✅ডাকাতের মা-সতীনাথ ভাদুড়ীMCQ+SAQ+DAQ প্রশ্নোত্তর✅
✍️MCQ:
1)সৌখীদের বাড়ির বাইরে কোন ফলের গাছ ছিল?
[A]আম
[B]পেয়ারা
[C]লেবু
[D]নোনা আতা
Correct Answer: [D]নোনা আতা
2)”লোটা হলো বাড়ির লক্ষী” -বক্তা কে?
[A]পেশকারের স্ত্রী
[B]দারোগা সহ্যের
[C]সৌখির মা
[D]মাতাদিন পেশকার
Show Ans
Correct Answer:[A]পেশকারের স্ত্রী
3)সৌখীর মায়ের বেয়াই এর কয়টি মোষ ছিল?
[A]একটি
[B]দুটি
[C]তিনটি
[D]চারটি
4)সৌখী কাকে ঘুষ দিয়েছিল?
[A]জেলার সাহেবকে
[B]লাট সাহেবকে
[C]চৌকিদারকে
[D]হেড জমাদার সাহেবকে
Correct Answer:[D]হেড জমাদার সাহেবকে
5)সৌখীর মা কী বিক্রি করে জীবন কাটায়?
[A]দই
[B]করে
[C]খই মুড়ি
[D]ধান
Correct Answer:[C]খই মুড়ি
6)দলের লোকেরা কয় বছর সৌখীর মাকে টাকা পাঠিয়েছিল?
[A]এক বছর
[B]দুই বছর
[C]তিন বছর
[D]চার বছর
Correct Answer:[B]দুই বছর
7)”চোরাই মাল জেনেই কিনেছিস” – বক্তা কে?
[A]সৌখির মা
[B]মাতাদিন পেশকার
[C]দারোগা
[D]দোকানদার
Correct Answer:[B]মাতাদিন পেশকার
8)”ওকে ছেড়ে দিন দারোগা সাহেব”- বক্তা কে?
[A]সৌখি
[B]সৌখির মা
[C]সৌখির বাবা
[D]সোয়াইখির বৌ
Correct Answer:[B]সৌখির মা
9)”পুলিশ দেখে ভয় পাওয়ার লোক সে নয়”- এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
[A]সৌখির
[B]সৌখির মায়ের
[C]সৌখির বাবার
[D]সৌখির বৌয়ের
Correct Answer:[B]সৌখির মায়ের
10) “বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করছে”-উক্তিটি কার?
[A]পেশকার সাহেবের
[B]সৌখির মায়ের
[C]সৌখির
[D]সৌখির বৌয়ের
Correct Answer:[B]সৌখির মায়ের
11)হাতি পাকে পড়লে কে লাথি মারে?
[A]স্যাপ
[B]টিকটিকি
[C]ব্যাং
[D]মানুষ
12) “ঘুম আর আসতে চায়না”-এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
[A]সৌখির
[B]সৌখির মায়ের
[C]সৌখির বাবার
[D]সৌখির বৌয়ের
Correct Answer:[B]সৌখির মায়ের
13)টকটক করে টোকার শব্দ থেমে থেমে তিনবার হলে বুঝতে হবে কে এসেছে?
[A] সৌখী নিজে এসেছে
[B]সৌখীর বাপ এসেছে
[C]দলের লোক টাকা দিতে
[D]পুলিশের লোক এসেছে
Correct Answer:[D]পুলিশের লোক এসেছে
14) “ডাকাতের মায়ের ঘুম পাতলা না হলে চলে না”- কেন?
[A]ছেলে ডাকাতি করে রাতে ফিরে
[B]দরজায় সামান্য আওয়াজে যাতে ঘুম ভেঙে যায়
[C] পুলিশ এলে যাতে সতর্ক হওয়া যায়
[D] উপরের সবগুলো ঠিক
Correct Answer:[D] উপরের সবগুলো ঠিক
15) কে জেল দেখতে গিয়েছিলেন?
[A]বড় সাহেব
[B]লাট সাহেব
[C]বড়বাবু
[D]ছোটবাবু
Correct Answer:[B]লাট সাহেব
16)কাছারির ঘড়িতে কটা বাজে ?
[A]রাত তিনটে
[B]রাত দুটো
[C]রাত একটা
[D]রাত চারটা
Correct Answer:[B]রাত দুটো
17) সৌখির ক’বছর হল জেলে গিয়েছে?
[A]সাত বছর
[B]ছয় বছর
[C]পাঁচ বছর
[Dচার বছর ]
Correct Answer:[C]পাঁচ বছর
18)সৌখীর ছেলের বয়স কত?
[A]চার-পাঁচ বছর
[B]সাত-আট বছর
[C]দশ-এগারো বছর
[D] দুই-তিন বছর
Correct Answer:[A]চার-পাঁচ বছর
19)সৌখির মা আগে ছিল কী?
[A]ডাকাতের বউ
[B]ডাকাতের মা
[C]ডাকাতের ছেলে
[D]ডাকাত
Correct Answer:[A]ডাকাতের বউ
20)জেলের ঠিকাদারের কাছ থেকে সৌখী কত টাকা রোজগার করে এনেছিল?
[A]৫০ টাকা
[B]৬০ টাকা
[C]৭০ টাকা
[D]৯০ টাকা
Correct Answer:[D]৯০ টাকা
21)সৌখী টাকা কোথায় রেখেছিল ?
[A]মানিব্যাগে
[B]কোমরের বটুয়ায়
[C]মায়ের কাছে
[D]কোনোটাতেই নয়
Correct Answer:[B]কোমরের বটুয়ায়
22)“ এর আগেরবার সৌখী জেল থেকে এনেছিল ” –
[A]একটি থালা
[B] একটি জামা
[C]একটি কম্বল
[D]একটি চাদর
Correct Answer:[C]একটি কম্বল
23)জেলে থাকাকালীন সৌখীর ডিউটি ছিল—
[A]গুদামে
[B]রান্নাঘরে
[C]বাগানে
[D]খামারে
24)দোকানদার নগদ কত দামে সৌখীর মায়ের কাছ থেকে পেশকারের ঘটিটি কিনেছে ?
[A]চোদ্দো আনায়
[B] বারো আনায়
[C]দশ আনায়
[D]ষোলে আনায়
Show Ans
Correct Answer:[A]চোদ্দো আনায়
25)ডাকাতের মায়ের ছেলের নাম কী ?
[A]সৌখী
[B]মহিম
[C]সাদিয়া
[D]রহিম
26. ডাকাতের মা গল্পের রচয়িতা হলেন -
(ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
(খ)সতীনাথ ভাদুড়ী
(গ)সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(ঘ)শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
উত্তর : সতীনাথ ভাদুড়ী।
27.ডাকাতের মা যে মূল গ্রন্থ থেকে গৃহীত তার নাম হল -
(ক) চিত্ত গুপ্তের ফাইল
(খ)চকাচকি
(গ) ঘোড়ায় চরি মানস
(ঘ) জগরী
উত্তর : চকাচকি
28.নিচের কোনটি সতীনাথ ভাদুড়ীর বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস-
(ক) জাগরী
(খ) অগ্নি
(গ)আনন্দমঠ
(ঘ)পথের দাবী
উত্তর :জাগরী।
29. ডাকাতের মা প্রথম যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
(ক) প্রগতি
(খ)কল্লোল
(গ)কালি কলম
(ঘ) যুগান্তর
উত্তর : যুগান্তর।
30.ডাকাতের মায়ের ঘুম কেমন হয় -
(ক) গাঢ়
(খ)পাতলা
(গ)গভীর তন্দ্রাচ্ছন্ন
(ঘ) একটিও নয়
উত্তর : পাতলা।
30. টক টক করে দুই টোকর শব্দ থেমে থেমে তিন বার হলে বুঝতে হবে -
(ক) সৌখি নিজে এসেছে
(খ) সৌখির বাবা এসেছে
(গ)সৌখির দলের লোক টাকা দিতে এসেছে
(ঘ) একটিও নয়
উত্তর : সৌখির দলের লোক টাকা দিতে এসেছে ।
31.টক টক করে দুই টোকর শব্দ থেমে থেমে তিন বার হওয়ার পর আবার শব্দ হলে বুঝতে হবে -
(ক) সৌখি নিজে এসেছে
(খ)সৌখির বাবা এসেছে
(গ)সৌখির দলের লোক টাকা দিতে এসেছে
(ঘ)একটিও নয়
উত্তর : সৌখি নিজে এসেছে ।
32. সৌখির আগে কতবার কয়েদ হয়েছে -
(ক) ২ বার
(খ)৩ বার
(গ)৪ বার
(ঘ)৫ বার
উত্তর : ২ বার ।
33. "তারপর দরজা খুলবি"- কতবার নিঃশ্বাস ফেলে?
(ক) ১০ বার
(খ)১২ বার
(গ)১৫ বার
(ঘ)২০ বার
উত্তর : ১০ বার
33. সৌখির দলের লোক মাসোয়ারা টাকা দেয় না - কবে থেকে ?
(ক) ২ বছর থেকে
(খ) ৩ বছর থেকে
(গ)৪ বছর থেকে
(ঘ)৫ বছর থেকে
উত্তর : ৩ বছর থেকে।
34. সৌখি বাপের আমলে আহত ও বন্দি কয়েদি নিজের হাতে জিব কেটে ফেলত কারণ -
(ক) কথা বলতে না পারে যাতে
(খ) পুলিশের কাছে দল সম্পর্কে কিছু বলে ফেলে সেই আশঙ্কা করে
(গ) পুলিশ যাতে কিছু জিজ্ঞেস করতে না পারে
(ঘ) জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য
উত্তর : পুলিশের কাছে দল সম্পর্কে কিছু বলে ফেলে সেই আশঙ্কা করে।
35."এসব একলসেরে লোকদের দলে না নিলেই হয়" - ' একলসেরে' কথাটির অর্থ হল -
(ক) একরোখা
(খ) স্বার্থপর বা আত্মপরায়ন
(গ) বদরাগী
(ঘ)একগুঁয়ে
উত্তর : স্বার্থপর বা আত্মপরায়ন
36. সৌখির দ্বিতীয় বউয়ের চেহারা ছিল -
(ক) রোগা - রোগা
(খ)রোগা
(গ) মোটা মোটা
(ঘ) শুকনো শুকনো
উত্তর : রোগা - রোগা
37. সৌখির ছেলের বয়স ছিল আনুমানিক -
(ক) ৩ - ৪ বছর
(খ) ৪ - ৫ বছর
(গ) ৪ বছর
(ঘ) ২ - ৩ বছর
উত্তর : ৪ - ৫ বছর
38.সৌখির মাকে মাসোয়ারার টাকা যে দিতে আসত তার চেহারা ছিল -
(ক) তালপাতার সেপাই
(খ) তালের মত
(গ) গোল গাল
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর : তালপাতার সেপাই
39. সৌখির দ্বিতীয় বউ ছিল -
(ক) গোয়ালা
(খ) জেলে
(গ) কামার
(ঘ) কুমোর
উত্তর : গোয়ালা ।
40." সৌখির নিজের মাকে দেওয়া কম্বল এনেছিল " - কোথার থেকে -
(ক) আগের বার জেল থেকে
(খ) দোকান থেকে
(গ) রাস্তা থেকে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর : আগের বার জেল থেকে ।
41. সৌখির মা চুরি করা লোটা বাসন ওয়ালার কাছে বিক্রি করেছিল -
(ক) ১২ আনায়
(খ) ১৩ আনায়
(গ) ১৪ আনায়
(ঘ) ১৫ আনায়
উত্তর : ১৪ আনায়
42. সৌখি জেলখানা ঠিকাদারের কাছ থেকে কত টাকা রোজগার করেছিল -
(ক) ১২৫ টাকা
(খ)১২০ টাকা
(গ) ৮০ টাকা
(ঘ) ৯০ টাকা
উত্তর : ৯০ টাকা
43. ৫ - ৭ বছর আগে পুলিশ একবার ভোর রাতে সৌখির বাড়ি ঘেরাও করেছিল - কিসের খোঁজে -
(ক)বন্দুকের খোজে
(খ)দুষ্কৃতীর খোজে
(গ) বোমার খোজে
(ঘ) সোনার খোঁজে
উত্তর : বন্দুকের খোজে
✍️অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
১। ডাকাতের মায়ের ঘুম পাতলা হতে হয় কেন ?
= রাত-বিরেতে কখন সৌখীর মায়ের ঘরের দরজায় টোকা পড়ে তার ঠিক নেই তাই ডাকাতের মায়ের ঘুম পাতলা হতে হয়।
২। সৌখীর বাপের দলের একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়বার পর নিজের হাতে জিভ কেটে ফেলেছিল কেন ?
= কারণ- সৌখীর বাপের দলের কারো সম্বন্ধে পুলিশের কাছে যাতে কিছু না বলতে পারে সেই কারণে।
৩। সৌখীর এবারকার বউটার শরীর ভেঙে গিয়েছে কেন ?
= সৌখীর ছেলে হবার পর তার বউয়ের শরীর ভেঙে পড়েছিল।
৪। একবার সৌখী তার মাকে খুব মেরেছিল কেন ?
= একবার সৌখী রাতে বাড়ি ফিরে দরজায় টোকা মেরেও মায়ের ঘুম ভাঙেনি, তাই সে তার মাকে খুব মেরেছিল।
৫। হাতি পাঁকে পড়লে ব্যাঙেও লাথি মারে’- এই প্রবাদের অর্থ কী ?
= শক্তিশালী ব্যাক্তি কোনো বিপদে পড়লে তাকে নিয়ে দুর্বলেরা মশকরা শুরু করে।
৬। পুলিশ দেখে ভয় পাওয়ার লোক সে নয়’ – কার কথা বলা হয়েছে ?
= সৌখীর মায়ের কথা
৭। সৌখী ৯০ টাকা রোজগার করে এনেছে কীভাবে ?
= জেলখানার গুদামে কাজ করে জেলের ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৯০ টাকা রোজগার করে এনেছে।
৮। দু-তিন মাস সাজা হয় কাদের ?
= কদুচোর’দের।
৯। সে পাঁচিল ভাঙতে বুড়ির বিশেষ অসুবিধা হল না’- কারণ ?
= পাঁচিলটি দুই-আড়াই ফুট উঁচু করা হয়েছে এবং পাঁচিলের নিচে মাটি-ইট পড়ে থাকায় বুড়ির পাঁচিল ভাঙতে অসুবিধা হয়নি।
১০। সৌখীর মা আগে কী ছিল ?
= ডাকাতের বউ।
১১। আগের বউটার শরীর কেমন ছিল ?
= ভালো ছিল।
১২। বুড়ি বাড়ি বাড়ি গিয়ে কী বেচে ?
= খই-মুড়ি
১৩। লোটা বাড়ির কী ?
= লক্ষ্মী।
১৪। সৌখী কত বছর জেলে গেছে ?
= পাঁচ বছর।
১৫। এর আগে সৌখীর কতবার কয়েদ হয়েছে ?
= দু-বার।
১৬। সৌখী জেলখানায় কাদের সঙ্গে কথা বলে না ?
= কদুচোরদের সঙ্গে।
১৭। মেয়ে মানুষকে নিয়ে টানাটানি করছেন কেন’- কে কাকে বলেছে ?
= সৌখী, দারোগাবাবুকে বলেছিল।
১৮।বুড়ি কার পায়ের উপর মাথা কুটছিল ?
= দারোগাবাবুর পায়ের উপর।
১৯। নতুন কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়েও সৌখীর মায়ের ঘুম আসছিল না কেন ?
= কারণ পরদিন সকালে সৌখীকে কী খেতে দেবে এই চিন্তায়।
২০। বুড়ি নতুন কম্বল কোথায় পেয়েছে ?
= সৌখী দিয়েছিল।
২১। 'চোরাই মাল জেনেই কিনেছিস’ – চোরাই মালটি হলো--------?
= লোটা।
২২। সৌখীর মা সৌখীর দলের অনুচরদের সম্পর্কে কী বলেছে ?
= তার ছেলের দলের অনুচররা ছিঁচকে চোর,তালপাতার সেপাই।
২৩। সৌখী মেয়াদ শেষের আগেই জেল থেকে বাড়ি ফিরেছিল কেন ?
= প্রথমত লাটসাহেব জেল পরিদর্শনে এসে সৌখীর আচরণে খুশি হয়ে। দ্বিতীয়ত, সৌখী হেড জমাদার সাহেবকে ঘুষ দিয়ে রেখেছিল যাতে তার নাম সুপারিশ করা হয়।
২৪। সৌখী যখন ঘরে ফেরে তখন সৌখীর স্ত্রী-পুত্র কোথায় ছিল ?
= সৌখীর শ্বশুর বাড়ি।
২৫। গল্পে উল্লিখিত গন্ধগোকুল আসলে কী ?
= খট্টাশজাতীয় প্রাণী। লম্বা লেজওয়ালা নিশাচর বিড়াল জাতীয় প্রাণী।
২৬। টকটক করে দু’টোকার শব্দ থেমে থেমে তিনবার হলে কী বুঝতে হবে ?
= সৌখীর দলের লোক টাকা দিতে এসেছে।
২৭। এর আগেরবার সৌখী জেল থেকে কী এনেছিল ?
= একখানা কম্বল।
২৮। জেলে থাকাকালীন সৌখীর ডিউটি কোথায় ছিল ?
= জেলখানার গুদামে।
২৯। সৌখী এর আগে কতবার জেল খেটেছে ?
= দু-বার।
৩০। সৌখী বটুয়াটা কোথায় রেখে গিয়েছিল ?
= খাটিয়ার উপর।
৩১। দিনকাল পড়েছে অন্যরকম’—একথা বলার কারণ কী ?
= সৌখীর মা এই উক্তিটি করেছে।পুলিশকে ঠেকানো যায় কিন্তু দলের লোকদের বিশ্বাস করা যায় না। ক্ষমতার লোভে তারা যেকোনো কাজ করতে পারে। দলের অনুচররা আজকাল তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।
৩২। হায়-রে কপাল’—কার কপালের কথা বলা হয়েছে ?
= এখানে সৌখীর দ্বিতীয় পত্নীর কথা বলা হয়েছে। কেননা রোগা শরীর নিয়ে সে অন্যের বাড়িতে খাটতে পারে না।
৩৩। সৌখীর মা-বউকে কী কেউ বিশ্বাস পায়!’—কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে ?
= সৌখীর মা এই উক্তি করেছে। যেহেতু সৌখী ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত সেজন্য কেউ সৌখীর মা-বউকে বিশ্বাস করে না। এই কারণে লোকের বাড়িতে তাদের কাজও জোটে না।
৩৪। ঘুম আর আসতে চায় না’—ঘুম না আসার কারণ কী ?
= সৌখীর মায়ের নতুন কম্বল গায়ে দিয়েও ঘুম আসতে চায়না। বহুদিন পর ছেলে জেল থেকে বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু ছেলেকে পরদিন কী খেতে দেবে, সেই চিন্তায় মায়ের ঘুম না আসাই স্বাভাবিক। নানা দুশ্চিন্তা সৌখীর মাকে নতুন কম্বলের মধ্যেও ঘুমোতে দেয় না।
৩৫। প্রতি মুহূর্তে বুড়ি এই প্রশ্নেরই ভয় করছিল’—বুড়ি কে? সে কেন ভয় করছিল ?
= ডাকাতের মা’ গল্পের বুড়ি হলো সৌখীর মা। সৌখী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে তার বউ-ছেলেকে না দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করবে যে তার বউ-ছেলে কোথায় গিয়েছে। প্রতি মুহূর্তে বুড়ি এই প্রশ্নেরই ভয় করছিল।
৩৬। 'তার বাড়ি ফিরবার আনন্দ অর্ধেক হয়ে গিয়েছে’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে? তার আনন্দ অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল কেন ?
= এখানে সৌখীর কথা বলা হয়েছে। সৌখী বাড়ি ফিরে তার বউ-ছেলেকে না দেখতে পেয়ে তার আনন্দ অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল।
৩৭। সেই হয়েছে বুড়ির মস্ত ভাবনা’—ভাবনার কারণ কী ?
= ভাবনা সৌখীর মায়ের। সৌখী অনেকদিন পর জেল থেকে রাত্রিবেলায় বাড়ি এসেছে। পরদিন সকালে সৌখীকে কী খেতে দেবীই নিয়ে বুড়ির মস্ত ভাবনা।
৩৮। সৌখী তার মাকে বেদম মেরেছিল কেন ?
= একবার সৌখী রাত-দুপুরে বাড়ি এসে দরজায় টোকা মেরেছিল। কিন্তু মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে সৌখী তার মাকে বেদম মেরেছিল।
৩৯। ডাকাতের মায়ের ঘুম পাতলা না হলে চলে না কেন ?
= কারণ রাত-বিরেতে সৌখী ও তার দলের লোক এসে দরজায় টোকা মারতে পারে।
৪০। বুড়ির বুক কেঁপে উঠল’—কেন?
= সৌখীর মা মাতাদিন পেশকারের বাড়ি থেকে লোটা চুরি করে বাজারে চোদ্দ আনায় বিক্রি করেছিল।ফলে পরদিন সকালে বাড়িতে দারোগা-পুলিশ আসতে দেখে বুড়ির বুক কেঁপে উঠেছিল।
৪১। সৌখীর মা কত পয়সায় লোটা বিক্রি করেছিল ?
= চোদ্দো আনা পয়সায় লোটা বিক্রি করেছিল।
৪২। বুড়ির বিশেষ অসুবিধা হলো না’—অসুবিধা হলো না কেন ?
= মাতাদিন পেশকারের বাড়িতে যে পাঁচিল গাথা হচ্ছিল সেই পাঁচিলের নিচে মাটি ও ভাঙা ইট পড়েছিল তাই সেই পাঁচিল টপকাতে বুড়ির বিশেষ অসুবিধা হয়নি।
৪৩। সারা পাড়ায় কিসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল ?
= পোড়া আলু চচ্চড়ির গন্ধ।
৪৪। তখন ত মাথা হেঁট হয়নি তার’—কখন মাথা হেঁট হয়নি ?
= পাঁচ-সাত বছর আগে একবার পুলিশ ভোররাত্রে সৌখীর বাড়ি ঘেরাও করেছিল, বন্দুকের খোঁজে। সেই সময় সৌখীর মায়ের মাথা হেঁট হয়নি।
৪৫। সৌখীর মা তার ছেলের দলের লোকদের ব্যাপারে কোন কথা বলেছে?
= অ] দলের লোকেদের ছিঁচকে চোরের মতো আচরণ।
আ] দলের লোকেরা এক একটা তালপাতার সেপাই। --এককথায় তারা ডাকাত দলের যোগ্য নয়।
৪৬। সৌখীর শ্বশুরের কয়টি মোষ ছিল?
= দুইটি।
৪৭। গল্পে 'গয়লা বাড়ির মেয়ে' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
= সৌখীর দ্বিতীয় স্ত্রীকে।
৪৮। জেল থেকে ফেরার দিন সৌখীকে তার মা কী খেতে দিয়েছিল?
= নিজের পুঁজির খই-মুড়ি খেতে দিয়েছিল সৌখীর মা।
৪৯। সৌখীর মা তার স্বামীর কাছে ডাকাতদলের একজনের সম্বন্ধে কী শুনেছিল?
= ডাকাতদলের একজন পুলিশের কাছে ধরা পড়বার পর নিজের জিভ কেটে ফেলেছিল, যাতে তার দলের লোকের সম্বন্ধে কোনো কথা ফাঁস না হয়।
৫০। লোটা কী?
= বিশেষ ধরণের জল পাত্র।
৫১। রেমিশন কী?
= ইংরেজি শব্দ--Remission. অর্থ-- মকুব, ছাড়।
৫২। ‘তার কিনা দুবেলা ভাত জোটে না’—কার কেন ভাত না জোটার কথা বলা হয়েছে?
= ‘ডাকাতের মা’ গল্পের অন্তর্গত সৌখীর চার-পাঁচ বছরের ছেলের ভাত জোটে না। পুলিশের হাতে সৌখী ধরা পড়লে তার পরিবার প্রায় অচল হয়ে পড়ে এবং ঠিকমতো দুবেলা ভাত জোটে না।
৫৩। ‘বাপের বেটা, তাই মেজাজ অমন কড়া’—কার সম্পর্কে কোন মেজাজের কথা বলা হয়েছে?
= ‘বাপের বেটা’ বলতে সৌখীর কথা বলা হয়েছে। সৌখী তা মাকে হুঁশিয়ারি করে বলেছিল, রাতে নাক মুখ ঢেকে ঘুমিয়ে পড়লে তাকে খুন করে ফেলবে। ছেলের এই মেজাজ সম্পর্কে এই কথা বলেছিল সৌখীর মা।
৫৪। ‘সে কি আজকের কথা!’—কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে?
= সৌখী অনেকদিন পূর্বে জেল থেকে একখানা কম্বল এনেছিল। সেই প্রসঙ্গে সৌখীর মা একথা বলেছে।
৫৫। ‘এ আনন্দ আর রাখবার জায়গা নেই’—আনন্দ রাখবার আর জায়গা নেই কেন?
= সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘ডাকাতের মা’ গল্পের অংশবিশেষ। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সৌখী জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এবং ছেলেকে দেখে সৌখীর মায়ের আনন্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫৬। ‘সেইজন্য হুলুস্থুল পড়ে গেল’—কার বাড়িতে কেন হুলুস্থুল পড়ে গেল/
= মাতাদীন পেশকারের সখের লোটা চুরি যাওয়ায় তার বাড়িতে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছিল।
৫৭। ‘এ লোটা কোত্থেকে পেলি’—কে কার উদ্দেশ্যে একথা বলেছিল?
= মাতাদীন পেশকার বাসনের দোকানে তার নিজের লোটা দেখতে পেয়ে দোকানির উদ্দেশ্যে একথা বলেছিল।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
প্রশ্ন-১. ডাকাতের মা গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা কর। (৫)
উত্তর- সাহিত্যে নামকরণের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামকরণ থেকেই সংশ্লিষ্ট রচনা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। সাহিত্যের নামকরণ হয় মূলত (১) চরিত্রকেন্দ্রিক, (২) প্রধান ঘটনাকেন্দ্রিক অথবা (৩) ব্যঞ্জনা ধর্মী। আমাদের আলোচ্য সতীনাথ ভাদুড়ীর লেখা ‘ডাকাতের মা’ গল্পের নামকরণ চরিত্রকেন্দ্রিক।
গল্পের প্রধান চরিত্র হল সৌখীর মা অর্থাৎ ডাকাতের মা। এই গল্পে তার ব্যক্তিনামটির উল্লেখ নেই। আসলে পুরুষশাসিত সমাজে নারীর পরিচিতিও পুরুষ-নির্ভর। আগে, সৌখীর বাবা যখন বেঁচে ছিল, তখন সে ছিল ডাকাতের বউ। এখন ছেলের পরিচয়ে সে হয়েছে ডাকাতের মা। তার চিন্তাভাবনা এবং কাজকর্মই এই গল্পের প্রধান চালিকাশক্তি। তার স্মৃতিচারণার মাধ্যমে আমরা সৌখী এবং তার বাবার পরিচয় পাই; তার অপত্যস্নেহ তাকে চৌর্যবৃত্তিতে প্রণোদিত করে এবং তার ভুলের কারণেই তার নিরপরাধ ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সৌখী একজন ডাকাত এবং তার মা এই গল্পের মুখ্য চরিত্র, সেই হিসেবে এই নামকরণ যথার্থ হয়েছে।
তবে, আরো একটি দিক থেকে এই গল্পের নামকরণের সর্থকতা বিচার করা যেতে পারে। গল্পের প্রধান চরিত্র সৌখীর মা, কিন্তু গল্পের নাম ‘ডাকাতের মা’। সৌখী একজন ডাকাত, তার বাবাও ডাকাত ছিল। ডাকাতি নিঃসন্দেহে একটি নিন্দনীয় পেশা। কিন্তু সৌখীর মায়ের কাছে সেটাই গর্বের ব্যাপার। এমনকি পারিবারিক পেশা হিসেবে ডাকাতি করাটা তার স্বামী-ছেলের ‘হকের পেশা’ বলেই মনে করে সৌখীর মা। সাজার মেয়াদ কমে যাওয়ায় সৌখী যখন চুপিচুপি বাড়ি ফিরে আসে, তখনও তার মায়ের মনে হয়েছে যে তার ছেলে ‘বুক ফুলিয়ে পাড়া জাগিয়ে ঢুকতে পারত’। অর্থাৎ, মনেপ্রাণে সে ‘ডাকাতের মা’ হয়ে উঠেছিল। এই কারণে গল্পটির নামকরণ সার্থক হয়েছে।
প্রশ্ন- ২. “এতক্ষণে বুঝে সৌখী ব্যাপারটা”- কোন ব্যাপারটার কথা বলা হয়েছে? সে কিভাবে এই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিল তা নিজের ভাষায় লেখ। ২+৩
উত্তর- সতীনাথ ভাদুড়ির ‘ডাকাতের মা’ গল্পে সৌখী যে ব্যাপারটা বুঝে ছিল তা হল- তার মা চৌদ্দ আনা পয়সার জন্য একটা ঘটি চুরি করেছিল।
দীর্ঘদিন জেল খেটে আসার পর সৌখী তখনও বিছানায় শুয়ে ছিল। নতুন পাওয়া স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য সে ঠিক করেছিল বারোটার আগে উঠবে না। এমন সময় দারোগাসাহেব সহ কয়েকজন পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে হাজির হয়। দারোগাসাহেব সৌখীর মাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। ঘুমের ঘোরে সৌখী বুঝে উঠতে পারছিল না তাদের বাড়িতে পুলিশ আসার কারণ। সে নিজে তো গতকাল রাত্রে সাজার মেয়াদ শেষ করে বাড়ি ফিরেছে। বিছানায় শুয়েই সৌখী ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিল।
এদিকে সৌখির মা দারোগা পুলিশ দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। বুড়ি কল্পনাও করেনি যে তাদের বাড়িতে পুলিশ আসবে। ব্যাপারটা এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে সে অপরাধের কথা অস্বীকার করতেও ভুলে গিয়েছিল। দারোগাসাহেব তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করে যে, সে ওই ঘটি চোদ্দ আনায় বিক্রি করেছে কি না। এরপরেও বুড়ির মুখ থেকে কোন উত্তর বেরোয়নি। কিন্তু সৌখী ব্যাপারটা বুঝে গিয়েছিল যে তার মা তাকে খাওয়ানোর জন্য মাতাদিন পেশকারের ঘটি চুরি করেছিল।
প্রশ্ন-৩. “.. ছেলের নামে কলঙ্ক এনেছে সে”- কে ছেলের নামে কলঙ্ক এনেছে? ‘কলঙ্ক’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তর- সতীনাথ ভাদুড়ীর লেখা ‘ডাকাতের মা’ গল্পে সৌখীর মা তার ছেলের নামে কলঙ্ক এনেছিল।
দীর্ঘদিন জেল খাটার পর সৌখী বাড়ি ফিরে এসেছে। ছেলেকে কাছে পেয়ে বুড়ির আনন্দের সীমা থাকে না। কিন্তু এই আনন্দের সঙ্গে সমান্তরালভাবে একটা দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করছিল। জেলফেরত ছেলেকে সে সকালে কী খেতে দেবে এই চিন্তায় সৌখীর মায়ের ঘুম আসছিল না। শেষপর্যন্ত একটা উপায় সে বার করে ফেলে। জনৈক মাতাদীন পেশকারের বাড়ি থেকে একটি ঘটি চুরি করে এবং সেটি বাজারে বিক্রি করে ছেলের জন্য আলু-চচ্চড়ি ভাতের আয়োজন করেছিল। এমন সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়িতে পুলিশ আসে। সৌখী এসব ঘটনার কিছুই জানতো না কারণ সে এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু মাকে অপমানের হাত থেকে বাঁচাতে সৌখী বলে যে সে ঘটি চুরি করেছে। বিনা অপরাধে জেলে যেতে হয় সৌখীকে। আর এভাবেই নিজের অজান্তে ছেলেকে কালিমালিপ্ত করেছিল সৌখীর মা।
আসলে সৌখী তো কোনো সাধারণ চোর নয়- সে একজন ডাকাত। জেলে গিয়ে লাইফারদের সঙ্গে তার ওঠাবসা, কদু-চোরদের সাথে বাক্যালাপ পর্যন্ত করে না। অথচ তার মা সামান্য ঘটি চুরি করেছে এবং সেই অপরাধে তাকে জেলে যেতে হচ্ছে। তাই এই ঘটনাকে ‘কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন-৪. প্রতি মুহূর্তে বুড়ি এই প্রশ্নের ভয় এই করছিল- কোন প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে? বুড়ির ভয়ের কারণ কী? ১+৪
উত্তর- সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘ডাকাতের মা’ গল্পের এই অংশে বুড়ি অর্থাৎ সৌখীর মা ছেলের এই প্রশ্নটিকেই ভয় পাচ্ছিল। প্রশ্নটি ছিল সৌখীর ছেলে -বউকে নিয়ে। জেলফেরত সৌখী মাকে প্রশ্ন করেছিল-‘‘এদের কাউকে দেখছি না?’’।
প্রায় পাঁচ বছর জেল খাটার পর ছেলে বাড়ি ফিরেছে। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ফিরে এসেছে বলেই সৌখীর মা আনন্দে আপ্লুত। একইসঙ্গে তার খেয়াল আছে যে যেকোনো মুহূর্তে তার ছেলে নিজের স্ত্রী সন্তানের খবর জানতে চাইতে পারে। অথচ সৌখীর বৌ-ছেলেকে এখন থাকে তার শ্বশুরবাড়িতে। এই খবর সৌখীর মা সৌখীকে জানাতে রাজি হয়নি কারণ-
(১) সৌখীর দলের লোক দীর্ঘ তিন বছর টাকা পয়সা দিয়ে যায়নি বলে তার সংসার ভেসে যেতে বসেছিল- এই কথা শুনে বদমেজাজি সৌখী রেগে গিয়ে কিছু একটা করে বসতে পারে।
(২) বৌ-ছেলে বাড়িতে নেই শুনে তাদের ফিরিয়ে আনতে সৌখী রাতেই বেড়িয়ে পড়তে পারে, যেটা বুড়ি একেবারেই চায়নি।
এই দুই আশঙ্কার কারণে সৌখীর মা সৌখীকে তার বৌ-ছেলের ব্যপারে কোন কথা বোলতে চায়নি। তাই বুড়ি এই প্রশ্নটিকে ভয় করছিল।
প্রশ্ন-৫. ‘ডাকাতের মা’ গল্পে ডাকাতের মায়ের চরিত্রটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর- সতিনাথ ভাদুড়ীর একটি অনবদ্য ছোট গল্প হল ডাকাতের মা। ডাকাত-সর্দার সৌখীর মা হিসেবে তার এই পরিচয়। এই গল্পের প্রধান বর্ণনীয় বিষয় হলো তার চিন্তাভাবনা এবং কাজকর্মসমূহ। গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এই সৌখীর মা।
আপাত দৃষ্টিতে একটি সাধারণ চরিত্র হলেও কয়েকটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারনে ডাকাতের মা অর্থাৎ সৌখীর মা বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলি হল-
সংগ্রামী মনোভাব- একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান জেলে থাকায় পয়সার অভাবে পরিবারটি যখন বসতে চলেছে তখন সৌখীর মা বুক পেতে অস্তিত্ব রক্ষ্যার সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। খই-মুড়ি বিক্রি করে সে নিজের উপর পূর্তির ব্যবস্তা করেছে।
দায়িত্বশীলতা- সে নিজে নাতি এবং বৌমার যত্ন নিতে পারছিল না বলে তাদেরকে বৌমার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
বিচক্ষণতা- একজন ডাকাতের মাকে যতখানি বিচক্ষণ হতে হয় ঠিক ততখানি বিচক্ষণ সৌখীর মা। মাঝ রাতে দরজায় টোকা নাড়লে অথবা কখনো পুলিশের লোক এলে কি করা উচিত তা সে ভালো করেই জানে।
অপত্য স্নেহ- সৌখীর মায়ের যে গুণটি তাকে বিশেষ উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে তা হল তার বাৎসল্য। যদিও সে চুরির মতো নিন্দনীয় কাজ করেছে তবুও একথা বলা যায় যে সে সাধারণ ‘কদুচোর’দের মতো নয়। সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য তার এই চুরির ঘটনাকে যেমন মানবিকতার খাতিরে সমর্থন করাই যায়, তেমনি তাকে শুধুমাত্র একজন ডাকাতের মা না বলে ‘স্নেহময়ী জননী’ বলা সঙ্গত হবে।
প্রশ্ন-৬. “কিন্তু আজ যে অন্য ব্যাপার”- আজ বলতে কোন দিনটির কথা বলা হয়েছে? সেদিনের সেই ‘অন্য ব্যাপারটির’ পরিচয় দাও।
উত্তর- সতীনাথ ভাদুড়ীর লেখা ‘ডাকাতের মা’ গল্পে সৌখী জেল থেকে বাড়ি ফিরে আসার পরের দিন সকালেই তাদের বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। প্রশ্নে উদ্ধৃত ‘আজ’ বলতে সেই দিনটির কথা বলা হয়েছে।
সৌখী একজন ডাকাত এবং তার বাবাও একজন ডাকাত ছিল। ডাকাতি তাদের পারিবারিক পেশা। সেই সূত্রে তাদের বাড়িতে পুলিশের আসা যাওয়া কোনো নতুন ব্যাপার নয়। পুলিশকে দেখে ভয় পাওয়ার মানুষও নয় সৌখীর মা। কিন্তু সেদিন সকালে যখন পুলিশ এসেছিল সেদিন সৌখীর মায়ের বুক কেঁপে উঠেছিল কারণ সেদিন ব্যাপারটা ছিল অন্যরকম।
জেলফেরত ছেলেকে তার প্রিয় আলু-চচ্চড়ি ভাত রেঁধে খাওয়ানোর ইচ্ছে হয় সৌখীর মায়ের। কিন্তু তার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য ছিলনা। আবার, সকালে ছেলের কাছে পয়সা চেয়ে বাজার করবে এমনটাও তার পছন্দ নয়। তাই অনেক ভেবে চিন্তে গভীর রাতে বেরিয়ে পড়ে সে। মাতাদীন পেশকারের বাড়ির পাঁচিল টপকে জলভর্তি লোটা চুরি করে বাজারে চোদ্দ আনায় বিক্রি করে বাড়ি ফিরে সৌখীর মা।
লোটা বিক্রির টাকায় সবেমাত্র সে আলু-চচ্চড়ি রান্না শুরু করেছিল, এমন সময় সেই দোকানদার সহ পুলিশ নিয়ে এসে হাজির হয় মাতাদিন পেশকার। আগে তাদের বাড়িতে পুলিশ আসত তার স্বামী অথবা ছেলের খোঁজে, ‘আজ’ তাদের বাড়িতে পুলিশ এসেছে তারই খোঁজে। এই ছিল সেদিনকার অন্য ব্যাপার।
...........................

