📚 উচ্চমাধ্যমিক বাংলা:আমার বাংলা:ছাতির বদলে হাতি:সুভাষ মুখোপাধ্যায়📚
১। ‘ছাতির বদলে হাতি’লাভের ঘটনাটি নিজের ভাষায় লেখ।
উত্তর- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদটির নাম ‘ছাতির বদলে ছাতি’। ব্রিটিশরাজের আমলে জোতদার- মহাজনেরা সাধারণ মানুষদের কীভাবে শোষণ করত- লেখক তার একটি নমুনা দিয়েছেন এই পরিচ্ছেদে।
গারো পাহাড়ের নিচের কোনো গ্রাম থেকে হালুয়াঘাট বন্দরে সওদায় এসেছিল চেংমান নামের এক চাষি। হঠাৎ মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হলে সে মনমোহন মহাজনের দোকানের ঝাঁপির নীচে আশ্রয় নেয়। বহুক্ষণ পর্যন্ত বৃষ্টি থামল না, চেংমানের বাড়ি ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। বাড়িতে তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। সে না ফিরলে বাড়িতে হাড়ি চড়বে না-এই সব চিন্তা করছিল। এমন সময় মনমোহন মহাজন দয়ার অবতার সেজে তার কলকাতা থেকে কেনা ছাতাটি চেংমানকে ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরতে বলে। ছাতাটা দামী তাই চেংমান কিন্তু কিন্তু করছিল। শেষমেশ মহাজনের আশ্বাসে সে ছাতা নিয়ে বাড়ি ফিরে।
এরপর প্রতিবার হাটে এসে চেংমান মনমোহনকে বলে ছাতার দামটা নিতে। কিন্তু মহাজন ‘নিচ্ছি-নেব’ করে টাকাটা নিচ্ছিল না। বছরখানেক পরে মনমোহন চেংমানকে পাকড়াও করে। চেংমান বুঝে যায় মহাজনের চালাকি। কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না। ছাতার মুল্য বাবদ মহাজন তার কাছে হাজার টাকা দাবী করে যা কিনা তখনকার দিনে একটা হাতির দামের সমান। এইভাবে মহাজন মনমোহন চেংমানকে ছাতি দিয়ে হাতির মূল্য আদায় করেছিল।
২। “তাতে চোখ কপালে উঠল !” – কার কথা বলা হয়েছে? তার চোখ কপালে ওঠার কারণ কী? ১+৪
উত্তর- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের ‘ছাতির বদলে হাতি’ পরিচ্ছেদে চ্যাংমানের চোখ কপালে উঠেছিল।
গারো পাহাড়ের নিচের কোনো গ্রাম থেকে চ্যাংমান এসেছিল হালুয়াঘাট বন্দরে সওদা করতে। হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এমন বৃষ্টি যে থামবার কোনো লক্ষণ ছিল না। চ্যাংমান গিয়ে মনমোহন মহাজনের দোকানের ঝাঁপির নীচে আশ্রয় নেয়। হঠাৎ মহাজনের দরদ উথলে উঠেছিল। তিনি কলকাতা থেকে সদ্য কিনে আনা নতুন ছাতাটা চ্যাংমানকে দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বললেন। চ্যাংমান প্রথমটাই নাকচ করেছিল, কিন্তু মহাজন তাকে আশ্বাস দেওয়াই সে ছাতা নিয়ে বাড়ি গিয়েছিল।
এরপর থেকে সে যতবার হাটে গিয়েছিল, প্রতিবারই মহাজনকে ছাতার মূল্য দিতে চেয়েছিল। কিন্তু মহাজন ‘নিচ্ছি-নেব’ করে নিতেই চায় নি। চ্যাংমান একসময় ছাতার কথা ভুলে যেতে বসেছিল। হঠাৎ একদিন মনমোহন চ্যাংমানকে পাকড়াও করে নিয়ে যায়। জাবদা খাতা খুলে মহাজন চ্যাংমানকে দেখায় যে ছাতার মূল্য বাবদ তার ঋণের পরিমাণ প্রায় হাজার খানেক টাকা। চক্রবৃদ্ধিহারে একটা ছাতির দাম সুদে-মূলে একটা হাতির দামের সমান হয়ে গিয়েছিল- এটা দেখেই চ্যাংমানের চোখ কপালে উঠেছিল।
৩। “নতুন ছাতি মাথায় দিয়ে মহাফুর্তিতে বাড়ির দিকে সে চলল”- কার কথা বলা হয়েছে? সে নতুন ছাতি কীভাবে পেল?
উত্তর- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের ‘ছাতির বদলে হাতি’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে চ্যাংমান নতুন ছাতি মাথায় দিয়ে মহাফুর্তিতে বাড়ির দিকে গিয়েছিল।
পাহাড়তলীর কোনো এক গ্রামের চাষী চ্যাংমান। সে এসেছিল হালুয়াঘাট বন্দরের হাটে সওদা করতে। হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এমন বৃষ্টি যে থামবার কোনো লক্ষণ ছিল না। চ্যাংমান গিয়ে মনমোহন মহাজনের দোকানের ঝাঁপির নীচে আশ্রয় নেয়।
এমন সময় মনমোহন মহাজন দয়ার অবতার এককসেজে বসলেন। তিনি কলকাতা থেকে সদ্য কিনে আনা নতুন ছাতাটা চ্যাংমানকে দিয়ে বললেন “যা যা, ছাতিটা নিয়ে বাড়ি চলে যা। নিজে ভিজিস তাতে কিছু নয় কিন্তু এতগুলো পয়সার সওদা যে ভিজে পয়মাল হয়ে যাবে”।
চ্যাংমানের হাতে তখন নগদ পয়সা ছিল না। তাই সে প্রথমটাই নাকচ করেছিল। কিন্তু মহাজন তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিল “নগদ পয়সা নাই বা দিলে। যখন তোমার সুবিধা হবে দিয়ে গেলেই হলো”। চ্যাংমান ভাবল এমন সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। এরপর সে নতুন ছাতা মাথায় দিয়ে বাড়ি গিয়েছিল।
………….
skacademyallinone.blogspot.com

