যান্টন বাণিজ্য নামে পরিচিত ।
বৈশিষ্ট্য : ক্যান্টন বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল এইরকম—
রুদ্ধদ্বার নীতি : রুদ্ধদ্বার নীতি অনুযায়ী বিদেশি বণিকরা চিনা ভাষা ও আদবকায়দা শিখতে পারত না । চিনের ফৌজদারি আইন ও বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য ছিল বিদেশি বণিকরা । এছাড়া কুঠিতে যে কোনো মহিলা ও আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল ।
মূল শহরে প্রবেশ নিষিদ্ধ : শহরের মূল প্রবেশদ্বারের বাইরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বণিকরা বসবাস করত । তারা শহরে প্রবেশ করতে পারত না । ক্যান্টন বন্দরে বিদেশি বণিকরা স্ত্রী ও সন্তানদের রাখতে পারত না ।
কো – হং প্রথা : বিদেশি বণিকরা ক্যান্টন বন্দরে স্বাধীনভাবে বা সরাসরি বাণিজ্যে অংশ নিতে পারত না । চিনা সরকার ‘ কো – হং ‘ নামক বণিক সংঘকে ক্যান্টন বন্দরে একচেটিয়া বাণিজ্য করতে দিত । বিদেশি বণিকদেরও কো – হং বণিকদের থেকেই পণ্য কিনতে হতো ।
কো – হংদের দুর্নীতি : কো – হং বণিকদের দুর্নীতির অন্ত ছিল না । তারা চিনা রাজ দরবার , আদালত এবং শুষ্ক অধিকর্তাকে উৎকোচ দিত । বাণিজ্যের বেশিরভাগ মুনাফা তারাই আত্মসাৎ করত । বিদেশিদের বাণিজ্যের শর্তও কো – হং বণিকরা নির্ধারণ করত ।
ব্যক্তিগত বাণিজ্য : চিনের ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশ সহ ইউরোপীয়রা নানা ধরনের ব্যক্তিগত বাণিজ্যে জড়িত ছিল । এর জন্য চিন সরকারের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে হতো না ।
ইংরেজ বণিকদের প্রাধান্য : ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশ বণিকদের প্রাধান্য ছিল । এর মধ্যে চা – এর বাণিজ্য ছিল উল্লেখযোগ্য । চিনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের এই বাণিজ্যকে বলা হতো ‘ দেশীয় বাণিজ্য ‘ ।
ক্যান্টন বাণিজ্য অবসানের কারণ : কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে নয় একাধিক কারণের সমন্বয়ে ক্যান্টন বাণিজ্য ধীরে ধীরে অবসানের দিকে এগিয়ে যায় । একারণ ছিল এইরূপ —
বাণিজ্যিক কার্যকলাপ : ক্যান্টনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বিদেশি শক্তিসমূহ সচেষ্ট হয়েছিল । কিন্তু চিন বিদেশিদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন তো দূরের কথা উপরন্তু সবরকম বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় ।
আফিম যুদ্ধ : উনিশ শতকের প্রথম দিকে চোরাপথে ব্রিটিশ বণিকরা চিনে আফিম পাঠাতে থাকে । আফিম ব্যাবসাকে কেন্দ্র করে চিন ও ব্রিটেনের মধ্যে হয় প্রথম আফি যুদ্ধ । এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ক্যান্টন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে ।
অন্যান্য বন্দরের উত্থান : ১৯৪২ – এর নানকিং চুক্তির মাধ্যমে সাংহাই , নানকিং বন্দরে বিদেশিদের প্রবেশ উন্মুক্ত হয় । ফলে বিদেশি বাণিজ্যে ক্যান্টন একাধিপত্য হারায় । ১৮৫৯ সালে ক্যান্টন বাণিজ্য শপিং দ্বীপে স্থানান্তরিত হয় । ১৮৬৬ – এর মধ্যে সব বিদেশি শক্তি ক্যান্টন থেকে ব্যাবসা সরিয়ে নেয় । ক্রমে ক্যান্টন বাণিজ্য প্রথার অবসান ঘটে ।
.................................................

