📚 উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর: অধ্যায়-৫:ঔপনিবেশিক ভারতের শাসন(MCQ+SAQ+DAQ)📚
✍️বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তর:-
১. রাওলাট আইন কত খ্রিস্টাব্দে পাস হয় ?( ক ) 1939 খ্রিস্টাব্দে ( খ) 1928 খ্রিস্টাব্দে (গ)1919 খ্রিস্টাব্দে ( ঘ) 1900 খ্রিস্টাব্দে
উ:- গ
২. দ্য ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট কত খ্রিস্টাব্দে পাস হয় ? ( ক ) 1926 খ্রিস্টাব্দে ( খ ) 1925 খ্রিস্টাব্দে ( গ ) 1924 খ্রিস্টাব্দে ( ঘ ) 1922 খ্রিস্টাব্দে ।
উ:- ক
৩. ‘ দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমানস’গ্রন্থটির রচয়িতা – ( ক ) স্যার সৈয়দ আহমদ ( খ ) অ্যাডাম স্মিথ ( গ ) উইলিয়াম হান্টার ( ঘ ) ডেনিসন রস ।
উ:- গ
৪. 1909 খ্রিস্টাব্দে ভারতের ভাইসরয় ছিলেন – ( ক) মন্টেগু ( খ ) চেমসফোর্ড ( গ) লর্ড কার্জন ( ঘ ) লর্ড মিন্টো
উ:- ঘ
৫. কোন্ নীতির দ্বারা নানাসাহেবের ' বৃত্তি ও পেশােয়া ’ উপাধি বাতিল করা হয় ?( ক ) স্বত্ববিলােপ নীতি ( খ ) বিভাজন ও শাসন নীতি ( গ ) অধীনতামূলক মিত্ৰতা নীতি ( ঘ ) সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি।
উ:- ক
৬. গুজরাটের অচ্ছুৎ আদিবাসীদের বলা হত— ( ক ) রাজাপরাজ ( খ ) কালিপরাজ ( গ ) উজালিপরাজ
( ঘ ) ডোম পরাজ।
উ:- খ
৭. ‘ বেঙ্গলি ’ পত্রিকায় সম্পাদনা করতেন – ( ক ) আনন্দমােহন বসু ( খ ) সুভাষ বসু ( গ ) ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত
( ঘ ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
উ:- ঘ
৮. ' কেশরী ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন – ( ক ) লাজপৎ রায় ( খ ) তিলক ( গ ) অরবিন্দ ঘােষ ( ঘ ) বিপিনচন্দ্র পাল ।
উ:- খ
৯. লখনউ চুক্তি কবে সম্পাদিত হয় ?( ক) 1916 খ্রিস্টাব্দে ( খ ) 1919 খ্রিস্টাব্দে ( গ ) 1906 খ্রিস্টাব্দে
( ঘ ) 1909 খ্রিস্টাব্দে।
উ:- ক
১০. ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয়েছিল – ( ক) 1924 খ্রিস্টাব্দে ( খ) 1921 খ্রিস্টাব্দে ( গ) 1923 খ্রিস্টাব্দে ( ঘ ) 1920 খ্রিস্টাব্দে ।
উ:- গ
১১.রাডিক্যাল ডেমােক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হলেন --
( ক ) গান্ধিজি ( খ ) জওহরলাল নেহরু ( গ ) বল্লভভাই প্যাটেল ( ঘ ) মানবেন্দ্রনাথ রায় ।
উ:- ঘ
১২ . ' সীমান্ত গান্ধি ’ নামে পরিচিত ছিলেন – ( ক ) মহাত্মা গান্ধি ( খ ) মহঃ আলি জিন্নাহ ( গ ) খান আবদুল গফফর খান ( ঘ ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।
উ:- গ
১৩ . ' India Today গ্রন্থের রচয়িতা হলেন – ( ক ) ড . অনিল শীল ( খ ) ড . রজনীপাম দত্ত ( গ ) ড . রমেশচন্দ্র দত্ত ( ঘ ) ড . অমলেশ ত্রিপাঠী।
উ:- খ
১৪. ভারতে গান্ধিজির প্রথম রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল – ( ক ) চম্পারন সত্যাগ্রহ ( খ ) আমেদাবাদ সত্যাগ্রহ ( গ ) খেড়া সত্যাগ্রহ ( ঘ ) অহিংস অসহযােগ আন্দোলন।
উ:- ক
১৫) ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে সিমলা দৌত্যের উদ্যোগ নিয়েছিলেন – ( ক )চিত্তরঞ্জন দাশ ( খ ) মােতিলাল নেহরু ( গ ) আগা খাঁ ( ঘ ) মহম্মদ আলি জিন্না।
উ:- গ
১৬. ' Now or Never' ইস্তাহারটি কার ? ( ক ) আগা খান ( খ ) মহঃ আলি জিন্নাহ ( গ ) বাল গঙ্গাধর তিলক
( ঘ ) চৌধুরি রহমৎ আলি।
উ:- ঘ
১৭. ভাইকম সত্যাগ্রহের অন্যতম নেতা ছিলেন --( ক ) কেলাপ্পান ( খ ) ড . আম্বেদকর ( গ ) এ কে গােপালন
( ঘ ) কেশব মেনন ।
উ:- ঘ
১৮. ভারতে প্রথম শ্রমিক সংঘ স্থাপন করেন – ( ক ) বি.পি ওয়াদিয়া ( খ ) লাজপত রায় ( গ ) পি সি যােশি
( ঘ ) ডাঙ্গে।
উ:- ক
১৯) ১৯৪৩- এর বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন ? ( ক) ওয়াভেল ( খ) রিপন
( গ ) আরউইন ( ঘ ) ক্লাইভ।
উ:- ক
২০. পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত — ( ক ) চাঁদের পাহাড় ( খ ) গােরা
( গ ) চোখের বালি ( ঘ ) অশনি সংকেত ।
উ:- ঘ
২১. ভারতীয় চট শিল্পের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন – ( ক ) গুজরাটিরা ( খ ) মারওয়াড়িরা ( গ ) বাঙালিরা
( ঘ ) পার্সিরা ।
উ:- খ
২২. মন্ট - ফোর্ড শাসন সংস্কার আইনকে ' দাসত্বের পরিকল্পনা ’ বলে অভিহিত করেন--
( ক ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ( খ ) অ্যানি বেসান্ত
( গ ) মহাত্মা গান্ধি ( ঘ ) মহম্মদ আলি জিন্না।
উ:- খ
২৩. সিমলা দৌত্যের সময় বড়ােলাট ছিলেন– ( ক ) লর্ড লিটন ( খ ) লর্ড মিন্টো ( গ ) লর্ড কার্জন ( ঘ ) লর্ড রিপন।
উ:- খ
২৪. ‘ দ্য স্পিরিট অফ ইসলাম ’ গ্রন্থটির লেখক ছিলেন –
( ক ) মন্তেস্কু ( খ ) চৌধুরী রহমৎ আলি ( গ ) আবুল কালাম আজাদ ( ঘ ) সৈয়দ আমীর আলি।
উ:- ক
২৫. স্বরাজ্য দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন – ( ক ) জওহরলাল নেহরু ( খ ) সুভাষচন্দ্র বসু ( গ ) চিত্তরঞ্জন দাশ ( ঘ ) মুজাফফর আহমেদ।
উ:- গ
২৬. গান্ধিজি সম্পাদিত পত্রিকাটি হল – ( ক ) দীনবন্ধু
( খ ) সমাচার দর্পণ ( গ ) হরিজন ( ঘ ) কেশরী।
উ:- গ
২৭. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য সরকার নিয়ােগ করে --( ক ) সিডিশন কমিশন ( খ ) হান্টার কমিশন
( গ ) হুইটলি কমিশন ( ঘ ) সাইমন কমিশন ।
উ:- গ
২৮. ভারতে সর্বপ্রথম ‘ বিভাজন ও শাসন নীতি ’ কার্যকর করেন - ( ক ) কার্জন ( খ ) লরেন্স ( গ ) লিটন ( ঘ ) ক্যানিং।
উ:- ঘ
২৯. মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল --( ক ) 1915 খ্রিস্টাব্দে ( খ ) 1903 খ্রিস্টাব্দে ( গ ) 1906 খ্রিস্টাব্দে
( ঘ ) 1909 খ্রিস্টাব্দে ।
উ:- গ
৩০. কলারাম মন্দিরে প্রবেশের দাবিতে আন্দোলন করেন --( ক ) গান্ধিজি ( খ ) আম্বেদকর ( গ ) কেশব মেনন
( ঘ ) নারায়ণ গুরু।
উ:- খ
৩১. ব্রিটিশ আমলে দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় ছিল - ( ক ) জম্মু ও কাশ্মীর ( খ ) বরােদা
( গ ) মহীশূর ( ঘ ) হায়দরাবাদ ।
উ:- ঘ
৩২ . কোন্ দেশীয় রাজা সর্বপ্রথম অধীনতামূলক মিত্ৰতা নীতি গ্রহণ করেছিল ? ( ক ) জয়পুরের মহারাজা ( খ ) মারাঠা পেশােয়া দ্বিতীয় বাজীরাও ( গ ) হায়দরাবাদের নিজাম ( ঘ ) টিপু সুলতান
উ:- গ
৩৩. ওয়ালাদ হীরাচাদ কোন্ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ?
( ক) জাহাজ নির্মাণ( খ ) চা ( গ ) কাগজ ( ঘ ) লৌহ - ইস্পাত
উ:- ক
৩৪. রাওলাট কমিশনের অপর নাম হল --( ক ) সিডিশন কমিশন ( খ ) সাইমন কমিশন ( গ ) অ্যাকওয়ার্থ কমিশন ( ঘ ) হুইটলি কমিশন
উ:- ক
৩৫ . পঞ্চাশের মন্বন্তর বিষয়ক কোন্ গ্রন্থটি সরকার নিষিদ্ধ করে ? ( ক ) আকালের সন্ধানে ( খ ) নবান্ন
( গ ) অশনি সংকেত ( ঘ ) ক্ষুধার্ত বাংলা : 1943 - এর নভেম্বরে মেদিনীপুর জেলায় ভ্রমণ।
উ:- ঘ
৩৬. কোন্ আইনের দ্বারা ভারতে ‘ ভাইসরয় ’ পদের সৃষ্টি হয় ? ( ক ) 1853 খ্রিস্টাব্দের চার্টার আইনের দ্বারা
( খ ) 1858 খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের দ্বারা
( গ ) 1861 খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের দ্বারা
( ঘ ) 1892 খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের দ্বারা।
উ:- খ
৩৭. ' গান্ধি প্রবর্তিত হরিজন ’ - এর অর্থ – ( ক ) অস্পৃশ্য , ( খ ) নিপীড়িত , ( গ ) ঈশ্বরের সন্তান , ( ঘ ) তপশিলি জাতি
উ:- গ
৩৮. মন্টেগু - চেমসফোর্ড আইনের দ্বারা ভারত সচিবের কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা করা হয় -( ক ) 6 থেকে 14
( খ ) 8 থেকে 12 ( গ ) 19 থেকে 15 ( ঘ ) 12 থেকে 20
উ:- খ
৩৯ . জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় 1919 খ্রিস্টাব্দের -( ক ) 6 এপ্রিল ( খ ) 10 এপ্রিল
( গ ) 13 এপ্রিল ( ঘ ) 19 এপ্রিল।
উ:- গ
৪০ . জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাইজার - ই - হিন্দ উপাধি ত্যাগ করেন -( ক ) গান্ধিজি
( খ ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ( গ ) সুভাষচন্দ্র বসু
( ঘ ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
উ:-ক
৪১ . ভাইসরয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম ভারতীয় সদস্য ছিলেন -( ক ) সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ ( খ ) গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ( গ ) সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ( ঘ ) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
উ:-ক
৪২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বাংলায় পাশের মন্বন্তর হয়েছিল— ( ক ) 1940 খ্রিস্টাব্দে ( খ ) 1942 খ্রিস্টাব্দে
( গ ) 1943 খ্রিস্টাব্দে ( ঘ ) 1945 খ্রিস্টাব্দে
উ:- গ
৪৩. বারদৌলি সত্যাগ্রহের নেতৃত্ব কে দেন ? ( ক ) রাজকুমার শুক্লা ( খ ) রাজেন্দ্র প্রসাদ ( গ ) বল্লভভাই প্যাটেল ( ঘ ) কল্যাণজি মেহতা ।
উ:- গ
৪৪. কোন্ আইনের দ্বারা ভারতে একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ? ( ক ) 1909 খ্রিস্টাব্দের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট দ্বারা , ( খ ) 1919 খ্রিস্টাব্দের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট দ্বারা ,( গ ) 1927 খ্রিস্টাব্দের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট দ্বারা , ( ঘ ) 1935 খ্রিস্টাব্দের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট দ্বারা
উ:- ঘ
৪৫ . ' নবান্ন ’ নাটকের রচয়িতা হলেন --( ক ) অমলেন্দু চক্রবর্তী , ( খ ) ভবানী ভট্টাচার্য , ( গ ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় , ( ঘ ) বিজন ভট্টাচার্য ।
উ:- ঘ
৪৬. ভারতের প্রথম পাটকল গড়ে ওঠে- ( ক ) কলকাতায় ( খ ) মুম্বাইতে ( গ ) হুগলিতে ( ঘ ) চন্দননগরে।
উ:- গ
৪৭. মুসলিম লিগের যে অধিবেশনে পৃথক পাকিস্তান - এর দাবি তােলা হয় সেটি হল – ( ক ) লাহাের ( খ ) লখনউ ( গ ) করাচি ( ঘ ) ঢাকা ।
উ:- ক
৪৮. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত নন— ( ক ) এস এ ডাঙ্গে ( খ ) মুজফফর আহমেদ ( গ ) সােমনাথ লাহিড়ি
( ঘ ) ফিলিপ স্প্যাট ।
উ:- গ
৪৯ . মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল– ( ক ) উত্তরপ্রদেশে ( খ ) চম্পারনে ( গ ) চাকায় ( ঘ ) মিরাটে।
উ:- গ
৫০. দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন – ( ক ) আবুল কালাম আজাদ ( খ ) আগা খান ( গ ) সৈয়দ আহমদ খান ( ঘ ) খান আবদুল গফফর খান।
উ:- গ
৫১. লর্ড ডালহৌসি কুশাসনের অজুহাতে যে রাজ্যটি দখল করেন তা হল – ( ক ) তাঞ্জোর ( খ ) নাগপুর
( গ ) অযােধ্যা ( ঘ ) সম্বলপুর ।
উ:- গ
৫২. ফজলুল হক ছিলেন বাংলার – ( ক ) কৃষক প্রজাদলের নেতা ( খ ) শ্রমিক প্রজাদলের নেতা
( গ ) সােশ্যালিস্ট দলের নেতা ( ঘ ) কমিউনিস্ট দলের নেতা।
উ:- A
৫৩. ভাইকম সত্যাগ্রহ শুরু করেন – ( ক ) কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস ( খ ) হিন্দু মহাসভা ( গ ) নারায়ণ গুরু
( ঘ ) কেশব মেনন ।
উ:-ক
৫৪ . মুসলিম লিগ গঠন করেছিলেন– ( ক ) মহম্মদ আলি জিন্না( খ ) হোসেন সুরাবর্দী ( গ ) আগা খান
( ঘ ) নবাব সলিমউল্লাহ।
উ:- ঘ
৫৫. অধীনতামূলক মিত্ৰতা নীতি চালু করেন – ( ক ) কর্নওয়ালিশ ( খ ) হেস্টিংস ( গ ) ওয়েলেসলি
( ঘ ) ডালহৌসি।
উ:- গ
✍️ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
1. কবে কোথায় ভাইকম সত্যাগ্রহ শুরু হয় ?
উত্তর :- কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২ মার্চ ত্রিবাঙ্কুরের ভাইকম মন্দিরে দলিতদের প্রবেশের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করে তা ভাইকম সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত।
2. ৫০-এর মন্বন্তরের পর সরকার কোন কমিশন গঠন করে ?
উত্তর :- ১৯৪৩ (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) -এর মন্বন্তরের পর ব্রিটিশ সরকার দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশন গঠন করে। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে কমিশন তার রিপোর্ট জমা করে।
3. লক্ষ্ণৌ কংগ্রেসের গুরুত্ব উল্লেখ করো।
উত্তর :- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে চরমপন্থী নেতৃবর্গ পুনরায় দলে ফিরে আসায় নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে ঐক্য রচিত হয়। ফলে কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
4. ‘দেশীয় রাজ্য’ কাকে বলা হতো ?
উত্তর :- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতে কোম্পানির শাসন শেষ হলেও প্রত্যক্ষ শাসনের বাইরে অসংখ্য স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য ছিল। এগুলিই দেশীয় রাজ্য নামে পরিচিত।
5. মর্লে-মিন্টো আইনের (১৯০৯) দু’টি ত্রুটি উল্লেখ করো।
উত্তর :- মর্লে-মিন্টো আইনের (১৯০৯) দু’টি ত্রুটি হল (ক) এই আইনে ভারতে কোনো দায়বদ্ধ প্রশাসন গঠনে জোর দেওয়া হয়নি। (খ) এই আইনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতামত গুরুত্ব পেত না।
6. রাওলাট কমিশন কাকে বলে ?
উত্তর :- ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য ১৯১৮ সালে স্যার সিডনি রাওলাট-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়, যা রাওলাট কমিশন নামে পরিচিত।
7. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তদের নাম লেখো।
উত্তর :- মুজাফফর আহমেদ, পি সি জোশি, অমৃত শ্রীপাদ ডাঙ্গে, ফিলিপ স্প্র্যাট , বেঞ্জামিন ব্রাডলি, গঙ্গাধর অধিকারী প্রমুখ।
8. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের একটি প্রধান শর্ত উল্লেখ কর ?
উত্তর :- মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের একটি প্রধান শর্ত হল মুসলিম সম্প্রদায়কে পৃথকভাবে সদস্য নির্বাচনের অধিকার দেওয়া।
9. কে, কোন ঘটনার প্রতিবাদে নাইট উপাধি ত্যাগ করেন ?
উত্তর :- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইট উপাধি ত্যাগ করেন।
10. কে কবে মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠা করেন ?
উত্তর :- ঢাকার নবাব সলিম উল্লাহ ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠা করেন।
11. ব্রিটিশ ভারতের কয়েকটি বৃহত্তম দেশীয় রাজ্যের নাম উল্লেখ কর।
উত্তর :- ব্রিটিশ ভারতের কয়েকটি বৃহত্তম দেশীয় রাজ্য হল হায়দ্রাবাদ, কাশ্মীর, মহীশূর।
12. স্বত্ববিলোপ নীতির মূল শর্ত উল্লেখ কর।
উত্তর :- স্বত্ববিলোপ নীতির মূল শর্ত হল – (ক) কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তিনি দত্তক পুত্র গ্রহণ করতে পারবেন না। সেই রাজ্য কোম্পানির অধীনে চলে যাবে।
13. কোন দেশীয় রাজ্যের রাজা প্রথম অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করেন ?
উত্তর :- হায়দ্রাবাদের নিজাম প্রথম অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করেন।
14. ভারতে সর্বপ্রথম কোথায় বিভাজন ও শাসন নীতি চালু হয় ?
উত্তর :- ভারতে পাঞ্জাবের সেনাবাহিনীতে জন লরেন্স সর্বপ্রথম এই নীতি প্রয়োগ করেন।
15. সিমলা দৌত্য বলতে কী ?
উত্তর :- আগা খানের নেতৃত্বে ৩৫ জনের মুসলিম প্রতিনিধি দল ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ১ অক্টোবর মুসলিম স্বার্থ রক্ষার দাবি জানিয়ে সিমলায় বড়লাট লর্ড মিন্টোর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। এই ঘটনা সিমলা দৌত্য/সিমলা ডেপুটেশন নামে খ্যাত।
16. রাওলাট আইনের একটি শর্ত উল্লেখ কর।
উত্তর :- রাওলাট আইন অনুসারে ইংরেজ বিরোধী যাবতীয় প্রচার নিষিদ্ধ হবে বলে ঘোষণা করা হয়।
17. মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইনের একটি শর্ত উল্লেখ কর।
উত্তর :- মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইনে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা এবং আয় যথাযথভাবে বণ্টিত হয়।
18. লক্ষ্ণৌ চুক্তির দুটি শর্ত লেখো।
উত্তর :- লক্ষ্ণৌ চুক্তির দুটি শর্ত হল – (ক) কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগ একত্রে সরকারের কাছে শাসন সংস্কারের দাবি জানাতে একমত হয়। (খ) মুসলিম লিগের স্বতন্ত্র নির্বাচনের দাবি কংগ্রেস মেনে নেয়।
19. গান্ধিজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন কেন ?
উত্তর :- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলন চলাকালীন উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরায় একদল আন্দোলনকারী থানায় আগুন লাগিয়ে কয়েকজন পুলিশকে পুড়িয়ে মারে। ফলে সহিংস আচরণের জন্য গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
20. ‘চোদ্দো দফা দাবি’ কবে কী উদ্দেশ্যে ঘোষিত হয় ?
উত্তর :- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লিগের দিল্লি অধিবেশনে মুসলিম লিগের নেতা মহম্মদ আলি জিন্না তাঁর চোদ্দো দফা দাবি পেশ করেন। ভারতে মুসলিমদের স্বার্থরক্ষাই ছিল এই দাবির উদ্দেশ্য।
21. কে কোন আইন কে “একটি ধাপ্পাবাজি” বলে অভিহিত করেছেন ?
উত্তর :- ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনকে “একটি ধাপ্পাবাজি” বলে অভিহিত করেছেন।
22. রাওলাট আইন কবে কি উদ্দেশ্যে পাস হয় ?
উত্তর :- ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী গণ আন্দোলন ও বৈপ্লবিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ই মার্চ রাওলাট আইন পাস করা হয়।
23. মাহাদ মার্চ কি ?
উত্তর :- অস্পৃশ্যরা সাধারণ জলাশয় থেকে যাতে জল নিতে পারে তার দাবিতে ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয় (১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে) তা মাহাদ মার্চ নামে পরিচিত।
24. কবে কাদের মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ?
উত্তর :- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর গান্ধীজী এবং বি আর আম্বেদকর এর মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
25. কবে এবং কেন সাইমন কমিশন গঠিত হয়েছিল ?
উত্তর :- ১৯২৭খ্রিস্টাব্দে ভারতীয়দের স্বার্থে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনে সাইমন কমিশন গঠিত হয়েছিল।
26. ভারতীয়রা কেন সাইমন কমিশন বর্জন করেছিল ?
উত্তর :- ব্রিটিশ সরকার ভারতে শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে সাত জন সদস্য বিশিষ্ট যে সাইমন কমিশন গঠন করে তাতে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় ভারতীয়রা একে জাতীয় অপমান বলে গণ্য করে এই কমিশন বর্জন করেছিল।
27. কবে কেন হুইটলি কমিশন নিয়োগ করা হয় ?
উত্তর :- শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে হুইটলি কমিশন নিয়োগ করা হয়।
28. রাওলাট আইন কী ?
উত্তর :- স্যার সিডনি রাওলাটের নেতৃত্বে সিডিশন কমিশন ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভায় একটি দমনমূলক বিল পেশ করে এবং ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মার্চ তা আইনে পরিণত হয়। এটিই রাওলাট আইন নামে খ্যাত।
29. মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় তিনজন বিদেশি অভিযুক্তের নাম লেখ।
উত্তর :- মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় তিনজন বিদেশি অভিযুক্তঅভিযুক্ত হলেন ফিলিপ স্প্র্যাট, বেঞ্জামিন ফ্রান্সিস ব্রাডলি, লেস্টার হাচিনসন।
30. কবে কোথায় ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় ?
উত্তর :- ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কানপুরে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
31. সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি ঘোষণা করা হয় কবে ?
উত্তর :- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ সেপ্টেম্বর সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি ঘোষণা করা হয়।
32. মুসলিম লিগের কোন অধিবেশনে পাকিস্তান দাবি করা হয় ?
উত্তর :- মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে(১৯৪০) পাকিস্তান দাবি করা হয়।
33. ‘The Indian Musalman’s গ্রন্থটির রচয়িতা কে ছিলেন ?
উত্তর :- ‘The Indian Musalman’s গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন উইলিয়াম হান্টার
34. কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবি ওঠে ?
উত্তর :- কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে (১৯৪০) পূর্ণ স্বরাজের দাবি ওঠে।
35. সাইমন কমিশন কখন ভারতে আসে ?
উত্তর :- ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সাইমন কমিশন ভারতে আসে।
36. ভাইসরয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদে প্রথম ভারতীয়র নাম লেখ।
উত্তর :- ভাইসরয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদে প্রথম ভারতীয় ছিলেন সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ।
37. রাওলাট আইনকে “উকিল নেহি, দলিল নেহি, আপিল নেহি” বলে মন্তব্য করেন কে ?
উত্তর :- মহাত্মা গান্ধি রাওলাট আইনকে “উকিল নেহি, দলিল নেহি, আপিল নেহি” বলে মন্তব্য করেন।
38. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ‘কাইজার ই হিন্দ’ উপাধি ত্যাগ করেন কে ?
উত্তর :- মহাত্মা গান্ধি জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ‘কাইজার ই হিন্দ’ উপাধি ত্যাগ করেন।
39. প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের প্রধান কোন দল যোগদান করেনি ?
উত্তর :- প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস যোগদান করেনি।
40. মুসলিম লিগ গঠিত হয় কবে ?
উত্তর :- মুসলিম লিগ গঠিত হয় ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে।
41. মুসলিম লিগের প্রথম অধিবেশন কোথায় বসে ?
উত্তর :- ঢাকায় মুসলিম লিগের প্রথম অধিবেশন বসে।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
1. রাওলাট আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল ? গান্ধিজি কেন এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন ?
Ans: সূচনা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ভারতীয়দের ব্রিটিশ বিরোধী গণআন্দোলন ও বৈপ্লবিক কার্যকলাপ বন্ধ করে দেবার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের বিচারপতি স্যার সিডনি রাওলাটের ‘ সিডিশন কমিশন ‘ – এর সুপারিশে 1919 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে যে আইন প্রবর্তিত হয় তা রাওলাট আইন নামে পরিচিত ।
আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য : বিপ্লবী আন্দোলন দমন : ভারতবর্ষে সরকার – বিরোধী যে বৈপ্লবিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা দমনের জন্য রাওলাট আইন প্রবর্তিত হয় ।
মুসলিম ক্ষোভের প্রশমন : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার পরাজিত তুরস্কের ব্যবচ্ছেদ ঘটালে এবং তুরস্কের খলিফার ক্ষমতা খর্ব করলে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ।
গণআন্দোলন : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি , খরা , মহামারি , বেকারত্ব বৃদ্ধি প্রভৃতির ফলে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয়রা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় , আর এইজন্যে সর্বত্র গণআন্দোলনও ছড়িয়ে পড়ে ।
রাওলাটের আইনের বিভিন্ন দিক / ধারা :
i) প্রচারকার্যে বাধা দান : সরকার – বিরোধী সব ধরনের কার্য দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হয় ।
ii) বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার : সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা যাবে এবং বিচারে অনির্দিষ্টকাল আটক করেও রাখা যাবে ।
iii) বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি : সরকার যেকোনো ব্যক্তির বাড়ি বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি করতে পারবে ।
iv) আপিলে নিষেধাজ্ঞা : রাওলাট আইনের দ্বারা সম্পন্ন হওয়া বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো উচ্চতর আদালতে আপিল করা যাবে না ।
এই আইনে ভারতীয় প্রতিক্রিয়া :
দেশব্যাপী প্রতিবাদ : অত্যাচারী রাওলাট আইনকে কেন্দ্র করে দেশের সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় । কেন্দ্রীয় আইনসভায় এই আইনের বিরোধিতায় সকলে গর্জে ওঠে ।
আইন পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ : রাওলাট আইনের প্রতিবাদে মহম্মদ আলি জিন্না , মদনমোহন মালব্য আইন পরিষদের সদস্য পদত্যাগ করেন । লালা লাজপত রায় বলেন— “ এই আইনের ফলেই আবার নতুন করে বিপ্লবী কার্যকলাপ শুরু হবে । ”
গান্ধিজির ভূমিকা : গান্ধিজি অত্যাচারী রাওলাট আইনের সমালোচনা করে বলেন যে এই আইনে— “ উকিল নেহি , দলিল নেহি , আপিল নেহি । ” এই আইনের প্রতিবাদে তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে রাওলাট সত্যাগ্রহের ডাক দিয়েছিলেন । এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইট উপাধি ত্যাগ করেন , গান্ধিজি কাইজার – ই – হিন্দ উপাধি ত্যাগ করেন ।
মূল্যায়ন : রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে ভারতীয়রা একাধিক প্রতিক্রিয়ামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করলে ব্রিটিশ সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে এই আইন বহাল রাখে ।
2. মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কার আইন ( 1919 ) -এর বৈশিষ্ট্য লেখো । এই আইনের বিরোধিতা বা ত্রুটিগুলি আলোচনা করো । এই আইনের ধারাগুলি কী ?
Ans: সূচনা : ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষকে শাসন করার জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিক আইন প্রবর্তন করেছিল । অনুরূপভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন ভারতে একাধিক বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ঘটনা এবং ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে মর্লে – মিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের কোনো আশা – আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেনি । তাই পুনরায় ভারতীয়রা শাসনতান্ত্রিক অধিকারে দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে । আর সেইসময় ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের জন্য শাসনতান্ত্রিক সুবিধার্থে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কার আইন প্রবর্তনের পথে পা বাড়ায় ।
আইন প্রবর্তনের কারণ : ১৯১৯ – এর মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কার আইন প্রবর্তনের কারণে বলা যায়
মর্লে –মিন্টো সংস্কার আইনের ব্যর্থতা: মর্লে–মিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের দাবি পূরণ করতে পারেনি এবং ভারতীয় জনবিক্ষোভেরও অবসান ঘটাতে পারেনি।
চরমপন্থী ও নরমপন্থী কংগ্রেসের মিলন : ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় কংগ্রেসে চরমপন্থী ও নরমপন্থীদের মধ্যে আদর্শগত বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় কংগ্রেস পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে ।
কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে সমঝোতা:১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে পুনর্মিলনও মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কার আইনের পথ প্রশস্ত করেছিল।
ভারতীয়দের স্বায়ত্তশাসনের দাবি : হোমরুল আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতীয়দের মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরালো হতে শুরু করলে ব্রিটিশ সরকার তার নিষ্পত্তি ঘটানোর জন্য ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কার আইন প্রবর্তন করেন ।
মন্টেগু চেমসফোর্ট আইনের ধারা : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু – চেমসফোর্ট সংস্কার আইনের প্রধান ধারাগুলি ছিল এইরকম—
প্রথমত , ভারত সচিবের কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ১০ জন এবং অনধিক ১২ জন করা হয়।
দ্বিতীয়ত , ভারত সচিবের বেতন , ভাতা ব্রিটিশ সরকার বহন করবে বলে ঠিক হয় ।
তৃতীয়ত , ভারতের রাজস্ব সংক্রান্ত প্রস্তাব অধিকাংশের ভোটে পাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয় ।
চতুর্থত , ভারতের শাসন ব্যবস্থার অন্তর্গত বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক দুই ভাগে ভাগ করা হয় ।
পঞ্চমত , প্রাদেশিক আইনসভার শতকরা ৭০ জন সদস্য নির্বাচিত এবং ৩০ জন সদস্য মনোনীত করার ব্যবস্থা করা হয় ।
ষষ্ঠত , নতুন আইনে কেন্দ্রে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হয় ।
সপ্তমত , কেন্দ্রীয় আইনসভার হাতে সমগ্র ভারতের জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয় ।
এই আইনের ত্রুটি : মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কার আইনের দ্বারা যথার্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাসনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ত্রুটি লক্ষ করা যায় । যেমন –
ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ : কার্যনির্বাহ পরিষদকে আইনসভার নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয় । কেন্দ্রে সব ক্ষমতা বড়োলাটের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ভারতবাসীর আশা – আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যায় ৷
প্রতিবন্ধকতা : প্রাদেশিক শাসনকার্য সংরক্ষিত এবং হস্তান্তরিত এই দুই ভাগে • বিভক্ত করে একদিকে ক্ষমতাহীন দায়িত্ব ও অন্যদিকে দায়িত্বহীন ক্ষমতা অর্পণ করার ব্যবস্থা করা হয় । ফলে সুষ্ঠভাবে শাসনকার্য পরিচালনার পক্ষে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয় ।
অপর্যাপ্ত : জাতীয় কংগ্রেস মন্টেগু চেমসফোর্ট সংস্কারকে অপর্যাপ্ত , অসন্তোষজনক ও নৈরাশ্যকর বলে মন্তব্য করেছিল । অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থীরা এই সংস্কার আইনকে একটি সঠিক ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ বলেছেন ।
স্বায়ত্তশাসনের অভাব : এই আইনে প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি । কেননা প্রদেশের গভর্নর ছিলেন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী । তাই বলা যায় , এই আইনের দ্বারা ব্রিটিশ শাসনের শক্তি আরো মজবুত হয়েছিল ।
ভোটাধিকার : মন্টেগু – চেমসফোর্ট আইনে সর্বসাধারণের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়নি , যা একাধারে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে ভারতবর্ষে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছিল।
3. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো । এই ঘটনার গুরুত্ব কী ছিল ?
Ans: সূচনা : ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতবর্ষে সর্বাধিক পৈশাচিক , ভয়াবহ এবং অমানবিক হত্যাকাণ্ড ছিল 1919 খ্রিস্টাব্দে পাঞ্চাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড । এই ঘটনা সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ইংল্যান্ডের অপশাসনকে পরিষ্কার করে তুলে ধরেছিল ।
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট:
প্রথমত , প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারের কঠোর দমনমূলক নীতি ও সীমাহীন অত্যাচার । এইসময় সৈন্য ও অর্থ সংগ্রহের জন্য ইংরেজ সরকার যে নির্যাতন শুরু করেছিল তা এই ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী ।
দ্বিতীয়ত , প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং শিল্প ধ্বংসের ফলে দেশজুড়ে বেকারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় যা ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোকে অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত করে ।
তৃতীয়ত , 1919 খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে মন্টেগু চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার আইন পাশ করা হয় । কিন্তু এই আইন ভারতীয়দের দাবিদাওয়া পূরণে ব্যর্থ হয় যা জনমানসে হতাশার সৃষ্টি করে ।
চতুর্থত , প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন অবস্থায় ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের জন্য কুখ্যাত রাওলাট আইন পাশ করে । এই আইনের ভয়াবহতা জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের জন্য অনেকাংশে দায়ী ।
পঞ্চমত , রাওলাট আইনের বিরোধিতা করে গান্ধিজির নেতৃত্বে রাওলাট সত্যাগ্রহ অনুষ্ঠিত হয় । এইসময়ে 1919 খ্রিস্টাব্দের 10 এপ্রিল রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে মদত দেবার অপরাধে ড . সৈফুদ্দিন কিচলু ও ড . সত্যপালকে গ্রেপ্তার করা হলো পাঞ্জাবে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ।
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড : এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাবে জেনারেল মাইকেল ও ডায়ার এক সমারিক আইন জারি করেন , এরই প্রতিবাদে 13 এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের বাগানে ঘেরা এক স্থানে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ সমবেত হলে জেনারেল ডায়ার – এর নির্দেশে 1600 রাউন্ড গুলি চালানো হলে সেখানে শতাধিক মানুষ নিহত এবং অজস্র মানুষ আহত হন । এই কলঙ্কিত ঘটনা ইতিহাসে জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত ।
গুরুত্ব : প্রথমত , জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড সমগ্র ভারতবর্ষে তথা বিশ্ববাসীর কাছে ব্রিটিশ সরকারের নগ্ন সাম্রাজ্যবাদী ছবি ফুটিয়ে তুলেছিল । ব্রিটিশ সরকারের বর্বরতাকে চিহ্নিত করেছিল ।
দ্বিতীয়ত , এই ঘটনার প্রতিবাদে সমাজের সকল স্তরের মানুষ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সমবেত হতে শুরু করেছিল । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশদের দেওয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেন । গান্ধিজি লেখেন— “ এই শয়তানের সরকারের সংশোধন অসম্ভব , একে ধ্বংস করতেই হবে । ”
তৃতীয়ত , এই ঘটনার প্রতিবাদ ভারতের বাইরে ইংল্যান্ডেও হয় । প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যামকুইন মন্তব্য করেন— “ One of the worst outrages in the whole of our history ” , এর পরিপ্রেক্ষিতে হান্টার কমিশন গঠিত হয় এবং জেনারেল ডায়ারকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ।
চতুর্থত , জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল এই নৃশংস ঘটনা ও অন্যায়ের সুবিচার করা ।
4. ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের পটভূমি ব্যাখ্যা করো । এই আইনের ত্রুটিগুলি কী ছিল ?
Ans: পটভূমি : বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন , জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর বিরোধ এবং বৈপ্লবিক সন্ত্রাসবাদীদের উত্থানের মতো ঘটনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড বালফোর এক কৌশলী আপস নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন । তিনি লর্ড কার্জনের কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট হয়ে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড মিন্টোকে ভারতের গভর্নর জেনারেল করে পাঠান । এইসময় ভারত সচিব ছিলেন লর্ড মলে । লর্ড মলে ও লর্ড মিন্টো এক শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের দ্বারা কংগ্রেসের নরমপন্থী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে ও নরমপন্থী – চরমপন্থী বিবাদ দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং কংগ্রেস বিরোধী রাজনৈতিক দল মুসলিম লিগের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সচেষ্ট হন । তাঁদের উদ্যোগে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১ অক্টোবর ভারতের শাসন সংস্কারের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি খসড়া আইন পেশ করা হয় । ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে এই খসড়া আইন আইনের রূপ পায় । এই আইন মর্লে – মিন্টো আইন , ১৯০৯ নামে পরিচিত ।
আইনের বৈশিষ্ট্য : ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের মর্লে – মিন্টো শাসন সংস্কার আইনের প্রকৃত নাম ছিল ভারত শাসন আইন । এই আইনের দু’টি দিক ছিল ।
( ক ) কার্যনির্বাহী পরিষদ ,
( খ ) আইন পরিষদ ।
( ক ) কার্যনির্বাহী পরিষদ : গভর্নর জেনারেলের কার্যনির্বাহী পরিষদে একজন করে ভারতীয় প্রতিনিধি দল গঠন করা হয় । কার্যনির্বাহী পরিষদে প্রথম ভারতীয় প্রতিনিধি ছিলেন ব্যারিস্টার লর্ড সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ । তিনি এই পরিষদে আইন সদস্যরূপে নিযুক্ত হন ।
বোম্বাই , মাদ্রাজ ও বাংলার গভর্নরদের কার্যনির্বাহী পরিষদে সদস্যসংখ্যা ২ জন থেকে বাড়িয়ে ৪ জন করা হয় ।
(খ) আইন পরিষদ : আইন পরিষদে চার ধরনের নির্বাচকমণ্ডলী রাখার কথা বলা হয় । যথা – প্রাদেশিক আইন পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি দল , সংখ্যালঘু মুসলিমদের পৃথক নির্বাচনের জন্য নির্বাচক দল , দেশীয় শাসক ও জমিদারদের জন্য প্রতিনিধি দল এবং বিশ্ববিদ্যালয় , বণিক সংগঠন প্রভৃতি সংস্থার নির্বাচিত প্রতিনিধি দল ।
মর্লে – মিন্টো সংস্কার আইনের ত্রুটি : ভারতীয়দের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্যে মলে – মিন্টো আইন পাশ হলেও এই আইনের বিভিন্ন ত্রুটি ছিল । যেমন –
( ক ) অধিকারহীনতা : এই আইনের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্য , সামরিক বিভাগ , বিদেশনীতি প্রভৃতি বিষয়ে কোনো প্রস্তাব আনার অধিকার আইনসভার হাতে ছিল না ।
( খ ) দায়িত্বশীলতার অভাব : মর্লে– মিন্টো আইনের দ্বারা কেন্দ্রে এবং প্রদেশে নির্বাচিত ভারতীয় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ কোনো গুরুত্ব স্বীকৃত হয়নি । ফলে এই আইন ভারতে কোনো দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় ।
5. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলায় দুর্ভিক্ষের কারণগুলি কী ছিল ? বাংলায় পঞ্চাশের মন্বস্তরের ফলাফল লেখো ।
অথবা , ১৯৪৩ সালে বাংলায় মন্বন্তর – এর কারণ কী ছিল ?
Ans: সূচনা: খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়া ১৯৪০-৪১ সালে বাংলায় সীমিত আকারে খাদ্য সংকটে গরিবের সঞ্চয় ফুরিয়ে যায় । ১৯৪২ – এর অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ধানের ফলন কমে যায় । মারা যায় প্রায় দু’লক্ষ গবাদি পশু । মানুষের সঞ্চিত খাদ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে দেখা দেয় মন্বন্তর ।
বাংলায় পঞ্চাশের মন্বস্তরের কারণ : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজ সরকারের তীব্র অর্থনৈতিক শোষণে অবিভক্ত বাংলায় ১৯৪৩ সালে ( ১৩৫০ বঙ্গাব্দ ) এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ শুরু হয় । এই মন্বন্তর বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করে । এর বিভিন্ন কারণ ছিল—
খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত : ১৯৪২ – এর বন্যায় গ্রামীণ রাস্তাগুলি ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয় । ফলে দূর দুরান্তে খাদ্যশস্য পাঠানোয় অসুবিধা দেখা দেয় ।
বার্মা থেকে চাল আমদানি ব্যাহত : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে বার্মা থেকে কলকাতা তথা বাংলায় চাল আসত । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান বার্মা দখল করে নেওয়ায় চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায় ।
জাপানি আক্রমণের আশঙ্কা : জাপান যেকোনো সময় বাংলা হয়ে ব্রিটিশ ভারতে আক্রমণ করতে পারে , এই আশঙ্কা করেছিল ব্রিটিশ সরকার । এজন্য পোড়ামাটির নীতি অনুসারে বার্মার নিকটস্থ চট্টগ্রাম ছেড়ে আসার সময় সেখানকার নৌকা , মোটর যান , গোরুর গাড়ি প্রভৃতি ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয় । ফলে বাংলার সীমান্তে খাদ্য সরবরাহ অসম্ভব হয়ে পড়ে ।
চার্চিলের ভূমিকা : বাংলায় খাদ্যাভাবের সময় অস্ট্রেলিয়া , কানাডা , আমেরিকা জাহাজে করে বাংলায় খাদ্যশস্য পাঠাতে চেয়েছিল । কিন্তু যুদ্ধের জন্য জাহাজ লাগবে এই যুক্তিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল কোনো জাহাজ দিতে রাজি হননি ।
সেনার জন্য খাদ্য রপ্তানি : বাংলায় খাদ্যভাবের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধের সময় সেনাদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যশস্য বাইরে পাঠায় । এতে বহু খাদ্য অপচয় হয় । বেড়ে যায় খাদ্যসংকট ।
বাণিজ্য গণ্ডি : ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য গণ্ডি চালু করে । ফলে ব্যবসায়ীরা অন্য প্রদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে পারেনি ।
মজুতদারি : জাপানের আক্রমণের আশঙ্কায় ইংরেজ সরকার বাংলা থেকে প্রচুর পরিমাণ চাল মজুত করে । দুর্ভিক্ষের পরে ৯০ হাজার টন চাল নষ্ট হয়েছিল । খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী চাল কিনে গুদামে মজুত করে এবং দুর্ভিক্ষের সময় চড়া দামে বিক্রি করে।
সংকটকে উপেক্ষা : বাংলায় খাদ্য সংকট শুরু হলে তা মোকাবিলায় তৎপর হয়নি ব্রিটিশ সরকার । মৃত্যু – মিছিল শুরু হলেও ত্রাণকার্য হয়েছে ধীর গতিতে ।
পঞ্চাশের মন্বস্তরের ফলাফল : মন্বন্তরের বিভিন্ন ফলাফল দেখা যায়—
ব্যাপক প্রাণহানি : মন্বন্তরে মৃতের সংখ্যা ব্রিটিশ সরকার ইচ্ছা করেই প্রকাশ করেনি । দুর্ভিক্ষে অন্তত ৪০-৭০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল বলে অনুমান । মৃতদেহ সৎকারের লোক ছিল না । মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মৃত মানুষের মাংসে শকুন , শিয়াল কুকুরেরও অরুচি ধরে ।
অর্থনৈতিক বিপর্যয় : মন্বন্তরে বাংলায় ঘটে যায় চূড়ান্ত অর্থনৈতিক বিপর্যয় । সর্বস্বান্ত মানুষকে দুর্ভিক্ষের সময় থালা – বাটি হাতে রাস্তায় ভিক্ষা করতে দেখা যায় । শেষপর্যন্ত অনাহারে রাস্তার ধারে পড়ে থাকত এদের মৃতদেহ ।
মানবিক বিপর্যয় : মন্বন্তরে চূড়ান্ত মানবিক বিপর্যয় দেখা যায় । কুকুরের সঙ্গে লড়াই করে ডাস্টবিন থেকে মানুষ খাদ্য খেতে শুরু করেছিল । মানুষ তার প্রিয়জনকে মৃত্যুদশায় ফেলে রেখে বাঁচার তাগিদে বাড়ি ছাড়ে । অভাবের জ্বালায় অনেকে স্ত্রী – সন্তানকে বিক্রি করে ।
কমিশন গঠন : দুর্ভিক্ষের কারণ খুঁজতে সরকার ‘ দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান কমিশন ‘ গঠন করে । ১৯৪৫ সালে কমিশন রিপোর্ট জমা দেয় । রিপোর্টে সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার সমালোচনা করা হয় ।
সাহিত্য সৃষ্টি : মন্বন্তরের পটভূমিকায় বিজন ভট্টাচার্য লেখেন ‘ নবান্ন ‘ নাটক । বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘ অশনি সংকেত ‘ উপন্যাসে , চিত্তপ্রসাদ তার ‘ ক্ষুধার্ত বাংলা : ১৯৪৩ – এর নভেম্বরে মেদিনীপুর জেলায় ভ্রমণ – ফুটিয়ে তোলেন দুর্ভিক্ষের মর্মস্পর্শী বিবরণ ।
গ্রন্থ নিষিদ্ধকরণ : চিত্তপ্রসাদের ‘ ক্ষুধার্ত বাংলা : ১৯৪৩ – এর নভেম্বরে মেদিনীপুর জেলায় ভ্রমণ ’ গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয় । ৫০০০ কপি বাজেয়াপ্ত করে সরকার ।
মূল্যায়ন : পঞ্চাশের মন্বন্তর নিয়ে গবেষণা আজও চলছে । এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন , এই সময়ের ঘটনা ও তথ্য অনুসরণে পরবর্তীকালে দেশে কোনো বঙ্কিমচন্দ্র জন্মগ্রহণ করলে হয়তো আর একটি ‘ আনন্দমঠ ‘ সৃষ্টি হবে ।
6. ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কী প্রভাব পড়েছিল ?
অথবা , ভারতের উপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?
অথবা , যুদ্ধ – পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট ভারতের কৃষকদের উপর কী প্রভাব ফেলে ?
Ans: ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব : ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইংল্যান্ড যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে । যুদ্ধে ভারতের অর্থসম্পদ ও সেনাকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগায় ব্রিটিশ সরকার । এর ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভারতীয় অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব চোখে পড়ে । এ বিষয়ে নীচে বলা হলো—
আর্থিক সংকট : প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতের প্রচুর পরিমাণ অর্থ – সম্পদ ব্যয় করা । হয় । যুদ্ধের সময় দেশের কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যায় । ফলে রপ্তানি হ্রাস পায় , এতে ভারতে দারিদ্র্য বাড়ে ।
ঋণ সংগ্রহ : প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আর্থিক দুর্দশা কাটাতে ব্রিটিশ সরকার বিপুল পরিমাণ ঋণ সংগ্রহ করে । এতে জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৩০ শতাংশ বেড়ে যায় । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে এই ঋণ ছিল ২৭৪ মিলিয়ন পাউন্ড , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এটা ৮৮৪.২ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছয় ।
মূল্যবৃদ্ধি : যুদ্ধের প্রভাবে কৃষি ও শিল্পপণ্যের উৎপাদন কমলেও পণ্যের চাহিদা কমেনি । ফলে এসময় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় । ১৯১৪-১৯২০ – এর মধ্যে বস্ত্র , চিনি , লবণ কেরোসিন ইত্যাদির দাম একলাফে দ্বিগুণ হয়ে যায় ।
দরিদ্রদের দুর্দশা : কৃষি উৎপাদন হ্রাস , দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে দেশের দরিদ্র মানুষদের অবস্থা সঙ্গীন হয় । কারণ জিনিসের দাম বাড়লেও তাদের মজুরি বাড়ানো হয়নি । ফলে শ্রমিকরা তাদের উপার্জন দিয়ে এবং কৃষকরা কৃষিপণ্য বিক্রি করে জীবন কাটাতে ব্যর্থ হয় ।
কর বৃদ্ধি : কৃষক ও শ্রমিকদের কথা চিন্তা না করে ব্রিটিশ সরকার আর্থিক ভার লাঘব করতে কৃষকদের উপর করের বোঝা চাপায় এবং তা জোর করে আদায়ও শুরু হয় ।
কৃষকদের উপর অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব : কৃষকদের উপর প্রভাব ছিল এইরূপ—
খাদ্য উৎপাদন হ্রাস : আর্থিক সংকট কাটাতে সরকার খাদ্যশস্যের বদলে কৃষককে রপ্তানিযোগ্য ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনে বাধ্য করে । ফলে খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যায় ।
খাদ্যসংকট : কৃষি জমিতে খাদ্যশস্যের পরিবর্তে অর্থকরী ফসল চাষের ফলে কৃষক পরিবারে দেখা দেয় খাদ্যসংকট । দেশের বহু স্থানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ।
কর বৃদ্ধি : দেশে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার কৃষকের করের বোঝা বাড়িয়ে দেয় । বাড়তি কর আদায় করতে কৃষকদের উপর অত্যাচার বেড়ে যায় ।
মূল্যায়ন : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেশজুড়ে অর্থনেতিক সংকটের প্রভাব অনুভূত হয় । সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হয় গুজরাট সহ পশ্চিম ভারতে । এর প্রতিবাদে গুজরাটে ১১১৮ ও ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে ।
.................

