📚 নবম শ্রেণীর ভূগোল: অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর: অধ্যায়-পঞ্চম:আবহবিকার।📚
(১) বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-
(১.১) শিলা আবহবিকারগ্রস্ত হলে পদার্থের – (ক) অপসারণ ঘটে (খ) একই স্থানে থাকে (গ) নেমে আসে (ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ- (খ) একই স্থানে থাকে
(১.২) সকল যান্ত্রিক আবহবিকারে নিম্নলিখিত কোন্ বিষয়টির ভূমিকা সর্বাধিক – (ক) আদ্রতা (খ) জল (গ) উষ্ণতা (ঘ) বায়ুর চাপ
উত্তরঃ- (গ) উষ্ণতা
(১.৩) পিঁয়াজের খোলার মত শিলা স্তর খুলে যাওয়াকে – (ক) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (খ) শল্কমোচন (গ) পিণ্ডবিশরন (ঘ) জলযোজন
উত্তরঃ- (খ) শল্কমোচন
(১.৪) নিম্নলিখিত কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার সর্বাধিক ঘটে – (ক) নিরক্ষীয় (খ) ক্রান্তীয় মৌসুমী (গ) সাভানা (ঘ) ক্রান্তীয় মরু অঞ্চলে
উত্তরঃ- (ঘ) ক্রান্তীয় মরু অঞ্চলে
(১.৫) নিম্নলিখিত কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার সর্বাধিক ঘটে – (ক) নিরক্ষীয় (খ) ক্রান্তীয় মৌসুমী (গ) সাভানা (ঘ) ক্রান্তীয় মরু অঞ্চলে
উত্তরঃ- (ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
(১.৬) আবহবিকারের মাধ্যমে সৃষ্ট শিলাস্তরের উপরে গঠিত শিথিল শিলাচূর্ণ হলো – (ক) রেগোলিথ (খ) সোলাম (গ) মৃত্তিকা (ঘ) স্ট্যালাকটাইট
উত্তরঃ- (ক) রেগোলিথ
(১.৭) বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার মত আওয়াজ শোনা যায় - (ক) শল্কমোচন প্রক্রিয়ায় (খ) খন্ডীকরণ প্রক্রিয়ায় (গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরন প্রক্রিয়ায় (ঘ) প্রস্তরচাঁই বিচ্ছিন্নকরন প্রক্রিয়ায়
উত্তরঃ- (গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরন প্রক্রিয়ায়
১.৮) কাস্ট ভূমিরূপ যে আবহবিকারের ফলে ঘটে— A. জারণ B. অঙ্গারযোজন C. আর্দ্র-বিশ্লেষণ D. জৈবিক আবহবিকার
Ans. B
১.৯) চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে বেশি দেখা যায়— A. কার্বোনেশন B. হাইড্রেশন C. হাইড্রোলিসিস D. অক্সিডেশন
Ans. A
১.১০) মরুভূমি অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়— A. নদীর দ্বারা B. হিমবাহের দ্বারা C. বায়ুপ্রবাহের দ্বারা D. মানুষের দ্বারা
Ans. C
১.১১) যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলে শিলায় ঘটে— A. ভৌত পরিবর্তন B. রাসায়নিক পরিবর্তন C. উভয় প্রকার পরিবর্তন D. কোনো পরিবর্তন হয় না
Ans. A
১.১২) শিলার শুধুমাত্র আকৃতিগত পরিবর্তন যে আবহবিকারের ফলে ঘটে, সেটি হল— A. জৈবিক আবহবিকার B. যান্ত্রিক আবহবিকার C. জৈব-যান্ত্রিক আবহবিকার D. রাসায়নিক আবহবিকার
Ans. B
১.১৩) বৃষ্টিবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলে দেখা যায়— A. যান্ত্রিক আবহবিকার B. রাসায়নিক আবহবিকার C. জৈবিক আবহবিকার D. কোনোটিই নয়
Ans. B
১.১৪) বিষমসত্ত্ব শিলায় যে ধরনের আবহবিকার ঘটে তা হল— A. বিচূর্ণন B. বোল্ডার ভাঙন C. শল্কমোচন D. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
Ans. D
১.১৫) মৃত্তিকাক্ষয়ের একটি মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হল— A. জলপ্রবাহ B. কৃষিকার্য C. শিকড় বৃদ্ধি D. মাটিতে গর্ত সৃষ্টি
Ans. B
১.১৬) উষ্ণ মরুভূমিতে যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রধান প্রক্রিয়াটি হল – A. লবণ কেলাস গঠন B. তুষার খণ্ডীকরণ C. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ D. প্রস্তরচাঁই বিচ্ছিন্নকরণ
Ans. C
১.১৭) বিষমসত্ত্ব শিলায় যে ধরনের আবহবিকার ঘটে তা হল— A. বিচূর্ণন B. বোল্ডার ভাঙন C. শল্কমোচন D. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
Ans. D
১.১৮) পাহাড়ি অঞ্চলে শিলাচূর্ণের চলনকে বলে— A. যান্ত্রিক আবহবিকার B. রাসায়নিক আবহবিকার C. পুঞ্জিত ক্ষয় D. নগ্নীভবন
Ans. C
১.১৯) যান্ত্রিক ও রাসায়নিক উভয় আবহবিকার বেশি হয়— A. শীতল নাতিশীতোয় অঞ্চলে B. উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে C. নিরক্ষীয় অঞ্চলে D. মরু অঞ্চলে
Ans. B
১.২০) শল্কমোচন প্রক্রিয়াটি হয় – A. ব্যাসল্ট শিলায় B. গ্রানাইট শিলায় C. বেলেপাথরে D. কাদাপাথরে
Ans. B
১.২১) মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে সৃষ্টি হয়— A. সোলাম B. রেগোলিথ C. ব্যাথোলিথ D. কনোলিথ
Ans. B
১.২২) ধাপচাষ অধিক দেখা যায়— A. পার্বত্য অঞ্চলে B. মরুভূমিতে C. সমভূমিতে D. উপকূলে
Ans. A
১.২৩) মরুভূমি অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়— A. নদীর দ্বারা B. হিমবাহের দ্বারা C. বায়ুপ্রবাহের দ্বারা D. মানুষের দ্বারা
Ans. C
১.২৪) সমসত্ত্ব শিলার প্রস্তরখণ্ডে দেখা যায়— A. প্রস্তরচাঁই বিচ্ছিন্নকরণ B. শল্কমোচন C. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ D. জৈবিক আবহবিকার
Ans. B
১.২৫) কাস্ট ভূমিরূপ যে আবহবিকারের ফলে ঘটে— A. জারণ B. অঙ্গারযোজন C. আর্দ্র-বিশ্লেষণ D. জৈবিক আবহবিকার
Ans. B
১.২৬) ভূপৃষ্ঠের শিলাগুলি যে পদ্ধতির মাধ্যমে চূর্ণবিচূর্ণ হয় তাকে বলে— A. ক্ষয়ীভবন B. নগ্নীভবন C. বিচূর্ণীভবন D. পুঞ্জিত ক্ষয়
Ans. C
১.২৭) তুহিন খণ্ডীকরণে সৃষ্ট শঙ্কু আকৃতির শিলাচূর্ণকে বলা হয়— A. ট্যালাস বা স্ক্রী B. আর্গ C. পেডিমেন্ট D. বাজাদা
Ans. A
১.২৮) রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে শিলায় মরচে পড়ার প্রক্রিয়া হল— A. জারণ B. কার্বোনেশন C. দ্রবণ D. আর্দ্র বিশ্লেষণ
Ans. A
১.২৯) যে প্রক্রিয়ায় ক্যালশিয়াম কার্বনেট ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেটে পরিণত হয়— A. জারণ B. অগারযোজন C. জলযোজন D. দ্রবণ
Ans. B
১.৩০) শিলার শুধুমাত্র আকৃতিগত পরিবর্তন যে আবহবিকারের ফলে ঘটে, সেটি হল— A. জৈবিক আবহবিকার B. যান্ত্রিক আবহবিকার C. জৈব-যান্ত্রিক আবহবিকার D. রাসায়নিক আবহবিকার
Ans. B
১.৩১) তুহিন-খণ্ডীকরণের ফলে সৃষ্টি শিলাখণ্ডগুলিকে বলা হয়— A. ট্যালাস B. পেডিমেন্ট C. লোয়েস D. বাজাদা
Ans. A
১.৩২) কাস্ট ভূমিরূপ যে আবহবিকারের ফলে ঘটে— A. জারণ B. অঙ্গারযোজন C. আর্দ্র-বিশ্লেষণ D. জৈবিক আবহবিকার
Ans. B
১.৩৩) তুহিন-খণ্ডীকরণের ফলে সৃষ্টি শিলাখণ্ডগুলিকে বলা হয়— A. ট্যালাস B. পেডিমেন্ট C. লোয়েস D. বাজাদা
Ans. A
১.৩৪) যান্ত্রিক ও রাসায়নিক উভয় আবহবিকার বেশি হয়— A. শীতল নাতিশীতোয় অঞ্চলে B. উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে C. নিরক্ষীয় অঞ্চলে D. মরু অঞ্চলে
Ans. B
১.৩৫) হিউমাস সৃষ্টির পর্যায়টি হল— A. রেগোলিথ B. হিউমিফিকেশন C. খনিজকরণ D. এলুভিয়েশন
Ans. B
১.৩৬) শল্কমোচন প্রক্রিয়াটি হয় – A. ব্যাসল্ট শিলায় B. গ্রানাইট শিলায় C. বেলেপাথরে D. কাদাপাথরে
Ans. B
১.৩৭) যান্ত্রিক আবহবিকারের অন্যতম মাধ্যম— A. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি B. অক্সিজেন C. শিলার কাঠিন্য D. উষ্ণতা
Ans. D
১.৩৮) শিলার শুধুমাত্র আকৃতিগত পরিবর্তন যে আবহবিকারের ফলে ঘটে, সেটি হল—/A. জৈবিক আবহবিকার B. যান্ত্রিক আবহবিকার C. জৈব-যান্ত্রিক আবহবিকার D. রাসায়নিক আবহবিকার
Ans. B
১.৩৯) উষ্ণ মরুভূমিতে যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রধান প্রক্রিয়াটি হল – A. লবণ কেলাস গঠন B. তুষার খণ্ডীকরণ C. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ D. প্রস্তরচাঁই বিচ্ছিন্নকরণ
Ans. C
১.৪০) পাহাড়ি অঞ্চলে শিলাচূর্ণের চলনকে বলে— A. যান্ত্রিক আবহবিকার B. রাসায়নিক আবহবিকার C. পুঞ্জিত ক্ষয় D. নগ্নীভবন
Ans. C
১.৪১) ভূপৃষ্ঠের শিলাগুলি যে পদ্ধতির মাধ্যমে চূর্ণবিচূর্ণ হয় তাকে বলে— A. ক্ষয়ীভবন B. নগ্নীভবন C. বিচূর্ণীভবন D. পুঞ্জিত ক্ষয়
Ans. C
১.৪২) আবহবিকারের ফলে চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে শিলাচূর্ণযুক্ত মৃত্তিকার আস্তরণকে বলে— A. টেরারোসা B. ট্যালাস C. ব্লকস্পেড D. পেডিমেন্ট
Ans. A
১.৪৩) ধাপচাষ অধিক দেখা যায়— A. পার্বত্য অঞ্চলে B. মরুভূমিতে C. সমভূমিতে D. উপকূলে
Ans. A
১.৪৪) যান্ত্রিক ও রাসায়নিক উভয় আবহবিকার বেশি হয়— A. শীতল নাতিশীতোয় অঞ্চলে B. উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে C. নিরক্ষীয় অঞ্চলে D. মরু অঞ্চলে
Ans. B
১.৪৫) শিলার শুধুমাত্র আকৃতিগত পরিবর্তন যে আবহবিকারের ফলে ঘটে, সেটি হল— A. জৈবিক আবহবিকার B. যান্ত্রিক আবহবিকার C. জৈব-যান্ত্রিক আবহবিকার D. রাসায়নিক আবহবিকার
Ans. B
১.৪৬) যে প্রক্রিয়ায় ক্যালশিয়াম কার্বনেট ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেটে পরিণত হয়— A. জারণ B. অগারযোজন C. জলযোজন D. দ্রবণ
Ans. B
১.৪৭) মরুভূমি অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়— A. নদীর দ্বারা B. হিমবাহের দ্বারা C. বায়ুপ্রবাহের দ্বারা D. মানুষের দ্বারা
Ans. C
(২) অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-
(২.১) আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের প্রভাবে শিলার ভাঙ্গনকে কি বলে?
উত্তরঃ- আবহবিকার
(২.২) আবহাওয়ার উপাদানের প্রভাবে শিলার ভৌত পরিবর্তনকে কী বলে?
উত্তরঃ- যান্ত্রিক আবহবিকার
(২.৩) আবহাওয়ার উপাদানের প্রভাবে শিলার রাসায়নিক পরিবর্তনকে কি বলে?
উত্তরঃ- রাসায়নিক আবহবিকার
(২.৪) আবহবিকারজনিত পদার্থ অপসারিত হলে তাকে কি বলে?
উত্তরঃ- ক্ষয়ীভবন
(২.৫) আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনকে একত্রে কি বলে?
উত্তরঃ- নগ্নীভবন
(২.৬) রাসায়নিক আবহবিকারের আবহাওয়ার কোন্ উপাদানের ভূমিকা সব থেকে বেশি?
উত্তরঃ- আদ্রতা
(২.৭) জৈব রাসায়নিক আবহবিকার ঘটায় এমন একটি বুদ্ধিমান প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তরঃ- মানুষ
(২.8) ক্রান্তীয় অরণ্য অঞ্চলে কোন্ প্রকার মৃত্তিকা সৃষ্টি হয়?
উত্তরঃ- ল্যাটেরাইট
(২.৯) শিলার কোন ধর্ম যান্ত্রিক আবহবিকারের জন্য দায়ী?
উত্তরঃ- স্থিতিস্থাপকতা
(২.১০) চারনোজেম মৃত্তিকা কোন্ পদ্ধতিতে সৃষ্টি হয়?
উত্তরঃ- ক্যালসিফিকেশন
২.১১) জারণ প্রক্রিয়ায় কোন গ্যাসীয় উপাদান প্রয়োজন হয়? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. অক্সিজেন।
২.১২) অঙ্গারযোজন প্রক্রিয়ায় শিলায় মরচে পড়ে। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. মিথ্যা
২.১৩) আবহবিকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফল হল—এটি মৃত্তিকা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. সত্য
২.১৪) চিলেশন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক আবহবিকার। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. সত্য
২.১৫) থর মরুভূমিকে আবহবিকারের কোন প্রক্রিয়া অধিক কার্যকরী? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ।
২.১৬) ক্ষয়ীভবনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব খুব বেশি। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. সত্য
২.১৭) আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শিলাচূর্ণের আস্তরণকে রেগোলিথ বলে। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. সত্য
২.১৮) নগ্নীভবনে শিলাস্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. সত্য
২.১৯) দ্রবণ যান্ত্রিক আবহবিকারের একটি প্রক্রিয়া। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. মিথ্যা
২.২০) জল, তুষার কেলাসে পরিণত হলে আয়তনে ______ যায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. বেড়ে
২.২১) শস্যের শিকড় দ্বারা জমি আচ্ছাদন করে মৃত্তিকা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কী বলে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. মালচিং (mulching)।
২.২২) কোন্ ধরনের আবহবিকারের ফলে মরুভূমিতে বিকেলের দিকে গুলি ছোড়ার মত শব্দ শুনতে পাওয়া যায়? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ।
২.২৩) ঋতুভেদে বৃষ্টিপাত যান্ত্রিক আবহবিকারে সহায়তা করে। (সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো)
Ans. সত্য
২.২৪) কোন্ আবহবিকারের ফলে শিলায় মরচে পড়ে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. জারণ।
২.২৫) আবহবিকারের গুরুত্বপূর্ণ ফল হল ______ সৃষ্টি। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. মৃত্তিকা
২.২৬) নিরক্ষীয় অঞ্চলে ______ আবহবিকার বেশি দেখা যায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. রাসায়নিক
২.২৭) যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিউমাস তৈরি হয় তাকে কী বলে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. হিউমিফিকেশন।
২.২৮) পর্বতের ঢালে আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট শঙ্কু আকৃতির শিলাচূর্ণকে কী বলে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. ট্যালাস।
২.২৯) কৃষিকার্যের মাধ্যমে জৈব আবহবিকার ঘটায় ______। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. মানুষ
২.৩০) শিলাস্তরের চাপ হ্রাসজনিত যান্ত্রিক আবহবিকারের কারণে শিলাস্তর খণ্ডবিখণ্ড হলে তাকে কী বলে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. সিটিং (sheeting)।
২.৩১) ‘আবহবিকার’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. জি. কে. গিলবার্ট।
২.৩২) নিরক্ষীয় অঞ্চলে ______ আবহবিকার বেশি দেখা যায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. রাসায়নিক
২.৩৩) প্রকৃতি যখন স্বাভাবিকভাবে মাটির আস্তরণের ক্ষয় করে তখন তাকে কী ধরনের ক্ষয় বলে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. ভূতাত্ত্বিক ক্ষয়।
২.৩৪) দ্রবণ প্রক্রিয়ায় চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে ______ ভূমিরূপ দেখা যায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. কার্স্ট
২.৩৫) চুনাপাথরগঠিত অঞ্চলে কী ধরনের আবহবিকার হয়? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. কার্বোনেশন।
২.৩৬) কোন্ আবহবিকারের ফলে শিলার ভৌত ও রাসায়নিক উভয় পরিবর্তন ঘটে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. রাসায়নিক আবহবিকার।
২.৩৭) পার্বত্য ঢালে ধাপ বা সোপান তৈরি করে মৃত্তিকা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কী বলে? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. ধাপচাষ।
২.৩৮) জল, তুষার কেলাসে পরিণত হলে আয়তনে ______ যায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. বেড়ে
২.৩৯) বিষমধর্মী খনিজ দ্বারা গঠিত শিলায় ______ আবহবিকার ঘটে। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
২.৪০) কোন্ ধরনের আবহবিকারের ফলে মরুভূমিতে বিকেলের দিকে গুলি ছোড়ার মত শব্দ শুনতে পাওয়া যায়? (এক কথায় উত্তর দাও)
Ans. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ।
(৩) নীচের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-
(৩.১) আবহবিকার বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ- আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন উষ্ণতা বৃষ্টিপাত বায়ুপ্রবাহ তুষারপাত প্রভৃতি দ্বারা শিলার নিজ স্থানে বিয়োজন ঘটার প্রক্রিয়াকে আবহবিকার বলে।
(৩.২) ক্ষয়ীভবন কাকে বলে?
উত্তরঃ- যে ক্রিয়ায় বিভিন্ন গতিশীল প্রাকৃতিক শক্তির সাহায্যে চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয় সেই প্রক্রিয়াটি হলো ক্ষয়ীভবন।
(৩.৩) প্রস্তর চাঁই খন্ডিকরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ- সমান্তরাল বা সমকোণী ফাটল এর সাহায্যে একটি বড় শিলাখণ্ড বা শিলাস্তর বিভিন্ন খন্ডে পরিণত হলে সে প্রক্রিয়াকে প্রস্তর চাঁই খন্ড বলে।
(৩.৪) জারণ বা অক্সিডেশন বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ- লোহার সঙ্গে মিশে থাকা খনিজের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে অক্সিডেশন বা জারণ বলে।
(৩.৫) জলযোজন বা হাইড্রেশন কাকে বলে?
উত্তরঃ- শিলার মধ্যে থাকা খনিজ পদার্থের সঙ্গে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জল যুক্ত হলে যে রাসায়নিক আবহবিকার ঘটে শিলাটির পরিবর্তন ঘটায় সেই প্রক্রিয়াকে হাইড্রেশন বা জলযোজন বলে।
৩.৬) ভূপৃষ্ঠের কোথায় যান্ত্রিক আবহবিকার বেশি দেখা যায়?
Ans.উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকার বেশি হয়।
৩.৭) কলয়েড প্লাকিং কাকে বলে?
Ans. শিলাস্তরের উপর আর্দ্র মৃত্তিকা কণা সঞ্চিত হলে তা যখন শুকিয়ে যায় মূল এবং শিলা থেকে ক্ষুদ্র কণা উৎপাটন করে তখন তাকে কলয়েড প্লাকিং বলে ।
৩.৮) আবহবিকার কত প্রকার ও কী কী?
Ans. আবহবিকার তিন প্রকার যথা - যান্ত্রিক আবহবিকার, রাসায়নিক আবহবিকার , এবং জৈব আবহবিকার ।
৩.৯) মৃত্তিকাক্ষয় কী?
Ans. বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি (বৃষ্টিপাত, জলপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি) ও মানুষের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ও কার্যাবলির ফলে মাটির পৃষ্ঠস্তরের হালকা ও অসংবদ্ধ অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত, অপসারিত ও নগ্নীভূত হয় এবং মাটির উর্বরতাসহ স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য দ্রুত হ্রাস পায়। একে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে।
৩.১০) কলয়েড প্লাকিং কাকে বলে?
Ans.শিলাস্তরের উপর আর্দ্র মৃত্তিকা কণা সঞ্চিত হলে তা যখন শুকিয়ে যায় মূল এবং শিলা থেকে ক্ষুদ্র কণা উৎপাটন করে তখন তাকে কলয়েড প্লাকিং বলে ।
৩.১১) জৈব আবহবিকার কী?
Ans. যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার ছাড়াও উদ্ভিদ ও প্রাণীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিলাখন্ডকে চূর্ণ বিচুর্ণ করে থাকে । ইঁদুর, খরগোশ, প্রেইরি কুকুর, পিঁপড়ে, কেঁচো, উই প্রভৃতি মৃৎভেদী প্রাণীরা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে ভেতরের শিলাচূর্ণ, মাটি ইত্যাদি উপরের পৃষ্ঠে নিয়ে আসে । এভাবে উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগৎ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিলাখন্ডকে চূর্ণবিচূর্ণ করে থাকে । এরকম আবহবিকারকে জৈবিক আবহবিকার বলে ।
৩.১২) হিউমিফিকেশন কী?
Ans. জলাশয়, হ্রদ, পুকুর প্রভৃতি জলাশয়ের নিচে বায়ু বা অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জৈব পদার্থের বিশেষ ধরনের পচন ঘটে একে হিউমিফিকেশন বলে। এক্ষেত্রে মিথেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন প্রকৃতি গ্যাসের সৃষ্টি হয়।
৩.১৩) রাসায়নিক আবহবিকার কী?
Ans. যে আবহবিকারের মাধ্যমে শিলা গঠনকারী বিভিন্ন খনিজ পদার্থগুলির ওপর বায়ুমন্ডলের প্রধান উপাদান সমূহ বিশেষ করে অক্সিজেন (O2), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), জলীয় বাষ্প প্রভৃতির বিক্রিয়ার ফলে কঠিন শিলা বিয়োজিত হয় এবং মূল খনিজ পদার্থগুলি নতুন গৌণ খনিজে পরিণত হয়ে মূল শিলা শিথিল হয়ে পড়ে, তাকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে।
৩.১৪) আর্দ্র বিশ্লেষণ কী?
Ans. আর্দ্র বিশ্লেষণ একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পদার্থে পানির একটি অণু যোগ করা হয়। কখনও কখনও এই সংযোজন পদার্থ এবং পানির অণু উভয়কেই দুটি ভাগে বিভক্ত করে। এই ধরনের বিক্রিয়ায়, লক্ষ্য অণুর একটি টুকরো হাইড্রোজেন আয়ন অর্জন করে এবং যৌগের একটি রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে দেয়।
৩.১৫) জৈব আবহবিকার কী?
Ans. যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকার ছাড়াও উদ্ভিদ ও প্রাণীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিলাখন্ডকে চূর্ণ বিচুর্ণ করে থাকে । ইঁদুর, খরগোশ, প্রেইরি কুকুর, পিঁপড়ে, কেঁচো, উই প্রভৃতি মৃৎভেদী প্রাণীরা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে ভেতরের শিলাচূর্ণ, মাটি ইত্যাদি উপরের পৃষ্ঠে নিয়ে আসে । এভাবে উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগৎ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিলাখন্ডকে চূর্ণবিচূর্ণ করে থাকে । এরকম আবহবিকারকে জৈবিক আবহবিকার বলে ।
৩.১৬) টেরারোসা কী?
Ans. Terra শব্দটির অর্থ হল মৃত্তিকা এবং Rossa শব্দের অর্থ হল লাল। সাধারণত মৃদু ঢাল যুক্ত চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে কার্বনিক অ্যাসিড মিশ্রিত জলে বিশুদ্ধ চুনাপাথর দ্রবীভূত হলে অদ্রাব্য শুষ্ক লৌহের যৌগ ভূপৃষ্টের ওপরে পরে থেকে কালক্রমে আম্লিক লাল অবক্ষেপ্নের সৃষ্টি হয়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে একে টেরারোসা বলা হয়।
৩.১৭) শল্কমোচন কী?
Ans. শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় শিলাস্তরের বাইরের অংশ দিনের বেলা প্রবল উষ্ণতায় প্রসারিত এবং রাতের বেলায় সংকুচিত হয় । বাইরের অংশ ক্রমাগত সম্প্রসারণের কারণে শিলার স্তরগুলি পেঁয়াজের খোসার মত খুলে যায় । পরবর্তী কালে বায়ুপ্রবাহে খুলে যাওয়া অংশগুলি অপসারিত হয়ে গোলাকৃতি আকার ধারন করে । একেই শল্কমোচন বলা হয়।
৩.১৮) জৈব আবহবিকারে উদ্ভিদের ভূমিকা কী?
Ans. ১) উদ্ভিদ, লতাপাতা প্রভৃতি জলে পচে যে জৈব অম্লের সৃষ্টি হয় তার সংস্পর্শে এলে শিলাগঠিত খনিজে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে কালক্রমে খনিজ বিয়োজিত হয়ে শিলা ক্ষয়িত হয়;
২) এছাড়াও শিলার ফাটল দিয়ে উদ্ভিদের শিকড় শিলার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিস্তার লাভ করে এবং শিলাকে চূর্ণবিচূর্ণ হতে সাহায্য করে ।
৩.২০) যান্ত্রিক আবহবিকারে তুষারের ভূমিকা কী?
Ans. জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে শতকরা দশভাগ বৃদ্ধি পায় । এর ফলে ফাটলের মধ্যস্থিত জল বরফে পরিণত হয়ে ফাটলের দু'পাশের দেওয়ালে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি করে । এই চাপের ফলে ফাটল ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শিলাস্তর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে পরিণত হয় । যান্ত্রিক আবহবিকারে এই বিশেষ প্রক্রিয়াটিকে তুহিন-খন্ডিকরণ বা তুষারের কাজ বলে ।
৩.২১) পুঞ্জিত ক্ষয় কী?
Ans. ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ার একটি অংশ হল পুঞ্জিত ক্ষয়। বড় পুঞ্জরূপে আবহবিকারপ্রাপ্ত শিলাখন্ড প্রধানত মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে ভূমির ঢাল বরাবর তার মূল স্থান থেকে যখন অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে।
৩.২২) আবহবিকারকে বিচূর্ণীভবন বলে কেন?
Ans. আবহবিকার হল আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান দ্বারা শিলার বিকৃতি বা বিকার । এই প্রক্রিয়ায় শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিয়োজিত হয় বলে আবহবিকার এর অপর নাম বিচূর্ণীভবন ।
৩.২৩) টর কাকে বলে?
Ans.সাধারণত চারপাশের মৃদু ঢালু এলাকার উপরে প্রস্তর ময় হঠাৎ উঁচু ভূমিভাগ কে টর বলে। ভূবিজ্ঞানী লিন্টনের মতে – ফাটল দ্বারা আবহবিকার ঢিপির পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং আবহবিকার প্রাপ্ত রেগোলিথ অপসারিত হলে কেবল অন্তঃস্থ শিলা ভূপৃষ্টে দাঁড়িয়ে থাকে এবং পুনরায় ফাটল দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে বোল্ডার আবৃত টরের সৃষ্টি করে।
৩.২৪) নগ্নীভবন কী?
Ans. নগ্নীভবন অর্থ উন্মুক্ত করা। যে প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠের শিলাসমূহ অনবরত চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং কালক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাগুলি সৃষ্ট নদীস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা অন্যত্র অপসারিত হয় এবং নিচের কঠিন শিলাগুলি অপরিবর্তিত অবস্থায় উন্মুক্ত হয়, তাকে নগ্নীভবন বলে। অন্য কথায়, বিচূর্ণীভবন, ক্ষয়ীভবন ও অপসারণের সমুদয় কার্যকে একত্রে বলা হয় নগ্নীভবন। নগ্নীভবন = বিচূর্ণীভবন + ক্ষয়ীভবন নগ্নীভবন প্রক্রিয়া ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় সর্বত্র বিরামহীনভাবে কার্যকর।
৩.২৫) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ কী?
Ans. মরুভূমি অঞ্চলে উষ্ণতার প্রবল তারতম্যের ফলে বিষম গুণসম্পন্ন শিলা গঠনকারী বিভিন্ন খনিজের সংশোধনকারী পদার্থের মধ্য দিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়ায় শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়াকে ক্ষুদ্র কণা বিশরণ বলে।
(৪) নীচের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-
(৪.১) আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন এর প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখ।
উত্তরঃ- আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন এর প্রধান তিনটি পার্থক্য হল -
প্রথমত, আবহবিকার হলো আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন উষ্ণতা বৃষ্টিপাত প্রভৃতি দ্বারা শিলার নিজ স্থানে বিচূর্ণীভবন ও বিয়োজন ঘটার প্রক্রিয়া আর ক্ষয়ীভবন হলো প্রাকৃতিক শক্তির যেমন নদী হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা আবহবিকারপ্রাপ্ত অপসারণ হওয়ার প্রক্রিয়া।
দ্বিতীয়ত, আবহবিকার ক্ষয়ীভবনের উপর নির্ভর করে না কিন্তু ক্ষয়ীভবন আবহবিকার এর উপর নির্ভরশীল।
তৃতীয়ত, আবহবিকার অত্যন্ত ধীর গতি সম্পন্ন ও স্থৈতিক প্রক্রিয়া আর ক্ষয়ীভবন দ্রুতগতিসম্পন্ন গতিশীল প্রক্রিয়া।
(৪.২) শল্কমোচন বলতে কি বোঝ?
উত্তরঃ- উষ্ণতার প্রসর বেশি হলে শিলাস্তরের বাইরের ও ভেতরের অংশের মধ্যে সংকোচন ও প্রসারণের তারতম্য ঘটে এবং শিলাই পিড়নের ফলে ফাটলের সৃষ্টি হয়। ফলে শিলার উপরের স্তর নিচের স্তর থেকে পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে আসে, প্রাকৃতিক এই ঘটনাটিকেই শল্কমোচন বলে।
(৪.৩) ক্ষুদ্র কণা বিশরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ- মরুভূমি অঞ্চলে উষ্ণতার প্রবল তারতম্যের ফলে বিষম গুণসম্পন্ন শিলা গঠনকারী বিভিন্ন খনিজের সংশোধনকারী পদার্থের মধ্য দিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়ায় শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়াকে ক্ষুদ্র কণা বিশরণ বলে।
(৪.৪) অঙ্কারযোজন বা কার্বনেশন কি?
উত্তরঃ- ক্যালসিয়াম কার্বনেট ঘটিত শিলার খনিজের সাথে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিশ্রিত জলের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ক্যালসিয়াম বাই কার্বনেট উৎপন্ন হয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্গারযোজন বা কার্বনেশন বলে।
(৪.৫) হিউমাস কাকে বলে?
উত্তরঃ- উদ্ভিদ এবং প্রাণীর মৃত দেহ অবশেষ জৈব পদার্থ হিসেবে শিলা বা মৃত্তিকার উপরিভাগে সঞ্চিত হয়। ঐ সকল পদার্থ অতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জিব দ্বারা পচন এবং বিয়োজনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গারো বাদামি বা কালচে বর্ণের জটিল পদার্থের সৃষ্টি করে, একেই হিউমাস বলে।
(৫) নীচের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-
(৫.১) যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি সংক্ষেপে লেখ।
উত্তরঃ- উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, তুষার, অভিকর্ষ, নদী, বায়ু, জীবজন্তু বা উদ্ভিদ প্রভৃতি নানা প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে শিলাস্তর যখন ছোটো ছোটো খন্ড বা চূর্ণে পরিণত হয়ে মূল শিলার ওপর অবস্থান করে, এবং তার মধ্যে যখন কোনোরকম রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না, তখন তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলা হয়।
তাপমাত্রার পরিবর্তনের জন্য ঘটা যান্ত্রিক আবহবিকারগুলি হলঃ- পিন্ড বিশরন, শল্কমোচন, ক্ষুদ্রকণা বিশরণ; তুষারের দ্বারা তুহিন খন্ডীকরণ প্রভৃতি । এছাড়া জল এবং চাপ হ্রাসের ফলেও যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটে থাকে ।
যান্ত্রিক আবহবিকারের পদ্ধতি:- যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটাতে সূর্যের তাপ, বায়ুপ্রবাহ, তুষার প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি খুব সক্রিয় । বৃষ্টির জল যান্ত্রিকভাবে কিছু শিলা ক্ষয় করে । তবে রাসায়নিক আবহবিকারে বৃষ্টির জল মূখ্য ভুমিকা গ্রহন করে ।
সুর্যতাপের প্রধান কাজ শিলা চূর্ণবিচূর্ণ করা । এর প্রভাবে প্রধানত তিনভাবে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়, যথা- (ক) খন্ডবিখন্ডিকরণ বা পিন্ড বিশরণ, (খ) গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন , (গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
(ক) খন্ডবিখন্ডিকরণ বা পিন্ড বিশরণ :- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে খন্ডবিখন্ডিকরণ বা পিন্ড বিশরণ হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । শিলা তাপের সুপরিবাহী নয়। এই জন্য মরু অঞ্চলের গাছপালা হীন উন্মুক্ত প্রান্তরে দিনে এবং রাত্রে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের উষ্ণতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে । ক্রমাগত উত্তাপে প্রসারিত ও ঠান্ডায় সংকুচিত হতে হতে শিলার সন্ধিস্থল গুলো আলগা হয়ে যায় এবং শিলাগাত্রে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এই ফাটলগুলি কালক্রমে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভগ্ন স্তূপে পরিণত হয় । এই ভেঙে যাওয়া শিলার আকৃতি অনেকটা বর্গক্ষেত্র বা আয়তক্ষেত্রের মতো হয় বলে আবহবিকারের এই বিশেষ প্রক্রিয়াটিকে খন্ডবিখন্ডিকরণ বা পিন্ড-বিশরণ বলে।
(খ) গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন:- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । শিলাস্তর তাপের সুপরিবাহী না হওয়ার ফলে দিন ও রাতে শিলার ভিতরের ও বাইরের অংশের মধ্যে উষ্ণতার যথেষ্ট পার্থক্য ঘটে । উষ্ণতার এই তারতম্যের ফলে শিলাস্তরে ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে । দীর্ঘদিন ধরে সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলার ওপরের স্তর ওপরের দিকে প্রসারিত হয় । তখন ওপরের স্তর নীচের অপেক্ষাকৃত শীতল স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেঁয়াজের খোলার মতো খসে পড়ে। শিলার বাইরের অংশ এই ভাবে পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে গেলে ভিতরের অংশটি কিছুটা গোলাকার ও মসৃণ শিলাখন্ডে পরিণত হয় । এইভাবে সৃষ্টি হওয়া প্রধান গোলাকার শিলাটিকে ‘অবশিষ্ট গণ্ড-শিলা’ বলে। শল্কমোচনের ফলে শিলাখন্ড গুলো অনেকটা গোলাকার হয়ে যায়, তাই বিচূর্ণীভবনের এই বিশেষ প্রক্রিয়াকে গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বা শল্কমোচন বলে। একই জাতীয় খনিজ পদার্থে গঠিত সমপ্রকৃতির শিলায় শল্কমোচন বেশি হয় ।
(গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ:- যান্ত্রিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । যেসব শিলা বিভিন্ন রকমের খনিজ পদার্থে গঠিত, সেই সব বিষম গুণ সম্পন্ন ও বড় দানা যুক্ত শিলা গুলো ঠান্ডায় বা গরমে সমান ভাবে সংকুচিত বা প্রসারিত হতে পারে না । এরফলে শিলাস্তরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন টানের সৃষ্টি হয় এবং তাতে শিলা সশব্দে ফেটে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় । উষ্ণতার তারতম্যের ফলে এইভাবে বিষম গুণসম্পন্ন শিলার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়াকে ক্ষুদ্রকণা বিশরণ বলে।
(৫.২) রাসায়নিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ- যে আবহবিকারের মাধ্যমে শিলা গঠনকারী বিভিন্ন খনিজ পদার্থগুলির ওপর বায়ুমন্ডলের প্রধান উপাদান সমূহ বিশেষ করে অক্সিজেন (O2), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), জ্বলীয় বাষ্প প্রভৃতির বিক্রিয়ার ফলে কঠিন শিলা বিয়োজিত হয় এবং মূল খনিজ পদার্থগুলো নতুন গৌণ খনিজে পরিণত হয়ে মূল শিলা শিথিল হয়ে পড়ে, তাকে রাসায়নিক আবহবিকার বলে । বৃষ্টিবহুল উষ্ণ অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের প্রাধান্য বেশি পরিলক্ষিত হয়।
রাসায়নিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে প্রধানত তিনটি যথা- (ক) অঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ, (খ) জারণ, (গ) জলযোজন বা আর্দ্রকরণ উল্লেখযোগ্য । এছাড়া রাসায়নিক আবহবিকারের অন্যান্য পদ্ধতি গুলোর মধ্যে দ্রবণ এবং আদ্র বিশ্লেষণ উল্লেখযোগ্য ।
(ক) কার্বনিকরণ :- রাসায়নিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ হল অন্যতম একটি পদ্ধতি ।বিভিন্ন খনিজের সঙ্গে প্রাকৃতিক কার্বন ডাই-অক্সাইড(CO2) -এর রাসায়নিক সংযোগের ফলে যে বিক্রিয়া ঘটে তাতে শিলা বিয়োজিত হয় এবং মূল খনিজগুলো নতুন খনিজে পরিণত হয়ে সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । এই প্রক্রিয়াকে অঙ্গারযোজন বা কার্বনিকরণ বলে । চুনাপাথর যুক্ত অঞ্চলে চুনাপাথর এই প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত এবং ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভূমিরূপ গঠন করে ।
(খ) জলযোজন বা আর্দ্রকরণ :- রাসায়নিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে জলযোজন বা আদ্রকরণ অন্যতম একটি পদ্ধতি। শিলাস্তরের মধ্যে অবস্থিত কোনো খনিজ পদার্থের সঙ্গে জল যুক্ত হলে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তার ফলে খনিজ পদার্থটির আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক ধর্মের পরিবর্তন হয়ে খনিজটি বিয়োজিত হয় । এই প্রক্রিয়াকে জলযোজন বা আর্দ্রকরণ বলে । উৎকৃষ্ট লৌহ আকরিক ‘হেমাটাইট' পাথরের সঙ্গে জলযুক্ত হলে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তার ফলে ‘লিমোনাইট’ নামে নিকৃষ্ট লোহার সৃষ্টি হয়, যা অতি সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
(গ) জারণ :- রাসায়নিক আবহবিকারের বিভিন্ন পদ্ধতি গুলোর মধ্যে জারণ হল অন্যতম একটি পদ্ধতি । খনিজের সঙ্গে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন (O2) মিশলে তাকে জারণ বলে । লোহা যখন ফেরাস অক্সাইড রূপে অবস্থান করে তা সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, কিন্তু লোহার সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেন যুক্ত হলে লোহার উপরিভাগে হলুদ বা বাদামি রঙের একটি নতুন যৌগ পদার্থ তৈরি হয় এবং লোহা খুব সহজেই ক্ষয় পায় ।

