📚নবম শ্রেণির বাংলা:ভাঙার গান-কাজী নজরুল ইসলাম (MCQ+SAQ+DAQ)📚
✍️বিকল্পধর্মী প্রশ্নোত্তর:
1- 'ভাঙার গান' কবিতাটি লিখেছেন—• জসীমউদ্দীন• বন্দে আলি মিঞা • কাজী নজরুল ইসলাম• শামসুর রাহমান
• উওর : কাজী নজরুল ইসলাম
2- ভাঙার গান' কবিতার মূল কাব্যগ্রন্থ হল—• অগ্নিবীণা • বিষের বাঁশি • ভাঙার গান • সিন্ধু হিন্দোল
• উওর : ভাঙার গান
3- ভাঙার গান' কবিতাটি লেখা হয়েছিল — • ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে • ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে• ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে• ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে
• উওর : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে
4- ‘ভাঙার গান' কবিতায় ক-টি পঙক্তি আছে? • ২৬টি • ৩২টি• ৩৩টি • ৩০টি
• উওর : ৩২
5- 'ভাঙার গান' কবিতায় যে দেবতার কথা রয়েছে, তা হল- • বিষ্ণু• ব্রহ্মা• মহাদেব• কালী
• উওর : মহাদেব
6- ‘ভাঙার গান' কবিতায় যে-ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রসঙ্গ এসেছে, তার নাম- • মহাদেব • প্রতাপ সিংহ• সাজাহান• হায়দার
• উওর : হায়দার
7- 'কারার' শব্দটির অর্থ কী?
• কারাগার • কারুর • রাজপ্রাসাদ • বিচারালয়
• উওর : কারাগার
8- ‘কারার’ কপাট যা দিয়ে তৈরি, তা হলো - • লোহা দিয়ে • সোনা দিয়ে• কাঠ দিয়ে • পেতল দিয়ে
• উওর : লোহা দিয়ে
9- ভেঙে ফেল, কররে লোপাট'—এখানে 'লোপাট’ বলতে কবি বুঝিয়েছেন—• নির্মূল করা• চুরি করা• অন্যত্র সরানো• বন্ধ করা
• উওর : নির্মূল করা
10- ভাঙার গান কবিতায় কবি ভেঙে ফেলতে বলেছেন—• জেলখানা • পাষাণ-বেদী • প্রাচীন প্রাচীর• লৌহ-কপাট
• উওর : লৌহ-কপাট
11- রক্ত-জমাট পাষাণ-বেদী হল- • বলিদানের • আরাধনার • শিকল-পুজোর• উন্নয়নের
• উওর : শিকল-পুজোর
12- 'শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী।" -এখানে 'শিকল-পুজো’ বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন-• পরাধীনতা• ইংরেজ শাসন• ইংরেজ অপশাসনের প্রতি পরাধীন দেশবাসীর আনুগত্য• ইংরেজ অপশাসন
• উওর : ইংরেজ অপশাসনের প্রতি পরাধীন দেশবাসীর আনুগত্য
13- 'বিষাণ' আসলে হল— • বাদ্যযন্ত্র • যুদ্ধাস্ত্র • ডুগডুগি
• বিশেষ ধরনের অলংকার
• উওর : বাদ্যযন্ত্র
14- 'নিশান' শব্দটির অর্থ হল- • নিশানা • রাত্রি • চিহ্ন • পতাকা
• উওর : পতাকা
15- "ভগবান পরবে ফাঁসি।—কে ভগবানকে ফাঁসি পরাতে চান?• শাসক • জনগণ• বিপ্লবী• তরুন ঈশান
• উওর : শাসক
16- 'শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?— তথ্যটি হল—• গৌহ-কপাট ভেঙে ফ্যালা যায়• ভগবানকে ফাঁসি দেওয়া যায়• পাগলা ভোলাকে অবরুদ্ধ করা যায়• দেশকে স্বাধীন করা যায়
• উওর : ভগবানকে ফাঁসি দেওয়া যায়
17- সর্বনাণী/শিখায়..... কী শিক্ষা দেয়? • হীন তথ্য• ঠিক তথ্য• দীন তথ্য • অর্থহীন তথ্য
• উওর : হীন তথ্য
18- হীন তথ্য' বলতে কবি এখানে বুঝিয়েছেন - • ভুল খবর • বিকৃত সংবাদ• মিথ্যা ও বানানো কথা • কোনোটিই নয়
• উওর : মিথ্যা ও বানানো কথা
19- কবি হেঁচকা টান দিতে বলেছেন- • ভগবানকে • প্রাচীন প্রাচীরকে • মালিককে• গারদগুলিকে
• উওর : গারদগুলিকে
20- ডাক ওরে ডাক/মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে। এখানে যে-ভাবনাটি ব্যক্ত হয়েছে, তা হল-• জীবনের পথে মৃত্যুকে প্রতিষ্ঠা করা • জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়া• জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মৃত্যুকে বরণ করা • কোনোটিই নয়
• উওর : জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মৃত্যুকে বরণ করা
21- নাচে এই কাল-বোশেখি......-শূন্যস্থান পূরণ করো।
• যতসব বন্দি-শালায়• সর্বনাশী শিখায় • ভেঙে ফেল, কররে লোপাট• কাটাবি কাল বসে কি?
• উওর : কাটাবি কাল বসে কি?
22- নাচে এই কাল-বোশেখি, কাটাবি কাল বসে কি?—এখানে যে-ভাবনাটি ব্যক্ত হয়েছে, তা হল-
• কাল-বোশেখি নাচছে এমন সময় কি বসে বসে সময় কাটাবে
• প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়
• ঝাল-বোশেখি ঝড়ে চারদিক বিপর্যস্ত, এমন সময় ঘরে থাকার দিন নয়
• কোনোটিই নয়
• উওর : প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে, এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়
23- 'নাচে ওই কাল বোশেখি', এখানে 'কাল-বোশেখি' হল—• রুদ্র তান্ডবের প্রতীক• প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতীক• সময়ের পদচিহ্ন
• মুক্তিকামী মানুষের বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রতীক
• উওর : মুক্তিকামী মানুষের বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রতীক
24-'নাচে ওই’–কে নাচে? • সর্বনাশী• মুক্ত স্বাধীন • তরুণ ঈশান • কাল-বোশেখি
• উওর : কাল-বোশেখি
25- ‘ভাঙার গান' কবিতায় কবি ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে বলেছেন- • ভীম কারার• পাষাণ-বেদীর• প্রাচীরের• দুন্দুভির
• উওর : ভীম কারার
26- যত সব বন্দিশালায় ...কবি কী করতে বলেছেন?
• ধাক্কা মারতে • জল ঢালতে• আগুন জ্বালাতে • গুঁড়িয়ে দিতে
• উওর : আগুন জ্বালাতে
✍️ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
১.‘ভাঙার গান' রচনাংশটি মূলগ্রন্থে কী নামে সংকলিত হয়েছিল?
উত্তর: ‘ভাঙার গান রচনাংশটি মূলগ্রন্থে ভাঙার গান নামে সংকলিত হয়েছে।
২. “কারার ওই লৌহকপাট”-লৌহকপাট কথার অর্থ কী?
উত্তর: ‘লৌহ-কপাট' কথার অর্থ লােহার তৈরি দরজা।
৩, “কারার ওই লৌহ-কপাট/ভেঙে ফেল, কররে লােপাট”—কবি কাদের এই আহবান জানিয়েছেন?
উত্তর: পরাধীন ভারতে তরুণ বিপ্লবী বীরদের প্রতি কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন।
8, ‘কারার ওই লৌহ-কপাট’-কে কবি কেন ভেঙে ফেলতে বলেছেন?
উত্তর: স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর বিপ্লবীদের কারাগার থেকে মুক্ত করে তাদের অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করার জন্য কবি লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে বলেছেন |
৫. ‘শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী’-তে কাদের রক্ত জমাট হয়ে আছে?
উত্তর: ব্রিটিশ সরকার দ্বারা অত্যাচারিত ভারতের বীর সন্তান স্বাধীনতাসংগ্রামীদের রক্ত জমাট হয়ে আছে |
৬. “ওরে ও তরুণ ঈশান!”-“তরুণ ঈশানকে কবি কী করতে বলেছেন?
উত্তর: তরুণ ঈশানকে কবি প্রলয় বিষাণ অর্থাৎ ধবংস ঘােষণাকারী শিঙা বাজাতে বলেছেন।
৭, “ওরে ও তরুণ ঈশান!—'তরুণ ঈশান' বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর: 'তরুণ ঈশান’ বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে ভারতমাতার বীর সন্তান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বুঝিয়েছেন।
৮, “ঈশান’ শব্দের দুটি অর্থ লেখাে |
উত্তর: ঈশান’ শব্দের অর্থ শিব। অন্যদিকে, ‘ঈশান’ হল উত্তর-পূর্ব দিক, যা দশটি দিকের একটি।
9.“ওরে ও তরুণ ঈশান! /বাজা তাের প্রলয়-বিষাণ’—কবি কেন তরুণ জানকে প্রলয়-বিষাণ বাজাতে বলেছেন?
উত্তর: ইংরেজদের কারাগারে স্বদেশের মুক্তিযােদ্ধারা বন্দি থাকায় সেইসব কারাগার ভেঙে ফেলার জন্যই কবি প্রলয়-বিষাণ বাজাতে বলেছেন।
১০, “ধবংস-নিশান,/উড়ুক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদি |”—কীসের ‘ধধ্বংস- নিশান’?
উত্তর: স্বাধীনতাকামী বহু বীর বিপ্লবীকে ইংরেজ সরকার কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। সেইসব কারাগার ধবংস করে নিশান ওড়াতে হবে।
১১. “গাজনের বাজনা বাজা!”–গাজনের বাজনা’ কী?
উত্তর: চৈত্রের শেষে শিবের গাজন উৎসবের সময়ে ঢাক, ঢােল, কাঁসর, বাঁশি ইত্যাদির মিলিত বাজনা হল গাজনের বাজনা |
১২. “কে দেয় সাজা/মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?”—‘মুক্ত স্বাধীন সত্য' কী?
উত্তর: ‘মুক্ত স্বাধীন সত্য' হল স্বাধীনতা ভারতবাসীর জন্মগত অধিকার এবং তারা তা অর্জন করবেই |
১৩, “ভগবান পরবে ফঁাসি?”—‘ভগবান’ বলতে কবি কাকে বা কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর: এখানে ‘ভগবান' বলতে কবি মৃত্যুঞ্জয়ী বীর বিপ্লবীদের, যাঁরা স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের বুঝিয়েছেন।
১৪, “ভগবান পরবে ফঁাসি?”-ভগবান ফাসি পরবে কেন?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের অত্যাচারের প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনের কারণেই ‘ভগবান' অর্থাৎ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ফাসি হয়।
১৫, “শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?”—‘হীন তথ্য বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?
উত্তর: ভগবানের মতাে অমর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ফাঁসি দিয়ে তাদের স্বপ্নকে ধবংস করা যায়—এটাই হল হীন তথ্য।
১৬. “হা হা হা পায় যে হাসি”—কবির হাসি পাওয়ার কারণ কী?[মহিষাদল রাজ হাই স্কুল]
উত্তর: কবির হাসি পাওয়ার কারণ হল অত্যাচারী ইংরেজ শাসক ভগবানতুল্য মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবীদের ফাঁসি দিতে চায়।)
১৭, “ভগবান পরবে ফাসি?”-কে ভগবানকে ফাসি দিতে চায়?
উত্তর: অত্যাচারী ইংরেজ শাসক ভগবানকে ফাসি দিতে চায়।
১৮.“ওরে ও পাগলা ভােলা, /দে রে দে প্রলয়-দোলা”—‘পাগলা ভােলা’ কীভাবে প্রলয় দোলা দেবে?
উত্তর: গারদগুলাে সজোরে ধরে হ্যাচকা টান মেরে ‘পাগলা ভােলা’ প্রলয় দোলা দেবে।
১৯.‘মার হাঁক হৈদরী হক”—“হৈদী হক’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?
উত্তর: হজরত মহম্মদের জামাতা হায়দার যেমন শত্রুর উদ্দেশে হাড় হিম করা হক দিতেন, তেমন হককে বােঝানাে হয়েছে |
২০. “মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!”—কে ডাকবে?
উত্তর: ‘পাগলা ভােলা' অর্থাৎ তরুণ স্বাধীনতা সংগ্রামীরা মৃত্যুকে তাদের জীবনে ডাকবে অর্থাৎ হাসিমুখে বরণ করে নেবে।
২১. “নাচে ওই কাল-বােশেখি,”——‘কাল বােশেখি’ কীসের প্রতীক?
উত্তর: ‘কাল-বােশেখি’ অর্থাৎ কালবৈশাখী ঝড় একইসঙ্গে ধবংস ও সৃষ্টির প্রতীক ||
✍️ 3 নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর:
1.“কারার ওই লৌহকপাট/ভেঙে ফেল, কররে লােপাট'--এই আহ্বানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করাে।
উত্তর: পরাধীন ভারতকে বিদেশি শক্তির বাঁধন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কবি তরুণ বিপ্লবী শক্তিকে আহ্বান জানিয়েছেন। অত্যাচারী ইংরেজ শাসক দেশপ্রেমী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যে কারাগারে আটকে রেখেছে বা রাখতে চায় সেই সমস্ত কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন কবি।
2.“রক্ত-জমাট/শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী!'—পঙক্তিটির অন্তর্নিহিতঅর্থ বুঝিয়ে দাও |
উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষে অত্যাচারী ইংরেজ শাসক স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতীয়দের কারাগারে বন্দি করে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এই ভাবে তারা দমন করতে চেয়েছিল সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামকে | শােষক ইংরেজদের অত্যাচারে বিপ্লবীদের অনেক রক্ত ঝরেছে। কারাগারে লেগেছে সেই রক্ত। আর বিপ্লবীদের রক্ত লেগে থাকা সেই কারাগারই কবির কাছে হয়েছে দেশমাতার পূজার পাষাণ বেদি, যাতে শহিদের রক্ত জমাট হয়ে আছে।
3.“ওরে ও তরুণ ঈশান! /বাজা তাের প্রলয়-বিষাণ”—তরুণ ঈশান প্রলয় বিষাণ বাজাবে কেন?
উত্তর: ‘ঈশান’ হলেন ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিব| জরাজীর্ণকে, অশুভকে বিনাশ করার জন্য তিনি যখন প্রলয় নৃত্য করেছিলেন, তার আগে বাজিয়েছিলেন ‘বিষাণ’ অর্থাৎ শিঙা| কবি নবীন বিপ্লবীদের ঈশানের সঙ্গে তুলনা করে ইংরেজ শাসন ধবংসের বিষাণ বাজাতে বলেছেন। দেশমাতার মুক্তির জন্য যেসব ভারতসন্তান সংগ্রাম করছেন তাদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের কারাগারে বন্দি করে ইংরেজরা তাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে চাইছে। তাই তরুণ ঈশানকে অশুভ ইংরেজ শাসনের ধবংসের জন্য প্রলয় বিষাণ বাজাতে হবে।
4.ওরে ও পাগলা ভােলা”—‘পাগলা ভােলা’ কে? কবি এরকম বলেছেন কেন?১+২
উত্তর: ‘পাগলা ভােলা' কথাটির আক্ষরিক অর্থ প্রলয়ংকর মহাদেব, কিন্তু এখানে স্বাধীনতার স্বপ্নে চল তরুণদের কথা বলা হয়েছে।
শিব তার প্রলয়রূপে যেরকম অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করে, কবি প্রত্যাশা করেছেন দেশপ্রেমিক তরুণরা ঠিক সেভাবেই শক্তি ও সাহসের উন্মত্ত প্রকাশে কারাগারের গারগুলােকে হ্যাচকা টান দেবে, লৌহকপাট ভেঙে ফেলবে। এই উদ্যম, স্পর্ধা এবং সাহস আছে বলেই দেশের তরুণদের কবি ‘পাগলা ভােলা’ বলেছেন।
✍️ 5 নং প্রশ্ন উত্তর:
১. 'ভাঙার গান' রচনাটির পটভূমি উল্লেখ করে মমার্থ লেখাে।
উত্তর: ‘ভাঙার গান’ গানটি কাজী নজরুল ইসলাম অসহযােগ আন্দোলনের পটভূমিতে রচনা করেছিলেন ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে। এই গানটিতে পরাধীন দেশমাতার শৃঙ্খলমােচনের কথা বিদ্রোহের ভঙ্গিতে প্রকাশিত হয়েছে। অত্যাচারী ইংরেজ শাসক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কারারুদ্ধ করেছে। কবি সেই কারাগারের লৌহকপাট ভেঙে লােপাট করার ডাক দিয়েছেন। ইংরেজের অত্যাচারে দেশমাতার পূজার বেদি রক্তে লাল হয়ে গেছে। বিদেশি শাসকরা স্বদেশপ্রেমীদের গলায় ফাসির দড়ি পরাতে চায়। কিন্তু তারা জানে বিপ্লবী বীরদের মৃত্যু নেই, তাঁরা মৃত্যুঞ্জয়ী রুদ্র মহেশ্বর বা খ্যাপা ভােলানাথের মতাে প্রলয়নৃত্যে সমস্ত বাঁধ ভেঙে তরুণ দেশপ্রেমীরা স্বদেশকে মুক্ত করবেই। অর্থাৎ পরাধীনতার বন্ধন ছিন্ন হবে। তীব্র ঘৃণার পদাঘাতে ভেঙে পড়বে ভীমকারার তালা৷ গােটা দেশটাই আজ যেন এক কারাগার। সেই কারাগার থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কবি। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভারতবাসী এভাবেই দেশমাতাকে সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত করবে।
২. ভাঙার গান' কবিতাটিতে কবি নজরুলের কবি মানসিকতার যে পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে তা সংক্ষেপে লেখাে ।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভাঙার গান' কবিতাটি স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ মানুষের প্রতিবাদ এবং প্রতিরােধের আকাঙ্ক্ষাকেই যেন প্রকাশ করে। এই কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শাসক শ্রেণির প্রতি কবির বিদ্রোহী মনােভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কারাগারের লৌহকপাটকে ভেঙে ফেলে সেখানে থাকা ‘রক্ত-
জমাট/ শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী’-কে কবি ধ্বংস করতে বলেছেন। জেলখানার গারদগুলােয় ‘হেঁচকা টান দিতে বলেছেন | আত্মদানের মধ্যে দিয়েই কবি চেয়েছেন জীবনকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে, বলেছেন- “ডাক ওরে ডাক/মৃত্যুকে ডাক জীবনপানে। কখনওবা বলেছেন বন্দিশালায় আগুন জালিয়ে তাকে উপড়ে ফেলার জন্য। এই আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে কবি নজরুলের শুধু দুঃসাহস নয়, বরং বিদ্রোহ, সত্য ও স্বাধীনতার প্রতি আনুগত্যও প্রকাশ পেয়েছে| আপসহীন প্রতিবাদী মানসিকতায় কবি শুধু বিদ্রোহের কথা বলেননি, স্বাধীনতার জয় ঘােষণা করেছেন। গাজনের বাজনা বাজিয়ে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টির আগমনকে ঘােষণা করেছেন কবি। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেখানে জীবনের নতুন অভিষেক ঘটবে | শাসক আর শাসিতের মধ্যেকার দূরত্ব মিটে যাবে। এভাবেই ‘ভাঙার গান' কবিতাটিতে নজরুলের স্বাধীনতাপ্রিয় বিদ্রোহী মনােভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
.............

