📚উত্তরসহ মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেসন:দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন 📚
👉SET-1:
বিভাগ—ক
1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো: 1×10
(i) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে 'ভারতের প্রথম স্বধীনতা যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন। - (a) জন কে (b) ম্যালেসন, (c) বিনায়ক দামোদর সাভারকার, (d) কার্ল মার্কস ।
(ii) জমিদার সভার সভাপতি ছিলেন – (a) দ্বারকানাথ ঠাকুর, (b) রামমোহন রায়, (c) রাধাকান্ত দেব, (d) নবগোপাল মিত্র।
(iii) মহাবিদ্রোহের সময় মোগল সম্রাট ছিলেন * (a) বাবর, (b) হুমায়ুন. (c) আকবর, (d) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।
(iv) সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় যে সংস্থা গঠন করেন তার নাম হল-(a) ডন সোসাইটি, (b) অনুশীলন সমিতি, (c) ফেডারেশন হল, (d) ব্রতী সমিতি।
(v) Bengal Technical Institute'-এর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন-(a) জগদীশচন্দ্র বোস, (b) তারকনাথ পালিত, (c) প্রমথনাথ বসু, (d) মহেন্দ্রলাল সরকার।
(vi) জাতীয় শিক্ষা পরিষদ শুরু হয় – (a) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে, (b) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে, (c) ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে, (d) ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ।
(VII) বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য হলেন – (a) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, (b) রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, (c) দ্বারকানাথ ঠাকুর, (d) সুধীররঞ্জন দাস।
(viii) নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন -(a) বি. পি. ওয়াদিয়া, (b) দেওয়ান চমনলাল, (c) এস. এ. ডাঙ্গে (d) লালা লাজপত রায়।
(ix) সারা ভারত কিষাণ সভা প্রতিষ্ঠিত হয় -(a) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে, (b) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে, (c) ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে, (d) ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে।
(x) মোপলা বিদ্রোহ হয়েছিল - (a) উত্তর ভারতে, (b) পূর্ব ভারতে (c) পশ্চিম ভারতে, (d) দক্ষিণ ভারতে।
বিভাগ-খ
2.'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো: 1×3
“ক” স্তম্ভ
(i) সমাচার দর্পণ
(ii) কলকাতা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
(iii) ইন্ডিয়ান লিগ
“খ” স্তম্ভ
(a) মার্শম্যান
(b) ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ
(c) শিশিরকুমার ঘোষ
উঃ (i)-(a), (ii)-(b), (iii)-(c).
3. দু-তিনটি বাক্যে উত্তর লেখো: (যে-কোনো চারটি): 2×4
(i) মহারানির ঘোষণাপত্র বলতে কী বোঝো?
উঃ ভারতের মুঘল শাসন ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসন ক্ষমতা কোম্পানির হাত থেকে রানীর হাতে হস্তান্তর করা হয়। মহারানী ভিক্টোরিয়া ভারতীয়দের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রশমনের জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা সমেত একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন যা মহারানীর ঘোষণাপত্র নামে পরিচিত।
(ii) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে শিক্ষার লক্ষ্য কী ?
উঃ রবীন্দ্রনাথের মতে শিক্ষার লক্ষ্য হল – ক) শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশসাধন খ) শিক্ষার্থীর মধ্যে সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটানো। গ) প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সম্পর্ক স্থাপন। ঘ) শিক্ষার্থীকে চিরন্তন পরমসত্তার উপলব্ধিতে সহয়তা করা।
(iii) ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির'-এ কোন্ কোন্ বিষয়ের গবেষণা হতো?
উঃ বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠার উদবােধনী বক্তৃতায় জগদীশচন্দ্র বসু এই গবেষণাগারকে জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। আমৃত্যু তিনিই ছিলেন এই গবেষণাগারের অধিকর্তা। এই গবেষণাগারের গবেষণাক্ষেত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রাথমিক পর্বে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়ক গবেষণা হত। পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা দেবেন্দ্রমােহন বসুর সময়ে অনেক বিভাগ সংযােজিত হয় যেমন—মাইক্রোবায়ােলজি বায়ােকেমিস্ট্রি, বায়ােফিজিক্স, পরিবেশ বিজ্ঞান। এইসব বিষয়ের ওপর গবেষণা করে বসু বিজ্ঞান মন্দির ‘জাতীয় স্বাভিমানের তীর্থে’ পরিণত হয়।
(iv) ‘তিন কাঠিয়া' বলতে কী বোঝো ?
উঃ বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবরা চাষিদের বিঘা প্রতি (20 কাঠার মধ্যে তিন কাঠা অর্থাৎ 3/20 অংশ) জমিতে নীলচাষ ও নির্দিষ্ট দামে উৎপাদিত নীল নীলকর সাহেবদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য থাকত। এই ব্যবস্থাই তিনকাঠিয়া প্রথা নামে পরিচিত।
(v) কবে কোন্ ঘটনায় গান্ধিজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন ?
উঃ চৌরিচৌরা ঘটনার পর মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন ।অসহযোগ আন্দোলন গান্ধীজি প্রত্যাহার করেন 1922 সালে।
বিভাগ—ঘ
5. নীচের প্রশ্নগুলির সাত আটটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে-কোনো দুটি): 4×2
(i) ভারতসভার উদ্দেশ্যগুলি বর্ণনা করো।
উঃ ভূমিকা : ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুলাই কলকাতার অ্যালবার্ট হলে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমােহন বসু প্রমখের। উদ্যোগে স্থাপিত হয় ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসােসিয়েশন। শিশিরকুমার ঘােষের প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান লিগ’ও এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
প্রেক্ষাপট : ভারতসভা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে -
প্রথমত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বুদ্ধিজীবী শ্রেণির নেতা উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের বৃহত্তর জনগণের সংযােগে গণতান্ত্রিকভাবে সমিতি গঠন না-করলে ভারতম্য ব্রিটিশ সরকার। সেই সমিতির দাবিকে মূল্য দেবে না।
দ্বিতীয়ত, ভারতে ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সমিতিগলি ছিল রক্ষণশীল ও তাদের আচরণ ছিল অভিজাতসুলভ।
তৃতীয়ত, সর্বভারতীয় স্তরে সমিতি গঠন ও আন্দোলন পরিচালনার মাধ্যমে ভারতের আঞ্চলিক দাবিগুলি পূরণের ব্যবস্থা করা।
ভারতসভার উদ্দেশ্য : ভারতসভা’-র চারটি ঘােষিত উদ্দেশ্য ছিল, যেমন- (১) জনমত গঠন, (২) ভারতের সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য স্থাপন, (৩) হিন্দু-মুসলিম ঐক্য স্থাপন এবং (৪) রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের জনসংযােগ ঘটানাে। যাতে সাধারণ ভারতীয়রা বিপুল সংখ্যায় এই সংগঠনে যােগ দিতে পারে তার জন্য এর সদস্য চাদা দরিদ্রতম শ্রেণির জন্য এক টাকা হিসেবে ধার্য করা হয়।
(ii) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী ভাবনা সম্পর্কে লেখো।
উঃ ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাশ্চাত্য শিক্ষাধারার বিকল্প জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরূপে শান্তিনিকেতনে ব্ৰত্মচর্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান রূপে গড়ে তােলার আকাঙ্ক্ষা থেকেই গড়ে ওঠে বিশ্বভারতী।
রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২৩ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বভারতী সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনার তিনটি স্তর ছিল যথা—
১) ভারতীয় সংস্কৃতি : ভারতের সমগ্র রূপ উপলদ্ধি করতে ভারতের নানা সংস্কৃতিকে (বৈদিক, বৌদ্ধ, জৈন ও মুসলমান) তুলে ধরা প্রয়ােজন বলে তিনি মনে করতেন।
২) প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মিলন : ভারতসহ প্রাচ্যের আদর্শ ও বাণীকে বিশ্বে তুলে ধরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন ঘটানাে এবং বিশ্বভারতীকে বিশ্ব মানবতার মিলন ক্ষেত্রে পরিণত করা।
৩) বিদ্যা উৎপাদন : তাঁর মতে, বিশ্বভারতীর মূল কাজ হবে বিদ্যার উৎপাদন, বিদ্যা বিতরণ হবে গৌণ কাজ।
৪) উৎপাদন-শিক্ষা : শিক্ষার্থীদের অর্থশাস্ত্র, কুষি-তত্ত্ব, নানা ব্যাবহারিক বিদ্যাশিক্ষা ও বিশ্বভারতীর চতুর্দিকে তার প্রয়ােগের ব্যবস্থা করাও ছিল তার চিন্তা-ভাবনার বিশেষ দিক। এরই সূত্র ধরে শ্রীনিকেতনের প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উপসংহার : প্রথাগত শিক্ষার নিয়ম ভেঙে শিক্ষাকে আনন্দপাঠ ও বৃত্তিমুখী করে তােলার লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী গড়ে তােলেন।
(iii) শ্রমিক আন্দোলনে বামপন্থী আন্দোলনের প্রভাব কতটা ছিল লেখো।
উঃ ভারতে বামপন্থার উদ্ভব 1920 এর দশকে। 1920 সালে রাশিয়ার তাসখন্দে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বেশ কিছু সদস্য ভারতে চলে আসে ও কলকাতা ,মাদ্রাজ,বোম্বাই, লাহোর প্রভৃতি স্থানে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। এই সংগঠনগুলি ১৯২৫ সালে কানপুরে মিলিত হয়ে প্রতিষ্ঠা করে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সিঙ্গারাভেলু চেটিয়ার। বামপন্থীরা শুরু থেকেই ব্রিটিশ সরকারের তীব্র বিরোধী ছিল ও মনে করত ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের মুক্ত হওয়া আবশ্যিক। তবে কংগ্রেসের তৎকালীন বিভিন্ন আন্দোলনে বামপন্থীদের বিরোধিতা ছিল লক্ষনীয়।
বামপন্থীরা ইয়ং কমরেডস লীগ,ওয়ার্কার্স এন্ড পেজেন্টস পার্টির মত সংগঠন গড়ে তুলে ব্রিটিশ বিরোধিতায় এগিয়ে আসে। বামপন্থী দলগুলি কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর ওপর প্রাধান্য বিস্তারে সক্ষম হয় ও দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর জাতীয় আন্দোলনগুলিতে তাদের সমর্থনে বামপন্থীরা এগিয়ে আসে। তারা যেমন সাইমন কমিশনের বিরোধিতা করে আবার বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের আন্দোলনগুলোকেও সমর্থন করে তাদের সাথে যুক্ত হয়। বামপন্থীরা 1925-29 এই সময়ে গিরনি কামগার ইউনিয়ন(বোম্বে) গড়ে তোলে ও তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বামপন্থীদের মুখপত্র হিসাবে কাজ করে যার মধ্যে বাংলার ‘লাঙল’ও ‘গণবানী’ উল্লেখ্য।
1930 এর দশক থেকে বামপন্থীদের সাথে কংগ্রেসের দূরত্ব বাড়তে থাকে, আইন অমান্য আন্দোলনে বামপন্থীরা অংশগ্রহণ করেনি। বামপন্থী নেতারা মনে করতেন যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়ার সাথে সাথে জমিদার ও মালিক শ্রেণীর অত্যাচারের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে।
বিভাগ – ঙ
6. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখো : (বারো পনেরোটি বাক্যে) 8×1
(i) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উঃ ভূমিকা : ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মহাবিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর থেকে এই বিদ্রোহের চরিত্র নিয়ে নানা মতবাদ উত্থাপিত হয়েছে । বেশির ভাগ ব্রিটিশ লেখক একে সিপাহী বিদ্রোহ বলে মেনে নিলেও কারো কারোর কাছে এটা একটা জাতীয় বিদ্রোহ । অনেকে মনে করেন এটা সামন্ত বিদ্রোহ ছাড়া আর কিছুই নয় । ব্রিটিশ সেনা— জেনারেল আউটরাম একে ‘মুসলমানদের ষড়যন্ত্র’ বলেছেন ।
সিপাহী বিদ্রোহ:- স্যার চার্লস রেকস, জন সিলি, আর্ল রবার্টস প্রমুখদের মতে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল সিপাহী বিদ্রোহ । সমকালীন বিদগ্ধ ভারতীয়দের মধ্যে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরোজি, অক্ষয় কুমার সরকার, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রমুখেরা এই বিদ্রোহকে সিপাহী বিদ্রোহ বলে মেনে নিয়েছেন । ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার তার “Sepoy Mutiny and the Revolt of 1857” গ্রন্থে এই বিদ্রোহকে সিপাহী বিদ্রোহ বলেছেন । এ বিষয়ে তাদের মতামতগুলি হল—
(i) বিপ্লবীদের কোনো পূর্ণ পরিকল্পনা ছাড়াই এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল ।
(ii) বিপ্লবীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ছিল না ।
(iii) মহাবিদ্রোহের শতবার্ষিকী সভায় রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেছেন— “The so called First national war of independence in 1857 is neither First nor national nor war of independence.”
জাতীয় বিদ্রোহ :- ডিসরেলি, নর্টন, ডাফ, হোমস প্রমুখেরা ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে জাতীয় বিদ্রোহ বলেছেন । বিনায়ক দামোদর সাভারকার এই বিদ্রোহকে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলেছেন । এই বিষয়ে তাদের মতামতগুলি হল —
(i) পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলির তুলনায় ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে গণ সমর্থন ছিল প্রবল ।
(ii) সুরেন্দ্রনাথ সেন স্পষ্ট করে বলেছেন যে বিদ্রোহের নেতা হিসাবে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে মেনে নেওয়ায় এই বিদ্রোহ এক অন্য মাত্রা পায় ।
সামন্ত বিদ্রোহ :- রজনীপাম দত্ত, এরিখ স্টোকস, জওহরলাল নেহেরু, সুরেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখেরা এই বিদ্রোহকে সনাতন পন্থীদের বিদ্রোহের সাথে তুলনা করে একে সামন্ত বিদ্রোহ বলেছেন । জওহরলাল নেহেরু তাঁর ‘Discovery of India’ গ্রন্থে এই বিদ্রোহকে সনাতন পন্থীদের বিদ্রোহ বলেছেন ।
মূল্যায়ন:- অবশেষে উল্লেখ্য যে সকল ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদের ভাবধারা গড়ে ওঠেনি । শিখ, গোর্খা, রাজপুত প্রভৃতি জাতিগুলিও এই বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল । সুশোভন সরকার বলেছেন “হজরত মহল, কুনওয়ার সিং, লক্ষীবাঈ প্রভৃতি সামন্ত জমিদার ও তালুকদারদের হাতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব ছিল বলে একে প্রতিক্রিয়াশীল আখ্যা দেওয়া যায় না ।” কিন্তু একথা অস্বীকার করা যায় না যে, নানা ত্রুটি-বিভাজন সত্ত্বেও এই বিদ্রোহে গণচরিত্রের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয় । ফিরিঙ্গিদের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলমানের সমন্বিত বিদ্রোহের মধ্যে জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক রূপটিকেও অস্বীকার করা যায় না ।
(ii) বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ কীভাবে হয়েছিল।
(iii) অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময়কালে ভারতের কৃষক আন্দোলনের বিবরণ দাও।
