📚 একাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর(MCQ+SAQ+DAQ): প্রথম অধ্যায় : রাষ্ট্রবিজ্ঞান : বিবর্তন , সংজ্ঞা ও বিষয়বস্তু ।📚
✍️সঠিক বিকল্পটি নির্বাচন করাে :
১। Politics গ্রন্থটি কার লেখা ? ক ) প্লেটো খ ) অ্যারিস্টটল গ ) গ্রীন ঘ ) চাণক্য
২। রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল একটি প্রগতিশীল বিজ্ঞান বলেছেন— ক ) গ্রীন খ ) ব্রাইস গ ) সিলি ঘ ) গেটেল
৩। আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক কাকে বলা হয় ? ক ) অ্যাকুইনাস খ ) ম্যাকিয়াভেলী গ ) হবস্ ঘ ) লক
৪। Political Opinion গ্রন্থটির লেখক — ক ) অ্যারিস্টটল খ ) গার্নার গ ) লিপম্যান ঘ ) বুলি
৫। রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি -- ক ) গতিশীল রাষ্ট্র খ ) স্থিতিশীল রাষ্ট্র গ ) উন্নয়নশীল রাষ্ট্র ঘ ) কোনোটিই নয়
৬। “ রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর শুরু ও শেষ রাষ্ট্রকে নিয়ে বলেছেন— ক ) গেটেল খ ) গার্নার গ ) সিলি ঘ ) লক
৭। অ্যারিস্টটল কোন দেশের দার্শনিক ছিলেন ? ক ) গ্রীক খ ) জার্মান গ ) রােমান ঘ ) ডাচ
৮। A grammar of politics গ্রন্থটির লেখক - ক ) বার্কার খ ) ল্যাস্কি গ ) হবহাউস ঘ ) লক
৯। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ’ শব্দটির প্রথম প্রয়ােগ ঘটে - ক ) ১৬৮৮ সালে খ ) ১৭০১ সালে গ ) ১৯০৫ সালে ঘ ) ১৯২১ সালে
১০। “ রাষ্ট্রবিজ্ঞান ' শব্দটির প্রথম প্রয়ােগ ঘটান - ক ) লিবনিজ খ ) অ্যারিস্টটল গ ) হবস ঘ ) রুশাে
১১। রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দের পাঠ ’ উক্তি করেছেন— ক ) ডেভিড ইস্টন খ ) রবার্ট ডাল গ ) ওয়াসবি ঘ ) মিলার
১২। যেখানেই রাজনীতি সেখানেই বিরােধ ’ উক্তিটি করেন— ক ) কালমার্কস খ ) অস্টিন গ ) ক্যাটলিন ঘ ) ওয়াসবি
১৩। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিজ্ঞান বলার পক্ষপাতী- ক ) গেটেল । খ ) অ্যালান বল গ ) ইস্টন ঘ ) রবার্ট ডাল
১৪। ক্ষমতাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু বলে গণ্য করেছেন - ক ) গার্নার খ ) গেটেল গ ) পল জানে ঘ ) লাসওয়েল
১৫। রাজনীতিকে প্রভাব ও প্রভাবশালীদের আলােচনা বলেছেন - ক ) ডেভিড ইস্টন খ ) ওয়াসবি গ ) রবার্ট ডাল ঘ ) গেটেল
১৬। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার বিরােধী- ক ) বোঁদা খ ) হবস গ ) লর্ড ব্রাইস ঘ ) মেটল্যাণ্ড
১৭। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে আবহবিজ্ঞান এর সঙ্গে তুলনা করেছেন - ক ) মেটল্যাণ্ড খ ) লর্ড ব্রাইস গ ) বাকল ঘ ) গেটেল
১৮। রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল— ক ) সামাজিক বিজ্ঞান খ ) প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গ ) নীতি বিজ্ঞান ঘ ) আবহবিজ্ঞান
১৯। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা দিয়েছেন- ক )ইস্টন খ ) লাসওয়েল গ ) রবার্ট ডাল ঘ ) গার্নার
২০। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে রাজনৈতিক প্রাণী ’ — উক্তিটি কার ? ক ) প্লেটোর খ ) অ্যারিস্টটলের গ ) হেগেলের ঘ ) মার্কসের
২১। Human Nature in Politics গ্রন্থটির প্রণেতা - ক ) চার্লস মেরিয়াম খ ) গ্রাহাম ওয়ালাস গ ) রবার্ট ডাল ঘ ) অ্যালান বল
২২। অবাধ বাণিজ্য নীতির প্রবক্তা ছিলেন— ক ) প্লেটো খ ) এঞ্জেলস্ গ ) অ্যাডাম স্মিথ ঘ ) রুশাে
২৩। Modern Politics and Government গ্রন্থটির লেখক কে ? ক ) গার্নার খ ) ল্যাস্কি গ ) অ্যালান বল ঘ ) ম্যাক্সি
২৪। রাজনীতিকে একটি সার্বজনীন কার্যকলাপ বলেছেন - ক ) ওয়ালেস খ ) অ্যালান বল গ ) চার্লস মেরিয়াম ঘ ) ইস্টন
২৫। “ রাজনৈতিক আলােচনার প্রধান প্রতিপাদ্য হল ক্ষমতা , শাসন বা কর্তৃত্ব এই অভিমত ব্যক্ত করেন উক্তিটি- ক ) রবার্ট ডাল খ ) অ্যালান বল গ ) লাসওয়েল ঘ ) লাথাম
২৬। রাষ্ট্রকেন্দ্রিক হল সমাজের সেই অংশ যা রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ও সরকারের নীতিসমূহ নিয়ে আলােচনা করে— ক ) পল জানে খ ) গার্নার গ ) গেটেল ঘ ) আর্থার কেটলে
২৭। নবজাগরণের শিশু বলা হয়— ক ) লককে খ ) ইবসকে গ ) রুশােকে ঘ ) ম্যাকিয়াভেলিকে
২৮। রাজনীতিকে অর্থনীতির ঘনীভূত প্রকাশ বলেছেন— ক ) লেনিন খ ) মার্কস গ ) এঙ্গেলস ঘ ) গ্রামসী
২৯। Personal is political উক্তিটি করেন ক ) ইস্টন । খ ) রবার্ট ডাল । গ ) কেট মিলেট ঘ ) রডি
৩০। সর্বাপেক্ষা কম শক্তিশালী রাষ্ট্রতত্ত্বের প্রবক্তা ক ) সিসেরাে খ ) বোঁদা গ ) রবার্ট নজিক ঘ ) জন স্টুয়ার্ট মিল
৩১।স্বাভাবিক অধিকার তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন— (A) রুশো (B) লক (C) হব্স (D) মিল
৩২।রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে একটি প্রগতিশীল বিজ্ঞান বলেছেন— (A) হব্স (B) অ্যারিস্টটল (C) ব্রাইস (D) সিজউইক
৩৩।উদারনীতিবাদের জনক হলেন— (A) অ্যারিস্টটল (B) মস্তেস্ক (C) লক (D) হস
৩৪।‘ Politics ‘ কথাটি কোন শব্দ থেকে এসেছে ?
(A) Polis (B) Political (C) Polistics (D) কোনোটিই নয়
৩৫।রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনার দু’টি বিষয়বস্তু হলো—
(A) রাষ্ট্র ও জনগণ (B) রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা (C) রাষ্ট্র ও সরকার (D) রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
৩৬।রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা দিয়েছেন—
(A) ডেভিড ইস্টন (B) প্লেটো (C) অ্যারিস্টটল (D) গার্নার
৩৭।কোন সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ?
(A) 1945 সালে (B) 1948 সালে (C) 1940 সালে
(D) 1965 সালে ।
৩৮। ‘ The Political System ‘ গ্রন্থটি লিখেছেন—
(A) গার্নার (B) বুন্টলি (C) ডেভিড ইস্টন (D) অ্যারিস্টটল
৩৯।“ রাষ্ট্রবিজ্ঞান – এর শুরু ও শেষ রাষ্ট্রকে নিয়ে। ” বলেছেন— (A) গেটেল (B) গার্নার (C) সিলি (D) ল্যাস্কি
৪০।“রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো রাষ্ট্রের অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পাঠ । ” উক্তিটি করেন— (A) গার্নার (B) গেটেল (C) নোজিক (D) রাসেল।
৪১।রাজনৈতিক সার্বভৌমিকতার জনক হলেন— (A) রুশো (B) হস (C) লক (D) বোঁদা ।
৪২।আইনগত সার্বভৌমিকতার জন্মদাতা হলেন— (A) বোঁদা (B) লক (C) রুশো (D) হবস্
৪৩।রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার পক্ষপাতী ছিলেন—
(A) অ্যারিস্টটল (B) গ্রিন (C) গার্নার(D) হবস্।
৪৪।‘ Public Opinion ‘ গ্রন্থটি কে লিখেছেন ?
(A) লিপম্যান (B) গার্নার (C) অ্যারিস্টটল (D) বুন্টলি
৪৫।কে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক?
(A) অ্যাকুইনাস (B) ম্যাকিয়াভেলি (C) হব্স (D) লক
৪৬।“ মানুষ রাজনৈতিক জীব ” —উক্তিটি কে করেন?
(A) গার্নার(B) প্লেটো (C) রুশো(D) অ্যারিস্টটল।
৪৭।‘ অর্থশাস্ত্র ’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন— (A) কৌটিল্য
(B) বেদব্যাস (C) বাল্মীকি (D) কালিদাস।
৪৮।“ রাজনীতি হলো একটি সর্বজনীন কার্যকলাপ । ” কে বলেছেন ? (A) লেনিন (B) হস (C) অ্যালান বল (D) ডেভিড ইস্টন
৪৯।রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান বলেছেন-(A) ম্যাকিয়াভেলি (B) কোৎ (C) হব্স (D) অ্যারিস্টটল
৫০।বল নয় , জনগণের ইচ্ছাই হলো রাষ্ট্রের ভিত্তি । ” উক্তিটি করেন— (A) লক (B) টি . এইচ . গ্রিন (C) হস (D) মস্তেস্কু
৫১।‘ রাষ্ট্রবিজ্ঞান ‘ কথাটি প্রথম প্রয়োগ করেন— (A) লিবনিজ (B) নোজিক (C) ম্যাকিয়াভেলি (D) টমাস হস।
৫২।মধ্যযুগীয় একজন রাষ্ট্রচিন্তাবিদের নাম হলো—
(A) অগাস্টাইন (B) অ্যারিস্টটল (C) মার্কস (D) অশোক
৫৩।একজন প্রাচীন রোমান রাষ্ট্রচিন্তাবিদের নাম হলো-
(A) ম্যাকিয়াভেলি (B) পলিবিয়াস (C) কৌটিল্য (D) প্লেটো
৫৪।‘ রিপাবলিক ’ গ্রন্থটির লেখক হলেন— (A) ল্যাস্কি
(B) লক (C) নোজিক (D) প্লেটো
✍️ অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
১। রাজনীতি বলতে কী বােঝ ?
উ : রাজনীতি হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে গােষ্ঠীসমূহ যৌথ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে ।
২। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার পক্ষপাতী এমন দুজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম করাে ।
উ : অ্যারিস্টটল , লর্ড ব্রাইস ।
৩। দুজন আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম করাে ।
উ : ডেভিড ইস্টন , রবার্ট ডাল ।
৪। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনার একটি সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করাে ।
উ : রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনায় রাষ্ট্র ব্যতীত অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলির ক্রিয়াকলাপ উপেক্ষিত হয় ।
৫। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার সমর্থনে একটি যুক্তি দেখাও ।
উ :- অন্যান্য বিজ্ঞানের মতাে রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও পর্যবেক্ষণ , পরীক্ষণ , শ্রেণিবিভক্তিকরণ , পরিসংখ্যান ইত্যাদির মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব ।
৬। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এমন দুজন রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের নাম লেখাে । উ : গার্নার , বুন্টসলি ।
৭। কার মতানুসারে রাজনীতি হল প্রভাব ও প্রভাবশালী সংক্রান্ত আলােচনা ?
উ : লাসওয়েলের ।
৮। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের দুটি পরস্পর বিরােধী দৃষ্টিভঙ্গির নাম লেখাে ।
উ : সনাতন দৃষ্টিভঙ্গি , মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ।
৯। Politics গ্রন্থের রচয়িতার নাম লেখাে ।
উ : অ্যারিস্টটল ।
১০। UNESCO- র পুরাে কথাটি কী ?
উ : United Nations Educational Scientific and Cultural Organization .
১১। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার বিরােধী দুজন প্রবক্তার নাম লেখাে ।
উ : কোঁৎ , মেটল্যান্ড ।
১২। Politics কথাটি কোন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে ?
উ : গ্রিক শব্দ Polis থেকে ।
১৩। মধ্যযুগের দুজন রাজনৈতিক চিন্তাবিদের নাম করাে ।
উ : অগাস্টাইন , অ্যাকুইনাস ।
১৪। কার মতে রাজনীতি একটি সার্বিক কার্যকলাপ ?
উ : অ্যালান বল ।
১৫। Republic গ্রন্থের রচয়িতার নাম কী ?
উ : প্লেটো ।
১৬। আচরণবাদের দুজন প্রবক্তার নাম লেখাে ।
উ : ডেভিড ইস্টন , রবার্ট ডাল ।
১৭। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে আবহবিজ্ঞানের পর্যায়ভুক্ত কে করেছেন ?
উ : লর্ড ব্রাইস ।
১৮। অ্যালান বলের মতে রাজনীতির মূল বিষয়বস্তু কী ?
উ : বিরােধ ও তার নিষ্পত্তি ।
১৯। Sexual Politics গ্রন্থটির লেখক কে ?
উ : কেট মিলেট ।
২০। ডেভিড ইস্টন আচরণবাদকে ‘ একটি তাত্ত্বিক বিপ্লব ’ বলেছেন কেন ?
উ : কারণ ডেভিড ইস্টনের মতে , আচরণবাদী আন্দোলনের উৎপত্তি ঘটেছিল আন্তঃসমাজ বিজ্ঞানের সহযােগিতার ভিত্তিতে , ব্যাপক অভিজ্ঞতাবাদী তত্ত্ব গড়ে তােলার উদ্দেশ্যে ।
২১। ডেভিড ইস্টন রাজনীতিকে মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বরাদ্দ বলেছেন কেন ?
উ : কারণ রাজনীতি ক্ষমতার বণ্টন ও প্রয়ােগের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয় ।
২২। আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার জনক কাকে বলা হয় ?
উ : ম্যাকিয়াভেলিকে ।
২৩। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে আইনমুখী , কৃত্রিম ও খামখেয়ালীপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন কে ?
উ : ম্যাকেঞ্জি ।
২৪। দুজন নয়া উদারনীতিবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম করাে ।
উ : নজিক , হায়েক ।
২৫। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান না বলার পক্ষে একটি যুক্তি দেখাও ।
উ : রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু ব্যাপক , জটিল , পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ ।
২৬। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেকী ধারার দুজন প্রবক্তার নাম লেখাে ।
উ : লক , বেন্থাম ।
২৭। ক্ষমতাকে রাজনীতির মূল বিষয়বস্তু বলেছেন এমন দুজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম লেখাে ।
উ : লাসওয়েল , অবাট ডাল ।
২৮। অ্যালান বলের মতে , রাজনীতি কী ?
উ : রাজনীতি হল এমন এক ধরনের কার্যকলাপ যা সমাজের সর্বস্তরে বিরােধ ও বিরােধ নিষ্পত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকে ।
২৯। রাষ্ট্রবিজ্ঞান কী স্থিতিশীল বিজ্ঞান ?
উ : না , রাষ্ট্রবিজ্ঞান গতিশীল বিজ্ঞান ।
৩০। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কে রবার্ট ডাল - এর অভিমত কী ?
উ : রবার্ট ডাল এর মতে , রাষ্ট্রবিজ্ঞান এমন একটি শাস্ত্র যার প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় হল ক্ষমতা , শাসন বা কর্তৃত্ব , প্রভাব ও প্রভাবশালীদের মধ্যে সম্পর্ক ইত্যাদি ।
৩১।‘ কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো ‘ – র রচয়িতা কারা ?
Ans: মার্কস ও এঙ্গেলস ।
৩২।‘ জনগণের সার্বভৌমিকতা ‘ তত্ত্বের প্রবক্তা কে ?
Ans: দার্শনিক রুশো ।
৩৩।‘ দ্য লেভিয়াধান ‘ গ্রন্থের রচয়িতা কে ?
Ans: টমাস হস ।
৩৪।দু’জন আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম লেখো ।
Ans: রবসন ও লাসওয়েল ।
৩৫।উদারনীতিবাদের দু’জন মুখ্য প্রবক্তা কে ?
Ans: বেন্থাম ও মিল ।
৩৬।একজন নয়াউদারনীতিবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম লেখো ।
Ans: রবার্ট নোজিক ।
৩৭।‘ পোলিস ‘ কাকে বলে ?
Ans: গ্রিসে নগররাষ্ট্রকে পোলিস ( Polis ) বলে ।
৩৮।‘ দ্য স্টেট অ্যান্ড রেভলিউশন ‘ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
Ans: লেনিন ।
৩৯।‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিজ্ঞান ‘ — এই মতের পক্ষে দু’জন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম লেখো ।
Ans: ব্রাইস এবং গেটেল ।
৪০।আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কাকে বলা হয় ?
Ans: উম্যাকিয়াভেলিকে ।
৪১।‘মার্কসিজম অ্যান্ড পলিটিক্স ‘ গ্রন্থের রচয়িতা কে ?
Ans: রাল্ফ মিলিব্যান্ড ।
৪২।ডেভিড ট্রুম্যানের লেখা গ্রন্থটির নাম কী ?
Ans: দ্য গভর্নমেন্টাল প্রসেস ।
৪৩।শ্রেণিহীন ও রাষ্ট্রহীন সমাজ ব্যবস্থাকে মার্কস কী নামে অভিহিত করেন ?
Ans: সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা নামে অভিহিত করেন ।
৪৪।মিলার রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে কী নামে অভিহিত করেছেন ?
Ans: তার বিরোধজনিত পরিস্থিতির মীমাংসা ‘ বলে অভিহিত করেছেন ।
৪৫।‘ মূল্যবোধ ছাড়া সামাজিক ঘটনার আলোচনা অসম্ভব ‘ — উক্তিটি কার ?
Ans: লিও স্টুস – এর ।
৪৬।‘রাজনৈতিক কাজকর্ম ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতেই নিষ্পন্ন হয় ‘ — কার উক্তি ?
Ans: হ্যারল্ড ল্যাসওয়েলের ।
৪৭।রাজনীতি বলতে কী বোঝো?
Ans: রাজনীতি হলো অধিকতর সভ্য উপায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ।
৪৮।মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় কী ?
Ans: মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হলো রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় ।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
১.রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনাক্ষেত্রের পরিধি/ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও বিষয়বস্তুর পরিধি আলোচনা করো।
উঃ ভূমিকা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি গতিশীল সামাজিক বিজ্ঞান। এই কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনাক্ষেত্রের পরিধি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেনি, যুগ ও সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তিত হয়েছে। তাই, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার পরিধিকে 'সতত পরিবর্তনশীল" বলে আখ্যা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােনাক্ষেত্রকে কয়েকটি ভাগ ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যেমন一
[1] রাষ্ট্র, সরকার, আইন এবং বিচারব্যবস্থা: প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, মানুষ ভালােভাবে বাঁচতে চায়। মানুষের এই প্রয়ােজন পূরণের উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। মানুষের জীবন রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। ফলে রাষ্ট্রই হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান আলােচ্য বিষয়। কিন্তু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয় সরকারের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যপূরণের জন্য সরকার আইন প্রণয়ন ও প্রয়ােগ করে। আইনের ব্যাখ্যা করা ও আইনভঙ্গকারীদের শাস্তিবিধানের জন্য বিচারব্যবস্থার প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। কাজেই রাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার, আইন এবং বিচারব্যবস্থা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
[2] রাজনৈতিক মতবাদ: রাজনৈতিক চিন্তা এবং মতবাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার একটি ঐতিহ্যশালী দিক। প্লেটো, অ্যারিস্ট, ম্যাকিয়াভেলি, হবস, লক, রুশাে, জন স্টুয়ার্ট মিল, কার্ল মার্কস ও অন্যান্য দার্শনিক যে চিন্তাভাবনা ব্যক্ত করেছেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার গুরুত্ব অপরিসীম।
[3] আন্তঃবিষয় আলােচনা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা। তা সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আমরা জানি, আন্তঃবিষয় আলােচনা একে অপরকে সমৃদ্ধ করে। তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনায় আন্তঃবিষয় সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে।
[4] প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক দল ও জনমত: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে পরােক্ষ বা প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রের প্রবর্তন ঘটেছে। পরােক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে দলব্যবস্থা ওতপ্রােতভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমতও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে। কারণ, ক্ষমতায় কোন্দল আসীন হবে তা জনমতই নির্ধারণ করে। কাজেই প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দল এবং জনমত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনায় স্থান করে নিয়েছে।
[5] আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিষ্ঠান: বর্তমানে কোনাে দেশই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রকেই নিজস্ব প্রয়ােজনে কোনাে-না-কোনাে রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি মেনেই এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নামও উল্লেখ করতে হয়। সুতরাং, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আইন ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলােচনা করে।
[6] মূল্যমান: রবসন, গ্রিভস প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের বক্তব্য হল রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেবল কী আছে অর্থাৎ সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়েই কেবল আলােচনা করে না, কী হওয়া উচিত সে বিষয়েও আলােচনা করে। একারণেই বলা যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনা মূল্যমান-নিরপেক্ষ নয়।
[7] তুলনামূলক রাজনীতি: রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা জনকল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন। এ কাজে তাদেরকে অতীত, বর্তমান এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে আলােচনা করতে হয়। সুতরাং, তুলনামূলক রাজনীতির আলােচনাও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনায় স্থান করে নিয়েছে।
[8] আচরণবাদীদের অভিমত: বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে গ্রাহাম ওয়াক্স, আর্থার বেন্টলে, চার্লস মেরিয়াম, এইচ লাসওয়েল প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ব্যক্তি ও গােষ্ঠীর আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার ক্ষেত্রে আধুনিকতা নিয়ে আসেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও সংখ্যায়নের প্রয়ােগ ঘটিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনাকে এঁরা মূল্যমান-নিরপেক্ষ করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। এঁদের চিন্তাধারাই আচরণবাদ নামে পরিচিত।
[9] মার্কসবাদীদের অভিমত: মার্কসবাদীদের অভিমত অনুযায়ী, সমাজের চরিত্র নির্ধারিত হয় উৎপাদন ব্যবস্থার দ্বারা। শ্রেণিবিভক্ত সমাজব্যবস্থায় মালিক শ্রেণি শােষণ ও শাসনকে অব্যাহত রাখার জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের অনুকূলে রাখার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, শ্রমিক শ্রেণি শােষণ থেকে মুক্তির জন্য বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলে শ্রেণিসংগ্রাম, বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে।
[10] বিশ্বায়ন: বর্তমানে বিশ্বায়নের প্রভাবকে কোনাে রাষ্ট্রই অস্বীকার করতে পারে না। বিশ্বায়নের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে বাণিজ্যের সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। কাজেই বিশ্বায়ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনায় স্থান করে নিয়েছে।
উপসংহার: অধ্যাপক ল্যাঙ্কি বলেছেন "সংগঠিত রাষ্ট্রের পরিপ্রেক্ষিতে মানবজীবনের আলােচনাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান। আমরা আলােচ্য বিষয় থেকে মানবজীবনকে প্রভাবিত করে, এমন কোনাে কিছুই বাদ দিতে পারি না।" বস্তুত, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনা কোনাে সুনির্দিষ্ট সূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যে সমাজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান তার রসদ সংগ্রহ করে, তা অত্যন্ত গতিশীল ও পরিবর্তনশীল। তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনাক্ষেত্রের পরিধি অপরিবর্তিত থাকা সম্ভব নয়৷
২.রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ও রাষ্ট্রনিরপেক্ষ সংজ্ঞাগুলি আলােচনা করাে।
উঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেকি বা রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা:
সাবেকি রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা নির্দেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গঠন ও কার্যাবলি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। এজন্য সাবেকি সংজ্ঞাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সংজ্ঞা (Institutional definition) বলা হয়।
ব্লুন্টসলির অভিমত হল, রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে আমরা রাষ্ট্রের বিজ্ঞান বলতে পারি। গার্নারের মতে, রাষ্ট্রকে নিয়েই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু ও সমাপ্তি। গেটেল বলেন, রাষ্ট্র কী হয়েছে, তার ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি রাষ্ট্র কী, তার বিশ্লেষণমূলক আলােচনা এবং রাষ্ট্রের কী হওয়া উচিত, সে-সম্বন্ধে রাজনৈতিক ও নৈতিক আলােচনা হল রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়, এই সংজ্ঞার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে一
[1] সংকীর্ণ: রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবসন, লাসওয়েল, অ্যালান বল প্রমুখের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা সংকীর্ণতা দোষে দুষ্ট। শুধু রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্লেষণের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে এই সংজ্ঞা সীমাবদ্ধ।
[2] কৃত্রিম, খামখেয়ালি ও আইনকেন্দ্রিক: অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞাকে কৃত্রিম, খামখেয়ালিপূর্ণ এবং অতিমাত্রায় আইনকেন্দ্রিক বলেছেন।
[3] ব্যক্তি ও গােষ্ঠীর আচরণ উপেক্ষিত: আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞার তীব্র সমালােচনা করে বলেন যে, এতে ব্যক্তি বা গােষ্ঠীর আচার-আচরণ বিশ্লেষণের কোনাে সুযােগ নেই। এর ফলে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আধুনিক বা অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞা:
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিংশ শতাব্দীর গােড়ার দিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনার ধারাকে নাকচ করে দিয়ে ব্যক্তি ও গােষ্ঠীর আচরণকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে শুধু রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত আলােচনায় সীমিত রাখলে ব্যক্তির রাজনৈতিক জীবনের সম্যক পরিচয় পাওয়া যাবে না। ডেভিড ইস্টনের মতে, রাজনৈতিক দিককে সমাজের অন্যান্য বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অবাস্তব হয়ে পড়বে। এজন্য তারা ব্যক্তি ও গােষ্ঠীর আচরণ, রাজনৈতিক দল ও স্বার্থগােষ্ঠীর ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা প্রভৃতিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
রবার্ট ডাল ও লাসওয়েল রাজনীতিকে প্রভাব ও প্রভাবশালীদের পর্যালােচনারূপে উল্লেখ করে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু বলে চিহ্নিত করেছেন। অধ্যাপক মিলার বিরােধ ও সংঘাতকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষপাতী। অ্যালান বল নির্বাচনি আচরণ, রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক সংযােগসাধন, রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ধ্যানধারণা ও মতাদর্শ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অরাষ্ট্রকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অরাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞাও ত্রুটিমুক্ত নয়। এই সংজ্ঞারও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলি হল一
[1] অসম্পূর্ণ আলােচনা: সমালােচকদের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয়বস্তুর মধ্যে যদি রাষ্ট্রের কোনাে স্থান না থাকে তাহলে তা নিছক অসম্পূর্ণ আলােচনা বলে পরিগণিত হয়। রাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের বিশ্লেষণ কখনােই সম্পূর্ণ হতে পারে না। রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় রাজনৈতিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক আচার-আচরণ গড়ে ওঠে। তাই রাষ্ট্রহীন রাজনীতির আলােচনা গ্রহণযােগ্য নয়।
[2] অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য: অরাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর মধ্যে এমনসব ব্যক্তি ও গােষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনাে সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া, অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনার প্রবক্তারা যেভাবে সব ধরনের বিরােধকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হিসেবে গণ্য করেন, তাও বাস্তবসম্মত নয়। এই কারণে অরাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংজ্ঞাকে অপ্রাসঙ্গিক আখ্যা দেওয়া হয়।
[3] মার্কসবাদীদের অভিমত: মার্কসবাদীরা মনে করেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অ-রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনা আসলে রাষ্ট্রের শ্রেণিচরিত্রকে আড়াল করার প্রচেষ্টা। পুঁজিবাদী সমাজে রাষ্ট্র যে শ্রেণিশােষণের যন্ত্র, এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতেই অরাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনার অবতারণা করা হয়েছে।
৩.রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞান? রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও।/ রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি বিজ্ঞান পদবাচ্য? আলােচনা করাে।
উঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি:
সাধারণভাবে বিজ্ঞান বলতে এক সুসংবদ্ধ বিশেষ জ্ঞানকে বােঝায়। 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান' শব্দটির মধ্যে 'বিজ্ঞান' শব্দটি থাকায় অনেকদিন আগেই একটি বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যেও এই নিয়ে সংশয় ও মতবিরােধ রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা যায় কি না, তার পক্ষে ও বিপক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা যে মতামত প্রকাশ করেছেন, তা নীচে আলােচনা করা হল一
রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার পক্ষে যুক্তি:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিজ্ঞান কি না সে বিষয়ে মতামত দিতে গেলে বিজ্ঞান বলতে কী বােঝায়, সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। বিজ্ঞান হল কোনাে বিষয়ে সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান, যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের মাধ্যমে লাভ করা যায়।
[1] সুসংবদ্ধ জ্ঞান: যে-কোনাে সুসংবদ্ধ জ্ঞানকে বিজ্ঞান আখ্যা দেওয়া হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানও একটি বিজ্ঞান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষপ, শ্রেণি বিভক্তিকরণ, কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে নাগরিকদের আচার-আচরণ, রাষ্ট্রের উৎপত্তি ও প্রকৃতি প্রভৃতি সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।
[2] পর্যবেক্ষণ সম্ভব: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনার সূত্রপাত করেছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও অ্যারিস্টটল। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু হয়, যা আজও চলছে। যেমন, মতেস্কুর ক্ষমতাম্বন্ত্রীকরণ নীতি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ফল।
[3] পরীক্ষণ সম্ভব: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রধান আলােচ্য বিষয় হল মানুষ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ মানুষকে নিয়েই নিরন্তর পরীক্ষানিরীক্ষা করে চলেছেন। এই পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ আদর্শ ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের ছবি তুলে ধরেছেন।
[4] সাধারণ সূত্র প্রতিষ্ঠা: বিজ্ঞানের মতাে রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও আহরিত জ্ঞান থেকে একটি সাধারণ সূত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। সেই সূত্র অনেক সময়ই রাজনৈতিক সমস্যাসমাধানের পথ নির্দেশ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
[5] সর্বজনীন বিধি প্রণয়ন: অ্যারিস্টটল, ফাইনার, বােদা, ব্রাইস প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক জীবন পর্যালােচনা করে। কয়েকটি সর্বজনীন বিধি ও পদ্ধতি প্রণয়নে প্রয়াসী হয়েছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনাে নির্দিষ্ট গবেষণাগার না থাকলেও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক জীবনের বিবর্তন, উত্থানপতনের ইতিবৃত্ত, রাজনৈতিক কাঠামাের পরিবর্তন ইত্যাদির গবেষণা সর্বজনীন বিধি প্রণয়নে সাহায্য করে।
[6] তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে শুধু তত্ত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় না, বিজ্ঞানের মতাে রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও তথ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্তে পোঁছােতে হয়। মানব ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ের তথ্যগুলি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মার্কস ও এঙ্গে সমাজবিকাশের ধারার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার বিপক্ষে যুক্তি:
[1] অনিশ্চিত প্রকৃতিবিশিষ্ট: রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেসব বিষয় নিয়ে আলােচনা করে তাদের প্রকৃতি অনিশ্চিত, জটিল ও পরিবর্তনশীল। পদার্থবিদ্যা বা রসায়নশাস্ত্রের মতাে এখানে নিখুঁত পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও তত্ত্ব গঠন সম্ভব নয়।
[2] গবেষণাগারে পরীক্ষার অযােগ্য: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচিত বিষয়গুলি কোনাে নির্দিষ্ট গবেষণাগারে পরীক্ষা করা যায় না। প্রকৃতপক্ষে সমগ্র মানবসমাজই হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর গবেষণাগার। এই গবেষণাগার রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর ইচ্ছা অনুসারে নির্মিত হয় না। একজন ভৌতবিজ্ঞানী গবেষণাগারে যেভাবে গবেষণার অনুকূল পরিবেশ কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করতে পারেন, একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর পক্ষে তা সম্ভব নয়।
[3] তথ্য অপেক্ষা তত্ত্বের প্রাধান্য: বিজ্ঞানীরা যেভাবে তত্ত্ব ও তথ্যের ওপর সমান গুরুত্ব দিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুশীলন করে থাকেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তা দেখা যায় না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তথ্যের চেয়ে তত্ত্ব বেশি প্রাধান্য পায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক অনুশীলনের পরিবর্তে দার্শনিক চিন্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
[4] সর্বসম্মত পদ্ধতির অনুপস্থিতি: বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার মতাে সর্বসম্মত পদ্ধতি বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কিছু দেখা যায় না। তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন।
[5] মূল্যমান-নিরপেক্ষ নয়: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনাকে কখনও ভৌতবিজ্ঞানের মতাে সম্পূর্ণ মূল্যমান-নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলা যায় না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর এইপ্রকার গবেষণাসমূহ তাঁর রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
[6] সংখ্যায়নের প্রয়ােগ অফলপ্রসূ: ভৌতবিজ্ঞানের গবেষণায় যেভাবে সংখ্যায়নের (Quantification) সাহায্যে গবেষণার ফলাফলকে প্রকাশ করা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। সংখ্যায়নের সাহায্যে মানুষের রাজনৈতিক আচরণের যথার্থ স্বরূপ উদঘাটন কোনােভাবেই সম্ভব নয়।
উপসংহার: পরিশেষে উল্লেখ্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে পদার্থবিদ্যা বা গণিতশাস্ত্রের মতাে বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বলা না গেলেও এটি যে একটি সুসংহত সামাজিক বিজ্ঞান, তা নিয়ে কোনাে দ্বিমত নেই। লর্ড ব্রাইসের মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল একটি প্রগতিশীল বিজ্ঞান (Political science is a progressive science.)।
৪.রাজনীতির অর্থ নিরূপণ করাে | রাজনীতি বলতে কী বােঝায়?
উঃ রাজনীতির অর্থ:
সমাজজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাজনীতি। মানুষ যেদিন থেকে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, সেদিন থেকে তার জীবনধারার অপরিহার্য বিষয় হয়ে উঠেছে রাজনীতি।
[1] রাজনীতি শব্দের উৎপত্তি: 'রাজনীতি' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ পলিটিক্স। শব্দটি তিনটি গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত। এগুলি হল 'পােলিস' (Polis বা City State), পলিটি' (Polity বা Government) এবং পলিসিয়া (Politeia বা Constitution)। প্রাচীন গ্রিসে রাজনীতি বলতে নগররাষ্ট্র ও তার শাসনব্যবস্থার বস্তুগত ও দর্শনগত দিকগুলির অধ্যয়নকে বােঝাত।
[2] রাজনীতির সংকীর্ণ অর্থ: সাধারণভাবে রাজনীতি বলতে দলীয় রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতা দখলের লড়াই ও কৌশলকে বােঝায়। একে রাজনীতির সংকীর্ণ অর্থ বলা হয়। কেউ কেউ আবার ন্যায়নীতিবর্জিত উপায়ে ব্যক্তিগত সুযােগসুবিধা লাভ’কে রাজনীতি বলে অভিহিত করেন।
[3] রাজনীতির ব্যাপক অর্থ: আধুনিক যুগে ‘রাজনীতি’ বলতে শুধু ক্ষমতা দখলের লড়াই, দলীয় নেতানেত্রীদের কৌশল বা দলীয় রাজনীতিকে বােঝায় না। আজকের দিনে মানবসমাজ ও মানবজীবনের কেন্দ্রে রয়েছে রাজনীতি। রাষ্ট্রীয় কাঠামাে ছাড়াও রােজকার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন পরিবার, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, খেলার মাঠ, ক্লাব, সংঘ বা প্রতিষ্ঠান-সব ক্ষেত্রেই রাজনীতির অস্তিত্ব বিদ্যমান।
[4] রাজনীতির সাবেকি দৃষ্টিভঙ্গি: অ্যারিস্টট্ল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলতে ‘রাজনীতি’-কেই বুঝিয়েছিলেন। তাঁর মতে, রাজনীতি হল নগররাষ্ট্র পরিচালনা এবং নাগরিক সম্পর্কিত জ্ঞান বা শৃঙ্খলা-বিশেষ। এভাবে গ্রিক রাষ্ট্রচিন্তায় রাজনীতির রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ধ্যানধারণার উদ্ভব ঘটে। বস্তুত রাজনীতির সাবেকি দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে রাষ্ট্রকাঠামাের মধ্যেই এর অস্তিত্ব সন্তব। কাজেই সরকার, আইনসভা, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক দল, স্বার্থগােষ্ঠী, আমলাতন্ত্র, নির্বাচন ও নির্বাচনি কাজকর্ম ইত্যাদির মধ্যেই রাজনীতির অস্তিত্ব রয়েছে। সাবেকি দৃষ্টিভঙ্গিতে এও মনে করা হয় যে, রাষ্ট্র ও রাজনীতি পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। তাই যখন রাষ্ট্রের কোনাে অস্তিত্ব ছিল না তখন রাজনীতিও ছিল না।
[5] রাজনীতির আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: আধুনিক কালে রাজনীতি সম্পর্কিত ধারণা অতীতের ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রে গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহৎ জাতীয় রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সমাজের ক্ষেত্রে প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকে রাজনীতিকে বিচার করা হয়। রাজনীতি এখন আর শুধু রাজ্য বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কাজকর্মের মধ্যে সীমিত নেই। এখন রাজনীতি সমাজের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে সংযুক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
[6] রবার্ট ডাল, ম্যাকেঞ্জি ও অ্যালান বলের অভিমত: অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জির মতে, রাজনীতি শুধু রাজ্য বা রাষ্ট্রকাঠামােকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না, সমাজে সর্বত্র তা পরিলক্ষিত হয়। অধ্যাপক রবার্ট ডালের বক্তব্য অনুসারে, রাজনীতি হল মানব-অস্তিত্বের একটি অপরিহার্য দিক। প্রত্যেক ব্যক্তি কোনাে না কোনাে সময়ে কোনাে না কোনােভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকেন, প্রত্যেকের জীবনেই রাজনীতির প্রভাব বিদ্যমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যালান বলের মতে, রাজনীতি হল এক ধরনের কার্যকলাপ, কোনাে নৈতিক নির্দেশ নয়।
[7] লাসওয়েল ও ডেভিড ইস্টনের অভিমত: আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে প্রভাব, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লাসওয়েল সমাজে প্রভাব ও প্রভাবশালীদের পর্যালােচনাকে রাজনীতি বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে মনে করেন যে, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব হল রাজনীতির মূল আলােচ্য বিষয়। ডেভিড ইস্টন রাজনীতি বলতে 'মূল্যের কর্তৃত্বমূলক বণ্টন'-কে বুঝিয়েছেন।
[8] মার্কসবাদীদের দৃষ্টিতে রাজনীতি: মার্কসবাদীদের মতে, প্রতিটি যুগের রাজনীতি হল সেযুগের শাসকশ্রেণির আধিপত্যের ধারণা মাত্র। মার্কসীয় তত্ত্ব অনুসারে রাজনীতির কোনাে আলাদা সত্তা নেই। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা উৎপাদন ব্যবস্থা হল সমাজের মূল কাঠামাে। এই মূল কাঠামাের ওপর ভিত্তি করে যে উপরি কাঠামাে দাঁড়িয়ে আছে, রাজনীতি তার অংশ-বিশেষ।
[9] নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি: রাজনীতি সম্পর্কে নারীবাদীদের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে আলাদা। নারীবাদীরা 'রাজনীতি বলতে সাবেকি পুরুষপ্রাধান্যের রাজনীতিকে বুঝিয়েছেন। তারা এই ধরনের রাজনীতিকে মেনে নিতে চান না।রাজনীতিতে পুরুষপ্রাধান্য উৎখাত করে নারীর যােগ্য মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করাই হল নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মূল উদ্দেশ্য।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, রাজনীতির অর্থ ও প্রকৃতি বহুমাত্রিক। কোনাে একটি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আধুনিক যুগের রাজনীতি সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি অপরিহার্য অঙ্গ। যে-কোনাে মানুষের সমাজজীবন ও ব্যক্তিজীবনের সবই রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত।
..….......................

