📚উত্তরসহ মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান লাস্ট মিনিট সাজেশন-২০২৫(প্রশ্নের মান-২,৩,৫)📚
Prepared by
Sk Kabir
👉SET-1
বিভাগ — 'গ'
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২ট প্রশ্নের উত্তর দুই-তিন বাক্যে লেখো । ২ x ১২ = ২৪
৩.১ নিম্নলিখিত বিষয়ে হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজের পার্থক্য নিরূপণ করো —
• কাজের প্রকৃতি • কাজের গতি • কাজের স্থায়িত্ব • পরিণতি
Ans.
বিষয়: হরমোন স্নায়ুতন্ত্র
কাজের প্রকৃতি: রাসায়নিক সমন্বায়ক ভৌত সমন্বায়ক
কাজের গতি: মন্থর দ্রুত
কাজের স্থায়িত্ব: স্থায়ী অস্থায়ী
পরিণতি: বিনষ্ট হয় বিনষ্ট হয় না
৩.২ কোনো একজন মানুষ 'দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেলেও কাছের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পান না' — এরকম সমস্যার কারণ ও প্রতিকার কী কী হতে পারে তা অনুমান করে লেখো ।
Ans. • কোনো একজন মানুষ দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেলেও কাছের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পান না, এরকম সমস্যাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বলা হয়। কারণ: অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোটো হওয়ায়, বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনার পিছনে প্রতিবিম্ব গঠন করে। রেটিনার ওপরে ওই বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না। ফলে দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও কাছের বন্ধু অস্পষ্ট দেখায়। প্রতিকার: উত্তল কৃত্রিম লেন্সের (+) পাওয়ারযুক্ত চশমা ব্যবহার করলে, এই ত্রুটি সংশোধন করা যায়।
৩.৩ কৃষির ফলনবৃদ্ধি ও আগাছা সমস্যা সমাধানে সংশ্লেষিত উদ্ভিদ হরমোনের একটি ভূমিকা বিশ্লেষণ করো ।
Ans. • কৃষির ফলনবৃদ্ধি: অপরিণত ফলের মোচন রোধে 2, 4-D নামক কৃত্রিম অক্সিন ব্যবহৃত হয়। জবা, গোলাপ, আম প্রভৃতি গাছের শাখাকলম তৈরি করার সময় অস্থানিক মূল উৎপাদনের জন্য কৃত্রিম অক্সিন (NAA, IBA) ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিজ ফলন বৃদ্ধি পায়।
• আগাছা সমস্যা সমাধান: অক্সিন আগাছা নাশ করতে সাহায্য করে। যেমন—নির্দিষ্ট মাত্রার অক্সিন দ্বিবীজপত্রী আগাছাকে মেরে ফেলে। সুতরাং আগাছা যদি দ্বিবীজপত্রী হয় তাহলে নির্দিষ্ট মাত্রার অক্সিন হরমোন প্রয়োগ করে ওই আগাছা নির্মূল করা যাবে। একাজে বিশেষভাবে কার্যকরী হয় 2, 4-D নামক কৃত্রিম অক্সিনটি।
৩.৪ 'LH ও ICSH মানবদেহে জননগ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে'— বক্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো ।
Ans. হাইপোথ্যালামাস নিঃসৃত GnRH বা গোনাডোট্রপিন রিলিজিং হরমোন অগ্রপিটুইটারি থেকে GTH অর্থাৎ গোনাডোট্রপিক হরমোনগুলির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই GTH হরমোনগুলির মধ্যে অন্যতম হল LH (লিউটিনাইজিং হরমোন) ও ICSH (ইন্টারস্টিশিয়াল সেল স্টিমুলেটিং হরমোন) LH সাধারণত স্ত্রীদেহে পরিণত ডিম্বথলি থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণে সাহায্য করে পরিণত ডিম্বথলিকে পীতগ্রন্থিতে রূপান্তরিত করে এবং পীতগ্রন্থিকে প্রোজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে এর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আবার ICSH পুরুষ দেহে শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিশিয়াল কোশ বা লেডিগের আন্তরকোশকে উদ্দীপিত করে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩.৫ বেমতন্তু গঠন ও সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতি — এই দুটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তুমি কিভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশে মাইটোসিসের পার্থক্য নিরূপণ করবে ?
৩.৬ কোশচক্রে নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হওয়ার সঙ্গে মানব দেহে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার সৃষ্টি হওয়ার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো ।
Ans. কোশ বিভাজনের বিভিন্ন জুটি এড়াবার জন্য কোশচক্রের স্থানে স্থানে চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রণ বিন্দু থাকে। কোনো পরিবেশগত বা জিনগত কারণে যদি এই নিয়ন্ত্রণ বিন্দুর কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়, তাহলে কোশ বিভাজনও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, এবং এই অনিয়ন্ত্রিত কোশবিভাজনের ফলে টিউমার সৃষ্টি হয়। অনেকসময় কোণঘ DNA-র মিউটেশন বা স্পিন্ডিল-এর গঠনগত ত্রুটি থাকলেও নিয়ন্ত্রণ বিন্দুর দুটিজনিত কারণে কোটি কোণবিভাজনে প্রবেশ করে, ফলে ত্রুটিপূর্ণ অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, যা পার্শ্ববর্তী অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজন ঘটায়। এটিই ম্যালিগন্যান্ট টিউমার।
৩.৭ 'অস্থানিক পত্রজ মুকুল উদ্ভিদের প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে' — একটি উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো ।
Ans. কিছু কিছু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে, যেমন—পাথরকুচি, Begonia (বিগোনিয়া) প্রভৃতির পাতার কিনারা থেকে অস্থানিক মুকুল জন্মায়। একে পত্ৰাশ্রয়ী মুকুল বলে। এই পত্রাশ্রয়ী মুকুলের নীচের দিক থেকে আবার প্রচুর অস্থানিক মূল বের হয়। পরে মূলসহ প্রতিটি পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে অনুকূল পরিবেশে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। অর্থাৎ উপরোক্ত উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে অস্থানিক পত্ৰজমুকুল প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিদের অঙ্গজ বংশবিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
৩.৮ বাবা ও মায়ের মধ্যে অপত্যের লিঙ্গ নির্ধারণে কার গুরুত্ব বেশি তা একটি ক্রশের মাধ্যমে দেখাও ।
Ans. মানব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাতার ক্রোমোজোমগত ভূমিকা পরোক্ষ হয়ে থাকে। কারণ মাতা কেবলমাত্র একপ্রকার গ্যামেট (X ক্রোমোজোমযুক্ত) উৎপাদন করতে পারেন। পিতার জনন কোশে দু-প্রকার যৌন ক্রোমোজোম উপস্থিত থাকে এবং তিনি দুই প্রকার গ্যামেট (X অথবা Y ক্রোমোজোমযুক্ত) উৎপাদনে সক্ষম হন। অর্থাৎ, X অথবা Y ক্রোমোজোম দানের মাধ্যমে লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ক্রোমোজোমগত ভূমিকাই প্রধান।
অর্থাৎ পিতা যদি Y ক্রোমোজোম দান করেন তাহলে সন্তান পুত্র হয়, আবার যদি X ক্রোমোজোম দান করেন তাহলে সন্তান কন্যা হয়। তাই লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার গুরুত্বই বেশি।
৩.৯ 'ভিন্ন ভিন্ন জিনোটাইপ একই ফিনোটাইপ উৎপন্ন করে' — মটর গাছের দ্বিসংকর জননের পরীক্ষার ফলাফলের একটি উদাহরণ নিয়ে সারণির সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো ।
Ans. ভিন্ন ভিন্ন জিনোটাইপ যে একই ফিনোটাইপ উৎপন্ন করে তা নীচে F, জনুর চেকার বোর্ড মাধ্যমে দেখানো হল। যেখানে হলুদ গোল (YYRR) ও সবুজ কুঞ্চিত (yyrr) বীজযুক্ত মটর গাছের মধ্যে ক্রস করানো হয়েছে।
উক্ত ছকে আমরা দেখতে পাই যে হলদে গোল বীজযুক্ত মটর গাছের জিনোটাইপ 9 রকমের হতে পারে। অর্থাৎ একটি ফিনোটাইপ বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য একাধিক জিনোটাইপ দায়ী হয়।
৩.১০ সমাজ থেকে তোমার জানা একটি জিনগত রোগের বিস্তার রোধ করতে বিয়ের আগে হবু দম্পতিকে কী কী পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে তোমার মতামত জানাও ।
Ans. সাধারণত প্রধান যে জিনগত রোগটি সম্বন্ধে হবু দম্পতিকে অবগত করা যেতে পারে। সেটি হল থ্যালাসেমিয়া। এই রোগটি প্রতিরোধ করতে গেলে— [i] প্রথমে হবু দম্পতির রক্তপরীক্ষা। একান্ত প্রয়োজন কারণ এর মাধ্যমে হবু দম্পতি কেউ যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হন সে সম্বন্ধে জানা যাবে। [ii] বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সেলারের কাছে যাওয়ার কথা বলা যেতে পারে, এর ফলে যদি তারা কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন। তাহলে সন্তানের মধ্যে সেই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা সেটি জানা যায়। [iii] পরিবারে কারোর যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো ইতিহাস থাকে তবে সেই সম্বন্ধে অবগত হওয়া ও বিয়ের আগে প্রয়োজন মত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা যেতে পারে।
৩.১১ প্রাকৃতিকভাবে শুধু বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ আছে, এমন একটি পুকুরে বেশ কিছু তিলাপিয়া মাছ ছাড়া হলো । বেঁচে থাকতে গেলে ওই তিলাপিয়াদের যে যে ধরনের জীবনসংগ্রাম করতে হবে তা ভেবে লেখো ।
Ans. [i] অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—তেলাপিয়া মাছগুলিকে নিজেদের মধ্যে খাদ্য ও সীমিত বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করতে হবে।
[ii] আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—পুকুরে থাকা দেশীয় প্রজাতির মাছগুলির সঙ্গে খাদ্য ও সীমিত বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করতে হবে।
[iii] পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম—তেলাপিয়া মাছটিকে পুকুরের জলের নতুন তাপমাত্রা, অন্নতা, ক্ষারত্ব প্রভৃতি পরিবেশ সংক্রান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে।
৩.১২ বাতাসে ওড়ার জন্য পায়রার বায়ুথলি যে যে ভূমিকা পালন করে তার তালিকা তৈরি করো ।
Ans.
1.আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস:ওড়বার মুহূর্তে বায়ুথলিগুলি বায়ুদ্বারা পূর্ণ হওয়ায়, পায়রার দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস পায়।
2.শক্তি উৎপাদনে ও 0,-এর জোগানে সাহায্য করা:
বায়ুথলিগুলি অতিরিক্ত 0, সংগ্রহে ও শক্তি উৎপাদনে মুখ্য সাহায্য করা ভূমিকা পালন করে।
৩.১৩ • গঠন ও কাজ
• বিবর্তনের ধরন নির্দেশক
উপরোক্ত দুটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সমবৃত্তীয় অংগের ধারণাটি উপযুক্ত উদাহরণ সহ প্রতিষ্ঠিত করো ।
Ans. (1) গঠন ও কাজ: যেসব অঙ্গ উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে ভিন্ন হলেও কার্যগত দিক থেকে এক, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলা হয়। পতঙ্গ ও পাখির ডানা ওড়ার জন্য ব্যবহৃত হলেও এদের উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে কোনো সাদৃশ্য নেই। পতঙ্গের ডানা কিউটিক্ল বা বহিঃকঙ্কালের প্রসারিত অংশ, অন্যদিকে পাখির ডানা পালক আবৃত অগ্ৰপদ বিশেষ।
(2) বিবর্তনের ধরণ নির্দেশক: পাখি ও পতঙ্গের ধরণগুলি থেকে বোঝা যায় যে, অভিব্যক্তিতে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একই প্রাকৃতিক পরিবেশে অভিযোজনের জন্য বাহ্যিক গঠন ও কার্যগতভাবে এক হয়। তাই এটি অভিসারী বিবর্তনের পরিচায়ক।
৩.১৪ মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলোর সম্পর্ক স্থাপন করো —
• বিশ্ব উষ্ণায়ন
• নদী এবং হ্রদের মাটি ও জলের অম্লীকরণ
Ans. (1) বিশ্ব উন্নয়ন: পরিবেশের N,0 (নাইট্রাস অক্সাইড) বৃদ্ধির 40% হল মনুষ্যসৃষ্ট জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত দহন ও নাইট্রোজেন সার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলস্বরূপ N,0 পরিবেশে মুক্ত হয়। এই নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসটি তাপশোষী গ্রিনহাউস গ্যাস বা সূর্যালোকের প্রতিফলনে সৃষ্ট অবলোহিত আলো যা উত্তাপ শোষণ করে গ্রিনহাউস প্রভাব তথা বিশ্ব উয়ায়ন ঘটায়।
(2) নদী, হ্রদের মাটি ও জলের অম্লীকরণ: নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা অম্লবৃষ্টির অন্যতম উপাদান| অম্লবৃষ্টি জলজ জীব ও উদ্ভিদ ধ্বংস করে নদী, হ্রদ, পুকুর প্রভৃতির বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে। এ ছাড়া অম্লবৃষ্টির প্রভাবে বনজ সম্পদের বিনাশ ঘটে, স্থাপত্য ও স্মৃতিসৌধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও এদের উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে যায়।
৩.১৫ ইলিশ, মৌমাছি, পেঙ্গুইন, সর্পগন্ধা —
উপরোক্ত জীবগুলোর বিপন্নতার কারন কী কী হতে পারে তা নির্ধারণ করো ।
Ans. • ইলিশ: জলদূষণ, জাল ফেলে খোকা ইলিশ ধরা। এইভাবে প্রজননে সক্ষম হওয়ার আগেই ধরে ফেলার ফলে ইলিশের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
• মৌমাছি: বনবিনাশ, জৈববৈচিত্র্যের হ্রাস (উদ্ভিদ প্রজাতি)। পেষ্টিসাইডের ব্যবহার দ্বারা মৌমাছির বিনাশ ঘটছে ও তারা প্রজননে অক্ষম হয়ে পড়ছে ।
• পেঙ্গুইন: বিশ্বউম্নয়নে বরফ গলনের ফলে তাদের বাসস্থান ধবংস হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে তাদের খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলস্বরূপ পেঙ্গুইন মারা যাচ্ছে।
• সর্পগন্ধা: অতিব্যবহারের ফলে সর্পগন্ধা-জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
৩.১৬ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পিপলস বায়োডাইভারসিটি রেজিস্ট্রার (PBR) -এর যে কোনো দুটি ভূমিকা আলোচনা করো ।
Ans. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর ভূমিকা বা গুরুত্ব:
(1) PBR স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়। তার ওপর নির্ভর করে বিপন্ন জীবগুলির সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
(2) থানীয় মানুষকে জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের ব্যাপারে। অবগত করে সংরক্ষণে অংশীদার করতে সাহায্য করে PBR।
৩.১৭ বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে অভয়ারণ্যে যে যে কাজ নিষিদ্ধ তার যে কোনো চারটি তালিকাভুক্ত করো ।
Ans. বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে অভয়ারণ্যে সে যে কাজ নিষিদ্ধ সেগুলি হল—[i] অনুমতি ছাড়া অভয়ারণ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ। [ii] অভয়ারণ্যে অনুমতি ছাড়া কাঠ কাটা, চাষআবাদ করা যায় না। [iii] অনুমতি ছাড়া বনজসম্পদ আহরণ করা যায় না। [iv] সর্বোপরি, বন্যপ্রাণী হত্যা বা শিকার করা যায় না।
বিভাগ — 'ঘ'
৪। নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তা'র বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো । দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ৪.১ নং প্রশ্নের পরিবর্তে ৪.১ (A) নং প্রশ্নের উত্তর করতে হবে । ৫ x ৬ = 30
৪.১ মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ -এর একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অংকন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত কর : ৩ + ২ = ৫
অথবা
একটি প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশার পরিচ্ছন্ন চিত্র অংকন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো : ৩ + ২ = ৫
৪.২ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রাণীদের মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো :
• সম্পাদনের স্থান • ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি • উৎপন্ন কোশের সংখ্যা
মানব বিকাশের বার্ধক্য দশায় জ্ঞানেন্দ্রিয় ও অস্থির কী কী পরিবর্তন হয় তা তালিকাবদ্ধ করো । ৩+২=৫
মানব বিকাশের বার্ধক্য দশায় জ্ঞানেন্দ্রিয়র পরিবর্তন: [i] এই দশায় ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়। [ii] অস্থির পরিবর্তন: অস্থি ও অস্থিসন্ধির ক্ষয়ের ফলে এইসময় অস্থিজনিত বিভিন্ন রোগ, যথা—অস্টিওপোরোসিস, অস্টিওআথ্রাইটিস দেখা দেয়।
অথবা,
একটি ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের নিম্নলিখিত অংশগুলোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো :
• সেন্ট্রোমিয়ার • টেলোমিয়ার
জীবের বৃদ্ধি, প্রজনন ও ক্ষয়পূরণ কীভাবে কোশবিভাজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তা বিশ্লেষণ করো । ২+৩=৫
Ans. সেন্ট্রোমিয়ারের গুরুত্ব: [i] এটিতে বেম সংলগ্ন হয় বলে অ্যানাফেজ চলন সম্ভব হয়। [ii] এটি ক্রোমোজোমের দুটি বাছুকে যুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
টেলোমিয়ারের গুরুত্ব: [i] ক্রোমোজোমের প্রান্তকে অন্য কোনো ক্রোমোজোমে সংলগ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করে। [i] টেলোমিয়ার কোশের জরা ও বয়ঃবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
• [i] জীবের বৃদ্ধি: কোশ বিভাজনের ফলে কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়| উৎপন্ন কোশগুলি আবার আকারে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কোশ বিভাজনের ওপরেই নির্ভর করে।
[ii] প্রজনন: মাইটোসিস, অ্যামাইটোসিস ও মিয়োসিস কোণ বিভাজন বিভিন্ন প্রকার জননে সহায়তা করে। যেমন— মিয়োসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট শুক্রাণু, ডিম্বাণু) এবং রেণু উৎপন্ন হয় যা, যথাক্রমে যৌন ও অযৌন জননের একক মাইটোসিস, অযৌন জনন ও অঙ্গজ জননের মাধ্যমে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামিবা অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে প্রজনন সম্পন্ন করে।
[iii] ক্ষয়পূরণ: জীবের ক্ষতস্থান নিরাময়, অঙের পুনরুৎপত্তি মূলত মাইটোসিস কোশ বিভাজনের ফলেই ঘটে থাকে।
৪.৩ মেন্ডেল দ্বারা নির্বাচিত মটরগাছের তিনজোড়া প্রকট-প্রচ্ছন্ন গুণ সারণির সাহায্যে লেখো । এক-সংকর জনন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি বিবৃত করো । ৩+২=৫
অথবা,
একজন বর্ণান্ধ মহিলা, একজন স্বাভাবিক পুরুষকে বিবাহ করলেন । প্রথম অপত্য বংশে তাঁদের সন্তানদের মধ্যে বর্ণান্ধতার সম্ভাবনা বিচার করো । সন্ধ্যামালতী ফুলের ক্ষেত্রে F2 জনুতে মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত প্রথম সূত্রের বিচ্যুতি কীভাবে প্রকাশিত হয় তা একটি ক্রশের মাধ্যমে দেখাও । ৩+২=৫
Ans. মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য : মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য মটর গাছের যে বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন তার মধ্যে তিন জোড়া নীচে সারণির আকারে দেখানো হল।
• কোনো জীবের নির্দিষ্ট একটি চরিত্রের অন্তর্গত একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্যে সঞ্চারিত হলেও তারা পরস্পর মিশে যায় না বরং অপত্যের গ্যামেট তৈরির সময়ে তারা পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। এটিই মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র বা পৃথকীভবন সূত্র হিসেবে পরিচিত।
অথবা,
একজন বর্ণান্ধ মহিলা একজন স্বাভাবিক পুরুষকে বিবাহ করলে তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নীচে ক্রুসের সাহায্যে দেখানো হল—
যেহেতু মা বর্ণান্ধ তাই ক্রিস ব্রুস উত্তরাধিকার সূত্র অনুযায়ী সমস্ত পুত্র বর্ণান্ধতার শিকার হবে এবং সমস্ত কন্যা স্বাভাবিক হলেও বাহক হবে| এক্ষেত্রে ওই দম্পতির পুত্ররা বর্ণান্ধ ও কন্যারা বাহক হবে।
• সন্ধ্যামালতী (Mirabilis jalapa) নামক উদ্ভিদে লাল এবং সাদা এই দুইপ্রকার ফুল হয়। এই উদ্ভিদে ফুলের লাল রং, সাদা রং-এর ওপর অসম্পূর্ণভাবে প্রকট। বিশুদ্ধ লাল ফুলযুক্ত (RR) সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদের সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত (r) সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদের সংকরায়ণ ঘটানো হলে প্রথম অপত্য জনুতে (F) জনু) উৎপন্ন উদ্ভিদগুলি লাল বা সাদা ফুলযুক্ত না হয়ে সবই গোলাপি ফুলযুক্ত হয়| এই F, জনুর উদ্ভিদগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হলে দ্বিতীয় অপত্য জনুতে (F, জনু) তিনপ্রকার ফিনোটাইপ (লাল, গোলাপি ও সাদা) ও তিনপ্রকার জিনোটাইপযুক্ত উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। F, জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত—লাল : গোলাপি : সাদা = 1:2:1 এবং জিনোটাইপিক অনুপাত—বিশুদ্ধ লাল (RR): সংকর গোলাপি (Rr) : বিশুদ্ধ সাদা (rr) = 1: 2:1|
অর্থাৎ, অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে F, জনুতে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদগুলির ফিনোটাইপিক অনুপাত ও জিনোটাইপিক অনুপাত একই (1: 2:1)।
উক্ত ক্রসের মাধ্যমে মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের বিচ্যুতি প্রমাণ করা যায় কারণ মেন্ডেলের প্রথম সূত্রে বলা হয়েছেল যে, গ্যামেট গঠনকালে বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি পরস্পরের থেকে পৃথক হয়ে যায়, কখনোই মিশ্রিত হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য (লাল ফুল ও সাদা ফুল) এক জনু থেকে অপর জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় প্রকট বৈশিষ্ট্যের (লাল ফুল) প্রকাশ না ঘটিয়ে একটি মিশ্র বৈশিষ্ট্যের (গোলাপি ফুল) প্রকাশ ঘটায়।
৪.৪ প্রাণের উৎপত্তির পরে জৈব অভিব্যক্তির মুখ্য ঘটনাবলী তীরচিহ্নের সাহায্যে ক্রমানুসারে দেখাও । ৫
অথবা,
ডারউইনের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের নিম্নলিখিত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করো :
• অধিকহারে হারে বংশবৃদ্ধি • প্রকরণের উদ্ভব • প্রাকৃতিক নির্বাচন
'জীবের আকার, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ ও আচরণের পরিবর্তন হলো অভিযোজন' —যে কোনো দুটি উদাহরণসহ বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো । ৩+২=৫
Ans. অভিব্যক্তির মুখ্য ঘটনাসমূহ: সভ্যতার সৃষ্টিকাল থেকেই পৃথিবীর উৎপত্তি ও প্রাণের উৎপত্তি অত্যন্ত রহস্যময় ও জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে এই রহস্য উন্মােচনের চেষ্টা করেন। এইসব বিজ্ঞানীদের মতবাদ ও ধারণা থেকে পৃথিবী এবং প্রাণের উৎপত্তি ও জীবের অভিব্যক্তি সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানা সম্ভব হয়। অভিব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ নীচে পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেওয়া হল।
অথবা,
অত্যধিক মাত্রায় বংশবৃদ্ধি: ডারউইনের মতে জীবের সহজাত বৈশিষ্ট্য হল অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করা। ডারউইন লক্ষ করেন জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি জ্যামিতিক হারে ঘটে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—একটি স্ত্রী স্যামন মাছ একটি প্রজনন ঋতুতে প্রায় তিন কোটি ডিম পাড়ে। একটি ঝিনুক এক বছরে প্রায় 6 মিলিয়ন ডিম্বাণু উৎপাদন করে।
প্রকরণের উদ্ভব: ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে যে-কোনো দুটি জীব কখনোই অবিকল একই রকমের হতে পারে না, কিছু -কিছু পার্থক্য অবশ্যই থাকবে। এই পার্থক্যকেই ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণ বা ভেদ বলে| অনুকূল প্রকরণ (favourable variation) জীবনসংগ্রামে জীবকে সাহায্য করে। অপরদিকে প্রতিকূল প্রকরণ জীবের বিলুপ্তির কারণ হয়।
প্রাকৃতিক নির্বাচন: ডারউইনের মতে, জীবনসংগ্রামের ফলে উদ্ভূত প্রকরণগুলির মধ্যে কিছু অনুকূল ও কিছু প্রকরণ প্রতিকূল হয়। অনুকূল প্রকরণগুলি জীবকে অভিযোজনে সহায়তা করে কিন্তু প্রতিকূল প্রকরগলি অভিযোজনে সহায়তা করতে পারে না। ফলে প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীব ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয় এবং অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীব পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য নির্বাচিত হয়। একে যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলে| প্রকৃতি উপযুক্ত প্রকরণযুক্ত জীবকে টিকে থাকার জন্য নির্বাচন করে। একে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলা হয়।। ‘জীবের আকার, শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ ও আচরণের পরিবর্তনই হল অভিযোজন—এই বক্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে প্রথমেই জীবের আকার বা আকৃতি প্রসঙ্গে আসা যাক, পরিবেশে বেঁচে থাকতে গেলে জীবের বাহ্যিক কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে, যা তাকে সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, [i] মরু ও শুষ্ক অঞ্চলে থাকা উদ্ভিদ ক্যাকটাসে বাষ্পমোচন রোধ করতে বেশিরভাগ পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় এবং পাতা থাকলেও তার সংখ্যা খুব কম হয় ও আকার ছোটো হয়। [ii] মাছ ও পাখির দেহ মাকু আকৃতির হয়ে থাকে যা তাদের জল বা বায়ুর বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আবার শুধু জীবের আকারই নয়, পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলার জন্য জীবের কিছু শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপের পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মরু অঞ্চলে বসবাসরত উটের দেহে জলক্ষয় সহনের জন্য—[i] তাদের 49°C এও ঘর্মক্ষরণ হয় না। [ii] নিশ্বাসের মাধ্যমে জলীয় বাষ্প নির্গমন। রোধ করতে নাসাপথে মিউকাস বিন্যস্ত থাকে ইত্যাদি।
৪.৫ নিম্নলিখিত দূষকগুলো পরিবেশ ও মানববাস্থ্যের কী কী প্রভাব ফেলে তা মূল্যায়ন করো : ৫
• অভঙ্গুর কীটনাশক • পরাগরেণু • ফসফেট ও নাইট্রেট সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার • স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জীবাণুসমৃদ্ধ আবর্জনা • ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
অথবা,
নিম্নলিখিত ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটির সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে তা অনুমান করো : ৫
• নিদ্রাহীনতা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, আংশিক বা সম্পূর্ণ বধিরতা
• জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও মরা মাছ ভেসে ওঠা • কুমিরের সংখ্যা হ্রাস • ফুসফুসের বায়ুচলাচল পথে প্রদাহ • পরাগমিলনে সাহায্যকারী পতঙ্গের সংখ্যা হ্রাস
Ans. • অভশুর কীটনাশক: অভঙর কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলে মেশে ফলে জলদূষণ ঘটায়, যা জলে থাকা জীবের খাদ্য ও বাসস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করে ও জলে দ্রবীভূত 0, এর পরিমাণ কমায়।
• পরাগরেণু: এটি হল অতিক্ষুদ্র একপ্রকারের জৈব দূষক, যার আকার 1 মাইক্রন এদের SPM বা Suspended Panticulate matter বলে। এগুলি প্রধানত শ্বাসক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে ফুসফুসে জমা হয় ও ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাস করে শ্বাসক্রিয়াজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে।
• স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জীবাণুসমৃদ্ধ আবর্জনা, মৃত্তিকাদূষণ ও রোগসংক্রমণ: সুস্থ ব্যক্তির দেহেও রোগসংক্রমণ ঘটে।
• ফসফেট ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার: কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অজৈব সার NPK, সুপার ফসফেট ইত্যাদিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মাত্রা বেশি থাকে, এই সার যখন নদীতে বা কোনো জলাশয়ে গিয়ে পড়ে, তখন সেই জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয়, ইউট্রোফিকেশন ঘটে, এবং জলদূষণের পাশাপাশি এই সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে মৃত্তিকাদূষগও ঘটে।
• ক্লোরোফ্লুরোকার্বন: বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর হ্রাস করে, ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করে, যা। মানবদেহে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের জন্ম দেয়। অথবা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, আংশিক বা সম্পূর্ণ নিদ্রাহীনতা, বধিরতা – শব্দদূষণ | জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও মরা মাছ ভেসে ওঠা— জলদূষণ ও ইউট্রোফিকেশন। কুমিরের সংখ্যা হ্রাস-জলদূষণ ও চামড়ার লোভে কুমির শিকার। ফুসফুসের বায়ুচলাচল পথে প্রদাহ—বায়ুদূষণ, ধূমপান, SPM দূষণ। পরাগমিলনে সাহায্যকারী পতঙের সংখ্যা হ্রাস-বায়ুদূষণ, পেস্টিসাইডের অতিরিক্ত ব্যবহার।
৪.৬ 'ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ভূগর্ভস্থ জলের সংকট তৈরী করেছে'— তোমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বক্তব্যটি যুক্তিসহ সমর্থন করো । মানুষের বসতি বৃদ্ধি কীভাবে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে তার একটি ধারণা মানচিত্র নির্মাণ করো । ৩+২=৫
অথবা,
পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশের জলাময় ঘাসভূমিতেই শুধু পাওয়া যায় এরকম একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ীর সংখ্যাবৃদ্ধি করার জন্য কী কী সংরক্ষণ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্তসার লেখো । নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব আলোচনা করো ৩+২=৫
Ans. [i] স্বাদূজলের অতিব্যবহারে ভৌমজলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। মূলত মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন হয়। [ii] অপ্রয়োজনে জল নষ্ট করা, যেমন রাস্তায় ফেলে বা বাড়িতে অনবরত জল নষ্টের ফলে জল সংকট তৈরি। হয়েছে। [iii] শহুরে অঞ্চলে পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তৈরিতে ভৌমজল মাটির নিচে ফিরে যেতে পারছে না। এর ফলেও জলসমস্যা দেখা দিচ্ছে। সুতরাং উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যায় যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন শহরে ব্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ভূগর্ভস্থ জলের সংকট তৈরি করে।
ধারণা মানচিত্র: মানুষের বসতিবৃদ্ধিতে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব
অথবা,
• পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে জলাময় ঘাসভূমিতে পাওয়া যায়, এরকম একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হল গন্ডার তার সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যে যে প্রকল্পগুলি গ্রহণ করা হয় তা হল—ভারতে 85% গন্ডার অসমে পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক সংস্থা WWE (World Wide Fund for Nature)-এর সহযোগিতায় অসমের বনদপ্তর একটি প্রকল্প গ্রহণ করে, যার নাম ইন্ডিয়ান। রাইনো ভিশন 2020 বা IRV 2020। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, 2020 সালের মধ্যে অসমে গন্ডারের সংখ্যা 3000-এ নিয়ে যাওয়া| এই প্রকল্পের সাফল্যের কারণে 2013 সালে এই সংখ্যা অসমে 2544-এ এসে দাঁড়িয়েছে। 2013-এর সুমারি অনুযায়ী শুধু কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কেই গন্ডারের সংখ্যা 1855 থেকে 2329 দাড়িয়েছে। এ ছাড়া [i] গন্ডারের প্রজননে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, [i] চোরাশিকার রোধ, [iii] গন্ডারের বাসস্থান, পানীয়। ও উপযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থাগ্রহণ ইত্যদিও পরোক্ষভাবে গন্ডারের বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। [i] জীববৈচিত্র্য অন্যান্য প্রাণীদের খাদ্য ও বাসস্থানের জোগান দিয়ে নদীতে বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে ।[ii] জীববৈচিত্র খাদ্যের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে সংগ্রাম কমায়, ফলে কোনো এক প্রজাতির জীব সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় না এবং বাস্তুতন্ত্র বজায় থাকে। [iii] অনেক জলজ প্রাণী (যেমন— বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি) মানবসমাজে খাদ্য হিসেবেও গৃহীত হয়, ফলে সেই সমস্ত জীবের যথেষ্ট শিকার এসব প্রজাতির সংখ্যা কমিয়ে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করতে পারে, কিন্তু জীববৈচিত্র্য সেই সব জীবের জোগান দেয় ফলে বাস্তুতন্ত্র অটুট থাকে। [iv] জলদূষণের ফলে নদীতে থাকা প্রাণী মারা যাওয়ায় বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়, কিন্তু জীববৈচিত্র্য সেই দূষিত পরিবেশেও বেঁচে থাকার মতো কিছু জীবের জোগান দেয়। (যেমন—কিল্লিফিস নামক একধরনের মাছ দূষিত জলেও বেঁচে থাকতে পারে) ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র বজায় থাকে।
👉SET-2:
বিভাগ-গ
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর দুই তিন বাক্যে লেখো : ২x১২=২৪
৩.১ দরজায় ঘণ্টা বাজার শব্দ শুনে তুমি যেভাবে দরজা খুলবে, সেই স্নায়বিক পথটি একটি শব্দছকের মাধ্যমে দেখাও।
Ans. শব্দতরঙগ প্রবণ , অন্তঃকর্ণের স্নায়ু উদ্দীপনা। উদ্দীপনা গ্রাহক অঙ্গ। পরিবহণ সাড়াপ্রদান কারক অঙ্গ, সুষুম্নাকাণ্ডের (দরজা খোলা) (হাত-পা-এর পেশি) স্নায়ুকেন্দ্র
৩.২ মেনিনজেস ও CSF-এর অবস্থান বিবৃত করো।
Ans. মেনিনজেসের অবস্থান: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরের দিকে তন্তুময় পর্দারূপে মেনিনজেস অবস্থিত। । CSF-এর অবস্থানঃ CSF বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে, মেনিনজেস-এর সাব-অ্যারানয়েড স্পেস এবং সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালীর ভিতরে অবস্থিত।
৩.৩ উদ্ভিদের বীজ ও পর্বমধ্যের ওপর জিবেরেলিন হরমোন কী কী প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করো।
Ans. উদ্ভিদের বীজের ওপর জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাব:
প্রতিটি বীজের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জীবনের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। বীজের এই দশাকে সুপ্তাবস্থা বলে। জিবেবরেলিন মুকুলের এই সুপ্তাবস্থা দূর করে। বীজের সুপ্তাবস্থায় এর মধ্যে জিব্বেরেলিনের পরিমাণ কম থাকে। অঙ্কুরোদ্গমের আগে বীজে এই হরমোনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এর ফলে বীজমধ্যস্থ উৎসেচকের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়, যা বীজের সুপ্তাবস্থা দূর করে এবং অঙ্কুরোদ্গম ঘটায়।
উদ্ভিদের পর্বমধ্যের ওপর জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাব: জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের কাণ্ডের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে সঠিকভাবে কান্ডের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি ঘটায়। এই হরমোন উদ্ভিদের নিবেশিত ভাজক কলাকোশের বিভাজন ঘটায়। ফলে পর্বমধ্য অংশের বৃদ্ধি ঘটে ও উদ্ভিদের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি ঘটে।
৩.8 অক্ষিগোলকের বিভিন্ন প্রতিসারক মাধ্যমগুলির নাম ক্রমানুসারে লেখো।
Ans. চোখে প্রধানত চারটি প্রতিসারক মাধ্যম থাকে। বাইরে থেকে ভিতরের দিকে এগুলি হল কর্নিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স ও ভিট্রিয়াস হিউমর।
৩.৫ মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস ও ক্রোমাটিডের মধ্যে খন্ড বিনিময় ঘটে—এই ঘটনা দুটির তাৎপর্য কী কী তা বিশ্লেষণ করো।
Ans. ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাসের গুরুত্ব: মিয়োসিস কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে জননকোশে, অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধুবক (n) হয়। শুক্রাণু (n) ও ডিম্বাণু (n)-এর নিষেকের ফলে জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনরায় 2n বা ডিপ্লয়েড হয়ে যায়। অর্থাৎ মিয়োসিসে ক্রোমোজোম হ্রাসকরণ বা হ্যাপ্লয়েড হয়ে যাওয়ার জন্য জীবের জীবনচক্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ধুবক থাকে।
ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ড বিনিময়ের গুরুত্ব: ক্রসিং ওভারের ফলে নতুন জিনগত পুনর্বিন্যাস ঘটে। এর ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ক্রসিং ওভার প্রমাণ করে যে, ক্রোমোজোমে জিন (তথা অ্যালিল)-গুলি সরলরৈখিকভাবে অবস্থান করে।
৩.৬ অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পার্থক্য নিরূপণ করো: জনিতৃ জীবের সংখ্যা, অপত্য জনুর প্রকৃতি।
৩.৭ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ক্যারিওকাইনেসিসের দশাগুলি শনাক্ত করো:
ক্রোমোজোমগুলির কোশের বিষুব অঞ্চল বরাবর অবস্থান ও নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জা, বেমতন্তুর বিলুপ্তি, নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি, অপত্য ক্রোমোজোমের কোশের বিপরীত মেরুতে গমন।
৩.৮ মটর গাছের ক্ষেত্রে পৃথকীভবন সূত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য তোমাকে বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করতে বলা হল। এরকম বিপরীত গুণসহ দুটি বৈশিষ্ট্যের নাম লেখো।
Ans. দৈর্ঘ্য বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে লম্বা ও বেঁটে এবং ফুলের রং সাপেক্ষে বেগুনি ও সাদা হল দুটি বিপরীতধর্মী গুণ।
৩.৯ একজন বর্ণান্ধ রোগের বাহক মহিলা, একজন বর্ণান্ধ পুরুষকে বিবাহ করল। তাদের একটি কন্যাসন্তান হল। এই কন্যাসন্তানটির বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা তা বিশ্লেষণ করে লেখো।
Ans. বর্ণান্ধতা একটি X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ বর্ণান্ধতা রোগের বাহক মহিলার সঙ্গে বর্ণান্ধ পুরুষের বিবাহ হলে তাদের পুত্র-কন্যাদের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা চেকার-বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হল।
অর্থাৎ, এই দম্পতির কন্যাসন্তানের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা 50%।
৩.১০ মানুষের জনগোষ্ঠীতে প্রকাশিত হয় এমন দুটি জিনগত রোগের নাম লেখো।
Ans. মানুষের জনগোষ্ঠীতে প্রকাশিত হয় এমন দুটি জিনগত রোগের নাম হল- থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়া
৩.১১ ‘বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথচ হরিণ প্রচুর আছে এমন একটি জঙ্গলে অন্য অভয়ারণ্য থেকে এনে কয়েকটি বাঘ ছাড়া হল। - বেঁচে থাকতে গিয়ে ওই বাঘদের যে যে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হবে তা ভেবে লেখো।
Ans. বাঘেদের যে যে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হবে, সেগুলি হল—[i] পরিবেশগত সংগ্রাম—প্রথমত, অন্য অভয়ারণ্য থেকে আনা বাঘগুলির নতুন বসতি অঞ্চলে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে। দ্বিতীয়ত, হরিণ বেশি থাকায় বনে ঘাস-পাতা-ঝোপের মাত্রা হ্রাস পাবে। বাঘের লুকিয়ে থাকার জায়গার অভাব হবে। [ii] আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—হরিণ শিকারের জন্য বাঘগুলিকে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামের সম্মুখীন হতে হবে এবং অপেক্ষাকৃত বেশি পরিশ্রম করতে হবে। [iii] অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম—একই অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো বাঘগুলির মধ্যে এলাকা দখল ও প্রজননের জন্য অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম হবে।
৩.১২ লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের যে-কোনো দুটি অভিযোজন বর্ণনা করো।
Ans. লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের দুটি অভিযোজন হল—
[i] কান্ডের অভিযোজন: কান্ডের শাখা-প্রশাখার বিভিন্ন অঙ্গের কোশে অবস্থিত ভ্যাকুওলের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ এরা সঞ্চিত করে রাখে। দেহে লবণ সঞ্চয়ের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হলে এরা বাকল মোচনের মাধ্যমেও অতিরিক্ত লবণ নির্গত করে থাকে।
[ii] পাতার অভিযোজন: জলশোষণের মাধ্যমে গৃহীত অতিরিক্ত লবণ পাতায় অবস্থিত লবণ গ্রন্থির মাধ্যমে নির্গত হয়ে থাকে। অনেক সময়ে উদ্ভিদ পাতায় সঞ্চিত অতিরিক্ত লবণকে পত্রমোচনের সাহায্যে রেচিত করে থাকে।
৩.১৩ শিম্পাঞ্জিরা খাবার জন্য কীভাবে উইপোকা শিকার করে তা ব্যাখ্যা করো।
Ans. শিম্পাঞ্জিরা প্রথমে কোনো একটি গাছের ডাল ভেঙে নেয়। তারপর ওই ডালের পাতাগুলি ছিড়ে ফেলে দিয়ে, ডালটিকে উইটিপির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এরপর তারা আর-একটি সরু ডাল ভেঙে পাতা ছাড়িয়ে ওই ডাল দ্বারা সৃষ্ট গর্তে প্রবেশ করায়। উইপোকারা ওই সরু জালটিরগা বেয়ে সারিবদ্ধভাবে ঢিপির থেকে বাইরে বের হতে থাকলে শিম্পাঞ্জিরা ওই উইপোকাগুলিকে খাদ্য হিসেবে খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে।
৩.১৪ নিম্নলিখিত দূষকগুলির ক্ষতিকারক প্রভাব তালিকাভুক্ত করো— গ্রিনহাউস গ্যাস, SPM, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, অভঙ্গুর রাসায়নিক কীটনাশক।
৩.১৫ জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে এমন একটি করে বহিরাগত প্রজাতির উদাহরণ দাও।
Ans. জলজ বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে এমন বহিরাগত প্রজাতি হল কচুরিপানা। স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে অবস্থিত স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করে এমন বহিরাগত প্রজাতি হল আমেরিকান আরশোলা।
৩.১৬ একটি বিপন্ন সরীসৃপ প্রজাতির সংরক্ষণের জন্য ইন-সিটু সংরক্ষণ ব্যবস্থাগুলি লেখো এবং পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এরকম একটি সংরক্ষণ স্থানের নাম লেখো।
Ans. একটি বিপন্ন সরীসৃপ প্রজাতি হল কুমির। কুমিরের ইন-সিটু সংরক্ষণ ব্যবস্থাগুলি হল—[i] কুমির প্রজননের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি ও তার পরিচালন। [ii] ক্যাপটিভ ব্রিডিং দ্বারা অভয়ারণ্যে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি ও প্রজননে সাহায্য করা। [iii] চোরা পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি সংরক্ষণ স্থান হল—ভগবতপুর কুমির প্রকল্প, সুন্দরবন।
৩.১৭ “চোরাশিকার ভারতের প্রাণীবৈচিত্র্যের বিপন্নতার একটি প্রধান কারণ”—যে যে কারণে এই চোরাশিকার ঘটে তার চারটি কারণ নির্ধারণ করো।
Ans. চোরাশিকারের কারণ—[i] কয়েকটি পশুর দেহজ উপাদান নান্দনিক উপাদানরূপে গৃহসজ্জায় ব্যবহার করা হয়, যেমন— লাল পান্ডার ঝালর ল্যাজ, বাঘের চামড়া, চন্দন কাঠ ইত্যাদি। [ii] বিভিন্ন পশুর দেহজ উপাদান আয়ুর্বেদিক ওষুধের অনুপান হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমন—বাঘের হাড়। [iii] বস্তু প্রাণীর দেহাংশ (যেমন—চামড়া, হাড়, শিং, খড়গ প্রভৃতি) বিক্রির মাধ্যমে অনেক অর্থ বেআইনি পথে উপার্জন করার সুযোগ থাকে। [iv] অনেক প্রাণীর মাংস খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়, যেমন—হরিণ, কচ্ছপ।
বিভাগ ঘ
৪. নীচের ছয়টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো: ৫x৬=৩০
৪.১ একটি আদর্শ নিউরোনের পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো— (ক) ড্রেনড্রন।(খ) র্যানভিয়ার-এর পর্ব (গ) মায়োলিন সিদু (ঘ) সোয়ান কোশ। ৩+২=৫
অথবা, প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশার পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো: ৩+২=৫
(ক) মেরু অঞ্চল (খ) বেমতন্তু। (গ) ক্রোমাটিড। (ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার
8.২ কোনো জীবের জন্য প্রজনন গুরুত্বপূর্ণ কেন? “মিয়োসিস বৈশিষ্ট্যগতভাবে মাইটোসিস থেকে পৃথক”—তুমি কীভাবে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করবে? ২+৩=৫
অথবা উপযুক্ত উদাহরণসহ অযৌন জননের পাঁচটি পদ্ধতি বর্ণনা করো।
Ans. প্রজননের গুরুত্ব: জীবজগতে প্রজননের প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্বগুলি নিম্নরূপ।
[i] অস্তিত্ব রক্ষা করা: প্রজননের সাহায্যে জীব নতুন অপত্য সৃষ্টি করে ফলে, তার নিজ প্রজাতির সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকে।
[ii] বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতা অটুট রাখা: প্রজননের ফলে নতুন অপত্য জীব সৃষ্ট হয়। এর ফলে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
[iii] জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষা: জীবের মৃত্যুর ফলে জীবের সংখ্যার হ্রাস ঘটে। প্রজননের ফলে নতুন জীব সৃষ্টির মাধ্যমে মৃত্যুজনিত সংখ্যাহ্রাস পূরণ হয়। এর ফলে পৃথিবীতে জীবের ভারসাম্য তথা বাস্তুতান্ত্রিক সাম্য বজায় থাকে।
[iv] জীব অভিব্যক্তি: যৌন জননের দ্বারা জীবদেহে মিউটেশন বা পরিব্যক্তি ঘটে। আবার, মিউটেশনের ফলে জীবদেহের মধ্যে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য বা ভেদ বা প্রকরণের উদ্ভব হয়। প্রকরণ জীবের অভিযোজন ও অভিব্যক্তিতে সহায়তা করে।
অথবা,
অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতি: জীবদেহে যেসব অযৌন জনন পদ্ধতি দেখা যায়, সেগুলি হল—
[i] বিভাজন: অধিকাংশ এককোষী জীবে মাইটোসিস বা অ্যামাইটোসিস কোশ বিভাজন পদ্ধতির দ্বারা দুটি (দ্বিবিভাজন) বা দুইয়ের অধিক (বহুবিভাজন) নতুন অপত্য সৃষ্টি করার পদ্ধতিকে বিভাজন বলে নীচে বিভাজন পদ্ধতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
(1) অ্যামিবা: [a] দ্বিবিভাজন-অনুকূল পরিবেশে অ্যামিবা-র নিউক্লিয়াসটি অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে দ্বিবিভাজিত হয়। এর সাইটোপ্লাজম বিভাজনরত নিউক্লিয়াসের লম্বতলে (90) খাঁজ (furrow) সৃষ্টি করে বিভাজিত হয় ও দুটি অপত্য সৃষ্টি করে।
[b] বহুবিভাজন- প্রিতিকূল পরিবেশ অ্যামিবা-র ক্ষণপদ বিনষ্ট হয় ও সিস্ট প্রাচীর (cyst wall) দ্বারা আবদ্ধ হয়। সিস্টের মধ্যে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের বহুবিভাজন দ্বারা অসংখ্য ক্ষুদ্র স্পোর তৈরি হয়। এইপ্রকার বহুবিভাজনকে স্পোরুলেশন বলে। পরিবেশ অনুকূল হলে সিস্ট প্রাচীর বিদীর্ণ করে স্পোরগুলি মুক্ত হয় ও নতুন অ্যামিবা সৃষ্টি করে।
(2) প্লাসমোডিয়াম: এক্ষেত্রে বহুবিভাজন দুটি দশায় ঘটে সাইজন্ট এবং স্পোরন্ট। সাইজন্ট এবং স্পোরন্ট দশায় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার পাকস্থলীতে যথাক্রমে সাইজোগনি ও স্পোরোগনি নামক বহুবিভাজন দ্বারা অসংখ্য অপত্য প্লাসমোডিয়াম তৈরি হয়। সাইজোগনি এবং স্পোরোগনি দ্বারা সৃষ্ট অপত্য প্লাসমোডিয়াম-দের যথাক্রমে মেরোজয়েট ও স্পোরোজয়েট বলে।
[ii] কোরকোদগম: যে বিশেষ ধরনের অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবদেহের কোনো প্রবর্ধিত দেহাংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিচ্যুত হয়ে অপত্য জীবদেহ সৃষ্টি করে তাকে কোরকোদগম বা বাডিং বলে। নীচে কোরকোৰ্গম পদ্ধতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
(1) ঈস্ট : ঈস্ট মাতৃকোশের অসমান বিভাজনের ফলে ক্ষুদ্র প্রবর্ধকের মতো কোরক সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে জনিতৃ নিউক্লিয়াস দশায় ঈস্টের কোরকটি টরুলেশন পদ্ধতিতে বার বার বিভাজিত হয়ে ছদ্ম মাইসেলিয়াম গঠন করে।
(2) হাইড্রা: হাইড্রার কোরক জনিতৃর দেহের বাইরে সৃষ্টি হয় (এক্সোজেনাস বাড)। প্রথমে প্রবর্ধকরূপে সৃষ্টি হওয়ার পর অপত্য হাইড্রার মুখছিদ্র, কর্ষিকা প্রভৃতির গঠন সম্পূর্ণ হয় এবং সেটি মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।
[iii] খণ্ডীভবন: যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবের দেহ দুই বা ততোধিক খন্ডে ভেঙে যায় ও প্রতিটি খন্ড অপত্যের সৃষ্টি করে, তাকে খণ্ডীভবন বলে। উদাহরণস্পাইরোগাইরা নামক শৈবালের সূত্রাকার দেহটি জলস্রোতের প্রভাবে বা আঘাতজনিত কারণে খণ্ডিত হয়ে যায়। প্রতিটি দেহাংশ মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতি দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে নতুন অপত্য জীব সৃষ্টি করে।
[iv] পুনরুৎপাদন: যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে জনিতৃ জীবের সামান্য দেহাংশ সম্পূর্ণ নতুন জীব সৃষ্টি করে, তাকে পুনরুৎপাদন বলে। এইপ্রকার অযৌন জনন পদ্ধতিকে মরফাল্যাক্সিস বলে। (পক্ষান্তরে, দেহের সামান্য অংশ বিচ্ছিন্ন হলে সেই হারানো দেহাংশ পুনঃস্থাপনকে বলে এপিমরফোসিস)। উদাহরণ— প্ল্যানেরিয়া নামক চ্যাপটা কৃমির কোমদেহের যে-কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হলে, প্রতিটি বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে নতুন অপত্যের সৃষ্টি হয়৷ প্ল্যানেরিয়া ছাড়া স্পঞ্জ, হাইড্রা-তেও পুনরুৎপাদন দেখা যায়।
[v] রেণু উৎপাদন: যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে মস, ফার্ন ও ছত্রাকদেহে সৃষ্ট এককোশী রেণু জনিতৃ দেহ থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন অপত্য সৃষ্টি করে, তাকে রেণু উৎপাদন বা স্পোরুলেশন বলে। নীচে রেণু উৎপাদন পদ্ধতির কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
(1) ছত্রাক: ছত্রাকে বিভিন্নরকম গঠনের এবং গমন ক্ষমতাযুক্ত বা গমন ক্ষমতাবিহীন রেণু দেখা যায়, যা উপযুক্ত পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে অপত্য ছত্রাক গঠন করে। বিভিন্ন ধরনের রেণুগুলি হল—চলন ক্ষমতাযুক্ত জুস্পোর, চলন ক্ষমতাবিহীন অ্যাপ্লানোস্পোর, পুরু প্রাচীরযুক্ত ক্ল্যামাইডোস্পোর, অনুসূত্র খণ্ডীভবনের দ্বারা সৃষ্ট ওইডিয়া ও কনিডিয়া, স্পোরানজিয়ামে উৎপন্ন স্পোরানজিওস্পোর৷ (2) মস ও ফার্ন: মসের রেণুধর উদ্ভিদের রেণুধর কলা থেকে রেণুর সৃষ্টি হয়। ফার্নের রেণুধর উদ্ভিদের রেণুস্থলীতে সমআকৃতির রেণু বা বিষম আকৃতির রেণু উৎপন্ন হয়।
8.৩ একটি বিশুদ্ধ কালো (BB) ও অমসৃণ লোমযুক্ত (RR) গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা (bb) ও মসৃণ লোমযুক্ত (rr) গিনিপিগের মধ্যে সংকরায়ণের ফলাফল F, জনু পর্যন্ত চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও। এই সংকরায়ণ থেকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তা বিবৃত করো। ৩+২=৫
অথবা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশুর দেহে কী কী লক্ষণ প্রকাশিত হয়? সেইক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর সময় কী পরামর্শ দেওয়া হয়? ৩+২=৫
Ans. বিশুদ্ধ কালো ও অমসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগ (BBRR)-এর সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা ও মসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগ (bbrr)-এর সংকরায়ণের ফলাফল F, জনু পর্যন্ত চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হল।
সিদ্ধান্ত : দুই বা তার বেশি বিপরীতধর্মী যুগ্ম বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হলেও তারা মিশ্রিত হয় না বরং অপত্যের জননকোশ তৈরির সময়ে এরা পরস্পর
জননকোশে সঞ্চারিত হয়। এটিই মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র।
থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ : [i] হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে তীব্র অ্যানিমিয়া সৃষ্টি হয়। [ii] রোগীর দেহে বারবার রক্ত সঞ্চারণের প্রয়োজন হয় বলে দেহের বিভিন্ন অংশে লৌহ সঞ্চিত হয়, যার ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেমন—হৃৎপিন্ড, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, যকৃৎ, প্লিহা প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। [iii] অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় বলে হাড়ের গঠন-বিকৃতি ঘটে এবং রোগীর মুখ ও মাথার খুলির হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হয়। [iv] যকৃৎ ও প্লিহার বৃদ্ধি ঘটে। এদের যথাক্রমে হেপাটোমেগালি ও স্পিনোমেগালি বলা হয়। [v] এ ছাড়া, এই রোগে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং জনডিস, ক্লান্তি প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ অনুসারে মানুষের দেহে রোগের তীব্রতা ও লক্ষণগুলি আলাদা হয়। ।
থ্যালাসেমিয়া ও জেনেটিক কাউন্সেলিং: [i] বাবা ও মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে অপত্যের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনেটিক কাউন্সেলর সেক্ষেত্রে ভুণের থ্যালাসেমিয়া রোগটি সৃষ্টি হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করেন এবং প্রয়োজনে ভ্ৰণ বিনষ্ট করে নতুন গর্ভাধানের ব্যাপারে পরামর্শ দেন। [ii] বিবাহ পূর্বে দুইজন পার্টনারই বাহক নির্ণীত হলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে তা ব্যাখ্যা করা হয়। সম্ভব হলে এই বিবাহ এড়িয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। [iii] যে-কোনো একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক হলে শিশু রোগটির বাহক হতে পারে সেই সম্বন্ধে বাবা-মাকে সচেতন করা হয়। শিশুটির জিনগত অবস্থাও জেনেটিক কাউন্সেলর জন্মের পর নির্ধারণ করানোর পরামর্শ দান করেন। এর ফলে ভবিষ্যতে শিশুটির পরিবার পরিকল্পনায় তা সাহায্য করে।
[iv] থ্যালাসেমিয়া বাহক মাতা গর্ভাবস্থায় অনেক সময় অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভোগেন। জেনেটিক কাউন্সেলার সে বিষয়টি তার পরিবারের কাছে তুলে ধরেন।
8.8 জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা মিলার ও উরের পরীক্ষার সাহায্যে বর্ণনা করো।
অথবা ল্যামার্কের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের প্রতিপাদ্যের প্রধান দুটি বিষয় বর্ণনা করো। হৃৎপিন্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান কীভাবে অভিব্যক্তি মতবাদের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে? ২+৩=৫
Ans. জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সম্পর্কিত ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদের সপক্ষে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম ভলক্যানিক তড়িৎবীক্ষণ পরীক্ষা (Volcanic spark discharge experiment)-টি করেন চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার এবং হ্যারল্ড উরে (1952)।
[i] পরীক্ষা ব্যবস্থা: এই পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীদ্বয় একটি বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেন। প্রাচীন পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য উপকরণ নেন। তাদের তৈরি যন্ত্রটিতে দুটি ফ্লাস্ক বর্তমান। এর মধ্যে বড়ো
ফ্লাস্ক (5L)-টিতে মিথেন, অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন গ্যস মিশ্রণ 2:2:1 আয়তন অনুপাতে নেওয়া হয়; ছোটো ফ্লাস্ক (500 ml) টিতে জল রাখা হয়। বার্নারের সাহায্যে জল ফোটানো হয়। ফ্লাস্ক দুটি পরস্পর একটি কাচের টিউব দ্বারা যুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে ছোটো ফ্লাস্কের ফুটন্ত জল থেকে জলীয় বাষ্প বড়ো ফ্লাস্কে প্রবেশ করে। বড়ো ফ্লাস্কটিতে টাংস্টেন-নির্মিত তড়িদ্বার দ্বারা 75,000 ভোল্টের উচ্চ তড়িৎমোক্ষণ করা হয় (প্রাচীন পৃথিবীর বজ্রপাতের মতো)। গ্যাস মিশ্রণটি এরপর বড়ো ফ্লাস্ক থেকে নির্গত হলে তাকে একটি নলের মধ্যে দিয়ে চালনা করা হয়। এরপর ঠান্ডা জলপ্রবাহ দ্বারা মিশ্রণটিকে ঘনীভূত করে সংগ্রহ করা হয়। সমগ্র ব্যবস্থাপনাটি এক সপ্তাহ ধরে চালনা করা হয়।
[ii] পর্যবেক্ষণ: পরীক্ষায় প্রাপ্ত রাসায়নিক পদার্থগুলির বিশ্লেষণের
দ্বারা তাঁরা 5টি অ্যামিনো অ্যাসিড পান। এগুলি হল গ্লাইসিন, আলফা অ্যালানিন, বিটা অ্যালানিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড ও আলফা অ্যামিনোবিউটাইরিক অ্যাসিড। পরবর্তী সময়কালে মিলার-এর ছাত্র জেরি বাড়া ও অন্যান্যরা (2008) প্রায় 20টি অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য জৈব অ্যাসিড ওই পরীক্ষাব্যবস্থা থেকে আবিষ্কার করেন।
[iii] সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাচীন পৃথিবীতে অক্সিজেনবিহীন বিজারক পরিবেশে বজ্রপাত, অতিবেগুনি রশ্মি বা অগ্ন্যুৎপাতের তাপশক্তির উপস্থিতিতে জলীয় বাষ্প, মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন প্রভৃতির বিক্রিয়ার ফলে জটিল যৌগের সৃষ্টি হয়। এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত অ্যামিনো অ্যাসিড জীবের কোণে পাওয়া যায়। এগুলি জীবদেহ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
[iv] মিলার-উরে-র পরীক্ষার গুরুত্ব: মিলার ও উরের পরীক্ষা অ্যাবায়োজেনেসিস তত্ত্বকে সমর্থন করে এই তত্ত্ব অনুযায়ী প্রায় 3.7 বিলিয়ন বছর আগে অজৈব উপাদান থেকে প্রাণ সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের পরীক্ষা হ্যালডেন-ওপারিন তত্ত্বকেও সমর্থন করে।
[v] মিলার-উরে পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা : (1) অ্যামিনো অ্যাসিড অজৈব উপাদান থেকে তৈরি হলেও তারা কীভাবে সমন্বিত হয়ে জীবন তৈরি করে তার ব্যাখ্যা পরীক্ষাটি দিতে পারেনি৷ (2) বর্তমানে বহু বিজ্ঞানী মনে করেন যে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে প্রাচীন পরিবেশে C0, যথেষ্ট মাত্রায় ছিল। সেক্ষেত্রে পরীক্ষালব্ধ অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি নাও পাওয়া যেতে পারত।
অথবা,
ল্যামার্কের অভিব্যক্তিসংক্রান্ত তত্ত্বের প্রতিপাদ্যের প্রধান দুটি বিষয় নীচে বর্ণনা করা হল।
[i] ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র : ল্যামার্কের মতে, জীবদেহের কোনো অঙ্গ ক্রমাগত ব্যবহৃত হতে থাকলে অঙ্গটি শক্তিশালী, সবল ও সুগঠিত হয়, পক্ষান্তরে জীবদেহের কোনো অঙ্গ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে সেটি ক্রমশ দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় হয় ও অবশেষে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
ব্যবহারের সপক্ষে উদাহরণ : বহুকাল আগে জিরাফের গলা ছোটো ছিল। কিন্তু কালক্রমে উঁচু গাছের পাতা খাদ্যরূপে গ্রহণের চেষ্টায় গলাটি ক্রমশ লম্বা হয়ে গেছে। এটি ব্যবহারের সপক্ষে প্রমাণ দেয়।
অব্যবহারের সপক্ষে উদাহরণ : মানুষের পূর্বপুরুষের ল্যাজ ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে আজ নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কক্সিসে পরিণত হয়েছে। অতীতে উটপাখির ডানা সক্রিয় থাকলেও বংশপরম্পরায় অব্যবহারের ফলে তা নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। এগুলি অব্যবহারের সপক্ষে যুক্তি দেয়।
[ii] অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ: ল্যামার্ক এই সূত্রে বলেন— আপন প্রচেষ্টায় জীবদ্দশায় যেসব বৈশিষ্ট্য জীব অর্জন করে, সেইসব বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে, অর্থাৎ এক জনু থেকে অপর জনুতে সঙ্কুরিত হয়। এককথায়, জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে। যেমন—বহুকাল আগে জিরাফের গলা ছোটো ছিল। কিন্তু কালক্রমে উঁচু গাছের পাতা আহরণের চেষ্টায় তা ক্রমশ লম্বা হয়েছে। এই লম্বা গলার বৈশিষ্ট্যটি বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে আজকের লম্বা গলাযুক্ত জিরাফের আবির্ভাব হয়েছে। হৎপিণ্ডের তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান: মাছ, উভচর, সরীসৃপ। ও স্তন্যপায়ী প্রভৃতি বিভিন্ন মেরুদণ্ডী শ্রেণির প্রাণীগুলির ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের গঠনগত জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। যথা—
(1) মাছের হৃৎপিণ্ডে দুটি প্রকোষ্ঠ- একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় বর্তমান| মাছের হৃৎপিন্ডের মধ্যে দিয়ে কেবলমাত্র কম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত (বা অধিক কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত রক্ত) প্রবাহিত হয়। এদের হৃৎপিন্ডে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড যুক্ত রক্তের মিশ্রণ ঘটে। (2) উভচর শ্রেণির প্রাণীর হৃৎপিণ্ডে তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকে। এগুলি হল দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়। ব্যাঙের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র নিয়ে অধিক অক্সিজেন-যুক্ত ও কম অক্সিজেনযুক্ত রক্তের সামান্য মিশ্রণ ঘটে। অর্থাৎ, এটি তুলনামূলকভাবে উন্নত হৃৎপিন্ড। (3) সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণীর হৃৎপিন্ডে আরও উন্নতি দেখা যায় (ব্যতিক্ৰম কুমির)। এদের হৃৎপিণ্ডে অসম্পূর্ণ চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে, এগুলি হল দুটি অলিন্দ ও অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত দুটি নিলয়। নিলয়ে অসম্পূর্ণ প্রাচীর থাকে বলে অধিক অক্সিজেন-যুক্ত এবং কম অক্সিজেনযুক্ত রক্তের মিশ্রণ কম হয়। (4)পাখি ও স্তন্যপায়ীদের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হয়। ফলে এদের হৃৎপিন্ডে অধিক অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ও কম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত একেবারেই মিশতে পারে না। অর্থাৎ, এদের হৃৎপিণ্ড সবচেয়ে উন্নত।
অভিব্যক্তি মতবাদের সপক্ষে প্রমাণ
(1) এই সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীগুলির হৃৎপিন্ডের মৌলিক গঠন এক, যদিও তা ক্রমশ থেকে বিবর্তনের পথে ক্রমশ জটিল জীবগুলির উৎপত্তি ঘটেছে।
(2) মাছ, উভচর, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলি অভিব্যক্তির পথে মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি বিশেষ। (3) হৃৎপিন্ডের গঠনগত ও কার্যগত বিকাশ অনুযায়ী পৃথিবীতে এদের আগমন ক্রম বোঝা যায়। অর্থাৎ, এদের আগমনের ক্রম হল—
মাছ ⟶ উভচর ⟶ সরীসৃপ ⟶ পাখি ও স্তন্যপায়ী
(4) হৃৎপিন্ডের এই ক্লম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্রমবিকাশের যে ধারা বোঝা যায়, তা হল— জলজ জীবন → উভচর জীবন পূর্ণস্থলচর জীবন
8.৫ নাইট্রোজেন চক্রের যে-কোনো তিনটি ধাপে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা বিশ্লেষণ করো “বিলাসবহুল ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা বায়ুদূষণের একটি অন্যতম প্রধান কারণ”— যুক্তিসহ উক্তিটি সমর্থন করো। ৩ + ২ = ৫
অথবা গঙ্গা নদীর দূষণের ফলে প্রাণী জীববৈচিত্র্যের বিপন্নতার দুটি উদাহরণ দাও। নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার ফলে যেসব ঘটনা ঘটছে তার যে-কোনো প্রধান তিনটি ঘটনা ব্যাখ্যা করো। ২+৩=৫
Ans. নাইট্রোজেন চক্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা : নাইট্রোজেন চক্রের বিভিন্ন ধাপে ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মধ্যে কয়েকটির কথা এখানে উল্লেখ করা হল—[i] জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ : জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ ঘটে দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে। এই পদ্ধতি দুটি হল— (1) অ্যামোনিফিকেশন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ এবং প্রাণীর নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ বিভিন্ন বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত ব্যাকটেরিয়া (ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস ও মাইক্রোকক্কাস) র দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে যে প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয়, তাকে অ্যামোনিফিকেশন বলে। (2) নাইট্রিফিকেশন: মাটির অ্যামোনিয়া বিভিন্ন প্রকার নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে পরিণত হয়, যে প্রক্রিয়ায় তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে। নাইট্রিফিকেশনে অংশগ্রহণকারী
প্রক্রিয়ায় প্রথমে অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম আয়নগুলি মাটিতে নাইট্রোসোমোনাস নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় নাইট্রাইট যৌগে পরিণত হয় (নাইট্রাইটেশন)। তারপর মাটিতে বসবাসকারী নাইট্রোব্যাকটর নামক ব্যাকটেরিয়া নাইট্রাইট যৌগকে নাইট্রেটে পরিণত করে (নাইট্রেটেশন)।
জটিল হয়েছে। অর্থাৎ, একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তনের পথে ক্রমশ জটিল জীবগুলির উৎপত্তি ঘটেছে।
(2) মাছ, উভচর, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলি অভিব্যক্তির পথে মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি বিশেষ। (3) হৃৎপিন্ডের গঠনগত ও কার্যগত বিকাশ অনুযায়ী পৃথিবীতে এদের আগমন ক্রম বোঝা যায়। অর্থাৎ, এদের আগমনের ক্রম হল—
মাছ ⟶ উভচর ⟶ সরীসৃপ ⟶ পাখি ও স্তন্যপায়ী
(4) হৃৎপিন্ডের এই ক্লম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্রমবিকাশের যে ধারা বোঝা যায়, তা হল— জলজ জীবন → উভচর জীবন পূর্ণস্থলচর জীবন
8.৫ নাইট্রোজেন চক্রের যে-কোনো তিনটি ধাপে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা বিশ্লেষণ করো “বিলাসবহুল ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা বায়ুদূষণের একটি অন্যতম প্রধান কারণ”— যুক্তিসহ উক্তিটি সমর্থন করো। ৩ + ২ = ৫
অথবা গঙ্গা নদীর দূষণের ফলে প্রাণী জীববৈচিত্র্যের বিপন্নতার দুটি উদাহরণ দাও। নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার ফলে যেসব ঘটনা ঘটছে তার যে-কোনো প্রধান তিনটি ঘটনা ব্যাখ্যা করো। ২+৩=৫
Ans. নাইট্রোজেন চক্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা : নাইট্রোজেন চক্রের বিভিন্ন ধাপে ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মধ্যে কয়েকটির কথা এখানে উল্লেখ করা হল—[i] জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ : জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ ঘটে দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে। এই পদ্ধতি দুটি হল— (1) অ্যামোনিফিকেশন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ এবং প্রাণীর নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ বিভিন্ন বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত ব্যাকটেরিয়া (ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস ও মাইক্রোকক্কাস) র দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে যে প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয়, তাকে অ্যামোনিফিকেশন বলে। (2) নাইট্রিফিকেশন: মাটির অ্যামোনিয়া বিভিন্ন প্রকার নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে পরিণত হয়, যে প্রক্রিয়ায় তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে। নাইট্রিফিকেশনে অংশগ্রহণকারী
প্রক্রিয়ায় প্রথমে অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম আয়নগুলি মাটিতে নাইট্রোসোমোনাস নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় নাইট্রাইট যৌগে পরিণত হয় (নাইট্রাইটেশন)। তারপর মাটিতে বসবাসকারী নাইট্রোব্যাকটর নামক ব্যাকটেরিয়া নাইট্রাইট যৌগকে নাইট্রেটে পরিণত করে (নাইট্রেটেশন)।
[ii] নাইট্রোজেনের মুক্তি বা মোচন বা ডিনাইট্রিফিকেশন: যে প্রক্রিয়ায় মৃত্তিকাঙ্খিত নাইট্রাইট ও নাইট্রেট যৌগ থেকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে, তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বা নাইট্রোজেন মোচন বলে। এতে সাহায্য করে থায়োব্যাসিলাস, সিউডোমোনাস ইত্যাদি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া।
বিলাসবহুল ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা বায়ুদূষণের প্রধান কারণ।”—এই উক্তিটির সমর্থনে কয়েকটি যুক্তি উল্লেখ করা হল| যেমন—[i] এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর যন্ত্রে ব্যবহৃত CFC বায়ুর উন্নতা বৃদ্ধি করে, ওজোন স্তর বিনাশ করে পরিবেশে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ায়। [ii] প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে তৈরি মিথেন বায়ুর তাপমাত্রা বাড়ায়। [iii] শিল্পক্ষেত্র ও কৃষিক্ষেত্র থেকে তৈরি হওয়া সালফার ও নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড, ধোঁয়া প্রভৃতি শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি ঘটায়, অ্যাসিড বৃষ্টি তৈরি করে।
অথবা, গঙ্গা নদীর দূষণের ফলে প্রাণী জীববৈচিত্র্যের বিপন্নতার দুটি
উদাহরণ হল—গাঙ্গেয় শুশুক ও ইলিশ মাছ-এর সংখ্যা হ্রাসা।
নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার ফলে পরিবেশে যেসব ক্ষতিকর পরিবর্তনগুলি ঘটছে, তার কয়েকটি হল—
[i] বিশ্ব উন্নয়ন: নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসটি তাপশোষী গ্রিনহাউস গ্যাস বা সূর্যালোকের প্রতিফলনে সৃষ্ট অবলোহিত আলো বা উত্তাপ শোষণ করে গ্রিনহাউস প্রভাব তথা বিশ্ব উন্নয়ন ঘটায়।
[ii] আলোক-রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফোটোকেমিকাল সুগ: পেট্রোলিয়াম দহনজাত নাইট্রিক অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও আলোকের উপস্থিতিতে PAN (পারঅক্সি-অ্যাসিটাইল নাইট্রেট) উৎপন্ন করে যা আলোকরাসায়নিক ধোঁয়াশা উৎপন্ন করে। এটি দৃশ্যদূষণ ও শ্বাসনালীর প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট সমস্যা সৃষ্টি করে।
[iii] অশ্লীকরণ: নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়ায় নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা অম্লবৃষ্টির অন্যতম উপাদান| অম্লবৃষ্টি জলজ জীব ও উদ্ভিদ ধবংস করে নদী, হ্রদ, পুকুর প্রভৃতির বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে। এ ছাড়া অম্লবৃষ্টির প্রভাবে বনজ সম্পদের বিনাশ, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
8.6 “ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার একটি সমস্যা হল বায়ুমন্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উয়ায়ন”—পরিবেশে এর কী কী প্রভাব পড়তে পারে তার সারসংক্ষেপ করো। শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের নানা শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা যায়—এরূপ দুটি সমস্যার নাম লেখো এবং তাদের একটি করে উপসর্গ বিবৃত করো। ৩+২=৫
অথবা সুন্দরবনে একটি গবেষণা করতে গিয়ে তুমি নিম্নলিখিত তিনটি সমস্যা শনাক্ত করলে— খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত । নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধবংস। উম্নতা বৃদ্ধির ওপর এদের প্রভাব কী কী হতে পারে তা বিশ্লেষণ করো। সুন্দাল্যান্ড হটস্পটের অবস্থান ও এর জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির নাম লেখো। ৩+২=৫
Ans. বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উম্নয়নের প্রভাব: শিল্প, কৃষি ও মানব উন্নয়নের অন্যান্য বিভিন্ন কার্যকলাপে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের ভৌত ও রাসায়নিক অবস্থার পরিবর্তন করে। তাপশক্তি ও পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র বায়ুমণ্ডলের উন্নতা বৃদ্ধি করে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাই পরোক্ষভাবে এই পরিবর্তন ঘটায়। গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে বিশ্ব উম্নয়ন ঘটিয়েছে।
শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের যেসব শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা যায়, তার মধ্যে দুটি সমস্যার নাম ও উপসর্গ নীচে সারণিতে লেখা হল।
অথবা,
গবেষণায় প্রাপ্ত সমস্যাগুলি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর যেসব প্রভাব বিস্তার করে সেগুলি হল—
[i] খাদ্য-খাদ্য সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে পরিবেশ সমস্যা সুন্দরবনকে গ্রাস করছে। বহু প্রাণী অবলুপ্ত হওয়ার ফলে বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলে খাদ্য-খাদকের সংখ্যার ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলছে। মাছ, কাঁকড়া প্রভৃতি অতিরিক্ত সংগ্রহে বাঘেদের স্বাভাবিক খাদ্য হ্রাস পাচ্ছে, ফলে তারা
সহজেই মানুষকে আক্রমণ করছে।
[ii] নগরায়ণের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধ্বংস: নগরায়ণের জন্য এবং গৃহনির্মাণ, চাষ-আবাদ জ্বালানি কাঠের চাহিদা পূরণের জন্য সুন্দরবনের তীরবর্তী অঞ্চলে লবণাম্বু উদ্ভিদকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
[iii] উম্নতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপভূমির নিমজ্জন: বিশ্ব উন্নয়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। সমুদ্রের জলের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের বহু দ্বীপ জলে নিমজ্জিত হচ্ছে। যেমন—ভাঙ্গদুয়ানি দ্বীপটির 16.44% জলে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এ ছাড়া ঘোরামারা, লোহাচারা, বেডফোর্ড প্রভৃতি ব-দ্বীপগুলি জলে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। বিশ্ব উন্নয়নের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে৷ । সুন্দাল্যান্ড হটস্পটের অবস্থান—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও এবং ভারতের নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি হল—সুন্দরী গাছ (উদ্ভিদ) অথবা ওরাং ওটাং (প্রাণী)।
👉SET-3:
বিভাগ—গ
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর দু-তিনটি বাক্যে লেখো : ২x ১২=২৪
৩.১ নীচের ঘটনাগুলি ঘটলে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়া ঘটে । এই প্রতিবর্ত ক্রিয়া দুটির গুরুত্ব লেখো ।
যখন শ্বাসনালীতে খাদ্যকণা ঢুকে পড়ে, যখন নাকের মধ্যে কোনো বিজাতীয় বস্তু ঢুকে পড়ে ।
Ans. প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব : আমাদের দেহের অধিকাংশ ক্রিয়াই মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু বহুক্ষেত্রে দ্রুত ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এই সকল ক্ষেত্রে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মস্তিষ্কের সাহায্য ছাড়াই দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় প্রতিবর্তের মাধ্যমে। একটি উদাহরণের সাহায্যে ঘটনাটি বোঝা যায়। শ্বাসনালীতে কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু, যেমন বিষাক্ত গ্যাস, জল, খাদ্যের কণা প্রভৃতি প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ কাশির উদ্রেক হয়। এই কাশির ফলে ফুসফুসীয় বায়ুর মাধ্যমে ওই বস্তুর নির্গমন ঘটে। এটি একপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এক্ষেত্রে কোনোরূপ চিন্তাভাবনা ছাড়াই কাশির উদ্রেক হয়, অর্থাৎ এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোনো ভূমিকা থাকে না। এইভাবে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে শ্বাসনালী থেকে অবাঞ্ছিত বস্তু নির্গমন হয় ও দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া চলতে থাকে। এ ছাড়াও চোখে হঠাৎ আলো বা ধূলো পরলে দ্রুত আমাদের চোখের পলক পড়ে। ধূলিকণার সংস্পর্শে আমরা হাঁচি। এগুলিও আমাদের দৈহিক প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে।
৩.২ চোখের কোন কোন দৃষ্টিজনিত ত্রুটি সংশোধনের জন্য অবতল লেন্সযুক্ত এবং উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয় ?
Ans. অবতল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করে মারোপিয়া নামক দৃষ্টিজনিত ত্রুটি সংশোধন করা হয়।
উত্তল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করে হাইপারমেট্রোপিয়া ও । প্রেসবায়োপিয়া নামক দৃষ্টিজনিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হয়।
৩.৩ নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হরমোনগুলির নাম তালিকাভুক্ত করো : ♦ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ; ♦ থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা প্রদান; ♦ স্ত্রীদেহে করপাস লুটিয়ামের বৃদ্ধি ঘটানো ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণে উদ্দীপনা প্রধান; ♦ উদ্বেগজনিত কারণে রক্তচাপ বৃদ্ধি করা ।
৩.৪ বিশ্রামরত একটি প্রাণী গমনে উদ্যত হল । এর চারটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করো ।
Ans. গমনের চালিকাশক্তি বা উদ্দেশ্য : গমনের চালিকাশক্তি তথা উদ্দেশ্যগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল।
(1) খাদ্য খোঁজা বা খাদ্যান্বেষণ : অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে। তাই উদ্ভিদকে খাদ্যন্বেষণে অন্যত্র গমন করতে হয় না। কিন্তু প্রাণীরা সাধারণত পরভোজী, অর্থাৎ প্রাণীদেরকে খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই প্রাণীকে খাদ্যের সন্ধানে স্থানান্তরে গমন করতে হয়।
(2) খাদকের খাদ্যে পরিণত হওয়া এড়িয়ে চলা বা আত্মরক্ষা : যেসব জীব নিজেরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খাদ্যের জন্য অপরের ওপর নির্ভরশীল, তাদের খাদক বলে। এক শ্রেণির খাদক অপর শ্রেণির খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে অগ্রসর হয়। তাই শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য প্রাণীকে স্থানান্তরে গমন করতে হয়। যেমন—বাঘ শিকারের সময় হরিণকে আক্রমণ করলে, হরিণ অন্যস্থানে গমন করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।
(3) পরিযান : পরিবেশগত কারণে প্রাণীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। একে পরিযান বলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি থেকে রক্ষা পেতে, প্রজননের জন্য প্রাণীরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে।
(4) অনুকূল পরিবেশের সন্ধান : উপযুক্ত মাত্রায় জল, আলো, বাতাস ইত্যাদির জন্য প্রাণীকে স্থানান্তরে গমন করতে হয়। যেমন— বর্ষাকালে পিঁপড়েরা মাটি ছেড়ে ঘরের ভিতর চলে আসে।
(6) নতুন এবং সুরক্ষিত বাসস্থান খুঁজে নেওয়া : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজন হয়। বহুক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বাসস্থানের নিরাপত্তা বিঘিত হয়, তখন নতুন বাসস্থানের সন্ধানে গমনের প্রয়োজন হয়। ফলে উপযুক্ত বাসস্থানের জন্য প্রাণীকে স্থানান্তরে গমন করতে হয়।
(6) প্ৰজননিক কাজের জন্য জীবের একত্রিত হওয়া : বংশবিস্তাবের প্রাণী ও নিম্নশ্রেণির কিছু উদ্ভিদকে উপযুক্ত প্রজনন স্থান খুঁজে | নেওয়ার জন্য বা উপযুক্ত সঙ্গী নির্বাচনের জন্য স্থানালত। করতে হয়। যেমন- ইলিশ মাছ সমুদ্রের লবণাক্ত জলে বাসক, প্রধানত ডিম পাড়ার জন্য এরা নদীর মিঠে জলে আসে।
৩.৫ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানুষের অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো: ♦ প্রকৃতি, ♦ সংখ্যা ।
৩.৬ স্পাইরোগাইরা ও প্ল্যানেরিয়ার অযৌন জনন কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় ?
Ans. পাহারাগাইরা ও প্ল্যানেরিয়া-র অযৌন জনন যথাক্রমে খণ্ডভবন এবং পুনরুৎপাদন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।
৩.৭ মানববিকাশের অন্তিম পরিণতি বা বার্ধক্য দশায় দৃষ্টিশক্তি এবং অস্থি সংক্রান্ত দুটি পরিবর্তন উল্লেখ করো ।
Ans. বার্ধক্য দশায়- (1) দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়, প্রেসবায়োপিয়ার লক্ষণ প্রকাশিত হয়। (2) অস্থি ও অস্থিসন্ধি ক্ষয় পেয়ে যথাক্রমে অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআথ্রাইটিস রোগ দেখা যায়।
৩.৮ মানুষের ক্ষেত্রে সন্তানের লিঙ্গ কীভাবে নির্ধারিত হয় তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও ।
Ans.
(2) গোণ লিঙ্গ নির্ধারণ : প্রাথমিকভাবে লিঙ্গ নির্ধারিত হওয়ার পরে বিভিন্ন প্রকার পুরুষ ও স্ত্রী যৌন হরমোনের প্রভাবে যথাক্রমে পুরুষ ও স্ত্রী গৌণ যৌন লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়।
৩.৯ একদিন শিক্ষার্থীরা খবরের কাগজে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে একটি প্রবন্ধ করল এবং একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির পরিণতি জেনে ভীত হল । জনগোষ্ঠী থেকে এই রোগ দূর করার জন্য তারা কী কী উদ্যোগ নিতে পারে তা লেখো
Ans. ওই শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগগুলি নিতে পারে সেগুলি হল- সাধারণ মানুষকে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা তা নির্ণয়ে রক্ত পরীক্ষায় উদ্ধুদ্ধ করা।(2) বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সিলারের কাছে যেতে উদ্বন্দ্ব করা।(3) রোগটি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা।
৩.১০ দ্বিসংকর জনন পরীক্ষায় F1 জনুতে উৎপন্ন সংকর উদ্ভিদ YyRr থেকে সকল সম্ভাব্য গ্যামেটগুলি কী কী হতে পারে ?
Ans. RrYy জিনোটাইপবিশিষ্ট একটি গোল-হলদে বীজের মটর গাছ থেকে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলে RY, Ry, rY, ry—এই চার প্রকারের।গ্যামেট উৎপন্ন হতে পারে।
৩.১১ পায়রার বায়ুথলির অভিযোজনগত দুটি গুরুত্ব কী কী ?
Ans. পায়রার বায়ুথলির গুরুত্ব
পায়রা প্রাথমিকভাবে একটি খেচর প্রাণী। বায়ুথলি হল বায়ুতে ওড়ার জন্য। বার অঞ্জসংস্থানিক অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য। এগুলি ক্লোমশাখা থেকে পন্ন পাতলা পর্দাবৃত 9টি বায়ুপূর্ণ প্রকোষ্ঠ বিশেষ, যা পেশি ও রক্তজালক বিহিন হয়। ওড়ার জন্য পায়রার অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। এই অতিরিক্ত গকি তথা প্রশ্বাসকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অক্সিজেন বায়ুথলি সরবরাহ করে। বায়ুর নীচের স্তরে উধর্বস্তর অপেক্ষা বেশি অক্সিজেন উপস্থিত থাকে। ওড়ার আগে পায়রা বায়ুথলিতে বাতাস পূর্ণ করে নেয় ফলে এই বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ বায়ুর উচ্চস্তর অপেক্ষা বেশি থাকে। এ ছাড়া থলিগুলি বায়ুপূর্ণ হলে দেহ সামগ্রিকভাবে হালকা হয় ও বাতাসে ভাসতে সুবিধা হয়।
৩.১২ মানবদেহের মেরুদন্ডে ও খাদ্যনালিতে অবস্থিত একটি করে নিষ্ক্রিয় অঙ্গের নাম লেখো ।
Ans. বিবর্তনের সপক্ষে নিষ্ক্রিয় অঙ্গঘটিত প্রমাণ
(1) ঘোড়া, গিনিপিগ প্রভৃতি তৃণভোজী প্রাণীর পৌষ্টিকতন্ত্রের ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত সিকাম একটি সক্রিয় অঙ্গ যা মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রাকার নিষ্ক্রিয় ভারমিফর্ম অ্যাপেনডিক্সে পরিণত হয়েছে। সিকামের কাজ হল। সেলুলোজ জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সাহায্য করা | মানুষের খাদ্যে সেলুলোজের পরিমাণ কম থাকায় অব্যবহারজনিত কারণে এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। (2) বানরে সক্রিয় ল্যাজ মানুষের ক্ষেত্রে মেরুদন্ডের শেষপ্রান্তে নিষ্ক্রিয় কক্সিস রুপে অবস্থান করে। (3) মানুষের চোখের উপপল্লব বা তৃতীয়
৩.১৩ ঘোড়ার বিবর্তনের ইতিহাসে চারটি প্রধান জীবাশ্ম পূর্বপুরুষের নাম ও সময়ের পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে লেখো ।
Ans. ঘোড়ার বিবর্তনের শব্দচিত্রটি নিম্নরূপ।
ইওহিপ্পাস → মেসোহিপ্পাস → মেরিচিগ্লাস → প্লিওহিপ্পাস → ইকুয়াস
(ইওসিন) (অলিগোসিন) (মায়োসিন) (প্লিওসিন) (আধুনিক)
৩.১৪ "মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হচ্ছে" —দুটি ঘটনা উল্লেখ করে এর যথার্থতা প্রমাণ করো ।
Ans. মানব ক্রিয়াকলাপে মক অধিক নাইট্রোজেনের ক্ষতিকর প্রভাব
অতিরিক্ত নাইট্রোজেনের প্রভাবে পরিবেশের প্রদত্ত ক্ষতিকর পরিবর্তনগুলি ঘটে থাকে।
(1) বিশ্ব উন্নয়ন :নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসটি তাপশোষী গ্রিনহাউস গ্যাস বা সূর্যালোকের প্রতিফলনে সৃষ্ট অবলোহিত আলো বা উত্তাপ শোষণ করে গ্রিনহাউস প্রভাব তথা বিশ্ব উয়ায়ন ঘটায়।
(2) আলোক-রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফোটোকেমিকাল স্মগ : পেট্রোলিয়াম দহনজাত নাইট্রিক অক্সাইড, হাইড্রোকার্বন ও আলোকের উপস্থিতিতে PAN (পারঅক্সি-অ্যাসিটাইল নাইট্রেট) উৎপন্ন করে যা আলোক রাসায়নিক ধোঁয়াশা উৎপন্ন করে। এটি দৃশ্যদূষণ ও শ্বাসনালীর প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে।
৩.১৫ ক্রমাগত জলাভূমি ধ্বংস ও কৃষিজমির পরিমাণের হ্রাস ঘটায় পরিবেশগত পরিণাম কী কী হতে পারে ?
Ans. জলাভূমি ধ্বংসের পরিবেশগত পরিণাম হল—
(1) জলাভূমিতে যে জলজ জীবগুলি বসবাস করে (যেমন—জলজ গাছ, মাছ, ব্যাং, সাপ ইত্যাদি) তাদের বৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। (2) পৃথিবীব্যাপী জলের অভাব দেখা দিচ্ছে। (3) স্থানীয় আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।
কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাসের পরিবেশগত পরিণাম হল— (1) উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে ও খাদ্যের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। (2) স্বল্প পরিমাণ জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের প্রচেষ্টায় জমিতে রাসায়নিক সার অধিক মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়াও অধিক জলসেচের ফলে জলের অভাব দেখা দিচ্ছে। (3) অধিক পরিমাণ ফসল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে উচ্চফলনশীল শস্যবীজ ব্যবহৃত হওয়ায় কোনো শস্যের স্থানীয় ভ্যারাইটিগুলি লোপ পাচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে।
৩.১৬ শব্দদূষণ মানব শরীরে কান ও হৃদপিন্ডের ওপর কী কী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে ?
Ans. কানের ওপর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শব্দ (100 dB)-এর কারণে অন্তঃকর্ণের অর্গান অফ কর্টির কোশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পায় বা বিনষ্ট হয়। একে নয়েস ইনডিউণ্ড হিয়ারিং লস’বলে।।
হৃৎপিণ্ডের ওপর প্রভাব—90dB-এর উর্ধ্বে শব্দ হলে সিস্টোলিক। রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন হার বৃদ্ধি পায়। অনবরত 60dB-এর ঊর্ধ্বে শব্দ শুনলে হৃৎপিণ্ডের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন নামক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এই রোগে হৃদ্ধপেশিতে আংশিকভাবে রক্ত সঞালন বন্ধ হয়ে গিয়ে পেশির কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়।
৩.১৭ মানব সভ্যতার বিকাশে নিম্নলিখিত দুটি ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা উল্লেখ করো । ♦ খাদ্য উৎপাদন; ♦ ওষুধ প্রস্তুতি ।
Ans. খাদ্য উৎপাদনে জীব বৈচিত্র্যের ভূমিকা : মানুষসহ সকল জীবই খাদ্যের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে থাকে। পৃথিবীর খাদ্যভান্ডাররুপে ও খাদ্যসুরক্ষা প্রদানে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ধান, গম, তেল, ডাল প্রভৃতি জীববৈচিত্র্যেরই অবদান। বিভিন্ন খাদ্য উপাদানসমৃদ্ধ খাদ্য সৃষ্টিতে, রোগ তথা খরা, বন্যা ইত্যাদি প্রতিরোধী খাদ্য উৎপাদনে জীববৈচিত্র্য মানবসমাজকে সাহায্য করে। পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য সামগ্রিক ভাবে পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদন সাহায্য করে।
ওষুধ প্রস্ততিতে জীববৈচিত্রের ভূমিকা : পৃথিবীর প্রায় 70,000 বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি ওষুধ হিসেবে তথা ওষুধ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। যেমন—সিঙ্কোনার ছাল থেকে প্রাপ্ত কুইনাইন ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধরূপে ব্যবহৃত হয়, সর্পগন্ধার মূলের ছাল থেকে প্রাপ্ত রেসারপিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় প্রভৃতি। সুতরাং বলা চলে। মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অপরিসীম।
বিভাগ—ঘ
৪. নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো : ৫x৬=৩০
৪.১ একটি প্রতিবর্ত চাপের চিত্র এঁকে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো :
(ক) গ্রাহক, (খ) সংজ্ঞাবহ স্নায়ু, (গ) স্নায়ুকেন্দ্র, (ঘ) চেষ্টীয় স্নায়ু । (৩+২)
অথবা, একটি ইউক্যারিয়োটিক ক্রোমোজোমের অঙ্গসংস্থানের চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো :
(ক) ক্রোমাটিড, (খ) সেন্ট্রোমিয়ার, (গ) নিউক্লিয়োলার অরগানাইজার, (ঘ) টেলোমিয়ার (৩+২)
Ans. প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ : যে নির্দিষ্ট স্নায়ুপথে স্নায়ুস্পন্দন আবর্তনের দ্বারা প্রতিবর্ত ক্রিয়া সংঘটিত হয়, সেই স্নায়ুপথটিকে প্রতিবর্ত পথ বা প্রতিবর্ত চাপ বলে। প্রতিবর্ত পথটি একটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হল।
উদ্দীপক → গ্রাহক → স্নায়ুকেন্দ্র → কারক → সাড়াপ্রদান
প্রতিবর্ত পথের অংশ ও তার কাজ : প্রতিবর্ত পথের পাঁচটি অংশ। নীচে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
(1) গ্রাহক : এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে আগত উদ্দীপনা গৃহীত হয় এবং স্নায়বিক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
(2) অন্তর্বাহী নিউরোন : এর মাধ্যমে উদ্দীপনা গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে পৌঁছোয়।
(3) স্নায়ুকেন্দ্র : এটি সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর বস্তুতে অবস্থিত। এখানে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা চেষ্টীয় উদ্দীপনায় রূপান্তরিত হয়।
(4) বহির্বাহী নিউরোন : এটি মোটর নিউরোন দিয়ে গঠিত। এর মাধ্যমে চেষ্টীয় উদ্দীপনা কারকে বাহিত হয়।
(5) কারক : পেশি, গ্রন্থি ইত্যাদি হল কারক। এরা উদ্দীপনার প্রভাবে উদ্দীপিত হলে সাড়া দেয়।
৪.২ একটি কোশচক্রের ইন্টারফেজের বিভিন্ন দশায় কী কী ধরনের রাসায়নিক উপাদান সংশ্লেষিত হয় ? একটি কোশচক্রের বিভিন্ন বিন্দুতে স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কী ঘটতে পারে ? (৩+২)
অথবা, একটি ফার্নের জনুঃক্রম পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেখাও । "প্রোফেজ এবং টেলোফেজের ক্ষেত্রে বিপরীতধর্মী পরিবর্তন ঘটে"—এরূপ দুটি বিপরীতধর্মী পরিবর্তন লেখো । (৩+২)
Ans. ইনটারফেজে উৎপন্ন পদার্থ : ইনটারফেজের নানা দশায় উৎপন্ন পদার্থগুলি হল—
(1) G1 দশা বা গ্যাপ 1 দশা : প্রোটিন mRNA, tRNA কোশীয় অঙ্গাণুর উৎপাদন হয়।
(2) Sদশা বা সংশ্লেষণ দশা : DNA সংশ্লেষণ ও দ্বিত্বকরণ হয়।
(3) G2 দশা বা গ্যাপ 2 দশা; মাইটোকনড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্ট, DNA এর গঠনগত ত্রুটি নিবারণকারী প্রোটিন ইত্যাদির সংশ্লেষ হয়।
স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে সৃষ্ট অবস্থা : কোশচক্রের বিভিন্ন চেকপয়েন্টগুলিতে স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোশ বিভাজন তার নিয়ন্ত্রণ হারাবে। DNA এবং স্পিন্ডিল-এর গঠনগত ত্রুটি থাকলেও যদি তখন কোশ বিভাজন ঘটে তাহলে ত্রুটিসম্পন্ন অপত্য কোশ তৈরি হয়। এ ছাড়া বিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হলে অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে টিউমার সঠি। হবে। অনেক ক্ষেত্রে কোশে ক্যানসার দেখা দিতে পারে।
৪.৩ মটরগাছের বীজের বর্ণ ও বীজের আকার— এই বৈশিষ্ট্য দুটি নিয়ে মেন্ডেল দ্বিসংকর জননের পরীক্ষা করেছিলেন । এই পরীক্ষার F2 জনুতে যে-কটি হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটরগাছ উৎপন্ন হয়, তাদের জিনোটাইপগুলি লেখো । মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্রটি বিবৃত করো । (২+৩)
অথবা, মেন্ডেল মটর গাছের ফুলের যে যে চরিত্রগুলি নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন তাদের প্রত্যেকটির বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো । "বংশগতির বৈজ্ঞানিক ধারণা গড়ে তুলতে মেন্ডেলের মটরগাছ সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলি যুগান্তকারী" —এই পরীক্ষাগুলিতে তাঁর সাফল্যের তিনটি কারণ উল্লেখ করো । (২+৩)
Ans. হলদে ও গোলাকার বীজের জিনোটাইপগুলি হল— YYRR, YyRr, YyRR, YyRr।
অথবা,
দুই বা তার বেশি বিপরীতধর্মী যুগ্ম বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হলেও তারা মিশ্রিত হয় না বরং অপত্যের জননকোশ তৈরির সময়ে এরা পরস্পর থেকে পৃথক হয় এবং সম্ভাব্য সকলপ্রকার সমন্বয়ে স্বাধীনভাবে জননকোশে সারিত হয়। এটিই মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র বা স্বাধীন সারণসূত্র।
অথবা,
মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত সাত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য : মেন্ডেল তার পরীক্ষা বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন তা নীচে সারণির আকারে দেখানো হল।
৪.৪ উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় সহন ক্ষমতার সঙ্গে এদের লোহিত রক্তকণিকার (RBC বিশেষ চরিত্রটি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত ? খাদ্যসংগ্রহ ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শিম্পাঞ্জিরা যেভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করে তার উদাহরণ দাও । (২+৩)
অথবা, একটি উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে ডারউইন প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো । রুই মাছের জলজ অভিযোজনে পটকার ভূমিকা কী কী ? (৩+২)
Ans. (1) উটের RBC নিউক্লিয়াসবিহীন হয় এবং সেই স্থান প্রান্তীয় ব্যান্ড (marginal band) পূর্ণ হয়। এই প্রান্তীয় ব্যান্ড আসলে হল একটি মোটা পট্টি-জাতীয় গঠন যা RBC অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি যথাযথভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে। এগুলি জলবিহীন অবস্থায় RBC থেকে জল নির্গমনে বাধা দেয়। (2) RBC ডিম্বাকৃতি ক্ষুদ্র আকারের হয়,ফলে জলের অভাবে রক্ত ঘন হলেও রক্তবাহতে তার চলাচল সম্ভব হয়। (3) উটের RBC অধিক জলপানের। পরে 240% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে এদের লোহিত। রক্তকণিকা আকস্মিক অভিস্রবণীয় চাপ সহ্য করতে পারে। তাই দীর্ঘদিন জলপান না করার পর অধিক জলপানেও উটের লোহিত রক্তকণিকা বিদীর্ণ হয় না।
বিবর্তনের ক্ষেত্রে আচরণের গুরত্ব : পরিবেশের কোনো ইঙ্গিতের প্রভাবে যেমন গন্ধ, শব্দ বা দৃষ্টি নিভর কোনো সংকেত দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে অথবা অন্য কোনো জীবের কার্যাবলির দ্বারা উদবুদ্ধ হয়ে জীব স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ত না জাবের কাযাবলির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে জীব স্নায়তন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীনে বিভিন্ন ধরনের আচরণ সম্পন্ন করে। ওই আচরণ জীবকে পথিবীতে টিকে থাকতে এবং প্রজননে তথা নিজ প্রজাতি সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এই এই আচরণের ফল সুদুরপ্রসারি এবং কালক্রমে তা অভিব্যক্তি ঘটাতে সাহায্য করে। এই কারণে বিবর্তনের ক্ষেত্রে আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিম্পাঞ্জির অভিযোজনে সহায়ক আচরণগত বৈশিষ্ট্য : অভিযোজনে সহায়ক শিম্পাঞ্জির আচরণগত বৈশিষ্ট্য হল—
(1) ভেষজ ঔষধির ব্যবহার : শিম্পাঞ্জিরা কোনো পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদের পাতা খেতে থাকে। এর ফলে তারা পরজীবীর আক্রমণ থেকে অব্যহতি পায়। অর্থাৎ পরজীবীঘটিত রোগ থেকে মুক্ত হতে পারে। দেখা গেছে, অ্যাসপিলিয়া রডিস-সহ আরও 19টি। ভেষজ গাছের পাতা শিম্পাঞ্জিরা ঔষধি হিসেবে গ্রহণ করে।
(2) উইপোকা শিকার: শিম্পাঞ্জিরা প্রথমে কোনো একটি গাছের ডাল ভেঙে নেয়। তারপর ওই ডালের পাতাগুলি ছিড়ে ফেলে দিয়ে, ডালটিকে উইঢিপির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে গর্তের সৃষ্টি করে। এরপর তারা আর-একটি সরু ডাল ভেঙে পাতা ছাড়িয়ে নেয় এবং ওই ডালটিকে প্রথমে সৃষ্ট গর্তে প্রবেশ করায়। উইপোকা ওই ডালের প্রবেশ স্থান থেকে বাইরে বের হতে থাকলে শিম্পাঞ্জিরা ওই উইপোকাকে ভক্ষণ করে নিজেদের ক্ষুধা নিবারণ করে।
(3) বাদামের খোলা ভাঙা : শিম্পাঞ্জিরা অনেক সময় মানুষের মতো কাঠের কোনো একটি টুকরোকে হাতুড়ি এবং পাথরের পাটাতনকে নেহাই-এর। মতো ব্যবহার করে বাদামের খোলা ভাঙে। খোলা অপসারিত হলে বাদাম বাইরে বেরিয়ে আসে এবং শিম্পাঞ্জিরা ওই বাদাম সংগ্রহ করে সহজে খেতে পারে।
৪.৫ "মানুষের লাগামছাড়া অনেক কাজই পরিবেশ দূষিত করে" —এর সপক্ষে তিনটি উদাহরণ দিয়ে উক্তিটি সমর্থন করো । পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি ন্যাশনাল পার্ক ও একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের উদাহরণ দাও । (৩+২)
অথবা, নাইট্রোজেন চক্রের ধাপসমূহ একটি পর্যায়চিত্রের সাহায্যে দেখাও । (৫)
Ans. নাইট্রোজেন চক্র: বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা 78.09 ভাগ। এ ছাড়াও মাটির মধ্যে নাইট্রেট, নাইট্রাইট এবং অন্য যৌগ হিসেবে নাইট্রোজেন আবদ্ধ থাকে। প্রকৃতির নাইট্রোজেন চক যে পর্যায়ে হয়, সেগুলি হল—নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ মাটির নাইট্রোজেন জীবদেহে প্রবেশ, জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ এবং নাইট্রোজেনের মুক্তি।
1)নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ: যে পদ্ধতিতে বায়ুর নাইট্রোজেন মাটিতে মেশে এবং নাইট্রোজেনঘটিত যৌগে পরিণত হয়, তাকে নাইট্রোজেন সংযোজন বা স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ বলে। এই স্থিতিকরণ প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে ঘটে থাকে।
এগুলি হল—[i] প্রাকৃতিক আবদ্ধকরণ: বজ্রপাত ও অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে বাতাসের নাইট্রোজেন গ্যাস অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) গঠন করে। এই নাইট্রিক অক্সাইড অক্সিজেনের দ্বারা জারিত হয় ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2) গঠন করে। | নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড বৃষ্টির জলে দ্রবীভূত হয়ে নাইট্রাসঅ্যাসিড (HNO2) ও নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) -এ পরিণত হয় এবং তা মাটিতে নেমে আসে।
এই দু-প্রকার অ্যাসিড মাটির ধাতব লবণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইট্রেট যৌগ(পটাশিয়াম নাইট্রেট, ক্যালশিয়াম নাইট্রেট প্রভৃতি) গঠন করে।
[ii]জীবজ আবদ্ধকরণ: [a] বিভিন্নপ্রকার অণুজীব, যেমন— Azootobacter (অ্যাজোটোব্যাকটর), Clostridium (ক্লসট্রিড প্রভৃতি বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেনকে নিজদেহে আবদ্ধ করে। মৃত্যুর পৰে এদের দেহের নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া বলে।
[b] বিভিন্ন প্রকার নীলাভ সবুজ শৈবাল সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেনকে আবদ্ধ করে মাটির নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বুদ্ধি করে। যেমন—Anabaena (অ্যানাবিনা), Nostoc (নস্টক) ইত্যাদি।
[c] মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া, যেমন— Rhizobium (রাইজোবিয়াম) ছোলা, মটর প্রভৃতি শিহ্মগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে অর্বুদ (nodule) গঠক করে বসবাস করে এবং বায়ু থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন শোষণ করে নানাপ্রকার নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ উৎপাদন করে।এইসব ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যুর পর তাঁদের নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায় ও নাইট্রোজেনের আবদ্ধকরণ ঘটে। [iii] শিল্পজাত আবদ্ধকরণ : কলকানাকানি বিভিন্ন ধরনের নাইট্রোজেন-সল্প সার তৈরি হয়। যেমন হবার
(Haber-Bosch) পদ্ধতিতে 300-100°C তাপমাত্রায় এবং 35-100 MPa চাপে (MPa = মেগাপাসকাল, চাপের মেট্রিক বা SI একক ) N2 ও H2 যুক্ত হয়ে NH3 উৎপন্ন হয়। NH3 ও অন্যান N2 যুক্ত সার প্রয়োগের ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন ঘটে।
3) মাটির নাইট্রোজেন জীবদেহে প্রবেশ : উদ্ভিদ, মাটিতে আবদ্ধ নাইট্রোজেনঘটিত বণ শোষণ করে এবং নিজদেহের চাহিদাপূরণ করে। এই নাইট্রোজেন উদ্ভিদ দেহে উদ্ভিজ প্রোটিনরুপে অবস্থান করে। প্রাণীরা খাদ্যের মাধ্যমে তা গ্রহণ করে নিজদেহে প্রবেশ করায় এবং প্রাণীদেহে প্রাণীজ প্রোটিনরুপে অবস্থান করে।
2) জীবদের থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ: জীবদেহ থেকে নাইট্রোজেনের মাটিতে পুনঃপ্রবেশ ঘটে দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে। এই সম্প্রতি দুটি হল—[1] অ্যামোনিফিকেশন: উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ এবং প্রাণীর নাইট্রোজেনযুক্ত রেচন পদার্থ বিভিন্ন বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে নাইটোজেনঘটিত যৌগের পরিমাণ বাড়ায়। এরপর এই যৌগগুলি অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া Bacillus mycoides (ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস) ও Micrococcus (মাইক্রোকাস)-র দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়ে যে প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় পরিণত হয়, তাকে অ্যামোনিফিকেশন বলে। [ii] নাইট্রিফিকেশন: মাটির অ্যামোনিয়া বিভিন্নপ্রকার নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা। বিশ্লিষ্ট হয়ে নাইট্রাইট ও নাইট্রেটে পরিণত হয়, যে প্রক্রিয়ায় তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে। নাইট্রিফিকেশনে অংশগ্রহণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া বলে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে অ্যামোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম আয়নগুলি মাটিতে Nitrosmonus (নাইট্রোসোমোনাস) নামক ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায়। নাইট্রাইট যৌগে পরিণত হয় (নাইট্রাইটেশন)। তারপর মাটিতে বসবাসকারী Nitrobacter (নাইট্রোব্যাকটর) নামক ব্যাকটেরিয়া। নাইট্রাইট যৌগকে নাইট্রেটে পরিণত করে (নাইট্রেটেশন)

4)নাইট্রোজেনের মুক্তি বা মোচন বা ডিনাইট্রিফিকেশন: যে প্রক্রিয়ায় মৃত্তিকাস্থিত নাইট্রাইট ও নাইট্রেট যৌগ থেকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে, তাকে ডিনাইট্রিফিকেশন বা নাইট্রোজেন মোচন বলে। এতে সাহায্য করে Thiobacillus (থায়োব্যাসিলাস), Pseudomonas (সিউডোমোনাস) ইত্যাদি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া।
৪.৬ পরিবেশগত কি কি কারণে মানুষের ক্যানসার হতে পারে ? বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা অধিক বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনের মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের কি কি সমস্যা হতে পারে ? (৩+২)
অথবা, সিংহ সংরক্ষণের জন্য ভারতবর্ষের গির জাতীয় উদ্যানে যে ইন-সিটু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করো । ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে একটি অঞ্চলে কি কি পরিবেশগত সমস্যা ঘটতে পারে ? (২+৩)
Ans. ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা : ক্যানসার রোগটি জিন ও পরিবেশগত কারণের সমন্বয়ে ঘটে থাকে। ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা নীচে আলোচনা করা হল।
1)কীটনাশক ও আগাছানাশক :
কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্নপ্রকার রাসায়নিক, জৈব-অভঙ্গুর কীটনাশক এবং আগাছানাশক খুব সহজেই মানবদেহে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রবেশ করে ক্যানসার সৃষ্টি করে।।
2) পরিবেশগত অধিবিষ: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে পরিবেশগত অধিবিষের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসূত্র বর্তমান। কারসিনোজেন বা কারসিনোজেনিক পদার্থগুলি। (যেমন—নিকোটিন, টার, কার্বন মনোক্সাইড, বেঞ্জোপাইরিন ,হাইড্রোজেন সায়ানাইড প্রভৃতি) স্বাভাবিক কোশের DNAরস্থায়ী পরিবর্তন ঘটায়। যার ফলে কোশে উপস্থিত জিন অঙ্কজিন রূপান্তরিত হয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করে।
3) তামাক সেবন: তামাকে নিকোটিন নামক কারসিনোজেন থাকে। দীর্ঘদিন জর্দা, খৈনি ইত্যাদি সেবন করলে তাতে উপস্থিত তামাক তথা নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে দাঁত, মুখ, জিহ্বা ও গলায় ক্যানসার সৃষ্টি করে।
4) ধূমপান: যারা নিয়মিত ধূমপান করে তাদের দেহে বেঞ্জোপাইরিন, দগ্ধ টার ইত্যাদি কারসিনোজেনিক পদার্থগুলি খুব সহজে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসের ক্যানসার ঘটায়।
6) তেজস্ক্রিয় পদার্থ: যে সমস্ত ব্যক্তি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে নিয়মিত কাজ করে থাকে তাদের শরীরে তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যানসার বেশি দেখা যায়। খনিতে কর্মরত শ্রমিকরা রেডন নামক একপ্রকার তেজস্ক্রিয় গ্যাসের সংস্পর্শ এলে তাদের ফুসফুস ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
6) রাসায়নিক দূষক: বিভিন্ন রাসায়নিক দূষক, যেমন—অ্যাসবেসটস, ক্রোমিয়াম ইত্যাদির গুঁড়ো থেকেও ফুসফুসের ক্যানসার ঘটে। নির্মাণ কর্মী, ঝালাই-এর কাজে নিয়োজিত কর্মী, স্টিল কারখানার কর্মীদের দেহে খুব সহজেই অ্যাসবেসটস, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি দুষক পদার্থ প্রবেশ করে। এর থেকে ফুসফুস ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ে।
(7) প্লাস্টিক দ্রব্য : এ ছাড়া যে সমস্ত কর্মী প্লাস্টিকজাত দ্রব্য উৎপাদনের কারখানায় কাজ করে তাদের মধ্যে যকৃৎ ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি হয়।
সমুদ্রের জলতল বদ্ধি পেলে বাসস্থানের বিনাশ, জলসংকট, মহামারি, চাষের জমি হ্রাস ও জীবিকাসমস্যা দেখা দেবে।
অথবা,
গির জাতীয় উদ্যানে সিংহ সংরক্ষণের প্রচেষ্টাগুলি হল—চোরাশিকার বন্ধ করা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, সিংহ প্রজননে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা: উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং বিভিন্নপ্রকার সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই অংশে কয়েকটি সমস্যা সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
1) প্রাকৃতিক সম্পদের অতিব্যবহার এবং তার হ্রাস:পৃথিবীতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ অফুরন্ত নয়। মানব জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট দেখা দিয়েছে। অতিব্যবহারের
ফলে পৃথিবীতে ব্যক্তিপিছু প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে।
2) অরণ্য ধ্বংস এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়: জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পস্থাপন, বাসস্থান প্রতিষ্ঠা, বনজ দ্রব্য (যেমন—কাঠ, মধু) আহরণ, কৃষিজমির বিস্তার, গবাদিপশুর চারণভূমি বৃদ্ধি প্রভৃতি নানা কারণে বর্তমানে অরণ্য ধ্বংসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান মানবসংখ্যা ও তাদের নির্বিচার ক্রিয়াকলাপের ফলে মরুভূমির বিস্তার ও দ্বাস্তুতন্ত্রে অন্যান্য উপাদানের ক্ষয়, যেমন— ভূমিক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি প্রভৃতি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—বন্যা, অনাবৃষ্টি, ঝড় প্রভৃতি ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
3)কৃষিজমি হ্রাস: জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে বাসস্থানের চাহিদা বৃদ্ধি মাওয়ায় মূলত শহরাঞ্চলগুলির প্রান্তভাগে অবস্থিত কৃষিজমি। বাসভূমিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল স্থানে কষিজমি হ্রাসের হার সর্বাধিক। ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
4) মিষ্টি জলের অভাব: পৃথিবীর সমগ্র জলের 1% হল পানযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য। জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধির ফলে কৃষি, শিল্প এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে এই জলের ব্যবহার অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ভৌমজলস্তর ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
5) বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন:শিল্প, কৃষি ও মানব উন্নয়নের অন্যান্য বিভিন্ন কার্যকলাপে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের ভৌত ও রাসায়নিক অবস্থার পরিবর্তন করে। তাপশক্তি ও পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র বায়ুমণ্ডলের উয়তা বৃদ্ধি করে। ফলস্বরূপ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে।।
6) বায়ু, মাটি এবং জলদূষণ: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে
অতিরিক্ত কলকারখানা স্থাপন, কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদন, বনজ সম্পদ আহরণ, ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশন, কৃষিজমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে ক্রমাগত বায়ু, মাটি, জল ইত্যাদি পরিবেশের উপাদানগুলি দূষিত হচ্ছে।
7) জলাভূমি ধ্বংস; অধিক জনসংখ্যার প্রভাবে বাসস্থান নির্মাণ, শিল্পস্থাপন, নগরায়ণ, কৃষিজমির সম্প্রসারণের ঘটনায় সাম্প্রতিক কালে পুকুর, হদ ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলস্বরূপ জীববৈচিত্র্য হ্রাস
পাচ্ছে, স্থানীয় আবহাওয়া পরিবর্তিত হচ্ছে ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
8) খাদ্যসংকট: অত্যধিক। হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হল বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য উৎপাদন ও তার সঠিক বণ্টন করা কঠিন কাজ। এর পরিণতি হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বহু মানুষ অপুষ্টির শিকার হচ্ছে এবং খাদ্যাভাবে অসংখ্য মানুষ, বিশেষত শিশুর মৃত্যু ঘটছে।
9) সমাজের ওপর প্রভাব : সমাজে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অপরাধ-প্রবণতন। প্রভৃতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে।
👉SET-4:
বিভাগ —গ
৩. নীচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২টি প্রশ্নের উত্তর দু- তিনটি বাক্যে লেখো : ২x১২=২৪
৩.১ ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলন এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো ।
৩.২ মানবদেহে জনন গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণে GTH -এর দুটি ভূমিকা লেখো ।
Ans. মানবদেহে জননগ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণে GTH-এর ভূমিকাগুলি হল— (1) FSH বা ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। (2) লিউটিনাইজিং হরমোন বা LH মহিলাদের পীতগ্রন্থি থেকে প্রোজেস্টেরন হরমোন এবং পুরুষদের শুক্রাশয় থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
৩.৩ নিম্নলিখিত ক্রিয়াগুলির মধ্যে কোনগুলি সহজাত এবং কোনগুলি অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া তালিকাভুক্ত করো:
(i) সদ্যোজাতের স্তন্যপানের ইচ্ছা (ii) সাইকেল চালানো (iii) হাঁচি (iv) ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উইকেটকিপারের বল ধরা ।
Ans. (1) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, (2) অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, (3) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া, (4) অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
৩.৪ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশগুলি লেখো ।
Ans. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে সারাদেহে বিন্যস্ত স্নায়ুগুলি নিয়ে গঠিত। মোট 12 জোড়া করোটি স্নায়ু ও 31 জোড়া সুষুম্না স্নায়ু। নিয়ে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।
৩.৫ কোশচক্রের দুটি গুরুত্ব লেখো ।
Ans. কোশচক্রের গুরুত্ব
(1) কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ : কোশচক্রের কতকগুলি নির্দিষ্ট বিন্দুতে কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রিত হয়। কোশচক্রের নিয়ন্ত্রণ বিন্দুগুলি বিনষ্ট হলে কোশ বিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, অনিয়ন্ত্রিত কোশ। বিভাজন দ্বারা টিউমার সৃষ্টি হয়। টিউমার দুইপ্রকার হয়। যেমন- বিনাইন টিউমার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। বিনাইন টিউমারগুলি। দেহের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। তবে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের কোণগুলি পার্শ্ববর্তী কোশের সঙ্গে সংলগ্ন না থেকে রক্ত বা লসিকা দ্বারা বাহিত হয় ও অপর স্থানে গিয়ে পুনরায় টিউমার তৈরি করে। এই ঘটনাকে মেটাস্ট্যাসিস বলে। মেটাস্ট্যাসিস প্রকৃতপক্ষে ক্যানসারের কোশের বৈশিষ্ট্যবিশেষ।
(2) স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ: স্বাভাবিক কোশ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ দ্বারা কোশের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য কোশচক্র গুরুত্বপূর্ণ।
৩.৬ নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে DNA ও RNA -এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো :
(i) পিরিমিডিন ক্ষারক; (ii) 5-C শর্করা
৩.৮ সংকরায়ন পরীক্ষায় কীভাবে প্রকট গুণ প্রকাশিত হয় তা উদাহরণের সাহায্যে লেখো ।
Ans. সংকরায়ণে F1 জনুর উদ্ভিদে T ও t উভয় অ্যালিল উপস্থিত থাকলেও, T, t র ওপর প্রকট হওয়ায় F1 জনুর সকল উদ্ভিদ লম্বা হয় অর্থাৎ, F1 জনুতে শুধু প্রকট গুণ প্রকাশিত হয়। এটি মেন্ডেলের প্রকটতার সূত্রকে সমর্থন করে।
৩.৯ অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে এক সংকরায়ন পরীক্ষায় F2 -জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের অনুপাত কী হবে ?
Ans. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে এক সংকরায়ণ পরীক্ষায় F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে—লাল : গোলাপি : সাদা =1:2:1 [সন্ধ্যামালতীর ক্ষেত্রে]।
অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে এক সংকরায়ণ পরীক্ষায় F2 জনুতে জিনোটোইপিক অনুপাতটি হবে—বিশুদ্ধ লাল (RR) : সংকর গোলাপি (Rr): বিশুদ্ধ সাদা (rr) =1:2:1 [সন্ধ্যামালতী ফুলের ক্ষেত্রে যেখানে। লাল প্রকট বৈশিষ্ট্য (R) এবং সাদা প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (r)]।
৩.১০ বর্ণান্ধতার কীভাবে বংশগতি সঞ্চরণ ঘটে তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও ।
Ans. ধরা যাক, একজন বর্ণান্ধ পুরুষের (XcY) সাথে একজন স্বাভাবিক মহিলার (Xc+Xc+) বিবাহ হল, এরপর তাদের সন্তান সন্ততিদের মধ্যে কীভাবে পিতার বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী জিনটি সঞ্চারিত হবে, তা ক্রসের মাধ্যমে দেখানো হল ।
কন্যা একটি X ক্রোমোজোম পিতার থেকে ও অপরটি মাতার থেকে পায়, তাই পিতা যদি বর্ণান্ধ (XcY) হয় তাহলে কন্যা বাহক হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে মাতা স্বাভাবিক (Xc+Xc+) হওয়ায় কোনো পুত্ৰই বর্ণান্ধ হয় না, কারণ পুত্ররা Y ক্রোমোজোমটি পিতার থেকে পেলেও X ক্রোমোজোমটি মাতার থেকে পায়, তাই মাতা স্বাভাবিক হলে পুত্ররাও স্বাভাবিক হয়। আবার যদি মাতা বাহক বা বর্ণান্ধ হয় তবে পুত্ররাও বর্ণান্ধ হয়।
৩.১১ জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সংক্রান্ত মিলার ও উরে -র পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিক্রিয়াগুলির এবং উৎপন্ন একটি জৈব যৌগের নাম লেখো ।
Ans. মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ মিথেন, আমোনিয়া ও হাইড্রোজেন (2: 2: 1 অনুপাত), জল। (H2O)।
মিলার ও উরের পরীক্ষায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থ—গ্লাইসিন, অ্যালানিন। অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, আলফা অ্যামিনো বিউটাইরিক অ্যাসিড প্রভৃতি। অ্যামিনো অ্যাসিড।
৩.১২ ঘোড়ার বিবর্তনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো যা পরিবর্তিত হয়েছে ।
Ans. ঘোড়ার বিবর্তনে যে সকল পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলি হল— (1) উচ্চতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি। (2) উভয় পদের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস (4টি থেকে টি) ও ক্ষুরের উৎপত্তি। (3) পুরপেষক ও পেষক দাঁতের দন্তচুড় (crown)-এর আয়তন বৃদ্ধি। (4) মস্তিষ্কের সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অংশের আকার বৃদ্ধি।
৩.১৩ সুন্দরী গাছ তার দেহের অতিরিক্ত লবণ কীভাবে রচিত করে ?
Ans. সুন্দরী গাছের লবণ রেচনের পদ্ধতিগুলি হল— (1) পাতায় লবণ গ্রন্থির উপস্থিতি যা জলের সাথে লবণ নির্গত করতে সাহায্য করে। (2) অতিরিক্ত লবণ বাকলের বিশেষ কোশ বা মূলের কোশে সঞ্জিত থাকে, যা বাকলমোচন বা অন্যান্য বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা নির্গত হয়। (3) সাধারণত কচি পাতার তুলনায় পরিণত পাতায় দেহের অতিরিক্ত লবণ সঞয় করে রাখে এবং প্রয়োজনমতো পত্রমোচনের দ্বারা সেই অতিরিক্ত লবণ নির্গত করে দেয়।(4) কোশের ভ্যাকুলগুলি আকৃতিতে বড়াে হওয়ায় এরা। ভ্যাকুওলের কোশরসে লবণ সঞ্জয় করে এবং প্রয়োজনমতো দেহ থেকে সেটি নির্গত করে। এমনকি এদের মূল অধিক লবণ শোষণে এদের বাধা দান করে।
৩.১৪ জীবজ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী দুটি জীবাণুর নাম লেখো ।
Ans. জীবজ নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী দুটি জীবাণু হল— অ্যাজোটোব্যাকটর ও ক্লসট্রিডিয়াম।
৩.১৫ অ্যাসিড বৃষ্টিজাত দুটি ক্ষতি উল্লেখ করো ।
Ans. পরিবেশের ওপর অম্লবৃষ্টির বা অ্যাসিড রেন-এর প্রভাব
(1) প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে বেশিরভাগ জলাশয়ের মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। স্থলভাগের গাছপালা, কৃষিজ ফসল ধ্বংস হয়। অম্লবৃষ্টির কারণে জলাশয়ের pH-এর মান যদি 4-এর কম হয়, তবে ওই জলাশয়ের অধিকাংশ সজীব উপাদানের মৃত্যু ঘটে।
(2) মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে মানুষের ত্বক ও কোশের অস্বাভাবিক ক্ষতি হয়। অম্লবৃষ্টির জন্য অ্যালুমিনিয়াম এবং তামা নির্মিত জলের পাইপ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং পানীয় জলের সঙ্গে মেশে এবং ওই জল পান করে বহু মানুষ পেটের রোগে ভোগে।
(3) মাটির ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির প্রভাবে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় এবং শস্যের ফলন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটিতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণী ও সূক্ষ্ম জীবাণুরা মারা যায়।
(4) বনাঞ্চলের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যায়। শস্যক্ষেত্রের উৎপাদনও ভীষণভাবে হ্রাস পায়।
(5) মার্বেলের কারুকার্যের ওপর প্রভাব : অম্লবৃষ্টির ফলে মার্বেলের বা চুনাপাথরের তৈরি বিভিন্ন কারুকার্য, স্থাপত্য নিদর্শনগুলি, যেমন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ফতেপুর সিক্রি, তাজমহল, কুতুবমিনার। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট ভবন, সেন্ট পল্স গির্জা ইত্যাদি ভীষণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। অম্লবৃষ্টির প্রভাবে পাথরের যে ক্ষয়ীভবন ঘটে, তাকে ‘স্টোন ক্যানসার’ বলে।
৩.১৬ পৃথিবীর উষ্ণায়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছে তার চারটি উদাহরণ দাও ।
Ans. পৃথিবীর উন্নয়নের ফলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির 4 টি উদাহরণ হল—
(1) অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সংলগ্ন প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হ্রাস। (2) পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা 1∘C−2∘C বৃদ্ধির ফলে উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় আজ মেরু ভল্লুক খাদ্যের অভাবে সংকটাপন্ন, তেমনই সিন্ধুঘোটক, মেরু শেয়াল, পেঙ্গুইন প্রভৃতিও বিপদগ্রস্ত। (3) বিশ্ব উন্নয়নের ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ক্ষতি করছে। (4) বিশ্ব উন্নয়নের ফলে বিভিন্ন মাছের প্রজাতি, পরিযায়ী পাখি, শামুক-ঝিনুকের প্রজাতি, উভচরেরা আজ বিপদের সম্মুখীন।
৩.১৭ পিপলস বায়োডাইভার্সিটি রেজিস্ট্রার (PBR) -এ জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত যে-প্রধান বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ করা হয় তা লেখো ।
Ans. PBR-এ যে সমস্ত বিষয়ে তথ্য মজুত করা থাকে তা হল— (1) সমস্ত স্থানীয় প্রজাতি সম্পর্কে সামগ্রিক তথ্য। (2) প্রজাতির বাসস্থান। (3) প্রজাতির থেকে প্রাপ্ত জৈবিক উৎপাদন (বা সম্পদ) সম্বন্ধে ধারণা, তাদের বাজারমূল্য, সংগ্রহের সময়, সংগ্রহের নিয়ম ও তাদের পরিবহণ পদ্ধতি। (4) প্রজাতিজাত উৎপাদনের প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তি। (5) প্রজাতিজাত সম্পদের স্থানীয় ব্যবহার এবং পরিচালন পদ্ধতি। (6) স্থানীয় ভৌগোলিক তথ্য (7) বিপন্ন প্রজাতি নির্ণয় ও স্থানীয় মানুষদের তরফ থেকে প্রজাতি সংরক্ষণের ধারণা ও উদ্যোগ।(8)স্থানীয় প্রজাতিগলি সম্বন্ধে ঐতিহ্যবাহী, পরম্পরাগত ও বিশ্বাস-সংক্রান্ত তথ্য।
বিভাগ—ঘ
৪. নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো : ৫x৬=৩০
৪.১ মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদ -এর একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো ।
(a) কর্নিয়া (b) লেন্স (c) ভিট্রিয়াস হিউমর (d) রেটিনা (৩+২)
অথবা, একটি উদ্ভিদকোশ বা একটি প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশার চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো ।
(a) ক্রোমোজোম (b) বেমতন্তু (c) মেরুঅঞ্চল (d) সেন্ট্রোমিয়ার (৩+২)
Ans.
৪.২ ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করো । ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের মধ্যে নিম্নলিখিত দুটি বিষয়ে পার্থক্য লেখো :
(i) কুণ্ডলী; (ii) সক্রিয়তা । (৩+২)
অথবা, মাইক্রোপ্রোপাগেশন কীভাবে সম্পন্ন করা হয় ? সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের নিম্নলিখিত তিনটি পর্যায়ের ঘটনাগুলি বিবৃত করো :
(i) জননকোশ বা গ্যামেট উৎপাদন; (ii) নিষেক ; (iii) ভ্রুণসৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ গঠন (২+৩)
Ans. ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোশকে পর্যবেক্ষণ করলে নিউক্লিয়াসের ভিতর সূক্ষ্ম জালকাকার গঠন দেখা যায়। লক্ষ করলে বোঝা যায় যে, এগুলি। প্যাচানো সিঁড়ির মতো দ্বিতন্ত্রী গঠন—এগুলিই হল DNA। এরা বৃহৎ অণু, তাই নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় থাকে। বিভাজনের সময়ে DNA আরও কুণ্ডলীকৃত হয় ও বিভিন্ন প্রোটিনকে দৃঢ়ভাবে পেঁচিয়ে লুপ তৈরি করে। কুণ্ডলীকৃত এই গঠনকে ক্রোমোজোম বলা হয়। অর্থাৎ, প্রোটিন সমন্বিত। কুণ্ডলীকৃত DNA-এই হল ক্রোমোজোম।
(1) ক্রোমোজোমে অবস্থিত DNA-তে সরলরৈখিক সজ্জাক্রমে জিন। পরপর সজ্জিত থাকে। (2) একটি ক্রোমোজোমে নির্দিষ্ট সংখ্যক জিন থাকে। (3) ক্রোমোজোমে জিনগুলির প্রকৃতিও নির্দিষ্ট থাকে। (4) ক্রোমোজোমীয় অংশ বিলুপ্ত হলে ওই অংশের জিনও বিলুপ্ত হয়। ফলে নানা মিউটেশন-জনিত। সমস্যা দেখা দেয়।
অথবা,
ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের পার্থক্যগুলি হল—
৪.৩ একটি সংকর কালো গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা গিনিপিগের মিলন ঘটালে যে-যে ধরনের অপত্য গিনিপিগ উৎপন্ন হতে পারে তা একটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও । মেন্ডেলের পৃথককরণ সূত্রটি বিবৃত করো । (৩+২)
অথবা, থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গগুলি উল্লেখ করো । অনেক পরিবারে কন্যাসন্তান জন্মের জন্য মাতাকে দায়ী করা হয় । এই ধারণাটি যে যথার্থ নয় তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও । (২+৩)
Ans. গিনিপিগের সংকরায়ণ পরীক্ষা : একটি সংকর কালো লোমযুক্ত (Bb) গিনিপিগের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা লোমযুক্ত (bb) গিনিপিগের সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য জনু (F1)-তে সৃষ্ট। গিনিপিগগুলির ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে—সংকর কালো লোম : বিশুদ্ধ সাদা লোম = 1; 1। ক্রস ও চেকার বোর্ডের সাহায্যে পরীক্ষাটি (সংকরায়ণ) নীচে দেখানো হল।

ব্যাখ্যা: (1) জনিতৃ (P) জনুর সংকর কালো লোমযুক্ত গিনিপিগের (2n) জিনোটাইপ হল Bb। অর্থাৎ, সংকর কালো গিনিপিগের থেকে দুই প্রকার গ্যামেট (n) সৃষ্টি হবে। (2) এগুলি হল কালো অ্যালিলযুক্ত (B) এবং সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেট। (3) পক্ষান্তরে বিশুদ্ধ সাদা লোমযুক্ত P জনুর বিপরীত লিঙ্গের গিনিপিগটির (2n) জিনোটাইপ হল bb। এক্ষেত্রে কেবলমাত্র একপ্রকার অ্যালিল থাকায় উৎপন্ন সকল গ্যামেটই (n) হবে। এটি হল সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেট। (4) চেকার বোর্ডে সংকর কালো গিনিপিগের B এবং b গ্যামেটের বিপরীতে সাদা লোমের গিনিপিগের (b) স্থাপিত করলে দেখা যায় (চেকার বোর্ড লক্ষণীয়) প্রথম অপত্য জনু বা F1 জনুতে কালো অ্যালিলযুক্ত (B) গ্যামেট এবং সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেটের মিলনে F1 জনুতে 50% গিনিপিগ কালো ফিনোটাইপযুক্ত হবে (যদিও তা সংকর কালো বা Bb জিনোটাইপবিশিষ্ট)।(5) P জনুর সংকর কালো গিনিপিগের সাদা অ্যালিলযুক্ত (b) গ্যামেটটি P জনুর সাদা গিনিপিগের থেকে উৎপন্ন b গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হলে F1 জনুতে বাকি 50% গিনিপিগ সাদা ফিনোটাইপযুক্ত হবে। (এই সাদা গিনিপিগগুলি বিশুদ্ধ বা bb জিনোটাইপযুক্ত হবে)। [সংকর লম্বা (Tt) ও বিশুদ্ধ বেটে (tt) মটর গাছের সংকরায়ণেও অনুরুপ ফলাফল পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে লম্বা বৈশিষ্ট্যটি প্রকট ও বেটে বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন।]
অথবা,
থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গ
(1) অ্যানিমিয়া সৃষ্টি : হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে তীব্র অ্যানিমিয়া সৃষ্টি হয়। অক্সিজেন পরিবহণ ব্যাহত হয়।
(2) লৌহ সঞ্চয় : রোগীর দেহে বারবার রক্ত সঞ্চারণের প্রয়োজন হয় বলে দেহের বিভিন্ন অংশে লৌহ সঞ্চিত হয়, যার ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেমন—হৃৎপিণ্ড, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, যকৃৎ, প্লিহা প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(3) হাড়ের গঠন বিকৃতি : অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় বলে হাড়ের গঠন বিকৃতি ঘটে এবং রোগীর মুখ ও মাথার খুলির হাড়ের গঠন অস্বাভাবিক হয়।
(4) যকৃৎ ও প্লিহার বৃদ্ধি : যকৃৎ ও প্লিহার বৃদ্ধি ঘটে। এদের যথাক্রমে হেপাটোমেগালি ও স্প্লিনোমেগালি বলা হয়।
(5) অন্যান্য : এ ছাড়া, এই রোগে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং জনডিস, ক্লান্তি। প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ অনুসারে " মানুষের দেহে রোগের তীব্রতা ও লক্ষণগুলি আলাদা হয়।
৪.৪ যে-দুটি অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে 'তিমির ফ্লিপার' আর 'পাখির ডানা' -কে সমঃসংস্থ অঙ্গ বলে বিবেচনা করা হয় তা উল্লেখ করো । একটি মৌচাকে কোনো শ্রমিক মৌমাছি অন্য শ্রমিক মৌমাছিদের কীভাবে খাদ্য উৎসের সন্ধান ও অবস্থান জানায় ? (২+৩)
অথবা, অভিব্যক্তি বা বিবর্তনের মুখ্য ঘটনাগুলি একটি পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেখাও । (৫)
Ans. তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানা (এ ছাড়াও মানুষের অগ্রপদ, বাদুড়ের ডানা) উভয়ই মেরুদণ্ডী প্রাণীর অগ্রপদ, অর্থাৎ সমসংস্থ অঙ্গ। কারণ-
(1) মেরুদণ্ডীয় অগ্রপদের প্রধান হাড়, হিউমেরাস, রেডিয়াস-আলনা, কারপাল, মেটাকারপাল, ফ্যালানজেস এতে বর্তমান। (2) এদের অগ্রপদ পেক্টোরাল গার্ডল বা শ্রেণিচক্রের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে। (3) এই অঙ্গটির পেশি, যেমন—বাইসেন্স, ট্রাইসেন্স প্রভৃতি উভয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়। (4) অগ্রপদের স্নায়ু ও রক্তবাহগুলিও উভয়ের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। এগুলির গঠন ও উৎপত্তি এক হলেও বিভিন্ন পরিবেশে বসবাসের জন্য ছড়িয়ে পড়ায় (তিমি—জল, পাখি—বায়ু) তাদের কার্যগত পরিবর্তন (অর্থাৎ সাঁতার ও উডডয়ন) ঘটেছে। এই জন্য তারা সমসংস্থ অঙ্গ৷
অথবা,
মৌমাছিদের বার্তা আদানপ্রদান
মৌচাকে দুই প্রকার কমী মৌমাছি থাকে, যথা স্কাউট বা খাদ্য সন্ধানী কমী মৌমাছি এবং ফোরেজার বা খাদ্য সংগ্রাহক কর্মী মৌমাছি | স্কাউটরা খাদ্যের সন্ধান করে এবং খাদ্যের সন্ধান পেলে এরা মৌচাকে ফিরে এসে চাকের সামনে বিশেষ নাচের ভঙ্গিতে দেহ সঞলন দ্বারা অপর মৌমাছিদের খাদ্যের উৎস সম্পর্কে বার্তা বা সংকেত প্রদান করে। একে মৌনৃত্য বলে। প্রধানত দুই প্রকার মৌনৃত্য দেখা যায়, রাউন্ড ডান্স বা বৃত্তাকার নৃত্য এবং ওয়াগ্ল ডান্স বা ওয়াল নৃত্য। এই নৃত্যের মাধ্যমে তিন প্রকার বার্তা দেওয়া ১ মৌচাক থেকে খাদ্যের দূরত্ব, খাদ্যের উৎসের দিক ও খাদ্যের ঘ্রাণ। নীচে দক প্রকার মৌনৃত্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
(1) ওয়াল নৃত্য : খাদ্যের উৎস 50-75m-এর থেকে দূরবর্তী হলে সন্ধানী কর্মী বা স্কাউট মৌমাছিরা ওয়া নৃত্যে অংশ নেয়। এরা চাকের। নিকটবর্তী অংশে উল্লম্ব তলে নাচে, যার বার্তা বা সংকেত থেকে অন্যান্য মৌমাছিরা অনুভূমিক তলে খাবারের উৎসের অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। এই নৃত্য ইংরাজি '8' সংখ্যার আকৃতিবিশিষ্ট হয়। অর্থাৎ, একবার ডানদিকে ও একবার বাঁদিকে লুপ তৈরি করে, এবং নৃত্যের সময় লুপের মধ্যের সরলরৈখিক অংশে সন্ধানী মৌমাছির উদর অংশ ওপর নীচে আন্দোলিত (waggle) হয়। ইংরাজি ওয়াল শব্দের অ আন্দোলন বা কম্পন। তাই এই নৃত্যকে ওয়াল নৃত্য বলে।
গুরুত্ব : এই ওয়াল বা কম্পনের মাত্রা থেকে খাদ্যের অবস্থানের দূরত্ব। সম্পর্কে জানা যায় এবং সুর্যের সাপেক্ষে নাচের কৌণিক অভিমুখ থেকে।
খাদ্যের উৎসের দিক নির্ধারণ করা যায়। ঊধর্বমুখী নাচ থেকে বোঝা যায় যে খাবারের উৎসের অবস্থান সূর্যের অভিমুখে। নিম্নমুখী নাচের।
অথ হল যে খাবারের অবস্থান সর্যের বিপরীত দিকে। ডানদিকে 30° কোণে নাচের অর্থ হল যে চাকের ডান দিকে 30° কোণে খাবারের | উৎস অবস্থিত।
(2) বৃত্তাকার নাচ/চক্রাকার নৃত্য : খাদ্যের সন্ধান 50-75m এর মধ্যে হলে শ্রমিক সন্ধানী মৌমাছিরা বৃত্তাকার নৃত্য করে থাকে। সন্ধানী মৌমাছিদের পিছনে সংগ্রাহকরাও খাদ্য উৎসের দিকে ধাবিত হয় এবং যাত্রাপথে তারাও একই নৃত্য শুরু করে।
রাউন্ড ডান্স গুরুত্ব: চক্রাকার নৃত্য দ্বারা নিকটবর্তী স্থানে খাদ্য উৎস থেকে মৌমাছিরা খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে।
৪.৫ অ্যাজমা বা হাঁপানির কারণগুলি কী কী ? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট -এর ভূমিকা কী কী ? (২+৩)
অথবা, জীববৈচিত্র্য কী কী কারণে হ্রাস পায় তা সঠিক উদাহরণের সাহায্যে নির্ধারণ করো । (৫)
Ans. (1) অ্যাজমার পরিবেশগত কারণগুলি হল বিভিন্ন প্রাকৃতিক অ্যালারজেন-এর সংস্পর্শে রোগটি বৃদ্ধি পায়, যেমন—প্রাণীর মল, উদ্ভিদের পরাগরেণু, ধুলো ও ছত্রাক। এ ছাড়া, বিভিন্ন গৌণ দৃষক, যেমন—ওজোন, ফরম্যালডিহাইড, PAN প্রভৃতি অ্যালারজেনের প্রভাব বাড়িয়ে দিয়ে অ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি করে। (2) অ্যাজমার মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলি হল— কলকারখানা বা গৃহে কয়লা, তেলের দহনে সৃষ্ট ধোঁয়া, কলকারখানায় সৃষ্ট সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড ইত্যাদি।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM-এর ভূমিকা বা গুরুত্ব : (1) বিভিন্ন রাজ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে রাজ্য বনদপ্তরকে সক্রিয় সহযোগিতা করে JFM কমিটি। (2) বনে চোরাশিকারের ঘটনা তাৎক্ষণিক বনদপ্তরকে জানানোর কাজ করে JFM কমিটি। (3) দাবানল, বেআইনি পশুচারণ, বনভূমি বিনাশের প্রচেষ্টা, বেআইনি খননকার্য রোধে প্রাথমিকভাবে বনদপ্তরকে তা জানানো ও সংশ্লিষ্ট কাজে বনদপ্তরের সঙ্গে JFM কমিটি কাজ করে থাকে।
অথবা,
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বা বিনাশের কারণ
(1) জমি ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন : জমি ব্যবহারের ধরন পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি ধবংস হয়ে যাচ্ছে ও তার সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলগুলিও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া পৃথিবীতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাহিদা পূরণ করার জন্য নির্বিচারে বনভূমি ধবংস করা হচ্ছে।
(2) শিকার ও চোরাশিকার : খাদ্যের প্রয়োজনে, নিছক শিকারের আনন্দ উপভোগ করার জন্য অথবা চামড়া, শিং, চর্বি প্রভৃতি বিক্রি করে উপার্জনের লোভে বিভিন্ন বন্যজীবকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এর ফলে সেই প্রজাতিগুলি ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। যেমন—সুগন্ধি দ্রব্য প্রস্তুতের জন্য ভারতীয় কস্তুরীমৃগ নির্বিচারে হত্যার ফলস্বরূপ এখন এসে | সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রজাতিটির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
(3) বিশ্ব উন্নয়ন ও জলবায়র পরিবর্তন : ইচ্ছেমতো বৃক্ষছেদন অতিমাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বিশ্ব উন্নয়নের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। বহু প্রাণী ওই পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না। ফলে তারা অবলুপ্ত হচ্ছে। যেমন—বিশ্ব উন্নয়নের ফলে আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার দরুন সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জীববৈচিত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে।
(4) দূষণ : সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে জলদূষণ, বায়ুদূষণ ও মৃত্তিকাদূষণের মাত্রা ও প্রভূত পরিমাণে বাড়ছে | দূষণের ফলে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। প্রকৃতিতে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কীটনাশককেই দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
(5) অতিব্যবহার : বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে বিভিন্ন বৃক্ষলতা ও গুল্ম আহরণ করে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনাঞ্চল থেকে ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদগুলি সংখ্যায় অতিদ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রাণীগুলিও অতিব্যবহারে আজ বিনাশের সম্মুখীন। যেমন—ভেষজ গুণসম্পন্ন সর্পগন্ধা গাছের অতিব্যবহারের ফলে প্রজাতিটি বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
(6) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় : বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের ফলে বহু প্রজাতি চিরকালের মতো অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বন্যা, ভূমিক্ষয়, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলি বিভিন্ন স্থানের বহু জীববৈচিত্র্যকে বিলুপ্ত করেছে। যেমন–2004 সালের 26 ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ঘটা সুনামির ফলে আন্দামানের প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(7) বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ : যে-কোনো বাস্তুতন্ত্রের নিজৰ গঠনবৈচিত্র্য থাকে। বাইরে থেকে হঠাৎ কোনো প্রজাতি এনে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের গঠন বিনষ্ট হয়। যেমন—‘হাইব্রিড মাপুর। প্রজাতিটির আবির্ভাবে দেশি মাগুর প্রায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
৪.৬ ভারতীয় একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দুটি সংরক্ষণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রস্তাব করো । মিষ্টি জলের উৎসগুলি কী কী ভাবে দূষিত হয় ? —তোমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মতামত জানাও । (২+৩)
অথবা, দুটি অঞ্চলের মধ্যে একটিকে জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে ঘোষণা করতে চাইলে কী কী শর্ত তুমি বিবেচনা করবে ? এক্স সিটু সংরক্ষণের দুটি উদাহরণ দাও । (৩+২)
Ans. গন্ডার সংরক্ষণে গৃহীত ব্যবস্থাগুলি হল— (1) গন্ডারের জন্য বাসস্থান সুনিশ্চিত করা ও তাদের খাদ্য ও পানীয়ের যথেষ্ট জোগানের ব্যবস্থা করা। (2) গন্ডারের প্রজননের ব্যবস্থা করা, সম্ভব হলে ‘ক্যাপটিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করা। (3) জনগণের মধ্যে গন্ডার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
জলদূষণের কারণ
নানা কারণে জল দূষিত হয়ে থাকে | নীচে কয়েকটি কারণ আলোচিত হল |
(1) কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য দ্বারা দূষণ : গ্রামাঞ্চলে চাষের জন্য ব্যবহৃত কীটনাশক, আগাছানাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি প্রধানত বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে গিয়ে নিকটবর্তী নদীনালা বা পুকুরের জলে মেশে এবং জলকে দূষিত করে। কৃষিতে ব্যবহত নাইট্রেট, ফসফেটজাতীয়। রাসায়নিক সার থেকে ইউট্রোফিকেশন -এর মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।
(2) কলকারখানার বর্জ্য দ্বারা দূষণ : শহরাঞ্চলে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদী, সমুদ্র ও বড়ো জলাশয়ে এসে মেশে এবং জলদূষণ ঘটায়।
(3) জীবাণু ও গৃহস্থালির প্রাত্যহিক আবর্জনা দ্বারা দূষণ : গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত জলে খাদ্যদ্রব্যের ফেলে দেওয়া অংশ, তরকারির পচা অংশ, মলমূত্র, সাবান, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি মিশে থাকে। ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি মিশ্রিত এই নোংরা জল নর্দমা, পয়ঃপ্রণালী দিয়ে। নদনদী, হ্রদ, খাল বা সমুদ্রের জলে পড়ে ও দূষণ ঘটায়।
(4) যথেচ্ছ ব্যবহারজনিত দূষণ : বিভিন্ন জলাশয়ের জল, মানুষের যথেচ্ছ ব্যবহার, যেমন—মলমূত্র ত্যাগ, স্নান, বাসনপত্র ধোয়া, গবাদিপশুর স্নান বা কাপড় কাচার ফলে দূষিত হয় ও তাতে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু জন্মায়।
(6) ভারী ধাতু দ্বারা দূষণ : ভৌমজলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটির নীচে জলস্তর স্বাভাবিকের থেকে অনেক নীচে নেমে যায়, যার ফলে জলে আর্সেনিক ও ফ্লুরাইডের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং জলদূষণ ঘটায়।
অথবা,
পরিবেশসংক্রান্ত সংস্থা 'কনজারভেশন ইনটারন্যাশনাল', একটি অঞলের জীববৈচিত্র্যের হটস্পট রূপে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য যে দুটি শর্ত তুলে ধরেছে, সেগুলি হল— (1) নির্দিষ্ট হটস্পট অঞ্চলে অন্তত 1500টি সংবহনকলাযুক্ত এনডেমিক উদ্ভিদ প্রজাতির অস্তিত্ব থাকতে হবে। (2) হটস্পট অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের অন্তত 70% প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে থাকতে হবে।
এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হল— (1) চিড়িয়াখানা (আলিপুর চিড়িয়াখানা) ও (2) বোটানিক্যাল গার্ডেন (আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস ভারতীয় বোটানিক গার্ডেন)।
..........................
Presented by
skacademyallinone.blogspot.com