📚 উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস:অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:অধ্যায়-৩:ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রকৃতি:নিয়মিত ও অনিয়মিত সাম্রাজ্য।📚
✍️অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর নির্বাচনধর্মী প্রশ্ন:
1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন – ( a ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( b ) উইলিয়াম পিট ( C ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ( d ) লর্ড ওয়েলেসলি।
2. রায়তওয়ারি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন – ( a ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ( b ) টমাস মনরো
( c ) ফিলিপ ফ্রান্সিস ( d ) মাউন্ট স্টুয়ার্ট এলফিনস্টোন।
3. ভারতে প্রথম রেলপথ প্রতিষ্ঠিত হয় –( a ) মহারাষ্ট্রে ( b ) পাঞ্জাবে ( c ) মাদ্রাজে ( d ) বাংলায়।
4. ‘ Poverty and Un – British Rule in India ‘ রচনা করেন–( a ) অরবিন্দ ঘোষ( b ) গান্ধিজি ( c ) দাদাভাই নওরোজি
( d ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
5. নানকিং–এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল–( a ) 1839 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1842 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1843 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1845 খ্রিস্টাব্দে।
6. 29 August , 1842 সালে চিনে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?–( a ) পিকিং–এর সন্ধি ( b ) তিয়েনসিন–এর সন্ধি
( c) নানকিং – এর সন্ধি ( d ) হোয়ামপোয়া – এর সন্ধি।
7. মাদ্রাজে ‘ফোর্ট সেন্ট জর্জ দুর্গ’ নির্মাণ করে- ( a ) ফরাসিরা ( b ) ইংরেজরা ( c ) ডাচরা ( d ) দিনেমাররা।
8. ফারুকশিয়ার ইংরেজ কোম্পানিকে ফরমান দেন–( a ) 1707 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1714 খ্রিস্টাব্দে ©1717 খ্রিস্টাব্দে
( d ) 1727 খ্রিস্টাব্দে।
9. ইংরেজ কোম্পানি কলকাতায় আশ্রয় দিয়েছিল–(a ) নারায়ণ দাসকে ( b ) রাজবল্লভকে ( c ) কৃষ্ণদাসকে
( d ) জগৎবল্লভকে।
10. পলাশির যুদ্ধ হয়েছিল 1757 খ্রিস্টাব্দের– ( a ) 23 জুন ( b ) 2 জুলাই ( c ) 12 আগস্ট ( d ) 17 সেপ্টেম্বর।
11. ভাস্কো–দা–গামা কোন্ দেশের নাবিক ছিলেন?–( a ) পোর্তুগালের ( b ) স্পেনের ( c ) ইংল্যান্ডের ( d ) ফ্রান্সের।
12. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অ্যাক্ট (1784খ্রি) কার উদ্যোগে পাস হয়?( a ) হেস্টিংসের ( b ) ক্লাইভের ( c ) পিটের
( d ) কর্নওয়ালিশের।
13. কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট স্থাপিত হয়-( a ) 1773 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1774 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1775 খ্রিস্টাব্দে( d ) 1776 খ্রিস্টাব্দে।
14. ব্রিটিশ ভারতে মোট কটি চার্টার অ্যাক্ট পাস হয়? ( a ) 2 টি ( b ) 4 টি ( c ) 6টি ( d ) 8টি।
15. প্রথম সনদ আইন কবে পাস হয়?–( a ) 1793 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1813 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1833 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1853 খ্রিস্টাব্দে।
16. কত খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের দ্বারা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার লোপ করা হয়?– ( a ) 1793 খ্রিস্টাব্দের ( b ) 1813 খ্রিস্টাব্দের ( c ) 1833 খ্রিস্টাব্দের ( d ) 1853 খ্রিস্টাব্দের।
17. ভারতের গভর্নর জেনারেল কত খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের দ্বারা ভাইসরয় ‘ উপাধিতে ভূষিত হন ?
( a ) 1784 খ্রিস্টাব্দের ( b ) 1858 খ্রিস্টাব্দের ( c ) 1861 খ্রিস্টাব্দের ( d ) 1892 খ্রিস্টাব্দের।
18. ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে নিযুক্ত হওয়ার জন্য কবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়? –
( a ) 1784 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1813 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1833 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1858 খ্রিস্টাব্দে।
19. ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ইস্পাত কাঠামো বলা হয়–( a ) পুলিশ বিভাগকে( b ) বিচার বিভাগকে
( c ) আমলাতন্ত্রকে ( d ) সামরিক বিভাগকে।
20. কে বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটান –( a ) রবার্ট ক্লাইভ ( b ) ভেরেলেস্ট ( c) ওয়ারেন হেস্টিংসে
( d ) লর্ড ওয়েলেসলি।
21. হেইলবেরি কলেজ কোথায় অবস্থিত ছিল? ( a ) কলকাতায় ( b ) মাদ্রাজে ( C ) মুম্বাইয়ে ( d ) ইংল্যান্ডে।
22. পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন – ( a ) ক্লাইভ ( b ) ভেরেলেস্ট ( c ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( d ) কর্নওয়ালিশ।
23. একশালা বন্দোবস্ত কবে চালু হয়? ( a ) 1772 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1773 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1777 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1793 খ্রিস্টাব্দে ।
24. মিরকাশিম বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন–( a) মুঙ্গেরে ( b ) দৌলতাবাদে ( e ) দেবগিরিতে ( d ) পলাশিতে।
25. মিরজাফরের মৃত্যুর পর বাংলার নবাবির সিংহাসনে বসানো হয়— (a) মিরকাশিমকে ( b ) নজমউদদৌলাকে
( c ) সিরাজউদদৌলাকে ( d ) শাহআলমকে।
26. ইংরেজরা বাংলার দেওয়ানি লাভ করেন– ( a ) 1757 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1759 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1764 খ্রিস্টাব্দে
( d ) 1765 খ্রিস্টাব্দে।
27. ইংরেজরা কোন চুক্তির দ্বারা বাংলার দেওয়ানির অধিকার লাভ করে?( a ) এলাহাবাদের প্রথম চুক্তি
( b ) এলাহাবাদের দ্বিতীয় চুক্তি ( c ) সলবাইয়ের চুক্তি ( d ) সগৌলির চুক্তি।
29. কোন্ সন্ধির দ্বারা প্রথম ইঙ্গ – মহীশূর যুদ্ধের অবসান ঘটে?( a ) মাদ্রাজের ( b ) পুনার ( c ) এলাহাবাদের
( d ) পুরন্দরের সন্ধি।
30. অমৃতসরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়–( a ) 1782 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1820 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1809 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1819 খ্রিস্টাব্দে।
31. কবে সমগ্র পাঞ্জাব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?( a ) 1802 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1809 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1846 খ্রিস্টাব্দে
( d ) 1849 খ্রিস্টাব্দে।
32. শার–প্রান্ট বিতর্ক কোন্ বন্দোবস্ত প্রবর্তনকে কেন্দ্র করে হয়েছিল? ( a ) একসালা ( b ) পাঁচসালা ( c ) দশসালা ( d ) চিরস্থায়ী।
33. ব্রিটিশরা পাঞ্জাবে কোন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেছিল?—(a) চিরস্থায়ী ( b ) রায়তওয়ারি ( c ) মহলওয়ারি ( d ) ভাইয়াচারি।
34. গ্যারান্টি প্রথা কোন্ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল?–( a ) রেলপথের প্রসার ( b ) বিনাশুল্কে বাণিজ্য ( c ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ( d ) শিল্পায়ন।
35. নজরানা পদ্ধতি প্রচলিত ছিল–( a ) ভারতে ( b ) চিনে ( c ) জাপানে ( d ) আলজেরিয়ায়।
36. পোর্তুগিজ নাবিকরা প্রথম চিনের কোন্ বন্দরে তাদের বাণিজ্য ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি পায়? ( a ) ম্যাকাও ( b ) ক্যান্টন ( c ) পোর্ট আর্থার ( d ) হংকং।
38. বক্সারের যুদ্ধের সময় মোগল সম্রাট কে ছিলেন? ( a ) ফারুকশিয়ার ( b ) ঔরঙ্গজেব ( c ) দ্বিতীয় শাহ আলম ( d ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।
39. পলাশির যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন–( a ) রবার্ট ক্লাইভ ( b ) কাউন্ট লালি ( c ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( d ) জন কার্টিয়ার।
40. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত–এর প্রবর্তক ছিলেন– ( a ) লর্ড কর্নওয়ালিশ ( b ) ওয়ারেন হেস্টিংস ( c ) লর্ড মিন্টো ( d ) বারওয়েল।
42. ভারতে পুলিশ বিভাগ চালু করেন-( a ) লর্ড ক্লাইভ ( b ) লর্ড ওয়েলেসলি © লর্ড হেস্টিংস ( d ) লর্ড কর্নওয়ালিশ।
43. দ্বিতীয় আফিমের যুদ্ধ শুরু হয়–( a ) 1856 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1840 খ্রিস্টাব্দে © 1860 খ্রিস্টাব্দে (d ) 1838 খ্রিস্টাব্দে।
44. শিমনোশেকির চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ( a ) রুশ–জাপান (b) চিন–জাপান ( c ) রুশ–চিন ( d ) ইংরেজ-চিন।
45. মহলওয়ারি ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়–( a ) 1832 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1820 খ্রিস্টাব্দে ( c) 1822 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1818 খ্রিস্টাব্দে।
46. নানকিং–এর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন–( a ) চিন সরকার ও ইংরেজ ( b ) জাপান ও ইংরেজ ( c ) ফ্রান্স ও চিন সরকার ( d ) রাশিয়া ও চিন সরকার।
47. চিন ও ইউরোপের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়– ( a ) ম্যাকাও ( b ) সাংহাই ( c ) ক্যান্টন
( d ) নানকিং–বন্দরের মধ্য দিয়ে।
48. লর্ড কর্নওয়ালিশ প্রবর্তিত ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা হল–( a) দশসালা ব্যবস্থা ( b) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ( c ) পাঁচসালা ব্যবস্থা ( d ) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত ।
বিকল্প সমূহ :
( a ) A ঠিক এবং B , C , D ভুল ( b ) A , C ঠিক এবং B , D ভুল ( c ) A , B ঠিক এবং C , D ভুল
( d ) A , B , C ঠিক এবং D ভুল।
49. রেগুলেটিং আইন পাস হয়েছিল–( a ) 1770 খ্রিস্টাব্দে ( b ) 1771 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1773 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1774 খ্রিস্টাব্দে।
50. বোর্ড অফ রেভিনিউ গঠন করেন—( a ) লর্ড লিটন ( b ) লর্ড রিপন ( c ) লর্ড কর্নওয়ালিশ ( d ) ওয়ারেন হেস্টিংস।
51. বক্সারের যুদ্ধে কে জড়িত ছিলেন না? ( a ) সিরাজউদদৌলা ( b ) মিরকাশিম ( c ) দ্বিতীয় শাহ আলম ( d ) সুজাউদদৌলা।
52. ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল’–এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন- ( a ) প্রফুল্লচন্দ্র রায় ( b ) জগদীশচন্দ্র বসু ( c ) হোমি জাহাঙ্গির ভাবা ( d ) দ্বারকানাথ ঠাকুর।
53. ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন না–( a ) ক্লাইভ ( b ) স্যান্ডার্স ( c ) ডুপ্লে ( d ) আয়ারকুট।
54. সূর্যাস্ত আইনটি জড়িত–( a ) রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত ( b ) মহলওয়ারি বন্দোবস্ত ( c ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
( d ) ভাইয়াচারি বন্দোবন্ত।
55. বিদারার যুদ্ধে ইংরেজদের হাতে পরাজিত হয়–(a) ফরাসিরা (b) পোর্তুগিজরা (c) দিনেমাররা (d) ওলন্দাজরা।
56. শিক্ষার উন্নতিকল্পে বছরে এক লক্ষ টাকা খরচের কথা সরকার কোন্ আইনে বলেছিল? ( a ) কাউন্সিল আইনে ( b ) রেগুলেটিং আইনে ( c ) চার্টার আইনে ( d ) পিটের ভারত শাসন আইনে।
57. ‘ভারতের ম্যাকিয়াভেলি’ নামে যিনি পরিচিত ছিলেন–( a ) দ্বিতীয় বাজীরাও ( b ) নানা ফড়নবীশ ( c ) নারায়ণ রাও ( d ) রঘুনাথ রাও।
58. হিতবাদের উদ্ভাবক ছিলেন—( a ) জেমস মিল ( b ) জেরেমি বেত্থাম ( c ) জুডিথ ব্রাউন ( d ) জন অস্টিন।
59. কো–হং ছিল একটি–( a ) সামরিক সংগঠন ( b ) শিল্প সংগঠন ( c ) শ্রমিক সংগঠন ( d ) বণিক সংগঠন।
60. স্বাধীন হায়দরাবাদ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়–(a) 1722 খ্রিস্টাব্দে (b) 1724 খ্রিস্টাব্দে ( c ) 1726 খ্রিস্টাব্দে ( d ) 1728 খ্রিস্টাব্দে।
62. জেমস মিল ছিলেন একজন–( a ) উদারবাদী ( b ) উপযোগবাদী ( c ) সমাজবাদী ( d ) ফ্যাসিবাদী।
63. কবে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটে?–(a) 1770 খ্রিস্টাব্দে (b) 1771 খ্রিস্টাব্দে (c) 1772 খ্রিস্টাব্দে (d) 1773 খ্রিস্টাব্দে।
64. শিমনোসেকির সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়–( a ) 1894 খ্রিস্টাব্দে (b) 1895 খ্রিস্টাব্দে (c) 1896 খ্রিস্টাব্দে (d) 1897 খ্রিস্টাব্দে।
65. ভারতীয় রেলপথের জনক/ভারতে রেলপথ প্রথম প্রবর্তন করেছিলেন–(a) ওয়ারেন হেস্টিংস ( b) লর্ড ডালহৌসি ( c ) লর্ড কর্নওয়ালিশ ( d ) লর্ড ওয়েলেসলি।
66. বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন–( a ) বেন্টিঙ্ক ( b ) ক্যানিং ( c ) ডালহৌসি ( d) ওয়ারেন হেস্টিস।
✍️অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর: [মান ১]
1. কাকে বলা হয় কোড কর্নওয়ালিশ’?
Ans. কোম্পানির দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসৎ কর্মচারীদের বাগে আনতে এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য লর্ড কর্নওয়ালিশ ১৭৯৩ খ্রি: নির্দিষ্ট কিছু কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করেন। এটাই কোড কর্নওয়ালিশ নামে বিখ্যাত।
2. কে, কবে বেঙ্গল কেমিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans. প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৯০১ সালে কলকাতায় গড়ে তোলেন বেঙ্গল কেমিক্যালস।
3. কবে, কাদের মধ্যে প্রথম অহিফেন যুদ্ধ হয়?
Ans. ১৮৩৯-১৮৪২ সাল পর্যন্ত ব্রিটেন ও চিনের মধ্যে হয় প্রথম অহিফেন যুদ্ধ।
4. কবে স্বাক্ষরিত হয় পুরন্দরের সন্ধি?
Ans. ১৭৭৬ সালে মারাঠা পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও ও হেস্টিংসের মধ্যে হয়েছিল। পুরন্দরের সন্ধি।
5. কবে হয় বেসিনের সন্ধি? এর দু’টি শর্ত লেখো।
Ans. দ্বিতীয় বাজিরাও ও ইংরেজদের মধ্যে ১৮০২ সালে হয় বেসিনের সন্ধি। দুটি শর্ত : (i) পেশোয়া অধীনতামূলক মিত্ৰতা নীতি মেনে নেন। (ii) পুনায় ইংরেজ সেনাবাহিনী নিয়োজিত হয়।
6. এজেন্সি ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো?
Ans. ১৭৫৩-৭৫ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধীনস্থ কর্মচারীদের এজেন্ট বানিয়ে তাদের থেকেই পণ্যসামগ্রী কিনত। এটাই এজেন্সি ব্যবস্থা।
7. ব্রিটিশ ভারতে সম্পদের বহির্গমন” কাকে বলা হতো?
Ans. ব্রিটিশ শাসকরা প্রচুর ভারতীয় সম্পদ শোষণ করে ইংল্যান্ডে নিয়ে যান। এটাই সম্পদের বহির্গমন’ বলে চিহ্নিত।
8. গ্যারান্টি ব্যবস্থা কী?
Ans. এদেশে রেলপথ নির্মাণে ইংরেজ কোম্পানিকে প্রলুব্ধ করার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাদের নিখরচায় জমি, বাৎসরিক বিনিয়োগে নির্দিষ্ট সুদ প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে আশ্বাস দেয়। এটাই গ্যারান্টি ব্যবস্থা।
9. কে, কবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন?
Ans. ১৭৯৩ -এর ২২ মার্চ বাংলা, বিহার, ওড়িশায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন লর্ড কর্নওয়ালিশ।
10. অব-শিল্পায়ন বলতে কী বোঝো?
Ans. ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন ভারতের বাজারে প্রভূত পরিমাণে ব্রিটিশ শিল্পপণ্য চলে আসায় প্রতিযোগিতার জেরে বাংলার কুটিরশিল্প ধ্বংস হয়। এটাই অব-শিল্পায়ন।
11. এদেশে কোথায় প্রথম পাটকল স্থাপিত হয়?
Ans. ১৮৫৫ খ্রি: ব্রিটিশ কর্মচারী জর্জ অকল্যান্ড রিষড়ায় দেশের প্রথম পাটকল গড়ে তোলেন।
12. দেশে কবে প্রথম কাপড় কল প্রতিষ্ঠিত হয়?
Ans. পারসি শিল্পপতি কাউয়াসজি নানাভাই দাভর বোম্বাইয়ে ১৮৫৩ খ্রি: সর্বপ্রথম কাপড় কল গড়ে তোলেন।
13. ইংরেজরা কার কাছ থেকে, কবে দেওয়ানি লাভ করে?
Ans. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে।
14. দস্তক বলতে কী বোঝো?
Ans. মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে বার্ষিক তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার যে অধিকার দেন তা দস্তক নামে পরিচিত।
15. কাও-তাও প্রথা কী?
Ans. কোনো বিদেশি চিন সম্রাটের দর্শন পেলে তাকে সম্রাটের সামনে ভূমি পর্যন্ত নত হয়ে ষষ্ঠাঙ্গে প্রণাম জানাতে হতো—এই প্রথাই কাও-তাও প্রথা নামে পরিচিত।
16. কে, কবে ভ্রাম্যমাণ কমিটি নিয়োগ করেন?
Ans. ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে নিয়োগ করেন।
17. কে, কবে, কী উদ্দেশ্যে আমিনি কমিশন গঠন করেন?
Ans. ওয়ারেন হেস্টিংস-এর উদ্যোগে রাজস্ব সম্পর্কিত তথ্যের জন্য ১৮৭৬ সালে গঠিত হয়।
18. বিদরার যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়?
Ans. ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজদের সাথে ইংরেজদের। ওলন্দাজরা পরাজিত হয়।
19. কবে, কাদের মধ্যে বন্দিবাসের যুদ্ধ হয়?
Ans. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের ইংরেজ ও ফরাসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে হয়।
20. দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝো?
Ans. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর আইনগত দিক বাংলার নবাবের হাতে থাকলেও শাসনক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে। তা দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা নামে পরিচিত।
21. কবে, কার দ্বারা দ্বৈত শাসনের অবসান হয়?
Ans. ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস-এর দ্বারা।
22. সলবাইয়ের সন্ধি কবে, কাদের মধ্যে হয়?
Ans. ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের সাথে মারাঠা পেশোয়াদের।
23. স্যার টমাস রো কবে ভারতে আসেন?
Ans. ব্রিটিশরাজ প্রথম জেমসের দূত টমাস রো ১৬১৫ খ্রি: জাহাঙ্গিরের রাজদরবারে আসেন। মোগল সম্রাটের থেকে বাণিজ্যিক সুযোগ লাভই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
24. ‘অন্ধকূপ হত্যা’ বলতে কী বোঝো?
Ans. ব্রিটিশ কর্মচারী হলওয়েল -এর বিবরণে প্রকাশ, ১৭৫৬ সালে সিরাজ-উদ-দৌলার কলকাতা অভিযানের পর তার নির্দেশে বন্দি ১৪৬ জন ব্রিটিশ সৈন্যকে ১৮ x ১৪ x ১০ ফুট আয়তন বিশিষ্ট অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। এতে ১২৩ জন দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। একে বলা হয় অন্ধকূপ হত্যা।
25. কোন আইনে ‘ভাইসরয়’ পদের উদ্ভব হয়? প্রথম ভাইসরয় কে?
Ans. ১৮৫৮ -এর ভারত শাসন আইনে ভাইসরয় পদের উদ্ভব হয়। ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
26.বার্থোলোমিউ দিয়াজ কোন দেশের নাবিক ছিলেন?
→ পর্তুগাল।
27. ফারুক শিয়ারের ফরমান কবে জারি করা হয়?
→ 1717 খ্রিস্টাব্দে।
28. কে অন্ধকূপ হত্যা বিষয়টি উদ্ভব করেন?
→ হলওয়েল।
29. বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
→ মুর্শিদকুলি খাঁ।
30. বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
→ মীর কাসিম।
31. আলিনগরের সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
→ 1757 খ্রিস্টাব্দে 9 ফেব্রুয়ারি।
32. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক কে ছিলেন?
→ লর্ড ক্লাইভ বা রবাট ক্লাইভ।
33. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা অবসান কে, কবে ঘটান?
→ লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
→ 1772 খ্রিস্টাব্দে।
34. বেসিনের সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
→1802 খ্রিস্টাব্দে।
35. অমৃতসরের সন্ধি কবে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
→1809 খ্রিস্টাব্দে।
→রঞ্জিত সিং ও বড়লাট মিন্টোর প্রতিনিধি চার্লস মেটকাফ এর সঙ্গে।
36. ভারতের মেকিয়াভেলি কাকে বলা হয়?
→নানা ফড়নবিশ কে।
37. ভারতবর্ষের আমলাতন্ত্রের জনক কাকে বলা হয়?
→ লর্ড কর্নওয়ালিস কে।
38. সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা কে চালু করেন?
→ লর্ড কর্নওয়ালিস।
39. পলাশীর যুদ্ধ কবে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
→1757 খ্রিস্টাব্দের 23 জুন।
→ নবাব সিরাজ দৌলার সঙ্গে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির।
40. বেঙ্গল কেমিক্যাল কে প্রতিষ্ঠাতা করেন এবং কত সালে?
→ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র রায়।
→1901 সালে।
41. (76 এর) মন্বন্তরের সময় বাংলার নবাব ও গভর্নর কে ছিলেন?
→ বাংলার নবাবছিলেন নজমউদ্দৌলা।
→ বাংলার গভর্নর ছিলেন লর্ড কাটিয়ার।
42. কে কবে ভারতবর্ষে ভূমি রাজস্ব বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন?
→ লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
→ 1773 খ্রিস্টাব্দে।
43. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে, কবে প্রবর্তন করেন?
→ লর্ড কর্নওয়ালিস।
→ 1793 খ্রিস্টাব্দে।
44. বোর্ড অফ রেভিনিউ গঠন করে কে কবে গঠন করেন?
→ লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
→ 1776 সালে।
45. কারা, কবে, কোথায় রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন?
→ ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার রেড ও টমাস মনরো।
→ 1802 খ্রিস্টাব্দে।
→ বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির বেশিরভাগ অঞ্চলে।
46. কে কবে কোথায় মহলওয়ারি বন্দোবস্ত চালু করেন?
→ এলফিনস্টোন।
→ 1822 খ্রিস্টাব্দে।
→ গাঙ্গেয় উপত্যকায় মহলওয়ারি বন্দোবস্ত চালু করেন।
47. কারা, কবে, কোথায় ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত চালু করেন?
→ এলফিনস্টোন ও ম্যাকেনজির প্রচেষ্টায়।
→ 1824 খ্রিস্টাব্দে।
→ পাঞ্জাবে ভাইয়াচারী বন্দোবস্ত চালু করেন।
48. ভারতবর্ষে আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা কে গড়ে তোলেন?
→লর্ড কর্নওয়ালিস।
49. কবে কোথায় প্রথম পাটকল স্থাপিত হয়?
→1853 খ্রিস্টাব্দে।
→ হুগলির রিষড়ায়।
50. কাও তাও প্রথা কি?
→ কোন বিদেশে, চীন সম্রাটের সামনে এলে সেই পথিক সম্রাটের কাছে মাথা নত করে প্রণাম করবে। এটাই কাও তাও প্রথা নামে পরিচিত।
51. কো হং প্রথা কি?
→ চীনের বণিক গোষ্ঠী কো হং নামে একটি বাণিজ্যিক নিগোম গঠন করেন। 1720 খ্রিস্টাব্দে এই বাণিজ্যিক কো হং প্রথা নামে পরিচিত।
52. আলজেরিয়ায় কারা প্রথম উপনিবেশ গড়ে তোলেন?
→ ফরাসিরা।
53. সূর্যাস্ত আইন কী?
→ লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল সূর্যাস্ত আইন। এই আইন অনুসারে যদি কোনো জমিদার নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারী কোষাগারে রাজস্ব জমা দিতে না পারে তাহলে, তার জমি নিলামে উঠতো। এই আইনই সূর্যাস্ত আইন নামে পরিচিত।
54. সম্পদের নির্গমন বা বহিঃগমন বলতে কি বোঝো?
→ পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে, ইংরেজি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারী ভারত থেকে প্রচুর অর্থ, সম্পদ নিয়ে যেতে থাকে। এই ঘটনা সম্পদের নির্গমন নামে পরিচিত।
55. অবশিল্পায়ন বলতে কী বোঝো?
→ উপনিবেশিক অর্থনৈতিক প্রভাবে ভারতের বস্ত্র শিল্প ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। এভাবে কোন শিল্প যদি ধ্বংস প্রাপ্ত বা কোন নতুন শিল্প যদি গড়ে না ওঠে তবে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে অবশিল্পায়ন বলে।
56. আধুনিক পাঞ্জাবের জনক কাকে বলা হয়?
→ লর্ড ডালহৌসি।
57. জেমস মিল কে ছিলেন?
→ জেমস মিল ছিলেন একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং দার্শনিক।
58. চীনের কয়েকটি অসম চুক্তির নাম লেখ?
→ নানকিং এর সন্ধি, বগের সন্ধি, পিকিং এর সন্ধি প্রভৃতি।
59. কোন যুদ্ধের মাধ্যমে চীনে ক্যান্টন বাণিজ্যের অবসান ঘটে?
→ প্রথম আফিমের যুদ্ধ।
60. বক্সারের যুদ্ধ কবে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
→1764 খ্রিস্টাব্দে 8 অক্টোবর।
→ইংরেজদের সঙ্গে বাংলার নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের মিলিত জোটের সঙ্গে।
61. কোন যুদ্ধে টিপু সুলতান পরাজিত ও নিহত হয়?
→1799 সালের চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে।
62. মাদ্রাজের সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
→ 1769 খ্রিস্টাব্দের মাদ্রাজের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
63. ব্যাঙ্গালুরু সন্ধি কবে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
→ 1784 খ্রিস্টাব্দে।
→ ইংরেজ ও টিপু সুলতানের মধ্যে।
64. অযোধ্যা রাজ্যের প্রতিষ্ঠা কে ছিলেন?
→ 1772 খ্রিস্টাব্দে সাজাত খাঁন।
65. কোন যুদ্ধের পর কাদের মধ্যে তিয়েন সিনের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়?
→ দ্বিতীয় আফিমের যুদ্ধের পর।
→ 1858 খ্রিস্টাব্দে চীন এবং ইঙ্গ ফরাসির শক্তির মাধ্যে এই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।
66. ভারত শাসন আইন কবে পাস হয়? এই আইনের একটি শর্ত লেখ?
→ 1858 খ্রিস্টাব্দে 2 অক্টোবর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত শাসন আইন পাস হয়। এই আইনের একটি শর্ত হলো–
i) এই আইন দ্বারা ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
67. সিরাজউদ্দৌলা কবে কলকাতা আক্রমণ ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করে?
→ 1756 খ্রিস্টাব্দের 20 জুন।
68. কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতির নাম কি?
→ স্যার এলিজা ইম্পে।
69. ল অফ নেশন গ্রন্থটি কে লেখেন?
→ জেমস মিল।
70. ইকোনমিক হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
→ রমেশচন্দ্র দত্ত।
71. ভারতে প্রথম কত খ্রিস্টাব্দে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয়?
→ 1853 খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত। 23 মাইল।
72. কর্নওয়ালিস কোড কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
→ 1793 সালে।
73. হিতবাদের উদ্ভাবক কে ছিলেন?
→ জেরেসি বেনথাম।
74. বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতির নাম কি ছিল?
→ হেক্টর মনরো
75. রেগুলেটিং অ্যাক্ট আইন কবে পাস হয়?
→ 1773 খ্রিস্টাব্দে।
76. পিটের ভারত শাসন আইন কবে পাস হয়?
→ 1784 খ্রিস্টাব্দে।
77. শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি কবে কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
→ 1792 সালে।
→ টিপু সুলতান ও ইংরেজদের মধ্যে।
78. তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়?
→ 1761 সালে।
→ ইংরেজ ও মারাঠাদের মধ্যে।
79. চিন কুলিচ খাঁ কোন সম্রাটের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ছিলেন?
→ মুহাম্মদ শাহ।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর:
১.ক্যান্টন বাণিজ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল ? এই বাণিজ্যের অবসান কেনো হয় ?
Ans:
সূচনা : এশিয়া মহাদেশে আয়তনে এবং জনসংখ্যায় বৃহত্তম একটি রাষ্ট্র চিন যেখানে বাণিজ্যের অন্যতম দিক ছিল ক্যান্টন বাণিজ্য । চিনে বিদেশি বণিকের জন্য উন্মুক্ত একমাত্র বন্দর ক্যান্টনকে কেন্দ্র করে এক পৃথক বাণিজ্যপ্রথা গড়ে উঠেছিল যা ক্যান্টন বাণিজ্য নামে পরিচিত ।
বৈশিষ্ট্য : ক্যান্টন বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল এইরকম—
রুদ্ধদ্বার নীতি : রুদ্ধদ্বার নীতি অনুযায়ী বিদেশি বণিকরা চিনা ভাষা ও আদবকায়দা শিখতে পারত না । চিনের ফৌজদারি আইন ও বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য ছিল বিদেশি বণিকরা । এছাড়া কুঠিতে যে কোনো মহিলা ও আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল ।
মূল শহরে প্রবেশ নিষিদ্ধ : শহরের মূল প্রবেশদ্বারের বাইরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বণিকরা বসবাস করত । তারা শহরে প্রবেশ করতে পারত না । ক্যান্টন বন্দরে বিদেশি বণিকরা স্ত্রী ও সন্তানদের রাখতে পারত না ।
কো – হং প্রথা : বিদেশি বণিকরা ক্যান্টন বন্দরে স্বাধীনভাবে বা সরাসরি বাণিজ্যে অংশ নিতে পারত না । চিনা সরকার ‘ কো – হং ‘ নামক বণিক সংঘকে ক্যান্টন বন্দরে একচেটিয়া বাণিজ্য করতে দিত । বিদেশি বণিকদেরও কো – হং বণিকদের থেকেই পণ্য কিনতে হতো ।
কো – হংদের দুর্নীতি : কো – হং বণিকদের দুর্নীতির অন্ত ছিল না । তারা চিনা রাজ দরবার , আদালত এবং শুষ্ক অধিকর্তাকে উৎকোচ দিত । বাণিজ্যের বেশিরভাগ মুনাফা তারাই আত্মসাৎ করত । বিদেশিদের বাণিজ্যের শর্তও কো – হং বণিকরা নির্ধারণ করত ।
ব্যক্তিগত বাণিজ্য : চিনের ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশ সহ ইউরোপীয়রা নানা ধরনের ব্যক্তিগত বাণিজ্যে জড়িত ছিল । এর জন্য চিন সরকারের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে হতো না ।
ইংরেজ বণিকদের প্রাধান্য : ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশ বণিকদের প্রাধান্য ছিল । এর মধ্যে চা – এর বাণিজ্য ছিল উল্লেখযোগ্য । চিনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের এই বাণিজ্যকে বলা হতো ‘ দেশীয় বাণিজ্য ‘ ।
ক্যান্টন বাণিজ্য অবসানের কারণ : কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে নয় একাধিক কারণের সমন্বয়ে ক্যান্টন বাণিজ্য ধীরে ধীরে অবসানের দিকে এগিয়ে যায় । একারণ ছিল এইরূপ —
বাণিজ্যিক কার্যকলাপ : ক্যান্টনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বিদেশি শক্তিসমূহ সচেষ্ট হয়েছিল । কিন্তু চিন বিদেশিদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন তো দূরের কথা উপরন্তু সবরকম বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেয় ।
আফিম যুদ্ধ : উনিশ শতকের প্রথম দিকে চোরাপথে ব্রিটিশ বণিকরা চিনে আফিম পাঠাতে থাকে । আফিম ব্যাবসাকে কেন্দ্র করে চিন ও ব্রিটেনের মধ্যে হয় প্রথম আফি যুদ্ধ । এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ক্যান্টন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে ।
অন্যান্য বন্দরের উত্থান : ১৯৪২ – এর নানকিং চুক্তির মাধ্যমে সাংহাই , নানকিং বন্দরে বিদেশিদের প্রবেশ উন্মুক্ত হয় । ফলে বিদেশি বাণিজ্যে ক্যান্টন একাধিপত্য হারায় । ১৮৫৯ সালে ক্যান্টন বাণিজ্য শপিং দ্বীপে স্থানান্তরিত হয় । ১৮৬৬ – এর মধ্যে সব বিদেশি শক্তি ক্যান্টন থেকে ব্যাবসা সরিয়ে নেয় । ক্রমে ক্যান্টন বাণিজ্য প্রথার অবসান ঘটে ।
২. ভারতে রেলপথ বিস্তারের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো ।
অথবা , ভারতে কে , কবে রেলপথ স্থাপন করেন ? রেলপথ স্থাপনের বিভিন্ন উদ্দেশ্য কী ছিল ?
Ans:
রেলপথের স্থাপনা : ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনকালে ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম রেলপথ স্থাপনের প্রস্তাব ওঠে , যার শেষ পরিণতি অর্থাৎ ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত রেলপথ নির্মিত হয় ।
রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য : নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে কোম্পানি ভারতে রেলপথ স্থাপন করে । উদ্দেশ্যগুলি হলো—
ডালহৌসির উদ্দেশ্য : ডালহৌসির মতে , ভারতের দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত সেনাবাহিনী পাঠানো , যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে বাণিজ্য ব্যবস্থার সম্প্রসারণে রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ।
পুঁজি বিনিয়োগ : শিল্পবিপ্লবের ফলে ব্রিটিশ শিল্পপতিরা বিপুল পরিমাণ পুঁজির মালিক হয়ে ওঠে । তারা ভারতে রেলপথ নির্মাণে মূলধন বিনিয়োগ করতে থাকে । কারণ এই বিনিয়োগ তাদের কাছে ছিল প্রচুর মুনাফা লাভের মাধ্যম ।
কাঁচামাল রপ্তানি : ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের দরুন প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দ্রুত সরবরাহ করার জন্য প্রয়োজন ছিল রেলপথের ন্যায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা । ড . সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেছেন— “ এই সব লাভের লোভই ছিল আসল কথা , এদেশের অর্থনীতির আধুনিকীকরণ মোটেই নয় । ”
বিলেতি পণ্যের সরবরাহ : ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের ফলে উৎপাদিত বিপুল পণ্যসামগ্রীর বিক্রির জন্য প্রয়োজন ছিল ভারতের মতো বৃহত্তর বাজার । ভারতের অভ্যন্তরে দূর দুরান্তে এই পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবার জন্য প্রয়োজন ছিল উন্নত রেল যোগাযোগের ।
রাজনৈতিক প্রয়োজন : বিশাল ভারতীয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক তদারকির জন্য প্রয়োজন ছিল উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার । আর রেলপথ সেসব অভাব পূরণে সক্ষম ছিল ।
সামরিক উদ্দেশ্য : ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দিলে দ্রুত সৈন্যবাহিনী পাঠানোর জন্য প্রয়োজন ছিল উন্নত রেল যোগাযোগ ।
অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য : শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত দ্রব্য দ্রুত ভারতের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেবার জন্য অন্যতম মাধ্যম ছিল রেলপথ ।
ভারতে রেলপথ স্থাপনের ফলাফল / প্রভাব : ভারতীয় উপনিবেশিক অর্থনীতিতে রেলপথ নির্মাণে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল এইরকম –
প্রশাসনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা : ভারতে রেলপথ বিস্তারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় । ফলে দেশের বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রশাসনিক ঐক্য গড়ে ওঠে ও এদেশে ব্রিটিশ শাসনের ভীত আরও শক্ত হয় ।
পরিবহণ বৃদ্ধি : রেল ব্যবস্থা প্রসারের ফলে ভারতে মানুষ ও পণ্য উভয় পরিবহণের কাজে যোগযোগের মাধ্যম বৃদ্ধি পায় ।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বৃদ্ধি : রেলপথের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারগুলির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং এক অঞ্চলের পণ্য অন্য অঞ্চলে সহজেই সরবরাহ করা সম্ভব হয় ।
ভাষা , ধর্ম ও গোষ্ঠীগত বিভেদের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে রেলপথের প্রসারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও মতামতের আদানপ্রদান দ্বারা জাতীয় ঐক্য ও জাতীয়তাবোধ বৃদ্ধি পায় ।
৩. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
Ans:
সূচনা : কৃষিপ্রধান দেশ ভারতবর্ষের অর্থনীতি সুপ্রাচীন কাল থেকেই কৃষিনির্ভর । রাষ্ট্রীয় আয়ের সিংহভাগ আদায় হয় ভূমিরাজস্ব থেকে । কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে কৃষককুলের স্বার্থ এদেশে চিরকালই অবহেলিত । কোম্পানির আমলে কৃষক সম্প্রদায় আরও শোষিত হয় ভূমিরাজস্বের মাধ্যমে ।
হেস্টিংস – এর পদক্ষেপ : লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস – এর শাসনকালকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলের ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার পরীক্ষা – নিরীক্ষার যুগ বলা হয়ে থাকে । ১৭৭২ খ্রি : তিনি জমি ইজারাদারদের নিলামে দেবার জন্য ‘ ভ্রাম্যমাণ ‘ কমিটি গঠন করেন ।
পাঁচসালা বন্দোবস্ত : ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোম্পানির আমলে প্রথম তাই এই ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্তকে বলা হয় পাঁচসালা বন্দোবস্ত বা ইজারাদারি বন্দোবস্ত । এই বন্দোবস্ত অনুসারে জমি পাঁচ বছরের জন্য বন্দোবস্ত করা হতো ।
একসালা বন্দোবস্ত : পাঁচসালা বন্দোবস্তের বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিলে তার অবসানে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত – এর প্রবর্তন করেন । হেস্টিংস আমিনি কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ১৯৭৭ খ্রি .
দশসালা বন্দোবস্ত : লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস – এর পরবর্তীতে লর্ড কর্নওয়াি গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব নেবার পর কৃষির উন্নতি , প্রজাপীড়ন বন্ধ করার জন্য এবং কোম্পানির বাৎসরিক আয়ের নিশ্চয়তা দান করতে ১৭৮৯ খ্রি : বাংলায় , ১৭৯০ খ্রি : উড়িষ্যায় দশ বছরের জন্য যে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত করেন তা দশসালা বন্দোবস্ত নামে পরিচিত ।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ – এর পর পাকাপাকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ১৭৯০ খ্রি :। এইসময় লর্ড কর্নওয়ালিশ জমিদারদের সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে এক ভূমিবন্দোবস্ত করেন । এই ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা অনুসারে স্থির হয় জমিদারগণ নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে ভূমিরাজস্ব প্রদান করতে বাধ্য থাকবে । তা না করতে পারলে তাদের জমিদারি স্বত্ব বাজেয়াপ্ত হবে । এছাড়া স্থির হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয় – এর সময়েও রাজস্ব মকুব হবে না , জমিদাররা ইচ্ছামতো জমিদান বা বিক্রয় ও বন্ধক রাখতে পারবে ।
রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত : ১৮২০ খ্রি : ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার রিড ও টমাস মনরোর উদ্যোগে ভারতের দক্ষিণ ও দক্ষিণ – পশ্চিম অঞ্চলে যে ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্তু প্রবর্তন করা হয় তা রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত । এই বন্দোবস্ত ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতো । এই বন্দোবস্ত অনুসারে কোম্পানি সরাসরি জমিদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ।
মহলওয়ারি বন্দোবস্ত : ১৮২২ খ্রি : এলফিনস্টোন ভারতবর্ষের উত্তর – পশ্চিম সীমান্ত ও গাঙ্গেয় উপত্যকা অঞ্চলে কিছু কিছু গ্রাম নিয়ে একটি মহল বা তালুক সৃষ্টি করে ইজারা দেওয়ার যে রীতির প্রচলন ঘটান তা মহলওয়ারি বন্দোবস্ত নামে পরিচিত ।
৪. পলাশি ও বক্সার যুদ্ধের ফলাফলের তুলনামূলক আলোচনা করো ।
Ans:
পলাশি যুদ্ধের ফলাফল : ঐতিহাসিক ম্যালেসন বলেছেন , “ পলাশির যুদ্ধের মতো আর কোনো যুদ্ধের ফলাফল এত ব্যাপক ও স্থায়ী হয়নি । ” এই যুদ্ধের ফলে –
কোম্পানির সার্বভৌমত্ব : পলাশির যুদ্ধে জয়লাভ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি । ভারতে কোম্পানির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে ।
রাজনীতিতে প্রাধান্য : এই যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক পুতুলে পরিণত হন । ক্ষেত্রে প্রকৃত নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয় কোম্পানি ।
প্রশাসনিক শূন্যতা : পলাশির যুদ্ধে বাংলার নবাবের পরাজয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয় । বাংলায় দেখা দেয় প্রশাসনিক শূন্যতা । কোম্পানি ইচ্ছামতো ব্যক্তিকে নবাব পদে বসায় ।
একচেটিয়া বাণিজ্য : পলাশির যুদ্ধে জিতে কোম্পানি দস্তক বা বিনাশুল্কে বাণিজ্যিক অধিকার প্রয়োগ করে বাংলার বাণিজ্যে একচেটিয়া প্রাধান্য স্থাপন করে । ধ্বংস হয় দেশীয় ব্যাবসাবাণিজ্য ।
বাংলার পরাধীনতা : পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজ – উদ – দৌলার পতনের ফলে বাংলা পরাধীন হয়ে পড়ে । ইংরেজরা মিরজাফরকে সিংহাসনে বসিয়ে নিজেরা সিংহাসনের পশ্চাৎ শক্তিতে পরিণত হয় ।
বক্সার যুদ্ধের ফলাফল : বক্সার যুদ্ধ ( ১৭৬৪ ) প্রসঙ্গে জেমস স্টিফেন বলেছেন , “ ভারতে ব্রিটিশ শক্তির উৎস হিসেবে বক্সারকে গণ্য করা হয় । ” এর ফলে—
ভাগ্য নির্ণায়ক যুদ্ধ : বক্সারের যুদ্ধ ছিল ভারত ইতিহাসের ভাগ্য নির্ণায়ক যুদ্ধ । যে কারণে ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র বলেছেন , “ এটি ছিল ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক নিষ্পত্তিমূলক নির্ণায়ক । ”
বাংলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির পথ থেকে সব বাধা দূর হলো । বাংলায় কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ হলো সহজ ।
উত্তর ভারতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর কোম্পানি উত্তর ভারতে নজর দেয় । অযোধ্যার নবাব কোম্পানির অনুগত হন । উত্তর ভারতে কোম্পানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় ।
আর্থিক লুণ্ঠন : বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের ফলে বাংলার বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে কোম্পানির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয় । এই সুযোগে শুরু হয় আর্থিক লুণ্ঠন । মিরকাশিমের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উপঢৌকন আদায় করা হয় ।
দেওয়ানি লাভ : বক্সারের যুদ্ধের পর বাংলা , বিহার , উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে কোম্পানি । এতে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব লাভের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক লাভ হয়েছিল ।
মূল্যায়ন : ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের মতে , পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মধ্যযুগের অবসান হয় এবং আধুনিক যুগের সূচনা হয় । অবশ্য বক্সার যুদ্ধে জয়লাভের পরই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয় । এ প্রসঙ্গে র্যামসে মুর বলেছেন , “ বঙ্গার বাংলার উপর কোম্পানির শাসন – শৃঙ্খলা চূড়ান্তভাবে স্থাপন করেছিল ।
৫. ভারতে রেলপথ স্থাপনের ঘটনা এদেশের অর্থনীতিতে কী ফেলেছিল ?
Ans:
সূচনা : আধুনিক রেলপথ স্থাপন ভারতবর্ষে কেবলমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থারই যে উন্নতিসাধন করেছিল তা নয় , তৎকালীন ভারতীয় অর্থনীতিতেও এর সুদুরপ্রসারী ফলাফল লক্ষ করা যায় । ঐতিহাসিক বিপানচন্দ্রের মতে— “ The construction of railway had a revolutionary impact on the life , culture and economy of the Indian people . ”
ভারতের অর্থনীতিতে রেলপথের সুফল :
বিদেশের বাজারে ভারতের পণ্যে সাফল্য : রেলপথের জন্য পরিবহণ খরচ | কমে যাওয়ায় ভারতের পণ্যগুলি বিদেশের বাজারে সাফল্যের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় । রপ্তানির সাথে আমদানির পরিমাণও বেড়ে যায় ।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি : রেলপথ স্থাপনের ফলে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে যায় । আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে ।
ব্রিটেন – ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিন্যাস : ১৮৮০ খ্রি : মধ্যে ব্রিটেন ভারতের সবচেয়ে বড়ো ক্রেতা ও বিক্রেতার স্থান দখল করে যা ব্রিটেন ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিন্যাস ঘটায় ।
নগরকেন্দ্রিক অর্থনীতির ব্যাপকতা : রেলপথ প্রসারের ফলে বন্দর নগরগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় । নগরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । এভাবেই গড়ে ওঠে নগরকেন্দ্রিক অর্থনীতি।
কর্মসংস্থানের সুযোগ : ভারতীয় রেলপথের দ্রুত প্রসার কর্মবিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত করেছিল । ১৮৬৫ খ্রি : রেলে নিযুক্ত কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৪০০০ কিন্তু ১৯৮৫ খ্রি : এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭৩০০০ – এ ।
ভারতীয় অর্থনীতিতে রেলপথের কুফল :
গ্যারান্টি প্রথার কুফল : গ্যারান্টি প্রথা অনুসারে রেল কোম্পানিগুলিকে প্রভুর ভরতুকি এবং পুঁজির লগ্নির ওপর পাঁচ শতাংশ হারে সুদও দেওয়া হচ্ছিল ।
ধন নিষ্কাশন বৃদ্ধি : ব্যয়বহুল রেলপথ নির্মাণের জন্য ভারতীয় অর্থনীতির ওপর যথেষ্ট চাপ পড়ে । এককথায় বলতে গেলে গ্যারান্টি প্রথার দ্বারা ভারতীয় অর্থনীতির এক বিরাট অংশ বিদেশে চলে যায় ।
জলপথ ও সড়কপথ অবহেলিত : রেলপথ চালু হওয়ায় তা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে পড়ে । ফলে জলপথ ও সড়কপথ অনেকটাই অবহেলিত হয়ে পড়ে ।
মন্তব্য : রেলপথ স্থাপনের ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতার সঞ্চার হয় । এবং ভারত শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয় । তবে এর ক্ষতিকারক দিকগুলিকে অস্বীকার করা যায় না ।
৬. কে , কবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন ? চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল লেখো ।
Ans:
সূচনা : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ খ্রি : দেওয়ানি লাভের পর ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা নিয়ে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন । এই পরীক্ষানিরীক্ষার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । ১৭৯৩ খ্রি : মার্চ মাসে লর্ড কর্নওয়ালিশ এই ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন । এই ভূমিরাজস্ব বন্দোবস্তের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী যা সমকালীন আর্থ – সামাজিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল ।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলাফল : চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে কোম্পানি , জমিদার ও কৃষক এই তিনটি শ্রেণিরই কিছু লাভ ও ক্ষতি হয়েছিল । যেমন—
সুফল : মার্শম্যানের মতে , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তু ছিল একটি দৃঢ় সাহসিকতাপূর্ণ ও বিচক্ষণ পদক্ষেপ । এর সুফলগুলি ছিল—
বাজেট প্রস্তুতে সহায়ক : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বার্ষিক আয় সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কোম্পানির বাজেট প্রস্তুতে তা সহায়ক হয়েছিল ।
উৎখাতের সম্ভাবনা হ্রাস : কৃষকদের রাজস্বের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়ায় কৃষকদের সুবিধা হয়েছিল । কারণ তারা ইজারাদারদের শোষণ ও জমি থেকে ঘন ঘন উৎখাতের আশঙ্কা থেকে মুক্তি পায় । তবে সকল কৃষকেরই যে এমন হয়েছিল একথা বলা যায় না ।
জমি ও প্রজাবর্গের উন্নতিসাধন : জমিদারদের চিরস্থায়ীভাবে জমির মালিকানার অধিকারদানের ফলে জমি এবং প্রজাসাধারণের উন্নতিসাধনের প্রেরণা পেয়েছিল ।
আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে দেশে কৃষিযোগ্য আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার ফলে ফসলের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায় ।
ব্রিটিশদের অনুগত গোষ্ঠী : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা জমিদাররা সরকারের প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ব্রিটিশ সরকারের স্থায়িত্ব রক্ষার চেষ্টা করে । ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয় ।
কুফল : ১৭৯৩ খ্রি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফলগুলি ছিল অধিক প্রকট । যেমন — ঐতিহাসিক হোস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তুকে ‘ একটি দুঃখজনক ভুল ’ বলে অভিহিত করেছেন । এডওয়ার্ড থর্নটন বলেন— “ চরম অজ্ঞতা থেকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সৃষ্টি । ” এই ভূমিবন্দোবস্তের কুফলগুলি ছিল এইরকম—
কৃষকদের দুর্দশা বৃদ্ধি : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে জমির মালিক ছিল প্রজারা কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দ্বারা এই মালিকানা থেকে তারা বঞ্চিত হয় এবং কৃষকরা ব্যক্তিগতভাবে জমিদারদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । ফলে কৃষকদের জীবন হয়ে ওঠে চরম দুর্দশাগ্রস্ত ।
চড়া হারে খাজনা আদায় : চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্তে রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করার পূর্বে জমি প্রকৃতপক্ষে জরিপ করা হয়নি । ফলে অনেক ক্ষেত্রে সেইসময়ের পক্ষে খাজনা অধিক হারে স্থির হয়েছিল ।
মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির উদ্ভব : অনেক জমিদার রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়ে জমি ইজারা দেয় । ফলে ইজারাদার , দর ইজারাদার , পাওনাদার প্রভৃতি মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণির উদ্ভব হয় ।
..................

