📚শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্:পন্ডিত শঙ্করাচার্য: প্রশ্নোত্তর (MCQ+SAQ+DAQ)📚
✍️ MCQ প্রশ্নোত্তর [মান ১]:
1. শঙ্করাচার্য কোন রাজ্যের অধিবাসী ?
(a) কেরল (b) কর্ণাটক (c) অপ্রদেশ (d) পারস্য
Ans. (a) কেরল
2. দেবতাদের ঈশ্বরী কে?
(a) গঙ্গা (b) যমুনা (c) শিপ্রা (d) বিতস্তা
Ans. (a) গঙ্গা
3. “তব কৃপয়া চেতঃ স্রোতঃ স্নাতঃ”কার কৃপা?
(a) গঙ্গা (b) বিয়ু (c) শিব (d) কৃষ্ণ
Ans. (a) গঙ্গা
4. শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ - এর লেখক কে?
(a) গোবিন্দকৃষ্ণ মোদক (b) শ্রীশঙ্করাচার্য (c) ত্রিবিক্রমভট্ট (d) স্কন্দরাজ
Ans. (b) শ্রীশঙ্করাচার্য
5. মুনিবরকন্যে’– এখানে কোন মুনির কথা বলা হয়েছে?
(a) জহ্ন (b) কশ্যপ (c) বিশ্বামিত্র (d) নারদ
Ans. (a) জহ্ন
6. পৃথিবীর কল্পলতা কে?
(a) যমুনা (b) গঙ্গা (c) বিতস্তা (d) শিপ্রা
Ans. (b) গঙ্গা
7. গঙ্গা কার জননী ?
(a) ভীম (b) ভগীরথ (c) ভৃগু (d) ভীষ্ম
Ans. (d) ভীষ্ম
8. গঙ্গার অপর নাম কী ?
(a) জানকী (b) জাহ্নবী (c) জাবেদা (d) জাতকী
Ans. (b) জাহ্নবী
9. ‘ত্রিভুবন সারে’ কথার অর্থ কী?
(a) ত্রিভুবনের শ্রেষ্ঠা (b) ত্রিভুবন (c) ত্রিভুবনবাসী (d) স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল
Ans. (a) ত্রিভুবনের শ্রেষ্ঠা
10. কুমতিকলাপম কাকে বলা হয়েছে?
(a) কুবুদ্ধিসমূহ (b) কুদৃশ্যাবলি (c) কুৎসিতরূপসম্পন্ন (d) আকাঙ্ক্ষা
Ans. (a) কুবুদ্ধিসমূহ
11. গঙ্গা কোন দেবতার জটাজলে বিহার করেন ?
(a) ব্রহ্লা (b) মহাদেব (c) বিয়ু (d) কৃষ্ণ
Ans. (b) মহাদেব
12. ত্রিভুবনতারিণী কাকে বলা হয়েছে?
(a) পদ্মা (c) যমুনা (d) কৃষ্ণ
Ans. (b) গঙ্গা
13. গঙ্গার উৎপত্তি কোথায়?
(a) গোমুখ (b) হরিপাদপম (c) হিমবাহ (d) শিবশির
Ans. (b) হরিপাদপম
14. ‘ত্বমসি গতির্মম’ – ত্বম পদে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(a) সতী (b) লক্ষ্মী (c) গঙ্গা (d) পার্বতী
Ans. (c) গঙ্গা
15. জঠরে পদটির সংস্কৃত প্রতিশব্দ কী?
(a) গর্ভ (b) উদর (c) মস্তিষ্ক (d) বক্ষ
Ans. (a) গর্ভ
16. পারাবারবিহারিণী বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(a) আলকানন্দা (b) যমুনা (c) গঙ্গা (d) সরস্বতী
Ans. (c) গঙ্গা
17. শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ পাঠ্যাংশে কয়টি স্তোত্র আছে?
(a) নয়টি (b) আটটি (c) দশটি (d) এগারোটি
Ans. (c) দশটি
18. ‘স্তোত্র’ কথার অর্থ কী ?
(a) মন্ত্র (b) জপ (c) স্তব (d) তপস্যা
Ans. (a) মন্ত্র
19. অলকানন্দা বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
(a) নাবালোক (b) অলকাপুরী (c) গঙ্গা (d) মহাদেব
Ans. (b) অলকাপুরী
20. ভৃত্যরণ্যে কথার অর্থ কী ?
(a) ভৃত্য পরিবৃতা (b) ভৃত্য নির্ভরশীলা (c) ভৃত্য আশ্রয়দাত্রী (d) ভৃত্যের সহায়
Ans. (c) ভৃত্য আশ্রয়দাত্রী
21. ভবসাগর বলতে কোন সাগরকে বোঝানো হয়েছে?
(a) গঙ্গা (b) যমুনা (c) বিতস্তা (d) সরস্বতী
Ans. (a) গঙ্গা
22. ভবসাগর কথার অর্থ কী ?
(a) ভারত মহাসাগর (b) বঙ্গোপসাগর (c) সংসাররূপ সাগর (d) গঙ্গাসাগর
Ans. (c) সংসাররূপ সাগর
23. তারিণী শব্দের অর্থ –
(a) বৈয়বী (b) কালিকা (c) মাঝি (d) ত্রাণকত্রী
Ans. (d) ত্রাণকত্রী
24. ‘শঙ্করমৌলিবিহারিণী’–পদটি কোন বিভক্তিতে আছে?
(a) সপ্তমী (b) দ্বিতীয়া (c) সম্বোধন (d) প্রথমা
Ans. (c) সম্বোধন
25. ‘মুনিবরকন্যে’ – এখানে মুনিবর কে?
(a) জহ্নু (b) কশ্যপ (c) বিশ্বামিত্র (d) নারদ
Ans. (a) জহ্নু
26. ‘মৌলি’ শব্দের অর্থ –
(a) পুষ্প (b) মুকুট (c) চন্দ্র (d) ত্রিশূল
Ans. (b) মুকুট
27. গঙ্গাজলের মহিমা –
(a) ব্যাকরণশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ (b) বেদাদিশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ (c) গণিতশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ (d) জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ
Ans. (b) বেদাদিশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ
28. নিগম শব্দের অর্থ –
(a) স্মৃতি (b) পুরাণ (d) কোনোটিই নয়
Ans. (c) বেদাদিশাস্ত্র
29. “পরম্পদং খলু তেন গৃহীতম” – কে পরমপদ প্রাপ্ত হয়?
(a) যে গঙ্গাকে দর্শন করে (b) যে গঙ্গাজল পান করে (c) যে গঙ্গাতীরে বাস করে (d) যে গঙ্গায় স্নান করে
Ans. (b) যে গঙ্গাজল পান করে
30. শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ কোন শ্রেণির রচনা?
(a) শ্লোক (b) ভাষ্য (c) স্তোত্র (d) দার্শনিক রচনা
Ans. (c) স্তোত্র
31. তব জলমহিমা ........... খ্যাতঃ”–
(a) অলকায় (b) নিগমে (c) ভুবনে (d) স্বর্গে
Ans. (b) নিগমে
32. কার দুষ্কর্মের ভার দূর করতে বলা হয়েছে?
(a) ভারতের (b) পৃথিবীর (c) শঙ্করাচার্যের (d) সগরবংশের
Ans. (c) শঙ্করাচার্যের
33. গঙ্গাজলের মহিমা কোথায় প্রশংসিত ?
(a) বেদাদিতে (b) পুস্তকে (c) বিদেশে (d) ভারতে
Ans. (a) বেদাদিতে
34. গঙ্গা বাস করেন -
(a) বিষ্ণুর চরণে (b) শিবের মাথায় (c) ব্ৰত্মার চরণে (d) ইন্দ্রের চরণে
Ans. (b) শিবের মাথায়
35. কুমতিকলাপ কাকে বলা হয়েছে ?
ক ) উমাকে
খ ) লক্ষ্মীকে
গ ) সরস্বতীকে
ঘ ) গঙ্গাকে
উঃ- ঘ
36. “ মুনিবুরকন্যে "- এখানে কোন মুনির কথা বলা হয়েছে ?
ক ) দুর্বাসা খ ) জহ্নু গ ) বিশ্বামিত্র ঘ ) পরাশর
উঃ- খ
37. জলের মাহাত্ম কোথায় প্রসিদ্ধ ?
ক ) মর্ত্যে খ ) ভারতে গ ) বেদাদিশাস্ত্রে ঘ ) গঙ্গাতে
উঃ- গ
38. “ মম মতিরাস্তাম ” —কোথায় মতি থাকার কথা বলা হয়েছে ?
ক ) পদকমলে খ ) মস্তকে গ ) ভূমিতে ঘ ) শরীরে
উঃ- ক
39. বক্তা ভগবতী গঙ্গাকে কার হার বলেছেন ?
ক ) পৃথিবীর হার খ ) ত্রিলােকের হার গ ) স্বর্গের হার
ঘ ) পাতালের হার
উঃ-ক
40. গঙ্গাকে যে প্রণাম করে সে -
ক ) জ্ঞানলাভ করে খ ) ভক্তিলাভ করে গ ) শােকে পতিত হয় না ঘ ) স্বর্গলাভ করে
উঃ- গ
41. “ ত্বমসি গতির্মম ” — এখানে ত্বম্ কে ?
ক ) কৃষ্ণ খ ) গঙ্গা গ ) যমুনা ঘ ) বিষ্ণু
উঃ- খ
42 . মামজ্ঞান পদটির সন্ধিবিচ্ছেদ লেখ ।
ক ) মাম + অজ্ঞানম্ খ ) মাম্ + অজ্ঞানম্ গ ) মা + অজ্ঞানম ঘ ) মাম্ + জ্ঞানম
উঃ- খ
43. স্তোত্র কথার অর্থ কী ? ক ) মন্দ্র খ ) গুণকীর্তন
গ ) স্তর ঘ ) মঙ্গল
উঃ- গ
44. ‘ গঙ্গাস্তোত্রম্ 'কোন্ মধুর ছন্দে লেখা ?
ক ) অনুপ্রাস খ ) পজঝটিকা গ ) যমক ঘ ) মন্দাক্রান্তা
উঃ- খ
45. শঙ্করাচার্য হলেন একজন বিখ্যাত -ক ) চিত্রশিল্পী
খ ) গীতিকার গ ) অভিনেতা ঘ ) দার্শনিক ও অদ্বৈতবেদান্ত মতের প্রবক্তা
উঃ- ঘ
46. ‘ গঙ্গা ’ কার পাদপদ্মে তরঙ্গরূপে বিদ্যমান ছিল ?
ক ) মহাদেব খ ) শ্রীহরি গ ) কৃষ্ণ ঘ ) ইন্দ্র
উঃ- খ
47. ‘ গঙ্গা ’ কোথায় বাস করেন ? ক ) বিষ্ণুর মাথায়
খ ) শিবের মাথায় গ ) ব্ৰহ্মার চরণে ঘ ) ইন্দ্রের চরণে
উঃ- খ
48. গঙ্গায় স্নান করলে কীরূপ পুণ্য হয় ?
ক ) পুনর্জন্ম হয় খ ) স্বর্গপ্রাপ্তি হয় গ ) পুনর্জন্ম রহিত হয় ঘ ) মােক্ষ লাভ হয়
উঃ- খ
49. গঙ্গার উৎপত্তিস্থান কোথায় ? ক ) হরিপাদপদ্মে
খ ) অদিতির গর্ভজাত গ ) ব্ৰহ্মার কমণ্ডলু থেকে
ঘ ) শিবের মস্তকে
উঃ- ক
50. পাঠ্যাংশে উল্লিখিত দেবী গঙ্গার আর এক নাম কী ?
ক ) বিষ্ণুপদী খ ) জহ্নু তনয়া গ ) অলকানন্দা
ঘ ) ত্রিপথগা
উঃ- খ
51. ' নিগম ’ শব্দের অর্থ কী ? ক ) স্মৃতি
খ ) পুরাণ গ ) বেদাদিশাস্ত্র ঘ ) মহাভারত
উঃ- গ
52. কার মহিমা নিগমে খ্যাত ? ক ) গঙ্গার খ ) যমুনার
গ ) সাগরের ঘ ) ব্রহ্মপুত্রের
উঃ- ক
53 . যম কাকে স্পর্শ করতে পারে না ? ক ) গঙ্গার ভক্তকে খ ) ব্রাহ্মণকে গ ) রােগীকে ঘ ) প্রাণীকে
উঃ- ক
54.ফলদানকারী গঙ্গার সঙ্গে তুলনীয় বৃক্ষশাখাটিকে বলা হয়েছে -ক ) মাধবীলতা খ ) কল্পলতাগ ) সুবর্ণলতা
ঘ ) বনলতা
উঃ- খ
55. ' করুণাপাঙ্গে ’ সমােধনটির অর্থ হল -ক ) হে কৃপাপরায়ণা খ ) হে কৃপাময়ী গ ) হে পাপনাশিনী
ঘ ) হে কৃপাদৃষ্টিযুক্তা
উঃ- ঘ
56 . ' শঙ্করমৌলি ’ – ‘ মৌলি ’ শব্দের অর্থ -ক ) মুকুট
খ ) পুষ্প গ ) চন্দ্র ঘ ) ত্রিশূল
উঃ- ক
✍️অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর [মান ১]:
1. গঙ্গার অপর নাম ভীষ্মজননী কেন?
Ans. গঙ্গার রূপে আকৃষ্ট হয়ে রাজা শান্তনু গঙ্গাকে বিয়ে করেন। এরপর গঙ্গার গর্ভে ভীষ্মরূপী অষ্টম বসুর জন্ম হয়। এজন্য গঙ্গার অপর নাম ভীষ্মজননী।
2. অলকানন্দে কোন বিভক্তি?
Ans. সম্বোধনে প্রথমা বিভক্তি।
3. ‘মুনিবরকন্যে’ – মুনিবর কে?
Ans. জহ্ন।
4. ‘বৈকুণ্ঠে তস্য নিবাস’ – তস্য পদে কার কথা বোঝানো হয়েছে?
Ans. গঙ্গার তীরে যাদের বসবাস তাদের বৈকুণ্ঠে নিবাস বলে ধরে নেওয়া হয়।
5. গঙ্গাকে কল্পলতা বলা হয়েছে কেন?
Ans. কল্পতরুর কাছে মানুষ যা চায় তা-ই পায়। সেইরূপ গঙ্গার কাছে প্রার্থনা স্বরূপ যা চাওয়া যায় গঙ্গা তা-ই ফলদান করে, তাই।
6. ত্রিভুবন বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
Ans. দেবী গঙ্গার পবিত্র বারিস্পর্শে তিনটি ভুবন অর্থাৎ স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল পাপ থেকে মুক্ত হয় বলে একথা বলা হয়েছে।
7. গঙ্গাবাচক শব্দের কয়েকটি প্রতিশব্দ কী?
Ans. জাহবী, ভাগীরথী, ভগবতী, ভীষ্মজননী, শঙ্করমৌলিবিহারিণী।
8. গঙ্গাস্তোত্রম-এর রচয়িতা কে?
Ans. ‘গঙ্গাস্তোত্রম’ -এর রচয়িতা হলেন অষ্টম-নবম শতকের প্রখ্যাত দার্শনিক-কবি শ্ৰীশঙ্করাচার্য।
9. গঙ্গাজলের মহিমা কোথায়?
Ans. গঙ্গায় স্নান করলে পুনর্জন্মের হাত থেকে বাঁচা যায়।
10. জাহ্নবী কার নাম এবং কেন?
Ans. জহ্ন মুনির কান মতান্তরে জানু বা হাঁটু দিয়ে গঙ্গার নির্গমন ঘটেছিল বলে গঙ্গার অপর নাম জাহ্নবী।
11. “হর মে ভগবতী” কাকে, কী হরণ কারার কথা বলা হয়েছে?
Ans. গঙ্গাকে শোক, তাপ, পাপ, রোগ হরণ করার কথা বলা হয়েছে।
12. 'নহেং জানে’ – কে, কী জানে বা বলেছে?
Ans. শঙ্করাচার্য গঙ্গাদেবীর মহিমা জানেন।
13. “কুরু কৃপয়া” – কৃপা করে কী করার কথা বলা হয়েছে?
Ans. ভবসাগর পার করার কথা বলা হয়েছে।
14. 'মম মতি বাস্তম’ – কার মতি এবং তা কোথায় থাকার কথা বলা হয়েছে?
Ans. শঙ্করাচার্যের মতি গঙ্গার পদকমলে থাকার কথা বলা হয়েছে।
15. তম পদকমলে— কার পদকমলে?
Ans. গঙ্গার।
16. “শংকরমৌলিবিহারিণী বিমলে” – বিমলে কাকে বলা হয়েছে এবং কেন?
Ans. গঙ্গা দেবীকে বলা হয়েছে, কারণ গঙ্গার জল পবিত্র, তাই।
17. গঙ্গাকে পারাবারবিহারিণী বলে সম্বোধন করার কারণ কী?
Ans. গঙ্গা সমুদ্রে পতিত হয়েছে, তাই।
18. 'করুণাপাঙ্গে’ শব্দের অর্থ লেখো।
Ans. এর অর্থ হলো হে কৃপাদৃষ্টিসম্পন্ন দেবী।
19. ‘মহিমোতুঙ্গে’ – একথার অর্থ কী?
Ans. এর অর্থ গঙ্গার মহিমা অতুলনীয়। পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যার মহিমা গঙ্গাকে ছাপিয়ে যায়। এজন্য একথা বলা হয়েছে।
20. গঙ্গার চরণ কীসের দ্বারা রঞ্জিত হয়?
Ans. দেবরাজ ইন্দ্রের মুকুটে অবস্থিত মণিমালার মাধ্যমে গঙ্গার চরণ রঞ্জিত হয়।
21. 'কাতরবন্দ্যে’ - এর অর্থ কী?
Ans. একথার অর্থ দীনজনের মাধ্যমে বন্দিতা।
22. শঙ্করাচার্য কেন গঙ্গার কাছে আত্মনিবেদন করেছেন?
Ans. শঙ্করাচার্য সংসাররূপী সাগর পার হবার জন্য গঙ্গার কাছে আত্মনিবেদন করেছেন।
23. কাদের বৈকুণ্ঠে নিবাস ?
Ans. গঙ্গার তীরে যাদের বসবাস তাদের বৈকুণ্ঠে নিবাস বলে ধরে নেওয়া হয়।
24. গঙ্গার অন্য ২টি নাম উল্লেখ করো।
Ans. জাহ্নবী, ভাগীরথী হলো গঙ্গার অন্য নাম।
25. 'গিরিবর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
Ans. ‘গিরিবর’ বলতে পর্বতশ্রেষ্ঠ হিমালয়কে বোঝানো হয়েছে।
26. ‘গঙ্গাস্তোত্রম -এ গঙ্গা ছাড়া অন্য কোন দেবতার নাম করা হয়েছে?
Ans. এঁরা হলেন শঙ্কর বা শিব, হরি বা বিষ্ণু, দেবরাজ ইন্দ্র এবং যমরাজ।
27. 'কলুষ’ শব্দের অর্থ কী?
Ans. এর অর্থ পাপ।
28. শঙ্করাচার্য রচিত একটি দার্শনিক গ্রন্থের নাম লেখো।
Ans. গ্রন্থটির নাম শারীরকসূত্ৰভাষ্য।
29. গঙ্গাকে প্রণাম করলে কী হয়?
Ans. গঙ্গাকে প্রণাম করলে সব দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
30. গঙ্গাদেবী কোথা থেকে নিঃসৃত হচ্ছেন?
Ans. পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে গঙ্গা বিয়ুর চরণ-কমল থেকে নিঃসৃত হচ্ছেন।
31. গঙ্গার ২টি মহিমা উল্লেখ করো।
Ans. গঙ্গার অনেক মহিমার মধ্যে ২টি হলো —(১) গঙ্গাকে প্রণাম করলে শোক এড়ানো যায়। (২) যে গঙ্গার জল পান করে সে পরমপদ লাভ করে।
32. গঙ্গার ভক্তকে কে স্পর্শ করতে পারে না?
Ans. গঙ্গাদেবীর ভক্তকে যমরাজও স্পর্শ করতে পারেন না।
33. ‘গঙ্গাস্তোত্রম্ ছাড়া শঙ্করাচার্যের অন্য একটি স্তোত্র-কবিতার নাম লেখো।
Ans. শঙ্করাচার্য রচিত অন্য একটি স্তোত্র-কবিতা হলো ‘ভবান্যষ্টক’
34. গঙ্গাকে কোন বৃক্ষশাখার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
Ans. কল্প বৃক্ষশাখার সঙ্গে দেবী গঙ্গাকে তুলনা করা হয়েছে।
35. গঙ্গাকে কে প্রণাম করেন?
Ans. দেবরাজ ইন্দ্র গঙ্গাকে প্রণাম করেন।
36. গঙ্গার তরঙ্গের প্রকৃতি কেমন?
Ans. গঙ্গার তরঙ্গ অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির।
37. গঙ্গার অপর নাম জাহ্নবী কেন?
Ans. জহ্নমুনির কান মতান্তরে জানু বা হাঁটু দিয়ে গঙ্গার নির্গমন ঘটেছিল বলে গঙ্গার অপর নাম জাহ্নবী।
38. গঙ্গাকে সুখদে শুভদে বলা হয় কেন?
Ans. দেবী গঙ্গা একইসঙ্গে মানুষকে সুখ দেন ও সকলের মঙ্গল করেন। এজন্য একথা বলা হয়েছে।
39. গঙ্গার প্রতি কারা চল কটাক্ষপাত করেন?
Ans. অন্য দেববধূরা দেবী গঙ্গার প্রতি চঞ্চল কটাক্ষপাত করেন।
40. 'শঙ্করমৌলি’ পদে মৌলি শব্দের অর্থ কী?
Ans. মৌলি বলতে বোঝায় মস্তক। গঙ্গা শিবের চুলের জটায় বসবাস করেন।
41. কাকে বলা হয় বৈকুণ্ঠ?
Ans. ভগবান বিষ্ণুর বসবাসের স্থানকে বলে বৈকুণ্ঠ বা বিষ্ণুলোক। বিষ্ণুর চরণ থেকেই দেবী নির্গত হন।
42 . “ বৈকুণ্ঠে তস্য নিবাসঃ ” — ‘ তস্য ' পদে কার কথা বােঝানাে হয়েছে ?
উত্তর : ‘ তস্য ' পদে গঙ্গার তীরে যে বাস করে , তার কথা বােঝানাে হয়েছে ।
43. শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ কবিতাটি কোন্ ছন্দে রচিত ?
উত্তর : ‘ শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ কবিতাটি ‘ পজঝটিকা ’ ছন্দে রচিত ।
44. ‘ গঙ্গাস্তোত্রম্ ' - এ মােট ক - টি স্তোত্র আছে এবং তােমাদের ক - টি পাঠ্য ?
উত্তর : ‘ গঙ্গাস্তোত্রম ’ - এ মােট স্তোত্র আছে 14 টি এবং আমাদের পাঠ্য 10 টি ।
45. মহাভারতের অপর নাম কী ?
উত্তর : মহাভারতের অপর নাম ‘ শতসহস্ৰীসংহিতা ' ।
46. গঙ্গা ক - টি ভুবনকে পরিত্রাণ করে ?
উত্তর : গঙ্গা ত্রিভুবনকে পরিত্রাণ করে ।
47. গঙ্গার ভক্তকে কে স্পর্শ করতে পারে না ?
উত্তর : গঙ্গার ভক্তকে যমও স্পর্শ করতে পারে না ।
48. গঙ্গাকে ‘ সুরেশ্বরী ’ বলা হয়েছে কেন ?
উত্তর : গঙ্গাকে ‘ সুর ’ অর্থাৎ দেবতারাও পূজা করেন ঈশ্বরী ’ রূপে , তাই তিনি সুরেশ্বরী ।
49. জনক কে ছিলেন ?
উত্তর : মহারাজ জনক ছিলেন মিথিলার রাজা । তিনি কর্ম দ্বারা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন ।
50 . গঙ্গা কার মস্তকে ভ্রমণ করেন ?
উত্তর : গঙ্গা শিবের মস্তকে ভ্রমণ করেন ।
51. গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী কেন ?
উত্তর : পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে মহারাজ ভগীরথ গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে এনেছিলেন , তাই তাঁর নামানুসারে গঙ্গাকে ‘ ভাগীরথী'ও বলা । '
52 . কারা বৈকুণ্ঠে বাস করেন ?
উত্তর : কবির মতে গঙ্গা তীরে বসবাসকারীরা যেন বৈকুণ্ঠে বাস করেন ।
53 . ' কাতরবন্দ্যে ’ কথাটির অর্থ কী ?
উত্তর : ' কাতরবন্দ্যে ’ কথাটির অর্থ কাতরজন বা পীড়িত জনের দ্বারা বন্দিতা ।
54 . ‘ অলকানন্দে পরমানন্দে ’ -- ‘ অলকানন্দে ’ বলতে কী বােঝাতে হয়েছে ?
উত্তর : ‘ অলকানন্দে ’ বলতে এখানে গঙ্গাকে বােঝানাে হয়েছে ।
55 . গঙ্গার জলপানকারী মানুষ কী প্রাপ্ত হয় ?
উত্তর : গঙ্গার জলপানকারী মানুষ ‘ শ্রেষ্ঠ ধাম ’ প্রাপ্ত হয় ।
56. গঙ্গার দুটি মহিমা উল্লেখ করাে ।
উত্তর : গঙ্গার জল যিনি পান করেন তিনি পরমপদ লাভ করেন এবং গঙ্গা সমস্ত দুষ্কৃতিভার লাঘব করে মনকে শান্ত করেন ।
57. গঙ্গাকে ‘ হরিপাদপদ্মতরঙ্গিনী ’ বলে সম্বােধন করা হয়েছে কেন ?
উত্তর : গঙ্গা শ্রীহরির পাদস্পর্শ করে প্রবাহিত হয়েছেন বলে গঙ্গাকে ' হরিপাদপদ্মতরঙ্গিনী ’ বলে সম্বােধন করা হয়েছে ।
58. ' করুণাপাঙ্গে ’ শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর : করুণাপাঙ্গে ’ শব্দের অর্থ ‘ কৃপাদৃষ্টিযুক্তা ' ।
59. ভীষ্মের জননী কে ?
উত্তর : ভীষ্মের জননী ‘ গঙ্গা ' ।
60. ' কুমতিকলাপম্ ’ — ' কলাপম ’ শব্দটির অর্থ কী ?
উত্তর : ' কলাপম্ ’ শব্দের অর্থ দূর করা ।
61. শ্ৰীশঙ্করাচার্য কোন্ মতের প্রবক্তা ?
উত্তর : শ্ৰীশঙ্করাচার্য ‘ অদ্বৈতবেদান্ত ’ মতের প্রবক্তা
62. ' গঙ্গার স্রোতে স্নান করার ফল কী ?
উত্তর: গঙ্গার স্রোতে স্নান করলে গঙ্গার কৃপায় তার আর পুনর্জন্ম হয় না ।
63 . অলকানন্দা কে ?
উত্তর : গঙ্গোত্রীর নিকটবর্তী গঙ্গার একটি ধারার নাম অলকানন্দা । এটি স্বর্গের গঙ্গা ।
64 . গঙ্গা কোথা থেকে নিঃসৃত হয়েছেন ?
উত্তর : গঙ্গাদেবী শ্রীহরির চরণকমল থেকে নিঃসৃত হয়েছেন ।
65. “ পুনরপি জঠরে সােহপি ন জাতঃ ” — কার পুনরায় জন্ম হয় না ?
উত্তর : নরকবিনাশকারিনী , পাপবিনাশকারিনী , মহিমায় শ্রেষ্ঠা জাহ্নবীর জলে স্নান করলে তাঁর অনুগ্রহে আর মাতৃগর্ভে জন্ম হয় না ।
66 . সুখদায়িনী পদটির সমাস কর ।
উত্তর : সুখং দদাতি যা সা — উপপদ তৎপুরুষ সমাস ।
67. মহিমোত্তুঙ্গে পদটির সন্ধিবিচ্ছেদ কর ।
উত্তর: মহিমা + উত্তুঙ্গে
68. গঙ্গাকে ত্রিভুবনশ্রেষ্ঠা বলা হয়েছে কেন ?
উ : গঙ্গা স্বর্গ , মর্ত্য ও পাতাল তিন লােকে পূত ধারায় প্রবাহিত ও বিখ্যাত বলেই তাঁকে ত্রিভুবনশ্রেষ্ঠা বলা হয় ।
69. সংসারে একমাত্র গতি কে ?
উ : সংসারে একমাত্র গতি হলেন ত্রিবভুবনশ্রেষ্ঠা , পৃথিবীর হার স্বরূপা একমাত্র গঙ্গা দেবীই ।
70 . “ হর মে ভগবতি ” - এখানে কী করার কথা বলা হয়েছে ?
উ : শংকরাচার্য তাঁর রােগ শােক তাপ পাপ ও কুমতিসমূহ দূর করার কথা বলেছেন ।
71. গঙ্গাকে পারাবারবিহারিনি বলা হয়েছে কেন ?
উ : শংকরাচার্য গঙ্গাকে পারাবারবিহারিনী বলেছেন কারণ গঙ্গা ভারতবর্ষের উত্তরে হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে পারাবারে বা সমুদ্রে মিলিত হয়েছেন ।
✍️ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান-৫):
[১] গঙ্গাস্তোত্রম্-এ যেভাবে গঙ্গার বর্ণনা করা হয়েছে তা লেখো।
দার্শনিক কবি শংকরাচার্য তাঁর গঙ্গার প্রতি ভক্তিভাবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ নামে স্তোত্রটি রচনা করেছেন।এই স্তোত্রে সর্বত্রই গঙ্গাকে সম্বোধন করে কবি তাঁর স্তুতি করেছেন এবং অভীষ্ট বস্তুগুলি প্রার্থনা করেছেন।
তাঁর বাণীবদ্ধ স্তুতিটি সংক্ষেপে এইভাবে লিপিবদ্ধ করা যায়—
দেবী গঙ্গা সুরেশ্বরী, ত্রিভুবনের ত্রাণকর্ত্রী, দেবাদিদেব শংকরের জটায় আবদ্ধ থেকে হয়েছেন ‘শংকরমৌলিবিহারিণী’ এবং তিনিই পবিত্র তরঙ্গবিশিষ্টা চিরপ্রবাহিনী স্রোতস্বিনী গঙ্গা।
তিনি ভগীরথ কর্তৃক স্বর্গ থেকে আনীতা হয়ে ‘ভাগীরথী‘ নামে প্রবাহিতা। ইনিই শ্রীবিষ্ণুর চরণ থেকে নির্গত হয়ে ‘হরিপাদপদ্মতরঙ্গিণী‘ হয়েছেন।
দেবী গঙ্গাই ‘জাহ্নবী’ রূপে পরিচিতা কারণ জহ্নু মুনি গঙ্গাকে গ্রাস করে পরে তাঁর কর্ণ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। ইনিই ছিলেন শাপভ্রষ্ট অষ্টবসু ভীষ্মের জননী।
দেবী গঙ্গা কল্পলতার মতো ফলদায়িনী, সমুদ্র বিহারিণী, দেববধূগণ কর্তৃক কটাক্ষে দৃষ্ট হয়ে থাকেন।
ইনিই নরকত্রাণকর্ত্রী, কলুষ বিনাশিনী, সর্বদা সুখদায়িনী, মঙ্গলপ্রদায়িনী, আর্তজনের সেবক জনের আশ্রয়দাত্রী।
ইনিই উজ্জ্বল অঙ্গ বিশিষ্টা, ত্রিভুবন শ্রেষ্ঠা, কৃপাকটাক্ষময়ী। দেবরাজ ইন্দ্র ও গঙ্গার চরণে চিরপ্রণত।
পরমানন্দ স্বরূপিণী, আর্তুজনের বন্দিতা, স্বর্গের অলকানন্দা যেন জ্ঞানহীন শংকরের প্রতি করুণাঘন দৃষ্টিতে দেখেন।
তাঁর পবিত্র ধারায় স্নাত হয়ে যারা জন্মরহিত হয়, তাঁর তটে বাস করে যারা বৈকুণ্ঠের শান্তি ভোগ করে যেন তাঁরা গঙ্গার কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত না হন।
তিনি যেন তাঁদের রোগ শোক তাপ পাপ কুমতি দূর করে সুমতি দেন, গঙ্গাদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনায় সেই প্রার্থনা জানিয়েছেন কবি শংকরাচার্য।
[২] “শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্” অবলম্বনে যেসব পৌরাণিক কাহিনির উল্লেখ পাই তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। অথবা, দেবী গঙ্গাকে শংকরমৌলিবিহারিণী, ভাগীরথী, মুনিবর-কন্যা ও ভীষ্মজননী বলা হয়েছে কেন?
সংস্কৃত পণ্ডিত এবং দার্শনিক শংকরাচার্য শ্রীগঙ্গার অলৌকিক মাহাত্ম্য-কীর্তন করতে গিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনির উল্লেখ করেছেন।
যেমন :–
(ক) শংকরমৌলিবিহারিণী গঙ্গা : পুরাণ মতে রাজা দিলীপের পুত্র ভগীরথ সগররাজার ষাট হাজার সন্তানকে উদ্ধার করার জন্য শিবকে সন্তুষ্ট করে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে আনলে শিব তাঁকে মস্তকে ধারণ করেন। এজন্য গঙ্গার আবির্ভাব শিবের জটা থেকে—এমনই প্রচার আছে।
(খ) ভাগীরথী : ভগীরথ গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে এনেছিলেন বলেই গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী।
(গ) মুনিবর-কন্যা জাহ্নবী : ভগীরথ যখন গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আনছিলেন তখন তাঁর জলপ্রবাহে জহ্নু মুনির আশ্রম ও যজ্ঞের সরঞ্জাম প্লাবিত হয়, তাতে রেগে গিয়ে তিনি গঙ্গাকে পান করেন। পরে তিনি ভগীরথের স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে গঙ্গাকে তার কান বা মতান্তরে জানু দিয়ে বের করে দেন। সেইজন্য গঙ্গার অপর নাম হল “মুনিবরকন্যা জহ্নু-তনয়া জাহ্নবী”।
(ঘ) ভীষ্মজননী গঙ্গা : মহর্ষি বশিষ্ঠের অভিশাপে অষ্টবসু মানুষ রূপে পৃথিবীতে জন্ম নিতে বাধ্য হন। গঙ্গা তাদের জন্ম ও মুক্তির আশ্বাস দেন। গঙ্গা হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনুকে বিবাহ করেন। রাজা শান্তনু ও গঙ্গার অষ্টম পুত্র হলেন দেবব্রত। পরবর্তীকালে দেবব্রত বিবাহ না করা এবং সিংহাসনের দাবি না-করার কঠিন প্রতিজ্ঞার জন্য তিনি ‘ভীষ্ম’ নামে খ্যাত হন। তাই গঙ্গা হলেন ‘ভীষ্মজননী’।
এইভাবে পণ্ডিত শংকরাচার্য গঙ্গার মাহাত্ম্য-কীর্তন প্রসঙ্গে ভারতের পুরাণ-কাহিনির উল্লেখ করেছেন।
[৩] দেবী গঙ্গার মাহাত্ম্য সংক্ষেপে লেখ।
দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য ‘শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্’-এর দশটি শ্লোকে দেবী গঙ্গার মাহাত্ম্য কীর্তন প্রসঙ্গে তাঁকে নানা বিশেষণে ভূষিত করেছেন।
(অ) অভয় প্রদায়িনী : গঙ্গা নদী ভারতের অভয় প্রদায়িনী হওয়ায় দেবীতে রূপান্তরিতা হয়েছেন। পৃথিবীতে কল্পলতার মতো মানুষ যা চায় তা সবই গঙ্গা প্রদান করেন। কল্পলতার মতো তিনি মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করেন। মূল কথা ভারতের গাঙ্গেয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই উর্বর ভূমিতে পর্যাপ্ত শস্য উৎপাদনের ফলে তাদের জীবনধারণে অভয় প্রদায়িনী হয়ে ওঠেন দেবী গঙ্গা।
(আ) ভগবতী : গঙ্গার মধ্যে সম্পূর্ণ ঐশ্বর্য, শ্রী, যশঃ, জ্ঞান প্রভৃতি ছয়টি গুণ থাকায় তিনি ভগবতী এবং সুরেশ্বরী।
(ই) ত্রিভুবনতারিণী : গঙ্গা ত্রিলোক অর্থাৎ স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের সব দুষ্কর্মকারী, পাপী, অজ্ঞানীদের উদ্ধারকর্ত্রী বলেই তিনি ত্রিভুবনতারিণী।
(ঈ) ত্রিভুবনধন্যা : পরম পবিত্র গঙ্গাজলকে পতিত নিবারিণী বলা হয়। গঙ্গাদেবী ত্রিভুবনকে পুণ্যতা দান করে ‘ত্রিভুবনধন্যা’ হয়েছেন।
(উ) মোক্ষদাত্রী : পবিত্র গঙ্গাজল পান করলে মোক্ষ বা মুক্তি লাভ হয়। গঙ্গার জলে যিনি স্নান করেন তিনি মাতৃগর্ভে জন্মগ্রহণ করেন না এবং মোক্ষলাভ করেন।
(ঊ) সুখদায়িনী গঙ্গা : দেবী বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে সুজলা-সুফলা শস্যশ্যামলা করে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে সুখপ্রদান করেছেন।
(ঋ) পতিত ও নরকনিবারিণী : দেবী গঙ্গা পাপীদের উদ্ধার বা তাদের পাপ ও নরক গমন থেকে নিবৃত্ত করেন। অপরাধকারী ব্যক্তিদের গঙ্গা সর্বদা কৃপা করেন।
(এ) পুণ্যতোয়া গঙ্গা : গঙ্গা নদী পুণ্যতোয়া, তীর্থস্বরূপ। তার তীরে যিনি বসবাস করেন, তিনি বৈকুণ্ঠ বাসের সমতুল্য পুণ্য অর্জন করেন।
এইভাবে ভক্ত-কবি তাঁর সুগভীর ব্যঞ্জনায় ও সুললিত ছন্দে গঙ্গার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন।
✍️ ভাবসম্প্রসারণ:
১.“ তব কৃপয়া চেম্মাতঃ স্রোতঃ স্নাতঃ পুনরপি জঠরে সোহপি ন জাতঃ । ”
Ans: জগত নশ্বর । এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত মানুষ জন্মাচ্ছে আবার মারাও যাচ্ছে । কারণ জন্মালেই মরতে হবে । আমাদের এই পৃথিবীতে জন্ম ও মৃত্যু চক্রাকারে আবর্তিত হয় । তা সত্ত্বেও মানুষে মানুষে হিংসা , মারামারি এবং অসৎ কর্মও চলে । শাস্ত্রবিধি অনুসারে আমরা জানি , পাপ বা দুঃখের জ্বালা ভোগের জন্য মানুষকে পৃথিবীতে জন্ম নিতে হয় । পুণ্যের ফল শেষ হলেই পৃথিবীতে আসতে হয় । ক্রমজ্ঞানের দ্বারাই জন্ম – মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । তাইতো আমাদের জগতে ভক্তির সমাবেশ ঘটেছে । শ্রীচৈতন্য মানবসমাজে ভক্তিযোগের আহ্বান এনেছেন এবং ভক্তের ডাকে ভগবান দেখা দিয়ে মোক্ষলাভ ঘটিয়েছে । তাইতো আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে শংকরাচার্য বলেছেন— কেউ যদি গঙ্গায় স্নান করে তবে দেবী গঙ্গার কৃপায় তাকে আর মাতৃগর্ভে বা যমরাজের কাছে আসতে হয় না অর্থাৎ তার পুনর্জন্ম হয় না সে মোক্ষলাভ করে ।
২.“ রোগং শোকং তাপং পাপং হর মে ভগবতি কুমতিকলাপম্ ” ( শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ )
Ans: জীবন দুঃখময় । রোগ – তাপ – শোক – পাপ ইত্যাদি কারণে জীবনে দুঃখের শেষ নেই । প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে অনেকসময় জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে । মানুষ নিজ কর্মফলের মাধ্যমে অনেকসময় কষ্ট পায় । প্রিয়জন বিচ্ছেদে জীবনে নেমে আসে শোক – তাপ বা যন্ত্রণা । প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকসময় মানুষ নিজেই নিজের দুঃখ ডেকে আনে । কর্মফলজনিত পাপ জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে । বিপথে চলে যাওয়ার কারণে বা দুষ্টবুদ্ধির প্রভাবেও মানুষ কষ্ট পায় । এর থেকে মুক্তিলাভের জন্য শাস্ত্রে বিভিন্ন পথের সন্ধান দেওয়া হয়েছে । মনীষীরা বলেন , কর্মযোগই মুক্তির পথ দেখায় । অন্য একটি পথও আছে । সেটি হলো দেবীর কাছে আত্মনিবেদনের পথ । দেবতা চিরকালই ভক্তের ডাকে ধরা দেন । ভক্তের আকুল মিনতি দেবীকে বিচলিত করে । ঠিক যেমনটি হয়েছিল সাধক রামপ্রসাদ , বামাক্ষ্যাপা বা শ্রীরামকৃয়ের ক্ষেত্রে । শোনা যায় , মা ভবতারিণী শ্রীরামকৃস্নের হাত থেকে প্রসাদ গ্রহণ করতেন । রামপ্রসাদ ভক্তির জোরে মায়ের দেখা পান । তাই একনিষ্ঠ চিত্তে পরমপুরুষকে স্মরণ করলে তিনি দেখা না দিয়ে পারেন না । কারণ ঈশ্বর মঙ্গলময় । সন্তানের সব দোষ তিনি নিজ গুণে ক্ষমা করে দেন । তবে এজন্য চাই নিবিড় আকুতি । কৃপাময়ীর সান্নিধ্য পেতে হলে চাই তন্নিষ্ঠ সাধনা । দেবীর এই রূপ জেনে ভক্তরা মন – প্রাণ ঢেলে সাধনা করেন । আর সত্যিকার সাধনা কখনো ব্যর্থ হয় না ।
৩.ত্বমসি গতির্মম খলু সংসারে।
→ জীবন পদ্মপাতায় জল বিন্দুর মত চঞ্চল। সমস্ত লোক ব্যাধিগ্রস্ত, অভিমানী আর শোকাহত।জগৎসংসার দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে চলেছে। এখানে রয়েছেন বহু নিপীড়িত মানুষ, পতিত মানুষ, বহু নরকগামী মানুষ। দার্শনিক কবি শংকরাচার্য নিজেও এই সংসারের মধ্যে থেকে সুখ-দুঃখের অতীত নন। তাই নিপীড়িত মানুষদের দুঃখ-কষ্ট দূর হোক এটা যেমন কবির কাম্য, ঠিক তেমনভাবে নিজেও দুঃখ কষ্ট থেকে পরিত্রাণকামী। এই স্তোত্রে তিনি বলেছেন যে দেবী গঙ্গাই তাঁর শরণ। দেবীগঙ্গাই কবির ভক্তি-অর্ঘ্য গ্রহণ করে কবিকে দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারেন। মানুষের রোগ-শোক পাপ-তাপ দূর করতে পারেন দেবী গঙ্গা। তিনি যেন জগতকে সেই দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি দেন। শাস্ত্র জ্ঞানী মানুষেরা শাস্ত্র অনুযায়ী পথ ধরে চলতে পারেন। কিন্তু সাধারন জ্ঞানগরিমাহীন ভক্তকূল দেবীগঙ্গার কৃপায় সংসারসমুদ্র পার হতে পারেন। তাই দেবী গঙ্গার পূজাই মুক্তির উপায়।
......................

