📚 উচ্চমাধ্যমিক বাংলা: আমার বাংলা:গারো পাহাড়ের নীচে:সুভাষ মুখোপাধ্যায়।📚
✍️প্রশ্নের মান-৫:
প্রশ্ন-‘হাতিবেগার’ কী? কীভাবে এটি বন্ধ হয়েছিল? (৩+২)
উত্তর- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের ‘গারো পাহাড়ের নীচে’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে ‘হাতিবেগার’ নামক একটি অমানবিক আইনের পরিচয় পাওয়া যায়।
মাঝে মাঝে জমিদারের শখ হত হাতি ধরার। কিন্তু হাতি তো তার প্রজা নয় যে সহজেই ধরা দেবে। জমিদারের শখ পূরণ করার জন্য প্রত্যেক গ্রাম থেকে প্রজাদেরকে আসতে হত। এই কাজের জন্য তারা জমিদারের কাছে কোনো মজুরি তো পেতই না, এমনকি নিজেদের খাবার ব্যবস্থাও নিজেদেরকেই করতে হত। যে জঙ্গলে হাতি থাকতো সেই জঙ্গলটিকে প্রজারা বেড় দিয়ে ঘিরে থাকতো। আর হাতি ধরার শখ যার, সেই জমিদার সেপাইসন্ত্রী নিয়ে বসে থাকতেন পাহাড়ের উপর উঁচু মাচাতে। এদিকে হাতি ধরতে গিয়ে কোনো প্রজা মরতো সাপের কামড়ে কেউবা যেতো বাঘের পেটে।
কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অত্যাচার বেশিদিন সহ্য করেনি। গোরাচাঁদ মাস্টারের নেতৃত্বে প্রজারা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। কামারশালায় তৈরি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা জমিদারের পল্টনের সঙ্গে লড়াই করেছিল। জমিদারের লোকবলের কাছে প্রজাদের পরাজয় ঘটলেও হাতিবেগার আইন চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন-‘গারো পাহাড়ের নিচে’ যারা বসবাস করে তাদের জীবনযাত্রার পরিচয় দাও।
উত্তর- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে গারো পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী মানুষদের কথা উঠে এসেছে। হাজং-গারো-ডালু-মর্গান প্রভৃতি নানা জাতের মানুষ সেখানে বসবাস করে। ভিন্ন জাত হলেও তাদের জীবনধারণের প্রকৃতি প্রায় একই রকমের। এদের মুখেচোখে পাহাড়ি ছাপ। গারোদের ভাষা আলাদা কিন্তু হাজং-ডালুদের ভাষা বাংলা, যদিও আমাদের ভাষার সঙ্গে এদের ভাষার কিছু উচ্চারণের পার্থক্য আছে।
গারোদের বসতবাড়িগুলির বিশেষত্ব রয়েছে। তাদের ঘরগুলি মাচার উপর। বন্যজন্তুর ভয়ে মানুষ-গবাদিপশু সবাই এক মাচার উপর থাকে, সেখানেই আবার রান্নাবান্না হয়।
এদের সকলের প্রধান জীবিকা চাষবাস। হালবলদ নিয়েই তারা চাষ আবাদ করে। তবে হাজংরাই চাষের ব্যাপারে সবচেয়ে দক্ষ। এই অঞ্চলে তারাই নাকি প্রথমে এসেছিল। চাষবাসে তাদের জুড়ি নেই। তাই পাহাড়ি গারোরা এদের নাম দিয়েছে হাজং- অর্থাৎ চাষের পোকা। ছোটোখাটো কোনো টিলায় উঠে নিচের দিকে তাকালে মনে হবে পৃথিবীটা যেন সবুজ, যতদুর দেখা যায় শুধু ধান আর ধান।
এত ফসল আর এত প্রাচুর্য থাকা স্বত্বেও এইসব মানুষদের জীবনে সুখ নেই। ধানকাটার সময় মেয়ে-পুরুষ সবাই কাস্তে নিয়ে মাঠে যায়। ছেলে-বুড়ো সকলে মিলে মনের আনন্দে মাঠের ধান ঘরে নিয়ে আসে। আর তারপরেই আসে জমিদারের পাইক-বরকন্দাজ। জমিদারের পাওনাগণ্ডা মিটিয়ে যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে সারাবছর খাওয়া চলেনা। তারা মনের দুঃখে গান ধরে- “খালি পেটে তাই লেগেছে ধাঁধা”।
………………

